ওমানে নিহত সেই চার সহোদরের পরিবারে এবার ইসলামী ফ্রন্টের সমবেদনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ও সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (১৬ মে) বাদ জোহর নিহতদের গ্রামের বাড়ি বান্দারাজার পাড়ায় মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ-সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন নুরী, সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করবে।

এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দও ওই পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এসময় তারা শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর বেদনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারের খোঁজ নিলেন ডা. এটিএম রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তিনি নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে আসরের নামাজ শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে তিনি ও তাঁর সংগঠন শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি স্থানীয়দেরও মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারে এমপি হুম্মাম, পাশে থাকার আশ্বাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ।

শুক্রবার (১৫ মে) নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং স্থানীয়দেরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই পরিবারের সদস্যরা আপনাদেরই আপনজন। যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন। একইসঙ্গে সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে আরও বলেন, “আমরা সবাই দুনিয়া নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে পরকালের কথা ভুলে যাই। অথচ মৃত্যু যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই।”

তিনি বলেন, নিহতদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে এখন একজন জীবিত আছেন। স্বজন হারানোর বেদনা তিনিই সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন। তাই তার পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আশা করছি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এ বিষয়ে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।”

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসির গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহতদের বাড়িতে যান। একইদিন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তারা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক চেয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রসঙ্গত, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে রাসেদুল ইসলাম ও শাহেদুল ইসলাম বিবাহিত। রাসেদুল ইসলামের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শাহেদুল ইসলাম বিয়ের পরপরই প্রবাসে পাড়ি জমান। তার স্ত্রী রয়েছেন। নিহত সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম এখনো অবিবাহিত ছিলেন। এছাড়া তাদের পরিবারে রয়েছেন মা ও আরও এক ভাই। নিহতদের বাবার নাম মৃত আবদুল মজিদ।

ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটায় বের হয়ে ওমানে প্রাণ গেল চার ভাইয়ের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওমানে একটি গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। বাবুর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমানোর সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইয়াকুব আরও জানান, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বাবু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে মরদেহগুলো রোস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে। পরে সেগুলো মাস্কাটে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোক বিরাজ করছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ভোরের আগুনে পুড়ল চার দোকান, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট আগুনে চারটি দোকান ও একটি রিকশা গ্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) ভোরে উপজেলার রোয়াজারহাট এলাকার জাকির আলম মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর ৫টা ১২ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ৬টা ২০ মিনিটে সম্পূর্ণ আগুন নির্বাপণ করা হয়। পরে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ইউনিটগুলো স্টেশনে ফিরে যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন দুটি সেমিপাকা ভাঙারির দোকান, আরিফুল ইসলামের একটি চায়ের দোকান, অরুণ মন্দিরের একটি রিকশা গ্যারেজ এবং জাকির আলমের একটি কাঁচা দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। তবে আগুনে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া উপজেলার মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক মো. জামাল (৩৫) বলেন, ভোরে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পরে তিনি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে গিয়ে বিষয়টি জানালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় দোকানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

ধান ঘরে তুলতেই হিমশিম, বর্গা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক কালবৈশাখীর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কৃষকরা। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও সেই ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বাড়তি শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে অনেক কৃষক এখন হতাশ। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকদের একাংশ।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গুমাই বিলে একাই প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে।

তবে মৌসুমের মাঝপথেই দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর প্রভাব পড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝড়ে কিছু জমির ধান মাটির সঙ্গে লেগে যাওয়ায় প্রায় ৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অনেক জমির ফসল পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ক্ষতির সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই কৃষকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধান ঘরে তোলার ব্যয়। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক চাওয়া হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৮০০ টাকা। থাকা-খাওয়াসহ একজন শ্রমিকের পেছনে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, এক দিনে একজন শ্রমিকের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা প্রায় ১০ আড়ি ধানের সমান। এ ছাড়া ধান কাটার পর রয়েছে মাড়াই খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাড়িতে নেওয়ার অতিরিক্ত খরচ। সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কৃষক অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। কৃষকদের ভাষ্য, উৎপাদন খরচ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ধান ঘরে তোলার ব্যয় বাড়তে থাকায় বর্গা চাষি ও জমির মালিক—উভয় পক্ষই লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক নুরুন্নবীর ছেলে সোহেল জানান, এবার কালবৈশাখীতে তাদের কিছু জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে এবং ধান ঘরে তুলতে গিয়ে তারা বড় সমস্যায় পড়েছেন। আড়াই কানি জমির ধান বিল থেকে রাস্তার পাশে আনতে সাতজন শ্রমিক এক দিনে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এরপর মাড়াই ও বাড়িতে আনার খরচ রয়েছে। ধান ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত লাভ থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কায় আছেন।

