রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। দলের মনোনয়ন ঘোষণার পর দুজনকে একই মঞ্চে দেখা যাওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন,“গত দেড় বছর ধরে শুনে আসছি—যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, বিএনপি কলাগাছকেও দাঁড় করালে জিতে আসবে; আর সেই মৌসুমের ‘কলাগাছ’ আমি। মনোনয়ন পাওয়ার পর আনন্দপ্রকাশ না করার কারণ ছিল—রাঙ্গুনিয়ার একটি অংশ কষ্ট পাবে। দলকে এক করতে না পারলে নির্বাচনের ফল তো আগেই বোঝা যেত। তাই ঐক্যের বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “গত আন্দোলনে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন, কারও পরিবারের সদস্য মারা গেলেও জানাজায় থাকতে পারেননি। তখন যারা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষ করে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের প্রতি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। দলের কর্মীদের মূল্যায়নের দায়িত্ব আমি নিলাম।”
হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘হাইব্রিড’ প্রসঙ্গে বলেন, “বিএনপি দুই ভাগ থাকার সুযোগে অনেক হাইব্রিড বালু চুরি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে যুক্ত হয়ে সুবিধা নিয়েছে। আজ চাচা–ভাতিজা মিলে তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি—তাদের সময় শেষ।”
মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে যারা দলের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন, তাদের ত্যাগ–সংগ্রামের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। আর সেন্টার কমিটিও হবে সবার মতামত নিয়ে—এটা ব্যক্তিগত কমিটি নয়, তারেক রহমানের কমিটি, দলের কমিটি। এটার হকদার আমি একা নই, সবাই।” সভায় তিনি নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।
এর আগে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে আছি। ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে এখনো বিএনপির দায়িত্ব পালন করছি। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই আমরা কাজ করব—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর যেসব ব্যক্তি দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি পরিবারে কোনো গ্রুপিং নেই। ধানের শীষের স্বার্থেই সবাই ঐক্যবদ্ধ। পাড়া–মহল্লায়, ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইতে হবে।”