আরও ৩৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, চট্টগ্রামের চার আসনে প্রার্থীতা পেলেন যারা

ডেস্ক রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আরও চারটি আসনসহ মোট ৩৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হলো। এখনো প্রার্থী ঘোষণা হয়নি চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের ঘোষিত চার আসনে প্রার্থী হচ্ছেন— চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী): মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া): নাজমুল মোস্তফা আমিন।

এ ছাড়া প্রার্থী ঘোষণা করা অন্যান্য আসনগুলো হলো: ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৫, নড়াইল-২, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৮, গাজীপুর-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২ ও কক্সবাজার-২।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের ১০টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল বিএনপি। নতুন তালিকাসহ চট্টগ্রামের মোট ১৪টি আসনে দলটির প্রার্থী ঘোষণা হলো।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসে চট্টগ্রামে নানা আয়োজন, সহায়ক উপকরণ বিতরণ

ডেস্ক: ‘প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বুধবার চট্টগ্রামে পালিত হয়েছে ৩৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ২০২৫। প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘ এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এবং যুগান্তর, ডিডিআরসি ও এওয়াকের সহযোগিতায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে দুই দিনব্যাপী মেলা, র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রামপুর প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন, সিডিডির নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মারশেদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সমাজে তাদের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের আরও সহানুভূতিশীল হতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রতিবন্ধী ভাই-বোনরাও জাতির সম্পদ। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। কার কী ধরনের সুবিধা বা সহযোগিতা দরকার—তা নির্ধারণ করে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।”

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ার, অক্সিলারি ক্রাচ, স্মার্ট সাদা ছড়িসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দ নগর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমতিয়াজ একই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ ইয়াকুবের ছেলে।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইমতিয়াজ তার পাঁচ বছর বয়সী চাচাতো বোনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। ঝগড়ার একপর্যায়ে চাচাতো বোন তাকে ‘বেয়াদব’ বলে। এ নিয়ে তার মা তাকে বকাঝকা করে পড়তে বসতে বলেন। পরে মা রান্না করতে গেলে কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন ইমতিয়াজ জানালার পাশে বসে আছে। পরে পরিবারের লোকজনকে ডেকে দরজা ভেঙে দেখা যায়, সে মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়েছে।

নিহতের কপালে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়ে এসআই রাকিবুল বলেন, “গলায় চাপ লাগার সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে পারে। এ সময় জানালার গ্রিল বা অন্য কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেতে পারে।”

তিনি আরও জানান, “বুধবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের বক্তব্য সত্য বলে মনে হচ্ছে—সে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জয়নাব জমিলা বলেন, “ছেলেটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল (ব্রড ডেড)। পরে আমরা পুলিশকে জানালে তারা মরদেহ নিয়ে যায়।”

“নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় নৈতিকতা ও ঐক্যবদ্ধতা অপরিহার্য” – চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালি শেষে সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। আলোচনার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি”।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, আতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম এবং জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোছলেহ উদ্দিন।

আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তাগণ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব, প্রতিবন্ধী নারী ও প্রবাসীদের পরিবারের জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ, গণপরিবহন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, আমাদের প্রত্যেককে নৈতিক মূল্যবোধ অনুযায়ী নিজেদের জীবন ও চরিত্র উন্নত করতে হবে। নিরাপদ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় উপপরিচালক নারীর আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এছাড়া জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুর পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

সভাপতি গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে এবং নারীর শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস।

হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সদর দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ইটভাটার কিলন ও চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে মোট ১৬ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে কাটিরহাটের ধলই এলাকায় মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস (KRM)–কে এক লাখ টাকা, চারিয়ার মেসার্স চারিয়া মেঘনা ব্রিকস (NBM)–কে দুই লাখ টাকা এবং মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (KBC)–কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেসার্স কাজী ব্রিকস ম্যানুঃ (KBM)–কে দুই লাখ টাকা, মেসার্স শাহেন শাহ ব্রিকস ফিল্ড (SNF)–কে দুই লাখ টাকা, মেসার্স চট্টলা ব্রিকস (CBM)–কে দুই লাখ টাকা এবং মেসার্স সেঞ্চুরি ব্রিকস (CBM-1)–কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ভাটাগুলোর কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়াও মেসার্স হিমালয় ব্রিকসের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন, সিনিয়র কেমিস্ট জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে র‍্যাব-০৭, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তর, হাটহাজারী থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, হাটহাজারী স্টেশন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল হাছান ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার রাহাতিয়া দরবার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর থেকে বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন কামনা করছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তিনি উত্তর রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা চালান। রাণীরহাট এলাকায় গণসংযোগ শেষে পথসভায় বক্তব্য রেখে এডভোকেট ইকবাল হাছান বলেন, “বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় রাঙ্গুনিয়া গড়াই আমার লক্ষ্য।”

