রাঙ্গুনিয়ায় তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে গ্রাহক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসা শাখায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

“এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই”—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শাখার ব্যবস্থাপক মো. জাসেদ মিয়া তরুণদের উদ্দেশে সঞ্চয়ী হিসাব ও ঋণ সঠিকভাবে পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিভিন্ন হ্যাকার গ্রুপের বিষয়েও তিনি গ্রাহকদের সতর্ক করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শাখার কর্মকর্তা সুপন তালুকদার, সুজন দাশ, তৌহিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন ও ইমরান হোসেন।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব সৃষ্টি ও নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের উপহার ও লিফলেট বিতরণ


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী ও লিফলেট বিতরণ করেছে কলেজ ছাত্রদল।

সোমবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে এ কার্যক্রম আয়োজন করে নবগঠিত উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল।

এ সময় লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এস.এইচ. সুমনসহ কলেজ ছাত্রদলের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি সংবলিত লিফলেট ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি সাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক।

৩১ দফা বাস্তবায়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে — হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনগণকে কাজে লাগাতে হবে—নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা নয়, জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাই আসল।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার শিলক ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “দেশ মেরামতে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে আমরা যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি তারা একটাও কাজে দিবেনা; কাজে লাগাতে হবে জনগণকে। আপনাদের মতামত, আপনারা যে পরিশ্রম করবেন আর আপনারা যে দোয়া করবেন—এসব যদি আমাদের সাথে না থাকে তাহলে ৩১ দফা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।”

তিনি আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মধ্যে বিভাজনের কথা বারবার বলা হয়; তবে তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, “রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই। যারা বেগম খালেদা জিয়াকে, যারা তারেক রহমানকে, যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসে তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য।”

আলোচনা শেষে তিনি নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে বলেন, “হয়তো দলের উন্নতি বা কোনো পদবি পাওয়ার জন্য সকলের পরিশ্রম থাকবে; তবে যখন নির্বাচনের সময় চলে আসবে এবং প্রার্থী ঘোষণা হবে—তখন সকলেই দলীয় মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করবে। যার মনোনয়ন হবে, আমি প্রতিজ্ঞা করছি সবাই তার জন্য কাজ করবে।”

নিজের পারিবারিক সূত্র টেনে তিনি জানান—রাউজান না রাঙ্গুনিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তাঁর বাবার (মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) সিদ্ধান্ত ছিল ‘রাঙ্গুনিয়া’। সেই কারণে তিনি নিজেও রাঙ্গুনিয়াকেই ভিত্তি করে চলেন। উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ—যারা এসেছেন সবাই আমার পরিবার।”

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকবির দেওয়ার কারণে অনেকে তাঁকে মৌলবাদী বলে আখ্যায়িত করে—এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ব্যাখ্যা করেন, “এই তাকবির আমি সকলের জন্যই দিই; এর মাধ্যমে জানাতে চাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে, ফজলুল কাদের চৌধুরীর নাতির ঈমান শক্ত। যদি ঈমান শক্ত না হত, তাহলে আজ আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারতাম না।”

 

চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫: জেলা প্রশাসকের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নির্দেশনা

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় নিরাপত্তা ও বিসর্জনের নির্দেশনা গৃহীত। ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম: আজ রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় দুর্গাপূজার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উদযাপন নিশ্চিত করতে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থায়ী আনসার বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি টহলের ব্যবস্থা থাকবে। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডকে বিশেষ সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয় আজকের সভায়।

সভায় জানানো হয়, প্রতিমা বিসর্জন কেবল জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে দিতে হবে এবং সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। বিজয়া দশমীর দিনে বিসর্জন ঘিরে দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি বিসর্জন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত সড়ক বাতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আজকের সভায়।

সভায় পূজামণ্ডপে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়; ইভটিজিং, মাদক সেবনসহ যেকোনো অপরাধ কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এছাড়া, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রতিমা আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার ও মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে। আলোচনায় আজ আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: কামরুজ্জামান।

 

ভিপি জিতু, জিএস মাজহারুল; জাকসুতে ২৫ পদে প্রাধান্য শিবিরের

ডেস্ক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল পৌনে ৬টায় আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার।ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এতে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশীদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক পদে (জিএস) পদে ৩ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাজহারুল ইসলাম।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের (এজিএস) দুটি পদেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান ২৩৫৮ ভোট এবং আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ৩৪০২ জয় পেয়েছেন।

১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টি জিতেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। বাকি চারটি পদের মধ্যে ভিপিসহ তিনটি পদে স্বতন্ত্র এবং একটিতে বাগছাস প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

কার্যকরী সদস্যের ছয় পদের পাঁচটি জিতেছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা, একটিতে বাগছাসের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

সবমিলিয়ে ২৫টি পদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির ২০টি, স্বতন্ত্ররা তিনটি এবং বাগছাস দুটি পদে জয় পেয়েছে।

