দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস, সরকারি কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীদের প্রশংসা করলেন এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অতি ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার পৌরসভার কয়েকটি এলাকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদেরও প্রশংসা করে বলেন, তারা মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে এমপি বলেন, এখনও অনেক পাহাড়সংলগ্ন বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে প্রস্তুত রাখা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী কেউ যদি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আর কেউ নিজ এলাকায় থাকতে চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহায়তা করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পাহাড় রক্ষার বিষয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বালু উত্তোলন বন্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করেছেন। এখন অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এমপির এ পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে গত মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় একই দিনে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সকালে পাহাড়ধসে এক নারী আহত হওয়ার পর বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।

এদিকে, টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্যোগে মানুষের পাশে প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) ডেস্ক: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন। দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ সহায়তা বিতরণ, রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান এবং পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর মতো নানা মানবিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে কোনো মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পান, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। জরুরি সহায়তার জন্য প্রশাসনের হটলাইন ও ইউএনওর ব্যক্তিগত নম্বরও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এদিকে ইছাখালী আদর্শগ্রামের (গুচ্ছ গ্রাম) পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। পরে ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের পাশাপাশি ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে চাল, ডালসহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। কর্মসূচি শেষে নিহত নারীর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং টানা বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশবাসীর নিরাপত্তা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের উপজেলা ও পৌরসভা শাখার নেতারাও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিদর্শন শেষে নেতারা পাহাড়ধসে নিহত নারীর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া, এর আগে সাবেক ছাত্রদল নেতা ভিপি আনছুর উদ্দীনের উদ্যোগে পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়া চালক ও পথচারীদের মধ্যে রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ করা হয়। ভিপি আনছুর উদ্দীন জানান, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর পক্ষে তাঁর উদ্যোগে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগের এই সময়ে প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করছে। তবে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

টানা বর্ষণে এখনো রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। তাই প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণে টিন প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে রাতের রান্না করা খাবার সরবরাহ এবং রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝেও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়াবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে উল্লেখ করে রাঙ্গুনিয়াবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, পাহাড় ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালু এলাকার কাছাকাছি অবস্থান থেকে বিরত থাকা, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের নিরাপদ স্থানে রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের নিকটস্থ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত।

পোস্টের শেষে তিনি বলেন, “আপনার সামান্য সতর্কতাই রক্ষা করতে পারে একটি মূল্যবান জীবন। সকলের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আল্লাহ তাআলা রাঙ্গুনিয়াসহ সবাইকে হেফাজত করুন।”

অতিবৃষ্টিতে রাঙ্গুনিয়ায় ৯ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, দায়িত্বে কর্মকর্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা অতিবৃষ্টি ও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, অতিবৃষ্টির কারণে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হলো— পারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় (পারুয়া), ঢেমীরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (বেতাগী), বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (চন্দ্রঘোনা), পদুয়া সম্মিলনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (পদুয়া), গোদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ইসলামপুর), রহম আলী বদরুস মেহর উচ্চ বিদ্যালয় (রাজানগর), সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় (সরফভাটা), হিলাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পোমরা) এবং জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা)।

আদেশ অনুযায়ী, এসব আশ্রয়কেন্দ্রে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মোবাইল নম্বরও অফিস আদেশে সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।

এ ছাড়া উপজেলা দুর্যোগ তথ্যকেন্দ্রের হটলাইন নম্বর ০১৭১৭-৯৭৬৪০৪ ও ০১৮৪০-০৮১১০০ সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বা আশ্রয়ের প্রয়োজন হলে এসব নম্বরে যোগাযোগ করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করা হলো রাতের খাবার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানিবন্দী মানুষের সহায়তায় মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের উদ্যোগে প্রায় একশত পরিবারের মাঝে রান্না করা রাতের খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে খাবার প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করা হয়। পরে রাতেই সেগুলো উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রতিটি খাবারের প্যাকেটে ছিল ভাত, মুরগির মাংস, ডিম, সবজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। দুর্যোগে ঘরবন্দী মানুষের খাদ্যসংকট কিছুটা লাঘব করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাই দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময়ে এমন মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবের পাশাপাশি তাদের মনে সাহস ও আস্থা জোগায়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার আজ বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত করা হলো।

