কাঁচা সড়কে ভরসা, বর্ষায় বন্ধ স্কুলে যাওয়া—রাঙ্গুনিয়ার হালিমপুরে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : দুর্গম এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে আশোবা ওয়াজেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কের দুরবস্থার কারণে বর্ষা এলেই কার্যত থমকে যায় পাঠদান কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে শত শত শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১ নম্বর রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমপুর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে এলাকার কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহমদ তাঁর মরহুম পিতা-মাতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে ইতোমধ্যে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে নিয়মিত পড়াশোনা করছে। হালিমপুরসহ বাইশ্যের ডেবা, গাজী বাড়ি, বাইশ্যের বাড়ি, মোহাম্মদপুর, দরবানীর বাড়ি ও ফুল বাগিচা গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এক থেকে দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে।

কিন্তু বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কটি এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই সড়কটি কাদামাটিতে পরিণত হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও পিচ্ছিল ও জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সড়কটি তখন প্রায় অচল হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “শুকনো মৌসুমে আমরা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারি। কিন্তু বর্ষা শুরু হলেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, কাপড় নষ্ট হয়ে যায়—তাই অনেক সময় স্কুলে আসা সম্ভব হয় না।”

অভিভাবকদের অভিযোগও একই। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করুক—এটাই চাই। কিন্তু বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ থাকে যে তাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরাম হোসেন বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বর্ষা এলেই তা অর্ধেকে নেমে আসে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত আসতে পারে না, ফলে তাদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সড়কটির উন্নয়ন হলে শিক্ষার পরিবেশ অনেক ভালো হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, “এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে সেই সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।”

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর কাছে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এমপির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করে বর্ষা মৌসুমেও চলাচল উপযোগী করা হোক।

রাঙ্গুনিয়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে আবারও ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও আগ্রহ।

এই কর্মসূচিকে বাস্তব রূপ দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় এবং খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তারা খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তারা বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা একটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এই কর্মসূচিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা প্রতিভাদের খুঁজে বের করে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।

স্কুলভিত্তিক এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এখন আর শুধু একটি কর্মসূচি নয়—রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে।

রাঙ্গুনিয়ায় কাল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, টিকা পাবে ৫২,৯০৬ শিশু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ১০ মে পর্যন্ত।

উপজেলায় মোট ৫২ হাজার ৯০৬ জন শিশুকে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্থাপিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এ টিকা প্রদান করা হবে।

এ উপলক্ষে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক এডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়নাব জমিলা।

সভায় জানানো হয়, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপজেলার সব টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সভায় আরও বলা হয়, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এ টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্ধারিত কেন্দ্রে এসে শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এডভোকেসি সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মাদকমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়তে জড়িতদের তালিকা চাইলেন এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়াকে মাদকমুক্ত করতে এবং মাদকের ভয়াবহ কবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকসেবি ও কারবারিদের তালিকা সরাসরি নিজের কাছেই দিতে আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) আয়োজনে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ত্রিপুরা সুন্দরী খালের ওপর নির্মিত বক্স কালভার্ট উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তার জানামতে গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে কাপ্তাই সড়ক চার লেন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহে এ সড়ক চার লেন করার কাজের উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, “এই ছোট ছোট কাজগুলো আমরা যদি সময়মতো করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ পাঁচ বছরের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব।”

নিজ দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা নিজ নিজ এলাকা ও ইউনিয়নে নেতৃত্ব দিতে চান, তাদের দায়িত্বপালন শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “বক্তৃতা দিয়ে আর ভোট হবে না, এবার কাজের মাধ্যমে ভোট আসবে। সামনে ইউনিয়ন নির্বাচন রয়েছে। এই নির্বাচনে আপনাদের কাজ যদি মানুষ না দেখে, তাহলে কেউ ভোট দেবে না। সেকারণে নিজেদের প্রস্তুত করে কাজে নামতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় সম্ভবত প্রথমবারের মতো একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে কাউকে চাঁদা দিতে হয়নি, সময় অপচয় হয়নি এবং নির্ধারিত সময়েই উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে। এ সময় তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আগামীবার যখন এখানে আসব, দোয়া করি গাড়িতে করে আসতে পারি। তাই দ্রুত এই রাস্তার কাজ শুরু করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আপনাদের এলাকায় যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে ধরিয়ে দিতে হবে। আমি বুঝি, অনেকেই আপনাদের চেনাপরিচিত মানুষ। অনেক সময় বলা হয়—ছেলেটা খারাপ হয়ে গেছে, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এটি ভুল ধারণা, এভাবে কেউ ভালো হয় না। প্রয়োজনে এক বছর জেলে থাকলে সে ভালো হয়ে যেতে পারে। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, কারণ আপনারাই জানেন কারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত।”

