রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতের প্রার্থী পরিবর্তন: স্থলাভিষিক্ত প্রার্থী শ্রদ্ধাভরে কাঁদলেন সাবেক প্রার্থীর জন্য

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম–৭) আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান নিজেই নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে প্রার্থী ঘোষণার পর উপজেলার পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর এক দায়িত্বশীল সমাবেশে স্থলাভিষিক্ত এই প্রার্থী শ্রদ্ধাভরে কেঁদে ওঠেন সাবেক প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আমিরুজ্জামানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডা. রেজাউল করিম বলেন,“আমি অতি নগণ্য, আমার কোনো যোগ্যতা নেই। আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান সাহেবই ছিলেন মনোনীত প্রার্থী—উনার সামনে আমি কিছুই নই। কেমন করে কী হলো, আমি কিছুই জানি না। তবে সংগঠন যেহেতু আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তা মেনে নিতে হবে। আমি প্রার্থী হলেও, সকল সিদ্ধান্ত আমাদের শ্রদ্ধাভাজন মুরুব্বি আমিরুজ্জামান সাহেব ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের পরামর্শে নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর ডা. রেজাউল করিম বলেন, “দল যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে, সেভাবে কাজ করে যাব। দলের আনুগত্যই আমাদের সাংগঠনিক মূল ভিত্তি।”

রাঙ্গুনিয়া থেকে ধানের শীষে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক জাগদল ও বিএনপি নেতা কাজী আলম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক জাগদল ও বিএনপি নেতা কাজী এম. এন. আলম।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ঠান্ডাছড়ি চা বাগানে নিজ বাংলোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

কাজী এম. এন. আলম বলেন, “স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন জাতীয় নেতৃত্বে আসেন, তখন থেকেই আমি তাঁর চিন্তাধারা ও কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হই। বৃহত্তর রাজানগরের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে আমি তাঁর প্রতিটি ভাষণ শুনে অভিনন্দন বার্তা পাঠাতাম। পরবর্তীতে তিনি যখন রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তখন আমি আন্তরিকভাবে এতে যুক্ত হই।”

তিনি জানান, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম আসেন, আমরা তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছি। সেই অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়াবাসীর পক্ষ থেকে আমি মানপত্র পাঠ করি। এরপর তিনি আমাকে ডেকে প্রশংসা করেন এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেখা করার আহ্বান জানান। সেখানে জিয়াউর রহমান নিজে বলেন, ‘আমরা চাই নতুন তরুণ ও উদীয়মান নেতৃত্ব নিয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো গড়তে।’ সেই প্রেক্ষিতেই জাগদল গঠিত হয়।”

কাজী আলম আরও জানান, “তখন বৃহত্তর চট্টগ্রামের জাগদলের কনভেনিং কমিটি করা হয়। ফটিকছড়ির ডা. মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা ও আমি প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রাউজানের ডা. নুরুল আলম চৌধুরী দ্বিতীয় যুগ্ম  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে জাগদল বিএনপিতে রূপান্তরিত হলে আমরা দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই।”

তিনি বলেন, “১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। তখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নির্বাচনে তিনি জয়ী হলেও আমি দলের কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাই।”

রাজনীতিতে দীর্ঘ অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে কাজী এম. এন. আলম বলেন, “আমি অনুপস্থিত ছিলাম না, পর্যবেক্ষক ছিলাম। দলের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। এখন মনে করছি, দলের স্বার্থে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার সময় এসেছে।”

আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। তবে দল যদি মনোনয়ন না দেয়, আমি কখনো দলের বিপক্ষে গিয়ে নির্বাচন করব না। এই দল তো আমি নিজ হাতে গঠন করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন ভক্ত ও সহকর্মী হিসেবে দলের স্বার্থেই কাজ করে যাব।”

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কাজী এম. এন. আলম জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) ও বিএনপির বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, রাঙ্গুনিয়ার প্রথম আহ্বায়ক এবং বিএনপির বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রথম নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এছাড়া তিনি ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মনোনীত রাঙ্গুনিয়া আসনের বিএনপি প্রার্থী, প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বৃহত্তর রাজানগরের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

