ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ উপজেলা নির্বাহীদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট: গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্মরণীয়ভাবে আয়োজন করতে হবে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় সকল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি ব্যর্থ হই তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”

বিগত সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে—সুস্থ মানুষ বলবে, সেটা নির্বাচন নয়; প্রতারণা হয়েছে।”

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু দায়িত্ব নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। “আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে।”

ইউএনওদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলেই সরকার তার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবে।”

নির্বাচন ও গণভোট—দুইটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য; আর গণভোট শত বছরের জন্য। “গণভোটের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, তার ভিত তৈরি হবে এ গণভোটের মাধ্যমে।”

সদ্য যোগদান করা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যেও তিনি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান জানান।

ইউএনওদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

গণভোটে ভোটার সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের বুঝাতে হবে—তারা যেন মনস্থির করে কেন্দ্রে আসেন: “হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন—মন ঠিক করে আসুন।”

কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।” একই সঙ্গে অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

নারীদের ভোটকেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নারীদের যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসা যায়—তা নিশ্চিত করতে হবে।

শীঘ্রই নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে তিনি ইউএনওদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা এখনই করে রাখুন।”

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় বেগম রোকেয়া দিবসে নারীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গিকার উপজেলা প্রশাসনের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আয়োজনে এবং কারিতাসের সহযোগিতায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. শরমিন আকতার, কারিতাসের মাঠ কর্মকর্তা গৌরি ভট্টাচার্য্য এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক।

ইউএনও নাজমুল হাসান বক্তব্যে বলেন, “পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই পারিশ্রমিক ঘরে নিয়ে যাওয়ার আগে চার ভাগের একটি অংশ বাইরে ব্যয় করে দেন, আর বাকি তিন ভাগ ঘরে আসে। কিন্তু নারীরা উপার্জিত অর্থকে সুন্দরভাবে ব্যবহার করে পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনে ব্যয় করেন। নারী যে কোনো চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে যতটা উপার্জন করেন, সেটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরিবারের জন্য ব্যয় করার।”

তিনি আরও বলেন, “নারীরা আমাদের সন্তান ও পরিবারের প্রতি যে স্নেহ ও দায়িত্বশীলতা দেখান, তা আমরা অনেক সময় দেখতে পাই না। উদাহরণস্বরূপ, এই অনুষ্ঠানে রাখা নাস্তা অনেকেই নিজে খাবেন না, সন্তানদের জন্য সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এটাই আমাদের বাঙালি মায়ের পরিচয়।”

ইউএনও নাজমুল হাসান সভায় আশ্বাস দেন, উপজেলা প্রশাসন সবসময় নারীদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও ঋণ বিতরণসহ যেকোনো সহযোগিতায় নারীদের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা প্রশাসন।

আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান সিএমপি কমিশনারের

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নভেম্বর-২০২৫ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম।

সভায় কমিশনার নগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানাসহ মহানগর গোয়েন্দা বিভাগকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন। মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে প্রতিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কমিশনার বলেন, রুজুকৃত হত্যা মামলা ও অন্যান্য অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের কাছে মানসম্মত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি ও ওয়ারেন্ট তামিলে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে ফিটনেসবিহীন ও অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সার্বিক ট্রাফিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও প্রদান করা হয়।

সভায় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ হুমায়ুন কবির; অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ (সদর), মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী বিপিএম (এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (পশ্চিম) এবং নেছার উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম (ট্রাফিক-উত্তর)সহ সিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারীশিক্ষা-অধিকার-জাগরণে অবদানের স্বীকৃতি: বেগম রোকেয়া পদক পেলেন চার বিশিষ্ট নারী

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতি বছরের মতো এবারও নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়েছে।

বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

এ বছর পদকপ্রাপ্তরা হলেন— রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা–গবেষণা), কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার–শ্রম অধিকার), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ–ক্রীড়া), নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার)।

রাঙামাটির দুর্গম সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, গুরুতর অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারে সিএমএইচে স্থানান্তর

সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে অসুস্থ নারীকে সিএমএইচে স্থানান্তর | ছবি: সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ

ডেস্ক: জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন অত্যন্ত দুর্গম মাইনদারছড়া মুখ পাড়ায় বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সেনাবাহিনীর ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

সেনাবাহিনী জানায়, পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘবে ওই এলাকায় সোমবার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম। এ সময় স্থানীয় জুমচাষী সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০) কিডনি ও পেটের গুরুতর জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন।

দুর্গম এলাকায় তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় ডিভিশন সদরের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টারে করে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচ চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, এই অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত—প্রান্তিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সেবা ও শান্তি নিশ্চিত করতে সামরিক অভিযান ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পটিয়ায় ৪৫ জন উপকারভোগীর মাঝে আর্থিক অনুদান ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ

পটিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে মোট ৪৫ জন উপকারভোগীর মাঝে আর্থিক অনুদান, ভাতা, পুনর্বাসন সহায়তা ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার পটিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সহায়তা প্রদানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের হঠাৎ দুর্ঘটনা তহবিল থেকে ৫ জনের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক এবং স্মার্ট নাগরিক কার্ড বিতরণ করা হয়। বন্যা পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আরও ১০টি পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া সমাজসেবার নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় ৫০ জনের মাঝে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষাবৃত্তির চেক ও উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫ জন বিশেষ সহায়তা পান। সরকারি শিশুপারিবার (বালক), পটিয়ার ২৪ জন শিশুর মাঝেও ক্রীড়া সামগ্রী, পোশাক, শিক্ষা উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ে সব ধরনের সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে।

সরকারি এসব সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী: দীঘিনালার দুর্গম গ্রামে স্বস্তির শ্বাস

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): পাহাড়ে ঘেরা খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালি ইউনিয়নের বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়া—একটি প্রায় অপ্রবেশ্য ও চিকিৎসাবঞ্চিত গ্রাম। সাধারণ জ্বর বা ব্যথার মতো অল্প অসুস্থতার চিকিৎসার জন্যও স্থানীয়দের দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। কষ্টকর ভ্রমণ, ব্যয়বহুল যাতায়াত এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ বহুদিন ধরেই চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন।

এই মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সেনাবাহিনী আয়োজন করেছে বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী দীঘিনালা সেনা জোনের ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (দি বেবী টাইগার্স) বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়ায় এই ক্যাম্প পরিচালনা করে। ক্যাম্পে পাঁচ শতাধিক চাকমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, শিশু ও শিক্ষার্থী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন।

দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ওমর ফারুক (পিএসসি) এর নির্দেশনায় পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন মো. শাইকুদ্দিন সাকলাইন। তিনি রোগী দেখা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ থেকে শুরু করে সার্বিক কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে তদারকি করেন। সেনাবাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে ক্যাম্প পরিচালনায় অংশ নেন।

ক্যাপ্টেন মো. শাইকুদ্দিন সাকলাইন বলেন,
“বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়া দীঘিনালার অন্যতম দুর্গম এলাকা। এখানে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত। মানুষ যেন ঘরের কাছেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পায়—সেই লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় হেডম্যান চন্দ্র হংশ রোয়াজা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে এলাকার মানুষের জন্য ‘আশীর্বাদ’ উল্লেখ করে বলেন,
“পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে সদরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া খুব কঠিন। একদিনে এত মানুষের চিকিৎসা পাওয়া সত্যিই বড় পাওয়া। আমরা সেনাবাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞ।”

চিকিৎসা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন প্রান্তিক মানুষেরা। ৫৫ বছর বয়সী চাঞ্চলতা ত্রিপুরা বলেন,
“অনেক দিন ধরে মাথা ও হাত–পায়ে ব্যথা আর হাই প্রেসারে ভুগছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। আজ স্যাররা চিকিৎসা দিলেন, ওষুধ দিলেন। ভগবান স্যারদের মঙ্গল করুন।”

সাত মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে আসা গৃহবধূ লক্ষী চাকমা জানান,
“আমার বাচ্চা কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। স্যাররা দেখে ওষুধ দিয়েছেন। আমরা খুব উপকৃত হলাম।”

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত স্থানীয় চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সদস্যরা সেনাবাহিনীর এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, নিয়মিত এমন কার্যক্রম হলে দুর্ভোগ অনেক কমে যাবে এবং দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হবে না।