অন্যদিকে কৃষক আহমদ জানান, তিনি এবার এক কানি জমি বর্গা নিয়েছেন। তার হিসাবে ওই জমিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ আড়ি ধান হতে পারে। তবে সেখান থেকে ২৫ আড়ি জমির মালিককে দিতে হবে। এরপর চাষাবাদ, শ্রমিক, সেচ, মাড়াই ও পরিবহনসহ সব ব্যয় হিসাব করলে নিজের অংশে কতটুকু অবশিষ্ট থাকবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

মাঠপর্যায়ে আরও জানা গেছে, অনেক বর্গা চাষি ধীরে ধীরে কৃষিকাজ ছেড়ে দিনমজুরি, ইজিবাইক চালানো কিংবা সিএনজি চালনার মতো পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। চাষাবাদে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় তারা বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের একাংশের দাবি, সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি থাকলেও অনেক ক্ষুদ্র ও হতদরিদ্র কৃষক সেই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, উপজেলার কিছু এলাকায় কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোথাও মাটি অপসারণ, কোথাও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম বাড়ছে। কৃষি থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়ায় কেউ কেউ কৃষিজমি বিক্রি করে প্রবাসমুখী হচ্ছেন, আবার কেউ জমিকে বিকল্প কাজে ব্যবহার করছেন। এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

 

লিচুবাগান ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে আবদুল মালেক ও শোয়াইব

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে আবদুল মালেক তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শোয়াইব নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চন্দ্রঘোনাস্থ দ্য রাইজিং সান কেজি এন্ড হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম তালুকদার। প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মুক্তি সাধন বড়ুয়া।

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সিসি ক্যামেরার আওতায় পরিচালিত হয়, যা প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে আবদুল মালেক তালুকদার দোয়াত কলম প্রতীকে ৫৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাতা প্রতীকের মো. বেলাল উদ্দিন পান ৪২৯ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মো. সেকান্দর (প্রজাতি প্রতীক)।
সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ প্রার্থীর মধ্যে ৫৮১ ভোট পেয়ে মো. শোয়াইব (আনারস প্রতীক) বিজয়ী হন।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে তালাচাবি প্রতীকের মো. সাজ্জাদ হোসেন ৬১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অর্থ সম্পাদক পদে ডাব প্রতীকের মো. আলমগীর হামিদ ৪২৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোরগ প্রতীকের মো. জসিম উদদীন সিকদার ৫১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে সিংহ প্রতীকের টিপু সুলতান চৌধুরী ৩১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. আরজান হোসেন আরজু নির্বাচিত হন।

সদস্য পদে নির্বাচিত হন আব্দুল সবুর, আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোজাম্মেল।

নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিকেল পর্যন্ত চলে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।” তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তসহ গ্রেপ্তার ৩

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তসহ মোট ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

গত ১০ মে এসআই মো. মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার গোডাউন বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলামকে (৫১) গ্রেপ্তার করেন।

পরবর্তীতে ১১ মে এএসআই আবদুর রহিমের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে রাঙ্গুনিয়া থানার একাধিক মামলা ও দায়রা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিদারুল ইসলাম কাঞ্চনকে (লালানগর, রাঙ্গুনিয়া) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর ধারার মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই দিনে পৃথক আরেক অভিযানে এসআই সাহিদুল বিশ্বাস ও এএসআই আবদুর রহিমের নেতৃত্বে ৪টি সিআর সাজা পরোয়ানা ও ১৩টি সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের মজুমদার খিল এলাকার বাসিন্দা সুবল সাহাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একটি মামলার ৩০৪/৩৪ পেনাল কোডের তদন্তে সন্দিগ্ধ পলাতক আসামি ছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন আহমেদ।