দিনব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ধামাইরহাট, ইসলামপুর, পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির হযরত শাহসুফী মাওলানা আহসানুল্লাহ (রহ.) ও বাছুর মোহাম্মদ পাড়ার হযরত রাজ্জাক আলী শাহ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর ইসলামপুর খলিপাড়া, গাবতল বাজার, মঘাইছড়ি বাজার, কাউখালী রাস্তার মাথা, বহরাতল, বেতছড়ি, জঙ্গল বগাবিলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শেষে তিনি রাণীরহাট বাজারে প্রচারণা সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে তার প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থানীয় নেতারা।

মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন—ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল রিয়াদের

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ হাসান রিয়াদ (২৬)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াদ উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের লেয়াকতের পাড়ার আবদুল কদ্দুসের ছেলে। তিনি স্থানীয় জমছড়ি ব্রিজের পাশে দোকান করতেন।

স্বজনদের তথ্যানুযায়ী, রাতে উপজেলার বড়হাতিয়া এলাকার নানাবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রিয়াদ। বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে পৌঁছালে কক্সবাজারমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়ায় নবাগত ইউএনও নাজমুল হাসানের যোগদান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেছেন মো. নাজমুল হাসান। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ৩৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) তিনি রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এদিকে গত বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আট বিভাগে ১৫৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে রাঙ্গুনিয়ার পূর্ববর্তী ইউএনও মো. কামরুল হাসানকে চট্টগ্রামের দিয়ারা অপারেশনের চার্জ অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নবাগত ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, এর আগে তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

বাঁশখালীতে অটোরিকশা চালক হত্যার মামলায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অটোরিকশা চালক মামুনুর রশিদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. নাছিরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রোববার উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বানীগ্রাম ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার নাছির (৪৩) পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকার মো. ইসহাকের ছেলে।

র‌্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এজাহারভুক্ত আসামি নাছিরকে আটক করা সম্ভব হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বর প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হন চালক মামুনুর রশিদ। পথে মোক্তার হোসেন নামের একজন ভাড়ার কথা বলে তাকে চাঁনপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মোক্তার ও তার সহযোগীরা মামুনকে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাঁশখালী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, আটক নাছিরকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য রাঙ্গুনিয়ায় খতমে কুরআন ও দোয়া-মোনাজাত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা কামনায় রাঙ্গুনিয়ায় পবিত্র খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসা জামে মসজিদে রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সহ-সভাপতি ওয়াকিল আহমদ তালুকদার, সহ-সভাপতি শাহেদুল কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক ইউছুপ কামাল তালুকদার, জেলা যুবদল নেতা কাজী রাকিবুল হাসান মাসুদ ও এবিএম সাইফুদ্দিন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান রনি, সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, এডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, ইউছুপ সাগর, নাজিম উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, খোরশেদ আলম, আবু মনছুর, ইউনুস, আলমগীর, লোকমান, রেজাউল করিম, কাজী মহিউদ্দিন, এসকান্দর, মনছুর, রাশেদ, হাসেম, জসিম উদ্দিন লিটন, ইসমাঈল, রাশেদ, সাইফুল ও রাজু প্রমুখ।

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জেলা চ্যাম্পিয়ন রাঙ্গুনিয়া কলেজ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): জেলা পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ ফুটবল দলকে শনিবার উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করেছে।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই জয় শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো রাঙ্গুনিয়ার। নিয়মিত অনুশীলন ও শৃঙ্খলা থাকলে তোমরা আরও বড় মঞ্চে খেলবে, এটাই আমার বিশ্বাস।”

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। বাংলাদেশ স্কাউটস রাঙ্গুনিয়ার যুগ্ম সম্পাদক এম. মোরশেদ আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা, রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মোতাহের হোসেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব ও সদস্য ইকবাল আহমেদ বেলাল।

