মাদকসহ আটক ব্যক্তিকে ছাড়াতে গেলে তদবিরকারীর বিরুদ্ধেও একই মামলা: এমপি  হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ র‍্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরেই সবাই জানতেন মাদকবিরোধী একটি র‍্যালি ও সমাবেশ হবে। আমার ধারণা ছিল, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাহেব আসবেন বলে অনেক যুবক এখানে উপস্থিত হবেন। কিন্তু কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, মাদকবিরোধী এ কর্মসূচিতে বেশিরভাগ উপস্থিত হয়েছেন ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষ। তরুণদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।”

তিনি বলেন, “এর পেছনেও একটি কারণ আছে। অনেক তরুণই জানে তাদের আশপাশে কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাই হয়তো তারা এসব বক্তব্য শুনতে এসে অস্বস্তি বোধ করে। যেহেতু এখানে মুরব্বিদের বেশি পেয়েছি, তাই তাদের বলছি—এখন দায়িত্ব আপনাদেরও।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “প্রায়ই থানা থেকে আমাকে জানানো হয়, কিছু যুবককে ইয়াবা, গাঁজা বা মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু একই সময়ে দেখা যায়, পরিচিত অনেকেই তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন। এটাই বাস্তবতা। আজ আমি যদি এটা স্বীকার না করি, কাল আপনারাই আমাকে সমালোচনা করবেন।”

তিনি বলেন, “আজ আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই। থানায় এখন স্ট্যান্ডিং অর্ডার হচ্ছে —মাদক নিয়ে কেউ ধরা পড়লে এবং তাকে ছাড়ানোর জন্য কেউ তদবির করতে গেলে, তার বিরুদ্ধেও একই মামলা দায়ের করা হবে।”

বালু উত্তোলনের বিষয় উল্লেখ করে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “গতকাল একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলেন, তিনি ছয়-সাত মাস আগে বালুর ব্যবসায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন সেই বালু জব্দ রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন ব্যবস্থা করে দিই, যাতে বালু বিক্রি করে তিনি তার টাকা ফেরত পান। তিনি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং হয়তো ভাবলেন, একটু অনুরোধ করলে বালু ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “চেহারাটা নরম, কিন্তু যেদিন বাবাকে দাফন করেছি সেদিন থেকে কলিজাটা শক্ত হয়ে গেছে। এখন আর এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”

মাদকের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার যতই কাছের মানুষ হোক না কেন, যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার প্রতি কোনো ধরনের দয়া বা ছাড় থাকবে না।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে সব উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি, সমাবেশ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মাদকের কুফল সম্পর্কে সবাই জানার পরও অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবী ও বহনকারীদের ধরা গেলেও মাদকের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বিদেশ থেকে যারা এসব সরবরাহ করছে, তারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তাই মাদকের পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে কি না, সন্ধ্যার পর কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে আমরা অনেক সময় খোঁজ রাখি না। একইভাবে প্রতিবেশী হিসেবে সামাজিক দায়িত্বও পালন করি না। ফলে মাদক সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি মাদককে ‘সব অপরাধের মা’ আখ্যায়িত করে বলেন, “মাদক থেকেই খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্ম হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে মাদকের কারণে সন্তান নিজের মা-বাবাকেও হত্যা করতে পারে, সেই মাদকের বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় নিজের পরিবারও নিরাপদ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।”

র‍্যালি ও সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে স্টুডেন্ট সোসাইটি অব চট্টগ্রাম। সংগঠনটির উদ্যোগে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এ শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুক্রবার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় প্রথম দফায় ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সকাল ১০টায় কুষ্ট হাসপাতাল গেইট এলাকায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুমপাড়া ও বনগ্রাম স্কুলসংলগ্ন এলাকাসহ ইউনিয়নের একাধিক পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল করিম, নয়ন, মো. ওমর ফারুক, সাংবাদিক কবির হোসেন, সাংবাদিক শান্তি রঞ্জন চাকমা, ইন্দ্র কুমার চাকমা, নিশি কুমার চাকমা, ভগিরত চাকমা এবং কাইলা বলি চাকমা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম পারভেজ, মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ, সাকিন বড়ুয়া, ইসপাত আহমেদ, সাকাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দ্বিতীয় ধাপে চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আরও বিভিন্ন এলাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতু জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বাসি খাবার পুনরায় বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুটি খাবার হোটেলকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা এবং একটি খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি মামলায় এ অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানে মোট তিনজন অভিযুক্তকে দণ্ডিত করা হলেও কোনো কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল মান্নান (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ বজলুর রহমান বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মান্নান একই এলাকার নূর আহমেদের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোজাম্মেল (৪৫) একই এলাকার মো. ছুফির ছেলে বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, সকালে একটি বিয়েসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত মোজাম্মেলের সঙ্গে নিহতের চাচাতো ভাইয়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাজারে মান্নানের চাচাতো ভাইকে হত্যার হুমকি দেন মোজাম্মেল। এ সময় মান্নান এর প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।