তবে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যাতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দেশের চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬ এর ৮ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষাসহ দেশের অন্যান্য সকল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় একই দিনে দুই পাহাড়ধস: আহতকে দেখে ফেরার পর প্রাণ গেল আরেক নারীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে একই দিনে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক নারী আহত হয়েছেন। সকালে একই এলাকায় পাহাড়ধসে আহত সরফবানুকে দেখতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারান রেনু আক্তার (৫৬)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার ইছাখালী আদর্শ গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় সকাল ও বিকেলে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকালে পাহাড়ধসে সরফবানু নামে এক নারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে একই এলাকায় আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে গাছসহ পাহাড়ের মাটি ধসে একটি বাড়ির ওপর পড়ে গেলে রেনু আক্তার চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে গাছসহ পাহাড়ের মাটি ধসে বাড়ির ওপর পড়ে। এতে এক নারী চাপা পড়ে নিহত হন। সকালে একই এলাকার আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আহত সরফবানুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, বিকেলে নিহত ওই নারী সকালে আহত সরফবানুকে দেখতে গিয়েছিলেন।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “সকাল ও বিকেলে একই এলাকায় দুটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। বিকেলের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং সকালের ঘটনায় আহত নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এর আগে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসের শঙ্কা, সতর্কতায় মাঠে ইউএনও-এসিল্যান্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করেন। এ সময় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই পাহাড়ি উঁচু-নিচু এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় ইউএনও জানান, টানা অতিবৃষ্টির ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ইউএনও: ০১৭৮৯-৭৯৬১৬০, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা: ০১৮৩২-৫১৬২৮৬, ডিজিএম, পল্লী বিদ্যুৎ: ০১৭৬৯-৪০০১০৯ এবং ফায়ার সার্ভিস: ০১৮৬০-৩৮৭১৬১।

এ ছাড়া অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, গুজব বা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামালের জীবনযুদ্ধের অবসান, অনিশ্চয়তায় পরিবার

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার যুবক মো. জামাল (৩৯)। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একই দিন সকালে স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত জামাল ওই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঋণ করে ওমানে পাড়ি জমান জামাল। সেখানে কখনো এসি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ, আবার কখনো নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঋণ পরিশোধ করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়েই প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন জামাল। এতে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। পরে তাঁর শরীরে প্যারালাইসিস দেখা দেয়।

সে সময় জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানান, মাত্র দুই দিনের চিকিৎসায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে সাধারণ বিমানে আনা সম্ভব ছিল না। এজন্য প্রয়োজন ছিল ব্যয়বহুল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের।

জামালের চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে সবার সহযোগিতায় তাঁকে দেশে এনে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে তাঁর পরিবার।

 

অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে রাঙ্গুনিয়ায় সতর্কতা: আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান, জরুরি নম্বর দিলেন ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: টানা অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক জরুরি বার্তায় ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, গতকাল থেকে চলমান অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে।

নম্বরগুলো হলো— ইউএনও: ০১৭৮৯৭৯৬১৬০, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা: ০১৮৩২-৫১৬২৮৬, ডিজিএম, পল্লী বিদ্যুৎ: ০১৭৬৯-৪০০১০৯ এবং ফায়ার সার্ভিস: ০১৮৬০-৩৮৭১৬১।

এ ছাড়া তিনি অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

রাঙ্গুনিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের সম্মাননা ও চারা বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাসুদ রানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহসভাপতি ওসমান গনি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাহার, সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল সালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন শাহ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার শ্রেষ্ঠ দুই সমবায়ীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে চার পরোয়ানাভুক্ত মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চারটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মাফুজের রহমান ও এএসআই (নিরস্ত্র) আবদুর রহিম সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে এস. এম. শফিকুল ইসলাম (রাশেল) (৪০) নামে এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের নজুরপাড়া এলাকার মৃত মো. বদরুজ মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ মোট চারটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এর মধ্যে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা, একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা এবং একটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার পরোয়ানাও রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালী থানা এবং রাঙ্গামাটি সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

হাটহাজারীতে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোবাইল চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আনুমানিক ৩৬-৩৭ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকিয়া এলাকার হাজি জয়নাল কোম্পানির বাড়িতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরোজা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