অন্যান্য পদে জয় পেয়েছেন
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক- আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল), পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক- মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক- মো. জাহিদুল ইসলাম বাপ্পী (শিবির প্যানেল),
সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র), সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক- মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল), নাট্য সম্পাদক- মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), ক্রীড়া সম্পাদক- মাহমুদুল হাসান কিরণ (স্বতন্ত্র), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী)- ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ)- মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল), তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক- মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল), সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক- আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী)- নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ)- মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল), স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক- হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল), পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক- মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল),

কার্যকরী সদস্য
মো. তরিকুল ইসলাম (পুরুষ, শিবির প্যানেল), মো. আবু তালহা (পুরুষ, শিবির প্যানেল), মোহাম্মদ আলী চিশতি (পুরুষ, বাগছাস), নাবিলা বিনতে হারুণ (নারী, শিবির প্যানেল), ফাবলিহা জাহান নাজিয়া (নারী, শিবির প্যানেল), নুসরাত জাহান ইমা (নারী, শিবির প্যানেল)।

এবারের জাকসু নির্বাচনে ১১ হাজার ৭৫৯ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে মোট আটটি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল।

তবে ভোট গ্রহণ শুরুর পর কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। বর্জনকারীদের মধ্যে রয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, এবং স্বতন্ত্রদের ‘অঙ্গীকার পরিষদ’।

 

তরুণদের নেতৃত্বে আলোকিত রাঙ্গুনিয়া গড়ার আহ্বান — এস এ মুরাদ চৌধুরী

এস এ মুরাদ চৌধুরী (ছবি: সংগৃহীত)

প্রিয় রাঙ্গুনিয়ার ছাত্র সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম, আপনাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা রইলো। আপনিই আমাদের ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। শুধু আগামী দিনের নেতা নন, আজকেই আপনি পরিবর্তনের মূল চালক। আমি বিশ্বাস করি, রাঙ্গুনিয়াকে একটি শিক্ষিত, আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনার হাতে।

বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ার সন্তানরা আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি চাই, এই গৌরব এবং আলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিক রাঙ্গুনিয়ার সন্তানরা।

আমি আপনার কাছে এসেছি একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও সেবক হিসেবে, দলমত, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে। আপনার স্বপ্ন, আপনার সমস্যা, আপনার চাওয়া-পাওয়া সবকিছু আমার কাছে অমূল্য।

আপনাদের কাছে আহ্বান, হোয়াটসঅ্যাপ-এ সরাসরি পরামর্শ দিন: ০১৮১৪৩৪০৫২৬। আপনারা আমাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন, যেমন:

  • রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় ঘাটতি চিহ্নিত করা।
    কিভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়।
  • মাদক, সন্ত্রাস ও বেকারত্ব থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত রাখা।
  • খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি নির্ভর একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা।
  • বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
  • নাগরিক অধিকার নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

আপনার চিন্তাভাবনা, শক্তি ও একাত্মতা দিয়েই আমরা গড়ে তুলতে পারি একটি আলোকিত, সাম্যনিষ্ঠ ও মানবিক রাঙ্গুনিয়া—যেখানে জ্ঞানের আলো, কর্মের সুযোগ এবং সহমর্মিতার চেতনা থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত।

আমি আপনার সহযোগিতা, সমর্থন এবং দোয়ায় এগিয়ে যেতে চাই। ভুল-ত্রুটি থাকলে আমাকে সংশোধন করুন। চলুন, তরুণদের নেতৃত্বে মুরুব্বিদের আশীর্বাদ নিয়ে রাঙ্গুনিয়াকে একটি পজিটিভ স্বপ্নের জনপদে পরিণত করি।

— এস এ মুরাদ চৌধুরী (সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদল), মোবাইল: ০১৮১৪৩৪০৫২৬
হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৮১৪৩৪০৫২৬

গণছুটিতে থাকা বিদ্যুতকর্মীদের প্রত্যাবর্তনে রাঙ্গুনিয়ায় স্বস্তি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: ট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গণছুটিতে থাকা ৭৩ জন বিদ্যুতের কর্মী পুনরায় কর্মস্থলে ফিরেছেন। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–২ রাঙ্গুনিয়া কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ ফয়সাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, পল্লী বিদ্যুতের রাঙ্গুনিয়া কার্যালয়ের ১০৩ জন কর্মীর মধ্যে ৩৭ জন লাইনম্যান, মিটার রিডার ও অন্যান্য কর্মী সহ মোট ৭৩ জন কর্মী গণছুটিতে যান।

গণছুটির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। গৃহস্থালি, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। কিছু এলাকায় দিনে ৮–১০ বার বিদ্যুৎ আসে বা কোথাও ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিজিএম মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, “উল্লেখিত সমস্যা এখন স্বাভাবিক হয়েছে। গণছুটিতে যাওয়া কর্মীরা এবার কর্মস্থলে ফিরে এসেছে। আজ সকাল থেকেই রাঙ্গুনিয়ায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গণছুটির সময় দুর্ভোগ কমাতে রাউজান থেকে ঠিকাদারের লোক এনে বিকল্পভাবে কাজ চালানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে ইউনিসেফের চার পরামর্শ

ডেস্ক:
বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চারটি পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সচেতনতামূলক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউনিসেফের দেওয়া পরামর্শগুলো হলো—

