রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এ মসজিদ চালু হওয়ায় এলাকার কয়েক হাজার মুসল্লির দীর্ঘদিনের স্থানসংকট দূর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাঙ্গুনিয়ার মোগলের হাট এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মুহাম্মদ আলমগীর। প্রায় তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের এই তিনতলা মসজিদ ভবনের সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বহন করেছেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী স্কলার ও ওয়ায়েজ আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জুমা ও দুই ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ধারণক্ষমতার সংকটে পড়তে হতো। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদ ভবন স্থানীয় মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান বক্তা আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী বলেন, মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আদর্শ সমাজ গঠনের কেন্দ্র হওয়া উচিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের মদিনার মসজিদের আদলে এ প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মসজিদটির ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। প্রায় অর্ধশত বছর আগে এ অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম হযরত মাওলানা আবুল খায়ের, যিনি ‘গদা মওলভী’ নামে পরিচিত ছিলেন, প্রথম এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পুরোনো ভবনে মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মুসল্লিদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়দের আবেদনের পর নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে মুহাম্মদ আলমগীর নিজস্ব অর্থায়নে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মসজিদ নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কারিগর এবং অর্থায়নকারী মুহাম্মদ আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও অর্থায়নকারীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; ভবিষ্যতে এটি রাঙ্গুনিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শন হিসেবেও পরিচিতি পাবে।