রাঙ্গুনিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ১, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস উদ্ধার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ সময় দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হাইচ মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (১১ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মো. ইমরান হোসাইন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ৬নং পোমরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অভিযান পরিচালনা করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একদল ডাকাত অস্ত্র-শস্ত্র ও একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতদলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাহাদাত হোসেন প্রকাশ মানিক (৩২) নামে একজনকে আটক করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা অন্ধকারে পাশ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে থাকা একটি কালো রঙের হাইচ মাইক্রোবাস তল্লাশি করে দুটি ধারালো ছুরি, একটি লোহার কাটার, একটি দা, একটি সাবল ও দুটি কিরিচসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় আটক সাহাদাত হোসেনসহ ৬ জন পলাতক আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, আটক আসামিকে পেনাল কোডের ৩৯৯/৪০২ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় রাঙ্গুনিয়ায় দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় জায়গা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায়।

রোববার (১০ মে) উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করা হয়।

জানা যায়, জায়গা ও রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ ও মামলাও হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানান, সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় প্রায় দুই থেকে তিনশ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জায়গা পরিমাপের জন্য একজন সরকারি আমিনসহ মোট পাঁচজন আমিন দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও জানান, পরিমাপে দেখা যায় বাদী ওমর ফারুকের দুটি ঘর এবং আলমের সামনের বাউন্ডারি ওয়াল আংশিক ভাঙতে হতো। তবে উভয় পক্ষের ক্ষতি কমিয়ে আনতে স্থানীয়দের পরামর্শে অন্য অংশ থেকে জায়গা সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হয়। এতে চলাচলের রাস্তার সমস্যাও দূর হয়।

পরে এলাকাবাসী দুই পক্ষের মধ্যে মিলমিশ করে দেয় এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ বলেন, “সকাল থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিকেলের দিকে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান করা হয়েছে। পূর্বে উভয় পক্ষ সমাধান মানতে রাজি না হলেও জনস্বার্থ বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাপজোখের মাধ্যমে সমাধান করা হয়। যার যতটুকু ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা দিয়েছে। চলাচলের রাস্তা ও বিরোধপূর্ণ দুটি পয়েন্ট অবমুক্ত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় গভীর রাতে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, এস্কেভেটরের ব্যাটারি জব্দ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না গেলেও মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর পাওয়া যায়। পরে এস্কেভেটরটির ব্যাটারি জব্দ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।

এ বিষয়ে দেবব্রত দাশ জানান, কৃষি জমির টপসয়েল ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক বিএনপি সভাপতির কবরে শ্রদ্ধা জানাতে এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুছ তালুকদারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (৮ মে)। এ উপলক্ষে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে ইউনুছ চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানে কবর জিয়ারত, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হুমাম কাদের চৌধুরী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নেন উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এম এইচ সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুবসহ লালানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মরহুম ইউনুছ তালুকদার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বৃহত্তর হোসনাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং হোসনাবাদ-লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এদিকে বিকেলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী, তফনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জন্মের পর বাবাকে দেখেনি ছেলে, জানাজায় অংশ নিয়েই বিদায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জন্মের পর থেকে কখনো বাবার মুখ দেখেনি ছেলে। ফোনে বা দূর থেকে কিছুটা যোগাযোগ থাকলেও বাবার স্নেহ-স্পর্শ তার ভাগ্যে জোটেনি। অবশেষে সেই বাবার জানাজায় অংশ নিয়েই বিদায় জানাতে হলো সন্তানকে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল গোয়াজর পাড়া এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম (৪৫) সৌদি আরবে মারা গেছেন। বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় সেখানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রবাসে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে জন্ম নেয় ছেলে মোহাম্মদ সিরাজ (৯)। জন্মের পর থেকে বাবাকে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি তার। বড় ছেলে মোহাম্মদ মিনহাজ (১২) ছোটবেলায় বাবাকে দেখলেও সিরাজ সেই সুযোগ পায়নি।

নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ মামুন জানান, গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তার ভাই অনলাইনে সক্রিয় ছিলেন। পরদিন ৩০ এপ্রিল সকালে সৌদি আরব থেকে খবর আসে, অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের কারণে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তিনি মারা গেছেন। বিষয়টি প্রথমে সেলিমের শ্বশুরের মাধ্যমে পরিবারকে জানানো হয়।