  • শিশুকে কখনো একা ফেলে রাখা যাবে না, সবসময় দায়িত্বশীল কারও সাথে থাকতে হবে।
  • শিশুদের সাঁতার শেখার ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
  • খোলা পানির উৎস চিহ্নিত করে তার চারপাশে বাধা বা বেড়া স্থাপন করতে হবে।
  • উদ্ধার ও সুরক্ষাকৌশল সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা প্রচার করতে হবে।

সংস্থাটি জানায়, এসব করণীয় মেনে চললে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ (অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ)

কক্সবাজারে ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবলে তুলকালাম, ইউএনওসহ আহত অন্তত ২০

কক্সবাজার: কক্সবাজারে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে আয়োজিত ডিসি (জেলা প্রশাসক) গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ এর ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গ্যালারি পূর্ণ হওয়ায় মাঠে প্রবেশে বাধা দেয়ায় ক্ষুব্ধ দর্শকদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ছোটাছুটিতে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রামু ও টেকনাফ উপজেলা একাদশের মধ্যে বেলা ৩টায় ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ম্যাচ দেখতে সকাল ৭টা থেকে স্টেডিয়ামে দর্শকরা টিকিট সংগ্রহ শুরু করেন। টিকিটের মূলধন ছিল ৫০ টাকা, কিন্তু দর্শকের উপস্থিতি এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় টিকিটের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।

দর্শকরা অভিযোগ করেছেন, স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ৫ হাজার হলেও প্রায় ৩০ হাজার টিকিট বিক্রি করা হয়। অতিরিক্ত দর্শকরা গ্যালারিতে বসার জায়গা না পাওয়ায় গেট ভেঙে আড়াইটার দিকে পুরো মাঠ দখল করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে লাঠিচার্জের মাধ্যমে দর্শকরা বের করে আনা সম্ভব হয়।

তবে এ সময়ে গ্যালারি, মাঠ, প্রেস বক্সসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির কারণে ফাইনাল ম্যাচ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ঢামেকে নুরকে দেখতে গেলেন নবনির্বাচিত ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান সদ্য নির্বাচিত ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন এস এম ফরহাদ, মুহাম্মাদ মহিউদ্দিনসহ অন্য নেতারা। তারা নুরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং সমবেদনা জানান।

গণ-অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সমন্বয়ক শাকিল উজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নবনির্বাচিত ভিপি-জিএসসহ নেতাকর্মীরা নূরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় আহত হন নুর। ওই রাতেই তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

 

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন— সমান গুরুত্বে দেখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

দুই ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব এবং এ সংক্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিশন সদস্যরা জানান, খুব শিগগিরই কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেবে।

এই বিষয়টিকে সামনে এগিয়ে নিতে আগামী রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারো বৈঠক করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রস্তাবনাগুলোও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম তিনটি মেন্ডেটের অন‍্যতম হচ্ছে সংস্কার। তাই নির্বাচন ও বিচারের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদের বিষটিকে দেখতে হবে।”

তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শুধুমাত্র একটি সাধারণ নির্বাচনই নয়, এটি হচ্ছে একটি ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের পথরেখা।”

তিনি বলেন, “তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদেরকে অবশ্যই মৌলিক সংস্কারগুলো চুড়ান্ত করে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই।”

কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল: যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোডাউন চত্বরে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুরাদ চৌধুরী বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার সময়ে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “সেই মহান নেতা জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের সুযোগ্য সন্তান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি দেশনেতা তারেক রহমান বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। জনগণের সম্পৃক্ততায় তিনি গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে দেশের গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।”

নিজের প্রসঙ্গ টেনে যুবদল নেতা বলেন, “আমার জন্ম, শিক্ষা-দীক্ষা সবকিছুই রাঙ্গুনিয়াকে কেন্দ্র করে। আপনাদের ভালোবাসা, স্নেহ আর সহযোগিতাতেই আজকের এ অবস্থানে আসতে পেরেছি। এ অর্জন শুধু আমার নয়, কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষেরই অর্জন। আমৃত্যু আমি রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন আবুধাবি বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, “দলের ক্রান্তিলগ্নে যারা পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারাই দলের প্রকৃত সম্পদ। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে।”

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ মহসিন ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদলের সদস্য সচিব খালেদ হোসেন চৌধুরী রাসেলের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন সাময়িক বরখাস্ত

ডেস্ক: সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে যাওয়া কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। একই দিন প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে সুলতানা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারি এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানিতে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চ মাসে একটি পুকুর নিজের নামে নামকরণ করেন ডিসি সুলতানা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় ওই বছরের ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। চোখ বেঁধে তুলে এনে তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ডিসি অফিসে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালান তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।

পরে আরিফুলের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। কারামুক্ত হয়ে আরিফুল ইসলাম রিগান এ ঘটনায় মামলা করেন, যা পাঁচ বছর ধরে চলমান। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এবার বরখাস্ত হলেন সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন।

রাঙ্গুনিয়ায় ভুয়া পরিচয়ে অর্থ দাবির চেষ্টা, ওসির সতর্কবার্তা

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার।

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ফোন করে ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বুধবার জানান, উপজেলার মরিয়ম নগর এলাকার এক ব্যক্তি, কোদালা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং সরফভাটার এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের কাছে ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে টাকা দাবি করার প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

তিনি বলেন, “বিষয়টি জানার পর ঐ নাম্বারগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় পাওয়া গেছে। উপজেলায় কারো কাছে এ ধরনের ফোন এলে তারা যেন সঙ্গে সঙ্গে থানাকে অবহিত করেন। আর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানায় জানান।”

তিনি আরও বলেন, “যে বা যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

চান্দগাঁওয়ে পুলিশ অভিযানে ছিনতাইকৃত সাড়ে ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকৃত মোট ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭০ টাকা ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল ও টিপছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন জান আলী রেলস্টেশন এলাকায় রফিক স্টোর নামের একটি গোডাউনের সামনে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে প্রায় ২০ লাখ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ প্রথমে অভিযান চালিয়ে দুই আসামি— মো. সুমন (৩০) ও মো. আলী (৪৫) কে গ্রেফতার করে। তাদের হেফাজত থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি টিপছোরা এবং ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে পুলিশের পৃথক অভিযানে লক্ষীপুরের চৌধুরীঘাট এলাকা থেকে আরো তিনজনকে— মো. রাকিব (৩২), মো. ফয়সাল (১৯) ও মোছা: কাজল আক্তার (২১)— গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা।

মোট উদ্ধার হওয়া টাকা ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

চান্দগাঁও থানার ওসি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ডাকসু নির্বাচন: ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ

সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ (ছবি: সংগৃগীত)।

ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েম নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়ী হয়েছেন একই প্যানেলের এস এম ফরহাদ।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

ভিপি পদে সাদিক কায়েম পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান পান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।
জিএস পদে এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানবীর বারী হামিম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন খান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭২ ভোট।

দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা যায়।এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন এবং ১৩টি ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ জন ভোটার ছিলেন।

কেন্দ্রীয় সংসদে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া, ১৮টি হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৩৪টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী ছিলেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে চট্টগ্রাম ডিসির অভিনব গণশুনানি

ছবি: সংগৃহীত।

ডেস্ক: জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রান্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলো গণশুনানি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নাগরিক সেবা বিষয়ক এ গণশুনানি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: সাদি উর রহিম জাদিদ। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে কুসুমপুরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এসময় উত্থাপিত ২১টি বিষয়ের মধ্যে ২০টির নিষ্পত্তিকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেন জেলা প্রশাসক। ভিক্ষুক ও গৃহহীন পুনর্বাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, সড়ক উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হুইলচেয়ার প্রদান, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা – প্রধানত এসকল বিষয় উঠে আসে আজকের এই গণশুনানিতে। জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতি বুধবার নিজ কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। তবে কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের এই অভিনব উদ্যোগ।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “টাইম-কস্ট-ভিজিট—জনগণের ভোগান্তি লাঘবে এই তিনটি বিষয় সহজীকরণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানির এই উদ্যোগ। মানুষকে সেবা পেতে দৌড়াতে হবে না, প্রশাসন তাদের দোরগোড়ায় যাবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।”

“স্থানীয়রা বলেন, জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ অভাবনীয়। মাঠপর্যায়ে এরকম গণশুনানি চলমান থাকলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।”

মাদক-বান্ধব পুলিশকে ছাড় নয়: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: নরসিংদীতে মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার)। তিনি বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে প্রমাণসহ তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “পুলিশই যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের মতো মাদকের সঙ্গে ন্যুনতম সংশ্লেষ থাকা পুলিশের স্থান নরসিংদীর মাটিতে হবে না।”

তিনি জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো পুলিশ অফিসার বা সদস্য মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকলে ছোট্ট একটি ভিডিও বা অডিও প্রমাণ সংগ্রহ করে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিন। আমি কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমি পক্ষপাতিত্বের লোক নই, আমি ন্যায়বিচারের লোক।”

তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে কোনো পুলিশ সদস্য বা তাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মামলা, জিডি, তদন্ত, মোবাইল উদ্ধার, বিরোধ মীমাংসা বা ভিকটিম উদ্ধারের নামে টাকা দাবি করে, তবে তার প্রমাণ সংগ্রহ করে জানাতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “অল্প কিছু বিপদগামী পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনী কলঙ্কিত হয়। আপনারা যদি এসব অপরাধে চুপ থাকেন আর পরে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পুলিশ ঘুষ নেয়’ বলে পোস্ট দেন, তাহলে নীতিবান পুলিশ সদস্যরা কষ্ট পান।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার নামে কেউ টাকা, মাসোহারা বা অন্য কোনো সুবিধা চাইলে প্রমাণ সংগ্রহ করে তার হাত-পা বেঁধে খবর দিবেন। সে পুলিশ, পাবলিক, সরকারি বা বেসরকারি লোক যে-ই হোক না কেন।”

জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তার সরকারি মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ): ০১৩২০০৯১৩৪৫

শেষে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমরা সবাই মিলে যুগযুগের পচা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনব, ইনশাআল্লাহ।”

অর্থ নয়, প্লাস্টিক বর্জ্যেই মিলছে চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার সকালে নগরীর ষোলশহর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র নিজেই রোগী দেখেন এবং বিদ্যানন্দের চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন, বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখবে।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, এর আগে সংগঠনটি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ করলেও এবারই প্রথম স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলো। তিনি বলেন, “কসমোপলিটন এলাকায় চালু হওয়া এ হাসপাতালটিতে গাইনি, চক্ষু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। থাকবে ল্যাব সুবিধা ও ফার্মেসি। চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধ ও পরীক্ষা দরকার হবে, তা প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়েই পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে এটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে শুরু হলেও সাড়া পেলে ধীরে ধীরে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিদ্যানন্দ জানায়, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পে তারা ২০০ মেট্রিকটন প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং করেছে।

 

আজ রাতের আকাশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: রক্তিম চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শনি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: আজ (রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর) রাতেই ঘটতে যাচ্ছে পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ উপভোগ করবে এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শুরু হবে পেনুমব্রাল গ্রহণ। রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এবং স্থায়ী হবে রাত ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় চাঁদ রক্তিম আভায় রূপ নেবে, যা “Blood Moon” নামে পরিচিত। পূর্ণগ্রাস অংশ স্থায়ী হবে প্রায় ৮২ মিনিট। পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে। অর্থাৎ পেনুমব্রাল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রহণ চলবে মোট প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট।

পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চলাকালে আকাশে চাঁদের কাছেই দেখা যাবে সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শনি (Saturn)। এটি খালি চোখে উজ্জ্বল হলুদাভ বিন্দুর মতো দেখা যাবে। টেলিস্কোপ বা উন্নত বাইনোকুলার ব্যবহার করলে শনির বলয় আংশিকভাবে দেখা সম্ভব।

অন্যদিকে, গ্রহ নেপচুন (Neptune) তখন আকাশে অবস্থান করলেও এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে হালকা নীলাভ একটি ক্ষুদ্র বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বহু দেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে। সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে ইন্দোনেশিয়ার হিলা দ্বীপ থেকে শুরু করে আফ্রিকার কেনিয়ার মোম্বাসা উপকূল পর্যন্ত এলাকায়।

আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে খালি চোখেই গ্রহণ দেখা সম্ভব হবে। তবে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে চাইলে বাইনোকুলার, ছোট টেলিস্কোপ কিংবা স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আজ রাতের এই মহাজাগতিক ঘটনা একসঙ্গে পূর্ণিমা, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, রক্তিম চাঁদ ও শনির সৌন্দর্য উপহার দেবে। বিরল এ দৃশ্য উপভোগে তাই বিশ্ববাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।

সূত্র: NASA, BBC Sky at Night Magazine

চট্টগ্রামে জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— সাইফুল ইসলাম (১৩) ও আইয়ুব আলী (৬০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‌্যালি চলাকালে প্রচণ্ড গরমে মাথা ঘুরে পড়ে যান তারা। এ সময় পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার সকালে চট্টগ্রামে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে ঐতিহাসিক জশনে জুলুছ শুরু হয়। ষোলশহরের আলমগীর খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ এর নেতৃত্বে হাজারও মানুষ এতে অংশ নেন।

শোভাযাত্রাটি নগরীর বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট ও জিইসি মোড় হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ময়দানে গিয়ে মাহফিল ও জোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা ৫৪তম জশনে জুলুস ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা’ দরুদ পাঠ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন মুরাদপুর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সকাল ৯টায় আলমগীর খানকাহ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রা শুরু হয়।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ ও সৈয়্যদ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ্ ।

শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শরিয়তসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে ড্রাম সেট বাজানো, নারীর অংশগ্রহণ এবং খাবার নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

টাইফয়েড টিকা: সুরক্ষার এক অনন্য হাতিয়ার

ডা. এম এ মোরশেদ (ছবি: সংগৃহীত)

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে টাইফয়েড টিকা দেওয়া শুরু হবে। স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবক কিংবা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—“এই টিকা কেন দিতে হবে? কোনো ক্ষতি হবে না তো?”

আর এসব বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক নিজের ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তোলে ধরেন ডা. এম এ মোরশেদ।

“সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেন। তার পোস্ট থেকে নেওয়া মূল অংশগুলো নিচে প্রকাশ করা হলো।”

তিনি জানান, টাইফয়েড টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া হয় টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ করার জন্য।
টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত, পানি ও খাদ্যবাহিত সংক্রমণ, যেটি Salmonella Typhi জীবাণুর কারণে হয়।

কেন টিকা জরুরি?
রোগ প্রতিরোধ: টিকা শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, ফলে জীবাণু প্রবেশ করলেও গুরুতর সংক্রমণ হয় না।

জটিলতা থেকে সুরক্ষা: টাইফয়েড হলে অন্ত্রের আলসার, রক্তক্ষরণ, এমনকি অন্ত্র ফেটে গিয়ে জীবনহানির ঝুঁকি থাকে। কিছু শিশুর মস্তিষ্কেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স রোধ: বর্তমানে অনেক টাইফয়েড জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে গেছে। এতে চিকিৎসা কঠিন হচ্ছে। টিকা এ ঝুঁকি কমায়।

প্রাদুর্ভাব:
বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে পানি ও খাদ্য দূষণের কারণে টাইফয়েড একটি সাধারণ রোগ।