আলোচনা সভার শেষে ইউএনও মো. কামরুল হাসান ফুটবল দলের সদস্যদের হাতে ব্যাগ ও জার্সি তুলে দেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ঐক্যের মঞ্চ: বিএনপি নেতাদের একই প্ল্যাটফর্মে শক্ত বার্তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। দলের মনোনয়ন ঘোষণার পর দুজনকে একই মঞ্চে দেখা যাওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন,“গত দেড় বছর ধরে শুনে আসছি—যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, বিএনপি কলাগাছকেও দাঁড় করালে জিতে আসবে; আর সেই মৌসুমের ‘কলাগাছ’ আমি। মনোনয়ন পাওয়ার পর আনন্দপ্রকাশ না করার কারণ ছিল—রাঙ্গুনিয়ার একটি অংশ কষ্ট পাবে। দলকে এক করতে না পারলে নির্বাচনের ফল তো আগেই বোঝা যেত। তাই ঐক্যের বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গত আন্দোলনে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন, কারও পরিবারের সদস্য মারা গেলেও জানাজায় থাকতে পারেননি। তখন যারা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষ করে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের প্রতি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। দলের কর্মীদের মূল্যায়নের দায়িত্ব আমি নিলাম।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘হাইব্রিড’ প্রসঙ্গে বলেন, “বিএনপি দুই ভাগ থাকার সুযোগে অনেক হাইব্রিড বালু চুরি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে যুক্ত হয়ে সুবিধা নিয়েছে। আজ চাচা–ভাতিজা মিলে তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি—তাদের সময় শেষ।”

মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে যারা দলের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন, তাদের ত্যাগ–সংগ্রামের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। আর সেন্টার কমিটিও হবে সবার মতামত নিয়ে—এটা ব্যক্তিগত কমিটি নয়, তারেক রহমানের কমিটি, দলের কমিটি। এটার হকদার আমি একা নই, সবাই।” সভায় তিনি নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে আছি। ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে এখনো বিএনপির দায়িত্ব পালন করছি। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই আমরা কাজ করব—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর যেসব ব্যক্তি দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি পরিবারে কোনো গ্রুপিং নেই। ধানের শীষের স্বার্থেই সবাই ঐক্যবদ্ধ। পাড়া–মহল্লায়, ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইতে হবে।”

চিকিৎসায় ব্যস্ত পরিবারের ঘরে চুরি, সাংবাদিকের ল্যাপটপ গায়েব

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দিনে-দুপুরে এক সংবাদকর্মীর ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. মতিন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের মুন্সি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকালে এম. মতিনের বড় মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়। রাতেও স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন তিনি। সকালে পরীক্ষা থাকায় মেঝ ছেলে মাদ্রাসায় যায় এবং এম. মতিন সকাল ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনাস্থ রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান।

এসময় মেঝ ছেলে পরীক্ষা শেষে ফিরে ঘরের সামনে ছিটকিনি লাগিয়ে চাচার বাড়িতে যায়। পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগে কোনো একসময় চোরেরা ঘরে ঢুকে চুরি করে। বিকাল ৪টার দিকে এম. মতিন বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজা খোলা এবং টেবিলের ওপর থাকা ল্যাপটপটি উধাও।

সাংবাদিক এম. মতিন বলেন, “মেয়ের অসুস্থতার কারণে গতকাল থেকে হাসপাতালে ছুটোছুটি করছি। আজ সকালে মেঝ ছেলেকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে হাসপাতালে গেলে তখনো ল্যাপটপটি টেবিলেই ছিল। বিকেলে ফিরে দেখি কি-বোর্ড আর মাউস আছে, ল্যাপটপ নেই। অনেক খুঁজেও পাইনি।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবারের লেখাপড়া ও চিকিৎসা খরচ চালাতে এমনিতেই চলছে আর্থিক টানাপোড়েন। তার ওপর নিত্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরি হয়ে গেল—এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। যারা এটা করেছে তারা আমার প্রতি জুলুম করেছে। হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ করতে দেরি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “এ ঘটনায় এখনো আমাদের জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বাঁশখালীতে নিখোঁজের তিন দিন পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আশরাফ মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে কালীপুর ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আশরাফ মিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফরিদের ছেলে।

এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ জানায়, তিন দিন ধরে আশরাফ মিয়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। সকালে তার বাড়ির উঠানের দক্ষিণ পাশের ঝোপঝাড়ে সদ্য খোঁড়া মাটির স্তূপ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহটির মাথা ও শরীরে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাচা–ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ইফতেখার রাহাত (৩০) ও আবিদুল হাসান (৩৫) প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের লালিয়ারহাট এলাকার মিস্ত্রি ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাহাত হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুর এলাকার চাঁনগাজী চৌধুরী বাড়ির সাবেক স্কুল শিক্ষিক মো. ইউছুপের পুত্র। আর আবিদুল হাসান একই বাড়ির প্রয়াত নুর আহমদ চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময়ে আবিদুল হাসান অসুস্থ হয়ে পড়লে রাহাত তাকে দ্রুত হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে লালিয়ারহাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহাতের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবিদুল হাসানকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। একই অটোরিকশায় থাকা রাশেদ চৌধুরী গুরুতর আহত অবস্থায় চমেকে ভর্তি আছেন।

রাউজান হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদে সেবা মান উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা

চট্টগ্রাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে এবং জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে আজ শনিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অর্ধ-বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম মোঃ শরীফ উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আগত সেবাপ্রত্যাশীরা যেন ভালো আচরণ ও প্রয়োজনীয় সেবা পান তা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের আরও মনোযোগী, মানবিক ও সেবামুখী হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ছোট ছোট বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি না হলে জনগণকে বারবার বিভিন্ন অফিস-আদালতে ঘুরতে হয়। এ কষ্ট লাঘব করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক সেবা যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে।”
সেবা প্রদানে আন্তরিকতা, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ফরিদুল আলম।

সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার মোঃ শরীফ উদ্দীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ মাঠপর্যায়ে সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিষ্ঠান। জনগণের সেবা গ্রহণের পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রদত্ত আইনগত ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এতে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৯১টি ইউনিয়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল ইসলাম, ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল আবছার ও লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল আসলাম।

সভায় চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

একদিকে বাবার সঙ্গে কথা, অন্যদিকে খোঁড়া হচ্ছিল দুইটি কবর — স্মরণ সভায় ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী

চট্টগ্রাম: “একদিকে বাবার সঙ্গে কথা বলছি—সুস্থ, জীবিত একজন মানুষ। আর অন্যদিকে তাঁর জন্য খোঁড়া হচ্ছিল দুইটি কবর।”—সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার কাদের নগরে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায়  এমনই স্মৃতিচারণ করেন তার বড় ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী।

তিনি বলেন, “ফাঁসির দুই ঘণ্টা আগে আমরা বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখনই কবর দুটি খোঁড়া হচ্ছিল। সবাই জানতেন—ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে হিসেবে বাবাকে রাউজানেই দাফন করা হবে। কিন্তু বাবা চেয়েছিলেন রাঙ্গুনিয়ার মাটিতেই থাকতে। সেই অধিকার থেকেও বাবাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

ফাইয়াজ কাদের অভিযোগ করে বলেন, “বাবাকে বাঁচাতে বহুজনের কাছে গিয়েছি, সবাইকে বলেছি তিনি নির্দোষ। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের কারণে কেউ কিছু করতে পারেনি। শেষের দিকে ভাবলাম—বাবাকে হয়তো আর বাঁচানো যাবে না, অন্তত তাঁর সম্মানটা কীভাবে রক্ষা করা যায় সেটাই চিন্তা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাবা একফোঁটা চোখের পানি ফেলেননি, কিন্তু তাঁর চোখ লাল ছিল। আমাকে বলেছিলেন—‘বাবা, ইজ্জতের মালিক আল্লাহ।’ আজ ১০ বছর পর সেই কথার সত্যতা দেখতে পাচ্ছি। নতুন প্রজন্ম সত্যকে চিনেছে।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাবার নির্বাচনে পরিবারের সবাই থাকতেন। কিন্তু হুম্মামের নির্বাচনে পরিবারের প্রয়োজন পড়বে না—কারণ রাঙ্গুনিয়ায় তাঁদের হাজারো ভাই-বোন ও মুরুব্বি আছেন, যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

একই স্মরণ সভায় চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “সাধারণত বক্তব্য শেষে তাকবির দিই, কিন্তু আজ ভাইয়ের কথা শুনে মনটা ভারী হয়ে গিয়েছিল—তাই শুরুতেই তাকবির দিয়ে মনটা শান্ত করেছি।”

বাবাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “শেষবার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—মানুষ জানতে চাইছে, তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি না? বাবার উত্তর ছিল—‘চট্টগ্রামের মানুষ আমাকে ৪০ বছর যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে, যদি পারতাম আমার কলিজাটা তাদের দিয়ে দিতাম।’”

