লকডাউনের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

রাঙ্গুনিয়া: আওয়ামী লীগ ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচির প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউনের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে এবং বিভিন্নভাবে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে। শান্ত বাংলাদেশকে অশান্ত করতে এসব করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা বলেন, এসব ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

অন্যদিকে, গতকাল রাতে লকডাউনের প্রতিবাদে একটি মশাল মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পর উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের মোগলেরহাট বাজার এলাকায় এ মশাল মিছিলটি বের করে হোসনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

ছোট্ট আরাফের বিজয়ের সিগন্যাল থেমে গেছে চিরতরে

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় কাজী তাইমিম মুহাম্মদ আরাফ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নেজামশাহ পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফ ওই এলাকার কাজী মুহাম্মদ এসকান্দরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল আরাফ। এসময় বিয়েবাড়িতে আসা একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হয় সে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছবিতে সানগ্লাস পরা ছোট্ট আরাফের আঙুলে তোলা “বিজয়ের সিগন্যাল” যেন এখন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। মাত্র সাত বছরের প্রাণচঞ্চল এই শিশুটি আর কোনোদিন সেই হাসি, সেই সিগন্যাল তুলবে না—থেমে গেছে তার শৈশবের সব খেলা, সব উচ্ছ্বাস। তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

চট্টগ্রামে আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের ১০০ কোটি টাকার সহায়তার ঘোষণা

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখন চট্টগ্রামে নিরাশ্রয় ও অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি লন্ডনের চট্টগ্রাম সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে মেয়র এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বহু স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনা থাকলেও প্রবীণদের জন্য নিবেদিত কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা ডেডিকেটেড হেলথ কেয়ার সেন্টার এখনো গড়ে ওঠেনি।

মেয়রের এই মানবিক আহ্বানে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ হয় এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ প্রেক্ষিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ৪০ শতক জমি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের যৌথ উদ্যোগে একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম ও হেলথ কেয়ার সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার ফান্ড রেইজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি চট্টগ্রামের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে একটি যুগান্তকারী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মেয়র মন্তব্য করেছেন।

মেয়র আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের এই উদ্যোগ শুধু প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীরই নয়, বরং সমগ্র চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি গৌরবের বিষয় হয়ে উঠবে।

সূত্র: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ
প্রকাশের তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৫

 

রাজনীতি নাম বড় করার জন্য নয়, সেবার জন্য: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “রাজনীতি নাম বড় করার জন্য নয়, এলাকার মানুষের খেদমতের জন্য রাজনীতি। যেটা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী করেছেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি রাস্তা, ব্রিজ ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন শুধু মানুষের কল্যাণের জন্য, কখনো নিজের নাম প্রচারের জন্য এসব করেননি।”

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার পারুয়া জিয়াউল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আজকে পারুয়ায় আসার পথে মনে কষ্ট লাগলো, এখনো এমন এলাকা আছে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, রাস্তা এত ভাঙা যে গাড়ি চলাচলই সম্ভব নয়। ২০২৫ সালে এসেও এই বাস্তবতা কল্পনাতীত। তাই আমার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম দুই প্রতিশ্রুতি হবে— বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও রাস্তা মেরামত করা। এই দুটি কাজ হয়ে গেলে আমি বিশ্বাস করি, পারুয়ায় এমন কোনো মানুষ থাকবে না যে ধানের শীষে ভোট দেবে না।”

হুমাম কাদের আরও বলেন, “আমার বাবা বলতেন, নির্বাচন এলেই অনেকে লম্বা লিস্টে ইশতেহার দেয়, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করে না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, পারুয়া এলাকার এই রাস্তার কাজ ইনশাআল্লাহ আমি করে দেব। এটা রাজনৈতিক কারণে নয়, মনে হয় এই কাজটি করলে আমার বাবার আত্মাও শান্তি পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগের মতো নোংরা রাজনীতি ও কাদা ছোড়াছুড়ির দিন শেষ। এ নির্বাচন হবে একটি পরিবর্তনের নির্বাচন— চোর-ডাকাতের রাজনীতির অবসান ঘটাবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তিনি অসুস্থ হয়েও তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন শুধুমাত্র নেতাকর্মীদের সাহস দিতে এবং দেশবাসীকে জানাতে যে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি দেশের জন্য লড়বেন।”

নিজের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে হুমাম কাদের বলেন, “বাবাকে হারানোর পর সবাই বলেছিল রাজনীতি ছেড়ে বিদেশ চলে যেতে। কিন্তু আমি ভেবেছি, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লাখো ভাই-বোনদের আমি একা ফেলে যেতে পারি না। ওমরাহ থেকে দেশে ফিরে আমি গুম হয়েছি, সাত মাস আয়না ঘরে ছিলাম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি— তবু রাজনীতি ছাড়িনি। তারেক রহমান আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি রাজনীতি করো বা না করো, আমি তোমার পাশে আছি।’ সেই সাহসেই আজ আবার মাঠে নেমেছি।”

এর আগে তিনি পারুয়া সাহাব্দিনগর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং মধ্যম পারুয়া হযরত নিজাম উদ্দিন শাহ (রহ.) মাজারে জিয়ারত করেন।

এসময় উপজেলা, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তথ্য বিকৃতি, মিসকোটিং-এর মহামারি চলছে: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তথ্য বিকৃতি ও মিসকোটিংয়ের (ভুল উদ্ধৃতি) মহামারি চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে মিসকোট করার প্রবণতা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এমন এক অপরাধ যার কারণে সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রধান এবং এর শীর্ষ সাংবাদিকের একজনকে চাকরি হারাতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমনকি সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় নামগুলিও এই অপরাধে দোষী।

