চা বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এক চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটে থাকা কয়েকজন অসহায় মানুষের আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীও অনলাইনে যুক্ত হয়ে অভিযোগ ও আবেদন জানান।

গণশুনানিতে বোয়ালখালীর উত্তর চরণদণ্ডী এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার বাবা শাহ আলম একজন চা বিক্রেতা হওয়ায় পারিবারিক সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শিক্ষার্থী আরও জানান, এর আগেও তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু অর্থসংকটে ভর্তি হতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান তিনি।

বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া পটিয়ার ধলঘাট এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিতে পাথর ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি চিকিৎসা, জীবিকা ও বসতবাড়ি সংস্কারের জন্য সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক তাদের আবেদনগুলো শুনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও আবেদনও গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

রাঙ্গুনিয়ায় বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ স্থগিত, ৬ দফা দাবি গ্রাহকদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাস এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লালানগর পল্লী বিদ্যুৎ সচেতন গ্রাহক সমাজের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ, গ্রাহকসেবায় নানা অসঙ্গতি এবং বিল পরিশোধে ভোগান্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ বিল কমানো, ভুতুড়ে বিল বন্ধ, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া প্রত্যাহার, গ্রাহকদের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভন আচরণ নিশ্চিত করা, দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আলমশাহপাড়া মাদ্রাসা শাখায় পূর্বের মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা।

এছাড়া ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধেও গ্রাহকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পরে প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার সকালে তা স্থগিত করা হয়।

তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে: বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। মেধা, সততা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।”

বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা” স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপক) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর যৌথ আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অংশ নেয়। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির টানটান লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয় বিআইজেডএইচ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রতিযোগিতা শেষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এ কে এম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোরশেদুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রানী গোপ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা এবং রাঙ্গুনিয়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি অসীম কুমার শীল ও মোঃ নুরুল আবছার।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় বিক্ষোভের ঘোষণা, অভিযোগ যাচাইয়ের আশ্বাস পল্লী বিদ্যুতের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার আলমশাহ পাড়া এলাকা থেকে “এম এ জাব্বার কম্পিউটার” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

লাইভে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি হাতে একটি পত্রিকার কপি দেখিয়ে বলেন, সংবাদপত্রে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমার খবর প্রকাশিত হলেও গ্রাহকদের হাতে আসা সাম্প্রতিক বিল তাদের দাবি অনুযায়ী আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ১০টায় আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসার প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে জানান তিনি।

লাইভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ও “এম এ জাব্বার কম্পিউটার” আইডির সত্ত্বাধিকারী মো. দিদারুল আলম কয়েকজন ভুক্তভোগীর মতামত তুলে ধরেন।

স্থানীয় কুলিং কর্নার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাবু জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৬৩৭ টাকা, যা এ মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২৬ টাকায়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও বিল কেন এত বেড়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চান তিনি।

একই লাইভে রিকশাচালক আবুল কালাম অভিযোগ করেন, আগে কখনো তার বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার বেশি আসেনি। কিন্তু চলতি মাসে তার বিল এসেছে ৪ হাজার ৭৯৭ টাকা। এতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিমসহ আরও কয়েকজন গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দাবি করেন এবং বিদ্যুৎ বিল কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, শুধু ওই লাইভ ভিডিওতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে একাধিক ব্যবহারকারী পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। অনেকেই তাদের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রকাশ করে অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ তুলেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফায়সাল হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদে বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধির প্রভাবে অনেক গ্রাহকের বিল বেড়েছে।

তিনি জানান, চলতি মাসে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছানো বিল মূলত গত মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণে ইউনিট খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব জুন মাসের বিলে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহক যদি মিটারের প্রদর্শিত রিডিং ও বিলে উল্লেখিত রিডিংয়ের মধ্যে অসঙ্গতি পান, তাহলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে কোনো হয়রানি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজিএম ফায়সাল হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে অফিসে এসেছেন। তাদের বিষয়গুলো যাচাই করে সমাধান দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকেই অভিযোগ করতে এসে নিজেদের ভুলও বুঝতে পেরেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, বিক্ষোভ করার প্রয়োজন নেই। যাদের বিল নিয়ে সমস্যা রয়েছে তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট অফিসে এসে বিষয়টি জানালে দ্রুত যাচাই করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে অভিযোগ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চালু হলো নতুন ইউনিফর্ম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা, শৃঙ্খলাবোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহজে শনাক্ত করার লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ইউনিফর্ম পরিধান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর ফলে উপজেলা পরিষদে আগত সেবাপ্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন এবং সেবা গ্রহণে আরও সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারি দপ্তরে সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসেবামুখী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ইউনিফর্ম চালুর মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে উপজেলা প্রশাসন আশাবাদী।