এছাড়াও রাজানগর-লালানগর সীমান্তে অবস্থিত হযরত শাহসূফী কাজী সালেহ্ আহমদ ইবতিদায়ী মাদরাসাসহ বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখা, চট্টগ্রাম-এর আজীবন সদস্য ও কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০১০-১৪) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট-এর আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আজীবন সদস্য, ন্যাশনাল এন্টি টিউবারকিউলোসিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-নাটাব চট্টগ্রাম-এর আজীবন সদস্য ও ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির আজীবন সদস্য পদ লাভ করে মানব কল্যাণ ও জনহিতকর কর্মে অবদান রেখে আসছেন। তিনি ২০০৯ সালে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন বলেও জানান কাজী এম এন আলম।

“শুধু বিএনপি নয়, সব বিরোধী দল জুলুমের শিকার হয়েছে” — হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “জুলুম শুধু বিএনপির ওপরেই হয়নি, সকল বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও একই রকম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।”

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের রাজারহাট বাজার মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুম্মাম কাদের বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—নির্বাচনের আগে কেউ যদি দলের বিরুদ্ধে বা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে। রাঙ্গুনিয়ার পক্ষ থেকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, এখানে এমন কিছু ঘটবে না। যারা নিজেদের ‘জিয়ার সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন, তারা সবাই দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।”

হুম্মাম কাদের আরও বলেন, “আমরা শুধু নির্বাচনের জন্য এখানে আসিনি—দেখাতে এসেছি যে বিএনপি এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং মাঠে সক্রিয় রয়েছে। আজকের জনসভায় যারা উপস্থিত হয়েছেন, তারা সবাই দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সক্রিয় সদস্য। দলের সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে চলি, আমরাও চাই আপনারাও তা মেনে চলুন—এই অঙ্গীকার আমরা আজ একসঙ্গে করেছি।”

চট্টগ্রাম শহর থেকে রাঙ্গুনিয়ায় আসার পথে বিভিন্ন সংগঠনের মিছিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাস্তায় হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার দেখা গেছে। এরা কেউই আমাদের বাইরে নয়। গত ১৭ বছর ধরে তারা আন্দোলনে আমাদের পাশে ছিল। আমরা কাউকে ছোট চোখে দেখি না—যে সম্মান তারা আমাদের দিয়েছে, আমরাও তা ফিরিয়ে দেবো।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির মতো অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর ওপরও একই ধরনের জুলুম-নির্যাতন হয়েছে। এখন সময় এসেছে দেশকে গুছিয়ে নেওয়ার। তারেক রহমান চেষ্টা করছেন সব দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে—আমাদেরও সেই চেষ্টায় অংশ নিতে হবে।”

ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “যদি জোট না হয় বা অন্য দলগুলো নিজেদের ব্যানারে নির্বাচন করতে চায়, তাহলেও রাঙ্গুনিয়ার জনগণ দেখিয়ে দেবে কিভাবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করা যায়।”

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের কিছু দোসর এখনো এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

রাঙ্গুনিয়ায় মরিয়মনগর–গাবতল ডিসি সড়ক সম্প্রসারণের দাবিতে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর–গাবতল ডিসি সড়ক সম্প্রসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোগলেরহাট বাজার ও আলমশাহপাড়া এলাকায় সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে পৃথক দুটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ।

সকালে মোগলেরহাট বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মো. সাদ্দাম হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. বখতিয়ার। এ সময় বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আমিরুজ্জামান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, সড়ক আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. শরীফ, উত্তর রাঙ্গুনিয়া সড়ক আন্দোলনের সভাপতি নুরুল আলম সওদাগর, মো. ইলিয়াস, বক্কর মেম্বার এবং খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মরিয়মনগর–গাবতল ডিসি সড়কটি রাঙ্গুনিয়ার ৭ ইউনিয়নের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি, সড়কটি অন্তত ৩০ ফুট প্রশস্ত করে আধুনিক মানে নির্মাণ করা হোক।”

