রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে দ্বীনের আলো ছড়াল ছাত্রশিবিরের অনন্য উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বীনের ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রায় ৫৫–৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বাংলা অনুবাদসহ কুরআন শরীফ উপহার দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গুনিয়া উত্তর সাংগঠনিক থানা শাখার আদর্শ থানা শাখা আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে এ উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন থানা শাখার সেক্রেটারি আব্বাস উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মঈনুদ্দিন মিসবাহ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া শহর আদর্শ থানা শাখার সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ। প্রধান মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর বায়তুল মাল সম্পাদক জহির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্টও বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে একদিনের শিক্ষক ইউএনও

একদিনের শিক্ষক ইউএনও মো. কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের ক্লাসে

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দুপুরের নীরবতা ভাঙতেই উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নেমে আসে অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবাক চোখে দেখল—আজ তাদের ক্লাস নিচ্ছেন কেউ ভিন্ন মানুষ। সাদা বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষক নন, উপস্থিত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে ইউএনও আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে নেমে পড়েন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি পাঠদানে। হাতে বই নিয়ে প্রশ্ন করেন, মনোযোগ দিয়ে উত্তর শোনেন, এবং পড়াশোনায় আগ্রহী হওয়ার পরামর্শ দেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু পাঠ্যবই নয়, জ্ঞান, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা অর্জন করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।”

পরিদর্শনের সময় তিনি বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলা ও পাঠদানের মানও ঘুরে ঘুরে দেখেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা ইউএনওর এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন শর্মা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশীদসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

শিক্ষকেরা জানান, ইউএনওর সরাসরি অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মনে নতুন অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা বলছে, একদিনের জন্য হলেও ইউএনওকে শিক্ষক রূপে পাওয়া তাদের কাছে হয়ে রইল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

 

শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের উপহার ও লিফলেট বিতরণ


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী ও লিফলেট বিতরণ করেছে কলেজ ছাত্রদল।

সোমবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে এ কার্যক্রম আয়োজন করে নবগঠিত উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল।

এ সময় লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এস.এইচ. সুমনসহ কলেজ ছাত্রদলের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি সংবলিত লিফলেট ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি সাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক।

“তারা হারায়—কখনো ফিরে, কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতিতে”

রাঙ্গুনিয়ায় দুই শিশুর হারিয়ে যাওয়া ও মানবিক উদ্ধার অভিযান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: একটা অন্ধকার রাত। দুই অবুঝ শিশু পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

কে জানে তারা কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে?
তারা হারিয়ে গেছে—কখনো হয়তো ফিরে আসবে, আবার কখনো হারিয়ে যাবে এমন এক পরিণতির দিকে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে পাওয়া গেছে। কেউ চিনে থাকলে যেন যোগাযোগ করা হয়।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু দুজনকে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক শিশুদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নে। শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায়, স্থানীয় এক যুবক, মুসাফির তালুকদার, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন যাতে তাদের পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়।

জোনাকি ও আয়েশা—দুই অবুঝ মুখের পরিচয়

শিশু দুটির একজনের নাম জোনাকি, অপরজন আয়েশা। তারা জানায়—তাদের বাবার নাম সোহেল, মায়ের নাম মুন্নী। কখনো তারা বলে সৈয়দনগর, কখনো কাটাখালি—ঠিকানা তারা মনে রাখতে পারে না।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকা থেকে ফোন আসে। এক ব্যক্তি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, শিশুদের নানী পরদিন সকালেই প্রমাণপত্রসহ এসে নিয়ে যাবেন।

পরদিনই এক করুণ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জোনাকি(৯) ও আয়েশার(৭) নানী এসে তাদের পারুয়া থেকে নিয়ে যান।

“কিন্তু পরদিন আরও একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে আসে।”

জানা যায়, জোনাকি ও আয়েশার বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা এখন নানীর কাছে থাকে।
পায় না বাবার আদর, কিংবা মায়ের যত্ন। কারণ মা মুন্নী শহরে কাজ করেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে।

বাবা-মা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কিছুটা মানসিক সমস্যা, আর শিশু দুজনের একজন মানসিকভাবে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিকারগ্রস্ত)। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, ঠিকানা মনে রাখতে পারে না। মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে শিশুদের নানী মো. ননা মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তার জানান, তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিল শেষবার কাউখালি থানার সহায়তায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তারা তার কাছেই থাকেন উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকার সোনারগাঁও এলাকা সংলগ্ন ঘোনাকূল ওরনার টিলা এলাকায়।

“দারিদ্রতার কাছে তিনিও পরাজিত, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই দুই নাতনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেও তবুও হারিয়ে যায় তারা।”

প্রশ্ন: এবার তারা ফিরে এসেছে ভালো কিছু মানুষের সহানুভূতিতে, কিন্তু আগামীবার?

 

পূর্বের আরেক করুণ গল্প: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন 

এ ধরনের একটি ঘটনা আগেও ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ওসমানের টেক এলাকার আমড়াকাটার বাড়িতে।
সেখানে এক মেধাবী ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হলেও ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তার পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা না থাকলেও, সাজ্জাদের সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে। সে প্রায়ই হারিয়ে যেতো। কখনো ফিরে আসতো, কখনো বহুদিন নিখোঁজ থাকতো।

শেষবার সে হারিয়ে যায় চিরতরে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু ছেলের মুখ শেষবার আর দেখতে পারেননি।

সাজ্জাদের গল্প আমাদের শেখায়—মানসিক অসুস্থতা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের কষ্ট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

নিরাপদ নয় এই অনিশ্চিত পথচলা

জোনাকি ও আয়েশার গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি বাংলাদেশের অনেক শিশুর বাস্তবতা।
তারা হারিয়ে যায়— কখনো ফিরে আসে কারো মমতায়,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতির অন্ধকারে।

এখনই যা করণীয়:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:
শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রশাসনিক নজরদারি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৩. পরিচয়পত্র ব্যবস্থা:
শিশুদের জন্য আইডেন্টিটি ট্যাগ, নামপোতা জামাকাপড় কিংবা ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

৪. কমিউনিটি সাপোর্ট:
স্থানীয় দোকান, বাজার, মসজিদ-মন্দিরের লোকদের সচেতন করা জরুরি—যাতে তারা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারেন।

শেষ কথা: আজ জোনাকি ও আয়েশা ফিরে এসেছে।
কিন্তু এটাই কি শেষবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

“আমরা জানি না, এটাই কি তাদের হারানোর শেষবার?
কিন্তু এটুকু জানি—তারা যেন আর না হারায়,
তাদের ছোট্ট জীবন যেন থেমে না যায় কোনো নির্মম পরিণতির কাছে। এই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”

প্রতিবেদন: এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার,
সম্পাদক: রাঙ্গুনিয়া টুডে।

 

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

ডেস্ক: 

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাকে এ তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের সই করা একটি অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, অধিদপ্তরের আওতাধীন মাদ্রাসাগুলো থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ (গেজেট সংযুক্ত) ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এজন্য শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীর নাম, পিতার নাম, মোবাইল নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার নাম, মাদ্রাসা প্রধানের নাম ও মোবাইল নম্বর ইত্যাদি তথ্য নির্ধারিত ই-মেইল (addmin.dme24@gmail.com) ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে।