দায়িত্ব পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আনসার কর্মকর্তা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আলাউদ্দিন (৩৮) নামে এক আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে আবুতোরাব রাস্তার মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আলাউদ্দিন রামগতি উপজেলার কাশেম মিয়া বাড়ি এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি চলতি বছরের শুরুতে মিরসরাই উপজেলায় আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

জানা গেছে, সরকারি কাজ পরিদর্শনের জন্য জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে আবুতোরাব এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে মিরসরাই সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভ্রা দাশ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদেরসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে যান।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের বলেন, সকালে একটি তদন্ত-সংক্রান্ত কাজে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা আসছেন। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আনসার কর্মকর্তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সকে হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের শাস্তির দাবি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের নার্সিং কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, দায়িত্ব পালনরত একজন নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুধু একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান সম্ভব নয়। গভীর রাতে মহিলা ওয়ার্ডে বহিরাগতদের প্রবেশ করে কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভা দেবী, সিনিয়র স্টাফ নার্স মায়া রাণী মজুমদার, সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমিনা মমতাজ, শাহনাজ পারভীন, পারভীন আক্তার, কাকলি বড়ুয়া, ঝুমুর আক্তার, রাবেয়া মমতাজ, পম্পী দেবী, মাহফুজা কুমারী, নাজনীন আক্তার, নাসরিন আক্তার, ফারজানা আক্তার, পাপড়ি দাশ, অর্পনা দাশ, তন্বী পাল, উম্মে কুলসুম শেলীসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য নার্সিং কর্মকর্তারা।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

 

নজরুলের চেতনায় মুখর চট্টগ্রাম, তিন দিনের আয়োজনের পর্দা নামল

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২০২৬-২০২৭) উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন দিনের এই আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে রাঙ্গুনিয়ায় পল্লী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লী চিকিৎসকদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই শতাধিক পল্লী চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দুর্ঘটনাজনিত জরুরি চিকিৎসাসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এছাড়া হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক করণীয় ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শওকত হোসেন। কর্মশালায় আরও প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের শারীরিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হাসান এবং জ্যেষ্ঠ সেবিকা ওয়াইসিং মরমা ও অনিক সিকদার।

এ সময় অংশগ্রহণকারী পল্লী চিকিৎসকদের বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কেও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পার্কভিউ হাসপাতালের বিপণন ও ব্র্যান্ড বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. জাহেদুর ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মজিবুক হক মানিক।

বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে রোগীরা আরও উন্নত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

 

 

নাম ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ হলেও উপজেলা সদর দক্ষিণে, ৭ দিনের আলটিমেটাম

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামে নতুন অনুমোদন পাওয়া ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর উত্তরাংশের পরিবর্তে দক্ষিণাংশে স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর পক্ষে এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আল মাসুদ।

নতুন উপজেলার অনুমোদনের জন্য সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ায় উত্তর ফটিকছড়ির মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ, ব্যবসাবাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। এই প্রেক্ষাপটে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর—এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ছাড়াই নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুরে উপজেলা সদর হওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার; অন্যদিকে বাগানবাজার থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভুজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং ভোটার রয়েছেন প্রায় সোয়া এক লাখ। উপজেলা পরিষদের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিলকে ভুজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে প্রভাব খাটিয়ে সেটি নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশের আলোকে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হসপিটালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনী, খালেদুল আনোয়ার এবং জহির রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এ মসজিদ চালু হওয়ায় এলাকার কয়েক হাজার মুসল্লির দীর্ঘদিনের স্থানসংকট দূর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাঙ্গুনিয়ার মোগলের হাট এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মুহাম্মদ আলমগীর। প্রায় তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের এই তিনতলা মসজিদ ভবনের সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বহন করেছেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী স্কলার ও ওয়ায়েজ আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জুমা ও দুই ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ধারণক্ষমতার সংকটে পড়তে হতো। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদ ভবন স্থানীয় মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান বক্তা আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী বলেন, মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আদর্শ সমাজ গঠনের কেন্দ্র হওয়া উচিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের মদিনার মসজিদের আদলে এ প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মসজিদটির ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। প্রায় অর্ধশত বছর আগে এ অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম হযরত মাওলানা আবুল খায়ের, যিনি ‘গদা মওলভী’ নামে পরিচিত ছিলেন, প্রথম এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পুরোনো ভবনে মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মুসল্লিদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়দের আবেদনের পর নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে মুহাম্মদ আলমগীর নিজস্ব অর্থায়নে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মসজিদ নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কারিগর এবং অর্থায়নকারী মুহাম্মদ আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও অর্থায়নকারীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; ভবিষ্যতে এটি রাঙ্গুনিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শন হিসেবেও পরিচিতি পাবে।