উপজেলা প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিফর্ম ব্যবস্থা সরকারি সেবাকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২ বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২২ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এলাকার একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সকালে সিএনজি অটোরিকশা চালক শ্যামল দাশ গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর এবং পরিবারের অন্য সদস্য কিস্তির টাকা দিতে বাইরে গেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তারা ফিরে এসে দেখেন, ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তর পারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অসীম দাশ এবং সিএনজি চালক শ্যামল দাশের বেড়া ও টিনের তৈরি দুটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলের সড়ক অত্যন্ত সরু হওয়ায় খবর পেয়েও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দিদারুল আলম জানান, এ ঘটনায় দুই পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি আর্থিকভাবে খুব একটা স্বচ্ছল নয়। তিনি বলেন, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে ঘরগুলো বেড়া ও টিনের তৈরি হওয়ায় খুব অল্প সময়েই সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দুর্গম পাহাড়ে বিশুদ্ধ পানির নতুন আশা, পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বাঙ্গালা করুনা পাড়া। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, কাঁচা-পাকা সড়ক, এমনকি নদীপথও। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ ছিল সুপেয় পানির সংকট।

প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির সন্ধানে পাহাড়ি নারী-পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। নিরাপদ পানির অভাবে নানা পানিবাহিত রোগে ভুগতেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিল বাঙ্গালা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হলো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে সৌরশক্তিচালিত সাবমার্সিবল টিউবওয়েল, যা এখন এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ পানির নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়নের এই পাহাড়ি পাড়ায় টিউবওয়েলটির উদ্বোধন করেন ০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন এসইউপি, পিএসসি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের দুর্ভোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সৌরশক্তিচালিত এই টিউবওয়েলের মাধ্যমে এখন সারা বছর এলাকাবাসী নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারবেন এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরাও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবে।

অনুষ্ঠান শেষে জোন অধিনায়ক স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা, যোগাযোগসহ নানা সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি এলাকায় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের কথাও জানান। পরে তিনি বাঙ্গালা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নোবেল চাকমা বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের পাড়ার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয়।

বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা বলেন, দুর্গম এই এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল মানুষের প্রধান সমস্যা। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট ঘুচিয়ে পাহাড়ি এই জনপদে এখন বইছে স্বস্তির স্রোত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

উত্তর জেলা ছাত্রদল কমিটিতে রাঙ্গুনিয়ার ব্যাপক প্রতিনিধিত্ব

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দীর্ঘ এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ হয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কমিটি। আকার বৃদ্ধির পর এ কমিটির সদস্য সংখ্যা এখন ৩৮২ জন। নবঘোষিত এ কমিটিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একাধিক নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১৮ জুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলেও গত শুক্রবার তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত বছরের ৩ জুন তকিবুল হাসান চৌধুরী তকিকে সভাপতি ও সারোয়ার হোসেন রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, রাঙ্গুনিয়া থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. গিয়াস উদ্দিন, সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. আবু বক্কর, সাইফুদ্দীন তালুকদার, হেলাল আহমেদ, মো. কামাল আহমেদ, গাজী নিজাম উদ্দিন, আবদুর রহমান, মো. ইব্রাহিম তালুকদার।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন মো. রাশেদুল ইসলাম, মো. আবদুল মান্নান, তাহানিয়াজ মোরশেদ তোহা, নাহিদুল ইসলাম ফয়সাল, মোঃ লোকমান গনি, মো. শহিদ উল্লাহ তালুকদার, মোঃ শওকত আলী, মীর জুবাইদুল ইসলাম রানা ও সাইদুর রহমান তালুকদার (সাহেদ)।