রোববার বিকালে এসআই আসাদ জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) খবর দেওয়া হয়েছে।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

দায়িত্ব পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আনসার কর্মকর্তা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আলাউদ্দিন (৩৮) নামে এক আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে আবুতোরাব রাস্তার মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আলাউদ্দিন রামগতি উপজেলার কাশেম মিয়া বাড়ি এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি চলতি বছরের শুরুতে মিরসরাই উপজেলায় আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

জানা গেছে, সরকারি কাজ পরিদর্শনের জন্য জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে আবুতোরাব এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে মিরসরাই সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভ্রা দাশ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদেরসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে যান।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের বলেন, সকালে একটি তদন্ত-সংক্রান্ত কাজে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা আসছেন। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আনসার কর্মকর্তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সকে হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের শাস্তির দাবি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের নার্সিং কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, দায়িত্ব পালনরত একজন নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুধু একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান সম্ভব নয়। গভীর রাতে মহিলা ওয়ার্ডে বহিরাগতদের প্রবেশ করে কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভা দেবী, সিনিয়র স্টাফ নার্স মায়া রাণী মজুমদার, সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমিনা মমতাজ, শাহনাজ পারভীন, পারভীন আক্তার, কাকলি বড়ুয়া, ঝুমুর আক্তার, রাবেয়া মমতাজ, পম্পী দেবী, মাহফুজা কুমারী, নাজনীন আক্তার, নাসরিন আক্তার, ফারজানা আক্তার, পাপড়ি দাশ, অর্পনা দাশ, তন্বী পাল, উম্মে কুলসুম শেলীসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য নার্সিং কর্মকর্তারা।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

 

নজরুলের চেতনায় মুখর চট্টগ্রাম, তিন দিনের আয়োজনের পর্দা নামল

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২০২৬-২০২৭) উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন দিনের এই আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে রাঙ্গুনিয়ায় পল্লী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লী চিকিৎসকদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই শতাধিক পল্লী চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দুর্ঘটনাজনিত জরুরি চিকিৎসাসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এছাড়া হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক করণীয় ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শওকত হোসেন। কর্মশালায় আরও প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের শারীরিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হাসান এবং জ্যেষ্ঠ সেবিকা ওয়াইসিং মরমা ও অনিক সিকদার।

এ সময় অংশগ্রহণকারী পল্লী চিকিৎসকদের বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কেও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পার্কভিউ হাসপাতালের বিপণন ও ব্র্যান্ড বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. জাহেদুর ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মজিবুক হক মানিক।

বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে রোগীরা আরও উন্নত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

 

 

নাম ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ হলেও উপজেলা সদর দক্ষিণে, ৭ দিনের আলটিমেটাম

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামে নতুন অনুমোদন পাওয়া ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর উত্তরাংশের পরিবর্তে দক্ষিণাংশে স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর পক্ষে এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আল মাসুদ।

নতুন উপজেলার অনুমোদনের জন্য সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ায় উত্তর ফটিকছড়ির মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ, ব্যবসাবাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। এই প্রেক্ষাপটে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর—এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ছাড়াই নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুরে উপজেলা সদর হওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার; অন্যদিকে বাগানবাজার থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভুজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং ভোটার রয়েছেন প্রায় সোয়া এক লাখ। উপজেলা পরিষদের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিলকে ভুজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে প্রভাব খাটিয়ে সেটি নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশের আলোকে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হসপিটালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনী, খালেদুল আনোয়ার এবং জহির রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এ মসজিদ চালু হওয়ায় এলাকার কয়েক হাজার মুসল্লির দীর্ঘদিনের স্থানসংকট দূর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাঙ্গুনিয়ার মোগলের হাট এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মুহাম্মদ আলমগীর। প্রায় তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের এই তিনতলা মসজিদ ভবনের সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বহন করেছেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী স্কলার ও ওয়ায়েজ আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জুমা ও দুই ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ধারণক্ষমতার সংকটে পড়তে হতো। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদ ভবন স্থানীয় মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান বক্তা আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী বলেন, মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আদর্শ সমাজ গঠনের কেন্দ্র হওয়া উচিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের মদিনার মসজিদের আদলে এ প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মসজিদটির ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। প্রায় অর্ধশত বছর আগে এ অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম হযরত মাওলানা আবুল খায়ের, যিনি ‘গদা মওলভী’ নামে পরিচিত ছিলেন, প্রথম এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পুরোনো ভবনে মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মুসল্লিদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়দের আবেদনের পর নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে মুহাম্মদ আলমগীর নিজস্ব অর্থায়নে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মসজিদ নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কারিগর এবং অর্থায়নকারী মুহাম্মদ আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও অর্থায়নকারীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; ভবিষ্যতে এটি রাঙ্গুনিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শন হিসেবেও পরিচিতি পাবে।