স্বজনদের অভিযোগ, এরই জেরে রাত ৮টার দিকে এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মান্নানের ওপর পেছন দিক থেকে হামলা চালায় মোজাম্মেল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি হামলাকারী হিসেবে মোজাম্মেলের নাম উল্লেখ করেন বলে জানান স্বজনরা।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকার একটি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল বলেন, “পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় এলে মামলা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

লোহাগড়া (চট্টগ্রাম) : কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে মোটরসাইকেলে করে চাঁদপুরের বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মিনিট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার ঠাকুরদিঘী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাহাব পাড়া এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে ফিরোজ আহমেদ তৌহিদ (২০) এবং একই উপজেলার শাহার পাড়া এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির মিজান পাটোয়ারীর ছেলে মাহি উদ্দিন (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজ আহমেদ তৌহিদ ও মাহি উদ্দিন মোটরসাইকেলে করে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন। ভ্রমণ শেষে মঙ্গলবার ভোরে তারা চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ঠাকুরদিঘী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিনিট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক ফিরোজ আহমেদ তৌহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত মাহি উদ্দিনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মাহি উদ্দিনকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে একজনকে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনিও মারা যান।

ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর মিনিট্রাকটি ঘটনাস্থলে রেখেই এর চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মিনিট্রাক ও মোটরসাইকেলটি দোহাজারী হাইওয়ে থানা হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী।

পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অপুর

রাউজান (চট্টগ্রাম) : বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রামের রাউজানে সড়ক দুর্ঘটনায় অপু দাশ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত অপু দাশ স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের মৃত বাদল দাশের ছেলে। তিনি রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার ‘দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতাল’-এ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে রাউজানের একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন অপু দাশ। পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের কাপ্তাই সড়কের কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। হাসপাতালের ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাহাড়তলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় অপু দাশের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত অপু দাশের মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চট্টগ্রামে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস, লাখো মানুষের ঢল

ডেস্ক : শান্তি, মানবতা ও অহিংসার বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় শোভাযাত্রায় বুধবার (২৬ আগস্ট) লাখো মানুষের ঢল নামে।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে অতিথি হিসেবে রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ.)।

সকালে জুলুস শুরুর আগে হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন এবং সবার জন্য দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি খানকাহর সামনে বিশেষ গাড়িতে উপস্থিত হলে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদের সুরে মূল শোভাযাত্রা শুরু হয়।

ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে জুলুসটি শুরু হয়ে মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা ও লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস পর্যন্ত যায়। পরে একই পথে ফিরে এসে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে জুলুস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই মিলনমেলায় আনজুমান পরিচালিত তিন শতাধিক মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। বিশাল এই জনসমাগম সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জুলুসে যোগ দিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও দেশের অন্যান্য স্থান থেকে মানুষ ভোরেই নগরে প্রবেশ করে মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় অবস্থান নেন। এতে সকাল থেকেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়।

জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা পর্যন্ত বসেছে ভাসমান মেলা। সেখানে ধর্মীয় সামগ্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কৌতূহলী মানুষ ও অপেক্ষমাণ ভক্তদের মাঝে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করতে দেখা গেছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এই জশনে জুলুসকে ঘিরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়কদ্বীপ ও সড়ক বিভাজকগুলো তোরণ, আনজুমানের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়েছে। পুরো নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মানুষের সহযোগিতা ও হাসপাতালের ছাড়ে মিজানের মরদেহ বাড়ির পথে

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দীর্ঘ নয় মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মো. মিজানুর রহমানের (৩৫) মরদেহ অবশেষে হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতার আহ্বানের পর সংগৃহীত অর্থ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিশেষ ছাড়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে তার মরদেহ বুঝে পেয়েছেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে দলীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