সহ সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস, মোঃ নাসের, রাশেদুল ইসলাম, মোঃ রাকিবুল হাসান, মোঃ মাসুদ সাকু, সাইদ হোসেন মাসুদ, ইঞ্জি. জাহেদ হোসেন, মোঃ নাছের উদ্দিন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ইঞ্জি. শাহাদাত হোসেন হেলেন, মোঃ কাউসার আলম ও শরফুদ্দিন ফরমান।

সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন আরিফুল ইসলাম, আরজু ইসলাম রানা, মোঃ আরশাদুল ইসলাম আশাদ ও কফিল উদ্দিন চৌধুরী। সহ প্রচার সম্পাদক পদে রয়েছেন ওসমান গণি।

এছাড়া সম্পাদকীয় বিভিন্ন পদে রাঙ্গুনিয়া থেকে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ ওয়াহিদ (সমাজসেবা সম্পাদক), এহসানুল হক রাকিব ও মোঃ রিমন (সহ সমাজসেবা সম্পাদক), মোঃ আবুল বায়ান তালুকদার (সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক), জুনায়েদ হোসেন (সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), ডা. মেহসাব বিন নাজের মাহিন (সহ স্বাস্থ্য সম্পাদক), মোঃ জমির (সহ পাঠাগার সম্পাদক), মোঃ ইমরান (সহ ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক), সাইফুল ইসলাম (সহ শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক), শাহাদাত হোসেন (সহ বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক), ইসমাইল হোসেন (গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক), মিজানুর রহমান (সহ সমবায় বিষয়ক সম্পাদক), মোঃ সালাউদ্দিন (সহ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক), মোঃ রিয়াদ (গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক) ও সাইফুল হক (সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক)।

এছাড়া সদস্য পদে রাঙ্গুনিয়া থেকে স্থান পেয়েছেন মোঃ পারভেজ, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল আল জুবায়ের, তারেক হোসেন মিমু চৌধুরী, রোহান সুলতান ও সালমান সাঈদ।

অন্যদিকে কমিটির বিভিন্ন পদে অন্যান্য উপজেলা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন।

নবঘোষিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ঘিরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় পানির ট্যাংক বসাতে গিয়ে প্রাণ গেল ইলেকট্রিশিয়ানের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পানির ট্যাংক বসানোর কাজ করতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে নুরুল বশর বাহাদুর (৫৮) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দীঘিরপাড় এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল বশর বাহাদুর পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সকালে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবদুল করিমের বাড়িতে যান। সেখানে ভবনের ছাদে পানির ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলাকালে হঠাৎ ছাদের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নুরুল বশর বাহাদুর উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মাওলানা সৈয়দ আহমদ হোসেনের তৃতীয় ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক।

এ বিষয়ে লালানগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। জানতে পেরেছি, তিনি কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। পরে একই দিন নামাজে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, হাসপাতালে একজন ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে থানায় কেউ অবগত করেনি।

কৃষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রাঙ্গুনিয়ায় ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি মেলা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইমরুল কায়েস জানান, ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলায় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন কৃষি উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে।

এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ “ক্লাইমেট স্মার্ট স্কুল অ্যান্ড ক্লাব কর্নার”, যেখানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য জলবায়ু সহনশীল কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (ডিএই পার্ট)।

আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ মেলা কৃষকদের মধ্যে আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও টেকসই করতে সহায়ক হবে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিককে হেনস্তা, বহিষ্কার যুবদল নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট: পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক সময়ের আলো’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ও রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য জাহেদুল ইসলাম আরিফকে শারীরিক হেনস্তা ও অসদাচরণের অভিযোগে যুবদল নেতা কাজী জুয়েলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি ঢাকার মুগদা থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বুধবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

​ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৭ জুন বিকাল ৪টায় রাজনৈতিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন দৈনিক সময়ের আলোর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জাহেদুল ইসলাম আরিফ। দায়িত্ব পালনকালেই মুগদা থানার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী জুয়েল ওই গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চড়াও হন এবং পেশীশক্তি প্রদর্শনপূর্বক তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা ও অসদাচরণ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অন্যায়ভাবে পেশিশক্তি প্রদর্শন ও অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কাজী জুয়েলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করেছেন।