 

 

ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু ১ আগস্ট

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর (তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, অনগ্রসর ও চা-শ্রমিক) ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে জুলাইজুড়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে গত ৩০ জুন জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত dss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায় অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

আবেদনকারীদের নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং নিজের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বরও দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যারা বর্তমানে অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নিয়মিত সুবিধাভোগী, তারা এ কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন আবেদন ও অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা আবেদনসমূহ একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিতরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাবেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ঘোষণায় ভূজপুরে আনন্দ মিছিল ও শোকরানা মাহফিল

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): ফটিকছড়িতে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা ঘোষণায় এলাকায় আনন্দ মিছিল ও শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর থানার পাশে নির্ধারণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূজপুরে পৃথক দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়রা এ আনন্দ উদ্যাপন করেন। এ সময় সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম কর্মসূচিটি সকাল ৯টায় কাজিরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ৪ নম্বর ভূজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো এলাকায় এলে তাকে পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ভূজপুর থানা ঘোষণা করেছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর থানার পাশেই উপজেলা সদর দপ্তর নির্ধারণ করে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ঘোষণা হওয়ায় তারা সরকারপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, ভূজপুর থানার রূপকার খালেদা জিয়া ভূজপুরবাসীকে যথাযথ মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নতুন উপজেলা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত।

একই দিন জুমার নামাজের পর কাজিরহাট বাজারে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে দোয়া ও শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে নতুন উপজেলা ঘোষণার জন্য সরকারপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলে ভূজপুর থানা প্রতিষ্ঠায় যারা অর্থ, শ্রম ও ভূমি দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর মাগফিরাত কামনা করা হয়।

এ সময় দ্রুত উপজেলা নির্বাহী প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু এবং অবহেলিত এ জনপদের সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।

উভয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমএসএইচ শাহজাহান চৌধুরী শিপন, মাহাবুল আলম আযাদ, রিজোয়ান চৌধুরী, মাওলানা জুনাইদ বিন জালাল, বিএনপি নেতা মাহাবুর আলম আযাদ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবু তালেব, ব্যাংকার ফজলুল করিম, ইব্রাহিম মেম্বার, জসিম মীর, লোকমান হোসেন মেম্বার, হাফেজ এমদাদ, মোহাম্মদ জাহেদ হাসান, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ আমিনী, বিএনপি নেতা মুনসুর চৌধুরী, জহির উদ্দিন বাবর, এম. নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ ফয়েজ, সংবাদকর্মী মাওলানা আসগর সালেহী, নুরুল আলম গুরামিয়া মেম্বার, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মাওলানা এরশাদ বিন জালাল, বখতিয়ার তালুকদার, খায়রুল বশর, মীর সুমন, এমদাদ ইসলাম, আবু ওবাইদা, জয়নাল আবেদীন, ইলিয়াস তালুকদার, আখতারুজ্জামান রুবেল, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মাওলানা রফিক, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, মামুন বশর ভূইয়া, মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, সেলিম রেজা, রিপন চৌধুরী, রহিম, নিজাম ও খালেদ।

জাতি যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন দায়িত্ব নেন মেজর জিয়া: রাঙ্গুনিয়ায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিল না এবং হতাশায় নিমজ্জিত ছিল, তখন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া—এমন মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে যে নামটি জড়িত, সেটি হচ্ছে মেজর জিয়াউর রহমান। দেশমাতৃকার টানে সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন মেজর হিসেবে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন তিনি। জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিল না, তখন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না। বিগত সময়ে ভুল ইতিহাস গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের শিশু ও নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর চেষ্টা হয়েছে। ইতিহাস তৈরি করা যায় না, ইতিহাস সৃষ্টি করা হয়। সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