ভ্রমণকারীদের সুরক্ষা: যেসব দেশে টাইফয়েড বেশি হয়, সেখানে ভ্রমণের আগে টিকা নেওয়া জরুরি।

কে টিকা নেবে?
ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাসকারী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকেই টিকা দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের দেশে শিশুদের জন্য সরকারিভাবে এটি চালু হতে যাচ্ছে।

কিভাবে দেয়া হয়?
ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা দেয়া হয়। একবার নিলে কয়েক বছরের জন্য সুরক্ষা পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য ২–৩ বছর পর পর পুনরায় নিতে হয়।

বাংলাদেশে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই শিশুদের সরকারি ভাবে টাইফয়েড এর টিকা দেওয়া হবে, এই সুবিধা গ্রহণ করার আহবান জানান তিনি। এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে টিকা গ্রহণের দিন বাচ্চা অসুস্থ থাকলে ঐদিন টিকাদান বিরত রাখতে হবে।

ডা. এম এ মোরশেদ
সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ।

“ঢাবি এজিএস প্রার্থী আশরেফার জীবনের দুঃখের গল্প”

“আশরেফা খাতুনের ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ছবি”

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আশরেফা খাতুন একজন এজিএস প্রার্থী। তার ব্যালট নং – ৫। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি হঠাৎ তার জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তার রিকশাওয়ালা পিতাকে স্মরণ করেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন, যা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো।”

আমরা যখন অনেকটা ছোট তখন আব্বুর অনেক বড় লস হয়। টাকাপয়সার প্রচন্ড টানাটানি। ঢাকায় থাকতাম তখন। আপু স্কুলে যায়। আমি তখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করি নাই। তিনটা ছেলেমেয়ের খরচ চালানো, পড়াশোনার পরিবেশ রাখার জন্য আমার আব্বু এই ঢাকা শহরে রিকশা চালানো শুরু করে। আম্মু গার্মেন্টসে চাকরি করেছে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন টেষ্ট পর্যন্ত। তারপরও খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে যেতো বলে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আব্বু-আম্মু ঢাকায় থাকতো। আম্মুকে কখনো কাছে পাই নাই। নানু যতদিন বেঁচে ছিল তার কাছেই বড় হয়েছি। আপু পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের দেখতো। আম্মু সাথে না থাকার কারণে কত মানুষের কত কটু কথা যে শুনেছি! এমনও হয়েছে যে বাড়ি থেকে বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলাম আমি আর আপু। এখনো গ্রামে গেলে পুরোনো অভ্যাসবশত ঘর থেকে বের হতে মনে চায় না। আপু বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে চলে গেল খুলনায়। আমি তখন এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। রান্নাবান্না করে রেখে পরীক্ষা দিতে যেতাম। কলেজে ভর্তি হলাম যখন তখন ঘরের কাজ, চারটা ব্যাচ টিউশন, নিজের কলেজ, ধানের মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই-সিদ্ধ সব করতাম আব্বুর সাথে মিলে। সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতাম। উঠেই টিউশনে যেতাম। রাইস কুকারে আব্বু ভর্তা-ভাত তুলে দিতো। কিন্তু আমি আর খাওয়ার সময় পেতাম না। তাড়াহুড়ো করে নিজে যেতাম স্যারের কাছে পড়তে। কলেজে ক্লাস করে দুইটার মধ্যে বাড়ি ফিরতাম। এসেই রান্নার প্রস্তুতি। এরমধ্যে স্কুলের টিফিন টাইমে আরেকটা ব্যাচ আসতো পড়তে। তাদের পড়ানো শেষে রান্না করতাম। স্কুল ছুটি হতে হতে আরেকটা ব্যাচ আসতো। কতদিন এমন হয়েছে যে তরকারি চুলায়, স্টুডেন্টরা চলে আসছে। আব্বু দোকান বন্ধ করে এসে তরকারি নামাতো। আমি ব্যাচ শেষ করেই আরেকটা টিউশনে যেতাম। দুপুরেও খাওয়া হতো না। একদম সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গোসল, খাওয়াদাওয়া করতাম। আমার ওজন কমে ৪০-৪২ কেজি হয়ে গিয়েছিল। এডমিশন পর্যন্ত এভাবেই চলেছে। পানি আনতে কতদূর যাওয়া লাগতো। কলসটা কোমরে করে আনতেও মনে হতো পাহাড়সম ওজন।

