চান্দগাঁওয়ে পুলিশ অভিযানে ছিনতাইকৃত সাড়ে ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকৃত মোট ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭০ টাকা ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল ও টিপছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন জান আলী রেলস্টেশন এলাকায় রফিক স্টোর নামের একটি গোডাউনের সামনে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে প্রায় ২০ লাখ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ প্রথমে অভিযান চালিয়ে দুই আসামি— মো. সুমন (৩০) ও মো. আলী (৪৫) কে গ্রেফতার করে। তাদের হেফাজত থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি টিপছোরা এবং ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে পুলিশের পৃথক অভিযানে লক্ষীপুরের চৌধুরীঘাট এলাকা থেকে আরো তিনজনকে— মো. রাকিব (৩২), মো. ফয়সাল (১৯) ও মোছা: কাজল আক্তার (২১)— গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা।

মোট উদ্ধার হওয়া টাকা ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

চান্দগাঁও থানার ওসি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ডাকসু নির্বাচন: ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ

সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ (ছবি: সংগৃগীত)।

ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েম নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়ী হয়েছেন একই প্যানেলের এস এম ফরহাদ।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

ভিপি পদে সাদিক কায়েম পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান পান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।
জিএস পদে এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানবীর বারী হামিম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন খান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭২ ভোট।

দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা যায়।এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন এবং ১৩টি ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ জন ভোটার ছিলেন।

কেন্দ্রীয় সংসদে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া, ১৮টি হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৩৪টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী ছিলেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে চট্টগ্রাম ডিসির অভিনব গণশুনানি

ছবি: সংগৃহীত।

ডেস্ক: জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রান্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলো গণশুনানি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নাগরিক সেবা বিষয়ক এ গণশুনানি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: সাদি উর রহিম জাদিদ। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে কুসুমপুরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এসময় উত্থাপিত ২১টি বিষয়ের মধ্যে ২০টির নিষ্পত্তিকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেন জেলা প্রশাসক। ভিক্ষুক ও গৃহহীন পুনর্বাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, সড়ক উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হুইলচেয়ার প্রদান, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা – প্রধানত এসকল বিষয় উঠে আসে আজকের এই গণশুনানিতে। জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতি বুধবার নিজ কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। তবে কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের এই অভিনব উদ্যোগ।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “টাইম-কস্ট-ভিজিট—জনগণের ভোগান্তি লাঘবে এই তিনটি বিষয় সহজীকরণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানির এই উদ্যোগ। মানুষকে সেবা পেতে দৌড়াতে হবে না, প্রশাসন তাদের দোরগোড়ায় যাবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।”

“স্থানীয়রা বলেন, জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ অভাবনীয়। মাঠপর্যায়ে এরকম গণশুনানি চলমান থাকলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।”

মাদক-বান্ধব পুলিশকে ছাড় নয়: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: নরসিংদীতে মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার)। তিনি বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে প্রমাণসহ তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “পুলিশই যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের মতো মাদকের সঙ্গে ন্যুনতম সংশ্লেষ থাকা পুলিশের স্থান নরসিংদীর মাটিতে হবে না।”

তিনি জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো পুলিশ অফিসার বা সদস্য মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকলে ছোট্ট একটি ভিডিও বা অডিও প্রমাণ সংগ্রহ করে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিন। আমি কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমি পক্ষপাতিত্বের লোক নই, আমি ন্যায়বিচারের লোক।”

তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে কোনো পুলিশ সদস্য বা তাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মামলা, জিডি, তদন্ত, মোবাইল উদ্ধার, বিরোধ মীমাংসা বা ভিকটিম উদ্ধারের নামে টাকা দাবি করে, তবে তার প্রমাণ সংগ্রহ করে জানাতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “অল্প কিছু বিপদগামী পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনী কলঙ্কিত হয়। আপনারা যদি এসব অপরাধে চুপ থাকেন আর পরে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পুলিশ ঘুষ নেয়’ বলে পোস্ট দেন, তাহলে নীতিবান পুলিশ সদস্যরা কষ্ট পান।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার নামে কেউ টাকা, মাসোহারা বা অন্য কোনো সুবিধা চাইলে প্রমাণ সংগ্রহ করে তার হাত-পা বেঁধে খবর দিবেন। সে পুলিশ, পাবলিক, সরকারি বা বেসরকারি লোক যে-ই হোক না কেন।”

জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তার সরকারি মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ): ০১৩২০০৯১৩৪৫

শেষে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমরা সবাই মিলে যুগযুগের পচা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনব, ইনশাআল্লাহ।”

অর্থ নয়, প্লাস্টিক বর্জ্যেই মিলছে চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার সকালে নগরীর ষোলশহর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র নিজেই রোগী দেখেন এবং বিদ্যানন্দের চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন, বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখবে।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, এর আগে সংগঠনটি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ করলেও এবারই প্রথম স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলো। তিনি বলেন, “কসমোপলিটন এলাকায় চালু হওয়া এ হাসপাতালটিতে গাইনি, চক্ষু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। থাকবে ল্যাব সুবিধা ও ফার্মেসি। চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধ ও পরীক্ষা দরকার হবে, তা প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়েই পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে এটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে শুরু হলেও সাড়া পেলে ধীরে ধীরে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিদ্যানন্দ জানায়, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পে তারা ২০০ মেট্রিকটন প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং করেছে।

 

আজ রাতের আকাশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: রক্তিম চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শনি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: আজ (রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর) রাতেই ঘটতে যাচ্ছে পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ উপভোগ করবে এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শুরু হবে পেনুমব্রাল গ্রহণ। রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এবং স্থায়ী হবে রাত ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় চাঁদ রক্তিম আভায় রূপ নেবে, যা “Blood Moon” নামে পরিচিত। পূর্ণগ্রাস অংশ স্থায়ী হবে প্রায় ৮২ মিনিট। পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে। অর্থাৎ পেনুমব্রাল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রহণ চলবে মোট প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট।

পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চলাকালে আকাশে চাঁদের কাছেই দেখা যাবে সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শনি (Saturn)। এটি খালি চোখে উজ্জ্বল হলুদাভ বিন্দুর মতো দেখা যাবে। টেলিস্কোপ বা উন্নত বাইনোকুলার ব্যবহার করলে শনির বলয় আংশিকভাবে দেখা সম্ভব।

অন্যদিকে, গ্রহ নেপচুন (Neptune) তখন আকাশে অবস্থান করলেও এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে হালকা নীলাভ একটি ক্ষুদ্র বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বহু দেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে। সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে ইন্দোনেশিয়ার হিলা দ্বীপ থেকে শুরু করে আফ্রিকার কেনিয়ার মোম্বাসা উপকূল পর্যন্ত এলাকায়।

আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে খালি চোখেই গ্রহণ দেখা সম্ভব হবে। তবে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে চাইলে বাইনোকুলার, ছোট টেলিস্কোপ কিংবা স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আজ রাতের এই মহাজাগতিক ঘটনা একসঙ্গে পূর্ণিমা, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, রক্তিম চাঁদ ও শনির সৌন্দর্য উপহার দেবে। বিরল এ দৃশ্য উপভোগে তাই বিশ্ববাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।

সূত্র: NASA, BBC Sky at Night Magazine

চট্টগ্রামে জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— সাইফুল ইসলাম (১৩) ও আইয়ুব আলী (৬০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‌্যালি চলাকালে প্রচণ্ড গরমে মাথা ঘুরে পড়ে যান তারা। এ সময় পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার সকালে চট্টগ্রামে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে ঐতিহাসিক জশনে জুলুছ শুরু হয়। ষোলশহরের আলমগীর খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ এর নেতৃত্বে হাজারও মানুষ এতে অংশ নেন।

শোভাযাত্রাটি নগরীর বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট ও জিইসি মোড় হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ময়দানে গিয়ে মাহফিল ও জোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা ৫৪তম জশনে জুলুস ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা’ দরুদ পাঠ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন মুরাদপুর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সকাল ৯টায় আলমগীর খানকাহ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রা শুরু হয়।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ ও সৈয়্যদ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ্ ।

শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শরিয়তসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে ড্রাম সেট বাজানো, নারীর অংশগ্রহণ এবং খাবার নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় অস্ত্রসহ ২ যুবক গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই এলাকার মো. পারভেজ (৩১) এবং আশরাফ আলী সিকদার (১৯)