 

 

ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু ১ আগস্ট

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর (তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, অনগ্রসর ও চা-শ্রমিক) ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে জুলাইজুড়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে গত ৩০ জুন জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত dss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায় অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

আবেদনকারীদের নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং নিজের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বরও দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যারা বর্তমানে অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নিয়মিত সুবিধাভোগী, তারা এ কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন আবেদন ও অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা আবেদনসমূহ একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিতরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাবেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ঘোষণায় ভূজপুরে আনন্দ মিছিল ও শোকরানা মাহফিল

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): ফটিকছড়িতে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা ঘোষণায় এলাকায় আনন্দ মিছিল ও শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর থানার পাশে নির্ধারণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূজপুরে পৃথক দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়রা এ আনন্দ উদ্যাপন করেন। এ সময় সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম কর্মসূচিটি সকাল ৯টায় কাজিরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ৪ নম্বর ভূজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো এলাকায় এলে তাকে পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ভূজপুর থানা ঘোষণা করেছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর থানার পাশেই উপজেলা সদর দপ্তর নির্ধারণ করে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ঘোষণা হওয়ায় তারা সরকারপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, ভূজপুর থানার রূপকার খালেদা জিয়া ভূজপুরবাসীকে যথাযথ মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নতুন উপজেলা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত।

একই দিন জুমার নামাজের পর কাজিরহাট বাজারে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে দোয়া ও শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে নতুন উপজেলা ঘোষণার জন্য সরকারপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলে ভূজপুর থানা প্রতিষ্ঠায় যারা অর্থ, শ্রম ও ভূমি দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর মাগফিরাত কামনা করা হয়।

এ সময় দ্রুত উপজেলা নির্বাহী প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু এবং অবহেলিত এ জনপদের সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।

উভয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমএসএইচ শাহজাহান চৌধুরী শিপন, মাহাবুল আলম আযাদ, রিজোয়ান চৌধুরী, মাওলানা জুনাইদ বিন জালাল, বিএনপি নেতা মাহাবুর আলম আযাদ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবু তালেব, ব্যাংকার ফজলুল করিম, ইব্রাহিম মেম্বার, জসিম মীর, লোকমান হোসেন মেম্বার, হাফেজ এমদাদ, মোহাম্মদ জাহেদ হাসান, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ আমিনী, বিএনপি নেতা মুনসুর চৌধুরী, জহির উদ্দিন বাবর, এম. নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ ফয়েজ, সংবাদকর্মী মাওলানা আসগর সালেহী, নুরুল আলম গুরামিয়া মেম্বার, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মাওলানা এরশাদ বিন জালাল, বখতিয়ার তালুকদার, খায়রুল বশর, মীর সুমন, এমদাদ ইসলাম, আবু ওবাইদা, জয়নাল আবেদীন, ইলিয়াস তালুকদার, আখতারুজ্জামান রুবেল, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মাওলানা রফিক, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, মামুন বশর ভূইয়া, মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, সেলিম রেজা, রিপন চৌধুরী, রহিম, নিজাম ও খালেদ।

জাতি যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন দায়িত্ব নেন মেজর জিয়া: রাঙ্গুনিয়ায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিল না এবং হতাশায় নিমজ্জিত ছিল, তখন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া—এমন মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে যে নামটি জড়িত, সেটি হচ্ছে মেজর জিয়াউর রহমান। দেশমাতৃকার টানে সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন মেজর হিসেবে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন তিনি। জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিল না, তখন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না। বিগত সময়ে ভুল ইতিহাস গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের শিশু ও নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর চেষ্টা হয়েছে। ইতিহাস তৈরি করা যায় না, ইতিহাস সৃষ্টি করা হয়। সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

