পটিয়ায় গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিন গরু চুরি, নিঃস্ব পরিবার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় তিনটি গরু চুরির ঘটনায় একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া তিনটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন মালিক বিটু দে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধলঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর যোগেশ ডাক্তার বাড়ির বাসিন্দা বিটু দে বুধবার রাতে বসতঘরের পাশে গোয়ালঘরে তিনটি গরু রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরের কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, গোয়ালঘরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে কোনো গরু নেই।

বিটু দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার জন্য একটা গরুও রাখল না। তিনটা গরুই চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। গরু লালন-পালন করে সংসার চালাই। আমার গরুগুলো ফেরত চাই।’

তিনি বলেন, ‘চোরেরা আমার তিনটি গরু নিয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি কালো রঙের বাছুর, একটি লাল রঙের পাঁচ মাস বয়সী গাভী এবং একটি কালো রঙের দুধেল গাভী রয়েছে। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা।’

স্থানীয় বাসিন্দা রিনা দে বলেন, ‘চার দিন আগেও পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এখন গরু চুরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কীভাবে নিরাপদে থাকব, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ দে বলেন, ‘গরু চুরির ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। অসহায় বিটু দের চুরি যাওয়া গরুগুলো দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে গরু চুরির খবর পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাঙ্গুনিয়ায় ৮৩ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেটসহ ডাম্পার আটক, গ্রেপ্তার ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার ৮৯০ প্যাকেট অবৈধ সিগারেটসহ একটি ডাম্পার ট্রাক আটক করেছে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)। এ সময় তৌহিদুল ইসলাম (২১) ও সাহেদুর ইসলাম নয়ন (২২) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা সিগারেটের আনুমানিক মূল্য ৮৩ লাখ ৩ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ইকো পার্ক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদীর দিকনির্দেশনায় নায়েব সুবেদার মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় সড়কের ওপর একটি ডাম্পার ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ হাজার ৯০ প্যাকেট প্যাট্রন (Patron) এবং ১ হাজার ৮০০ প্যাকেট অরিস (Oris) সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

পরে ডাম্পার ট্রাকটি জব্দ করা হয় এবং ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক তৌহিদুল ইসলাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এবং সাহেদুর ইসলাম নয়ন শিলক গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবি জানিয়েছে, সিগারেটগুলো সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কাপ্তাই লেক হয়ে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক দিয়ে পাচার করা হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব সিগারেট আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের, উদ্ধার করা সিগারেট ও ডাম্পার ট্রাকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাদের রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তরের পক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)।

কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত আভিযানিক টহলের মাধ্যমে চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তারা থানায় এসেছেন। আমাদের কাছে হস্তান্তর করছেন। পুরো বিষয়টি বুঝে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো যাবে।’

রাঙ্গুনিয়ায় হালদা রক্ষায় অংশীজনদের উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অংশীজনদের (Stakeholder) উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’-এর আওতায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরী। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে এহসান শামীম ও উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম।

সেমিনারে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সুফলভোগীরাও অংশ নেন।

সেমিনারে মৎস্যজীবীদের প্রতিনিধি গৌরপদ সরকার ঘোষিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে কার্ডধারী মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে না পারায় মৎস্যজীবীদের আয়-রোজগার বন্ধ থাকে। এ সময়ে তাঁদের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

সভায় হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ, নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্যজীবী, স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইলা বড়ুয়া: অবসরেও থামেনি পাঠদান

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম):

অবসর নিয়েছেন ছয় বছর আগে। কিন্তু থামেনি তাঁর পাঠদান। বয়সের ভার শরীরে, হাতে এখনো চক-ডাস্টার। প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে এসে দাঁড়ান শ্রেণিকক্ষে। সামনে থাকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা। আর শুরু হয় পাঠদান। তিনি ইলা বড়ুয়া—শিক্ষকতা যাঁর কাছে শুধু চাকরি নয়, আজীবনের দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা।

আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব ও শিক্ষকদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই দিনে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন ফটিকছড়ির শিক্ষক ইলা বড়ুয়া। ২০১৯ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি প্রতিদিন ছুটে যান হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নেন তিন থেকে চারটি ক্লাস।

নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হিসাববিজ্ঞান পড়ান তিনি। প্রয়োজন হলে অষ্টম শ্রেণির বাংলা ক্লাসও নেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা এখনো বিলিয়ে দিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের মাঝে।

ইলা বড়ুয়ার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের শুরু ছোটবেলায়। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান তিনি। তাঁর বাবা ভূপেন্দ্র লাল বড়ুয়া ছিলেন সিলেটের একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। বাবাকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াতে দেখে ছোটবেলাতেই তাঁর মনে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন জাগে। সেই স্বপ্ন নিয়েই শুরু হয় তাঁর পথচলা।

১৯৮১ সালে হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ইলা বড়ুয়া। পরের বছর স্বামীর চাকরির সুবাদে ঢাকায় চলে যান। সেখানে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত খিলগাঁও গভর্নমেন্ট কলোনি স্কুলে এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত মাদারটেক বাসাবো বাগানবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

১৯৮৮ সালে আবার ফিরে আসেন হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর কেটে যায় কয়েক দশক। দীর্ঘ এই সময়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। হিসাববিজ্ঞান ছিল তাঁর মূল বিষয়।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার শিক্ষাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে বিদ্যালয়ের পরিবেশও; কিন্তু শ্রেণিকক্ষের প্রতি ইলা বড়ুয়ার ভালোবাসা বদলায়নি।

অবসরের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাঁকে পুরোপুরি বিদায় দিতে চায়নি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নতুন প্রজন্মের কাজে লাগুক—এমন প্রত্যাশা থেকেই ২০১৯ সাল থেকে অতিথি শিক্ষক হিসেবে আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন তিনি।

প্রতিদিন তিন-চারটি ক্লাস নেওয়া এখন তাঁর নিয়মিত রুটিন। কখনো হিসাববিজ্ঞানের জটিল অঙ্ক বোঝান, কখনো বাংলা পড়ান। শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ধৈর্য নিয়ে। বয়সের ছাপ শরীরে থাকলেও পাঠদানের সময় তাঁর কণ্ঠে কিংবা চোখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায় না।

ইলা বড়ুয়া বলেন, ‘যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল বাবাকে দেখে, সেই স্বপ্নের পথচলা এখনো থামেনি। থামাতে চাই না। প্রতিদিন তিন-চারটি ক্লাস, শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্ন আর পাঠদানের ব্যস্ততা—এসবের মধ্যেই যেন আমি নিজের আনন্দ খুঁজে পাই।’

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে অনেকেই যখন বিশ্রামের জীবন বেছে নেন, তখনো ইলা বড়ুয়া ফিরে আসেন শ্রেণিকক্ষে। হাতে চক, সামনে শিক্ষার্থী আর সঙ্গে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাঁর এই পথচলা যেন মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষকতার কোনো অবসর নেই; জ্ঞান ও আলোর পথ দেখানোর দায়িত্ব আজীবনের।

আবৃত্তিতে চট্টগ্রাম জেলায় প্রথম সাংবাদিককন্যা নাজাত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার আবৃত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়েছে রাঙ্গুনিয়ার শিশু আবৃত্তিশিল্পী নাজাত হোসাইন মেহরিন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ‘ক’ বিভাগে অংশ নিয়ে এ সাফল্য অর্জন করে সে।

নাজাতের সাবলীল উচ্চারণ, কণ্ঠের দৃঢ়তা এবং কবিতার ভাব ও ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবৃত্তি বিচারকদের নজর কাড়ে। জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়ে এবার বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাজাতের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

নাজাতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই কবিতা আবৃত্তির প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত আবৃত্তির চর্চা করে সে। জেলা পর্যায়ে প্রথম হওয়ার পর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে তার মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা জানান, বিভাগীয় পর্যায়ের মঞ্চেও নাজাত নজরুলের কবিতার সৌন্দর্য ও মানবতার চেতনা তুলে ধরতে চায়। এ জন্য তাঁরা সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন।

