রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা, গ্রাম পুলিশদের সরঞ্জাম বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও চেক বিতরণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের (দফাদার ও মহল্লাদার) পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

পরে গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে ও উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

পরীক্ষা নম্বরের লড়াই নয়, জ্ঞান ও সততার মূল্যায়নের ক্ষেত্র: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার লড়াই নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। তিনি বলেন, পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়।

বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামে ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে পরীক্ষা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসুস্থ চিন্তা বা অসদুপায়ের স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই যেন সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার উত্তরপত্রে লিখে আসে।”

পরীক্ষা প্রতিযোগিতার অংশ হলেও সেই প্রতিযোগিতা অবশ্যই সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ্যবিষয় সত্যিকার অর্থে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পরীক্ষার খাতায় তার স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটবে। এতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধও ধারণ করতে হবে।”

প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে পরীক্ষা নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। ছাত্রজীবনে যা শিখছ, সেটিই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতো। কোনো কোনো বোর্ডের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করত। এ ধরনের বিতর্ক ও বৈষম্যের ধারণা দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম কলেজের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৩ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৩৫ জন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের অগ্রদূত: মীর হেলাল

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় দেশের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের কথা ভাবতেন। গ্রামের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ছাড়া দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই নীতিতেই তিনি বিশ্বাসী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) হাটহাজারীর রিসার্চ ও ফার্ম বেইজড ক্যাম্পাস মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাসযোগ্য দেশ গড়তে এর কোনো বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও করতে হবে। তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, তিনি আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে নয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। এই ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কৃষি, চট্টগ্রাম বিভাগের মনিটর এবং সিভাসুর ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. আহসানুল হক রোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রফেসর এ কে এম সাইফুদ্দিন, ড. মিজানুর রহমান, ড. আহসানউল্লাহ, প্রফেসর নূরুল হক, ড. তফাজ্জল হোসেন রনি, ড. মনিরুজ্জামান, ড. আতিউর রহমান এবং সিভাসু ছাত্রদলের সভাপতি জিয়াউর রহমান।

সৈয়দ মুনিয়া জিলশাদ ও মো. শাহরিয়ার হোসেন তালুকদারের যৌথ সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবু তোয়াব।

কেরানীহাটে সিসিটিভি নজরদারি চালু, অপরাধ দমনে নতুন উদ্যোগ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সাতকানিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কেরানীহাটকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় এনেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিসিটিভি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি শাহজাহান চৌধুরী।।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামসুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তারেক হোসাইনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেরানীহাট এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এতে অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

স্থানীয়দের মতে, কেরানীহাট বান্দরবান জেলার প্রবেশদ্বার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিমুখী সড়ক জংশন হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল হয়। এছাড়া এখানে রয়েছে একাধিক শপিং মল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের আশা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সহজ হবে। এতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

 

‘রাজনীতির কৃষক’ ছিলেন রফিক বিন চৌধুরী: স্মরণসভায় হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী, সমাজ-সংস্কারক ও দানবীর মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীকে স্মরণ করে আয়োজিত স্মরণসভায় রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “তিনি ছিলেন রাজনীতির একজন কৃষক।”

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হুমাম বলেন, একজন কৃষক যেমন জমিতে চারা রোপণ করে ধৈর্যের সঙ্গে তার পরিচর্যা করেন, তেমনি রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আস্থার চারা রোপণ করেছিলেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা ধরে রেখেছেন।

হুমাম কাদের বলেন, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে রফিক বিন চৌধুরী তাঁকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তাঁর উৎসাহেই তিনি নতুন করে মনোবল ফিরে পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রফিক বিন চৌধুরীর হাত ধরেই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজে এলেই তাঁর স্মৃতি মনে পড়ে, কারণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা তিনি রফিক বিন চৌধুরীর কাছ থেকেই পেয়েছেন।

রাজনীতিতে ধৈর্য, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে আছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মোহাং আবু হোসেন ইবনে হাশ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, দাতা সদস্য নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, কলেজের মাউশি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুহাম্মদ খোরশেদুল হক চৌধুরী রিবেল, অভিভাবক সদস্য হোসেন আলী, আব্দুল মান্নান রনি, খোরশেদ আলম এবং বোর্ড প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম।

