বাংলাদেশ-পাকিস্তান বৈঠকে ভিসামুক্ত ভ্রমণসহ ছয় চুক্তি-সমঝোতা সই

সংগৃহীত ছবি

ডেস্ক: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়েছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানানো হয়।

চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত ভ্রমণ, বাণিজ্য সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, তিন বছর মেয়াদি সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, সরকারি বার্তাসংস্থার মধ্যে সমঝোতা এবং গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা।

বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার দাবি করেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো এরইমধ্যে তাদের দেশ সমাধান করেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইসহাক দার। রাতে গুলশানে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেবেন তিনি।

এর আগে শনিবার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকা আসেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী। পৌঁছানোর পর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

রুমিন ফারহানার কর্মীদের হাতে এনসিপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ: সারজিস আলম

 

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন যে, রুমিন ফারহানার কর্মীরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন। তিনি রবিবার (২৪ আগস্ট) এ সংক্রান্ত তথ্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন।

এক ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম বলেন, ‘একদিকে জনাব রুমিন ফারহানার পোষ্য কর্মীরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকে শারীরিকভাবে আঘাত করছে, আর অন্যদিকে জনাব রুমিন ফারহানা গাল-মুখ ফুলিয়ে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী ভাব নিয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে দেখেও না দেখার ভান করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘টকশোতে বড় বড় সুশীলতা দেখানো যায়, লেকচার দেয়া যায়। কাজ দিয়ে প্রকাশ পায়- কে সুযোগ পেলে আবার আগের পথে হাঁটবে আর কে সংশোধন হবে।’

ইসি অফিসে আপিল শুনানিতে যোগ দিতে গিয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আতাউল্লাহও বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানার কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করে সারজিস আলম বলেন, ‘তার (আতাউল্লাহ) অপরাধ শুধু সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিরোধিতা করে আপিল করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি কি আওয়ামী লীগের চরিত্র ফিরতে চায়? জোর যার, মূলুক তার বানাতে চায়? এই সুযোগ আর দেয়া হবে না।’

ইসি প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে সারজিস বলেন, ‘ইসির ভেতরে যদি একজন শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এই অথর্ব ইসি কীভাবে সারা বাংলাদেশে অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সুষ্ঠু ভোট সম্পন্ন করবে?’

প্রসঙ্গত আজ রবিবার (২৪শে আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ওপর জমা হওয়া আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর দুপুর ১টার দিকে শুনানিকালে দু’পক্ষে ধাক্কাধাক্কি-হাতাহাতি ও কিল-ঘুষির ঘটনা ঘটে।

যাদের জন্য ১৫ বছর লড়লাম, এখন তারাই ধাক্কা দেয়’ — রুমিন ফারহানা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “গত ১৫ বছর যে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য লড়াই করলাম, তারাই এখন আমাকে ধাক্কা দেয়। ঠিক আছে, ধাক্কার বদলে ধাক্কা আসবেই।”

রোববার (২৪ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

এদিন সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণে ইসিতে দাবি-আপত্তির শুনানিতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে যিনি আছেন তিনি পিটিয়ে পিটিয়ে মানুষের স্বীকারোক্তি নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে আমরা প্রেজেন্ট (উপস্থাপন) করেছি। জনসংখ্যার বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত। আমার বিষয়গুলো আমি নিজে প্রেজেন্ট করব, তাই করেছি।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আশা করেছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে যিনি আছেন, তিনি গুন্ডা-পান্ডা নিয়ে ইসিতে ঢুকবেন না। কিন্তু তারা গুন্ডা নিয়ে ইসিতে এসেছেন। এই আসনের প্রার্থী তার গুন্ডা-পান্ডা সদলবল নিয়ে ইসিতে এসে মারামারি করেছেন- এটা খুবই লজ্জাজনক। এতে কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে’।

এনসিপির কর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, উনি যেহেতু পরিচিত মুখ নয়, সুতরাং উনি জামায়াত না এনসিপি আমার জানা নেই। তবে উনার লোকজন প্রথম আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। ‍আর আমাকে ধাক্কা দিলে আমার লোকজন তো বসে থাকবে না, কারণ আমি একজন নারী। আমার লোকজনকে যখন মারধর করেছে, তখন আমার লোকজনও জবাব দিয়েছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি সবসময় ২০০৮ সালের আগের আসনসীমায় ফেরার দাবি জানিয়ে এসেছে। কারণ মাঝের ১৫ বছরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থে সীমানা পরিবর্তন করেছিল, যা তারা মানেন না। তাই খালেদা জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফেরাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক যে আজ নির্বাচন কমিশনে মারামারির ঘটনা ঘটেছে—যা গত ১৫ বছরে হয়নি। যাদের জন্য এতদিন লড়াই করলাম, সেই বিএনপির নেতা-কর্মীরাই আজ আমাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার জবাবে ধাক্কা তো আসবেই।

 