তিনি আরও বলেন, “মাদক কারবারিদের তালিকা প্রশাসনকে দিতে ভয় পেলে আমাকে দিন, আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” তিনি বলেন, “সমাজকে ঠিক করতে না পারলে রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নও থেমে থাকবে।”

এ সময় এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ আরেকটি ওয়াদা করে যাচ্ছি—রাঙ্গুনিয়ায় যখনই ঢুকব, নতুন কিছু নিয়ে আসব।” তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং পদুয়ায় একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে একইদিন বিকেলে উপজেলার দীর্ঘদিন ধরে মৃতপ্রায় শিলক খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএডিসি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ।

রাঙ্গুনিয়ায় শিলক খাল পুনঃখনন শুরু, উদ্বোধন করলেন এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মৃতপ্রায় শিলক খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নিজ হাতে মাটি কেটে খনন কাজের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করেছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে স্বল্প পরিসরের কৃষি ঋণ মওকুফের বিষয়টিও রয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ ছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেই কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “যত বাধা থাকুক, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএডিসি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ।

পরে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী পদুয়া ইউনিয়নের ত্রিপুরা সুন্দরী খালের ওপর নির্মিত একটি বক্স কালভার্ট উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষক উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উন্নয়ন কাজে গাফিলতি নয়, গুণগত মানে জোর দিলেন চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, জনসেবায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, জনসেবা কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, হয়রানিমুক্ত পরিবেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যেন মানুষের কাছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়। এক সময় সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফিরে আসা সেই আস্থা ধরে রাখা সবার দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই। সীমিত সম্পদের মধ্যেই সর্বোচ্চ জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের অজুহাত নয়, সমস্যা সমাধানের মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসক মিরসরাই থানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি থানার বিভিন্ন রেজিস্টার, ক্রাইম ম্যাপ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এ সময় জিআর ও সিআর সংক্রান্ত পেন্ডিং মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেন তিনি। থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদা ইয়াসমিন তাকে অপরাধ পরিস্থিতি ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

পরবর্তীতে তিনি মিরসরাই ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করে সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার নির্দেশ দেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর উপজেলা ভূমি অফিস ও ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। সেখানে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেন এবং ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মিরসরাই পৌরসভা পরিদর্শনকালে এলজিইডি বাস্তবায়নাধীন দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাটাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। কাজের অগ্রগতি, নির্মাণমান ও উপকরণের গুণগত মান যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি না করার নির্দেশ দেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে তিনজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, গ্লাভস ও বাস্কেটবলসহ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অসহায় জনগোষ্ঠী সরকারি সেবার ওপর নির্ভরশীল। তাই স্বাস্থ্যসহ সব খাতে মানবিক ও আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন সেবা নিতে এসে খালি হাতে ফিরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার।

মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এ পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের নির্দেশনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আওতাধীন বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চুরি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা এবং নৈশপ্রহরী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটিগুলোকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক পত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চুরি ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের সময় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটলে মণ্ডপগুলোতে চুরি ও ভাঙচুরের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. আরমান হোসেন জানান, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সিসি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে চুরি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

ইতোমধ্যে উক্ত নির্দেশনার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বর্তমানে মোট ১০৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ টায়ার ফ্যাক্টরিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, কার্যক্রম বন্ধ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট সত্যপীর মাজার গেইট এলাকায় অবস্থিত একটি অবৈধ টায়ার ফ্যাক্টরিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে ফ্যাক্টরিটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ। এ সময় চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরিটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন উৎপাদন করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

প্রশাসন আরও জানায়, এ ধরনের অবৈধ ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গরু চুরি ঠেকাতে রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের মাঠে প্রচার, ওসির সতর্কবার্তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় গরু চুরি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় গরুর বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিয়ে আলোচনা সভা করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকালে উপজেলার রানীরহাট গরুর বাজারে এ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন বলেন, গরু চুরি রোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বাজারে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের সচেতন করা হচ্ছে।

