৩১ দফা লিফলেট হাতে রাঙ্গুনিয়ার মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ৩১ দফা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ও হাটবাজারে প্রচারণা চালাচ্ছেন যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও হাটবাজারে দিন-রাত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এই ৩১ দফা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের শান্তি নিকেতন এলাকাতেও তাকে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।

এ সময় তিনি স্থানীয়দের ও পথচারীদের হাতে ৩১ দফা-সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সালাম জানান। পাশাপাশি তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এই যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

সেখানে তিনি বলেন, “আমরা বিগত ১৭ বছর যেভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্যও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, আগামী ফেব্রুয়ারিতে, বাংলাদেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে উত্তর চট্টলার সাতটি আসনে যাকে তারেক রহমান মনোনয়ন দেবেন, আমরা সবাই ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এক হয়ে কাজ করব—এই প্রত্যাশা রাখি।”

মুরাদ চৌধুরী আরও বলেন, “ধানের শীষের বিজয়ের জন্য আমাদের গ্রামগঞ্জে গিয়ে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে হবে। এই সমর্থন আদায়ের জন্য সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজনীতি করতে হবে। মানুষের আশা-প্রত্যাশা বুঝতে হবে।”

সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনগণের পাশে দাঁড়ান, তাদের কল্যাণে কাজ করুন। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে ভালোবাসা ও জনগণের আস্থার মাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে সংসদে যেতে পারেন এবং বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।”

রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে জামায়াতের প্রার্থী ডা. রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার রাণীরহাট বাজারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত জনসংযোগ ও গণসমাবেশে অংশ নেন দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এ সময় তিনি রাণীরহাটসহ আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাজার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, “রাণীরহাট, ইসলামপুর, রাজানগর ও বাগাবিলি এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এখানে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অসুস্থ রোগীদের চট্টগ্রাম বা রাঙ্গামাটি নিয়ে যেতে হয়, যা দীর্ঘ পথের কারণে অনেক সময় জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভঙ্গুর। রাস্তাগুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি ইছামতী নদীর ভাঙন থেকে রাণীরহাট বাজারকে রক্ষা করে এটিকে আধুনিক বাজারে রূপ দেওয়া হবে।”

গণসংযোগ শেষে এক পথসভায় এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দাবি তুলে ধরেন তিনি। এর আগে রাণীরহাট বাজারের প্রতিটি গলি ও দোকানে ঘুরে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ডা. রেজাউল করিম।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গামাটি জেলা আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি মনসুরুল হক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, ইসলামপুর ও রাজানগর ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আহমদ নবী, সদস্য সচিব নুরুল আবছার মেম্বার প্রমুখ।

গণসংযোগকালে রাণীরহাট বাজার সমিতি, বণিক সমিতি, চাল ব্যবসায়ী সমিতি, মামরা সম্প্রদায় গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

তরুণদের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতা, যিনি তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন— এমন মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে ছাত্রসমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা এ কথা বলেন।

আয়োজনটি করে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, “বিএনপি উদার মনের একটি রাজনৈতিক দল, এটি ছাত্রবান্ধব ও গণতন্ত্রের রক্ষক। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ছিল স্বনির্ভর, দেশপ্রেমিক ও জনমুখী বাংলাদেশ গড়া। তারেক রহমান সেই আদর্শের আলোকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলম।
সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এস শোয়াইব কাদের এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী ফরহাদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন রুবেল, মো. ইয়াছিন, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাস্টার ইমরান, ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ সায়মন, রাজানগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা।

আগামীর নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ: রাঙ্গুনিয়ায় এলডিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নুরুল আলম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় র‍্যালি ও পথসভা করেছে দলটি।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রধান র‍্যালিতে যোগ দেন। র‍্যালিটি চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা সদরের ইছাখালী এলাকায় পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলম বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি এলডিপির প্রার্থী ছিলাম না, ছিলাম জোটের প্রার্থী। সামনে যে নির্বাচন আসছে তা হবে একটি অভিনব, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন—যেখানে কোনো জালিয়াতি থাকবে না। আমি চাই, সেই নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়াবাসীর রায়ে আমার নাম ও এলডিপির সম্পৃক্ততা থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ দীর্ঘদিনের নীরবতা, বিচ্ছিন্নতা ও দ্বিধা–দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে রাঙ্গুনিয়াবাসীকে জানিয়ে দিচ্ছি—আমরা আছি, আমরা থাকব, আমরা রাজনীতি করছি এবং আগামীতেও নির্বাচনে অংশ নেব।”

