ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ উপজেলা নির্বাহীদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার
ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত
ডেস্ক রিপোর্ট: গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্মরণীয়ভাবে আয়োজন করতে হবে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় সকল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি ব্যর্থ হই তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”
বিগত সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে—সুস্থ মানুষ বলবে, সেটা নির্বাচন নয়; প্রতারণা হয়েছে।”
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু দায়িত্ব নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। “আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে।”
ইউএনওদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলেই সরকার তার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবে।”
নির্বাচন ও গণভোট—দুইটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য; আর গণভোট শত বছরের জন্য। “গণভোটের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, তার ভিত তৈরি হবে এ গণভোটের মাধ্যমে।”
সদ্য যোগদান করা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যেও তিনি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান জানান।
ইউএনওদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
গণভোটে ভোটার সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের বুঝাতে হবে—তারা যেন মনস্থির করে কেন্দ্রে আসেন: “হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন—মন ঠিক করে আসুন।”
কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।” একই সঙ্গে অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নারীদের ভোটকেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নারীদের যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসা যায়—তা নিশ্চিত করতে হবে।
শীঘ্রই নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে তিনি ইউএনওদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা এখনই করে রাখুন।”
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