কয়েকদিন আগে, দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক এক পাবলিক ইভেন্টে দেওয়া আমার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশ মিসকোট করেছে। প্রতিবেদনটি পড়তে গিয়ে আমার মনে হলো, প্রতিবেদক সম্ভবত আমার বক্তব্যের অডিও কোনো এআই ট্রান্সক্রিপশন টুলের মাধ্যমে লিখিত আকারে প্রকাশ করেছেন। এর ফলে যা বেরিয়েছে তা ছিল একগাদা যান্ত্রিকভাবে লেখা আজগুবি বাক্য। এর কিছু অংশ মজার মনে হলেও সামগ্রিকভাবে ভীষণ হতাশাজনক। যেমন- আমি যখন “Touch” শব্দটি বলছিলাম, সফটওয়্যারটি সম্ভবত শুনেছিল “Kaaz” (কাজ)। ফলে, ওই প্রতিবেদনে ছাপা হয়েছে “কাজ।”

সমস্যাটা এখানেই শেষ হয়নি। ওই প্রতিবেদন কপি-পেস্ট করে বেশ কিছু অনলাইন পোর্টাল একই ভুল অক্ষরে অক্ষরে পুনরুত্পাদন করেছে। আমার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে। নতুন চাকরির প্রথম কয়েক মাসে আমি সম্পাদক ও প্রতিবেদকদের ফোন করে সংশোধনের দাবি জানাতাম। এখন আর সে চেষ্টা করি না। সত্যি বলতে, আমার সেই সময় নাই।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ফটোকার্ড। প্রতিদিনই সংবাদপত্রগুলো- বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন এবং বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের দ্বারা প্রভাবিত কালের কণ্ঠ, টিভি স্টেশন এবং ওয়েবসাইটগুলো বিতর্কিত বিশ্লেষক বা পাবলিক ফিগারদের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে এই গ্রাফিক স্নিপেট তৈরি করছে।

তারা বক্তব্য থেকে এক-দুই লাইন চেরি পিক করে, তারপর প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে তাদের বেছে নেয়া এক-দুই লাইনকেই চমকপ্রদ শিরোনামে পরিণত করে। সম্প্রতি আমি সিরডাপে ২৭ মিনিটের একটি বক্তৃতা দিয়েছিলাম। সেখান থেকে মাত্র একটি লাইন তুলে নিয়ে তারা প্রতিবেদন বানিয়েছে—যার ফলে আমার বক্তব্যের আসল বার্তাটাই বিকৃত হয়ে গেছে।

টেলিভিশন বিশ্লেষক ও ইউটিউবারদের অবস্থা আরও করুণ। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়েন না, পুরো বক্তব্যও শোনেন না। বরং আগে থেকে তৈরি নিজস্ব ধ্যান-ধারণার সঙ্গে কিছু সত্য আর অসংখ্য মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে মানুষের কাছে উপস্থাপন করেন। প্রতিদিনই কিছু ইউটিউবার দীর্ঘ মনোলগ আকারে ভুল তথ্যভরা ভিডিও প্রকাশ করছে। তাদের যথাযথ গবেষণা নেই, এমনকি প্রশিক্ষিত ফ্যাক্ট-চেকার বা গবেষকদের সাহায্যও তারা নেন না। এর ফলাফল হলো- অবিরাম মিথ্যা তথ্যের বিস্তার।

তাদের কিছু দাবি আবার আশ্চর্যজনকভাবে সাহসী। এক নারী ইউটিউবার দাবি করেছিলেন, প্রফেসর ইউনুস ও তাঁর কন্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার ছবিটি নাকি “ম্যানিপুলেটেড” (নকল)। অথচ ছবিটি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল।

তিনি যখন এই দাবি করেছিলেন তখনও আমরা নিউইয়র্কে ছিলাম। তিনি মূলত বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের একটি অফিসিয়াল ছবি বিকৃত করার অভিযোগ এনেছিলেন। কী হাস্যকর! আমি এ বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করলে তাঁর স্বামী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক, তার পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাসিনার আমলে ওর কোনো ছবি নিয়ে এই দম্পতি এমন কিছু করার কথা ভাবতে পারতেন!

কয়েকদিন আগে, নিজেকে “স্পষ্টভাষী” সাংবাদিক বলে পরিচয় দেওয়া আনিস আলমগীর দাবি করেছেন যে জুলাই আন্দোলনের সময় প্রফেসর ইউনুস বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করার জন্য পিআর এজেন্সিগুলোকে “কোটি টাকার”ও বেশি অর্থ দিয়েছেন।

তিনি সম্ভবত দাবি করছেন যে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ইমেইল সাক্ষাৎকারগুলো, যার সত্যতা নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে, স্বতঃস্ফূর্ত এবং আনপেইড ছিল। একজন গণহত্যাকারী কোনো পিআর প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই এরকম ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার আয়োজন করছে এই দাবি হাস্যকর।

স্পষ্টভাবে বলে রাখি, প্রফেসর ইউনুস কখনো এক পয়সাও কোনো পিআর এজেন্সিতে দিয়ে কোনো ধরনের সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেননি। যদি আনিস আলমগীরের কাছে এই বক্তব্যের কোনো প্রমাণ থাকে, তার উচিত সেটা উপস্থাপন করা। কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি জামায়াত কর্মীও একই অভিযোগ করেছিলেন। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। তিনি রিজয়েন্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা এখনো আসেনি।