কলেজের অধ্যাপিকা পুষ্প বড়ুয়া ও প্রভাষক আবু মহসিন মো. মঞ্জুরুল কাদেরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউনুচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আমিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজসেবক খালেদ বিন আব্দুল কাদের।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আলকাদেরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরীসহ জেলা, উপজেলা এবং রাজানগর-ইসলামপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ একরাম ও সহকারী অধ্যাপক শান্তি জ্যোতি বড়ুয়াও বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মউদুদ ইলাহী এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবু মহসিন মঞ্জুরুল কাদের।

স্মরণসভার পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালনা করেন রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর স্মরণে কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইছামতী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি করেন।

গুণীজন সম্মাননা হিসেবে রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আব্দুর রশিদ বিএ, বিএড, সহকারী শিক্ষক মরহুম সিরাজুল ইসলাম তালুকদার এবং স্থানীয় চিকিৎসক সুবোধ দেওয়ানজীকে স্মরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়া রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল বশর তালুকদার এবং রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক দানু মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথির মাধ্যমে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর হাতে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কলেজের উদ্যোগে প্রকাশিত মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর জীবন ও কর্মভিত্তিক স্মরণিকা “মহীয়ান” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোবারক আলী তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাড়ির মামুন, রিয়াজ, মো. আমানউল্লাহ, মো. আসিফ, শহিদ ও নজরুলের বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। এতে দুটি সেমিপাকা ঘর, দুটি কাঁচা ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেটসহ ঘরের সব আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

বুধবার (১ জুলাই) মাসুদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “মাসুদ চৌধুরীর হত্যার বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদেও তুলেছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি নিজেই এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমি বলেছি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাফিয়া জড়িত আছে। দেশের মানুষ জানে, এই মাফিয়া বলতে আমি বালি সিন্ডিকেটের কথাই বোঝাতে চেয়েছি।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “ আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা সংকেত দিতে চেয়েছে, আমরা যদি অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চাই, তাহলে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে।”

তিনি বলেন, “মাসুদ চৌধুরী যে শক্ত ভূমিকা রেখেছিল, প্রতিবাদ করে রাঙ্গুনিয়ায় এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চেয়েছিল, তার পক্ষ হয়ে এবং তার স্মৃতিকে ধরে রেখে আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।”

হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের তো ধরা হবেই। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো যারা টাকা খরচ করে খুনিদের ভাড়া করেছে, যারা এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী—তাদেরও ধরতে হবে। আমরা যদি বিচার চাই, তবে তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে আমরা অত বেশি আলোচনা করিনি। তবে জনপ্রিয়তার কারণে মাসুদ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবার, হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও তাকে পছন্দ করতেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যখন নির্বাচন করেছি, তখন অনেকেই বলেছিলেন, মাসুদ চৌধুরীর কারণেই তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। গত ১৭-১৮ বছর ধরে মাসুদ এলাকার মানুষের পাশে ছিল। আপদে-বিপদে সবসময় সে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন তার এই শূন্যতা আমরা সবাই অনুভব করছি। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য আরও বলেন, “দলের জন্য মাসুদ বহুবার বড় ভূমিকা রেখেছে। অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম খুঁজলে দেখা যাবে, চট্টগ্রামের বড় বড় মিছিলে তার নেতৃত্ব ছিল। চেয়ারম্যান নির্বাচনও একটি কারণ হতে পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি, বালির মহলের বিরুদ্ধে সে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ কারণেই তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”

কবর জিয়ারতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও দলটির অঙ্গসংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ (১১ জন এজাহার নামীয় এবং ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত) জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ চৌধুরীর দাফন

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মরহুম আবুল কাশেম চৌধুরীর তৃতীয় পুত্র।

বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশের উপস্থিতিতে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

দাফন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে “মুকিম চৌধুরী প্রজন্ম” পরিবার এবং “চল যাই রাংগুনীয়া” পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।

পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মতবিনিময়

চট্টগ্রাম: জেলার বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরিচিতি, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

সম্প্রতি আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম।

সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে মতামত দেন। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সব ধর্মের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি মানসম্মত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