তিনি আরও বলেন, “আমার মা পরবর্তীতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন—আমার স্বামী যদি পারতেন তাঁর কলিজা চট্টগ্রামের মানুষকে দিয়ে দিতেন। আজ আপনাদের সামনে বলতে চাই—আমার মায়ের স্বামী শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাঁর কলিজার অংশ হিসেবে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে আপনাদের কাছে দিয়ে গেছেন।”

এছাড়াও সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

অবশেষে মাদক ছাড়লেন রাঙ্গুনিয়ার জলইক্যা, মসজিদে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ঘাগড়াকুল এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আজিজুল হক (৬৫) ওরফে ‘জলইক্যা’ দীর্ঘ পাঁচ দশকের মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে ঘাগড়াকুল বাইতুল ইকরাম জামে মসজিদে মুসল্লীদের সামনে তিনি প্রকাশ্যে তওবা করেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো মাদক ব্যবসায় না জড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

জানা যায়, স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আজিজুল হক মসজিদে উপস্থিত সবার সামনে অতীতের অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। মসজিদের ইমাম এইচ এম তারেক হোসাইন তাকে তওবা পাঠ করান ও সৎপথে ফেরার নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে হালাল ব্যবসার মাধ্যমে জীবন-জীবিকা চালাবেন।

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর এলাকাবাসী আজিজুল হকের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি পালিয়ে যান। তিন দিন পরে তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘাগড়াকুল বাইতুল ইকরাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক ইউছুপ কামাল তালুকদার বলেন, “জলইক্যা যদি তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়ান, তবে এলাকাবাসী তাকে আর ছাড় দেবে না।”

তওবার সময় মসজিদে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী শফিউল আহমদ, রাজানগর আর এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউছুপ কামাল তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, ইসলামপুর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব কুসুম, সাবেক ছাত্রনেতা খোরশেদ আলম, বাবর হোসাইনসহ স্থানীয় মুসল্লী ও নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় তিন অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চিমনি–কিলন

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুন্নাহার।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)–এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করায় তিনটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো হলো— উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকার মেসার্স খাজা ম্যানু রিসোর্স ব্রিকস (KMR), যার চিমনি ও কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই ইউনিয়নের মেসার্স কেবিএম ব্রিকস (KBM)-এর চিমনি ও কিলনও উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদপুর সোনারগাঁও এলাকার মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (SAB) ইটভাটার চিমনি ও কিলন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গুনিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা, র‍্যাব-০৭ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তর এবং রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা। সার্বিক সহায়তায় ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের সদস্যরা।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামে আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের ১০০ কোটি টাকার সহায়তার ঘোষণা

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখন চট্টগ্রামে নিরাশ্রয় ও অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি লন্ডনের চট্টগ্রাম সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে মেয়র এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বহু স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনা থাকলেও প্রবীণদের জন্য নিবেদিত কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা ডেডিকেটেড হেলথ কেয়ার সেন্টার এখনো গড়ে ওঠেনি।

মেয়রের এই মানবিক আহ্বানে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ হয় এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ প্রেক্ষিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ৪০ শতক জমি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের যৌথ উদ্যোগে একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম ও হেলথ কেয়ার সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার ফান্ড রেইজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি চট্টগ্রামের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে একটি যুগান্তকারী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মেয়র মন্তব্য করেছেন।

মেয়র আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের এই উদ্যোগ শুধু প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীরই নয়, বরং সমগ্র চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি গৌরবের বিষয় হয়ে উঠবে।

সূত্র: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ
প্রকাশের তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৫

 

লন্ডন সফরের সময় চসিকের প্রশাসনিক তদারকিতে সচিব আশরাফুল আমিন: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

 


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, তাঁর লন্ডন সফরকালীন সময়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন।

 

রোববার লন্ডন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, তাঁর লন্ডন সফরের সম্পূর্ণ খরচ ব্যক্তিগতভাবে বহন করা হচ্ছে। এর আগে কানাডার টরন্টো সফরের খরচও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন।

বিবৃতিতে মেয়র স্পষ্ট করেন, সরকার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, কোনো ঠিকাদার বা তৃতীয় পক্ষ এই সফরের অর্থায়ন করছে না।

এছাড়া, মেয়র জানান, প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও তিনি প্রায়ই সিটি কর্পোরেশনের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন। তবে এসব দিনে তিনি চসিকের গাড়ি বা জ্বালানি ব্যবহার করেন না; বরং নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার করেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

সুত্র : চসিক ও মেয়রের ফেসবুক।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাস দমনে অভিযান চলবে: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম।