নুরুল আলম জানান, এলডিপি এখনো জোটে রয়েছে এবং দলীয় মনোনয়নও পেয়েছে। অচিরেই জোটের প্রার্থীতা ঘোষণা হবে।
“আজকের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এতদিন আমাদের মধ্যে কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা ছিল, এখন আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। আজকের এই র‍্যালি ও পথসভায় আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, ভবিষ্যতের প্রতিটি কর্মসূচিতেও একইভাবে অংশগ্রহণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন—এই প্রত্যাশা করছি। এই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

রাঙ্গুনিয়ার জন্য সুখবর আসছে, নেতাকর্মীদের অপেক্ষা করতে বললেন বিএনপি নেতা কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রস্তাবিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়ায় মহাসমাবেশ করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান বাসস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক শামশুল আলম কন্ট্রাক্টর। সদস্য সচিব আবদুস সালাম মেম্বার ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোজাফফর চৌধুরী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আজম খাঁন, রাঙ্গুনিয়া পৌর বিএনপির আহবায়ক মো. মাহবুব ছফা, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া চেয়ারম্যান, যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক, মুজিবুল আলম মুজিব ও ওসমান গনি প্রমুখ।

সভায় প্রধান বক্তা সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী বলেন, “আজকের এই সভা রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নেতাকর্মীরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে সাংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে কাজ করেন, তাহলে হাইকমান্ড জানবে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি ঐক্যবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐক্যবদ্ধভাবেই করবো। আমাদের শক্তি সাংগঠনিক শক্তি, জনতার শক্তি—এই শক্তিকে কেউ দমাতে পারবে না।”

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে হবে। কেউ যদি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা মেনে নেওয়া হবে না।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এটি হবে আমাদের প্রথম দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “মরিয়ম নগর থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত ডিসি রোড সম্প্রসারণ, গুমাই প্রকল্পের উন্নয়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং প্রবাসে যাওয়ার আগ্রহীদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত রাঙ্গুনিয়ায় একটি বড় পরিসরে এতিমখানা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।”

তিনি জানান, “তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা রাঙ্গুনিয়ার অলিগলিতে মানুষের কথা শুনছি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করা হবে।”

দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “গত ১৭ বছর যারা রাজপথে ছিল, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে—আমি সবসময় তাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের জন্য সুখবর আসছে। একটু ধৈর্য ধরুন, বিজয়ের হাসি রাঙ্গুনিয়াবাসী হাসবে। সেই প্রত্যাশা রেখে ধানের শীষের মার্কা যিনিই নিয়ে আসবেন তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি আবু আহমেদ হাসনাত বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাঙ্গুনিয়ার মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত। তাঁর আদর্শেই আজ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তারেক রহমান বিবিসিতে বাংলাদেশের প্রতিটি নেতাকর্মীর কথা বলেছেন, নিজের নয়। তিনি দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষ সবসময় ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে পাশে থেকেছে। তাই আমরা চাই, রাঙ্গুনিয়ার নেতৃত্ব রাঙ্গুনিয়ার মানুষের হাতেই থাকুক। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই হবে আমাদের চূড়ান্ত নির্দেশ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা বাস্তবায়ন করবো।”

নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম: নোয়াখালীর কাশেম বাজার জামে মসজিদে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে হামলার অভিযোগে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নগরের মুরাদপুর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি দুই নম্বর গেটে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

ছাত্রশিবির মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মুমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।

সমাবেশে তানজির হোসেন জুয়েল বলেন, “কুরআনের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়। যুগে যুগে ইসলামবিরোধী শক্তি কুরআনের প্রোগ্রামে হামলা চালিয়ে এসেছে। অতীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রমজানে কুরআন তালিম ও ইফতার প্রোগ্রামে হামলা করেছে— এখন নব্য ফ্যাসিবাদিরা সেই পথেই হাঁটছে।”