মিজানের ভাই মো. এনাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল তার। কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ করার পর মঙ্গলবার ভোরে চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

মিজানের মৃত্যুর পর হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে সংকটে পড়ে পরিবারটি। পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দ।

পরে একইদিন রাত ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, সহযোগিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেটুকু অর্থ হাতে আসে, তা নিয়ে তারা হাসপাতালে যান। সেখানে মিজানের পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও তার সহধর্মিণীও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে মিজানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সহযোগিতা করেন। হাসপাতালের হিসাবে বকেয়া ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ বুঝে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য রাতে লাশবাহী গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান ইমাম হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, মিজানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য স্থানীয় ও দেশ-বিদেশের মানুষের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ।

অন্যদিকে হাসপাতালে যাওয়া নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সংসদ সদস্য, তার সহধর্মিণী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে মিজানের মরদেহ আনতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ইমাম হোসেন চৌধুরী, লালানগর যুবদলের আহ্বায়ক এম এইচ সুমনসহ লালানগর ও হোসনাবাদ ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত রয়েছেন।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন থেকে হাসপাতালে যাওয়া নেতৃবৃন্দ জানান, মিজানের চিকিৎসা ও মরদেহ বাড়িতে আনার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়ার পর কে কত টাকা সহযোগিতা করেছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কত টাকা ছাড় দিয়েছে—এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মিজানের নিজ গ্রামের মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

মিজানের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের পাশাপাশি দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকটও রয়ে গেছে। স্বজনরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা যায়, চিকিৎসাকালীন সময়ে হাসপাতালের মোট বিল প্রায় ৩১ লাখ টাকা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালের হিসাবে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেওয়ায় এবং সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মিজানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।

বইবিমুখ শিক্ষার্থীদের ফেরাতে পটিয়ায় নতুন পাঠাগার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : বইবিমুখতার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় ঠেকানো এবং তাদের পুনরায় জ্ঞানচর্চায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পটিয়ায় নতুন একটি পাঠাগার উদ্বোধন করা হয়েছে।

পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মরিয়ম খাদেমী পাঠাগার’।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে পাঠাগারটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, তরুণ প্রজন্মের প্রধান নেশা হতে হবে বই পড়া। জ্ঞান অর্জন ও নিজেদের আলোকিত করতে নিয়মিত বই পড়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বইবিমুখ হওয়ার কারণেই বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের পুনরায় বইমুখী করতে এই পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ শওকত হোসেন খাদেমীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি খোরশেদুল আলম এবং পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি গাজী আবু তাহের।

এছাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী, পটিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদস্য মিশকাত আহমেদসহ পাঠাগারটির অর্থায়নকারী শওকত হোসেন খাদেমী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জ্ঞানমূলক ও সৃজনশীল বই পড়ার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস ও জ্ঞানচর্চা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বাবা-মাকে মারধর ও নির্যাতন, সাতকানিয়ায় যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাবা-মাকে নিয়মিত মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে ফাহিম উদ্দিন (২৪) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফাহিম উদ্দিন সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের দাইমারখীল এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ দাইমারখীল এলাকা থেকে ফাহিম উদ্দিনকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, ফাহিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে তার বাবা-মাকে মারধর ও নির্যাতন করে আসছিলেন। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তাকে আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী শাহাদাত হোসেন রাব্বি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে অসদাচরণ, মারধর বা নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবারের সদস্যদের প্রতি এমন আচরণ সামাজিকভাবে নিন্দনীয় হওয়ার পাশাপাশি আইনগতভাবেও দণ্ডনীয় অপরাধ।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই যুবককে সাজা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অমানবিক আচরণ করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোহাগাড়ায় শব্দদূষণবিরোধী অভিযান, চার বাসকে জরিমানা

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে চারটি বাসকে মোট ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলা সদরের মাশাবির সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ অমান্য করে বিকট শব্দের হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে মারসা পরিবহনকে ৩ হাজার টাকা, শ্যামলী পরিবহনকে ৩ হাজার টাকা, ঈগল পরিবহনকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং পুরবী পরিবহনকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস, লোহাগাড়া থানার এএসআই লূৎফুর রহমান, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির সাহেদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন জানান, নির্ধারিত মানমাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

৯ মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে মিজানের মৃত্যু, ২২ লাখ টাকা বকেয়া; মরদেহ আনতে প্রয়োজন অর্থ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘ নয় মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মো. মিজানুর রহমান (৩৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মিজানুর রহমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।