তারা আরও বলেন, “সড়কটি প্রশস্ত করা গেলে শুধু যান চলাচল স্বাভাবিক হবে না, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন গতিশীলতা আসবে। উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে পুরো অঞ্চলে।”

অন্যদিকে, আলমশাহপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. মনজুরুল ইসলাম ও ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁরাও একই দাবিতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্দ্বীপের সাত বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: ওমানের দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই ওমানে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতদের সবাই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের মধ্যে পাঁচজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বাবলু, সাহাবুদ্দিন, আমিন সাওদাগর, আরজু ও রকি।

স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বাকিরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

একই এলাকার সাতজন প্রবাসীর একসঙ্গে মৃত্যুতে সারিকাইতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যা এই শোককে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।

ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদারকি করছে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট দিয়েও করা যাবে হজের নিবন্ধন

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের হজে গমনেচ্ছুদের সুবিধার্থে পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণের শর্ত শিথিল করেছে। এখন মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট দিয়েও হজের নিবন্ধন করা যাবে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) হজ-১ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, হজের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট ব্যবহার করা সম্ভব হলেও, হজযাত্রী বা হজ এজেন্সিকে ভিসা ইস্যুর সময় অবশ্যই পাসপোর্ট সিস্টেমে মেয়াদ আপডেট করতে হবে। হালনাগাদ না করলে ভিসা ইস্যু হবে না।

উল্লেখ্য, সৌদি সরকারের ঘোষিত হজের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আসন্ন ২০২৬ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শেষ হবে।

বাংলাদেশ-সৌদি আরবের মধ্যে কর্মী নিয়োগে প্রথমবারের মতো চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) রিয়াদে এই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং সৌদি আরবের পক্ষে মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ বিন সোলাইমান আল-রাজী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরের ইতিহাসে এটি প্রথম সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি।

১৯৭৬ সাল থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হিসেবে কাজ করছে, তবে এতদিন পর্যন্ত সাধারণ কর্মী নিয়োগে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল না। এর আগে ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ এবং ২০২২ সালে দক্ষতা যাচাই সংক্রান্ত দুটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার ও স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে। এটি ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সৌদি মন্ত্রী ও ড. আসিফ নজরুলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সৌদি আরবে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, ইকামা নবায়নের দায়িত্ব যেন নিয়োগকর্তারা পালন করে এবং দেশে ফেরার ইচ্ছুক কর্মীরা যেন দ্রুত এক্সিট ভিসা পান।

সৌদি মন্ত্রী এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এ সময় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন, মিশনের উপপ্রধান এস এম নাজমুল হাসান, শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মাদ রেজায়ে রাব্বীসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ।

শিগগিরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

ঢাকা: খুব শিগগিরই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জুলাই সনদের বিষয়বস্তু ও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব ও এবিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন সকল রাজনৈতিক দল থেকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা পেয়েছে। এছাড়া, গণমাধ্যমগুলো ঐকমত্য কমিশনকে অকল্পনীয় সমর্থন দিয়েছে।

কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সকল সদস্যদের ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। কমিশনের কাজের চুড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আজকের বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল ও আদিলুর রহমান খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দেবেন নিরাপদে: চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

চট্টগ্রাম: “থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিবেন নিরাপদে”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নির্বাচনি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনসের সিভিক সেন্টারে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি প্রশিক্ষণ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এই প্রশিক্ষণ কোর্সে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আগত মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতকরণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুলিশের দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠা অপরিহার্য। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পুলিশের দায়িত্ব পালনে আরও আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বাড়াবে।”

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম-বার বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনের সময় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতে আমাদের সদস্যরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সময়ে জনপদে পুলিশের উপস্থিতি জনগণের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তা সৃষ্টি করবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি), হাটহাজারি সার্কেল অফিসার, প্রশিক্ষক এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপর হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড়

ডেস্ক: নরসিংদীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শামিম আনোয়ারের ওপর চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের আরশিনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, আহত অবস্থায় শামিম আনোয়ারকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে আনোয়ার হোসেনের (সদর সার্কেল) নেতৃত্বে একটি টিম সদর উপজেলার বীরপুর এলাকার পুরানপাড়ায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিদর্শনে যান। ফেরার পথে শহরের আরশিনগর মোড়ে কয়েকজন ব্যক্তি যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ দুজনকে হাতেনাতে আটক করে।