সেনাবাহিনীর মানবিক পদক্ষেপে বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়ার মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে সহায়তা দিল উপজেলা প্রশাসন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শায়ের মোহাম্মদ পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবার—রফিক, মাসুদ ও রেজাউল করিমের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

গত ৬ ডিসেম্বর বিকেলে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরে থাকা তিনটি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, তিন মালিকের চার কক্ষবিশিষ্ট কাঁচা দেয়াল ও টিনশেড ঘরটি পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের চুলার আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

পরে দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে শীতবস্ত্র, চাল এবং নগদ আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন ইউএনও নাজমুল হাসান। তাৎক্ষণিক এই সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

আগুনে বসতঘর ও গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।

ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে আরও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

রাউজানে ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ১২ লাখ টাকা জরিমানা

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এ অভিযানে চারটি ইটভাটার কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে মোট ১২ লাখ টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়।

বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজওয়ান-উল-ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের দায়ে চারটি ইটভাটার কিলন–চিমনি ভেঙে ফেলা হয় এবং জরিমানা আদায় করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো রাউজান উপজেলার রশিদারপাড়া এলাকায় মেসার্স শাহসুন্দর ব্রিকস (CBM) — কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা। একই এলাকার মেসার্স শাহসুন্দর ব্রিকস (SBM) — কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা।

রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান এলাকায় মেসার্স খাজা গরীবে নেওয়াজ ব্রিকস (KBI) — কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা।

রাউজান উপজেলার ডাবুয়া কলমপতি এলাকায় মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস ম্যানুঃ (KBM) — কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মোঃ আশরাফ উদ্দিন, পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন র‍্যাব-০৭ চট্টগ্রামের সদস্যরা, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তরের সদস্যরা এবং রাউজান থানার পুলিশ সদস্যরা। সার্বিক সহযোগিতা করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাউজান স্টেশনের সদস্যরা।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও ৩৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, চট্টগ্রামের চার আসনে প্রার্থীতা পেলেন যারা

ডেস্ক রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আরও চারটি আসনসহ মোট ৩৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হলো। এখনো প্রার্থী ঘোষণা হয়নি চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের ঘোষিত চার আসনে প্রার্থী হচ্ছেন— চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী): মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া): নাজমুল মোস্তফা আমিন।

এ ছাড়া প্রার্থী ঘোষণা করা অন্যান্য আসনগুলো হলো: ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৫, নড়াইল-২, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৮, গাজীপুর-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২ ও কক্সবাজার-২।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের ১০টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল বিএনপি। নতুন তালিকাসহ চট্টগ্রামের মোট ১৪টি আসনে দলটির প্রার্থী ঘোষণা হলো।

খালেদা জিয়ার জন্য সারাদেশে দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান সরকারের

ডেস্ক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দেশব্যাপী দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদের পাশাপাশি দেশের মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মের রীতি ও আচার অনুযায়ী বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্য কামনায় দোয়া ও প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে আজ সন্ধ্যা সাতটার পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

হাসপাতালে পৌঁছালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ. জে. এম. জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং ছোট ভাই শামীম এসকান্দার প্রধান উপদেষ্টাকে রিসিভ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা হাসপাতালে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন। এই সময় তিনি বেগম জিয়ার পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।

চিকিৎসক দল প্রধান উপদেষ্টাকে ব্রিফ করেন, জানিয়ে দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই ও জনস হপকিন্স হাসপাতাল এবং যুক্তরাজ্য ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বেগম জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

প্রধান উপদেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশবাসীর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানান।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

 

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসে চট্টগ্রামে নানা আয়োজন, সহায়ক উপকরণ বিতরণ

ডেস্ক:প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বুধবার চট্টগ্রামে পালিত হয়েছে ৩৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ২০২৫। প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘ এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এবং যুগান্তর, ডিডিআরসি ও এওয়াকের সহযোগিতায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে দুই দিনব্যাপী মেলা, র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রামপুর প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন, সিডিডির নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মারশেদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সমাজে তাদের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের আরও সহানুভূতিশীল হতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রতিবন্ধী ভাই-বোনরাও জাতির সম্পদ। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। কার কী ধরনের সুবিধা বা সহযোগিতা দরকার—তা নির্ধারণ করে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।”