প্রধান উপদেষ্টার হাতে সাগর-রুনির সন্তানের জমির দলিল হস্তান্তর, মামলায় তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘের কাছে পূর্বাচলে তিন কাঠা জমির দলিল হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বৃহস্পতিবার(২১ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মাহির সরওয়ার মেঘের হাতে এই দলিল হস্তান্তর করেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাংবাদিক সাগর সরওয়ার এই প্লটটি ২০০৪ সালে আবেদন করে ২০০৫ সালে বরাদ্দ পান। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করার পরও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এই প্লট সাগর সরওয়ারের পরিবারকে এই প্লটটি বুঝিয়ে দেয়নি।

উত্তরাধিকার সূত্রে এই প্লটের বর্তমান মালিক সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির এবং মাহির সরওয়ার মেঘ।

প্লটের দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

তিনি বলেন, “তদন্তে এ ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা মানুষের মধ‍্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে।”

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেৃপক্ষকে আলোচিত এই হত‍্যা মামলায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগ বহু আলামত নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এসময় মেঘ তার নিজের ডিজাইন করা এরা একটি জার্সি ও ব‍্যাগ প্রধান উপদেষ্টাকে উপহার দেন।

দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন‍্যান‍্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, ফরিদা আখতার ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, রাজধানীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং মেহেরুন রুনির ভাই নওয়াজেশ আলম রোমান।

চট্টগ্রামে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা: যুব ও স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে বুধবার (২০ আগস্ট) জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত রেখে বর্ষব্যাপী “তারুণ্যের উৎসব” কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় এবং প্রতিটি দপ্তরকে ক্যালেন্ডার তৈরি করে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আগামী ১২ অক্টোবর ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের টাইফয়েড টিকা প্রদানের বিষয়ে সবাইকে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় নিয়ে মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সভায় যুব উন্নয়ন, কৃষি, পল্লী উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম আলোচনা করা হয়। জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রতিটি দপ্তরকে আরও সক্রিয় ও সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসময় সভায় ঋণ আদায়, কৃষকদের উন্নত বীজ সরবরাহ, মডেল মসজিদ নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুজ্জামান সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

চট্টগ্রামে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানি: জেলা প্রশাসনের অনন্য উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম: জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন শুরু করেছে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ—প্রান্তিক পর্যায়ে গণশুনানি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাদি উর রহিম জাদিদ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলার ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে ৭৫টিতে নেই কোনো জনপ্রতিনিধি পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসকদের মাধ্যমে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে—সরাসরি ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে জনগণের সমস্যার কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করা। এটি কেবল প্রশাসনিক সেবা প্রদান নয়, বরং জনগণের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রশাসনকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য প্রয়াস।

দিনব্যাপী গণশুনানিতে সলিমপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মনোযোগ সহকারে সেগুলো শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মান উন্নয়ন, রাস্তা মেরামত, বিদ্যুৎ সংযোগ, আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ—প্রধানত এসব বিষয় উঠে আসে গণশুনানিতে।

জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেন যে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতি বুধবার নিজ কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। তবে এবার কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে জনগণ সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সেবার মানোন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

গণশুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “জনগণের সমস্যা সমাধান করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। মানুষকে সেবা পেতে দৌড়াতে হবে না, প্রশাসন তাদের দোরগোড়ায় যাবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গণশুনানি কেবল সমস্যা সমাধান নয়, বরং জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসক ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি জারুল গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, টেকসই উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।

গণশুনানি শেষে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবা প্রদানে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুধু গণশুনানিই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ জেলে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ এ উদ্যোগকে যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, আগে সমস্যার সমাধানে দফতরে দফতরে ঘুরতে হতো; আজ জেলা প্রশাসক নিজে এসে কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন—এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।

সলিমপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বাস্তব পদক্ষেপ। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ইউনিয়ন পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

দেশের সব হাসপাতালে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: হাইকোর্ট দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও তানিম খান।

এর আগে, গত ১৭ আগস্ট সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সরবরাহের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরুন্নবী। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়। Read More “দেশের সব হাসপাতালে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহে হাইকোর্টের নির্দেশ”

প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ফাইল ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত তারিখেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “জনগণ নির্বাচনমুখী হলে কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না।”

শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশব্যাপী নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণন রোধে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই বাজারে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ সময় তিনি দোকানগুলো ঘুরে দেখেন এবং বিক্রেতাদের পলিথিন ব্যবহার না করতে উৎসাহিত করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের যে তারিখ ঘোষণা করেছেন, সেই তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন হবে। স্যারের কথার উপরে আমাদের কোনো কথা নেই।”

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে বলেন, “রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি কিছুটা বেশি হয়। তবে কোনো চাঁদাবাজকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যতো বড়ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে শাকসবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজার স্বাভাবিক আছে। প্রচুর আলু মজুত আছে। পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে আসতে আসতেই দাম বাড়ছে। কৃষকরা যথাযথ দাম পাচ্ছে না, মধ্যস্বত্বভোগীরাই বেশি লাভ করছে।”