ওমানে রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর মৃত্যু, একজন সড়কে, অন্যজন অসুস্থতায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। একজন প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়, অন্যজন অসুস্থজনিত কারণে।

প্রয়াতদের একজন উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তাপুর এলাকার মো. ফারুক (৩৫)। তিনি মৃত আরবান আলীর ছেলে। অন্যজন ময়ূর উদ্দিন (২২), পারুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড উত্তর পারুয়া এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে।

ফারুকের মৃত্যুর বিষয়ে একই এলাকার ওমানপ্রবাসী জামাল উদ্দিন জানান, তিনি সোহার গাদাফান এলাকায় ফ্রি ভিসায় কাজ করতেন। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার লিভারের সমস্যা শনাক্ত করেন। পরে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান তিনি। পরে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ফারুকের এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। দেড় বছর আগে সর্বশেষ বাংলাদেশে এসে পুনরায় ওমানে পাড়ি জমান। পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, ময়ূরের বড় ভাই আবদুল সুক্কুর জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ওমানের বোয়ালী এলাকায় আরবাবের কাছে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। গাড়িতে আরও তিনজন ছিলেন। গাড়ি উল্টে গেলে সবাই আহত হন। তবে ময়ূরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

ময়ূর একটি মাছ পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৩ বছর আগে প্রবাসে যান তিনি। সর্বশেষ ৪-৫ মাস আগে দেশে এসে আবারও ওমানে ফিরে যান। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার লাশ দেশে পাঠানোর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা চলছে।

শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে ইউনিসেফের চার পরামর্শ

ডেস্ক:
বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চারটি পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সচেতনতামূলক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউনিসেফের দেওয়া পরামর্শগুলো হলো—

  • শিশুকে কখনো একা ফেলে রাখা যাবে না, সবসময় দায়িত্বশীল কারও সাথে থাকতে হবে।
  • শিশুদের সাঁতার শেখার ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
  • খোলা পানির উৎস চিহ্নিত করে তার চারপাশে বাধা বা বেড়া স্থাপন করতে হবে।
  • উদ্ধার ও সুরক্ষাকৌশল সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা প্রচার করতে হবে।

সংস্থাটি জানায়, এসব করণীয় মেনে চললে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ (অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ)

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন— সমান গুরুত্বে দেখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

দুই ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব এবং এ সংক্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিশন সদস্যরা জানান, খুব শিগগিরই কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেবে।

এই বিষয়টিকে সামনে এগিয়ে নিতে আগামী রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারো বৈঠক করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রস্তাবনাগুলোও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম তিনটি মেন্ডেটের অন‍্যতম হচ্ছে সংস্কার। তাই নির্বাচন ও বিচারের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদের বিষটিকে দেখতে হবে।”

তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শুধুমাত্র একটি সাধারণ নির্বাচনই নয়, এটি হচ্ছে একটি ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের পথরেখা।”

তিনি বলেন, “তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদেরকে অবশ্যই মৌলিক সংস্কারগুলো চুড়ান্ত করে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই।”

কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আজ রাতের আকাশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: রক্তিম চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শনি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: আজ (রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর) রাতেই ঘটতে যাচ্ছে পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ উপভোগ করবে এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শুরু হবে পেনুমব্রাল গ্রহণ। রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এবং স্থায়ী হবে রাত ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় চাঁদ রক্তিম আভায় রূপ নেবে, যা “Blood Moon” নামে পরিচিত। পূর্ণগ্রাস অংশ স্থায়ী হবে প্রায় ৮২ মিনিট। পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে। অর্থাৎ পেনুমব্রাল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রহণ চলবে মোট প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট।

পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চলাকালে আকাশে চাঁদের কাছেই দেখা যাবে সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শনি (Saturn)। এটি খালি চোখে উজ্জ্বল হলুদাভ বিন্দুর মতো দেখা যাবে। টেলিস্কোপ বা উন্নত বাইনোকুলার ব্যবহার করলে শনির বলয় আংশিকভাবে দেখা সম্ভব।

অন্যদিকে, গ্রহ নেপচুন (Neptune) তখন আকাশে অবস্থান করলেও এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে হালকা নীলাভ একটি ক্ষুদ্র বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বহু দেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে। সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে ইন্দোনেশিয়ার হিলা দ্বীপ থেকে শুরু করে আফ্রিকার কেনিয়ার মোম্বাসা উপকূল পর্যন্ত এলাকায়।

আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে খালি চোখেই গ্রহণ দেখা সম্ভব হবে। তবে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে চাইলে বাইনোকুলার, ছোট টেলিস্কোপ কিংবা স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আজ রাতের এই মহাজাগতিক ঘটনা একসঙ্গে পূর্ণিমা, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, রক্তিম চাঁদ ও শনির সৌন্দর্য উপহার দেবে। বিরল এ দৃশ্য উপভোগে তাই বিশ্ববাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।

সূত্র: NASA, BBC Sky at Night Magazine

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ: সফর ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান সম্প্রতি তাঁর চীন সফরকালীন অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর অভিজ্ঞতা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সেনাপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান সেনাবাহিনীর চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

 

ভিপি নুরের ওপর হামলা নিয়ে সরকারের বিবৃতি

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নূরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল নূরের ওপরই নয়, এ ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার ওপরও আঘাত। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

তাৎক্ষণিকভাবে নুরুল হক নূর ও তাঁর আহত সহকর্মীদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানোরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিবৃতিতে নূরের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। বলা হয়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। চব্বিশের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চলাকালে তাঁকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনেরও উল্লেখ রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংকটময় এই সময়ে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলেও জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বৈঠকে ভিসামুক্ত ভ্রমণসহ ছয় চুক্তি-সমঝোতা সই

সংগৃহীত ছবি

ডেস্ক: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়েছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানানো হয়।

চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত ভ্রমণ, বাণিজ্য সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, তিন বছর মেয়াদি সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, সরকারি বার্তাসংস্থার মধ্যে সমঝোতা এবং গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা।

বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার দাবি করেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো এরইমধ্যে তাদের দেশ সমাধান করেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইসহাক দার। রাতে গুলশানে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেবেন তিনি।

এর আগে শনিবার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকা আসেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী। পৌঁছানোর পর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মালয়েশিয়ায় পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তিন দিনের সরকারি সফরে সোমবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি।

তার আগমন উপলক্ষে সেখানেই (টার্মিনাল ১) ছিল আনুষ্ঠানিক আয়োজন।

সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে ড. ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাণিজ্যিক বিমান অবতরণের পর কেএলআইএর বুংগা রায়া কমপ্লেক্সে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।

পরে রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের ২৮ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন ড. ইউনূস। গার্ড অব অনারের নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন মোহদ মাসরুর হিদায়াত মাসরি।

প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কয়েকজন উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়া সফর করছেন ড. ইউনূস। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরে এসে ড. ইউনূসকে তার দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মঙ্গলবার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হবে এবং আনোয়ারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতি ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সফরের সময় দুই নেতা প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টরে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রচারের ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিনিময় প্রত্যক্ষ করবেন। এছাড়া কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা খাতে নোট বিনিময়ও সম্পন্ন হবে।

সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সেরি পেরদানা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসের সম্মানে আনুষ্ঠানিক ভোজের আয়োজন করবেন। বুধবার তিনি একটি জনসভার বক্তব্য দেবেন এবং ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) থেকে সামাজিক ব্যবসায় সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসফি ডিগ্রি লাভ করবেন। তিনি ইউকেএম এবং ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

২০২৪ সালে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত (২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রপ্তানি গন্তব্য। মালয়েশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, পাম তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর বাংলাদেশ থেকে আমদানি হয় টেক্সটাইল, জুতা, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও প্রস্তুত পণ্য।

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের আগে ইইউর জরুরি বৈঠক, জেলেনস্কির অংশগ্রহণে জোর

আন্তর্জাতিক: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠকে বসার আগে আজ সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসছেন।

ব্রাসেলস থেকে এএফপি জানায়, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করবেন ইইউ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ইইউ’র আশঙ্কা, ইউক্রেনকে ছাড়াই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে অগ্রহণযোগ্য আপসে বাধ্য করা হতে পারে।

পুতিন ও ট্রাম্প আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তিন বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে ছাড়াই পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যকার বৈঠকের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, চুক্তির ফলে কিয়েভকে কিছু অংশ বা অঞ্চল ছেড়ে দিতে হতে পারে।

ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ অনলাইনে বৈঠক করবেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি ইভানোভিচ সিবিহা ওই অনলাইন বৈঠকে যুক্ত থাকবেন।

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে জেলেনস্কিকে উপস্থিত রাখার ব্যাপারে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইইউ নেতারা। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, ফিনল্যান্ডের নেতারা এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেইন যৌথ এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি যেন রাশিয়ার ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করেন।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস গতকাল রোববার বলেন, ‘বিশ্ব নেতাদের বৈঠকে জেলেনস্কি অংশ নেবেন বলে আমার ধারণা ও বিশ্বাস রয়েছে।’

সূত্র : এএফপি, বাসস