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ার, অক্সিলারি ক্রাচ, স্মার্ট সাদা ছড়িসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দ নগর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমতিয়াজ একই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ ইয়াকুবের ছেলে।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইমতিয়াজ তার পাঁচ বছর বয়সী চাচাতো বোনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। ঝগড়ার একপর্যায়ে চাচাতো বোন তাকে ‘বেয়াদব’ বলে। এ নিয়ে তার মা তাকে বকাঝকা করে পড়তে বসতে বলেন। পরে মা রান্না করতে গেলে কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন ইমতিয়াজ জানালার পাশে বসে আছে। পরে পরিবারের লোকজনকে ডেকে দরজা ভেঙে দেখা যায়, সে মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়েছে।

নিহতের কপালে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়ে এসআই রাকিবুল বলেন, “গলায় চাপ লাগার সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে পারে। এ সময় জানালার গ্রিল বা অন্য কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেতে পারে।”

তিনি আরও জানান, “বুধবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের বক্তব্য সত্য বলে মনে হচ্ছে—সে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জয়নাব জমিলা বলেন, “ছেলেটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল (ব্রড ডেড)। পরে আমরা পুলিশকে জানালে তারা মরদেহ নিয়ে যায়।”

“নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় নৈতিকতা ও ঐক্যবদ্ধতা অপরিহার্য” – চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালি শেষে সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। আলোচনার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি”।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, আতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম এবং জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোছলেহ উদ্দিন।

আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তাগণ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব, প্রতিবন্ধী নারী ও প্রবাসীদের পরিবারের জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ, গণপরিবহন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, আমাদের প্রত্যেককে নৈতিক মূল্যবোধ অনুযায়ী নিজেদের জীবন ও চরিত্র উন্নত করতে হবে। নিরাপদ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় উপপরিচালক নারীর আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এছাড়া জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুর পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

সভাপতি গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে এবং নারীর শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস।

হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সদর দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ইটভাটার কিলন ও চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে মোট ১৬ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে কাটিরহাটের ধলই এলাকায় মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস (KRM)–কে এক লাখ টাকা, চারিয়ার মেসার্স চারিয়া মেঘনা ব্রিকস (NBM)–কে দুই লাখ টাকা এবং মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (KBC)–কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেসার্স কাজী ব্রিকস ম্যানুঃ (KBM)–কে দুই লাখ টাকা, মেসার্স শাহেন শাহ ব্রিকস ফিল্ড (SNF)–কে দুই লাখ টাকা, মেসার্স চট্টলা ব্রিকস (CBM)–কে দুই লাখ টাকা এবং মেসার্স সেঞ্চুরি ব্রিকস (CBM-1)–কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ভাটাগুলোর কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়াও মেসার্স হিমালয় ব্রিকসের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন, সিনিয়র কেমিস্ট জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে র‍্যাব-০৭, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তর, হাটহাজারী থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, হাটহাজারী স্টেশন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল হাছান ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার রাহাতিয়া দরবার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর থেকে বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন কামনা করছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তিনি উত্তর রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা চালান। রাণীরহাট এলাকায় গণসংযোগ শেষে পথসভায় বক্তব্য রেখে এডভোকেট ইকবাল হাছান বলেন, “বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় রাঙ্গুনিয়া গড়াই আমার লক্ষ্য।”

দিনব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ধামাইরহাট, ইসলামপুর, পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির হযরত শাহসুফী মাওলানা আহসানুল্লাহ (রহ.) ও বাছুর মোহাম্মদ পাড়ার হযরত রাজ্জাক আলী শাহ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর ইসলামপুর খলিপাড়া, গাবতল বাজার, মঘাইছড়ি বাজার, কাউখালী রাস্তার মাথা, বহরাতল, বেতছড়ি, জঙ্গল বগাবিলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শেষে তিনি রাণীরহাট বাজারে প্রচারণা সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে তার প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থানীয় নেতারা।

মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন—ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল রিয়াদের

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ হাসান রিয়াদ (২৬)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াদ উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের লেয়াকতের পাড়ার আবদুল কদ্দুসের ছেলে। তিনি স্থানীয় জমছড়ি ব্রিজের পাশে দোকান করতেন।