ওসি সাব্বির বলেন, “সকালে সরফভাটা এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযানের সময় সেনাবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।”
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি কিরিচ, একটি দা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় আরও চারটি মামলা রয়েছে।”

“তারা হারায়—কখনো ফিরে, কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতিতে”

রাঙ্গুনিয়ায় দুই শিশুর হারিয়ে যাওয়া ও মানবিক উদ্ধার অভিযান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: একটা অন্ধকার রাত। দুই অবুঝ শিশু পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

কে জানে তারা কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে?
তারা হারিয়ে গেছে—কখনো হয়তো ফিরে আসবে, আবার কখনো হারিয়ে যাবে এমন এক পরিণতির দিকে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে পাওয়া গেছে। কেউ চিনে থাকলে যেন যোগাযোগ করা হয়।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু দুজনকে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক শিশুদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নে। শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায়, স্থানীয় এক যুবক, মুসাফির তালুকদার, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন যাতে তাদের পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়।

জোনাকি ও আয়েশা—দুই অবুঝ মুখের পরিচয়

শিশু দুটির একজনের নাম জোনাকি, অপরজন আয়েশা। তারা জানায়—তাদের বাবার নাম সোহেল, মায়ের নাম মুন্নী। কখনো তারা বলে সৈয়দনগর, কখনো কাটাখালি—ঠিকানা তারা মনে রাখতে পারে না।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকা থেকে ফোন আসে। এক ব্যক্তি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, শিশুদের নানী পরদিন সকালেই প্রমাণপত্রসহ এসে নিয়ে যাবেন।

পরদিনই এক করুণ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জোনাকি(৯) ও আয়েশার(৭) নানী এসে তাদের পারুয়া থেকে নিয়ে যান।

“কিন্তু পরদিন আরও একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে আসে।”

জানা যায়, জোনাকি ও আয়েশার বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা এখন নানীর কাছে থাকে।
পায় না বাবার আদর, কিংবা মায়ের যত্ন। কারণ মা মুন্নী শহরে কাজ করেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে।

বাবা-মা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কিছুটা মানসিক সমস্যা, আর শিশু দুজনের একজন মানসিকভাবে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিকারগ্রস্ত)। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, ঠিকানা মনে রাখতে পারে না। মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে শিশুদের নানী মো. ননা মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তার জানান, তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিল শেষবার কাউখালি থানার সহায়তায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তারা তার কাছেই থাকেন উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকার সোনারগাঁও এলাকা সংলগ্ন ঘোনাকূল ওরনার টিলা এলাকায়।

“দারিদ্রতার কাছে তিনিও পরাজিত, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই দুই নাতনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেও তবুও হারিয়ে যায় তারা।”

প্রশ্ন: এবার তারা ফিরে এসেছে ভালো কিছু মানুষের সহানুভূতিতে, কিন্তু আগামীবার?

 

পূর্বের আরেক করুণ গল্প: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন 

এ ধরনের একটি ঘটনা আগেও ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ওসমানের টেক এলাকার আমড়াকাটার বাড়িতে।
সেখানে এক মেধাবী ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হলেও ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তার পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা না থাকলেও, সাজ্জাদের সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে। সে প্রায়ই হারিয়ে যেতো। কখনো ফিরে আসতো, কখনো বহুদিন নিখোঁজ থাকতো।

শেষবার সে হারিয়ে যায় চিরতরে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু ছেলের মুখ শেষবার আর দেখতে পারেননি।

সাজ্জাদের গল্প আমাদের শেখায়—মানসিক অসুস্থতা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের কষ্ট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

নিরাপদ নয় এই অনিশ্চিত পথচলা

জোনাকি ও আয়েশার গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি বাংলাদেশের অনেক শিশুর বাস্তবতা।
তারা হারিয়ে যায়— কখনো ফিরে আসে কারো মমতায়,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতির অন্ধকারে।

এখনই যা করণীয়:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:
শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রশাসনিক নজরদারি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৩. পরিচয়পত্র ব্যবস্থা:
শিশুদের জন্য আইডেন্টিটি ট্যাগ, নামপোতা জামাকাপড় কিংবা ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