বাজার কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে চোরাই গরু কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি চোরাই গরু কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকলে বা এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা গরু চুরি প্রতিরোধে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়া দুই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে পৃথক স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, গত ৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তাদের অভিভাবকরা থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৮৪ ও ১৮৫) দায়ের করেন।

নিখোঁজের পরপরই ওসি মো. আরমান হোসেনের তত্ত্বাবধানে উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে জিডি নং-১৮৪-এর ভুক্তভোগীকে সীতাকুণ্ড থানার কুমিরা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে জিডি নং-১৮৫-এর অপর ভুক্তভোগীকে পঞ্চগড় জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়।

ওসি মো. আরমান হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া দুই ছাত্রীই সুস্থ রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি, দানবাক্স ভেঙে টাকা ও অলংকার লুট

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একটি হিন্দু মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে মন্দিরে প্রবেশ করে দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ ও অলংকার নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়ির দোকান এলাকায় অবস্থিত মা মগদেশ্বরী মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে।

মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্তী (৫০) জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি পূজা শেষে মন্দির বন্ধ করে বাড়িতে যান। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মন্দিরে এসে দেখেন, কলাপসিবল গেটের তালা ভাঙা এবং ভেতরের দানবাক্সের তালাও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মন্দিরের প্রতিমার গায়ে থাকা লাল কাপড় সরিয়ে দুর্বৃত্তরা একটি ইমিটেশন (নকল) হার নিয়ে গেছে। এছাড়া মন্দিরের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দানবাক্সে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে যেকোনো সময় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বিএনপি নেতাসহ একই পরিবারের তিনজন গুলিবিদ্ধ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে একই পরিবারের কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যার পর উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের গঞ্জম আলী সরকারের বাড়ি এলাকায় এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সন্ধ্যার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে, চারজনের একটি সশস্ত্র দল সরফভাটা ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ওসমানের বাড়িতে গিয়ে অতর্কিত এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং পরে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে।

এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোহাম্মদ ওসমান বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্বৃত্তদের এই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের সময় মোহাম্মদ ওসমানের মায়ের পায়ে গুলি লাগে এবং তাঁর বাবাও কপালে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তবে মোহাম্মদ ওসমানের বাবা ও মায়ের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে ওসি মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং এই হামলার ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংযম ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান এমপি হুমামের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, রমজান মাসে মানুষ যেভাবে সংযম ও ভালো আচরণ করেছে, তা যেন সারা বছর ধরে বজায় থাকে।

শনিবার (২১ মার্চ) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “গত ৩০ দিন আমরা পবিত্র রমজান পালন করেছি। এই সময়জুড়ে রোজা রেখে আমাদের আচরণ ভালো ছিল, রাঙ্গুনিয়ার সর্বত্র শান্তি বিরাজ করেছে। আশা করি, আমরা আগামী পুরো বছরও একইভাবে নিজেদের পরিচালনা করব এবং একে অপরের প্রতি ভালো ব্যবহার অব্যাহত রাখব।”

এ সময় তিনি সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাই সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি স্বপ্নের রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে জেলা পুলিশের জোরদার তৎপরতা

ডেস্ক: পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সার্বক্ষণিক মনিটরিং জোরদার করেছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করছেন তিনি।

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ মোকাবিলা, যানজট নিরসন এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে তারা সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে থানা প্রাঙ্গনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. বেলায়েত হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আক্তার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত ওসি মো. সেকান্দর, রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান, রোয়াজাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর শুক্কুর ও সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ইটভাটাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে একটি ইটভাটাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত বিবিসি-২ নামের একটি ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