আজকের কাগজ থেকে উঠে আসা আনিস আলমগীর, এমন এক প্রজন্মের সাংবাদিকদের অংশ যাদের কখনো যথাযথ সূত্র বা রেফারেন্সের প্রতি বেশি যত্ন ছিল না। তার সবচেয়ে স্মরণীয় কাজ বাগদাদের একটি হোটেল রুম থেকে ইরাক যুদ্ধের “কভার” করা, হোটেল থেকে বের না হয়েই যুদ্ধ নিয়ে রূপকথার গল্প লেখা।

গতকাল বিবিসির শীর্ষ সম্পাদক ও একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য মিসকোট করার জন্য পদত্যাগ করলে এটি বিশ্বব্যাপী শিরোনামে আসে। বাংলাদেশে পাবলিক ফিগারদের মিসকোট করা অথবা প্রেক্ষাপটের বাইরে বক্তব্যের এক-দুই লাইনকে হাইলাইট করা নিত্যদিনের ঘটনা। আর আপনি যদি এর প্রতিবাদ করেন, তাহলে তারা “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার” দোহাই দিয়ে কেটে পড়বে। তারা উল্টো অভিযোগ করবে যে, আপনি তাদের ভয় দেখাচ্ছেন, আপনি অসহিষ্ণু এবং আপনাকে আওয়ামী লীগের রাস্তার গুন্ডাদের সাথে তুলনা করবে।

এই হলো আমাদের গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা—দায়িত্বহীন, জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে এবং সত্য থেকে বহু দূরে।

সূত্র: অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ

লন্ডন সফরের সময় চসিকের প্রশাসনিক তদারকিতে সচিব আশরাফুল আমিন: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

 


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, তাঁর লন্ডন সফরকালীন সময়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন।

 

রোববার লন্ডন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, তাঁর লন্ডন সফরের সম্পূর্ণ খরচ ব্যক্তিগতভাবে বহন করা হচ্ছে। এর আগে কানাডার টরন্টো সফরের খরচও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন।

বিবৃতিতে মেয়র স্পষ্ট করেন, সরকার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, কোনো ঠিকাদার বা তৃতীয় পক্ষ এই সফরের অর্থায়ন করছে না।

এছাড়া, মেয়র জানান, প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও তিনি প্রায়ই সিটি কর্পোরেশনের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন। তবে এসব দিনে তিনি চসিকের গাড়ি বা জ্বালানি ব্যবহার করেন না; বরং নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার করেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

সুত্র : চসিক ও মেয়রের ফেসবুক।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের লিচুবাগান এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়ন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। ৫ তারিখের পর থেকে চন্দ্রঘোনা লিচুবাগানে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে জড়িত, তারা বিএনপির কেউ নন। বিএনপি সাধারণ মানুষের দল, শান্তিপ্রিয় মানুষের দল। বিএনপি কোনো চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না।”

বক্তারা আরও বলেন, “আজ থেকে চন্দ্রঘোনায় কোনো মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলবে না। কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি বা হস্তক্ষেপ করা হবে না। আমরা সবাই মিলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব।”

তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “চন্দ্রঘোনায় যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনে।”

বক্তারা আরও জানান, “আমাদের নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশ অনুযায়ী চন্দ্রঘোনায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন, বিএনপি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।”

মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন ১০ নভেম্বরের পর গ্রহণ হবে না

ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন আগামী ১০ নভেম্বরের পর গ্রহণ করা হবে না। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এ তথ্য জানায়।

নির্বাচন কমিশনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে ভোটার ঠিকানা স্থানান্তর করতে চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। জেলা ও উপজেলা নিবন্ধন কর্মকর্তারা প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের শুরুতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সম্ভাব্য নির্বাচনের সময় ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোবাইল কোর্ট: পাটজাত বস্তা ব্যবহার না করায় ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শান্তির হাট বাজারে পাটজাত বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার এবং স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা চাল অন্য জেলার নামে প্যাকেজিং করার দায়ে ৫টি চালের আড়ত ও অটো রাইস মিলকে সর্বমোট ৬৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাট অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক বাবুল চন্দ্র দাস।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে দেখা যায় শান্তির হাট বাজারে বেশ কয়েকটি চালের আড়ত ও মিল পাটজাত বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা চাল বিভিন্ন জেলার (দিনাজপুর, নওগাঁ ইত্যাদি) নাম ব্যবহার করে প্যাকেজিং করা হচ্ছিল। এসব অনিয়মের দায়ে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম প্রশাসনকে সহযোগিতা করে।

রাঙ্গুনিয়ায় জিয়ার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে হুম্মামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে  ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার জিয়ারত শেষে কাদের নগরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা ফারহাদ কাদের চৌধুরীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

মাজার জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীরা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ রাঙ্গুনিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। রাঙ্গুনিয়ার সকল শ্রেণীর মানুষ আজ এক কাতারে দাঁড়িয়ে বলেছে— তারা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আবার চায়। আমাদের ভাগ্য খারাপ, তিনি আজ এই দিনটি দেখতে পারছেন না। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই— যতদিন বেঁচে আছি, মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দেখানো পথেই আমি ইনশাআল্লাহ চলব।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল রাতে বিএনপির বেশ কিছু প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার পক্ষে আমারও নাম এসেছে। আজ থেকে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হলো। আমাদের ঐতিহাসিক রাঙ্গুনিয়ায়, যেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার রয়েছে, সেই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় অনেক নেতা আছেন, আগে আমাদের মধ্যে কিছু মতভেদ ছিল। তবে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশে এখন আর কোনো গ্রুপিং নেই। আমরা সবাই ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে কাজ করব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ভেবেছিলাম তারেক রহমানের সঙ্গে সংসদে যাব, কিন্তু আল্লাহর লিখন ভিন্ন ছিল। আজ আমার সৌভাগ্য হবে— রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সাহেবের পাশাপাশি সংসদে বসার।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, আপনাদের কাছে একটা দায়িত্ব দিলাম রাঙ্গুনিয়ার যতগুলো মানুষ আছে তাদের কাছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ হতে, তারেক রহমানের পক্ষ হতে সালাম পৌঁছে দিবেন।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা সভায় বিএনপি নেতা ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতি, জনমনে সম্প্রীতির প্রত্যাশা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের খণ্ডলিয়াপাড়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় বিএনপি নেতা ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতি জনমনে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে ভিন্ন সময়ে সভায় যোগ দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

