রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী, সমাজ-সংস্কারক ও দানবীর মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীকে স্মরণ করে আয়োজিত স্মরণসভায় রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “তিনি ছিলেন রাজনীতির একজন কৃষক।”
বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হুমাম বলেন, একজন কৃষক যেমন জমিতে চারা রোপণ করে ধৈর্যের সঙ্গে তার পরিচর্যা করেন, তেমনি রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আস্থার চারা রোপণ করেছিলেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা ধরে রেখেছেন।
হুমাম কাদের বলেন, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে রফিক বিন চৌধুরী তাঁকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তাঁর উৎসাহেই তিনি নতুন করে মনোবল ফিরে পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রফিক বিন চৌধুরীর হাত ধরেই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজে এলেই তাঁর স্মৃতি মনে পড়ে, কারণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা তিনি রফিক বিন চৌধুরীর কাছ থেকেই পেয়েছেন।
রাজনীতিতে ধৈর্য, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে আছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মোহাং আবু হোসেন ইবনে হাশ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, দাতা সদস্য নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, কলেজের মাউশি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুহাম্মদ খোরশেদুল হক চৌধুরী রিবেল, অভিভাবক সদস্য হোসেন আলী, আব্দুল মান্নান রনি, খোরশেদ আলম এবং বোর্ড প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম।
কলেজের অধ্যাপিকা পুষ্প বড়ুয়া ও প্রভাষক আবু মহসিন মো. মঞ্জুরুল কাদেরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউনুচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আমিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজসেবক খালেদ বিন আব্দুল কাদের।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আলকাদেরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরীসহ জেলা, উপজেলা এবং রাজানগর-ইসলামপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ একরাম ও সহকারী অধ্যাপক শান্তি জ্যোতি বড়ুয়াও বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মউদুদ ইলাহী এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবু মহসিন মঞ্জুরুল কাদের।
স্মরণসভার পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালনা করেন রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর স্মরণে কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইছামতী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি করেন।
গুণীজন সম্মাননা হিসেবে রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আব্দুর রশিদ বিএ, বিএড, সহকারী শিক্ষক মরহুম সিরাজুল ইসলাম তালুকদার এবং স্থানীয় চিকিৎসক সুবোধ দেওয়ানজীকে স্মরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এছাড়া রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল বশর তালুকদার এবং রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক দানু মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথির মাধ্যমে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর হাতে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কলেজের উদ্যোগে প্রকাশিত মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর জীবন ও কর্মভিত্তিক স্মরণিকা “মহীয়ান” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।