সভায় অক্টোবর ২০২৫ মাসের অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া আসন্ন ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, চোরাচালান দমন, অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, চট্টগ্রাম নতুন ব্রিজ এলাকায় যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। দুর্বৃত্তায়ন কিংবা যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো. জুনায়েদ কাউছার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সূত্র: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ফেসবুক থেকে।

রাঙ্গুনিয়ায় জিয়ার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে হুম্মামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে  ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার জিয়ারত শেষে কাদের নগরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা ফারহাদ কাদের চৌধুরীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

মাজার জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীরা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ রাঙ্গুনিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। রাঙ্গুনিয়ার সকল শ্রেণীর মানুষ আজ এক কাতারে দাঁড়িয়ে বলেছে— তারা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আবার চায়। আমাদের ভাগ্য খারাপ, তিনি আজ এই দিনটি দেখতে পারছেন না। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই— যতদিন বেঁচে আছি, মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দেখানো পথেই আমি ইনশাআল্লাহ চলব।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল রাতে বিএনপির বেশ কিছু প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার পক্ষে আমারও নাম এসেছে। আজ থেকে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হলো। আমাদের ঐতিহাসিক রাঙ্গুনিয়ায়, যেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার রয়েছে, সেই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় অনেক নেতা আছেন, আগে আমাদের মধ্যে কিছু মতভেদ ছিল। তবে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশে এখন আর কোনো গ্রুপিং নেই। আমরা সবাই ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে কাজ করব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ভেবেছিলাম তারেক রহমানের সঙ্গে সংসদে যাব, কিন্তু আল্লাহর লিখন ভিন্ন ছিল। আজ আমার সৌভাগ্য হবে— রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সাহেবের পাশাপাশি সংসদে বসার।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, আপনাদের কাছে একটা দায়িত্ব দিলাম রাঙ্গুনিয়ার যতগুলো মানুষ আছে তাদের কাছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ হতে, তারেক রহমানের পক্ষ হতে সালাম পৌঁছে দিবেন।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা সভায় বিএনপি নেতা ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতি, জনমনে সম্প্রীতির প্রত্যাশা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের খণ্ডলিয়াপাড়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় বিএনপি নেতা ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতি জনমনে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে ভিন্ন সময়ে সভায় যোগ দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

বিকেলে স্থানীয় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি (হুম্মাম কাদের চৌধুরী) মাদ্রাসার সভায় অংশ নেন এবং বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা—দোয়া করবেন যেন ঈমানের সঙ্গে বাঁচতে ও মৃত্যু বরণ করতে পারি। আমার বাবা আপনাদের মাঝে নিয়মিত আসতেন, দোয়া চাইতেন। আশা করছি, সেই দোয়া ও ভালোবাসা আমিও পাব।”

তিনি আরও বলেন, “সামনে নির্বাচন আছে, কী হবে জানি না, তবে চেষ্টা করব আপনাদের পাশে থাকতে। আপনাদের দোয়া নিয়েই যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে।”

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম সভায় বক্তব্যে বলেন, “এই মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ অনেক আলেম-ওলামা দেশে-বিদেশে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছেন। কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদান পায় না, তবুও ইসলামী শিক্ষার মূল শক্তি তৈরি করছে।”

তিনি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আবদুল গণি    ও বর্তমান পরিচালক মাওলানা সুলতান আহমেদ-এর জন্য দোয়া করেন এবং বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানসহ দেশের হাজারো মাদ্রাসা মানুষের দান ও অনুদানে চলছে। আমাদের সবার উচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানো।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক জাগদল নেতা, বৃহত্তর রাজানগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী এমএন আলম। তিনিও মাদ্রাসার সাফল্য কামনা করেন।

সভা শেষে মাদ্রাসা মিলনায়তনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কৌশল বিনিময় হয় বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, দুই দিনব্যাপী এই বার্ষিক সভার সমাপ্তি হচ্ছে আজ শনিবার। গতকাল থেকে শুরু হওয়া সভায় বিভিন্ন অঞ্চলের খ্যাতনামা আলেম-ওলামারা ইসলামী আলোচনা করেন।

৩১ দফা লিফলেট হাতে রাঙ্গুনিয়ার মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ৩১ দফা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ও হাটবাজারে প্রচারণা চালাচ্ছেন যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও হাটবাজারে দিন-রাত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এই ৩১ দফা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের শান্তি নিকেতন এলাকাতেও তাকে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।