বিকেলে স্থানীয় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি (হুম্মাম কাদের চৌধুরী) মাদ্রাসার সভায় অংশ নেন এবং বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা—দোয়া করবেন যেন ঈমানের সঙ্গে বাঁচতে ও মৃত্যু বরণ করতে পারি। আমার বাবা আপনাদের মাঝে নিয়মিত আসতেন, দোয়া চাইতেন। আশা করছি, সেই দোয়া ও ভালোবাসা আমিও পাব।”

তিনি আরও বলেন, “সামনে নির্বাচন আছে, কী হবে জানি না, তবে চেষ্টা করব আপনাদের পাশে থাকতে। আপনাদের দোয়া নিয়েই যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে।”

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম সভায় বক্তব্যে বলেন, “এই মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ অনেক আলেম-ওলামা দেশে-বিদেশে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছেন। কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদান পায় না, তবুও ইসলামী শিক্ষার মূল শক্তি তৈরি করছে।”

তিনি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আবদুল গণি    ও বর্তমান পরিচালক মাওলানা সুলতান আহমেদ-এর জন্য দোয়া করেন এবং বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানসহ দেশের হাজারো মাদ্রাসা মানুষের দান ও অনুদানে চলছে। আমাদের সবার উচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানো।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক জাগদল নেতা, বৃহত্তর রাজানগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী এমএন আলম। তিনিও মাদ্রাসার সাফল্য কামনা করেন।

সভা শেষে মাদ্রাসা মিলনায়তনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কৌশল বিনিময় হয় বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, দুই দিনব্যাপী এই বার্ষিক সভার সমাপ্তি হচ্ছে আজ শনিবার। গতকাল থেকে শুরু হওয়া সভায় বিভিন্ন অঞ্চলের খ্যাতনামা আলেম-ওলামারা ইসলামী আলোচনা করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় পুকুরে ডুবে এক সপ্তাহে ৫ শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পুকুরে ডুবে একের পর এক শিশু মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে গেছে পানিতে। সর্বশেষ বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের মহাজন বাড়ি এলাকায় পুকুরে ডুবে মারা গেছে সম্পূর্না সাহা মিমি (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী।

নিহত মিমি স্থানীয় দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুশীল ডাক্তার বাড়ির লিটন সাহার মেয়ে। কয়েকদিন আগে সে তার স্কুলশিক্ষিকা মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বুধবার সকালে মিমির মা স্কুলে গেলে সে একাই গোসল করতে নামে। ধারণা করা হচ্ছে, পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় এবং ডুবে যায়। কিছুক্ষণ পর এক পথচারী পুকুরে ভাসমান অবস্থায় মিমির মরদেহ দেখতে পান। পরে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে মিমি ছিল ছোট।

এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে রাঙ্গুনিয়ায় পুকুরে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো। এর আগে ২৪ অক্টোবর পারুয়া ইউনিয়নের উত্তর পারুয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় একসঙ্গে তিন শিশু—সুমাইয়া আক্তার (১১), রুবিনা পারভীন হাবিবা (৭) ও জান্নাত আক্তার (১০)—ডুবে মারা যায়। এরপর ২৬ অক্টোবর চন্দ্রঘোনা এলাকায় মো. ইয়াছিন (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

৩১ দফা লিফলেট হাতে রাঙ্গুনিয়ার মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ৩১ দফা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ও হাটবাজারে প্রচারণা চালাচ্ছেন যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও হাটবাজারে দিন-রাত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এই ৩১ দফা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের শান্তি নিকেতন এলাকাতেও তাকে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।

এ সময় তিনি স্থানীয়দের ও পথচারীদের হাতে ৩১ দফা-সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সালাম জানান। পাশাপাশি তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এই যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

সেখানে তিনি বলেন, “আমরা বিগত ১৭ বছর যেভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্যও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, আগামী ফেব্রুয়ারিতে, বাংলাদেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে উত্তর চট্টলার সাতটি আসনে যাকে তারেক রহমান মনোনয়ন দেবেন, আমরা সবাই ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এক হয়ে কাজ করব—এই প্রত্যাশা রাখি।”

মুরাদ চৌধুরী আরও বলেন, “ধানের শীষের বিজয়ের জন্য আমাদের গ্রামগঞ্জে গিয়ে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে হবে। এই সমর্থন আদায়ের জন্য সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজনীতি করতে হবে। মানুষের আশা-প্রত্যাশা বুঝতে হবে।”

সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনগণের পাশে দাঁড়ান, তাদের কল্যাণে কাজ করুন। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে ভালোবাসা ও জনগণের আস্থার মাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে সংসদে যেতে পারেন এবং বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।”

রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে জামায়াতের প্রার্থী ডা. রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার রাণীরহাট বাজারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত জনসংযোগ ও গণসমাবেশে অংশ নেন দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এ সময় তিনি রাণীরহাটসহ আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাজার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, “রাণীরহাট, ইসলামপুর, রাজানগর ও বাগাবিলি এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এখানে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অসুস্থ রোগীদের চট্টগ্রাম বা রাঙ্গামাটি নিয়ে যেতে হয়, যা দীর্ঘ পথের কারণে অনেক সময় জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভঙ্গুর। রাস্তাগুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি ইছামতী নদীর ভাঙন থেকে রাণীরহাট বাজারকে রক্ষা করে এটিকে আধুনিক বাজারে রূপ দেওয়া হবে।”

গণসংযোগ শেষে এক পথসভায় এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দাবি তুলে ধরেন তিনি। এর আগে রাণীরহাট বাজারের প্রতিটি গলি ও দোকানে ঘুরে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ডা. রেজাউল করিম।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গামাটি জেলা আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি মনসুরুল হক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, ইসলামপুর ও রাজানগর ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আহমদ নবী, সদস্য সচিব নুরুল আবছার মেম্বার প্রমুখ।

গণসংযোগকালে রাণীরহাট বাজার সমিতি, বণিক সমিতি, চাল ব্যবসায়ী সমিতি, মামরা সম্প্রদায় গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

তরুণদের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতা, যিনি তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন— এমন মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে ছাত্রসমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা এ কথা বলেন।

আয়োজনটি করে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, “বিএনপি উদার মনের একটি রাজনৈতিক দল, এটি ছাত্রবান্ধব ও গণতন্ত্রের রক্ষক। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ছিল স্বনির্ভর, দেশপ্রেমিক ও জনমুখী বাংলাদেশ গড়া। তারেক রহমান সেই আদর্শের আলোকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলম।
সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এস শোয়াইব কাদের এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী ফরহাদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন রুবেল, মো. ইয়াছিন, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাস্টার ইমরান, ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ সায়মন, রাজানগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা।

আগামীর নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ: রাঙ্গুনিয়ায় এলডিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নুরুল আলম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় র‍্যালি ও পথসভা করেছে দলটি।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রধান র‍্যালিতে যোগ দেন। র‍্যালিটি চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা সদরের ইছাখালী এলাকায় পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলম বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি এলডিপির প্রার্থী ছিলাম না, ছিলাম জোটের প্রার্থী। সামনে যে নির্বাচন আসছে তা হবে একটি অভিনব, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন—যেখানে কোনো জালিয়াতি থাকবে না। আমি চাই, সেই নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়াবাসীর রায়ে আমার নাম ও এলডিপির সম্পৃক্ততা থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ দীর্ঘদিনের নীরবতা, বিচ্ছিন্নতা ও দ্বিধা–দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে রাঙ্গুনিয়াবাসীকে জানিয়ে দিচ্ছি—আমরা আছি, আমরা থাকব, আমরা রাজনীতি করছি এবং আগামীতেও নির্বাচনে অংশ নেব।”

নুরুল আলম জানান, এলডিপি এখনো জোটে রয়েছে এবং দলীয় মনোনয়নও পেয়েছে। অচিরেই জোটের প্রার্থীতা ঘোষণা হবে।
“আজকের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এতদিন আমাদের মধ্যে কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা ছিল, এখন আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। আজকের এই র‍্যালি ও পথসভায় আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, ভবিষ্যতের প্রতিটি কর্মসূচিতেও একইভাবে অংশগ্রহণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন—এই প্রত্যাশা করছি। এই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় চারটি চোরাই গরুসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার, পিকআপ জব্দ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আবদুল আজিজ ও তার ভাই হুমায়ন কবিরের মোট চারটি গরু চুরির অভিযোগে মো. শাওন ও মো. মানিক নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, ২৬ অক্টোবর রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে মো. শাওন (৩৫) ও মো. মানিক (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা তিনজন আসামি গোয়ালঘর থেকে চারটি গরু চুরি করে পিকআপে তুলে নেয়। এ সময় স্থানীয়রা বাদীর সঙ্গে মিলে পুলিশের সহায়তায় নারিশ্চা মগবান্দের ব্রিজ সংলগ্ন নতুনপাড়া মুখী তিন রাস্তার মোড়ে ৪টি গরু ও দুই আসামিকে আটক করে। এ সময় চোরাই কাজে ব্যবহৃত পিকআপও জব্দ করা হয়।

পুলিশ বলেছে, চুরি হওয়া গরুর বাজার মূল্য প্রায় ৩,৩০,০০০ টাকা এবং চোরাই কাজে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশন বিহীন পিকআপের মূল্য প্রায় ৮,০০,০০০ টাকা। অজ্ঞাতনামা তিন আসামী পালিয়ে গেছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে রবিবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

রাঙ্গুনিয়ার জন্য সুখবর আসছে, নেতাকর্মীদের অপেক্ষা করতে বললেন বিএনপি নেতা কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রস্তাবিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়ায় মহাসমাবেশ করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান বাসস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক শামশুল আলম কন্ট্রাক্টর। সদস্য সচিব আবদুস সালাম মেম্বার ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোজাফফর চৌধুরী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আজম খাঁন, রাঙ্গুনিয়া পৌর বিএনপির আহবায়ক মো. মাহবুব ছফা, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া চেয়ারম্যান, যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক, মুজিবুল আলম মুজিব ও ওসমান গনি প্রমুখ।