এর আগে মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা জিয়ানগরস্থ প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন।

পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর কেউ যেন নিজেকে দুর্বল মনে না করে, সেজন্য প্রশিক্ষণোত্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো বীরকে জাতি যাতে আজীবন শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে পারে, সে জন্য রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ, রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা, গ্রাম পুলিশদের সরঞ্জাম বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও চেক বিতরণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের (দফাদার ও মহল্লাদার) পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

পরে গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে ও উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

পরীক্ষা নম্বরের লড়াই নয়, জ্ঞান ও সততার মূল্যায়নের ক্ষেত্র: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার লড়াই নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। তিনি বলেন, পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়।

বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামে ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে পরীক্ষা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসুস্থ চিন্তা বা অসদুপায়ের স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই যেন সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার উত্তরপত্রে লিখে আসে।”

পরীক্ষা প্রতিযোগিতার অংশ হলেও সেই প্রতিযোগিতা অবশ্যই সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ্যবিষয় সত্যিকার অর্থে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পরীক্ষার খাতায় তার স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটবে। এতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধও ধারণ করতে হবে।”

প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে পরীক্ষা নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। ছাত্রজীবনে যা শিখছ, সেটিই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতো। কোনো কোনো বোর্ডের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করত। এ ধরনের বিতর্ক ও বৈষম্যের ধারণা দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম কলেজের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৩ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৩৫ জন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের অগ্রদূত: মীর হেলাল

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় দেশের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের কথা ভাবতেন। গ্রামের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ছাড়া দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই নীতিতেই তিনি বিশ্বাসী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) হাটহাজারীর রিসার্চ ও ফার্ম বেইজড ক্যাম্পাস মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাসযোগ্য দেশ গড়তে এর কোনো বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও করতে হবে। তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, তিনি আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে নয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। এই ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কৃষি, চট্টগ্রাম বিভাগের মনিটর এবং সিভাসুর ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. আহসানুল হক রোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রফেসর এ কে এম সাইফুদ্দিন, ড. মিজানুর রহমান, ড. আহসানউল্লাহ, প্রফেসর নূরুল হক, ড. তফাজ্জল হোসেন রনি, ড. মনিরুজ্জামান, ড. আতিউর রহমান এবং সিভাসু ছাত্রদলের সভাপতি জিয়াউর রহমান।

সৈয়দ মুনিয়া জিলশাদ ও মো. শাহরিয়ার হোসেন তালুকদারের যৌথ সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবু তোয়াব।

কেরানীহাটে সিসিটিভি নজরদারি চালু, অপরাধ দমনে নতুন উদ্যোগ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সাতকানিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কেরানীহাটকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় এনেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিসিটিভি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি শাহজাহান চৌধুরী।।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামসুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তারেক হোসাইনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেরানীহাট এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এতে অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

স্থানীয়দের মতে, কেরানীহাট বান্দরবান জেলার প্রবেশদ্বার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিমুখী সড়ক জংশন হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল হয়। এছাড়া এখানে রয়েছে একাধিক শপিং মল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের আশা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সহজ হবে। এতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

 

‘রাজনীতির কৃষক’ ছিলেন রফিক বিন চৌধুরী: স্মরণসভায় হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী, সমাজ-সংস্কারক ও দানবীর মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীকে স্মরণ করে আয়োজিত স্মরণসভায় রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “তিনি ছিলেন রাজনীতির একজন কৃষক।”

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হুমাম বলেন, একজন কৃষক যেমন জমিতে চারা রোপণ করে ধৈর্যের সঙ্গে তার পরিচর্যা করেন, তেমনি রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আস্থার চারা রোপণ করেছিলেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা ধরে রেখেছেন।