তিনি আরও বলেন, “মসজিদ কারো বাপের সম্পত্তি নয়। মসজিদে কুরআন ও হাদিসের আলোচনা হবেই। যারা বাধা দেবে, তাদের জবাব দেওয়া হবে— এটি প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, “নোয়াখালীতে ছাত্রদল- বিএনপির সন্ত্রাসীরা পবিত্র কুরআন তালিমে হামলা চালিয়ে আমাদের ভাইদের রক্তাক্ত করেছে। তারা আমাদের মা-বোনদের প্রোগ্রামেও হামলা করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণেই ছাত্র সমাজ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে— যার প্রমাণ ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুতে তাদের শোচনীয় পরাজয়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সন্ত্রাস যে মোড়কেই আসুক আমরা প্রতিহত করব। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমরা ঐক্যবদ্ধ।”

রাঙ্গুনিয়ায় নদী–খাল রক্ষায় এক মঞ্চে বিভিন্ন দল: ঐক্যের বার্তা উন্নয়নের পথে

বিশেষ প্রতিবেদন: কর্ণফুলী নদী, ইছামতী ও শিলক খালসহ উপজেলার জলাশয়গুলো রক্ষায় এক মঞ্চে বসেছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। পরিবেশ ও উন্নয়নের স্বার্থে এমন ঐক্য রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ‘রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্র–জনতা’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় নদী–খাল রক্ষা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক। এতে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতিতে এক বিরল ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর আবু শাকের ভুইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হাছান মুরাদ, এলডিপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ কবির, ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন হাছান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম আরিফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সভাপতি আশরাফ গনি চৌধুরী, ইছামতী নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি এ বি এস মোরশেদ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার।

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবদুল করিম টিপু, আদনান রাফি, মো. কলিমুল্লাহ, মো. সাজিদ, সরওয়ার নূর, ওয়াহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, উমর ফারুক, মো. আসলাম হোসেন আসাদ, মো. আসিক, আফিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মো. অপু প্রমুখ।

“কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা”
বক্তারা বলেন, “কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন, পরিবেশের ক্ষতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এই নদী বাঁচানো মানে রাঙ্গুনিয়া বাঁচানো।”
তাদের মতে, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও নদী–খাল রক্ষার প্রশ্নে সকলের ঐক্য রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দেবে।

চার দফা দাবি:
ছাত্র–জনতা বৈঠকে চার দফা দাবি উপস্থাপন করে—
১. অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সব ইজারা বাতিল
২. উপজেলা পর্যায়ে নদী রক্ষা কমিটি গঠন
৩. কর্ণফুলী নদীতে নিয়মিত নৌ পুলিশের টহল
৪. বেতাগী এলাকায় নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন

বক্তারা বলেন, এসব দাবিই স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

প্রশাসনের ভূমিকা ও জনআস্থা:
সভায় ইজারাদারদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কে অতিরিক্ত ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব তোলা হয়।
ইউএনও মো. কামরুল হাসান বলেন, “সবার সমন্বয়ে আমরা যদি নদী রক্ষা করতে পারি, তাহলে রাঙ্গুনিয়া শুধু পরিবেশ নয়—উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠকের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের এক নতুন ধারা সূচিত হয়েছে বলে স্থানীয় মহলে মত প্রকাশ পাওয়া গেছে।

“নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, জীবিকা বাঁচবে, রাঙ্গুনিয়া বাঁচবে”
বিভিন্ন দলের নেতা, প্রশাসন ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে দেখা মিলেছে এই বৈঠকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সংহতি এবং টেকসই উন্নয়নের পথ উন্মুক্ত করবে।

রাঙ্গুনিয়ার মানুষ এখন আশাবাদী—
“নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, জীবিকা বাঁচবে, আর রাঙ্গুনিয়া বাঁচবে।”

এই সর্বদলীয় বৈঠক তাই শুধু নদী রক্ষার নয়, বরং রাঙ্গুনিয়ার ঐক্য, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন ।

রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী–ইছামতী রক্ষায় সর্বদলীয় বৈঠক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): কর্ণফুলী নদী, ইছামতী ও শিলক খালসহ উপজেলার বিভিন্ন খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদী রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ‘রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্র-জনতা’র উদ্যোগে এই বৈঠক হয়।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, “কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন, পরিবেশের ক্ষতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এই নদী বাঁচানো মানে রাঙ্গুনিয়া বাঁচানো। তাই কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খালসহ সব জলাশয় রক্ষা আমাদের দায়িত্ব।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর আবু শাকের ভুইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হাছান মুরাদ, এলডিপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ কবির, উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন হাছান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম আরিফ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙ্গুনিয়া শাখার সভাপতি আশরাফ গনি চৌধুরী, ইছামতী নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি এ বি এস মোরশেদ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার।