সভায় প্রধান বক্তা সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী বলেন, “আজকের এই সভা রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নেতাকর্মীরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে সাংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে কাজ করেন, তাহলে হাইকমান্ড জানবে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি ঐক্যবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐক্যবদ্ধভাবেই করবো। আমাদের শক্তি সাংগঠনিক শক্তি, জনতার শক্তি—এই শক্তিকে কেউ দমাতে পারবে না।”

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে হবে। কেউ যদি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা মেনে নেওয়া হবে না।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এটি হবে আমাদের প্রথম দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “মরিয়ম নগর থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত ডিসি রোড সম্প্রসারণ, গুমাই প্রকল্পের উন্নয়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং প্রবাসে যাওয়ার আগ্রহীদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত রাঙ্গুনিয়ায় একটি বড় পরিসরে এতিমখানা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।”

তিনি জানান, “তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা রাঙ্গুনিয়ার অলিগলিতে মানুষের কথা শুনছি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করা হবে।”

দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “গত ১৭ বছর যারা রাজপথে ছিল, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে—আমি সবসময় তাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের জন্য সুখবর আসছে। একটু ধৈর্য ধরুন, বিজয়ের হাসি রাঙ্গুনিয়াবাসী হাসবে। সেই প্রত্যাশা রেখে ধানের শীষের মার্কা যিনিই নিয়ে আসবেন তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি আবু আহমেদ হাসনাত বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাঙ্গুনিয়ার মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত। তাঁর আদর্শেই আজ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তারেক রহমান বিবিসিতে বাংলাদেশের প্রতিটি নেতাকর্মীর কথা বলেছেন, নিজের নয়। তিনি দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষ সবসময় ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে পাশে থেকেছে। তাই আমরা চাই, রাঙ্গুনিয়ার নেতৃত্ব রাঙ্গুনিয়ার মানুষের হাতেই থাকুক। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই হবে আমাদের চূড়ান্ত নির্দেশ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা বাস্তবায়ন করবো।”

নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম: নোয়াখালীর কাশেম বাজার জামে মসজিদে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে হামলার অভিযোগে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নগরের মুরাদপুর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি দুই নম্বর গেটে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

ছাত্রশিবির মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মুমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।

সমাবেশে তানজির হোসেন জুয়েল বলেন, “কুরআনের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়। যুগে যুগে ইসলামবিরোধী শক্তি কুরআনের প্রোগ্রামে হামলা চালিয়ে এসেছে। অতীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রমজানে কুরআন তালিম ও ইফতার প্রোগ্রামে হামলা করেছে— এখন নব্য ফ্যাসিবাদিরা সেই পথেই হাঁটছে।”

তিনি আরও বলেন, “মসজিদ কারো বাপের সম্পত্তি নয়। মসজিদে কুরআন ও হাদিসের আলোচনা হবেই। যারা বাধা দেবে, তাদের জবাব দেওয়া হবে— এটি প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, “নোয়াখালীতে ছাত্রদল- বিএনপির সন্ত্রাসীরা পবিত্র কুরআন তালিমে হামলা চালিয়ে আমাদের ভাইদের রক্তাক্ত করেছে। তারা আমাদের মা-বোনদের প্রোগ্রামেও হামলা করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণেই ছাত্র সমাজ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে— যার প্রমাণ ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুতে তাদের শোচনীয় পরাজয়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সন্ত্রাস যে মোড়কেই আসুক আমরা প্রতিহত করব। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমরা ঐক্যবদ্ধ।”

রাঙ্গুনিয়ায় নদী–খাল রক্ষায় এক মঞ্চে বিভিন্ন দল: ঐক্যের বার্তা উন্নয়নের পথে

বিশেষ প্রতিবেদন: কর্ণফুলী নদী, ইছামতী ও শিলক খালসহ উপজেলার জলাশয়গুলো রক্ষায় এক মঞ্চে বসেছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। পরিবেশ ও উন্নয়নের স্বার্থে এমন ঐক্য রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ‘রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্র–জনতা’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় নদী–খাল রক্ষা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক। এতে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতিতে এক বিরল ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর আবু শাকের ভুইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হাছান মুরাদ, এলডিপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ কবির, ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন হাছান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম আরিফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সভাপতি আশরাফ গনি চৌধুরী, ইছামতী নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি এ বি এস মোরশেদ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার।

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবদুল করিম টিপু, আদনান রাফি, মো. কলিমুল্লাহ, মো. সাজিদ, সরওয়ার নূর, ওয়াহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, উমর ফারুক, মো. আসলাম হোসেন আসাদ, মো. আসিক, আফিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মো. অপু প্রমুখ।

“কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা”
বক্তারা বলেন, “কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন, পরিবেশের ক্ষতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এই নদী বাঁচানো মানে রাঙ্গুনিয়া বাঁচানো।”
তাদের মতে, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও নদী–খাল রক্ষার প্রশ্নে সকলের ঐক্য রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দেবে।

চার দফা দাবি:
ছাত্র–জনতা বৈঠকে চার দফা দাবি উপস্থাপন করে—
১. অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সব ইজারা বাতিল
২. উপজেলা পর্যায়ে নদী রক্ষা কমিটি গঠন
৩. কর্ণফুলী নদীতে নিয়মিত নৌ পুলিশের টহল
৪. বেতাগী এলাকায় নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন

বক্তারা বলেন, এসব দাবিই স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

প্রশাসনের ভূমিকা ও জনআস্থা:
সভায় ইজারাদারদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কে অতিরিক্ত ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব তোলা হয়।
ইউএনও মো. কামরুল হাসান বলেন, “সবার সমন্বয়ে আমরা যদি নদী রক্ষা করতে পারি, তাহলে রাঙ্গুনিয়া শুধু পরিবেশ নয়—উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠকের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের এক নতুন ধারা সূচিত হয়েছে বলে স্থানীয় মহলে মত প্রকাশ পাওয়া গেছে।

“নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, জীবিকা বাঁচবে, রাঙ্গুনিয়া বাঁচবে”
বিভিন্ন দলের নেতা, প্রশাসন ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে দেখা মিলেছে এই বৈঠকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সংহতি এবং টেকসই উন্নয়নের পথ উন্মুক্ত করবে।

রাঙ্গুনিয়ার মানুষ এখন আশাবাদী—
“নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, জীবিকা বাঁচবে, আর রাঙ্গুনিয়া বাঁচবে।”

এই সর্বদলীয় বৈঠক তাই শুধু নদী রক্ষার নয়, বরং রাঙ্গুনিয়ার ঐক্য, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন ।

রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী–ইছামতী রক্ষায় সর্বদলীয় বৈঠক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): কর্ণফুলী নদী, ইছামতী ও শিলক খালসহ উপজেলার বিভিন্ন খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদী রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ‘রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্র-জনতা’র উদ্যোগে এই বৈঠক হয়।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, “কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন, পরিবেশের ক্ষতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এই নদী বাঁচানো মানে রাঙ্গুনিয়া বাঁচানো। তাই কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খালসহ সব জলাশয় রক্ষা আমাদের দায়িত্ব।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর আবু শাকের ভুইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হাছান মুরাদ, এলডিপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ কবির, উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন হাছান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম আরিফ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙ্গুনিয়া শাখার সভাপতি আশরাফ গনি চৌধুরী, ইছামতী নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি এ বি এস মোরশেদ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার।

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবদুল করিম টিপু, আদনান রাফি, মো. কলিমুল্লাহ, মো. সাজিদ, সরওয়ার নূর, ওয়াহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, উমর ফারুক, মো. আসলাম হোসেন আসাদ, মো. আসিক, আফিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মো. অপু প্রমুখ।

বৈঠকে ছাত্র-জনতা চার দফা দাবি উপস্থাপন করে। দাবিগুলো হলো— অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সব ইজারা বাতিল, উপজেলা পর্যায়ে নদী রক্ষা কমিটি গঠন, কর্ণফুলী নদীতে নিয়মিত নৌ পুলিশের টহল এবং বেতাগী এলাকায় নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন।

বক্তারা প্রশাসনের ব্যর্থতা, বালুমহালের অনিয়ম, ট্রাক চলাচল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।

সভায় ইজারাদারদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কে অতিরিক্ত ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাবও তোলা হয়। এছাড়াও মাদককারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়।

চট্টগ্রামে দায়িত্ব নিলেন নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের তথ্যে বলা হয়, বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সাইফুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি উপসচিব হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে এবং ইকোনমিক অ্যানালিস্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসে দায়িত্ব পালন করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও জনসেবায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাছির উদ্দিন রিয়াজ গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাবেক সভাপতি নাছির উদ্দিন রিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তার নাছির উদ্দিন রিয়াজ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শান্তিনিকেতন এলাকার মৃত মঞ্জুর হোসেনের ছেলে।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, শনিবার (১৮ অক্টোবর) সিএমপি চান্দগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা, একটি নরহত্যা, একটি বিস্ফোরক দ্রব্য এবং একটি হত্যা চেষ্টার মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর জানাজা আজ নিজ এলাকায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরার পর আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) নিজ নিজ এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা যায়, সন্দ্বীপের সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এনাম নাহার মোড়সংলগ্ন পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নিহত প্রবাসীদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠানের ঘোষণা ছিল। সকাল থেকেই সেখানে হাজারো মানুষ সমবেত হন। তবে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে সেখানে জানাজা না হয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহগুলো জানাজার জন্য নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রবাসী সাহাব উদ্দিনের জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়ি সংলগ্ন সাঈদ মার্কেটের দারুল উলুম মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই স্থানে প্রবাসী বাবলুর জানাজাও সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রবাসী রনির জানাজা দুপুর ১২টায় তালুকদার মার্কেট এলাকায়, প্রবাসী আরজুর জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নিজ এলাকায়, প্রবাসী জুয়েলের জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে মাইটভাঙ্গা কালু সর্দার বাড়ি সংলগ্ন জমার গো স্কুল মাঠে, প্রবাসী রকির জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সাগরিকা বাংলাবাজারে এবং প্রবাসী আরজুর জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সারিকাইত ৪ নম্বর ওয়ার্ড খান জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে নিহতদের মরদেহ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহত সাতজন প্রবাসী সাগরে মাছ শিকারের কাজে যুক্ত ছিলেন। তারা হলেন— আমিন মাঝি (৫০), মো. সাহাবুদ্দিন (২৮), মো. বাবলু (২৮), মো. রকি (২৭), মো. আরজু (২৬), মো. জুয়েল (২৮) ও মোশারফ হোসেন রনি (২৬)।

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ওমানের ধুকুম প্রদেশের সিদরা এলাকায় ওই সাত প্রবাসী বহনকারী একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা নিহত হন।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, “সাতজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক মৃত্যু সন্দ্বীপবাসীকে শোকাহত করেছে।”