আটকের খবর শুনে তাদের ছাড়াতে ৩০–৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ছাড়াতে রাজি না হওয়ায় তারা হামলা চালায়—কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে আহত হন। সন্ত্রাসীরা দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ সদস্যরা শামিম আনোয়ারকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে নিন্দার ঝড় ওঠে। চট্টগ্রামের সাংবাদিক জাহেদ হাসান তালুকদার তার ফেসবুকে লিখেছেন, “এটা কেমন বাংলাদেশ! চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর হামলা।” ঢাকার সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম আরিফ লিখেছেন, “সাহস আর সততা থাকলে মার খেতে হয়, সেটি আপনিই বলতেন আমাকে। আর আজ আপনার ওপর এহেন হামলা। সুস্থ হয়ে উঠুন, বড় ভাই।”

কোরআনের শিক্ষা আলোকিত জাতি তৈরি করে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা উদ্বোধনকালে বক্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে রাঙ্গুনিয়ার ধামাইরহাটের উত্তর পাশে আজম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্বপাশে নতুন মাদ্রাসা মারখাজুল উলুম তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন আগত অতিথিরা।

উদ্বোধনের পর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী খাজা গিয়াস উদ্দিন ছালেকী, এবং যৌথ সঞ্চালনা করেন কাজী মুহাম্মদ আলমগীর ও এডভোকেট ফরহাদুল আলম জুয়েল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম শায়েখ আল্লামা সায়দ হোসাইন বলেন, “পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি আলোকিত হতে পারে না। এই মাদ্রাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি এলাকার মানুষকে আল্লাহর কিতাবের সাথে সংযুক্ত করার পথ খুলে দেবে।”

প্রধান বক্তা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, “আজকের উদ্যোগ কোরআনপ্রেমী জনসাধারণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কোরআন মুখস্থ করবে এবং ইসলামের আদর্শে গড়ে উঠবে।”

প্রধান আলোচক, আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মাদ্রাসা হলো সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনার বাতিঘর। নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে যুক্ত করতে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বিশেষ অতিথি, প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা সুলতান আহমদ বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গঠনেও গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হবে।”

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মুফতি আনাস স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ শওখত হোসাইন, মাওলানা শাহ আলম, সরওয়ার হোসাইন, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সরওয়ার আলম, মুহাম্মদ মুছা, মীর আজিজুর রহমান, এডভোকেট আজিম উদ্দিন লাভলু, সেলিম, রফিক, আনোয়ার, হারুন, আজিজুল হক, হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কোরআনের প্রাথমিক ছবক প্রদান এবং ভর্তি ফরম বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াত নেতার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলে শোক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী’র শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রকাশ ইলিয়াছ কোম্পানি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ কন্যাসন্তান, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুম ইলিয়াছ কোম্পানির জানাযার নামাজ শনিবার সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তার প্রয়াণে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিলেন সমাজসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় উন্নয়নে নিবেদিত একজন সক্রিয় নেতা। তিনি রাঙ্গুনিয়া ইকরা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং লালানগর আইডিয়াল স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে দ্বীনের আলো ছড়াল ছাত্রশিবিরের অনন্য উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বীনের ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রায় ৫৫–৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বাংলা অনুবাদসহ কুরআন শরীফ উপহার দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গুনিয়া উত্তর সাংগঠনিক থানা শাখার আদর্শ থানা শাখা আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে এ উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন থানা শাখার সেক্রেটারি আব্বাস উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মঈনুদ্দিন মিসবাহ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া শহর আদর্শ থানা শাখার সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ। প্রধান মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর বায়তুল মাল সম্পাদক জহির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্টও বিতরণ করা হয়।