নাজাতের এই সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মেধা ও অনুশীলনের ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করবে নাজাত।

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নাজাত হোসাইন মেহরিন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাবের ছোট মেয়ে।

খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাহবুব আলম

রাঙ্গুনিয়া : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাহবুব আলম।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) জারি করা আদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পরিপত্র এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান ৬৪ অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করা হয়।

অনুমোদিত কমিটিতে মো. মাহবুব আলমকে সভাপতি, মোহাম্মদ আলী নাঈমীকে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য, মো. কামাল উদ্দীনকে অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত সভাপতি মো. মাহবুব আলম বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও সুন্দর ও মানসম্মত করতে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, বোর্ডের অনুমোদন অনুযায়ী নবগঠিত এডহক কমিটি আগামী ছয় মাস বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু

ডেস্ক : চট্টগ্রাম মহানগরে ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে আল আমিন সরদার নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানায়, রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মহানগরের ইস্পাহানি চেকপোস্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল আল আমিন সরদার। এ সময় এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করার সময় একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

আল আমিন সরদার সিএমপি পুলিশ লাইন্সের এসএএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সিএমপির তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন।

নিহত আল আমিন সরদারের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পটিয়ায় দিনে দুপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ চুরি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় দিনে দুপুরে ধলঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে তিনটি সিলিং ফ্যান চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ২-৩ জনের একটি দল কলেজের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা তিনটি সিলিং ফ্যান খুলে নিয়ে যায়। এ সময় নৈশপ্রহরী সুভাষ নাথ বিষয়টি দেখতে পেলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নৈশপ্রহরী সুভাষ নাথ জানান, সিলিং ফ্যান চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আসিফ নামের এক কিশোরকে দেখতে পান। পরে চোরেরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি তিনি কলেজের অধ্যক্ষকে জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধলঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এর আগেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ঘটনায় কলেজ প্রশাসন উদ্বিগ্ন।’

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) যুযুৎম যশ চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

ধলঘাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কুর বলেন, ‘এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বেড়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে পটিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মতবিনিময়

চট্টগ্রাম : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত সভায় জেলার ১৭টি থানার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও জেলা পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমের সভাপতিত্বে সভায় জেলা কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, চট্টগ্রাম মো. সেফাউল হোসেন, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, ভক্তদের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের বিশেষ নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয়ের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানানো হয়। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার বা শেয়ার না করার পাশাপাশি কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নজরে এলে তা দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়। একই সঙ্গে গুজব বা উসকানির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

নারী ভক্তদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্ম, শ্রেণি-পেশা ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দমাত্রা ও সময়সীমা মেনে চলা এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদে আজান ও নামাজের সময় বিশেষ সতর্কতা ও সংবেদনশীলতা অবলম্বনের জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করা হয়।

যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি বা ছোটখাটো বিরোধ যেন বড় ঘটনায় রূপ না নেয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইন নিজের হাতে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার জন্যও বলা হয়।

সভায় জেলার বিভিন্ন থানা থেকে আসা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, সম্ভাব্য সমস্যা, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। জেলা পুলিশ তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজারী, ভক্তবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবকসহ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

বর্ণিল আয়োজনে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির আত্মপ্রকাশ

চট্টগ্রাম : ‘ক্রীড়াই মানসিকতা এবং শারীরিক বিকাশের অন্যতম নিয়ামক’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমি। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দক্ষ ও প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্প্রতি বর্ণিল আয়োজনে একাডেমিটির উদ্বোধন করা হয়।

কিষোয়ান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম শহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ও প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনতে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

অনুষ্ঠানে বনফুল-কিষোয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম একাডেমির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি বলেন, “তরুণদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলার পরিধি বাড়াতে হবে। বনফুল-কিষোয়ান পরিবার সবসময় ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রমের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম লেদু ও সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম. ওয়াহিদ দুলাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএস কাউন্সিলর কাজী জসিম উদ্দিন, বনফুল কোম্পানির জিএম আমান উল আলম, বনফুল লিমিটেডের জিএম শাহ কামাল মুস্তফা, বনফুল লিমিটেডের (মার্কেটিং) জিএম কামাল হোসেন, বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির ডিজিএম আরিফুর রহমানসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে এই একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার উঠে আসবে। তারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের সুনাম বয়ে আনবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং এর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ফটিকছড়িতে ডেঙ্গুতে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে এক পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগানবাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. জসিম উদ্দিন।