এর আগে মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা জিয়ানগরস্থ প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন।

পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর কেউ যেন নিজেকে দুর্বল মনে না করে, সেজন্য প্রশিক্ষণোত্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো বীরকে জাতি যাতে আজীবন শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে পারে, সে জন্য রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ, রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা, গ্রাম পুলিশদের সরঞ্জাম বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও চেক বিতরণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের (দফাদার ও মহল্লাদার) পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

পরে গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে ও উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

পরীক্ষা নম্বরের লড়াই নয়, জ্ঞান ও সততার মূল্যায়নের ক্ষেত্র: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার লড়াই নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। তিনি বলেন, পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়।

বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামে ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে পরীক্ষা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসুস্থ চিন্তা বা অসদুপায়ের স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই যেন সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার উত্তরপত্রে লিখে আসে।”

পরীক্ষা প্রতিযোগিতার অংশ হলেও সেই প্রতিযোগিতা অবশ্যই সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ্যবিষয় সত্যিকার অর্থে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পরীক্ষার খাতায় তার স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটবে। এতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধও ধারণ করতে হবে।”

প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে পরীক্ষা নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। ছাত্রজীবনে যা শিখছ, সেটিই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতো। কোনো কোনো বোর্ডের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করত। এ ধরনের বিতর্ক ও বৈষম্যের ধারণা দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম কলেজের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৩ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৩৫ জন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের অগ্রদূত: মীর হেলাল

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় দেশের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের কথা ভাবতেন। গ্রামের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ছাড়া দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই নীতিতেই তিনি বিশ্বাসী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) হাটহাজারীর রিসার্চ ও ফার্ম বেইজড ক্যাম্পাস মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাসযোগ্য দেশ গড়তে এর কোনো বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও করতে হবে। তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, তিনি আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে নয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। এই ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কৃষি, চট্টগ্রাম বিভাগের মনিটর এবং সিভাসুর ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. আহসানুল হক রোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রফেসর এ কে এম সাইফুদ্দিন, ড. মিজানুর রহমান, ড. আহসানউল্লাহ, প্রফেসর নূরুল হক, ড. তফাজ্জল হোসেন রনি, ড. মনিরুজ্জামান, ড. আতিউর রহমান এবং সিভাসু ছাত্রদলের সভাপতি জিয়াউর রহমান।

সৈয়দ মুনিয়া জিলশাদ ও মো. শাহরিয়ার হোসেন তালুকদারের যৌথ সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবু তোয়াব।

কেরানীহাটে সিসিটিভি নজরদারি চালু, অপরাধ দমনে নতুন উদ্যোগ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সাতকানিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কেরানীহাটকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় এনেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিসিটিভি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি শাহজাহান চৌধুরী।।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামসুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তারেক হোসাইনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেরানীহাট এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এতে অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

স্থানীয়দের মতে, কেরানীহাট বান্দরবান জেলার প্রবেশদ্বার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিমুখী সড়ক জংশন হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল হয়। এছাড়া এখানে রয়েছে একাধিক শপিং মল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের আশা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সহজ হবে। এতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

 

‘রাজনীতির কৃষক’ ছিলেন রফিক বিন চৌধুরী: স্মরণসভায় হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী, সমাজ-সংস্কারক ও দানবীর মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীকে স্মরণ করে আয়োজিত স্মরণসভায় রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “তিনি ছিলেন রাজনীতির একজন কৃষক।”

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হুমাম বলেন, একজন কৃষক যেমন জমিতে চারা রোপণ করে ধৈর্যের সঙ্গে তার পরিচর্যা করেন, তেমনি রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আস্থার চারা রোপণ করেছিলেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা ধরে রেখেছেন।

হুমাম কাদের বলেন, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে রফিক বিন চৌধুরী তাঁকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তাঁর উৎসাহেই তিনি নতুন করে মনোবল ফিরে পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রফিক বিন চৌধুরীর হাত ধরেই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজে এলেই তাঁর স্মৃতি মনে পড়ে, কারণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা তিনি রফিক বিন চৌধুরীর কাছ থেকেই পেয়েছেন।