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবদুল করিম টিপু, আদনান রাফি, মো. কলিমুল্লাহ, মো. সাজিদ, সরওয়ার নূর, ওয়াহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, উমর ফারুক, মো. আসলাম হোসেন আসাদ, মো. আসিক, আফিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মো. অপু প্রমুখ।

বৈঠকে ছাত্র-জনতা চার দফা দাবি উপস্থাপন করে। দাবিগুলো হলো— অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সব ইজারা বাতিল, উপজেলা পর্যায়ে নদী রক্ষা কমিটি গঠন, কর্ণফুলী নদীতে নিয়মিত নৌ পুলিশের টহল এবং বেতাগী এলাকায় নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন।

বক্তারা প্রশাসনের ব্যর্থতা, বালুমহালের অনিয়ম, ট্রাক চলাচল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।

সভায় ইজারাদারদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কে অতিরিক্ত ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাবও তোলা হয়। এছাড়াও মাদককারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়।

চট্টগ্রামে দায়িত্ব নিলেন নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের তথ্যে বলা হয়, বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সাইফুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি উপসচিব হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে এবং ইকোনমিক অ্যানালিস্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসে দায়িত্ব পালন করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও জনসেবায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাছির উদ্দিন রিয়াজ গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাবেক সভাপতি নাছির উদ্দিন রিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তার নাছির উদ্দিন রিয়াজ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শান্তিনিকেতন এলাকার মৃত মঞ্জুর হোসেনের ছেলে।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, শনিবার (১৮ অক্টোবর) সিএমপি চান্দগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা, একটি নরহত্যা, একটি বিস্ফোরক দ্রব্য এবং একটি হত্যা চেষ্টার মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর জানাজা আজ নিজ এলাকায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরার পর আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) নিজ নিজ এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা যায়, সন্দ্বীপের সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এনাম নাহার মোড়সংলগ্ন পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নিহত প্রবাসীদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠানের ঘোষণা ছিল। সকাল থেকেই সেখানে হাজারো মানুষ সমবেত হন। তবে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে সেখানে জানাজা না হয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহগুলো জানাজার জন্য নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রবাসী সাহাব উদ্দিনের জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়ি সংলগ্ন সাঈদ মার্কেটের দারুল উলুম মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই স্থানে প্রবাসী বাবলুর জানাজাও সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রবাসী রনির জানাজা দুপুর ১২টায় তালুকদার মার্কেট এলাকায়, প্রবাসী আরজুর জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নিজ এলাকায়, প্রবাসী জুয়েলের জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে মাইটভাঙ্গা কালু সর্দার বাড়ি সংলগ্ন জমার গো স্কুল মাঠে, প্রবাসী রকির জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সাগরিকা বাংলাবাজারে এবং প্রবাসী আরজুর জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সারিকাইত ৪ নম্বর ওয়ার্ড খান জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে নিহতদের মরদেহ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহত সাতজন প্রবাসী সাগরে মাছ শিকারের কাজে যুক্ত ছিলেন। তারা হলেন— আমিন মাঝি (৫০), মো. সাহাবুদ্দিন (২৮), মো. বাবলু (২৮), মো. রকি (২৭), মো. আরজু (২৬), মো. জুয়েল (২৮) ও মোশারফ হোসেন রনি (২৬)।

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ওমানের ধুকুম প্রদেশের সিদরা এলাকায় ওই সাত প্রবাসী বহনকারী একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা নিহত হন।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, “সাতজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক মৃত্যু সন্দ্বীপবাসীকে শোকাহত করেছে।”

লোহাগড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী যুবক ও কিশোর নিহত

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পুরান বিওসি এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মো. ফারুকের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৬) এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার আ. রহমানের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দীক (১৪)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহেল রানা ও আবু বক্কর মোটরসাইকেলে করে লোহাগাড়া বটতলী শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পুরান বিওসি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রহুল আমিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। ঘাতক বাসটি শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে থাকতে চান জামায়াত প্রার্থী ডা. রেজাউল