নিহত সাইফুল ইসলাম উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের হলুদিয়া এলাকার আসমত আলী মোল্লা বাড়ির পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হেয়াকো বাজারে পল্লী চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি বিয়ে করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে জ্বরসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সাইফুল। তিন দিন আগে পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার বিকেলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তরুণ পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৯ জন জনবল পদায়নের সিদ্ধান্ত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রয়োজন অনুযায়ী ৯ জন জনবল পদায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসেছি। হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ জন জনবল পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি মডেল হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশের যেসব হাসপাতাল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে উন্নতমানের প্যাথলজি সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য ১০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে পটিয়া হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে প্রতিদিন ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং ভর্তি রোগীদের খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজ নেন। ভর্তি রোগীদের রক্ত পরীক্ষা হাসপাতাল থেকেই করার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতার বিষয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে গাইনি, সার্জারি, চক্ষু ও অ্যানেস্থেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগে ৯ জন জনবল পদায়নের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে রেডিওগ্রাফার, ল্যাব টেকনিশিয়ান, মিডওয়াইফ ও বাবুর্চি পদও রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পটিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন এবং ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি হন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলার পাচুরিয়াস্থ একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দিনমজুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা আত্মহত্যা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মোহাম্মদ আবু তৈয়ব নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুরের গলাচিপা এলাকায় একটি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাড়ির পাশের একটি বাগানে গাছের সঙ্গে আবু তৈয়বকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। আবু তৈয়ব দিনমজুরের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাহীদুল বিশ্বাস জানান, বাড়ির পাশের একটি বাগানে আবু তৈয়বের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি কয়েকদিন ধরে স্ত্রীর কাছে ঋণ নেওয়ার কথা বলছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে অভিমান থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এসআই সাহীদুল বিশ্বাস বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

‘সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’: লালানগরে বিএনপি নেতারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ অভিযোগ তুলে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে লালানগর ইউনিয়ন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলটি আলমশাহপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মরিয়মনগর-গাবতল ডিসি সড়ক প্রদক্ষিণ করে লালানগর চতজ্যাপাড়া রাস্তার মাথা হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এমএইচ সুমন। ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস কাঞ্চনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুনাফ, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হারুনুর রশিদ মাসুম, মিজানুর রহমান মিজান ও মো. ইদ্রিস।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. ফারুক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হাসান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. খোকন, সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ বিরুদ্ধে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় রাজপথে থাকার ঘোষণাও দেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্ব হার্ট দিবসে পার্কভিউ হাসপাতালে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

চট্টগ্রাম : বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি এবং জরুরি সময়ে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘Don’t Miss A Beat’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচির প্রথম দিন ২৯ সেপ্টেম্বর পার্কভিউ হসপিটাল প্রাঙ্গণে বেলুন ওড়ানো ও কেক কাটার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি মির্জাপুল এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ৩০ সেপ্টেম্বর পার্কভিউ হসপিটালের ১২ তলা কনফারেন্স হলে ‘Scientific Seminar on World Heart Day & Celebrating 500 Primary PCIs in Parkview Cathlab’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, প্রাইমারি পিসিআই (PCI) এবং অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (AMI) ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের প্রধান ডা. তানজিলা তাবিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সেমিনারের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ডা. হাফেজ মো. মুজিবুল হক।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারে ‘Don’t Miss A Beat’ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আ ই ম ন জাহাঙ্গীর সেলিম। তিনি হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত লক্ষণ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং রোগীর জীবন রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