এ সময় তিনি স্থানীয়দের ও পথচারীদের হাতে ৩১ দফা-সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সালাম জানান। পাশাপাশি তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এই যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

সেখানে তিনি বলেন, “আমরা বিগত ১৭ বছর যেভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্যও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, আগামী ফেব্রুয়ারিতে, বাংলাদেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে উত্তর চট্টলার সাতটি আসনে যাকে তারেক রহমান মনোনয়ন দেবেন, আমরা সবাই ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এক হয়ে কাজ করব—এই প্রত্যাশা রাখি।”

মুরাদ চৌধুরী আরও বলেন, “ধানের শীষের বিজয়ের জন্য আমাদের গ্রামগঞ্জে গিয়ে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে হবে। এই সমর্থন আদায়ের জন্য সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজনীতি করতে হবে। মানুষের আশা-প্রত্যাশা বুঝতে হবে।”

সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনগণের পাশে দাঁড়ান, তাদের কল্যাণে কাজ করুন। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে ভালোবাসা ও জনগণের আস্থার মাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে সংসদে যেতে পারেন এবং বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।”

রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে জামায়াতের প্রার্থী ডা. রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার রাণীরহাট বাজারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত জনসংযোগ ও গণসমাবেশে অংশ নেন দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এ সময় তিনি রাণীরহাটসহ আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাজার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, “রাণীরহাট, ইসলামপুর, রাজানগর ও বাগাবিলি এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এখানে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অসুস্থ রোগীদের চট্টগ্রাম বা রাঙ্গামাটি নিয়ে যেতে হয়, যা দীর্ঘ পথের কারণে অনেক সময় জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভঙ্গুর। রাস্তাগুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি ইছামতী নদীর ভাঙন থেকে রাণীরহাট বাজারকে রক্ষা করে এটিকে আধুনিক বাজারে রূপ দেওয়া হবে।”

গণসংযোগ শেষে এক পথসভায় এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দাবি তুলে ধরেন তিনি। এর আগে রাণীরহাট বাজারের প্রতিটি গলি ও দোকানে ঘুরে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ডা. রেজাউল করিম।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গামাটি জেলা আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি মনসুরুল হক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, ইসলামপুর ও রাজানগর ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আহমদ নবী, সদস্য সচিব নুরুল আবছার মেম্বার প্রমুখ।

গণসংযোগকালে রাণীরহাট বাজার সমিতি, বণিক সমিতি, চাল ব্যবসায়ী সমিতি, মামরা সম্প্রদায় গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

তরুণদের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতা, যিনি তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন— এমন মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে ছাত্রসমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা এ কথা বলেন।

আয়োজনটি করে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, “বিএনপি উদার মনের একটি রাজনৈতিক দল, এটি ছাত্রবান্ধব ও গণতন্ত্রের রক্ষক। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ছিল স্বনির্ভর, দেশপ্রেমিক ও জনমুখী বাংলাদেশ গড়া। তারেক রহমান সেই আদর্শের আলোকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলম।
সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এস শোয়াইব কাদের এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী ফরহাদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন রুবেল, মো. ইয়াছিন, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাস্টার ইমরান, ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ সায়মন, রাজানগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা।

আগামীর নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ: রাঙ্গুনিয়ায় এলডিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নুরুল আলম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় র‍্যালি ও পথসভা করেছে দলটি।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রধান র‍্যালিতে যোগ দেন। র‍্যালিটি চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা সদরের ইছাখালী এলাকায় পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলম বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি এলডিপির প্রার্থী ছিলাম না, ছিলাম জোটের প্রার্থী। সামনে যে নির্বাচন আসছে তা হবে একটি অভিনব, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন—যেখানে কোনো জালিয়াতি থাকবে না। আমি চাই, সেই নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়াবাসীর রায়ে আমার নাম ও এলডিপির সম্পৃক্ততা থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ দীর্ঘদিনের নীরবতা, বিচ্ছিন্নতা ও দ্বিধা–দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে রাঙ্গুনিয়াবাসীকে জানিয়ে দিচ্ছি—আমরা আছি, আমরা থাকব, আমরা রাজনীতি করছি এবং আগামীতেও নির্বাচনে অংশ নেব।”