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মরিয়মনগর জামায়াতের উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেন, “আমি কোনো একক দলের প্রার্থী নই। আমি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাঙ্গুনিয়ার সকল জনগণের প্রতিনিধি হতে চাই। আমি এই মাটির সন্তান, এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার।”

সভায় তিনি তার ২০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ, মরিয়মনগর-রাণীরহাট ডিসি রোড প্রশস্তকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, গুমাইবিল সংরক্ষণ ও কর্ণফুলী নদীর দুষণ রোধ, প্রবাসীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নারীদের জন্য হাইজিন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়তে চাই। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি নেওয়া একজন মাঠ পর্যায়ের কর্মী হিসেবে আমি এই এলাকার মানুষের সমস্যা ও চাহিদা সম্পর্কে অবগত।”

ডা. এটিএম রেজাউল করিম তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সব বীর শহিদদের, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে, জনগণ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এবং গণতন্ত্রের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রদ্ধা জানাই সেই সকল আহত ও পঙ্গু আন্দোলনকারীদের প্রতি, যাঁরা ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে দেশব্যাপী গণআন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।”

ডা. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা সমস্যার নিকটতম প্রত্যক্ষদর্শী, তাই আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ আমার জন্য অমূল্য।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও রাঙ্গুনিয়া এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। এই অবস্থা পাল্টাতেই আমি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”

অনুষ্ঠান শেষে ডা. রেজাউল করিম উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনে তাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামী প্রথমে এই আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তবে বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি সরে দাঁড়ালে তার ভাগিনা ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এবার চাকমা পাড়ায় ধানের শীষে ভোট চাইলেন অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থাপিত ৩১ দফা লিফলেট হাতে নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) উপজেলার চন্দ্রঘোনা জোমপাড়া ও চাকমা পাড়ায় প্রচারণা চালান বিএনপির এই নেতা।

৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগকালে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন,“আজ রাঙ্গুনিয়া থানার অন্তর্গত ১১ নম্বর কদমতলী ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী হোছনাবাদ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোমপাড়া ও চাকমা পাড়ায় আমরা গণসংযোগ করেছি। এলাকার চাকমা, মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলে তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপরেখা ব্যাখ্যা করেছি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আমরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “৩১ দফার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ গড়া, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘হেলথ কার্ড’, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘ফারমার্স কার্ড’—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন তারেক রহমান। এই কর্মসূচি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি এবং মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।”

অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার আরও বলেন, “মানুষের সমস্যা ও চাহিদাগুলো আমরা নোট করছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে যেমন তাদের পাশে থেকেছি, তেমনি দল ক্ষমতায় এলে ইনশাআল্লাহ আরও বড় পরিসরে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

এ সময় তিনি উপস্থিতদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

দেশজুড়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ায়ও উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কোটি শিশু ও কিশোর বিনামূল্যে এই টিকা পাবেন। জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। কর্মসূচি মাসব্যাপী চলবে এবং ১৩ নভেম্বর শেষ হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া শিশু মেলা মডেল স্কুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ‘জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শরমা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এই টিকাটি আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহায়তায় সরকার পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো দেশে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।

সরকারের লক্ষ্য—এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধন করেছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিবন্ধন করা যাবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে, যা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল-মাদ্রাসায় টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি স্কুল-মাদ্রাসায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।

“শুধু বিএনপি নয়, সব বিরোধী দল জুলুমের শিকার হয়েছে” — হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “জুলুম শুধু বিএনপির ওপরেই হয়নি, সকল বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও একই রকম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।”

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের রাজারহাট বাজার মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুম্মাম কাদের বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—নির্বাচনের আগে কেউ যদি দলের বিরুদ্ধে বা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে। রাঙ্গুনিয়ার পক্ষ থেকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, এখানে এমন কিছু ঘটবে না। যারা নিজেদের ‘জিয়ার সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন, তারা সবাই দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।”

হুম্মাম কাদের আরও বলেন, “আমরা শুধু নির্বাচনের জন্য এখানে আসিনি—দেখাতে এসেছি যে বিএনপি এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং মাঠে সক্রিয় রয়েছে। আজকের জনসভায় যারা উপস্থিত হয়েছেন, তারা সবাই দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সক্রিয় সদস্য। দলের সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে চলি, আমরাও চাই আপনারাও তা মেনে চলুন—এই অঙ্গীকার আমরা আজ একসঙ্গে করেছি।”