‘Primary PCI in Parkview Cathlab’ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইকবাল মাহমুদ। তিনি প্রাইমারি পিসিআইয়ের মাধ্যমে জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারের প্রধান অতিথি কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল পিএলসির সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কার্ডিওলজি ডা. কায়সার নাসরুল্লাহ খান ‘Management of AMI – Bangladesh Perspective’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (AMI) ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. শেখ মো. হাসান মামুন, ডা. নুর উদ্দিন তারেক ও ডা. আনিসুল আওয়াল।

সেমিনারে পার্কভিউ ক্যাথল্যাবে ৫০০টি প্রাইমারি পিসিআই সম্পন্নের মাইলফলক উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. এম. এম. আলম সাদী বলেন, “হৃদরোগের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং দ্রুততম সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসক দলের সমন্বয়ে পার্কভিউ হাসপাতাল হৃদরোগীদের মানসম্মত ও সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।”

সভাপতির বক্তব্যে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. টি. এম. রেজাউল করিম বলেন, “পার্কভিউ ক্যাথল্যাবে ৫০০টি প্রাইমারি পিসিআই সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতেও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং চট্টগ্রামের মানুষের জন্য উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হৃদরোগের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ ধরনের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে হৃদরোগ চিকিৎসার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির সার্বিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পার্কভিউ হাসপাতালের মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন মার্কেটিং টিম।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় একটি পুলিশ ক্যাম্প এবং কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বেতাগীতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি জহির উদ্দিন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ, হুমাম কাদের চৌধুরী এমপির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুহিবুল কবির তমাল, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শওকত আলী নূর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন শাহ, মাঈন উদ্দিন রোকন, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, কিশোর গ্যাং, বখাটেপনা, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উত্তর রাঙ্গুনিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ওই এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়। সভায় বলা হয়, দুর্গম ও বিস্তৃত এলাকার কারণে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় অনেক সময় দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বেতাগীতে নদীপথে নজরদারি বাড়াতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর অপরাধ, বখাটেপনা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় বর্ধিত পৌর কর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় হোল্ডিং ট্যাক্স (পৌর কর) বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন পৌর এলাকার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকেরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘ভুক্তভোগী পৌরসভার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকেরা, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বর্ধিত পৌর করের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একতিয়ার হোসেন, ইসলামী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছাদেক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ফারুকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, পৌর এলাকার বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর আগে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁরা বর্ধিত পৌর কর পুনর্বিবেচনা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ভিপি আনছুর উদ্দিন বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বর্ধিত কর প্রত্যাহার বা পুনর্নির্ধারণ না করা হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বক্তারা আরও বলেন, পৌর কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা উচিত। তারা দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের কোডে অতিরিক্ত ‘৮’, ইউএনও পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, +88801789796160 নম্বর থেকে এক ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে নিজেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, তাঁর অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর +8801789796160। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নম্বরটি দেখতে অফিসিয়াল নম্বরের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিল রয়েছে। শুধু দেশের কোড +880-এর পর অতিরিক্ত একটি ‘৮’ যুক্ত করে +88801789796160 নম্বরটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, “আমার পরিচয়ে কেউ ফোন করে অর্থ বা অন্য কোনো ধরনের সুবিধা দাবি করলে তা বিশ্বাস করবেন না। কোনো কল বা অনুরোধ সন্দেহজনক মনে হলে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করবেন।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক কল সম্পর্কে অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান।

দুই থানার পৃথক অভিযানে রাঙ্গুনিয়ায় গ্রেপ্তার ৫, সাজা ৩ মাদকসেবীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ডেভিল হান্ট, পরোয়ানা তামিল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তিনজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অভিযানে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা, ছয়টি সিআর সাজা পরোয়ানা এবং তিনটি সিআর পরোয়ানার ভিত্তিতে দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আমতলী পাড়ার মো. সোহাগ (২২) এবং পশ্চিম বগাবিলি এলাকার সুদত্ত বড়ুয়া। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে সরকার ঘোষিত ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সক্রিয় সদস্য আবুল কাসেম বাদশা ওরফে বাদশা মিয়া (৩৫) এবং লালানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. হারুন (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহির উদ্দিন।