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— রাঙ্গুনিয়ায় পূজামণ্ডপে বিএনপি নেতাদের বার্তা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজার শেষদিন আজ। এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে। এর আগে পূজা উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। পূজার শুরু থেকেই প্রতিদিন তারা বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, “অনেকে বলে আওয়ামী লীগের আমলে হিন্দু ভাইয়েরা ভালো থাকে, বিএনপির শাসনামলে থাকে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় আওয়ামী লীগের আমলেও সমস্যা হয়েছে, বিএনপির সময়েও হয়েছে। তবে এগুলো মূলত কিছু দুষ্টু লোকজন সৃষ্টি করে যারা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়। আমরা এদের চিহ্নিত করেছি এবং সমাজ থেকে দূরে রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে সম্মান দিয়ে গ্রহণ করেছেন, আশা করি আপনাদের সেবার সুযোগও দিবেন।” এছাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। তিনি বলেন,

“হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—আমরা সবাই মানুষ। উপর থেকে ভিন্নতা থাকলেও ভেতরে সবাই একই। আমরা সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবো। সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট থাকবে।” দলের নির্দেশনায় শুরু থেকেই কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজও এসেছি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত পূজামণ্ডপে গিয়ে বলেন, “রাঙ্গুনিয়া সম্প্রীতির জায়গা। এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সবার আগে বাংলাদেশ—আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, তাই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবো।”

অন্যদিকে উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী পূজামণ্ডপে গিয়ে বলেন, “আমরা এসেছি আপনাদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে ও উৎসব ভাগাভাগি করতে। আগামী বছর এই উৎসব আরও বড় হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।”

প্রসঙ্গত, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিএনপি নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূজার শুভেচ্ছা জানান এবং উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবি: সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সফল উদ্ধার অভিযান

ডেস্ক: গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতের আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় রাঙামাটির লংগদু অঞ্চলের বিএফডিসি ঘাট, ভাইবোনছড়া, লংগদু লঞ্চঘাট, গুইলশাখালি বিল ও ভাসান্যাদম এলাকায় একাধিক নৌকা ডুবে যায়। খবর পেয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

এ ঘটনায় মোট পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও দ্রুত পদক্ষেপে ওই রাতেই দুইজনকে জীবিত ও এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার এবং পরদিন (০১ অক্টোবর) সকালে আরও দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, একই রাতে নানিয়ারচর উপজেলার মহাজনপাড়ায় আরও একটি নৌকা ডুবে যায়। ছয়জন যাত্রীর মধ্যে চারজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ডেনিজেন চাকমা ও জিতেশ চাকমা নিখোঁজ রয়েছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়রা নৌকাটি উদ্ধার করলেও নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধান মেলেনি। বর্তমানে সেনাবাহিনীর ডুবুরি দল স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, সাহসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলে দুর্ঘটনার পরপরই কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শুধু নিরাপত্তার অঙ্গীকারেই নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সচেষ্ট।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালুমহালের ইজারা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও বালুমহালের ইজারা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ইছাখালী এলাকায় “রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ” ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনজীবনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এসব বন্ধে তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্ণফুলী নদীস্থ সব বালুমহাল ইজারা ও বালু উত্তোলন বাতিল করতে হবে, তিন দিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নদী রক্ষা কমিটির সংষ্কার করতে হবে, নিয়মিত নদীপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে ও অবিলম্বে কর্ণফুলী নদীর মূল বেতাগী পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করতে হবে।

বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে রাঙ্গুনিয়াবাসী ও সব শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

পরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে লিখিত দাবি নিয়ে মিছিলসহকারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও কামরুল হাসান বলেন, “এটা যেহেতু ইতিবাচক বিষয় এবং আমি আগেও এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম, তাই তাদের চার দফা দাবির সঙ্গে আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি। তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছি এবং ইতিমধ্যে বিষয়টি জেলায় জানানো হয়েছে, চিঠিও দেওয়া হয়েছে।”

রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে অভিযান: পাঁচ ড্রেজার মালিককে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ড্রেজার মেশিনের মালিককে আটক করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কর্ণফুলী নদীর সরফভাটা ও মরিয়মনগর অংশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ বলেন, “আজ কর্ণফুলী নদীর সরফভাটা ও মরিয়মনগর অংশে অবৈধ ড্রেজার মেশিনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ৫টি ড্রেজার মেশিনের মালিককে আটক করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।”