এছাড়া তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সচেতন থাকা, স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: শিশুশ্রম বন্ধে রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন ও মানবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কিশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সংকটে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলোকে এ সহায়তা শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপরই অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে, পরিবারে বড়দের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। সেই পরিবেশ তৈরি না হলে শিশুশ্রম নির্মূল কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু শৈশব থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে কয়েকটি খাত থেকে ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাত শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ফটিকছড়িতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপণ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

সোমবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশে বিদ্যমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একটি গাছ একটি প্রাণের মতো। এই ধরিত্রীকে রক্ষা করতে আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই।”

তিনি আরও বলেন, আজকের বিতার্কিকরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাই তাদের এখন থেকেই দেশপ্রেম, সমাজসচেতনতা ও জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হলো বিতর্ক।

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল— ‘জলবায়ু পরিবর্তনে সচেতনতাই পারে পৃথিবীকে নিরাপদ রাখতে’। নির্ধারিত সময়ে বক্তব্য উপস্থাপন, যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের পর বিচারকদের রায়ে দশম শ্রেণির দল চ্যাম্পিয়ন এবং নবম শ্রেণির দল রানারআপ হয়।

বিজয়ী দলে ছিলেন ফাইরুজ আক্তার, আফরিন জাহান ও জান্নাতুল মাওয়া। রানারআপ দলে ছিলেন নোভায়রা সুলতানা, উম্মে নানজিবা ও নুর জাহান আলো। সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন ফাইরুজ আক্তার।

দিনব্যাপী আয়োজনে বৃক্ষরোপণ, দেয়ালিকা উন্মোচন, ফেস্টুন প্রদর্শন এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জাহানারা বেগম ও জান্নাতুল নাঈম। শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শিক্ষক সৈয়দ পারভেজ সোবহান, মো. মোরশেদ উদ্দিন, মো. মজিদুল ইসলাম ও মো. মহিম উদ্দিন। পরে অতিথিরা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

স্বচ্ছ নিয়োগে সফল রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণী, মানবিক পুলিশ হওয়ার আহ্বান ওসির

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৮ জন তরুণ-তরুণী। কোনো ধরনের ঘুষ, তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তাদের এ সাফল্য এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় নবনিযুক্তদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন এবং মিষ্টিমুখ করান। এ সময় থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নবীন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তোমরা মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের সুযোগ পেয়েছ। এই অর্জনের মর্যাদা ধরে রাখতে সততা, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করে মানবিক পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক। এখানে কোনো দালাল, তদবির বা ঘুষের সুযোগ নেই। চাকরিপ্রার্থীদের প্রতারকদের ফাঁদে পা না দিতে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

নবনিযুক্ত জয় দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশে চাকরি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা ছিল। কিন্তু এবার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তারা আনন্দিত। এ ঘটনা অন্য চাকরিপ্রার্থীদেরও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে দুর্নীতি কমবে, মেধাবীরা মূল্যায়িত হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণীর এই অর্জন সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে লোহাগাড়ায় বাস উল্টে আহত অন্তত ১৫

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বগুড়াগামী পর্যটকরা। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের লোহারদিঘিরপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিআর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কে উল্টে গেলে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠান।

তাৎক্ষণিকভাবে আহত সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— জিন্নত (৫০), রেখা আক্তার (৪৫), জান্নাতি খাতুন (১৬), সাজেদুর রহমান (৪২), রেহেনা বেগম (৫০), বেলী আক্তার (৬২) ও রনজনা (৬৬)। তারা সবাই বগুড়া জেলার বাসিন্দা। আহত অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বাসে থাকা যাত্রীরা জানান, তারা বগুড়া থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন। রোববার সকালে কক্সবাজার থেকে নিজ গন্তব্যে ফেরার পথে লোহাগাড়ার লোহারদিঘিরপাড় এলাকায় পৌঁছালে বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। এতে একাধিক যাত্রী আহত হন এবং বাসটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তার জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

লোহাগাড়ায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু, হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে গোখরা সাপের কামড়ে সোহান উদ্দিন (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করানো হয় বলে জানা গেছে।