নুরুল আলম জানান, এলডিপি এখনো জোটে রয়েছে এবং দলীয় মনোনয়নও পেয়েছে। অচিরেই জোটের প্রার্থীতা ঘোষণা হবে।
“আজকের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এতদিন আমাদের মধ্যে কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা ছিল, এখন আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। আজকের এই র‍্যালি ও পথসভায় আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, ভবিষ্যতের প্রতিটি কর্মসূচিতেও একইভাবে অংশগ্রহণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন—এই প্রত্যাশা করছি। এই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

রাঙ্গুনিয়ার জন্য সুখবর আসছে, নেতাকর্মীদের অপেক্ষা করতে বললেন বিএনপি নেতা কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রস্তাবিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়ায় মহাসমাবেশ করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান বাসস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক শামশুল আলম কন্ট্রাক্টর। সদস্য সচিব আবদুস সালাম মেম্বার ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোজাফফর চৌধুরী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আজম খাঁন, রাঙ্গুনিয়া পৌর বিএনপির আহবায়ক মো. মাহবুব ছফা, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া চেয়ারম্যান, যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক, মুজিবুল আলম মুজিব ও ওসমান গনি প্রমুখ।

সভায় প্রধান বক্তা সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী বলেন, “আজকের এই সভা রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নেতাকর্মীরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে সাংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে কাজ করেন, তাহলে হাইকমান্ড জানবে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি ঐক্যবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐক্যবদ্ধভাবেই করবো। আমাদের শক্তি সাংগঠনিক শক্তি, জনতার শক্তি—এই শক্তিকে কেউ দমাতে পারবে না।”

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে হবে। কেউ যদি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা মেনে নেওয়া হবে না।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এটি হবে আমাদের প্রথম দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “মরিয়ম নগর থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত ডিসি রোড সম্প্রসারণ, গুমাই প্রকল্পের উন্নয়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং প্রবাসে যাওয়ার আগ্রহীদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত রাঙ্গুনিয়ায় একটি বড় পরিসরে এতিমখানা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।”

তিনি জানান, “তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা রাঙ্গুনিয়ার অলিগলিতে মানুষের কথা শুনছি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করা হবে।”

দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “গত ১৭ বছর যারা রাজপথে ছিল, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে—আমি সবসময় তাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের জন্য সুখবর আসছে। একটু ধৈর্য ধরুন, বিজয়ের হাসি রাঙ্গুনিয়াবাসী হাসবে। সেই প্রত্যাশা রেখে ধানের শীষের মার্কা যিনিই নিয়ে আসবেন তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি আবু আহমেদ হাসনাত বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাঙ্গুনিয়ার মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত। তাঁর আদর্শেই আজ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তারেক রহমান বিবিসিতে বাংলাদেশের প্রতিটি নেতাকর্মীর কথা বলেছেন, নিজের নয়। তিনি দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষ সবসময় ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে পাশে থেকেছে। তাই আমরা চাই, রাঙ্গুনিয়ার নেতৃত্ব রাঙ্গুনিয়ার মানুষের হাতেই থাকুক। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই হবে আমাদের চূড়ান্ত নির্দেশ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা বাস্তবায়ন করবো।”

নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম: নোয়াখালীর কাশেম বাজার জামে মসজিদে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে হামলার অভিযোগে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নগরের মুরাদপুর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি দুই নম্বর গেটে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

ছাত্রশিবির মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মুমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।

সমাবেশে তানজির হোসেন জুয়েল বলেন, “কুরআনের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়। যুগে যুগে ইসলামবিরোধী শক্তি কুরআনের প্রোগ্রামে হামলা চালিয়ে এসেছে। অতীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রমজানে কুরআন তালিম ও ইফতার প্রোগ্রামে হামলা করেছে— এখন নব্য ফ্যাসিবাদিরা সেই পথেই হাঁটছে।”

তিনি আরও বলেন, “মসজিদ কারো বাপের সম্পত্তি নয়। মসজিদে কুরআন ও হাদিসের আলোচনা হবেই। যারা বাধা দেবে, তাদের জবাব দেওয়া হবে— এটি প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, “নোয়াখালীতে ছাত্রদল- বিএনপির সন্ত্রাসীরা পবিত্র কুরআন তালিমে হামলা চালিয়ে আমাদের ভাইদের রক্তাক্ত করেছে। তারা আমাদের মা-বোনদের প্রোগ্রামেও হামলা করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণেই ছাত্র সমাজ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে— যার প্রমাণ ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুতে তাদের শোচনীয় পরাজয়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সন্ত্রাস যে মোড়কেই আসুক আমরা প্রতিহত করব। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমরা ঐক্যবদ্ধ।”