রাজনীতিতে ধৈর্য, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে আছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মোহাং আবু হোসেন ইবনে হাশ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, দাতা সদস্য নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, কলেজের মাউশি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুহাম্মদ খোরশেদুল হক চৌধুরী রিবেল, অভিভাবক সদস্য হোসেন আলী, আব্দুল মান্নান রনি, খোরশেদ আলম এবং বোর্ড প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম।

কলেজের অধ্যাপিকা পুষ্প বড়ুয়া ও প্রভাষক আবু মহসিন মো. মঞ্জুরুল কাদেরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউনুচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আমিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজসেবক খালেদ বিন আব্দুল কাদের।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আলকাদেরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরীসহ জেলা, উপজেলা এবং রাজানগর-ইসলামপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ একরাম ও সহকারী অধ্যাপক শান্তি জ্যোতি বড়ুয়াও বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মউদুদ ইলাহী এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবু মহসিন মঞ্জুরুল কাদের।

স্মরণসভার পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালনা করেন রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর স্মরণে কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইছামতী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি করেন।

গুণীজন সম্মাননা হিসেবে রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আব্দুর রশিদ বিএ, বিএড, সহকারী শিক্ষক মরহুম সিরাজুল ইসলাম তালুকদার এবং স্থানীয় চিকিৎসক সুবোধ দেওয়ানজীকে স্মরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়া রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল বশর তালুকদার এবং রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক দানু মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথির মাধ্যমে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর হাতে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কলেজের উদ্যোগে প্রকাশিত মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর জীবন ও কর্মভিত্তিক স্মরণিকা “মহীয়ান” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোবারক আলী তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাড়ির মামুন, রিয়াজ, মো. আমানউল্লাহ, মো. আসিফ, শহিদ ও নজরুলের বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। এতে দুটি সেমিপাকা ঘর, দুটি কাঁচা ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেটসহ ঘরের সব আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

বুধবার (১ জুলাই) মাসুদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “মাসুদ চৌধুরীর হত্যার বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদেও তুলেছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি নিজেই এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমি বলেছি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাফিয়া জড়িত আছে। দেশের মানুষ জানে, এই মাফিয়া বলতে আমি বালি সিন্ডিকেটের কথাই বোঝাতে চেয়েছি।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “ আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা সংকেত দিতে চেয়েছে, আমরা যদি অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চাই, তাহলে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে।”

তিনি বলেন, “মাসুদ চৌধুরী যে শক্ত ভূমিকা রেখেছিল, প্রতিবাদ করে রাঙ্গুনিয়ায় এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চেয়েছিল, তার পক্ষ হয়ে এবং তার স্মৃতিকে ধরে রেখে আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।”

হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের তো ধরা হবেই। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো যারা টাকা খরচ করে খুনিদের ভাড়া করেছে, যারা এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী—তাদেরও ধরতে হবে। আমরা যদি বিচার চাই, তবে তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে আমরা অত বেশি আলোচনা করিনি। তবে জনপ্রিয়তার কারণে মাসুদ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবার, হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও তাকে পছন্দ করতেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যখন নির্বাচন করেছি, তখন অনেকেই বলেছিলেন, মাসুদ চৌধুরীর কারণেই তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। গত ১৭-১৮ বছর ধরে মাসুদ এলাকার মানুষের পাশে ছিল। আপদে-বিপদে সবসময় সে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন তার এই শূন্যতা আমরা সবাই অনুভব করছি। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য আরও বলেন, “দলের জন্য মাসুদ বহুবার বড় ভূমিকা রেখেছে। অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম খুঁজলে দেখা যাবে, চট্টগ্রামের বড় বড় মিছিলে তার নেতৃত্ব ছিল। চেয়ারম্যান নির্বাচনও একটি কারণ হতে পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি, বালির মহলের বিরুদ্ধে সে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ কারণেই তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”

কবর জিয়ারতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও দলটির অঙ্গসংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ (১১ জন এজাহার নামীয় এবং ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত) জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।