অভিযানকালে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ইটভাটাটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইসলামপুরের বিবিসি-২ ইটভাটাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সরকারি নির্দেশনা না মানায় রাঙ্গুনিয়ায় দুই তেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুটি জ্বালানি তেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো রেজিস্টার সংরক্ষণ না রাখায় রানীরহাট ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া টানা ২৪ ঘণ্টা তেল সরবরাহ না থাকায় পেট্রোল পাম্পটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া বিক্রয় রেজিস্টার সংরক্ষণ না করা এবং নিবন্ধন ছাড়া যমুনা অয়েল থেকে সরাসরি ক্রয় ব্যতীত তেল বিক্রির অভিযোগে অপর একটি বিক্রয় কেন্দ্রকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন কমিটিতে তদবির নয়, প্রাধান্য পাবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নতুন কমিটি গঠনে তদবির বাণিজ্যের সুযোগ থাকবে না। যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) উপজেলার কাদেরনগর এলাকায় উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি গতকাল প্রথমবারের মতো সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সংসদে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রথম বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসেই এই নতুন যাত্রা শুরু হওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের সময় সবার মনে একটি কষ্ট ছিল। অনেকের বিশ্বাস ছিল, যখন সবাই সংসদে যাবেন তখন মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হয়তো তাদের সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবুও সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সবাই মিলে গণতন্ত্রের এই নেত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।

ইফতার মাহফিলে বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রমজান মাসে ইফতার ও আজানের আগে যদি সবাই ৫ থেকে ১০ মিনিট একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসে ইবাদত ও দোয়া করা যায়, তবে তা খুবই ভালো হবে। তিনি সবাইকে দেশ, প্রধানমন্ত্রী, রাঙ্গুনিয়াবাসী এবং প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, রোজার মাসে দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং সেগুলো নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে তিনি একটি বিষয়ই বলেছেন—এই নির্বাচন তিনি একা করেননি, বরং সবাই মিলে করেছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদে পৌঁছানোর কৃতিত্ব তিনি মঞ্চে উপস্থিত নেতাকর্মীদের দেন।

তিনি আরও বলেন, দলের নীতি হলো ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীরা নির্বাচনের সময় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সেই কথার প্রমাণ দিয়েছেন।

দলীয় কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় সরকারে আসার পর নেতাকর্মীরা মনে করেন মামলা-মোকদ্দমার চাপ কমে গেছে এবং তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে অনেকে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। আবার আগের মতো ঘন ঘন বড় কর্মসূচিও হয় না। ফলে দল অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি প্রতি মাসে একদিন নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যদি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সবাই একত্রিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে দল আরও শক্তিশালী হবে এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও যৌথভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীরা মামলা-মোকদ্দমা ও নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে। তবে কখন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাই নির্ধারণ করবেন।

তিনি বলেন, নতুন কমিটি গঠনের সময় নেতাকর্মীদের অতীত কর্মকাণ্ড, আচরণ এবং দলের জন্য তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পাবেন তাদের সবাই সমর্থন করবেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই কমিটির জন্য তদবির বাণিজ্য হবে না। যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছে, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।”

দলীয় গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বলেন এটি কারও গ্রুপ বা অন্য গ্রুপের। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার কোনো গ্রুপ নেই; তার একমাত্র গ্রুপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এখানে সবাই একই দলের কর্মী এবং তাদের নেতা একজনই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে প্রমাণ করার যে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনের সময়ও সেই ঐক্যের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছর রাঙ্গুনিয়ায় দল ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবে।

মাসিক বৈঠকের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিনিয়র নেতারাই নেবেন। তাদের সুবিধা অনুযায়ী দিন নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে দলের কমিটির প্রধান অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব বৈঠকে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বসে সুখ-দুঃখ, অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং দলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সবার পরামর্শ নেওয়া হবে।

শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের সংগ্রামে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার, ট্রাইসাইকেল ও হিয়ারিং এইড প্রদান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য হুইলচেয়ার (বড় ও ছোটদের জন্য), ট্রাইসাইকেল ও হিয়ারিং এইড প্রদান করা হবে। এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করা হয়েছে।

ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হবে। কারও পরিচিত কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজন হলে আগামী ১০, ১১ ও ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

আবেদনকারীর ৪R (৪×৬ ইঞ্চি) সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে উপকারভোগীদের মধ্যে উপকরণ বিতরণ করবে বলে জানানো হয়েছে।

ফটিকছড়িতে বাস–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত অন্তত ১৬

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন কিশোরসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ১৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফেলাগাজী দীঘি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ১৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল গ্রামের যোগেজ উড়াংয়ের ছেলে উত্তম উড়াং (১৭), রাম উড়াংয়ের ছেলে নয়ন উড়াং (১৭) এবং তপন উড়াংয়ের ছেলে তপু উড়াং (১৭)। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীগামী একটি দূরপাল্লার বাস বেপরোয়া গতিতে ওই এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে বাসের ভেতরে থাকা অন্তত ১৬ জন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হন।

নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, হাসপাতালে আনা আহতদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নির্বাচনের দিন ঝামেলা করলে সরাসরি ব্যবস্থা: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনাকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কাউকে আর সতর্ক করা হবে না, সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আজই আমরা শেষবারের মতো সতর্ক করে দিচ্ছি। নির্বাচনের দিন কেউ যদি কোনো কেন্দ্রে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাকে সতর্ক করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। শুধু ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ এবং আনসার ও ভিডিপির পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার এবং কর্ণফুলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র।

জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—“নো ড্রামা, নো লবিং।” নির্বাচনের দিন কেউ ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করলে সে যেই হোক, তাকে আর সতর্ক করার সুযোগ দেওয়া হবে না; সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকার থেকে নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। “আমাকে যেমন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে মনিটর করা হচ্ছে, তেমনি আপনাদের প্রতিটি কার্যক্রমও মনিটর করা হচ্ছে। কোনো ধরনের চালাকি বা অসততার আশ্রয় নেবেন না,” বলেন তিনি।
প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে, আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার বাহিনীর মোবাইলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের বডি-অন ক্যামেরা, সেনাবাহিনী ও বিজিবির উপস্থিতিসহ প্রতিটি কেন্দ্র জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তাকে কেউ দেখছে না, তাহলে তিনি ভুল করছেন। সবকিছু মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে।
নিজ নিজ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে আগামী প্রজন্ম বড় হবে। এখানে কেউ জিতবে, কেউ হারবে; তবে প্রশাসনের লক্ষ্য হবে বাংলাদেশকে জেতানো।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সপ্তাহের দিন-তারিখ বা সময় না দেখে প্রশাসনের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মনিটরিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো কিছু লুকানোর সুযোগ না থাকে।

জাতির প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কারও দায়িত্বে ব্যত্যয় ঘটলে তার দায় সরকার বা নির্বাচন কমিশন নেবে না।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের সুযোগ নেই। ভালোবাসা থাকতে হবে রাষ্ট্রের প্রতি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের গায়ে যে কালিমা লেগেছে, তা মুছে ফেলার এখনই সুযোগ। কোনো সংশয় থাকলে তা ঝেড়ে ফেলে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এলাকায় কোনো ভয় বা আতঙ্ক থাকলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার দোহাই দেওয়ার সুযোগ নেই।

শেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আমার সন্তান কারও গোলাম হবে না। আমরা সরকারি কর্মচারীরা কারও ব্যক্তিগত গোলাম হব না—আমরা রাষ্ট্রের গোলাম হতে চাই।” তিনি সবাইকে বিবেকবান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন এবং তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল। তিনি দাবী করেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মানুষ ও আমার পরিবারের সদস্যরা আবারও প্রমাণ করেছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আজও মানুষের হৃদয়ে জীবিত আছেন।”

তিনি বলেন, বাবার নাম উচ্চারণ করলে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মুখে হাসি নিয়ে বলুন—সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন, তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার ও নিরাপদ জীবনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এই সময়ে অনেকেই জীবন দিয়েছেন, যাদের তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ১২ তারিখের ভোটকে সামনে রেখে আরও কিছুদিন মাঠে থাকতে হবে। তিনি বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে হবে। আজকের এই জনসভা ও গণমিছিল প্রমাণ করেছে, রাঙ্গুনিয়ায় ইনশাআল্লাহ বিএনপির জয় হবেই।”

উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তিনি দেখেছেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা রাঙ্গুনিয়ায় পৌঁছেনি। তিনি বলেন, “উন্নয়নের কথা পদ্মা সেতু পর্যন্ত এলেও রাঙ্গুনিয়ায় আসেনি।” গত দুই সপ্তাহের প্রচারণায় ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থেকে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। মরিয়মনগর থেকে রানীরহাট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর আগে এই সড়ক প্রশস্ত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে একফুটও চওড়া হয়নি, বরং আরও সংকুচিত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে এই সড়ক প্রশস্ত করা।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ এখনো তার বাবার সময়ে নির্মিত রাস্তা ব্যবহার করছে, কিন্তু দীর্ঘদিন তা সংস্কার হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলেও দলের সিনিয়র নেতারা নিজ উদ্যোগে বালু ও ইট দিয়ে কিছু রাস্তা সংস্কার করেছেন বলেও তিনি জানান।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে হুমাম বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিদ্যমান হাসপাতাল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, এসব হাসপাতাল সংস্কারের দায়িত্ব বিএনপি নেবে।

