হাসিমুখে মানবতার সেবা: দীঘিনালায় বন্যাকবলিত পাঁচ শতাধিক মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : বন্যার দুর্যোগে যখন দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বন্যাকবলিত পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দ্য বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকায় দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা দেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন। তিনি প্রতিটি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যার পর শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিয়েছে। জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীঘিনালা জোন পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।