অন্যদিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত ও পাঁচটি জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আলমগীর (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

পুলিশ জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৪৪৫

চট্টগ্রাম: কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় এনে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে, অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়।

অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাসায় ফিরছে কি না—এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব নির্বাচন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিশোর অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গু দমনে সীতাকুণ্ডে বিশেষ অভিযান, নজরদারিতে ৭ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

চট্টগ্রাম : সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চিহ্নিত সাতটি হটস্পট নির্মূলে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, “সাত দিন পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর কোনো হটস্পট থাকবে না—সেখানেই আমাদের অভিযান সফল হবে। আক্রান্তের সংখ্যা না কমলে এই অভিযানকে সফল বলা যাবে না।”

শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌরসভা চত্বরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসক নিজে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন অভিযানে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে জানানো হয়, সীতাকুণ্ডে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সাত দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি এলাকা—ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, জেলেপাড়া, বাড়বকুণ্ড, ফুলতলা, বার আউলিয়া ও কলেজ রোডকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৬টি নতুন ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক সংগ্রহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ ও ড্রেনে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। বিশেষ করে জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার স্ক্র্যাপ ধাতুতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

ডেস্ক: মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জহুরুল আলম জহুর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা সময়ের দাবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়তে প্রশাসন-স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং আল হাইথাম কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন যুব, সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীরা দলবদ্ধভাবে সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং সেগুলো নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। উদ্বোধনের পর তিনি নিজেও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করা সম্ভব।”

অভিযানে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা আরও বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি হবে এবং নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

রাঙ্গুনিয়ায় খালে পড়ে মেধাবী মাদ্রাসাছাত্র মিনহাজের করুণ মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজখালী খালে পড়ে মুহাম্মদ মিনহাজ (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খতিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিনহাজ ওই এলাকার মুহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে। সে ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মিনহাজ বাড়িতে সাইকেল রেখে এক বন্ধুর সঙ্গে বের হয়। একপর্যায়ে রাজখালী খালের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় সে পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে থাকা বন্ধু মিনহাজকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে তাকে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাদ্রাসা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে তিন দিন আগে মিনহাজকে হিফজ বিভাগ থেকে ছুটি দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান তার মা। শনিবার সকালে তাকে আবার মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেই বন্ধুর সঙ্গে বের হয়ে যাওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুল আলম বলেন, “মুহাম্মদ মিনহাজ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজ করেছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কার্যক্রম সফল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।

এর আগে সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে বিডি ক্লিনের প্রায় ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সচেতন সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গুনিয়ায় চলমান খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের কাজ পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

খাসজমি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সরকারি সম্পত্তি যথাযথভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার বিষয়ে সংসদ সদস্য জানান, দেশের অন্যান্য ৫০ শয্যার হাসপাতালের মতো এটিকেও ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় সাইবার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়” শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।

সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব ও অপতথ্য শনাক্তকরণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে—এমন কনটেন্ট দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় গুজব শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যভিত্তিক বার্তা প্রচারের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভা থেকে জনসাধারণকে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত করা, দ্রুত সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় বজ্রপাতে অগ্নিকাণ্ড, বসতঘর পুড়ে ছাই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরসহ ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মুন্সি স্কুলের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ওই এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌসের (স্থানীয়ভাবে ‘মায়ার মা’ নামে পরিচিত) বসতঘরে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে টিন ও বেড়ার তৈরি ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রীও আগুনে ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা মো. মিজান জানান, বজ্রপাতের সময় ঘরের গ্যাসের চুলা জ্বালানো ছিল এবং ঘরের মালিক বাইরে অবস্থান করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাত গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারে প্রভাব ফেলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘরটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে আমাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাত থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।”