দ্রুত এ পদক্ষেপ নেওয়ায় যুবদল নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হেনস্তার শিকার সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম আরিফ। তিনি জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটার পরপরই তিনি কেন্দ্রীয় যুবদল নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেন।

তিনি আরও জানান, তারা বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিশৃঙ্খলাকারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণকারীদের বিরুদ্ধে যুবদল যে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে বিশ্বাসী, এই দ্রুত সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।

 

মাসুদ হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা জানালেন হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

পোস্টে হুমাম কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পোস্টে নিহত মাসুদুল হক চৌধুরীকে বেতাগী ইউনিয়নের পরিচিত মুখ উল্লেখ করে হুমাম কাদের বলেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাসুদুল হক চৌধুরী তার বাবা মরহুম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন।

গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় সশস্ত্র হামলায় নিহত হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। এ ঘটনায় রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলনমেলা, শান্তিপূর্ণভাবে খেলা উপভোগের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আর্জেন্টিনা ফুটবল সমর্থকদের মিলনমেলা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির দেশ আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেক কেটে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। এসময় শতশত আর্জেন্টিনা সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের হরিণ গেইট পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা আবারও বিজয় অর্জন করবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। তবে খেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা কটুক্তি করা যাবে না। ব্রাজিলসহ অন্যান্য দলের সমর্থকদের প্রতিও সম্মান দেখিয়ে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে খেলা উপভোগ করেন।”

তিনি আরও বলেন, “খেলা আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়। সেই শিক্ষা বাস্তব জীবনেও অনুসরণ করা উচিত। সবাই যেন নেশা ও জুয়া থেকে দূরে থাকি।” এসময় তিনি উপস্থিত ভক্তদের হাত উঁচিয়ে নেশা ও জুয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, “মেসির মতো খেলোয়াড়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক। আগের প্রজন্ম যেমন ম্যারাডোনার ভক্ত ছিলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মেসিকে অনুসরণ করেই আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছেন।”

আয়োজকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এ আয়োজনে অংশ নেন। তরুণ সমাজকে মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুন রাঙ্গুনিয়ায় ব্রাজিল ফুটবল সমর্থকদের উদ্যোগে ‘ফ্যান গেট-টুগেদার ২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী মিলনমেলা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ড্রিম রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে নিবন্ধিত ব্রাজিল সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খ্রিস্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন সিকদার ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানসহ আরও অনেকে।

দিনব্যাপী আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ম্যাচ প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ, মিনি গেমস ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতেই এ আয়োজন করা হয়েছিল।

রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা, আসামি ১৯

চট্টগ্রাম : রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) হত্যা ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এর আগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানোর সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান মাসুদুল হক। এরপর হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রথম দফায় গুলি চালিয়ে চলে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসে তাকে গুলি করা হয়। পরে হামলাকারীরা অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন। তাঁর হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, জননিরাপত্তায় সমন্বিত কাজের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা সোমবার (১৫ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আক্তার, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শওকত আলী নুর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল শাহ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরীসহ কমিটির আরও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাদক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাম পুলিশের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়।

এ সময় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সচেতন মহলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সভা শেষে সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীর স্মরণে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সময় তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

রাঙ্গুনিয়ার সেই যুবদল নেতার জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, খুনিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে। শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন উপস্থিত অনেকে।

রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের নিজ এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দুপুরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষেরও সমাগম ঘটে।

জানাজার আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এ সময় তারা মরহুমের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা বলেন, “মাসুদ দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যু দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”

তারা আরও বলেন, “দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও যদি একজন যুবদল নেতা প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন, তাহলে সাধারণ নেতাকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়বেন।”

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বক্তারা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের শনাক্ত করা গেলেও ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ সময় তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা মো. মাকসুদুল হক চৌধুরী ওরফে মাসুদকে (৪৫)। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মরহুম খালেক চৌধুরীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ধারণা, বালু ব্যবসা ও দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