আম্মু বাড়িতে আসার পরে একটু রান্না করা খাবার, একটু যত্ন পেয়েই মারাত্মক জ্বর এসে পড়লো একদিন। যত্ন পেয়ে অভ্যাস ছিল না। তখন বারবার কমলা খেতে চাইতাম। কিন্তু কমলা কিনে আনার মতোও সামর্থ্য ছিল না আমাদের। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমাকে আর একটা ঈদে জামা কিনে দিলো না আম্মু। খুব কেঁদেছিলাম সেইবার। আমি পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি প্রতিটা পরীক্ষায় সরকারি বৃত্তি পেয়েছি। ওই টাকায় পরেরবার থেকে ঈদের ড্রেস বানাতাম। স্কুল ড্রেস ছিঁড়ে গেলেও বলতাম না, সেলাই করে পরতাম। সেল্ফ এমপাওয়ার্ড হওয়া শুরু আমার তখন থেকে। এডমিশনের সময় পড়া, ঢাকা আসা, ফর্ম তোলা সব আমার টিউশনের টাকায় করেছি। ভর্তির সময় অবশ্য দুইজন বড় ভাই হেল্প করেছেন। তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ আমি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম, কিন্তু আব্বু ভর্তি হতে দিতে রাজি না। কারণ খরচ দিতে পারবে না। আমি জিদ করলাম। গ্রামে থাকতেই ঢাকায় টিউশন ম্যানেজ করে এসেছিলাম। ৩৫০০ টাকা, সপ্তাহে ৪ দিন, সব সাবজেক্ট। আমার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি। ওই টাকা দিয়ে নিজে চলতাম। বাড়িতে টিউশনের টাকা পাঠাতাম। সেই যে শুরু, এখনো চলছে। বাড়িতে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে না পারলে মন খচখচ করে এখনো। আপু সরকারি চাকরি করে এখন। তাও আমি সংসারের সিংহভাগ খরচ চালানোর চেষ্টা করি এখনো। আব্বু-আম্মু যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন ইনশাল্লাহ আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো।

এতখানি বলার কারণ হলো এটা বোঝানো যে আমি মোটামুটি বুঝতে শেখার পর থেকেই স্বাধীনচেতা। ডিপেন্ডেন্ট না থাকার চেষ্টা করেছি সবসময়। আমি ভাবতাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ হবে আত্মমর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু বাধ সাধলো ভর্তির অল্প কয়েকদিনের মাথায়। দেখলাম আমার এক বন্ধুর পায়ে ঘায়ের মতো হয়ে গিয়েছে ছারপোকার কামড়ে। জিজ্ঞেস করলাম এত বাজে অবস্থা হওয়ার কারণ। বলল, ৬ জনের রুমে ৪২ জন থাকে। এটাকে গণরুম বলে। দেখতাম ওরা ক্লাস শেষেই হলে ফিরতো। বলতাম আড্ডা দিতে। কিন্তু ওরা না কি রাতে ঘুমাতে পারে না, দিনের বেলা রুমে একটু জায়গা পাওয়া যায় ঘুমানোর। রাত হলেই বড় ভাইরা ওদেরকে রুম থেকে বের করে দিতো। ওদের বলতো হাতিরঝিল,শহীদ মিনারে ঘুরে বেড়াতে। ওদেরকে গেস্টরুমে গালিগালাজ করতো। আমার বন্ধু ইফাজ একদিন বলেছিল, ওর মৃত বাপকে নিয়েও গালি দেয় গেস্টরুমে।
আমার মতো স্বাধীনচেতা,প্রায় মুক্ত মানুষের জন্য এটা ছিল স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার মতো। সেদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম-গেস্টরুম সহ সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু। আস্তে আস্তে দেখলাম আমার মতো আরো মানুষ আছে। আখতার ভাই ছিলেন আমার জন্য অনুপ্রেরণা। ওনাকে আমি প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই। সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিল আন্দোলনে যখন ভাইয়ের উপর ছাত্রলীগ হামলা করে তখনো ওনাকে বাঁচাতে আমরা ছয়টা মেয়ে ছুটে গিয়েছিলাম। যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আখতার হোসেনদের মাইর খাওয়া লাগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেমের বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছি। এখনো বলছি, ভবিষ্যতেও বলবো ইনশাল্লাহ। আমার রিকশাচালক বাবা আমাকে বলেছে, ‘পেটে ভাত না থাকলেও মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়’

এখনো মাথা উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা চলমান। দোয়া রাইখেন সবাই।

আশরেফা খাতুন
এজিএস পদপ্রার্থী
ব্যালট নং ০৫
ডাকসু নির্বাচন-২০২৫

রাঙ্গুনিয়ায় অস্ত্রসহ ২ যুবক গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই এলাকার মো. পারভেজ (৩১) এবং আশরাফ আলী সিকদার (১৯)

ওসি সাব্বির বলেন, “সকালে সরফভাটা এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযানের সময় সেনাবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।”
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি কিরিচ, একটি দা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় আরও চারটি মামলা রয়েছে।”

“তারা হারায়—কখনো ফিরে, কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতিতে”

রাঙ্গুনিয়ায় দুই শিশুর হারিয়ে যাওয়া ও মানবিক উদ্ধার অভিযান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: একটা অন্ধকার রাত। দুই অবুঝ শিশু পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

কে জানে তারা কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে?
তারা হারিয়ে গেছে—কখনো হয়তো ফিরে আসবে, আবার কখনো হারিয়ে যাবে এমন এক পরিণতির দিকে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে পাওয়া গেছে। কেউ চিনে থাকলে যেন যোগাযোগ করা হয়।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু দুজনকে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক শিশুদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নে। শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায়, স্থানীয় এক যুবক, মুসাফির তালুকদার, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন যাতে তাদের পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়।

জোনাকি ও আয়েশা—দুই অবুঝ মুখের পরিচয়

শিশু দুটির একজনের নাম জোনাকি, অপরজন আয়েশা। তারা জানায়—তাদের বাবার নাম সোহেল, মায়ের নাম মুন্নী। কখনো তারা বলে সৈয়দনগর, কখনো কাটাখালি—ঠিকানা তারা মনে রাখতে পারে না।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকা থেকে ফোন আসে। এক ব্যক্তি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, শিশুদের নানী পরদিন সকালেই প্রমাণপত্রসহ এসে নিয়ে যাবেন।