‘নোংরা খাল রেখে পর্যটক আনা সম্ভব নয়’—কোদাল হাতে হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পর্যটন বিকাশে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোদাল হাতে খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়ার কুলকুরমাই খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, দেশে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা খাল ও জলাশয় ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। মানুষকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে হলে খালগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে পর্যটনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার খালগুলো পরিষ্কার না থাকলে পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, পর্যটনকে আকর্ষণীয় করতে হলে প্রথমেই রাঙ্গুনিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে। কোনো পর্যটক নোংরা পরিবেশের এলাকায় আসতে চাইবেন না। তাই খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে হুমাম কাদের বলেন, বাংলাদেশের সেরা সন্তান বিডি ক্লিনের ছেলেমেয়েরা। তারা কোনো টাকা-পয়সা বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা না করে নিজের ইচ্ছায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করছে। প্রয়োজন হলে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজও করছে। তাদের প্রতি মন থেকে ভালোবাসা ও সালাম জানান তিনি।

এমপি জানান, শুরুতে ৪০০ থেকে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে খাল পরিষ্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বিডি ক্লিনের কার্যক্রম দেখে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক রাঙ্গুনিয়ায় কাজ করছেন।

স্থানীয়দের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি ইউনিয়ন ও বাজারে বিনামূল্যে ডাস্টবিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকে তা ব্যবহার না করে ডাস্টবিনের আশপাশেই ময়লা ফেলেছেন।

‘আমরা বিডি ক্লিনকে এখানে নিয়ে এসেছি, কারণ আমাদের জনগণকে আরও একটু সচেতন করতে হবে। তারা যখন দেখবে তাদের এলাকার ময়লা বাইরের মানুষ এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যাচ্ছে, তখন হয়তো তাদের মনে একটা ডাক আসবে—এখন থেকে আমরা আর আমাদের এলাকাকে ময়লা করে রাখব না,’ বলেন তিনি।

রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের বলেন, খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুটি খালের খননকাজ সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বান্দরবান ও কাপ্তাই অঞ্চলের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ থাকায় এ উপজেলায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

নিজের দায়িত্বকালের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে হুমাম কাদের বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কিছু ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের মাত্র ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছয় মাস অনেক কম সময়। ছয় মাসের মধ্যে একটা সরকারের সাকসেস অথবা ফেইলিয়র বুঝতে পারবেন না। একটু সময় দেন আমাদের। ইনশাআল্লাহ কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কী করতে পারে।’

বিডি ক্লিনের এক প্রতিনিধি জানান, সংগঠনটি ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশের ৫৭টি জেলা ও ১৬৫টি উপজেলায় তাদের টিম রয়েছে।

তিনি জানান, হুমাম কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণীর সঙ্গে যোগাযোগের পর রাঙ্গুনিয়ায় এ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে একটি টিম এসে এলাকা পরিদর্শন করে। পরে সাড়ে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কুলকুরমাই খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ থেকে ছয়টি জেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দিনব্যাপী খাল পরিষ্কারের কাজ চলবে এবং এর মাধ্যমে খালের পানির প্রবাহমান স্রোত দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিডি ক্লিনের প্রতিনিধি।

রাঙ্গুনিয়ায় ইটভাটায় আগাম সতর্কতা, মালিকদের নোটিশ পরিবেশ অধিদপ্তরের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি) ব্যবহার না করার বিষয়ে ভাটা মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের নির্দেশে রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরেজমিনে গিয়ে মালিকদের হাতে সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদান করেন।

এ সময় ইটভাটার মালিকদের অবৈধভাবে ভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং কৃষিজমির টপসয়েল সংগ্রহ ও ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও ইটভাটার আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহা আর নেই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহা আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা এই নারী বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান রাষ্ট্রের পক্ষে তাঁকে সম্মাননা জানান। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। রাঙ্গুনিয়ার নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুলেখা রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলেখা রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন। তিনি হোসনাবাদ দুর্গাবাড়ীর গীতা শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গীতা শিক্ষার মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বুধবার রাতে তাঁর পরলোকগমনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দা, সহযোদ্ধা ও গীতা শিক্ষার্থীরা তাঁর বাড়িতে ছুটে আসেন। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেকে তাঁর কর্মময় জীবন ও স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সুলেখা রানী সাহার মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর অবদান ও কর্মময় জীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।