রোববার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোহান উদ্দিন উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মল্লিক ছোবাহান মনু চৌধুরী পাড়ার জহির আহমদের ছেলে।

লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন আরফাত পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে নিজ বসতঘরে থাকা অবস্থায় সোহানকে একটি গোখরা সাপ পায়ে কামড় দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

তিনি জানান, সাপে কামড়ানোর পর সোহানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া এলাকার এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর ঝাড়ফুঁক ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

রোববার সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সোহানের মৃত্যু হয়েছে। তাই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা নিশ্চিত করা হলে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

 

রাঙ্গুনিয়ায় একইদিনে দুই মৃত্যু, প্রবাসীর শেষ ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একই দিনে একই ইউনিয়নে পৃথক দুই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের ফুলগাজীপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ তানভীর হোসেন (৩০) এবং পূর্ব সৈয়দবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারের ছেলে মো. বাবর (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে বাবরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনদের দাবি, বাবর কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহের কারণে মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। তাদের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জেরেই তিনি এমন পথ বেছে নিতে পারেন। বাবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন।

অন্যদিকে একইদিন সন্ধ্যায় আরেকটি ঘটনা ঘটে। নিহত তানভীর হোসেন মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পরে বাড়ির পাশের কর্ণফুলী নদীর চরের একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তানভীরও সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী ছিলেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন এবং শিগগিরই কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তানভীর লিখেছিলেন, “আমার মৃত্যুর কারণ আমার চাচা শ্বশুর। এত বড় অপবাদ না দিলেও পারতেন। সবাই ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। ভালো থেকো প্রিয় বউ। সবকিছু শেষ আমার।”

স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর তাঁর পরিচিতদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশের নদীর চরে একটি গাছে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন দুই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাবরের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে তানভীরের ঘটনায় ওসি জানান, তানভীরের চাচা শ্বশুর তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর শাশুড়িকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে অপবাদ ছড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অভিমান করে তানভীর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এমন পথ বেছে নেন। এ ঘটনায় তানভীরের অভিভাবকদের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদের কবর জিয়ারত করে বিচার চাইলেন নেতাকর্মীরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের কবর জিয়ারত করেছেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তারা।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মধ্য বেতাগীতে গিয়ে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় দক্ষিণ রাজানগর, হোছনাবাদ, লালানগর ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত শেষে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর মাসুদকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে রাজনীতি করার সময়ই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড আরও বাড়তে পারে। মানুষ রাজনীতির প্রতি বিমুখ হয়ে পড়বে।

এ সময় বক্তারা নিহত মাসুদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।

এর আগে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থেকে রাউজানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে রাউজানের সেই স্থান পরিদর্শন করেন, যেখানে মাকসুদুল হক চৌধুরী নিহত হন। সেখানে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।

পরে মধ্য বেতাগীতে মরহুমের কবর জিয়ারত শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক মাস্টার কামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা শামসুল আলম, নুরুল আলম, জসিম উদ্দীন, রাঙ্গুনিয়া যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ সুমন, ইসমাঈল সিকদার, সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাছের টিপু, রুখন উদ্দীন, রবিউল হাসান, ইলিয়াস কাঞ্চন ও ছাত্রদলের সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ১১ জন এজাহারভুক্ত এবং ৮ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা নিহত

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মো. মহিউদ্দিন (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিউদ্দিন ভাটিয়ারী স্টেশন রোডের পশ্চিম এলাকার হাজী নেছার আহমেদের ছেলে। তিনি ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মোটরসাইকেলে করে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কে চলন্ত একটি ট্রাক হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটিও গতি কমিয়ে দেয়। ঠিক সেই সময় পেছন থেকে আসা একটি হায়েস মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সামনে থাকা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিএসবিএ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী জানান, মহিউদ্দিন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পুরাতন জাহাজের ক্যাবল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল রহমান জানান, ট্রাকের আকস্মিক ব্রেকের কারণে মোটরসাইকেলটির গতি কমে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি হায়েস মাইক্রোবাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

পবিত্র আশুরা আজ: ত্যাগ, ধৈর্য ও সত্যের চিরন্তন শিক্ষা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক:

আজ পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে এটি গভীর শোক, ত্যাগ ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার এক স্মরণীয় দিন।