তিনি জানান, সম্প্রতি উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে। অদক্ষ বৈদ্যুতিক সংযোগের ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ইলেক্ট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রবাসী পরিবারগুলোর প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেক মানুষ। তিনি বলেন, চুক্তি ও সরকারি সনদ অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, তার বাবা-দাদারা দীর্ঘদিন রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সঙ্গে এক পরিবারের মতো বসবাস করেছেন। নিজের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আমি সংগ্রাম করেছি। এই কম বয়সে রাঙ্গুনিয়া নিরাপদ থাকবে কিনা, তার জবাব আপনারা ভোটের মাধ্যমে দেবেন।”

জনসভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে থেকে সৎ রাজনীতির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নই বিএনপির রাজনীতির মূলনীতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনসভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যার আগেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে যোগ দেন।

আমরা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এসেছি: অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ইসলামি ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তিনি মরিয়মনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। এ সময় এক পথসভায় বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান বলেন, রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতীক, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রতীক, রিকশাচালক ও ব্যবসায়ীদের প্রতীক, পেশাজীবী, মা-বোনসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলমান—চার লাখ রাঙ্গুনিয়াবাসীর জনপ্রিয় প্রতীক মোমবাতি। এই প্রতীকে দোয়া ও ভোট চান তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রত্যেক দল-মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও বালুদস্যুমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা হবে। একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও ঐক্যবদ্ধ রাঙ্গুনিয়া প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান আরও বলেন, তারা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সার্বিক উন্নয়নে ১৩ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণ, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়াকে দেশের একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে সংসদে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের অধিকার জোরালোভাবে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন এই প্রার্থী। তিনি এ সময় ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সবাইকে রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

লুটতরাজ বন্ধে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : লুটতরাজ ও দখলবাজির রাজনীতি বন্ধে দাঁড়ি পাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন নির্বাচনী অফিসে এক সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর বিজয় মানেই সন্ত্রাসমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা, দখলবাজির রাজনীতির অবসান এবং অন্যায়-অবিচার রোধ করা। তারা অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর যারা ব্যাংক লুটপাট করে ব্যাংক ও বীমা খাত শূন্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

বক্তারা বলেন, দেশের চলমান লুটতরাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ি পাল্লা মার্কায় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনার বিকল্প নেই।

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্ট ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খাজা গিয়াস উদ্দিন শাহজাহান। এছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মান্নান, কাজী মুফিজুর রহমান, মুহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ার আনাচে-কানাচে নারী-পুরুষ সকল ভোটারকে বোঝাতে হবে যে ভোট দিতে কোনো ভয় নেই। নির্বাচন হবে ভয়বিহীন, অবাধ ও সুষ্ঠু। কোনো ধরনের গোজামিলের সুযোগ থাকবে না বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যোগাযোগ, চিকিৎসা ও কৃষিতে উন্নয়নের অঙ্গীকার ডা. রেজাউলের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি উপজেলার ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নের মধ্যম পারুয়া হয়ে ১৪ নম্বর দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট টেকে এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন।

পথসভায় ডা. রেজাউল করিম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেমন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাঙ্গুনিয়ার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাঙ্গুনিয়ার প্রধান সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী। শুষ্ক মৌসুমে যেসব রাস্তায় কষ্ট করে চলাচল করা যায়, বর্ষা মৌসুমে সেগুলো একেবারেই অচল হয়ে পড়ে।

নিজেকে রাঙ্গুনিয়ার সন্তান ও ভূমিপুত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে কাজ শুরু করবেন এবং রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।

চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ মানের হাসপাতাল নেই। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের দূর-দূরান্তে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলার বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে একটি কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য রাঙ্গুনিয়ায় একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে।

পথসভায় তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট কামনা করে বলেন, রাঙ্গুনিয়াকে একটি মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাঙ্গুনিয়া গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনারা ভোট দিতে যাবেন পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে” — হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি উপজেলার ১৫ নম্বর লালানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল বাদামতলী এলাকায় এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।