লোহাগড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী যুবক ও কিশোর নিহত

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পুরান বিওসি এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মো. ফারুকের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৬) এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার আ. রহমানের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দীক (১৪)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহেল রানা ও আবু বক্কর মোটরসাইকেলে করে লোহাগাড়া বটতলী শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পুরান বিওসি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রহুল আমিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। ঘাতক বাসটি শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে থাকতে চান জামায়াত প্রার্থী ডা. রেজাউল

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মরিয়মনগর জামায়াতের উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেন, “আমি কোনো একক দলের প্রার্থী নই। আমি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাঙ্গুনিয়ার সকল জনগণের প্রতিনিধি হতে চাই। আমি এই মাটির সন্তান, এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার।”

সভায় তিনি তার ২০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ, মরিয়মনগর-রাণীরহাট ডিসি রোড প্রশস্তকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, গুমাইবিল সংরক্ষণ ও কর্ণফুলী নদীর দুষণ রোধ, প্রবাসীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নারীদের জন্য হাইজিন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়তে চাই। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি নেওয়া একজন মাঠ পর্যায়ের কর্মী হিসেবে আমি এই এলাকার মানুষের সমস্যা ও চাহিদা সম্পর্কে অবগত।”

ডা. এটিএম রেজাউল করিম তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সব বীর শহিদদের, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে, জনগণ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এবং গণতন্ত্রের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রদ্ধা জানাই সেই সকল আহত ও পঙ্গু আন্দোলনকারীদের প্রতি, যাঁরা ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে দেশব্যাপী গণআন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।”

ডা. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা সমস্যার নিকটতম প্রত্যক্ষদর্শী, তাই আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ আমার জন্য অমূল্য।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও রাঙ্গুনিয়া এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। এই অবস্থা পাল্টাতেই আমি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”

অনুষ্ঠান শেষে ডা. রেজাউল করিম উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনে তাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামী প্রথমে এই আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তবে বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি সরে দাঁড়ালে তার ভাগিনা ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এইচএসসি পরীক্ষায় সেনা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। সেনাবাহিনীর অধীনে পরিচালিত ৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৮ হাজার ৭১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮২৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা জাতীয় পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৭টি বাংলা মাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ হাজার ১৫৬ জন, ১২টি ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৭১ জন এবং ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজসমূহে বিদ্যমান শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিবিড় পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়কে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সেনাসদরের দিকনির্দেশনা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের নিয়মিত তদারকি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষবৃন্দের কার্যকর নেতৃত্ব, অনুষদ সদস্য ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতাও এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।  সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এবছর সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একযোগে নিজেদের মতো করে ফল প্রকাশ করেছে।

গত ২৬ জুন শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। চলতি বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন, যা গত বছরের চেয়ে ৭২ হাজার ৮৮৩ জন কম। ৪ হাজার ৮০৮টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১৬০৫টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ১০২ জন, যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৯৭৪ জন কম। ২ হাজার ৬৮২টি মাদ্রাসার এসব পরীক্ষার্থী ৪৫৯টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৭ হাজার ২৫ জন কম। ১ হাজার ৮২৪টি প্রতিষ্ঠানের এসব পরীক্ষার্থী ৭৩৩টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় বসেন। গত ১৯ অগাস্ট এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। ২১ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এবার চাকমা পাড়ায় ধানের শীষে ভোট চাইলেন অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থাপিত ৩১ দফা লিফলেট হাতে নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) উপজেলার চন্দ্রঘোনা জোমপাড়া ও চাকমা পাড়ায় প্রচারণা চালান বিএনপির এই নেতা।

৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগকালে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন,“আজ রাঙ্গুনিয়া থানার অন্তর্গত ১১ নম্বর কদমতলী ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী হোছনাবাদ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোমপাড়া ও চাকমা পাড়ায় আমরা গণসংযোগ করেছি। এলাকার চাকমা, মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলে তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপরেখা ব্যাখ্যা করেছি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আমরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “৩১ দফার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ গড়া, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘হেলথ কার্ড’, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘ফারমার্স কার্ড’—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন তারেক রহমান। এই কর্মসূচি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি এবং মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।”

অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার আরও বলেন, “মানুষের সমস্যা ও চাহিদাগুলো আমরা নোট করছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে যেমন তাদের পাশে থেকেছি, তেমনি দল ক্ষমতায় এলে ইনশাআল্লাহ আরও বড় পরিসরে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

এ সময় তিনি উপস্থিতদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের মহড়া

রাঙ্গুনিয়া: ‘সমন্বিত উদ্যোগ, প্রতিরোধ করি দুর্যোগ’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাঙ্গুনিয়াতেও সোমবার নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস।

গতকাল সোমবার সকালে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দুর্যোগ মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক করণীয় ও উদ্ধার কার্যক্রমের মহড়া প্রদর্শন করেন। আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশলসহ বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতির অনুশীলনও অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া কর্মসূচিতে আলোচনা ও র‌্যালিও আয়োজন করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পন দেওয়ান, মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী। মহড়া পরিচালনা করেন ফায়ার সার্ভিস রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের লিডার মো. জাহেদুর রহমান।

দেশজুড়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ায়ও উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কোটি শিশু ও কিশোর বিনামূল্যে এই টিকা পাবেন। জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। কর্মসূচি মাসব্যাপী চলবে এবং ১৩ নভেম্বর শেষ হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া শিশু মেলা মডেল স্কুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ‘জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শরমা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এই টিকাটি আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহায়তায় সরকার পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো দেশে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।

সরকারের লক্ষ্য—এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধন করেছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিবন্ধন করা যাবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে, যা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল-মাদ্রাসায় টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি স্কুল-মাদ্রাসায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।