ইসলামের ইতিহাসে আশুরার দিনটি নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। তবে ৬১ হিজরির ১০ মহররমে কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনাই এ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়; বরং এটি অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার শিক্ষা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

এদিকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি ও নফল রোজার মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য স্মরণ করছেন।

পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে আত্মত্যাগ, ধৈর্য, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার এক চিরন্তন প্রেরণার দিন হিসেবে বিবেচিত।

 

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাঙ্গুনিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু রায়হান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মুহাম্মদ আনোয়ারুল আজম এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৫০০ শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৬ হাজার শিশুকে একটি করে লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৩৬১টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

চা বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এক চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটে থাকা কয়েকজন অসহায় মানুষের আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীও অনলাইনে যুক্ত হয়ে অভিযোগ ও আবেদন জানান।

গণশুনানিতে বোয়ালখালীর উত্তর চরণদণ্ডী এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার বাবা শাহ আলম একজন চা বিক্রেতা হওয়ায় পারিবারিক সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শিক্ষার্থী আরও জানান, এর আগেও তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু অর্থসংকটে ভর্তি হতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান তিনি।

বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া পটিয়ার ধলঘাট এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিতে পাথর ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি চিকিৎসা, জীবিকা ও বসতবাড়ি সংস্কারের জন্য সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক তাদের আবেদনগুলো শুনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও আবেদনও গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

রাঙ্গুনিয়ায় বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ স্থগিত, ৬ দফা দাবি গ্রাহকদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাস এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লালানগর পল্লী বিদ্যুৎ সচেতন গ্রাহক সমাজের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ, গ্রাহকসেবায় নানা অসঙ্গতি এবং বিল পরিশোধে ভোগান্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ বিল কমানো, ভুতুড়ে বিল বন্ধ, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া প্রত্যাহার, গ্রাহকদের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভন আচরণ নিশ্চিত করা, দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আলমশাহপাড়া মাদ্রাসা শাখায় পূর্বের মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা।

এছাড়া ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধেও গ্রাহকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পরে প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার সকালে তা স্থগিত করা হয়।

তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে: বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। মেধা, সততা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।”

বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা” স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপক) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর যৌথ আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অংশ নেয়। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির টানটান লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয় বিআইজেডএইচ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রতিযোগিতা শেষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এ কে এম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোরশেদুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রানী গোপ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা এবং রাঙ্গুনিয়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি অসীম কুমার শীল ও মোঃ নুরুল আবছার।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় বিক্ষোভের ঘোষণা, অভিযোগ যাচাইয়ের আশ্বাস পল্লী বিদ্যুতের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার আলমশাহ পাড়া এলাকা থেকে “এম এ জাব্বার কম্পিউটার” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

লাইভে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি হাতে একটি পত্রিকার কপি দেখিয়ে বলেন, সংবাদপত্রে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমার খবর প্রকাশিত হলেও গ্রাহকদের হাতে আসা সাম্প্রতিক বিল তাদের দাবি অনুযায়ী আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ১০টায় আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসার প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে জানান তিনি।

লাইভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ও “এম এ জাব্বার কম্পিউটার” আইডির সত্ত্বাধিকারী মো. দিদারুল আলম কয়েকজন ভুক্তভোগীর মতামত তুলে ধরেন।

স্থানীয় কুলিং কর্নার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাবু জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৬৩৭ টাকা, যা এ মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২৬ টাকায়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও বিল কেন এত বেড়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চান তিনি।

একই লাইভে রিকশাচালক আবুল কালাম অভিযোগ করেন, আগে কখনো তার বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার বেশি আসেনি। কিন্তু চলতি মাসে তার বিল এসেছে ৪ হাজার ৭৯৭ টাকা। এতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিমসহ আরও কয়েকজন গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দাবি করেন এবং বিদ্যুৎ বিল কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, শুধু ওই লাইভ ভিডিওতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে একাধিক ব্যবহারকারী পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। অনেকেই তাদের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রকাশ করে অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ তুলেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফায়সাল হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদে বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধির প্রভাবে অনেক গ্রাহকের বিল বেড়েছে।

