রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা: জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে এসপির আশ্বাস

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশ্বাস দেন।

এসপি মো. মাসুদ আলম জানান, রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ চৌধুরীকে প্রকাশ্যে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ, র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ কী, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কেন এটি ঘটানো হয়েছে—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কিছুটা সময় লাগলেও জড়িতরা যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ সুপার জানান, যেভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে তদন্ত কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে।

শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫)। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপনের ভাই এবং মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।