একুশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আজাদ তালুকদারের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: একুশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাংবাদিক ও সমাজসেবক আজাদ তালুকদারের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২ আগস্ট)। ২০২৩ সালের এই দিনে লিভার ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর।

আজাদ তালুকদার ১৯৭৮ সালের ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর পদুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে তিনি একাত্তর টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেন। ২০০৪ সাল থেকে একুশে পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে একুশে পত্রিকা ডটকম চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিজিটাল পরিসরে নিয়ে যান।

সাংবাদিকতায় নির্ভীক অবস্থান, সত্য প্রকাশে আপসহীন মনোভাব এবং মানবিক উদ্যোগের জন্য তিনি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয়। সংবাদকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইমপ্যাক্ট জার্নালিজমের চর্চায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

করোনা মহামারির সময় তাঁর অন্যতম উদ্যোগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া খায়ের জাহান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

একুশে পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক শরীফুল রুকন তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, আজাদ তালুকদার শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন না; তিনি ছিলেন সহকর্মীদের অভিভাবক, প্রেরণার উৎস এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক অনুকরণীয় শিক্ষক। সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি এবং সহকর্মীদেরও সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের শিক্ষা দিয়েছেন।

আজাদ তালুকদারের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন নজরুল কবির দীপু। তাঁর নেতৃত্বে একুশে পত্রিকার মুদ্রণ ও অনলাইন সংস্করণের প্রকাশনা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আজাদ তালুকদারকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন তাঁর পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী। তাঁর আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।