মাসুদকে গুলি করার খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সময় মাসুদ চৌমুহনী বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সিএনজি অটোরিকশাযোগে আসা চার থেকে পাঁচজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এর আগে, হত্যার খবর মুহূর্তেই রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। কাপ্তাই আঞ্চলিক সড়কের রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এবং রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। দুপুরের পর থেকে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে মানবিক কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। পরে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

নিহত মাসুদের ভাই ও বেতাগী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।”

উল্লেখ্য, ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ সময় নিহতের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনিও।

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা: জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে এসপির আশ্বাস

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশ্বাস দেন।

এসপি মো. মাসুদ আলম জানান, রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ চৌধুরীকে প্রকাশ্যে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ, র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ কী, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কেন এটি ঘটানো হয়েছে—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কিছুটা সময় লাগলেও জড়িতরা যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ সুপার জানান, যেভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে তদন্ত কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে।

শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫)। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপনের ভাই এবং মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যা: রাঙ্গুনিয়াজুড়ে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় রাঙ্গুনিয়াজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড সৃষ্টি করে সড়ক অবরোধ করেন যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

নিহত মাসুদ চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপনের ভাই বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরের দিকে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাঙ্গুনিয়া–কাপ্তাই সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন নেতা-কর্মীরা। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।

সড়ক অবরোধের কারণে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাসুদ চৌধুরীকে মাথায় গুলি করা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে আছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”

রাঙ্গুনিয়ায় বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় “মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে উপজেলার ১৬টি স্কুল ও ৪টি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, প্রযুক্তি ও নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে মোট ২০টি স্টল স্থান পায়। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ও সৃজনশীল উদ্যোগে পুরো আয়োজন মুখর হয়ে ওঠে।

প্রদর্শনী শেষে সেরা প্রযুক্তি প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে রাঙ্গুনিয়া খীলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অতিথিরা পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেন।

বিকেলে প্রদর্শনীর স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের প্রকল্প উপস্থাপন করেন।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার (শিক্ষা) সুমন শর্মা।

শিক্ষক হারুন সিকদারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহেল, তানহা সুলতানা, অসীম কুমার শীল, পরম কান্তি দাশ এবং নাছির উদ্দিন সিকদার।

বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের প্রাণবন্ত আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং উদ্ভাবনী মনোভাব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৩ জন উপকারভোগীর মাঝে ভ্যানগাড়ি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজসেবা পরিষদের সহায়তায় ৪ জন উপকারভোগীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাসান, রাজনীতিবিদ ইউসুফ চৌধুরী, ইউসুফ কামাল চৌধুরী প্রমুখ।

রাঙ্গুনিয়ায় গণশুনানিতে মিলছে সমাধান, বাড়ছে মানুষের আস্থা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিদিনই জমিজমা বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে সেবাপ্রার্থীরা উপস্থিত হন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তবে সপ্তাহের প্রতি বুধবার উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে যুক্ত হয় বিশেষ একটি মাত্রা। এদিন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জটিল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গণশুনানির আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগেই নোটিশের মাধ্যমে উপস্থিত করা হয় এবং তাদের বক্তব্য, নথিপত্র ও আইনগত দিক বিবেচনা করে বিরোধের গ্রহণযোগ্য সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই শুনানিতে আলোচনার মাধ্যমে অনেক দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হচ্ছে বলে জানা গেছে। আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমস্যা নিষ্পত্তির সুযোগ পাওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

শুনানিতে প্রতিটি পক্ষকে সমানভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামতও নেওয়া হয়। আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়, যাতে কেউ বঞ্চিত না হন এবং বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত গণশুনানির দিন প্রতি বুধবার হলেও মানুষ প্রতিদিনই বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসেন। আমরা প্রতিদিনই মানুষের কথা শুনি, তাদের সমস্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে যেসব বিষয় তুলনামূলক বড়, জটিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেগুলো বুধবারের গণশুনানিতে আনা হয়।