চট্টগ্রাম শহর থেকে রাঙ্গুনিয়ায় আসার পথে বিভিন্ন সংগঠনের মিছিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাস্তায় হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার দেখা গেছে। এরা কেউই আমাদের বাইরে নয়। গত ১৭ বছর ধরে তারা আন্দোলনে আমাদের পাশে ছিল। আমরা কাউকে ছোট চোখে দেখি না—যে সম্মান তারা আমাদের দিয়েছে, আমরাও তা ফিরিয়ে দেবো।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির মতো অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর ওপরও একই ধরনের জুলুম-নির্যাতন হয়েছে। এখন সময় এসেছে দেশকে গুছিয়ে নেওয়ার। তারেক রহমান চেষ্টা করছেন সব দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে—আমাদেরও সেই চেষ্টায় অংশ নিতে হবে।”

ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “যদি জোট না হয় বা অন্য দলগুলো নিজেদের ব্যানারে নির্বাচন করতে চায়, তাহলেও রাঙ্গুনিয়ার জনগণ দেখিয়ে দেবে কিভাবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করা যায়।”

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের কিছু দোসর এখনো এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্দ্বীপের সাত বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: ওমানের দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই ওমানে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতদের সবাই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের মধ্যে পাঁচজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বাবলু, সাহাবুদ্দিন, আমিন সাওদাগর, আরজু ও রকি।

স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বাকিরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

একই এলাকার সাতজন প্রবাসীর একসঙ্গে মৃত্যুতে সারিকাইতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যা এই শোককে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।

ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদারকি করছে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দেবেন নিরাপদে: চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

চট্টগ্রাম: “থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিবেন নিরাপদে”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নির্বাচনি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনসের সিভিক সেন্টারে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি প্রশিক্ষণ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এই প্রশিক্ষণ কোর্সে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আগত মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতকরণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুলিশের দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠা অপরিহার্য। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পুলিশের দায়িত্ব পালনে আরও আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বাড়াবে।”

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম-বার বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনের সময় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতে আমাদের সদস্যরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সময়ে জনপদে পুলিশের উপস্থিতি জনগণের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তা সৃষ্টি করবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি), হাটহাজারি সার্কেল অফিসার, প্রশিক্ষক এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।

কোরআনের শিক্ষা আলোকিত জাতি তৈরি করে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা উদ্বোধনকালে বক্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে রাঙ্গুনিয়ার ধামাইরহাটের উত্তর পাশে আজম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্বপাশে নতুন মাদ্রাসা মারখাজুল উলুম তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন আগত অতিথিরা।

উদ্বোধনের পর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী খাজা গিয়াস উদ্দিন ছালেকী, এবং যৌথ সঞ্চালনা করেন কাজী মুহাম্মদ আলমগীর ও এডভোকেট ফরহাদুল আলম জুয়েল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম শায়েখ আল্লামা সায়দ হোসাইন বলেন, “পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি আলোকিত হতে পারে না। এই মাদ্রাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি এলাকার মানুষকে আল্লাহর কিতাবের সাথে সংযুক্ত করার পথ খুলে দেবে।”

প্রধান বক্তা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, “আজকের উদ্যোগ কোরআনপ্রেমী জনসাধারণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কোরআন মুখস্থ করবে এবং ইসলামের আদর্শে গড়ে উঠবে।”

প্রধান আলোচক, আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মাদ্রাসা হলো সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনার বাতিঘর। নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে যুক্ত করতে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বিশেষ অতিথি, প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা সুলতান আহমদ বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গঠনেও গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হবে।”