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতকে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

“মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” বাস্তবায়নে চট্টগ্রামে জেলা টাস্কফোর্স সভা

চট্টগ্রাম: “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন।

সভায় আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সরকারি নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পালন, দরিদ্র মৎস্যজীবীদের সহায়তা প্রদান এবং অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিদিন ৯ হাজার শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রাঙ্গুনিয়ায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়।

সভায় জানানো হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবস বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে দেওয়া হবে। প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, গ্যাভি টিকাদান জোট, প্যাথ, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা, মেডিক্যাল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. ইসমাইল হুসাইনসহ অন্যান্যরা।

সভা থেকে জানানো হয় রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। ইতোমধ্যে স্কুলে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ৫১ হাজার ১০৭ জন ও কমিউনিটিতে ২৩ হাজার ৪৩০ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।

এ সময় বক্তারা বলেন, টাইফয়েড দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সবার সহযোগিতায় কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী এবং স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বিএনপির আর্থিক সহায়তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের চাঁদের টিলা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দলের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

অ্যাডভোকেট মো. এহেসানুল হক এ সময় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা লালানগর ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেখতে এসেছি। এসে দেখি আগুনে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত তাদের থাকার জন্য একটি ব্যবস্থা করতে। লালানগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ এসেছেন, আরও নেতারা আসবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীও বিষয়টি দেখবেন।”

এ সময় লালানগর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট কামাল চৌধুরীর নির্দেশনায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নেতৃবৃন্দ সমাজের বিত্তশালীদেরও দুর্গত পরিবারের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, এর আগে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চাঁদের টিলা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মো. শহিদুল হকের চার কক্ষবিশিষ্ট টিন-বেড়ার কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফোরকান জানান, ফায়ার সার্ভিসে খবর পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে ঘরের সব আসবাপত্র পুড়ে যায়। এতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহেদুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা আগুন নেভালেও ঘর পুরোপুরি পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলার আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।

গতকাল আর্থিক সহায়তা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, লালানগর ইউনিয়নের ধানের শীষের সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব, যুবদল সদস্য রোকন উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম খোকন, ছাত্রদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বখতিয়ার, রুকন, মালেক শাহ, ফজু প্রমুখ।

বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাল ১৪ বছরের কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। নদীতে ডুবে যাওয়া এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই প্রাণ হারালেন বিজয় বড়ুয়া (১৪) নামের এক কিশোর।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের পোয়া পাড়া ইছামতি খালে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত বিজয় বড়ুয়া (১৪) সুজন বড়ুয়ার ছেলে।

জানা যায়, দুই বন্ধু ইছামতি খালে গোসল করতে নেমেছিল। এক বন্ধু সাঁতার জানত না এবং পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে, সাঁতার জানা বন্ধু বিজয় তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই গভীর পানিতে ডুবে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে কাউখালি উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে সাঁতার না জানা বন্ধু প্রাণে বেঁচে গেলেও বিজয়কে হারাতে হলো জীবন।

এ বিষয়ে কাউখালি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে বিজয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার করার পর তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে কাউখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, সকালে দুই বন্ধু নদীতে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটছিলেন। এ সময় এক বন্ধু পানির স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে অপরজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনিই পানির স্রোতে ডুবে নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জামায়াতের গণআন্দোলনের ৫ দফা দাবিতে রাঙ্গুনিয়ায় বিক্ষোভ ও গণসংযোগ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত ৫ দফা দাবির ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের কেন্দ্র ঘোষিত পাঁচ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জুলাই সনদ অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা, আগামী নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার নিশ্চিত করা, স্বৈরাচারের সহযোগী জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিক্ষোভ শেষে দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় গণসংযোগ পরিচালনা করে জামায়াত। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান-এর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়।

এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবদুল গফুর, অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন, অধ্যাপক মহিউদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের আমির হাসান মুরাদ, নায়েবে আমির মাওলানা শওকত, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন সভাপতি অ্যাডভোকেট জুয়েল, লালানগর ইউনিয়ন সভাপতি হাফেজ মাওলানা নুরুল্লাহ, সহ-সভাপতি মাওলানা হাসমত আলী, ইউনিয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ও দিদারুল আলম দিদার, উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি রাশেদুল আলম তালুকদার, ব্যবসায়ী নাজিম, বাজার সভাপতি রবিউল আবছার বাচু, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের রাঙ্গুনিয়া শহর শাখার সভাপতি আবুল কাশেম, ব্যবসায়ী বদিউল আলম, রাজারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি প্রার্থী আইয়ুব আলী, খোরশেদ আলম, তাজুল ইসলাম, আবদুল সালাম প্রমুখ।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে মূল পদক্ষেপ

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য হলো হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং অন্যান্য জটিলতা রোধ করা। ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান জানিয়েছেন, “একটি নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত রক্তচাপ থাকা জরুরি। সেই লেভেল অতিক্রম করলে মানুষের হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি বেড়ে যায়।”

রক্তচাপ যাতে স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম না করে, সে জন্য প্রেসারের ওষুধ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য একটাই — যেন জটিলতা তৈরি না হয়।

ঝুঁকির অন্যান্য কারণ :
উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও আরও অনেক কারণ আছে, যেগুলো হৃদরোগ ও স্ট্রোক ঘটাতে পারে। তাই শুধু প্রেসার নিয়ন্ত্রণ নয়, অন্যান্য ঝুঁকির দিকগুলোও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে-

  • রক্তে অতিরিক্ত চর্বি
  • ডায়াবেটিস
  • অতিরিক্ত ওজন
  • ধূমপান
  • মদ্যপান

Adjuvant Therapy :
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগীদের মাঝে প্রায়ই দুটি অতিরিক্ত ওষুধ দেওয়া হয় — Statin এবং Ecosprin। এটিকে বলা হয় Adjuvant Therapy। তবে কাদেরকে এই ওষুধ দেওয়া হবে, সেটি শুধুমাত্র একজন গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকই নির্ধারণ করতে পারেন।

রোগীর আগামী ১০ বছরের স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে ASCVD Risk Calculator ব্যবহার করা হয়। এর ফলাফলের ভিত্তিতে Statin বা Ecosprin প্রয়োজন কিনা নির্ধারণ করা হয়।

মূল বার্তা :
উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার লক্ষ্য একটাই — জটিলতা রোধ। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রেসার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান, MBBS (CMC), BCS, MCPS, MD, MACP, Medicine Specialist.

সূত্র: ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান-এর ফেসবুক থেকে

দুদকের চার জেলায় এনফোর্সমেন্ট অভিযান, মিলল অনিয়মের প্রমাণ

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর ) চারটি অভিযোগের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সব অভিযানে অবৈধ পদোন্নতি, ভুয়া জন্মনিবন্ধন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং নিম্নমানের চাল মজুদসহ নানা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।

অভিযান ০১ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের এক ডিজিএমের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে টিম জানায়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে যাচাই শেষে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

অভিযান ০২ : নোয়াখালী
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়ন পরিষদে রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী একটি অভিযান চালায়। টিম অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করে এবং ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবাপ্রার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। টিম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যান্য ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরও জন্ম নিবন্ধন সনদ দেয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দালালদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার আশ্বাস দেন।

অভিযান ০৩ : ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ থেকে আবেদন ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহ একটি টিম অভিযান চালায়। তদন্তে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে ৪৭টি প্রকল্প নেয়া হয়, যার মধ্যে ১৭টি প্রকল্প ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নে। এসব প্রকল্পের টাকা ছাড় হলেও কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া পারিবারিক গোরস্থানকে সামাজিক গোরস্থান দেখিয়ে টাকা উত্তোলন এবং বসতবাড়িতে নামমাত্র কওমি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে বলে টিম প্রমাণ পায়।

অভিযান ০৪ : কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা খাদ্য গুদামে নিম্নমানের চাল মজুদ ও কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ১৩০ বস্তা চাল যাচাই করে নিম্নমানের প্রমাণ মেলে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে অধিকাংশ নাম ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