পথসভায় হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাকে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। ভোট দেওয়ার সময় শুধু ব্যক্তিকে নয়, দল ও প্রতীকের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানেই দলের সঙ্গে থাকা সকল মানুষকে সংসদে পাঠানো।

তিনি আরও বলেন, পথসভায় উপস্থিত সিনিয়র নেতারা তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। তাদের কাছ থেকেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। নেতাকর্মীদের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার সময় তাকে একজন পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।

মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট গত ১৭ বছরের ভোটের মতো নয়। সবাইকে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে হবে। ভেবে-চিন্তে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনেকেই চায় এই নির্বাচন যেন না হয় এবং বিএনপিকে দুর্বল করা যায়। তবে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ফজরের নামাজের পরপরই সবাই যেন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন।

পথসভায় তিনি আরও বলেন, তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দীর্ঘ ৩৫ বছর রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে ছিলেন। মৃত্যুর আগে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থাকার দায়িত্ব তাকে দিয়ে গেছেন। সেই দায়িত্ব পালন করতেই তিনি জনগণের কাছে ভোট ও দোয়া কামনা করেন।
এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের বার্তা পৌঁছাবে প্রতিটি ঘরে, রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের প্রস্তুতি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনের প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। গ্রাম পুলিশ ও চৌকিদারদের মাধ্যমে গণভোটের বার্তা প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ‘Uno Rangunia’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এই কার্যক্রমের কথা জানানো হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “গণভোটের প্রচারণা। গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা।”

প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নারী ও পুরুষ গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দুই সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের হাতে গণভোট সংক্রান্ত লিফলেট তুলে দিচ্ছেন ইউএনও নাজমুল হাসান। এ সময় তারা লিফলেটগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

এদিকে ইউএনওর ওই পোস্টের নিচে এমডি আশেক এলাহী নামের এক ব্যক্তির মন্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ৯০ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে বাড়িতে গণভোটের লিফলেট পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।”

প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনজনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাঙ্গুনিয়া ক্যাম্প ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ জানান, অভিযানে আমির হোসেন, শামশু উদ্দিন ও সাহাব উদ্দিব নামে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন ধারায় মোট এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

তিনি আরও জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষা এবং পাহাড় কাটা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে: চট্টগ্রামে সেনাপ্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বৃহস্পতিবার একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি।

মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান চট্টগ্রামের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।

এছাড়াও সভায় তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া’ গড়ার ডাক হুমাম কাদের চৌধুরীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পাওয়ার কথা জানিয়ে রাঙ্গুনিয়াবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।

“পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া, গড়বো এবার আমরা” এই প্রতিপাদ্যে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তার স্ত্রী সামানজার খানের উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়াকে পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর সমাজের মাদকসহ নানা সমস্যা সমাধানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে মাদকের সমস্যা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরে ঘরে এই সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে তারা ভূমিকা রাখতে চান।

চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ষাট বছর ধরে তার দাদা ও বাবার পাশে রাঙ্গুনিয়াবাসী ছিলেন। এই আত্মার ও রক্তের সম্পর্ক ধরে রাখতে তিনি রাঙ্গুনিয়াবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার রোয়াজারহাট বাজারের রাঙ্গুনিয়া ক্লাব মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচ্ছন্নতা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক সাংবাদিক এম. মতিন। রোয়াজারহাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি গাজী জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান। এতে আরও বক্তব্য দেন একেএস খান হেলথকেয়ার লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক নোমানুর রশিদ।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় ভবন গড়ে উঠছে, কিন্তু পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদেশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিদেশ যদি পরিচ্ছন্ন হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না। সেই চিন্তা থেকেই ঘর থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে ২০০টি ময়লার বিন স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও দেড়শোটি বিন বিভিন্ন স্থানে বসানো হবে। ছোট বিন থেকে বড় বিনে ময়লা স্থানান্তরের জন্য ২০টি বড় ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে। ময়লা সংগ্রহে ১০টি নিজস্ব ভ্যানের ব্যবস্থা রয়েছে। এ কার্যক্রমে ৭০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৬ জন ভ্যানচালক, ১০ জন সুপারভাইজার এবং ২ জন প্রকল্প প্রধান দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।