প্রথমে মরদেহ দেশে আনার আলোচনা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

এদিকে একই সময়ে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায়) দেশে তার পরিবারের উদ্যোগে স্থানীয় বাদামতলী জামে মসজিদ মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজায় অংশ নেয় সেলিমের দুই ছেলে মিনহাজ ও সিরাজও।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সেলিম সৌদি আরবে বাগানের কাজ করতেন। দেশে তার পরিবারে স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে মিনহাজ একটি হেফজখানার ছাত্র এবং ইতোমধ্যে ৯ পারা কুরআন মুখস্থ করেছে।

প্রবাসজীবনের দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর শেষ পর্যন্ত বাবার সঙ্গে সন্তানের দেখা হলো না—এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় দুই অভিযানে ১০৮ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার, গ্রেফতার ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক দুই অভিযানে মোট ১০৮ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে পৃথক সময়ে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শান্তিরহাট মাছ বাজার সংলগ্ন সড়কে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি সিএনজিতে থাকা তিন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে ১৩টি প্লাস্টিক পলিব্যাগে রাখা মোট ৭৮ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৯ হাজার টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়।

অপরদিকে, দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. সেকান্দার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বসতঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, দ্বিতীয় ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। প্রথম ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় হত্যা-ধর্ষণ ও মাদক মামলার ৪ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ ও মাদক মামলার ৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা মামলার আসামি মো. শাহাজাহান (২৬), নারী ও শিশু নির্যাতন (ধর্ষণ) মামলার আসামি নুর নবী (৪৬), এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দুটি পৃথক মামলার আসামি মো. নুরউদ্দিন ও সামসু মিয়া।

তারা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের হওয়া মামলার পরোয়ানা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে কারাগারে সোপর্দ করা হবে।

কাজের মান তদারকিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা জরুরি: এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে তাপবিদ্যুৎ এলাকা থেকে গোডাউন পর্যন্ত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মাধ্যমে কাজের সূচনা করেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ সময় বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তাপবিদ্যুৎ থেকে গোডাউন পর্যন্ত প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হলেও তাদের মূল লক্ষ্য পুরো কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। এ বিষয়ে নিয়মিত নীতিগত আলোচনা ও সভা চলছে বলেও জানান তিনি।

কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত ‘চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট সেতু’ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উপজেলায় একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় খাস জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুতই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে।

উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংবাদকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এমপি বলেন, ঠিকাদারদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাজের গতি ও মান তদারকিতে সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বজায় রাখার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করা সম্ভব।

অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ দিয়ে ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান এমপি হুমামের

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তরুণদের ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাঙ্গুনিয়া আয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও টেকাব প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদপত্র, ভাতা ও ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে নতুন হওয়ায় শুরুতে অনেক কিছু শেখার প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরে কথা বলার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। “অনেক কিছু বোঝার ও শেখার ছিল বলেই কিছুটা দেরিতে বক্তব্য দিয়েছি,” বলেন তিনি।

ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ সময় অতীত স্মরণ করতে গিয়ে মূল বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হারান। “আমরা যদি সবসময় ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকি, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা ও এগোনোর সুযোগ কমে যায়,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস জানা জরুরি, তবে সেটিকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রশিক্ষণকে প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অংশগ্রহণকারীদের আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন সংসদে আসাটাই বড় অর্জন। কিন্তু আমার কাছে কাজ এখনো শুরু মাত্র। চল্লিশ পেরিয়েও প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।”
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে শুধু পথ দেখান, কাজ আমি নিয়ে আসব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মীর মো. নজমুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

এদিকে একই দিনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন হুমাম কাদের চৌধুরী। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তিনি শিক্ষার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি।

নুয়ে পড়েছে ধান, ভাঙেনি মন; রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের ব্যস্ততা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: রাঙ্গুনিয়ার আকাশ এখনো অনিশ্চিত—মেঘ আর রোদের লুকোচুরি। কালবৈশাখীর ভয় কাটেনি পুরোপুরি। তবু কৃষকেরা থেমে নেই। রোদ উঠলেই তারা মাঠে ছুটছেন। কোথাও হেলে পড়া ধান সোজা করছেন, কোথাও পাকা ফসল দ্রুত কেটে ঘরে তুলছেন। এই সংগ্রাম প্রকৃতির বিরুদ্ধে নয়, বাঁচার তাগিদে।