হুমাম কাদের বলেন, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে রফিক বিন চৌধুরী তাঁকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তাঁর উৎসাহেই তিনি নতুন করে মনোবল ফিরে পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রফিক বিন চৌধুরীর হাত ধরেই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজে এলেই তাঁর স্মৃতি মনে পড়ে, কারণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা তিনি রফিক বিন চৌধুরীর কাছ থেকেই পেয়েছেন।

রাজনীতিতে ধৈর্য, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে আছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মোহাং আবু হোসেন ইবনে হাশ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, দাতা সদস্য নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, কলেজের মাউশি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুহাম্মদ খোরশেদুল হক চৌধুরী রিবেল, অভিভাবক সদস্য হোসেন আলী, আব্দুল মান্নান রনি, খোরশেদ আলম এবং বোর্ড প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম।

কলেজের অধ্যাপিকা পুষ্প বড়ুয়া ও প্রভাষক আবু মহসিন মো. মঞ্জুরুল কাদেরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউনুচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আমিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজসেবক খালেদ বিন আব্দুল কাদের।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আলকাদেরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরীসহ জেলা, উপজেলা এবং রাজানগর-ইসলামপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ একরাম ও সহকারী অধ্যাপক শান্তি জ্যোতি বড়ুয়াও বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মউদুদ ইলাহী এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবু মহসিন মঞ্জুরুল কাদের।

স্মরণসভার পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালনা করেন রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর স্মরণে কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইছামতী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি করেন।

গুণীজন সম্মাননা হিসেবে রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আব্দুর রশিদ বিএ, বিএড, সহকারী শিক্ষক মরহুম সিরাজুল ইসলাম তালুকদার এবং স্থানীয় চিকিৎসক সুবোধ দেওয়ানজীকে স্মরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়া রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল বশর তালুকদার এবং রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক দানু মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথির মাধ্যমে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর হাতে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কলেজের উদ্যোগে প্রকাশিত মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর জীবন ও কর্মভিত্তিক স্মরণিকা “মহীয়ান” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোবারক আলী তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাড়ির মামুন, রিয়াজ, মো. আমানউল্লাহ, মো. আসিফ, শহিদ ও নজরুলের বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। এতে দুটি সেমিপাকা ঘর, দুটি কাঁচা ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেটসহ ঘরের সব আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

বুধবার (১ জুলাই) মাসুদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “মাসুদ চৌধুরীর হত্যার বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদেও তুলেছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি নিজেই এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমি বলেছি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাফিয়া জড়িত আছে। দেশের মানুষ জানে, এই মাফিয়া বলতে আমি বালি সিন্ডিকেটের কথাই বোঝাতে চেয়েছি।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “ আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা সংকেত দিতে চেয়েছে, আমরা যদি অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চাই, তাহলে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে।”

তিনি বলেন, “মাসুদ চৌধুরী যে শক্ত ভূমিকা রেখেছিল, প্রতিবাদ করে রাঙ্গুনিয়ায় এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চেয়েছিল, তার পক্ষ হয়ে এবং তার স্মৃতিকে ধরে রেখে আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।”

হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের তো ধরা হবেই। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো যারা টাকা খরচ করে খুনিদের ভাড়া করেছে, যারা এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী—তাদেরও ধরতে হবে। আমরা যদি বিচার চাই, তবে তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে আমরা অত বেশি আলোচনা করিনি। তবে জনপ্রিয়তার কারণে মাসুদ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবার, হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও তাকে পছন্দ করতেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যখন নির্বাচন করেছি, তখন অনেকেই বলেছিলেন, মাসুদ চৌধুরীর কারণেই তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। গত ১৭-১৮ বছর ধরে মাসুদ এলাকার মানুষের পাশে ছিল। আপদে-বিপদে সবসময় সে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন তার এই শূন্যতা আমরা সবাই অনুভব করছি। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য আরও বলেন, “দলের জন্য মাসুদ বহুবার বড় ভূমিকা রেখেছে। অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম খুঁজলে দেখা যাবে, চট্টগ্রামের বড় বড় মিছিলে তার নেতৃত্ব ছিল। চেয়ারম্যান নির্বাচনও একটি কারণ হতে পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি, বালির মহলের বিরুদ্ধে সে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ কারণেই তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”