এসব বিষয়ে আমরা একটি টিম গঠন করি। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে টেবিল ওয়ার্ক করা হয়। তাদের বক্তব্য, নথিপত্র ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে যার যেভাবে প্রতিকারের ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেভাবেই সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কোনো বিষয় উপজেলা পর্যায়ে সমাধানযোগ্য না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রেফার করা হয়। আবার কোনো বিষয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হলে সেটি জেলায় পাঠানো হয়। যেসব বিষয় স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ায় একটি বড় বিরোধের সফল সমাধান হয়েছে জানিয়ে ইউএনও বলেন, “স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া এলাকার একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে। এছাড়া হোছনাবাদ ইউনিয়নের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানেও আমরা কাজ করছি। বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হলেও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন যখন সরাসরি জনগণের কথা শোনে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করে, তখন জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা সমস্যাও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছে।

জনসেবাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের এই বিশেষ গণশুনানি কার্যক্রমকে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রতি বুধবারের এই আয়োজন কেবল বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম নয়, বরং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও সুশাসনের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ (দফাদার ও মহল্লাদার) পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শূন্য পদ পূরণের জন্য আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দফাদার ও মহল্লাদার পদে মোট ২৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আগামী ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, শর্তাবলি, পদভিত্তিক শূন্যপদের সংখ্যা এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত মূল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

📄 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ তথ্য দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

সূত্র: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

ক্যান্সারে আক্রান্ত রাসু বসাকের চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার আবেদন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার উত্তর পদুয়া এলাকার সুখবিলাস সিকদার পাড়ার বাসিন্দা ও সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রাসু বসাক (৩৭) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যয়বহুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় পরিবার ও স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের কাছে মানবিক সহায়তা কামনা করেছেন। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা বিন্দু বসাকের ছেলে।

ভুক্তভোগীর মামাতো ভাই, শিক্ষক জুয়েল কান্তি দে জানান, শুরুতে খাওয়ার সময় দাঁতের ভেতরে একটি পাথর ঢুকে যাওয়ার পর সেখানে সংক্রমণ (ইনফেকশন) দেখা দেয়। পরে চিকিৎসা গ্রহণ করা হলেও সংক্রমণ পুরোপুরি নিরাময় হয়নি এবং বারবার সমস্যা দেখা দিতে থাকে। প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় ও পরিবারের সহযোগিতায় ঢাকায় তার একটি ব্যায়বহুল অপারেশন করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্যানসারের কোনো লক্ষণ ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে অপারেশন স্থল থেকে অস্বাভাবিকভাবে মাংস বেরিয়ে আসলে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন ক্যানসার শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় উন্নত ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য তাকে বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ভুক্তভোগী রাসু বসাক বলেন, “প্রায় ১৫–১৬ বছর আগে নাস্তা করার সময় দাঁতের মাড়ির ভেতরে পাথর ঢুকে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিই। কিছুদিন পর সেখানে ইনফেকশন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে স্থানীয় চিকিৎসক ও হোমিও চিকিৎসা চালিয়ে যাই। আর্থিক সংকটের কারণে বড় কোনো চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে ক্ষতস্থানে বড় জটিলতা দেখা দেয় এবং মাংস ফুলে বাড়তে থাকে। তখন পরিবার ও আত্মীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসা শুরু করি। পরে অপারেশন করে কিছু অংশ অপসারণ করা হলেও আবার কানের নিচে সমস্যা দেখা দেয়। শুরুতে বায়োপসি রিপোর্ট ভালো আসলেও পরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসকরা বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাসু বসাক চার ভাইয়ের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকি ভাইয়েরা কেউই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। রাসু স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা শেষে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন এবং একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন।

চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা সমাজের হৃদয়বান মানুষ, স্থানীয় বিত্তবান ব্যক্তি এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগী রাসু বসাক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত, আমি বাঁচতে চাই। আমার চিকিৎসায় সবাই এগিয়ে আসুন।”

সহযোগিতা পাঠানো যাবে বিকাশ নম্বরে: ০১৮৫৯-২০৭৪৮১ (মামাতো ভাই)
যোগাযোগ (ভুক্তভোগী): ০১৮২৭-৪৯৮৫৩৭

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সহায়তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো সিএনজি চালক মুহাম্মদ আব্দুল করিমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

গত শনিবার (৬ জুন) বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে গোয়ালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে আব্দুল করিমের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এ অগ্নিকাণ্ডে গাভী-বাছুরসহ ঘরের সব আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। প্রাথমিক হিসেবে এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তারা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে টিন ও খাদ্যসামগ্রী (চাউল) প্রদান করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহ আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, আগুনে পরিবারের এক শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগ ও বইপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুতই তার শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) সকালে ইসলামী ফ্রন্ট রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট এম ইকবাল হাছানের নির্দেশনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা উত্তর শাখার নেতাকর্মীরা।

তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং নগদ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট ও যুবসেনার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, ক্ষতির পরিমাণ অপূরণীয় হলেও আমরা প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার চেষ্টা করবো। সমাজের বিত্তবানদেরও এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।

স্থানীয়রা জানান, আগুনে পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়েছে। পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।

 

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষক প্রদীপ সাহার মৃত্যুতে শোকের ছায়া

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক মাস্টার প্রদীপ সাহা আর নেই। তিনি রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। এলাকাবাসীর মতে, তিনি একজন আদর্শ, সৎ ও মানবিক শিক্ষক ছিলেন।

তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

শাহেদুল ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, “আপনাকে নিয়ে স্কুল জীবনে অনেক স্মৃতি জমে আছে স্যার। হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আমাদের প্রিয় স্যার বাবু প্রদীপ সাহা এই মায়ার জগৎ ছেড়ে চলে গেছেন। সবাই তাঁর জন্য প্রার্থনা করবেন। আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।”

মুসাফির ইয়াকুব নামের আরেকজন লিখেন, “লালানগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বাবু প্রদীপ সাহার মৃত্যুতে পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।”

মুহাম্মদ ফারুক লিখেন, “অত্যন্ত বেদনার সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রদীপ সাহা আর নেই। তিনি শুধু শিক্ষক নন, জীবন গড়ার দিশারী ছিলেন। তাঁর দেখানো পথেই আমরা চলবো। তিনি সবসময় হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

স্থানীয়রা জানান, প্রদীপ সাহা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শ শিক্ষক। শিক্ষা বিস্তার ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় এক শিক্ষকের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৭ জুন) গ্রেপ্তারকৃত মো. রকিবুল ইসলাম প্রকাশ রকি (২৬)-কে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর সিকদার চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদী হরিহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস (৫৪) অভিযোগ করেন, একদল দুর্বৃত্ত তার বসতবাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাকে, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করে। পরে ঘরে থাকা প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৯ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. রকিবুল ইসলাম প্রকাশ রকি (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

‘ত্যাগীরা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি’ — এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ত্যাগীরা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ঢেমিরছড়া ফলাহাজীর বাড়ি প্রাঙ্গণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য। কিছু কড়া কথা বলব, মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। আমরা যখন কোনো কর্মসূচি করি, তখন মঞ্চে কে উঠবে, কে বসবে, কার আগে কে বক্তব্য রাখবে—এসব নিয়ে অনেক সময় ধাক্কাধাক্কি ও প্রতিযোগিতা দেখা যায়। নেতার পাশে বা পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়, যা মোটেও ভালো বিষয় নয়।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকের ধারণা হয়ে গেছে, নেতার সঙ্গে ছবি তুলতে পারলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।”

মঞ্চে উপস্থিত দুই নেতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমার পাশে বসা এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছেন। একজন ২০০৮–০৯ সালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, অন্যজন বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী দলের আহ্বায়ক। তারা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি। বহু কষ্ট করেছেন, জেল খেটেছেন, মামলার শিকার হয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠে থেকে দলকে ধরে রেখেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমের পর যখন কেউ নেতৃত্বের পর্যায়ে আসেন, তখন তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। মঞ্চে কাকে আগে ডাকা হবে, কে কখন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন—এসবও সম্মানের অংশ। ছোট ছোট ভুল থেকে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তবে এসব বিষয়ে সচেতনতা ও সংশোধনের মাধ্যমেই দলের সাংগঠনিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলে কারা যুক্ত হবে এবং কীভাবে ভালো মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়—সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর যারা দলের সঙ্গে ছিলেন না, তারাও এখন বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবির জন্য চেষ্টা করছেন। তবে মানুষ চেনার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাত দুইটা, তিনটা কিংবা চারটার সময়ও অনেকেই আমাকে ভিডিও পাঠান। নদীতে ড্রেজার চলছে। এসব ড্রেজার বন্ধ করা এবং আটকানোর দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনারা যদি সেগুলো আটকাতে পারেন, তাহলে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের দায়িত্ব আমাদের।”