গত ২৮ এপ্রিল থেকে টানা কয়েক দফা কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার মতো রাঙ্গুনিয়াও এর বাইরে ছিল না। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে বহু এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ফিরতে সময় লেগেছে প্রায় এক সপ্তাহ। বজ্রপাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ঝড়ের সেই রাতের স্মৃতি এখনো তাজা। দমকা হাওয়া আর ভারী বৃষ্টিতে সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বসতঘর, দোকান, গোয়ালঘর—সবখানেই ক্ষতির চিহ্ন।

তবে মাঠের দৃশ্য পুরোটা হতাশার নয়। বেশিরভাগ জমিতে ধান এখনো ভালো অবস্থায় আছে, সোনালি রং ধরেছে। কৃষকেরা স্বাভাবিকভাবেই ধান কাটায় ব্যস্ত। যদিও কিছু নিচু জমিতে পানি জমে ধান নুয়ে পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গুমাই বিলে একাই ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েসের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে কিছু জমির ধান মাটির সঙ্গে লেগে গেছে। প্রায় ৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন তিনি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ফসলেরও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।

সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে দৃশ্যমান চিত্র—কৃষকের অদম্য চেষ্টা। সোমবার রোদ উঠতেই দল বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। ক্লান্তি থাকলেও থামার সুযোগ নেই। কারণ এই ফসলই তাদের ভরসা।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি শ্রমিক সহায়তা না থাকলেও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও আবহাওয়ার আপডেট দেওয়া হচ্ছে। ধান কাটার কাজ শেষ হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে।

এদিকে কালবৈশাখীর মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর একের পর এক সতর্কতা জারি করে যাচ্ছে। তাই সময়ের সঙ্গে লড়াই করেই ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রাঙ্গুনিয়ার কৃষকেরা।

 

মে দিবস ও পেশাগত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা দিবসে রাঙ্গুনিয়ায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

পরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াস তালুকদার, সহ-সভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব এবং সদস্য ইসমাঈল হোসেন নয়ন।

বক্তারা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (মে দিবস) উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা শাখার উদ্যোগে র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে উপজেলার কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম), কর্ণফুলী জুট মিল ও ফোরাত মিল দ্রুত চালুর দাবি জানান। তাদের মতে, এসব কলকারখানা চালু হলে এলাকার বিপুল সংখ্যক বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে।

এছাড়া ইছাখালী এলাকায় বন্ধ হয়ে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশন পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। এতে করে হাজার হাজার সিএনজি চালকের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে কাপ্তাই সড়কে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রাশেদুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ হাসান মুরাদ।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাঙ্গুনিয়া শাখার সেক্রেটারি তসলিম উদ্দীনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তালেব, মাস্টার মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, পৌর শ্রমিক উপদেষ্টা আজম ওমর, দক্ষিণ রাজানগর শ্রমিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফরহাদ আলম, পোমরা ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা অধ্যাপক জসীমউদ্দিন, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা আজিম উদ্দিন, শিলক ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আলমগীর হত্যা: ৭২ ঘণ্টায় রহস্য উদ্ঘাটন, স্ত্রী-ছেলে গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আলোচিত আলমগীর হত্যার ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত গাছ কাটার ‘ধামা দা’।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ এপ্রিল রাত সোয়া ১টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার উত্তর পদুয়া কামারটিলা এলাকায় নিজ বসতঘরের দরজার সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন প্রবাসফেরত মো. আলমগীর (৪০)। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীর সহযোগিতায় ওসি হিলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ছেলে রবিউল হাসান রাকিবকে (১৮) ও স্ত্রী রহিমা বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ১৮-১৯ বছর আগে রহিমাকে বিয়ে করেন আলমগীর। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলে দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে রহিমা স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে যান।

৮-৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের আবার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ চলছিল।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভয়ভীতি দেখান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী ও ছেলে পরস্পরের যোগসাজশে ঘরে থাকা ধামা দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা একটি গল্প সাজান। প্রতিবেশীদের ডেকে জানানো হয়, আলমগীর ঘরের বাইরে গেলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিকতা ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের ওপর সন্দেহ করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মা-ছেলে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
ওসি হিলাল উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধের দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।”

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাই ঘিরে রাঙ্গুনিয়ায় প্রস্তুতি সভা, গঠন একাধিক উপ-কমিটি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” উপজেলা পর্যায়ের বাছাইপর্ব সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন ইভেন্ট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একাধিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সেলিম রেজা, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ইকবাল আহমেদ, ক্রীড়াবিদ ও সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন এবং ইসমাঈল হোসেন।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৯ এপ্রিল রাঙ্গুনিয়া আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ক্রিকেট এবং দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফুটবল ইভেন্টের বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৩০ এপ্রিল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য ইভেন্টের আয়োজন করা হবে।

আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শান্তিনিকেতন এলাকায় বজ্রপাতে মো. আমির শরীফ (৬২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী ঝড় চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমির শরীফ পেশায় একজন বর্গাচাষী ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি বাড়ির পাশের বিলে বর্গা নেওয়া জমিতে সেচ দিতে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাকে চন্দ্রঘোনা হেলথকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

নিহত আমির শরীফ উপজেলার শান্তিনিকেতন দক্ষিণ পাড়ার অলি আহমদ মাস্টারের বাড়ির মৃত লেদু হাজীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতোই কৃষিকাজে মাঠে গিয়েছিলেন তিনি। সেচ দিয়ে ফেরার পথেই বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়, যা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এনেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল, রাজাভুবন ও গজালিয়ার জয়োল্লাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার শিশুমেলা মডেল স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (বালক ও বালিকা) এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বালক বিভাগে রাজাভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। একইভাবে বালিকা বিভাগে গজালিয়া আছাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিরোপা জিতে নেয়।

খেলা ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, গ্যালারিতে অভিভাবকদের উচ্ছ্বাস এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি। প্রতিটি আক্রমণ, গোল ও রক্ষণভাগের লড়াইয়ে ফুটে ওঠে শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ। এ সময় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, খেলাধুলা শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রাঙ্গুনিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের মাঝে ট্রফি ও সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় সেচ পাম্পের তারে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটায় সেচ পাম্পের অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মো. আবছার (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ সিকদারপাড়া এলাকার কৃষি মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মো. আবছার মরিয়মনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সরফভাটার দক্ষিণ সিকদারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিনি পেশায় কৃষিকাজ করতেন।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়ির পাশে মাঠে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এরপর দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেলের দিকে কৃষি জমিতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এলাকাবাসীর দাবি, একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক তার কলাগাছের সঙ্গে ঝুলন্ত ও খোলা অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই খোলা তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে রাতে মরদেহ নিজ গ্রাম মরিয়মনগরে নিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। তাদের দাবি, ওই অব্যবস্থাপনাই এই মৃত্যুর কারণ।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটিতে রাঙ্গুনিয়ার আবু আহমেদ হাসনাত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু আহমেদ হাসনাত।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এ অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠকদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী হিসেবে আবু আহমেদ হাসনাতকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে গঠিত এই অ্যাডহক কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য, আবু আহমেদ হাসনাত এর আগে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া উন্নয়ন ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই তাকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় কমিশনার। সদস্য হিসেবে থাকবেন ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, স্থানীয় সরকার পরিচালক, বিভাগীয় সমবায় অফিসের যুগ্ম নিবন্ধক এবং ক্রীড়াবিদ আবু আহমেদ হাসনাত। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ মো. মসিউল আলম।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক-সেতু উন্নয়ন উদ্বোধন, কাপ্তাই সড়ক চার লেনের উদ্যোগের কথা জানালেন এমপি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ও সেতুর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ সময় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগের বিষয়ে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত পদুয়া রাজারহাট-কমলাছড়ি ব্রীজঘাটা খুরুশিয়া আবদুল হামিদ সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং এটি বাস্তবায়নে সরকার এগোচ্ছে। প্রকল্পটি চলতি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, এলজিইডির অধীনে আবদুল হামিদ সড়কটি কার্পেটিং করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া সড়কটি সংস্কারের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