তিনি জানান, চলতি মাসে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছানো বিল মূলত গত মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণে ইউনিট খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব জুন মাসের বিলে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহক যদি মিটারের প্রদর্শিত রিডিং ও বিলে উল্লেখিত রিডিংয়ের মধ্যে অসঙ্গতি পান, তাহলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে কোনো হয়রানি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজিএম ফায়সাল হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে অফিসে এসেছেন। তাদের বিষয়গুলো যাচাই করে সমাধান দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকেই অভিযোগ করতে এসে নিজেদের ভুলও বুঝতে পেরেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, বিক্ষোভ করার প্রয়োজন নেই। যাদের বিল নিয়ে সমস্যা রয়েছে তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট অফিসে এসে বিষয়টি জানালে দ্রুত যাচাই করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে অভিযোগ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২ বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২২ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এলাকার একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সকালে সিএনজি অটোরিকশা চালক শ্যামল দাশ গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর এবং পরিবারের অন্য সদস্য কিস্তির টাকা দিতে বাইরে গেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তারা ফিরে এসে দেখেন, ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তর পারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অসীম দাশ এবং সিএনজি চালক শ্যামল দাশের বেড়া ও টিনের তৈরি দুটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলের সড়ক অত্যন্ত সরু হওয়ায় খবর পেয়েও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দিদারুল আলম জানান, এ ঘটনায় দুই পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি আর্থিকভাবে খুব একটা স্বচ্ছল নয়। তিনি বলেন, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে ঘরগুলো বেড়া ও টিনের তৈরি হওয়ায় খুব অল্প সময়েই সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উত্তর জেলা ছাত্রদল কমিটিতে রাঙ্গুনিয়ার ব্যাপক প্রতিনিধিত্ব

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দীর্ঘ এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ হয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কমিটি। আকার বৃদ্ধির পর এ কমিটির সদস্য সংখ্যা এখন ৩৮২ জন। নবঘোষিত এ কমিটিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একাধিক নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১৮ জুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলেও গত শুক্রবার তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত বছরের ৩ জুন তকিবুল হাসান চৌধুরী তকিকে সভাপতি ও সারোয়ার হোসেন রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, রাঙ্গুনিয়া থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. গিয়াস উদ্দিন, সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. আবু বক্কর, সাইফুদ্দীন তালুকদার, হেলাল আহমেদ, মো. কামাল আহমেদ, গাজী নিজাম উদ্দিন, আবদুর রহমান, মো. ইব্রাহিম তালুকদার।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন মো. রাশেদুল ইসলাম, মো. আবদুল মান্নান, তাহানিয়াজ মোরশেদ তোহা, নাহিদুল ইসলাম ফয়সাল, মোঃ লোকমান গনি, মো. শহিদ উল্লাহ তালুকদার, মোঃ শওকত আলী, মীর জুবাইদুল ইসলাম রানা ও সাইদুর রহমান তালুকদার (সাহেদ)।

সহ সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস, মোঃ নাসের, রাশেদুল ইসলাম, মোঃ রাকিবুল হাসান, মোঃ মাসুদ সাকু, সাইদ হোসেন মাসুদ, ইঞ্জি. জাহেদ হোসেন, মোঃ নাছের উদ্দিন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ইঞ্জি. শাহাদাত হোসেন হেলেন, মোঃ কাউসার আলম ও শরফুদ্দিন ফরমান।

সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন আরিফুল ইসলাম, আরজু ইসলাম রানা, মোঃ আরশাদুল ইসলাম আশাদ ও কফিল উদ্দিন চৌধুরী। সহ প্রচার সম্পাদক পদে রয়েছেন ওসমান গণি।

এছাড়া সম্পাদকীয় বিভিন্ন পদে রাঙ্গুনিয়া থেকে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ ওয়াহিদ (সমাজসেবা সম্পাদক), এহসানুল হক রাকিব ও মোঃ রিমন (সহ সমাজসেবা সম্পাদক), মোঃ আবুল বায়ান তালুকদার (সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক), জুনায়েদ হোসেন (সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), ডা. মেহসাব বিন নাজের মাহিন (সহ স্বাস্থ্য সম্পাদক), মোঃ জমির (সহ পাঠাগার সম্পাদক), মোঃ ইমরান (সহ ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক), সাইফুল ইসলাম (সহ শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক), শাহাদাত হোসেন (সহ বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক), ইসমাইল হোসেন (গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক), মিজানুর রহমান (সহ সমবায় বিষয়ক সম্পাদক), মোঃ সালাউদ্দিন (সহ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক), মোঃ রিয়াদ (গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক) ও সাইফুল হক (সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক)।