নিহতের ভাই মো. এনাম জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে মিজানের কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে কেমোথেরাপির চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা বিল বাবদ প্রায় ২২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে সংকটের কারণে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

মিজানের চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পরও বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের কারণে নতুন করে আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ বাড়িতে এনে যথাযথভাবে দাফন সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা।

এদিকে মিজানের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশ-বিদেশে থাকা হৃদয়বান ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে নগদ সহায়তা ও প্রতিশ্রুত অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে বলে জানিয়েছেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরী।

ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, মিজানের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করতে আরও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

মিজানের পরিবার তার মরদেহ দ্রুত বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাংক এশিয়ার রেমিট্যান্স সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্যোগে ‘রেমিট্যান্স সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে অবস্থিত দক্ষিণ রাজানগর ইউডিসি এজেন্ট পয়েন্টে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. মতিউর রহমান উপস্থিত গ্রাহক ও অতিথিদের রেমিট্যান্স সুরক্ষা, নিরাপদে রেমিট্যান্স লেনদেন এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত গ্রাহকদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স সেবা ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়ে মতামত গ্রহণ করা হয়। গ্রাহকরা সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

কর্মশালায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিরাপদে গ্রহণ, গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈধ ও নিরাপদ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আরও সহজ ও মানসম্মত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

কর্মশালায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্যোক্তাসহ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।

দাখিলে ভালো ফল, মানিকছড়িতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলায় প্রতিষ্ঠিত যোগ্যাছোলা সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় মাদ্রাসার মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আবদুল মোমিন ও মাওলানা ইউসুফ আলীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার সুপার মুফতি মির্জা মো. মজিবুল হক।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন যোগ্যাছোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান, আল হেরা বিদ্যা নিকেতনের অধ্যক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীন ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ডা. মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা বেলাল উদ্দিন, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা মো. ইউনুছ মিয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্ব শেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

খাগড়াছড়িতে বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি):

পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় তিন সপ্তাহব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে দীঘিনালা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। এতে উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নের ৩৬ জন বেকার যুবক অংশগ্রহণ করছেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড রিপেয়ার’ এবং ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মোবাইল রিপেয়ার’—এ দুটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত খরচসহ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের দীঘিনালা সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকেরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

রাঙ্গুনিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ মাসের এডহক কমিটি, সভাপতি ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছয় মাসের মেয়াদে এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম।

২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বোর্ডের স্মারকে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রবিধানমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুমোদিত কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত সভাপতি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম মিজানুর রহমান পদাধিকারবলে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন সিকদারকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য এবং সাংবাদিক মো. আব্বাস হোসাইন আফতাবকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য করা হয়েছে।

স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবিধানমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি ম্যানেজিং কমিটির সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবে।

চোখ বন্ধ রাখলে কাল আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হবে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে এএসপি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা বাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‍্যালি ও সমাবেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের ধরছি এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে শুধু গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবার থেকেই শুরু করব। প্রতিটি পরিবার যদি মাদকমুক্ত থাকে, তাহলে পাড়া-মহল্লা মাদকমুক্ত হবে। এভাবে ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসময় পুরো দেশকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’

পোমরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, পোমরাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মাদক নির্মূলে বড় ধরনের সফলতা আসবে।

তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণ প্রজন্ম যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সহযোগিতার প্রশংসা করে এএসপি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ছাড়িয়ে নিতে কোনো পর্যায়ের কেউ তদবির করেননি। এটি অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক বিষয়। আমরা আশা করি, অভিযান চলাকালে কেউ কোনো মাদকসেবী বা মাদক কারবারির পক্ষে থানায় কিংবা অন্য কোথাও অবৈধ তদবির করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ হয়তো আপনার পরিবার মাদকে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু আপনার পাশের একজন আক্রান্ত হয়েছে। আপনি যদি চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন—কাল আপনার সন্তান বা আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিজের পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’

সমাবেশে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গোচরা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