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মুফতি আনাস স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ শওখত হোসাইন, মাওলানা শাহ আলম, সরওয়ার হোসাইন, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সরওয়ার আলম, মুহাম্মদ মুছা, মীর আজিজুর রহমান, এডভোকেট আজিম উদ্দিন লাভলু, সেলিম, রফিক, আনোয়ার, হারুন, আজিজুল হক, হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কোরআনের প্রাথমিক ছবক প্রদান এবং ভর্তি ফরম বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াত নেতার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলে শোক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী’র শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রকাশ ইলিয়াছ কোম্পানি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ কন্যাসন্তান, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুম ইলিয়াছ কোম্পানির জানাযার নামাজ শনিবার সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তার প্রয়াণে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিলেন সমাজসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় উন্নয়নে নিবেদিত একজন সক্রিয় নেতা। তিনি রাঙ্গুনিয়া ইকরা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং লালানগর আইডিয়াল স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে দ্বীনের আলো ছড়াল ছাত্রশিবিরের অনন্য উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বীনের ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রায় ৫৫–৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বাংলা অনুবাদসহ কুরআন শরীফ উপহার দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গুনিয়া উত্তর সাংগঠনিক থানা শাখার আদর্শ থানা শাখা আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে এ উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন থানা শাখার সেক্রেটারি আব্বাস উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মঈনুদ্দিন মিসবাহ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া শহর আদর্শ থানা শাখার সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ। প্রধান মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর বায়তুল মাল সম্পাদক জহির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্টও বিতরণ করা হয়।

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— রাঙ্গুনিয়ায় পূজামণ্ডপে বিএনপি নেতাদের বার্তা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজার শেষদিন আজ। এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে। এর আগে পূজা উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। পূজার শুরু থেকেই প্রতিদিন তারা বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, “অনেকে বলে আওয়ামী লীগের আমলে হিন্দু ভাইয়েরা ভালো থাকে, বিএনপির শাসনামলে থাকে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় আওয়ামী লীগের আমলেও সমস্যা হয়েছে, বিএনপির সময়েও হয়েছে। তবে এগুলো মূলত কিছু দুষ্টু লোকজন সৃষ্টি করে যারা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়। আমরা এদের চিহ্নিত করেছি এবং সমাজ থেকে দূরে রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে সম্মান দিয়ে গ্রহণ করেছেন, আশা করি আপনাদের সেবার সুযোগও দিবেন।” এছাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। তিনি বলেন,

“হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—আমরা সবাই মানুষ। উপর থেকে ভিন্নতা থাকলেও ভেতরে সবাই একই। আমরা সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবো। সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট থাকবে।” দলের নির্দেশনায় শুরু থেকেই কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজও এসেছি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত পূজামণ্ডপে গিয়ে বলেন, “রাঙ্গুনিয়া সম্প্রীতির জায়গা। এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সবার আগে বাংলাদেশ—আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, তাই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবো।”

অন্যদিকে উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী পূজামণ্ডপে গিয়ে বলেন, “আমরা এসেছি আপনাদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে ও উৎসব ভাগাভাগি করতে। আগামী বছর এই উৎসব আরও বড় হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।”

প্রসঙ্গত, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিএনপি নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূজার শুভেচ্ছা জানান এবং উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালুমহালের ইজারা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও বালুমহালের ইজারা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ইছাখালী এলাকায় “রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ” ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনজীবনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এসব বন্ধে তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্ণফুলী নদীস্থ সব বালুমহাল ইজারা ও বালু উত্তোলন বাতিল করতে হবে, তিন দিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নদী রক্ষা কমিটির সংষ্কার করতে হবে, নিয়মিত নদীপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে ও অবিলম্বে কর্ণফুলী নদীর মূল বেতাগী পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করতে হবে।

বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে রাঙ্গুনিয়াবাসী ও সব শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

পরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে লিখিত দাবি নিয়ে মিছিলসহকারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও কামরুল হাসান বলেন, “এটা যেহেতু ইতিবাচক বিষয় এবং আমি আগেও এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম, তাই তাদের চার দফা দাবির সঙ্গে আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি। তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছি এবং ইতিমধ্যে বিষয়টি জেলায় জানানো হয়েছে, চিঠিও দেওয়া হয়েছে।”

রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে অভিযান: পাঁচ ড্রেজার মালিককে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ড্রেজার মেশিনের মালিককে আটক করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কর্ণফুলী নদীর সরফভাটা ও মরিয়মনগর অংশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ বলেন, “আজ কর্ণফুলী নদীর সরফভাটা ও মরিয়মনগর অংশে অবৈধ ড্রেজার মেশিনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ৫টি ড্রেজার মেশিনের মালিককে আটক করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।”

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতকে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

“মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” বাস্তবায়নে চট্টগ্রামে জেলা টাস্কফোর্স সভা