একই দিন তিনি “ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন” প্রকল্পের আওতায় পেকুয়া সড়কের একটি ৩৯ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুর উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে পশ্চিম সরফভাটা এলাকার ক্ষেত্রবাজার-কালুরঘাট-চরণদ্বীপ সড়কের উন্নয়ন কাজেরও উদ্বোধন করা হয়।

 

পুষ্টি সচেতনতা বাড়াতে রাঙ্গুনিয়ায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শুরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি ও অপুষ্টি দূরীকরণে রাঙ্গুনিয়ায় শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

উপজেলা পর্যায়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়নে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

উদ্বোধন উপলক্ষে সকালে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আকতার এবং রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আফসার। এ সময় বক্তব্য দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইসমাইল হুসাইন, ডা. রিতা দাশ, রিপন দত্ত, উৎপল বড়ুয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলবে।

সরফভাটায় স্থায়ী খেলার মাঠের দাবিতে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটায় যুবসমাজকে মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং শিশু-কিশোরদের বিনোদন ও স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থায়ী খেলার মাঠের দাবিতে একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা ইউনিয়নের পুড়ামুড়া এলাকার একটি মাঠে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এতে সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরাও অংশ নেন।

১৬ ওভারের খেলায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সরফভাটার তরুণ ক্রিকেটাররা ২১৪ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। জবাবে সরফভাটার সাবেক ক্রিকেটাররা ১৫০ রানে অলআউট হলে ৬৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটাররা।

খেলায় অংশগ্রহণ করেন এস এ মুরাদ চৌধুরী, সোহেল রানা, রিকু, মামুন, জামাল, জুয়েল, মুন্না, সোহেল, ইউনুস, সাঈদ, সাজ্জাদ, তারেক, ওসমান, আকিব, ইরফান সিফাত, কোরবান প্রমুখ।

এ সময় ক্রীড়া সংগঠক এস এ মুরাদ চৌধুরী বলেন, সরফভাটা রাঙ্গুনিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। অথচ এ এলাকায় সর্বসাধারণের জন্য কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ নেই। যে স্থানে প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটিও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে খেলার মাঠ থাকলেও সরফভাটা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরফভাটায় একটি স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণের জোর দাবি জানান।

আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী খেলার মাঠের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আবারও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, এলাকায় একটি খেলার মাঠ নির্মিত হলে তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হবে, যা মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে এবং সামাজিক শান্তি ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মহিবুল্লাহ মারুফী, আজগর, আলমগীর সিকদার, মান্নান, লিয়াকত, সবুজ, বি,এস করিম, এস,এম সালাউদ্দীন প্রমুখ।

কাঁচা সড়কে ভরসা, বর্ষায় বন্ধ স্কুলে যাওয়া—রাঙ্গুনিয়ার হালিমপুরে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : দুর্গম এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে আশোবা ওয়াজেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কের দুরবস্থার কারণে বর্ষা এলেই কার্যত থমকে যায় পাঠদান কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে শত শত শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১ নম্বর রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমপুর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে এলাকার কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহমদ তাঁর মরহুম পিতা-মাতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে ইতোমধ্যে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে নিয়মিত পড়াশোনা করছে। হালিমপুরসহ বাইশ্যের ডেবা, গাজী বাড়ি, বাইশ্যের বাড়ি, মোহাম্মদপুর, দরবানীর বাড়ি ও ফুল বাগিচা গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এক থেকে দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে।

কিন্তু বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কটি এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই সড়কটি কাদামাটিতে পরিণত হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও পিচ্ছিল ও জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সড়কটি তখন প্রায় অচল হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “শুকনো মৌসুমে আমরা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারি। কিন্তু বর্ষা শুরু হলেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, কাপড় নষ্ট হয়ে যায়—তাই অনেক সময় স্কুলে আসা সম্ভব হয় না।”

অভিভাবকদের অভিযোগও একই। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করুক—এটাই চাই। কিন্তু বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ থাকে যে তাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরাম হোসেন বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বর্ষা এলেই তা অর্ধেকে নেমে আসে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত আসতে পারে না, ফলে তাদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সড়কটির উন্নয়ন হলে শিক্ষার পরিবেশ অনেক ভালো হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, “এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে সেই সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।”

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর কাছে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এমপির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করে বর্ষা মৌসুমেও চলাচল উপযোগী করা হোক।