এছাড়া সদস্য পদে রাঙ্গুনিয়া থেকে স্থান পেয়েছেন মোঃ পারভেজ, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল আল জুবায়ের, তারেক হোসেন মিমু চৌধুরী, রোহান সুলতান ও সালমান সাঈদ।

অন্যদিকে কমিটির বিভিন্ন পদে অন্যান্য উপজেলা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন।

নবঘোষিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ঘিরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় পানির ট্যাংক বসাতে গিয়ে প্রাণ গেল ইলেকট্রিশিয়ানের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পানির ট্যাংক বসানোর কাজ করতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে নুরুল বশর বাহাদুর (৫৮) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দীঘিরপাড় এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল বশর বাহাদুর পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সকালে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবদুল করিমের বাড়িতে যান। সেখানে ভবনের ছাদে পানির ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলাকালে হঠাৎ ছাদের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নুরুল বশর বাহাদুর উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মাওলানা সৈয়দ আহমদ হোসেনের তৃতীয় ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক।

এ বিষয়ে লালানগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। জানতে পেরেছি, তিনি কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। পরে একই দিন নামাজে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, হাসপাতালে একজন ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে থানায় কেউ অবগত করেনি।

কৃষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রাঙ্গুনিয়ায় ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি মেলা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইমরুল কায়েস জানান, ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলায় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন কৃষি উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে।

এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ “ক্লাইমেট স্মার্ট স্কুল অ্যান্ড ক্লাব কর্নার”, যেখানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য জলবায়ু সহনশীল কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (ডিএই পার্ট)।

আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ মেলা কৃষকদের মধ্যে আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও টেকসই করতে সহায়ক হবে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিককে হেনস্তা, বহিষ্কার যুবদল নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট: পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক সময়ের আলো’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ও রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য জাহেদুল ইসলাম আরিফকে শারীরিক হেনস্তা ও অসদাচরণের অভিযোগে যুবদল নেতা কাজী জুয়েলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি ঢাকার মুগদা থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বুধবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

​ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৭ জুন বিকাল ৪টায় রাজনৈতিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন দৈনিক সময়ের আলোর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জাহেদুল ইসলাম আরিফ। দায়িত্ব পালনকালেই মুগদা থানার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী জুয়েল ওই গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চড়াও হন এবং পেশীশক্তি প্রদর্শনপূর্বক তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা ও অসদাচরণ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অন্যায়ভাবে পেশিশক্তি প্রদর্শন ও অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কাজী জুয়েলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করেছেন।

দ্রুত এ পদক্ষেপ নেওয়ায় যুবদল নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হেনস্তার শিকার সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম আরিফ। তিনি জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটার পরপরই তিনি কেন্দ্রীয় যুবদল নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেন।

তিনি আরও জানান, তারা বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিশৃঙ্খলাকারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণকারীদের বিরুদ্ধে যুবদল যে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে বিশ্বাসী, এই দ্রুত সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।

 

মাসুদ হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা জানালেন হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

পোস্টে হুমাম কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পোস্টে নিহত মাসুদুল হক চৌধুরীকে বেতাগী ইউনিয়নের পরিচিত মুখ উল্লেখ করে হুমাম কাদের বলেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাসুদুল হক চৌধুরী তার বাবা মরহুম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন।

গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় সশস্ত্র হামলায় নিহত হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। এ ঘটনায় রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা, আসামি ১৯

চট্টগ্রাম : রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) হত্যা ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এর আগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানোর সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান মাসুদুল হক। এরপর হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রথম দফায় গুলি চালিয়ে চলে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসে তাকে গুলি করা হয়। পরে হামলাকারীরা অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন। তাঁর হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।