‘বন্যার পানি নেমেছে, দুর্ভোগ শেষ হয়নি; এখন প্রয়োজন পুনর্বাসন’: মাহবুবের রহমান শামীম

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। তাই এখন তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর বাজার এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ভয়াবহ বন্যায় অনেক মানুষ বসতঘর হারিয়েছেন। কৃষিজমি, গবাদিপশুর খামার, পোলট্রি খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, জেলা পরিষদের এক সভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বন্যাকালে সরকার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে।

তিনি দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দীন চৌধুরী এবং সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আকন্দ, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সেলিম চৌধুরী, চুনতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নূর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শব্বির আহম্মেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নামে প্রতারণা: সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশ সদর দপ্তরের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ দাবি ও বিভিন্ন ধরনের তদবিরের নামে প্রতারণা করছে একটি চক্র। সম্প্রতি এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমন প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রতারকরা সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবি করছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সরকারি কর্মকর্তার ছবি ব্যবহার করা মানেই সেটি ওই কর্মকর্তার প্রকৃত আইডি বা মোবাইল নম্বর—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাই এ ধরনের বার্তায় সাড়া না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা পেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার অথবা ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাঙ্গুনিয়ায় বিট পুলিশিং সভায় এএসপি: ‘অপরাধ দমনে শুধু পুলিশ নয়, চাই সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ’

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), রাঙ্গুনিয়া সার্কেল মো. বেলায়েত হোসেন বলেছেন, সমাজে নীতি-নৈতিকতার চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে আয়োজিত বিট পুলিশিং ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এএসপি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিন বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণ ও পুলিশের মধ্যে আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান।