পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রয়োজন অনুযায়ী ৯ জন জনবল পদায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসেছি। হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ জন জনবল পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি মডেল হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশের যেসব হাসপাতাল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে উন্নতমানের প্যাথলজি সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য ১০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী দুই বছরের মধ্যে পটিয়া হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে প্রতিদিন ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং ভর্তি রোগীদের খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজ নেন। ভর্তি রোগীদের রক্ত পরীক্ষা হাসপাতাল থেকেই করার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতার বিষয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে গাইনি, সার্জারি, চক্ষু ও অ্যানেস্থেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগে ৯ জন জনবল পদায়নের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে রেডিওগ্রাফার, ল্যাব টেকনিশিয়ান, মিডওয়াইফ ও বাবুর্চি পদও রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পটিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন এবং ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি হন।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলার পাচুরিয়াস্থ একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