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, আমাকে নির্বাচিত করলে আপনারা টেনশনমুক্ত ঘুমাতে পারবেন। এলাকার সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে। সেই কাজ শুরু হয়েছে, তবে এখনো শেষ হয়নি।” এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, তারা সবাই একটি পরিবারের সদস্য। ঐক্যবদ্ধ থেকেই রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. খালেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগঠক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ইসহাক। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আজম খান, সাবেক আহ্বায়ক লায়ন শওকত আলী নূর, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. হারুন।

সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপি নেতা আহমদ বশর, নুরুল আলম, নিজামুল হক চৌধুরী তপন, সোলেমান কালু, মো. ইলিয়াসসহ স্থানীয় নেতারা।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জিয়ার ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্নে উঠে আসে একজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নে একজন সৎ, মিতব্যয়ী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শুক্রবার সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগঠক মোহাম্মদ ইসহাকের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. খালেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ হারুন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম।

বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাধারণ জীবনযাপন ও সততা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। কাজীর দেউড়ির জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সেই জীবনাচরণের বাস্তব সাক্ষ্য বহন করে।

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি হয়েও জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে মিতব্যয়ী ছিলেন। রাষ্ট্রীয় উপঢৌকন নিজের কাছে না রেখে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতেন। ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল। তাঁর ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখলেই একজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের জীবনাদর্শ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার পর তিনি দেশের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দলের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভিমানে আত্মহত্যার প্রাথমিক ধারণা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়াখিল মোগল এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমাউল হুসনা (১৫) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার ১৫ নম্বর লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাজারহাট–আলমশাহ পাড়া সড়ক সংলগ্ন ঘাগড়াকুল ব্রিজের পাশে অবস্থিত ইউনুচ ম্যানশন নামের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসমাউল হুসনা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জঙ্গল পারুয়া এলাকায়। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে লালানগর ইউনিয়নের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কারণে মঙ্গলবার রাতে মেয়েকে বকাঝকা ও শাসন করেন তার মা। বুধবার সকালে মা-বাবা আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তাদের অনুপস্থিতিতে বাসার একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ক্রিকেট ম্যাচে হুমামকে হারিয়ে সামানজারের জয়, সম্মাননা পেল সাহসী চার কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল কর্ণফুলী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা সেই চার সাহসী কিশোরকে সম্মাননা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্মাননা তুলে দেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সহমর্মিতা জানিয়ে নগদ অর্থ, টিন ও শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সাহসী চার কিশোরকে জড়িয়ে ধরে তাদের মানবিক ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া শিশু ও তার অভিভাবকদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একে এস খান হোল্ডিংস ও একে এস খান হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ফাইনালে অংশ নেওয়া পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ ও সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী পর্বে হুমাম কাদের চৌধুরীর করা বলে ব্যাট চালিয়ে প্রতীকী উদ্বোধন করেন সামানজার খান।

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ। খেলায় পৌরসভা দলের সমর্থনে ছিলেন সামানজার খান, আর সরফভাটা ইউনিয়ন দলের পক্ষে সমর্থন জানান এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত হুমামের সমর্থিত দলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় সামানজারের সমর্থিত দল।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্ধারকাজে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোর— মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী, সামানজার খান এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে টিন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে অনুষ্ঠানের স্মারক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হুমাম কাদের চৌধুরী ও সম্মানিত অতিথি সামানজার খানের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ইউএনও মো. নাজমুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি ভাবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন ক্রীড়াপ্রেমী এবং আরাফাত রহমান খোকো জীবিত থাকাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সেই চিন্তা থেকেই শত ব্যস্ততার মাঝেও এ আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের এবং উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নিজস্ব মাঠ না থাকা সত্ত্বেও সরফভাটা ইউনিয়ন দল ফাইনালে পৌঁছেছে, যা প্রশংসনীয়। সরফভাটায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় ক্রিকেট ও ফুটবল দলে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব দেখতে চান বলেও জানান তিনি। খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগের জন্য আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের টিকিটের ব্যবস্থা করবেন তিনি। পরে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।