চট্টগ্রাম: “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন।

সভায় আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সরকারি নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পালন, দরিদ্র মৎস্যজীবীদের সহায়তা প্রদান এবং অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিদিন ৯ হাজার শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রাঙ্গুনিয়ায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়।

সভায় জানানো হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবস বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে দেওয়া হবে। প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, গ্যাভি টিকাদান জোট, প্যাথ, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা, মেডিক্যাল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. ইসমাইল হুসাইনসহ অন্যান্যরা।

সভা থেকে জানানো হয় রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। ইতোমধ্যে স্কুলে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ৫১ হাজার ১০৭ জন ও কমিউনিটিতে ২৩ হাজার ৪৩০ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।

এ সময় বক্তারা বলেন, টাইফয়েড দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সবার সহযোগিতায় কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী এবং স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।

বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাল ১৪ বছরের কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। নদীতে ডুবে যাওয়া এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই প্রাণ হারালেন বিজয় বড়ুয়া (১৪) নামের এক কিশোর।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের পোয়া পাড়া ইছামতি খালে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত বিজয় বড়ুয়া (১৪) সুজন বড়ুয়ার ছেলে।

জানা যায়, দুই বন্ধু ইছামতি খালে গোসল করতে নেমেছিল। এক বন্ধু সাঁতার জানত না এবং পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে, সাঁতার জানা বন্ধু বিজয় তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই গভীর পানিতে ডুবে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে কাউখালি উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে সাঁতার না জানা বন্ধু প্রাণে বেঁচে গেলেও বিজয়কে হারাতে হলো জীবন।

এ বিষয়ে কাউখালি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে বিজয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার করার পর তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে কাউখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, সকালে দুই বন্ধু নদীতে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটছিলেন। এ সময় এক বন্ধু পানির স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে অপরজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনিই পানির স্রোতে ডুবে নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জামায়াতের গণআন্দোলনের ৫ দফা দাবিতে রাঙ্গুনিয়ায় বিক্ষোভ ও গণসংযোগ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত ৫ দফা দাবির ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের কেন্দ্র ঘোষিত পাঁচ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জুলাই সনদ অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা, আগামী নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার নিশ্চিত করা, স্বৈরাচারের সহযোগী জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিক্ষোভ শেষে দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় গণসংযোগ পরিচালনা করে জামায়াত। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান-এর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়।

এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবদুল গফুর, অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন, অধ্যাপক মহিউদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের আমির হাসান মুরাদ, নায়েবে আমির মাওলানা শওকত, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন সভাপতি অ্যাডভোকেট জুয়েল, লালানগর ইউনিয়ন সভাপতি হাফেজ মাওলানা নুরুল্লাহ, সহ-সভাপতি মাওলানা হাসমত আলী, ইউনিয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ও দিদারুল আলম দিদার, উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি রাশেদুল আলম তালুকদার, ব্যবসায়ী নাজিম, বাজার সভাপতি রবিউল আবছার বাচু, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের রাঙ্গুনিয়া শহর শাখার সভাপতি আবুল কাশেম, ব্যবসায়ী বদিউল আলম, রাজারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি প্রার্থী আইয়ুব আলী, খোরশেদ আলম, তাজুল ইসলাম, আবদুল সালাম প্রমুখ।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

ধানের শীষে ভোট চাইলেন অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাতে লিফলেট হাতে জনসাধারণের দ্বারে দ্বারে গেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার শিলক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

লিফলেট বিতরণকালে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বলেন, “ধানের শীষ তারেক রহমানের প্রতীক, ধানের শীষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতীক। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সকলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে এ প্রতীককে জয়ী করবেন—এ প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষকে ভোট দিলে কিভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, তার সবকিছুই এই লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে।”

এ সময় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি কাঁচা বসতঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এতে ঘরের সব আসবাপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চাঁদের টিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডে ভুক্তভোগী মো. শহিদুল হকের চার কক্ষবিশিষ্ট টিন-বেড়ার কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফোরকান জানান, ফায়ার সার্ভিসে খবর পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে ঘরের সব আসবাপত্রসহ পুরো ঘর ভস্মীভূত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহেদুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা আগেই আগুন নেভালেও পুরো ঘর পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলার আগুন থেকেই এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।