পাহাড়ধস ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়ার ৮০ পরিবার পেল ঢেউটিন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : পাহাড়ধস ও অতিবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় থাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ৮০ পরিবার পেল ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন। প্রতিটি পরিবারকে এক বান করে মোট ৮০ বান ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এসব ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢেউটিন বিতরণ করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার নাজনীন সেতু, জেলা বিএনপি নেতা অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, আজম খাঁন, শওকত আলী নুর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন শাহ, জেলা যুবদল নেতা ও ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির আজীবন সদস্য আবুল কালাম আজাদ খাঁনসহ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, গত জুলাই মাসে টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অসহায় ও নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বসতঘর মেরামত নিয়ে সংকটে পড়ে। অর্থের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর সংস্কার করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল এসব পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির অর্থায়নে এ ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢেউটিন পাওয়ায় পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পটিয়ায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পেল মেধা বৃত্তি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : ‘শিক্ষাই হোক সকল অগ্রগতি, উন্নতি ও সমৃদ্ধির মূলমন্ত্র’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ‘মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’-এ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া পৌরসভার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে ট্যালেন্টফুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি দেওয়া হয়।

মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শেভরন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুল আলম। প্রধান আলোচক ছিলেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম চট্টগ্রামের সেক্রেটারি ডা. মো. ইরফান উদ্দীন সজীব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একর্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, পটিয়া সেন্ট্রাল কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন, প্রবাসী ও সমাজসেবক গাজী আবুল কালাম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চাকতাই শাখার ম্যানেজার (অপারেশন) হাশমত আলী, মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষার উপদেষ্টা জসীম উদ্দীন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার আবুল কালাম।

অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আমিনুল ইসলাম রায়হান ও গাজী আবুল হাসনাত মো. জোবাইর।

বক্তারা বলেন, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

অসহায় তিন পরিবারের পাশে এমপি এনামুল হক এনাম, ঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাওয়ারখীল গ্রামের হতদরিদ্র তিন পরিবারের বসতঘর অতিবৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ভেঙে পড়েছে। আশ্রয়ের শেষ সম্বল হারিয়ে মো. ইয়াকুব, মো. নাসির ও আবদুল হাকিমের পরিবার এখন অনেকটা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পর ওই তিন পরিবারের খোঁজখবর নিতে ছুটে যান পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। শনিবার বিকেলে বৃষ্টিতে ভিজে তিনি সরেজমিনে তিন পরিবারের দুর্দশার চিত্র দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পটিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাওন ভূঁইয়া।

পরিদর্শন শেষে এনামুল হক এনাম এমপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা হলো—যেখানে মানুষের সমস্যা, সেখানে স্থানীয় এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের ছুটে যেতে হবে। লাওয়ারখীল এলাকার হতদরিদ্র পরিবারগুলোর খবর পেয়ে দেরি না করে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ছুটে এসেছি। এসে দেখলাম, তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। শিগগিরই এ তিনটি বসতঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ এলাকাটি বর্ষায় অতিরিক্ত পানিতে ডুবে থাকে। এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলে দিয়েছি, যাতে দ্রুত এখানে এসে ব্লক বসানোর ব্যবস্থা করা হয়।’

স্থানীয়রা বলেন, বিগত সময়ে ওই এলাকায় সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও মানুষের সমস্যায় কেউ এগিয়ে আসেননি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবহেলিত ছিল। এনামুল হক এনাম এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর অবহেলিত এলাকাটি পরিদর্শনে আসায় তারা আশার আলো দেখছেন।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-অর্থ সম্পাদক মোরশেদ শফি হিরু, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. ইসমাইল, মাহবুবুর রহমান, মো. সাইফুদ্দীন, মুজিবুর রহমান, আজিজুর রহমান সায়েম, জাসাস নেতা মো. হারুন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম নয়ন, রেজাউল করিম মিজান, ছাত্রদল নেতা মো. তুষার, কামরুল ইসলাম জুয়েল, সাকিবসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রাউজানে ভিমরুলের কামড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু, আহত-১

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে ভিমরুলের কামড়ে নাজিম উদ্দীন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মাহাবুল আলম নামে আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ছিটিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিম উদ্দীন ওই এলাকার অছি মিয়া সওদাগর বাড়ির মৃত বজল আহম্মেদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিম উদ্দীন ও মাহাবুল আলম স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে চা-নাস্তা খেয়ে সড়কে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল ভিমরুল তাদের ওপর আক্রমণ করে। ভিমরুলের কামড়ে দুজনই গুরুতর আহত হন।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নাজিম উদ্দীনকে স্থানীয় জে.কে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে আহত মাহাবুল আলমকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নাজিম উদ্দীনের মৃত্যুর বিষয়ে জে.কে হাসপাতালের চিকিৎসক স্বপন কান্তি দাশ বলেন, ভিমরুলের কামড়ে আক্রান্ত একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহাজান বলেন, ভিমরুলের কামড়ে আহত এক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ার আগেই দ্রুত ইনজেকশন দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পর তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।

ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে টমটম উল্টে মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

চকরিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে টমটম উল্টে তানহা মনি (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চকরিয়া-কোরাইয়াঘোনা সড়কের কাহারিয়াঘোনা স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তানহা মনি চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা এলাকার বাসিন্দা এবং চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা জাফর আলমের মেয়ে। সে স্থানীয় মগবাজার মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে তানহা মনি তার ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে একটি টমটমে করে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। কাহারিয়াঘোনা স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে টমটম চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে টমটমটি উল্টে গেলে তানহা ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করেন। তবে ট্রাকটির চালক ও সহকারী পালিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, জব্দ করা ট্রাকটি চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকার নাজিম উদ্দীনের।

স্থানীয়রা ট্রাকটির মালিক ও চালককে আইনের আওতায় এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মা হারানোর পর বাবার কষ্টে বেড়ে ওঠা, ১১ বছরেই পানিতে ডুবে সায়েদের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শিলক খালের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ সায়েদ হোসেন (১১) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সায়েদ হোসেন পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুধপুকুরিয়া এলাকার আবছার হোসেনের ছোট ছেলে। সে দুধপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে খেলতে বের হয়েছিল সায়েদ। পরে বাড়ি ফেরার পথে তীব্র গরমের কারণে স্টিল ব্রিজ দিয়ে না গিয়ে শিলক খাল সাঁতরে পার হয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে সে। একপর্যায়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় শিশুটি।

পরে স্থানীয়রা খালে খোঁজাখুঁজি করে সায়েদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা তারেক চৌধুরী জানান, সায়েদের বয়স যখন মাত্র ৪০ দিন, তখন তার মা মারা যান। এরপর বাবা আবছার হোসেন কাঠুরিয়ার কাজ করে অনেক কষ্টে তিন ছেলেকে বড় করে তুলছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সায়েদ ছিল সবার ছোট।

তারেক চৌধুরী বলেন, ‘অবুঝ এই শিশুটি মাত্র ১১ বছর বয়সে পানিতে ডুবে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।’

সায়েদের অকালমৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় মাদক সেবনের অভিযোগে যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অভিযোগে আবু মুছা (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, পিপিএমের দিকনির্দেশনায় এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক সেবনের অভিযোগে আবু মুছাকে আটক করা হয়।

আবু মুছা পূর্ব সরফভাটা এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা শেষে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মো. শাহিন মিয়া, এএসআই মো. ইসমাইল হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর পোমরা ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন (৩৫) উপজেলার পশ্চিম পোমরা, বুড়ির দোকান এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এসআই দেলোয়ার হোসেন, এসআই নাজমুল হাসান, এএসআই মো. আবদুর রহিম, এএসআই রুহুল আমিনসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেয়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়ায় ধর্ষণ মামলার ২ ঘণ্টার মধ্যে একমাত্র আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি মো. ফজলু আলমকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মাদ্রাসায় ফেরার পথে ফজলু আলম তাকে মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নেন। পরে শিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা রুজুর পর রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। পরে থানার এসআই মিজানুর রহমান, এসআই মাহফুজুর রহমান, এসআই আবু নাসের, এএসআই আব্দুর রহিম, এএসআই কিংকর, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. আলমগীরসহ পুলিশ সদস্যরা রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান।

অভিযানের একপর্যায়ে মামলার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফজলু আলমকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে নতুন নেতৃত্ব, চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আগের কমিটি ও অস্থায়ী চেয়ারম্যানকে সরিয়ে ১৫ সদস্যের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার আপার পেরাছড়া এলাকার বাসিন্দা ম্রাসা থোয়াই মারমা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনী আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নতুন এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে।

পুনর্গঠিত পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমার সঙ্গে সদস্য হিসেবে রয়েছেন রিপল চাকমা, শান্তি প্রিয় চাকমা, দেব রানী চাকমা, মো. নুরুল আবছার, মো. আ. মালেক, মোশাররফ হোসেন, ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, খনি রঞ্জন ত্রিপুরা, নারায়ণ ত্রিপুরা, রুমেল মারমা, মংসাপ্রু চৌধুরী, কারী মগ, তাছলিমা সিরাজ সিমা ও কুহেলী দেওয়ান।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন এই পরিষদ সংশ্লিষ্ট আইনের সব সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর গঠিত পূর্ববর্তী পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শেফালিকা ত্রিপুরার নিয়োগও বাতিল করা হয়েছে।

নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো।

রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের স্বপ্নে দুর্বৃত্তের হানা, উপড়ে ফেলল পুরো কুমড়ার ক্ষেত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের মিষ্টি ও চাল কুমড়ার পুরো ক্ষেত উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতল কাতালশাহ পাড়ার উত্তর পাশের পাহাড়ি ঢালু জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুর মৌজার বাপের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি গাবতল কাতালশাহ পাড়ার উত্তর পাশে প্রায় ৩৬ শতক জমিতে মিষ্টি ও চাল কুমড়ার চাষ করেছিলেন।

কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তিনি ওই জমিতে কুমড়া চাষ শুরু করেন। গাছ বড় হওয়ার পর মাচা তৈরিতে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রায় ৬০টি বীজতলা থেকে শতাধিক গাছ সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছিল। শিগগিরই গাছগুলোতে ফুল ও ফল আসার কথা ছিল।

তবে বুধবার রাতে কে বা কারা অজ্ঞাত কারণে ক্ষেতের সব গাছ মাটি থেকে উপড়ে ফেলে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতে গিয়ে পরম যত্নে গড়ে তোলা সব গাছ ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকলে আমার সঙ্গে থাকতে পারে, কিন্তু আমার এই অবুঝ ক্ষেতের সঙ্গে কীসের শত্রুতা? কয়েকদিন আগে ধার করে টাকা এনে ক্ষেতে সার দিয়েছি। দেড় মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ক্ষেতটি গড়ে তুলেছিলাম। অথচ এক রাতেই তারা আমার সব শেষ করে দিল। এতে আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে এমন কাজ করতে পারে! আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক পরেই গাছগুলোতে ফুল ও কুমড়া আসার সময় ছিল। তার আগেই ক্ষেতের গাছগুলো এভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিটন দাশ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিভাইস আসক্তি কমানোর আহ্বান, নাজিরহাটে ১৩ কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধিত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারী শিক্ষা জাগরণে অনন্য প্রতিষ্ঠান নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও ব্যাংকার মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন নিয়ে না আসে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সময়মতো ক্লাস শুরু ও শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পরিবার, শিক্ষক ও বিদ্যালয়েরও গৌরব। শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, সময়ের মূল্যায়ন এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ব্যর্থতা এলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন।

বিশেষ অতিথি সাংবাদিক এস এম আক্কাছ অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আরও যত্নবান হতে হবে। একই সঙ্গে ডিভাইসের প্রতি তাদের আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা এবং নারী শিক্ষা জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক, উদ্যোক্তাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সে লক্ষ্যে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম, শিক্ষক পারভেজ সোবহান, মহিউদ্দিন ও মো. মজিদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

সমাবেশ শেষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

পটিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ডায়াপারে নতুন তারিখ, জরিমানা ২ লাখ ৫০ হাজার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ বেবি ডায়াপারের গায়ে পুরোনো মেয়াদ মুছে নতুন তারিখ বসিয়ে বাজারজাত করার অভিযোগে হাক্কানিয়া পেপার অ্যান্ড পাল্প মিলকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত এবং পণ্যের মেয়াদ যথাযথভাবে উল্লেখ না করায় আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া ও হালিম খাঁর চর এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় এবং পটিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়।

অভিযানে পাচুরিয়া-হালিম খাঁর চর এলাকায় অবস্থিত হাক্কানিয়া পেপার অ্যান্ড পাল্প মিলে তল্লাশি চালানো হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা বেবি ডায়াপারের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার পর পুরোনো মেয়াদের তথ্য মুছে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ও ডিসেম্বর ২০২৮ সালের নতুন মেয়াদ বসিয়ে সেগুলো বাজারজাত করে আসছিল।

এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির মজুত থেকে প্রায় ২০ হাজার পিস মেয়াদোত্তীর্ণ বেবি ডায়াপার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ডায়াপারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ টাকা।

এদিকে, হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া মোড় এলাকার খাজা হোটেলকে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য রান্না ও প্রস্তুতের অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকার ক্যাফে ফুলবনকে উৎপাদিত পণ্যের মেয়াদ যথাযথভাবে উল্লেখ না করা এবং অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ ও সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান।

অভিযান বিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।