স্বজনদের তথ্যানুযায়ী, রাতে উপজেলার বড়হাতিয়া এলাকার নানাবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রিয়াদ। বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে পৌঁছালে কক্সবাজারমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের তিনটি অভিযানে অবৈধতা ও অনিয়মের তদন্ত

ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ (১ ডিসেম্বর) তিনটি পৃথক অভিযোগের বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। কমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমদানি পণ্যে শুল্ক ফাঁকি: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ইমিটেশন জুয়েলারি আমদানি পণ্যে সরকারের নির্ধারিত শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী থেকে টিম অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সরকারের নির্ধারিত ৫ মার্কিন ডলারের শুল্কের বদলে কর্মকর্তারা ২–৩ মার্কিন ডলারের হারে শুল্ক আরোপ করেছেন। অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।

বগুড়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা অব্যবস্থা: সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে বগুড়া জেলা কার্যালয় থেকে অভিযান পরিচালিত হয়। টিম হাসপাতালের ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে সেবা প্রদানের বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করেছে। পাশাপাশি হাজিরা বই, রেজিস্টার ও অন্যান্য নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে অনুমোদিত পদের তুলনায় ডাক্তার ও কর্মচারির সংখ্যা কম রয়েছে।

সুনামগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পেনশন আটকে রাখার অভিযোগ: সুনামগঞ্জ জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর পেনশন আটকে ঘুস দাবি এবং হয়রানি করার অভিযোগে সিলেট থেকে টিম অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে।

প্রতিটি অভিযানে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে টিম পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করবে। দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযান দেশের বিভিন্ন সেবাখাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিহত জাপানি সৈন্যদের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবর্তন

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে নিহত ১৮ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন এবং জাপানে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপান সরকারের মনোনীত ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রামে অবস্থান করে দেহাবশেষ উত্তোলন কার্য সম্পাদন করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় সম্পূর্ণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চল। সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং খননকার্যে নেতৃত্ব প্রদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খনন বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (অবঃ), বীর প্রতীক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দেহাবশেষ উত্তোলন শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল নিহত জাপানি সৈন্যদের প্রতি যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরবর্তীতে দেহাবশেষসমূহ জাপানে প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে জাপান সরকারের অনুরোধে কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত আরও ২৩ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবাসন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছিল।

রাঙ্গুনিয়ায় নবাগত ইউএনও নাজমুল হাসানের যোগদান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেছেন মো. নাজমুল হাসান। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ৩৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) তিনি রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এদিকে গত বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আট বিভাগে ১৫৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে রাঙ্গুনিয়ার পূর্ববর্তী ইউএনও মো. কামরুল হাসানকে চট্টগ্রামের দিয়ারা অপারেশনের চার্জ অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নবাগত ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, এর আগে তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মা–মেয়ের মৃত্যু

কক্সবাজার: সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর এলাকায় স্পিডবোট উল্টে মা–মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—সেন্টমার্টিন পূর্বপাড়ার মরিয়ম খাতুন (৩৫) ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে মাহিমা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত বোটটিতে আটজন যাত্রী ছিলেন। নাফ নদীতে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে স্পিডবোটটি উল্টে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। পরে কাছাকাছি থাকা আরেকটি স্পিডবোট দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসিফ আলভী জানান, মরিয়ম ও তার মেয়েকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু ঘটে। আহত আরও দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, নাফ নদীতে স্পিডবোটটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে তদন্তের জন্য একটি দল পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাগর উত্তাল থাকার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালীতে অটোরিকশা চালক হত্যার মামলায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অটোরিকশা চালক মামুনুর রশিদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. নাছিরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রোববার উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বানীগ্রাম ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার নাছির (৪৩) পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকার মো. ইসহাকের ছেলে।

র‌্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এজাহারভুক্ত আসামি নাছিরকে আটক করা সম্ভব হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বর প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হন চালক মামুনুর রশিদ। পথে মোক্তার হোসেন নামের একজন ভাড়ার কথা বলে তাকে চাঁনপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মোক্তার ও তার সহযোগীরা মামুনকে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাঁশখালী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, আটক নাছিরকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।