কবর জিয়ারতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও দলটির অঙ্গসংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ (১১ জন এজাহার নামীয় এবং ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত) জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ চৌধুরীর দাফন

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মরহুম আবুল কাশেম চৌধুরীর তৃতীয় পুত্র।

বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশের উপস্থিতিতে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

দাফন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে “মুকিম চৌধুরী প্রজন্ম” পরিবার এবং “চল যাই রাংগুনীয়া” পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।

পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মতবিনিময়

চট্টগ্রাম: জেলার বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরিচিতি, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

সম্প্রতি আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম।

সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে মতামত দেন। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সব ধর্মের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি মানসম্মত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

এছাড়া তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সচেতন থাকা, স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: শিশুশ্রম বন্ধে রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন ও মানবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কিশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সংকটে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলোকে এ সহায়তা শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপরই অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে, পরিবারে বড়দের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। সেই পরিবেশ তৈরি না হলে শিশুশ্রম নির্মূল কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু শৈশব থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে কয়েকটি খাত থেকে ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাত শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ফটিকছড়িতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপণ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

সোমবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশে বিদ্যমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একটি গাছ একটি প্রাণের মতো। এই ধরিত্রীকে রক্ষা করতে আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই।”

তিনি আরও বলেন, আজকের বিতার্কিকরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাই তাদের এখন থেকেই দেশপ্রেম, সমাজসচেতনতা ও জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হলো বিতর্ক।

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল— ‘জলবায়ু পরিবর্তনে সচেতনতাই পারে পৃথিবীকে নিরাপদ রাখতে’। নির্ধারিত সময়ে বক্তব্য উপস্থাপন, যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের পর বিচারকদের রায়ে দশম শ্রেণির দল চ্যাম্পিয়ন এবং নবম শ্রেণির দল রানারআপ হয়।

বিজয়ী দলে ছিলেন ফাইরুজ আক্তার, আফরিন জাহান ও জান্নাতুল মাওয়া। রানারআপ দলে ছিলেন নোভায়রা সুলতানা, উম্মে নানজিবা ও নুর জাহান আলো। সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন ফাইরুজ আক্তার।

দিনব্যাপী আয়োজনে বৃক্ষরোপণ, দেয়ালিকা উন্মোচন, ফেস্টুন প্রদর্শন এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জাহানারা বেগম ও জান্নাতুল নাঈম। শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শিক্ষক সৈয়দ পারভেজ সোবহান, মো. মোরশেদ উদ্দিন, মো. মজিদুল ইসলাম ও মো. মহিম উদ্দিন। পরে অতিথিরা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

দীঘিনালায় মাছ ধরার জালে আটকা বার্মিজ পাইথন উদ্ধার

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বার্মিজ পাইথন প্রজাতির একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘পাইথন বিভিটাটাস’।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার উত্তর হাচিনসনপুর এলাকার একটি নালায় স্থানীয় কৃষক জামাল উদ্দিনের মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে অজগরটি। পরে স্থানীয়রা সাপটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয়রা জানান, মাছ ধরার জন্য নালায় জাল পেতেছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। সকালে জাল দেখতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বিশাল আকৃতির একটি সাপ জালে আটকা পড়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পরে এলাকাবাসী সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগকে খবর দেন।

মেরুং রেঞ্জের ডেপুটি কর্মকর্তা জাফর উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে উদ্ধার করেন। প্রায় ৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের সাপটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাপটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ বনে অবমুক্ত করা হবে।

নেচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের সংগঠক হৃদয় বড়ুয়া জানান, খাগড়াছড়িতে লোকালয় থেকে এই প্রথমবার বার্মিজ পাইথন উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে এ প্রজাতির উপস্থিতি রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

স্বচ্ছ নিয়োগে সফল রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণী, মানবিক পুলিশ হওয়ার আহ্বান ওসির