দুদক জানায়, অভিযানে সংগৃহীত সব রেকর্ডপত্র ও তথ্য যাচাই শেষে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

সূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (Anti-Corruption Commission – Bangladesh) থেকে নেয়া।

ধানের শীষে ভোট চাইলেন অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাতে লিফলেট হাতে জনসাধারণের দ্বারে দ্বারে গেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার শিলক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

লিফলেট বিতরণকালে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বলেন, “ধানের শীষ তারেক রহমানের প্রতীক, ধানের শীষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতীক। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সকলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে এ প্রতীককে জয়ী করবেন—এ প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষকে ভোট দিলে কিভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, তার সবকিছুই এই লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে।”

এ সময় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি কাঁচা বসতঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এতে ঘরের সব আসবাপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চাঁদের টিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডে ভুক্তভোগী মো. শহিদুল হকের চার কক্ষবিশিষ্ট টিন-বেড়ার কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফোরকান জানান, ফায়ার সার্ভিসে খবর পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে ঘরের সব আসবাপত্রসহ পুরো ঘর ভস্মীভূত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহেদুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা আগেই আগুন নেভালেও পুরো ঘর পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলার আগুন থেকেই এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।

বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো (Antonio Alessandro)।

আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তারা দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বন্ধন আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

 

সূত্র: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফেসবুক থেকে।

রাঙ্গুনিয়ায় ঘরে ফেরার পথে যুবক খুন, ঘরের কাছেই মিলল লাশ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মো. খোরশেদ আলম (২৮) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল তালুকদার পাড়া মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি নিহতের বাড়ি থেকে মাত্র ৭০ ফুট দূরে অবস্থিত।

নিহত খোরশেদ আলম ওই এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, রাতে চিৎকার শুনে তারা ছুটে গিয়ে মসজিদের পাশে খোরশেদের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার লাশের পাশে দুটি বিস্কুটের প্যাকেটও পড়ে ছিল।

নিহতের স্ত্রী ইমু আক্তার (২০) জানান, তার স্বামী প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় দোকান থেকে বিস্কুট নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ইমু আক্তার বলেন, “রাত ৯টার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি দুই ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি, মসজিদের পাশে আমার স্বামীর মরদেহ পড়ে আছে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরজাহান জানান, খোরশেদ আলম প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে করেন। তার অন্য ভাইয়েরা প্রবাসে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।”

ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষকারীরা দেশ–জনগণের বন্ধু নয় : রাঙ্গুনিয়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসপি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসপি সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “এখন গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। অনেক পুরনো ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে সুপরিকল্পিতভাবে জনগণকে উত্তেজিত করা হচ্ছে। দেশে বা বিদেশে থেকে যারা এ ধরনের কাজ করছে তারা দেশ ও জনগণের বন্ধু হতে পারে না। তারা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান—কারোই বন্ধু নয়। যারা ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ায়, তারা কখনোই জনগণের বা দেশের বন্ধু হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের কথার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গুজব প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি যাচাই-বাছাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর আস্থা আরও বাড়িয়ে তোলার এটাই উপযুক্ত সময়।”

এসপি সাইফুল ইসলাম সানতু আশ্বাস দিয়ে বলেন, “জনশান্তি ও জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সবসময় প্রস্তুত। সাংবাদিকসহ সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল আরডিবি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

টঙ্গীতে অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার ফাইটারের মৃত্যু, রাঙ্গুনিয়ায় সহকর্মীদের শোক

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ফায়ার সার্ভিস কর্মী শামীম আহমেদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টঙ্গীর সাহারা মার্কেটের একটি কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনসহ নিকটস্থ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কাজ শুরু করে। এসময় ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

শামীম আহমেদ নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০০৪ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

এদিকে তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহেদুর রহমান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আরও এক সহকর্মীকে হারালাম। ২০০৪ সালের ব্যাচের সদস্য শামীম, যিনি টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন, আজ অগ্নিদুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।”