পরদিনই এক করুণ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জোনাকি(৯) ও আয়েশার(৭) নানী এসে তাদের পারুয়া থেকে নিয়ে যান।

“কিন্তু পরদিন আরও একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে আসে।”

জানা যায়, জোনাকি ও আয়েশার বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা এখন নানীর কাছে থাকে।
পায় না বাবার আদর, কিংবা মায়ের যত্ন। কারণ মা মুন্নী শহরে কাজ করেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে।

বাবা-মা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কিছুটা মানসিক সমস্যা, আর শিশু দুজনের একজন মানসিকভাবে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিকারগ্রস্ত)। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, ঠিকানা মনে রাখতে পারে না। মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে শিশুদের নানী মো. ননা মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তার জানান, তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিল শেষবার কাউখালি থানার সহায়তায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তারা তার কাছেই থাকেন উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকার সোনারগাঁও এলাকা সংলগ্ন ঘোনাকূল ওরনার টিলা এলাকায়।

“দারিদ্রতার কাছে তিনিও পরাজিত, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই দুই নাতনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেও তবুও হারিয়ে যায় তারা।”

প্রশ্ন: এবার তারা ফিরে এসেছে ভালো কিছু মানুষের সহানুভূতিতে, কিন্তু আগামীবার?

 

পূর্বের আরেক করুণ গল্প: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন 

এ ধরনের একটি ঘটনা আগেও ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ওসমানের টেক এলাকার আমড়াকাটার বাড়িতে।
সেখানে এক মেধাবী ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হলেও ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তার পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা না থাকলেও, সাজ্জাদের সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে। সে প্রায়ই হারিয়ে যেতো। কখনো ফিরে আসতো, কখনো বহুদিন নিখোঁজ থাকতো।

শেষবার সে হারিয়ে যায় চিরতরে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু ছেলের মুখ শেষবার আর দেখতে পারেননি।

সাজ্জাদের গল্প আমাদের শেখায়—মানসিক অসুস্থতা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের কষ্ট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

নিরাপদ নয় এই অনিশ্চিত পথচলা

জোনাকি ও আয়েশার গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি বাংলাদেশের অনেক শিশুর বাস্তবতা।
তারা হারিয়ে যায়— কখনো ফিরে আসে কারো মমতায়,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতির অন্ধকারে।

এখনই যা করণীয়:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:
শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রশাসনিক নজরদারি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৩. পরিচয়পত্র ব্যবস্থা:
শিশুদের জন্য আইডেন্টিটি ট্যাগ, নামপোতা জামাকাপড় কিংবা ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

৪. কমিউনিটি সাপোর্ট:
স্থানীয় দোকান, বাজার, মসজিদ-মন্দিরের লোকদের সচেতন করা জরুরি—যাতে তারা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারেন।

শেষ কথা: আজ জোনাকি ও আয়েশা ফিরে এসেছে।
কিন্তু এটাই কি শেষবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

“আমরা জানি না, এটাই কি তাদের হারানোর শেষবার?
কিন্তু এটুকু জানি—তারা যেন আর না হারায়,
তাদের ছোট্ট জীবন যেন থেমে না যায় কোনো নির্মম পরিণতির কাছে। এই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”

প্রতিবেদন: এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার,
সম্পাদক: রাঙ্গুনিয়া টুডে।

 

নুরুল হক নূরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত

ডেস্ক:

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রাজনীতিবিদ নুরুল হক নূরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নূরের সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, নুরুল হকের শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে মারিয়া আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, নূরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নাকের হাড় ভাঙা এবং চোয়াল ও মেরুদন্ডে আঘাত পেয়েছেন।

মারিয়া আক্তার সুচিকিৎসার জন্য নূরকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জানালে প্রধান উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আমরা সবাই স্তম্ভিত। তাঁর সুচিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।”

এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, হামলার ঘটনায় বিচারপতি আলী রেজার নেতৃত্বে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামীকাল এর গেজেট প্রকাশিত হবে, এবং ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন দেবব্রত দাশ।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট তিনি রাঙ্গুনিয়ায় যোগদান করেছিলেন।

জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার সন্তান দেবব্রত দাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় যোগদানের আগে তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, পূর্বে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মারজান হোসাইন। সম্প্রতি বদলির পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেবব্রত দাশ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ: সফর ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান সম্প্রতি তাঁর চীন সফরকালীন অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর অভিজ্ঞতা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সেনাপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান সেনাবাহিনীর চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়ার মাজারে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

সোমবার রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরস্থ সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা নেতাদের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলের মাধ্যমে অংশ নেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আজ সকল বিএনপি-জনগণ এক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ফুল দিতে যাচ্ছেন, তাদের সবাইকে সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধও জানান তিনি।”

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের নেতৃত্বে মিছিল শেষে ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

 

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু আহমেদ হাসনাতের নেতৃত্বে মিছিল শেষে ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ জসিম ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরীও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোসহ তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।