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৮ জন তরুণ-তরুণী। কোনো ধরনের ঘুষ, তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তাদের এ সাফল্য এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় নবনিযুক্তদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন এবং মিষ্টিমুখ করান। এ সময় থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নবীন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তোমরা মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের সুযোগ পেয়েছ। এই অর্জনের মর্যাদা ধরে রাখতে সততা, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করে মানবিক পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক। এখানে কোনো দালাল, তদবির বা ঘুষের সুযোগ নেই। চাকরিপ্রার্থীদের প্রতারকদের ফাঁদে পা না দিতে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

নবনিযুক্ত জয় দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশে চাকরি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা ছিল। কিন্তু এবার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তারা আনন্দিত। এ ঘটনা অন্য চাকরিপ্রার্থীদেরও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে দুর্নীতি কমবে, মেধাবীরা মূল্যায়িত হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণীর এই অর্জন সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে লোহাগাড়ায় বাস উল্টে আহত অন্তত ১৫

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বগুড়াগামী পর্যটকরা। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের লোহারদিঘিরপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিআর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কে উল্টে গেলে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠান।

তাৎক্ষণিকভাবে আহত সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— জিন্নত (৫০), রেখা আক্তার (৪৫), জান্নাতি খাতুন (১৬), সাজেদুর রহমান (৪২), রেহেনা বেগম (৫০), বেলী আক্তার (৬২) ও রনজনা (৬৬)। তারা সবাই বগুড়া জেলার বাসিন্দা। আহত অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বাসে থাকা যাত্রীরা জানান, তারা বগুড়া থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন। রোববার সকালে কক্সবাজার থেকে নিজ গন্তব্যে ফেরার পথে লোহাগাড়ার লোহারদিঘিরপাড় এলাকায় পৌঁছালে বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। এতে একাধিক যাত্রী আহত হন এবং বাসটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তার জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

লোহাগাড়ায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু, হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে গোখরা সাপের কামড়ে সোহান উদ্দিন (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করানো হয় বলে জানা গেছে।

রোববার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোহান উদ্দিন উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মল্লিক ছোবাহান মনু চৌধুরী পাড়ার জহির আহমদের ছেলে।

লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন আরফাত পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে নিজ বসতঘরে থাকা অবস্থায় সোহানকে একটি গোখরা সাপ পায়ে কামড় দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

তিনি জানান, সাপে কামড়ানোর পর সোহানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া এলাকার এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর ঝাড়ফুঁক ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

রোববার সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সোহানের মৃত্যু হয়েছে। তাই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা নিশ্চিত করা হলে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

 

রাঙ্গুনিয়ায় একইদিনে দুই মৃত্যু, প্রবাসীর শেষ ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একই দিনে একই ইউনিয়নে পৃথক দুই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের ফুলগাজীপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ তানভীর হোসেন (৩০) এবং পূর্ব সৈয়দবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারের ছেলে মো. বাবর (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে বাবরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনদের দাবি, বাবর কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহের কারণে মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। তাদের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জেরেই তিনি এমন পথ বেছে নিতে পারেন। বাবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন।

অন্যদিকে একইদিন সন্ধ্যায় আরেকটি ঘটনা ঘটে। নিহত তানভীর হোসেন মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পরে বাড়ির পাশের কর্ণফুলী নদীর চরের একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তানভীরও সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী ছিলেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন এবং শিগগিরই কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তানভীর লিখেছিলেন, “আমার মৃত্যুর কারণ আমার চাচা শ্বশুর। এত বড় অপবাদ না দিলেও পারতেন। সবাই ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। ভালো থেকো প্রিয় বউ। সবকিছু শেষ আমার।”

স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর তাঁর পরিচিতদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশের নদীর চরে একটি গাছে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন দুই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাবরের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে তানভীরের ঘটনায় ওসি জানান, তানভীরের চাচা শ্বশুর তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর শাশুড়িকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে অপবাদ ছড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অভিমান করে তানভীর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এমন পথ বেছে নেন। এ ঘটনায় তানভীরের অভিভাবকদের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদের কবর জিয়ারত করে বিচার চাইলেন নেতাকর্মীরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের কবর জিয়ারত করেছেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তারা।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মধ্য বেতাগীতে গিয়ে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় দক্ষিণ রাজানগর, হোছনাবাদ, লালানগর ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত শেষে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর মাসুদকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে রাজনীতি করার সময়ই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড আরও বাড়তে পারে। মানুষ রাজনীতির প্রতি বিমুখ হয়ে পড়বে।

এ সময় বক্তারা নিহত মাসুদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।

এর আগে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থেকে রাউজানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে রাউজানের সেই স্থান পরিদর্শন করেন, যেখানে মাকসুদুল হক চৌধুরী নিহত হন। সেখানে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।

পরে মধ্য বেতাগীতে মরহুমের কবর জিয়ারত শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক মাস্টার কামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা শামসুল আলম, নুরুল আলম, জসিম উদ্দীন, রাঙ্গুনিয়া যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ সুমন, ইসমাঈল সিকদার, সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাছের টিপু, রুখন উদ্দীন, রবিউল হাসান, ইলিয়াস কাঞ্চন ও ছাত্রদলের সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ১১ জন এজাহারভুক্ত এবং ৮ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা নিহত

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মো. মহিউদ্দিন (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিউদ্দিন ভাটিয়ারী স্টেশন রোডের পশ্চিম এলাকার হাজী নেছার আহমেদের ছেলে। তিনি ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মোটরসাইকেলে করে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কে চলন্ত একটি ট্রাক হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটিও গতি কমিয়ে দেয়। ঠিক সেই সময় পেছন থেকে আসা একটি হায়েস মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সামনে থাকা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিএসবিএ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী জানান, মহিউদ্দিন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পুরাতন জাহাজের ক্যাবল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল রহমান জানান, ট্রাকের আকস্মিক ব্রেকের কারণে মোটরসাইকেলটির গতি কমে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি হায়েস মাইক্রোবাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

পবিত্র আশুরা আজ: ত্যাগ, ধৈর্য ও সত্যের চিরন্তন শিক্ষা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক:

আজ পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে এটি গভীর শোক, ত্যাগ ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার এক স্মরণীয় দিন।

ইসলামের ইতিহাসে আশুরার দিনটি নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। তবে ৬১ হিজরির ১০ মহররমে কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনাই এ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়; বরং এটি অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার শিক্ষা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

এদিকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি ও নফল রোজার মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য স্মরণ করছেন।

পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে আত্মত্যাগ, ধৈর্য, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার এক চিরন্তন প্রেরণার দিন হিসেবে বিবেচিত।

 

অবসরে গেলেন প্রিয় শিক্ষক, ভালোবাসার টানে ভাসলেন শিক্ষার্থীদের আবেগে

জাকির হোসেন
দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, তিনি গড়ে তোলেন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। সেই শিক্ষক যখন কর্মজীবনের ইতি টানেন, তখন তাঁর প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় ভিন্নমাত্রায়। খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এমনই এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়।

দীঘিনালা উপজেলার হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সামার অবসর উপলক্ষে তাঁকে ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর অবসর গ্রহণ ও জন্মদিন উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে কেক কাটা, সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং নানা উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে সহকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবো প্রিয় বড়ুয়া বলেন, মো. আবু সামা অত্যন্ত দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, স্যার তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন। আজ আমরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অবস্থানে রয়েছি, তার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক মো. আবু সামা। কান্নাভেজা চোখে তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ব্যান্ডের তালে তালে শিক্ষার্থীরা তাঁর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন। পরে ফুল দিয়ে সাজানো একটি গাড়িতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা গাড়ির সামনে দড়ি বেঁধে টেনে বিদ্যালয়ের ফটক পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর মোটরসাইকেলের হর্ন, ব্যান্ডের সুর এবং উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

মো. আবু সামা ১৯৯০ সালে হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা শেষে বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান। তাঁর এই বিদায় আয়োজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গভীর সম্পর্ক ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাঙ্গুনিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু রায়হান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মুহাম্মদ আনোয়ারুল আজম এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৫০০ শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৬ হাজার শিশুকে একটি করে লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৩৬১টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।