৪. কমিউনিটি সাপোর্ট:
স্থানীয় দোকান, বাজার, মসজিদ-মন্দিরের লোকদের সচেতন করা জরুরি—যাতে তারা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারেন।

শেষ কথা: আজ জোনাকি ও আয়েশা ফিরে এসেছে।
কিন্তু এটাই কি শেষবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

“আমরা জানি না, এটাই কি তাদের হারানোর শেষবার?
কিন্তু এটুকু জানি—তারা যেন আর না হারায়,
তাদের ছোট্ট জীবন যেন থেমে না যায় কোনো নির্মম পরিণতির কাছে। এই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”

প্রতিবেদন: এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার,
সম্পাদক: রাঙ্গুনিয়া টুডে।

 

নুরুল হক নূরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত

ডেস্ক:

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রাজনীতিবিদ নুরুল হক নূরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নূরের সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, নুরুল হকের শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে মারিয়া আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, নূরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নাকের হাড় ভাঙা এবং চোয়াল ও মেরুদন্ডে আঘাত পেয়েছেন।

মারিয়া আক্তার সুচিকিৎসার জন্য নূরকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জানালে প্রধান উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আমরা সবাই স্তম্ভিত। তাঁর সুচিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।”

এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, হামলার ঘটনায় বিচারপতি আলী রেজার নেতৃত্বে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামীকাল এর গেজেট প্রকাশিত হবে, এবং ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন দেবব্রত দাশ।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট তিনি রাঙ্গুনিয়ায় যোগদান করেছিলেন।

জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার সন্তান দেবব্রত দাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় যোগদানের আগে তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, পূর্বে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মারজান হোসাইন। সম্প্রতি বদলির পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেবব্রত দাশ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ: সফর ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান সম্প্রতি তাঁর চীন সফরকালীন অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর অভিজ্ঞতা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সেনাপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান সেনাবাহিনীর চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়ার মাজারে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

সোমবার রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরস্থ সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা নেতাদের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলের মাধ্যমে অংশ নেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আজ সকল বিএনপি-জনগণ এক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ফুল দিতে যাচ্ছেন, তাদের সবাইকে সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধও জানান তিনি।”

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের নেতৃত্বে মিছিল শেষে ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

 

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু আহমেদ হাসনাতের নেতৃত্বে মিছিল শেষে ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ জসিম ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরীও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোসহ তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

“পলিথিন ব্যাগে শূন্য সহনশীলতা ঘোষণা: পরিবেশ উপদেষ্টা”

  • ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহারে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে কারও কাছে পলিথিন পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে জব্দ করা হবে।

রোববার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বাজারজাতকরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত বাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে পলিথিন নিষিদ্ধকরণ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতেই হবে।”

তিনি জানান, প্রায় সব সাইজের পাটের ব্যাগ সরকার ভর্তুকি দিয়ে সুলভ মূল্যে সরবরাহ করছে। একটি ব্যাগ একবার কিনলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব। তাই পলিথিন ব্যবহার করার কোনো অজুহাত আর গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০০২ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল, অথচ ২০২৫ সালেও তা ব্যবহার হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সব ধরনের প্লাস্টিক নয়, কেবল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক—বিশেষ করে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের আওতায় আসবে।

মাছ, মাংস ও শাকসবজি বহনে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের সুবিধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ব্যাগ ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা সম্ভব। এতে পরিবেশ রক্ষা হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সুরক্ষিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ এবং পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কাল বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

 

ডেস্ক: বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক শুরু হবে রবিবার (৩১ আগস্ট) থেকে। এদিন বৈঠকে অংশ নেবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শক্তি বা ষড়যন্ত্রই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।

প্রেস সচিব আরও জানান, সমসাময়িক বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টা, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকে ন্যাক্কারজনক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে একজন হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসময় তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা নুরুল হক নুরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

ভিপি নুরের ওপর হামলা নিয়ে সরকারের বিবৃতি

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নূরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল নূরের ওপরই নয়, এ ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার ওপরও আঘাত। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

তাৎক্ষণিকভাবে নুরুল হক নূর ও তাঁর আহত সহকর্মীদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানোরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিবৃতিতে নূরের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। বলা হয়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। চব্বিশের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চলাকালে তাঁকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনেরও উল্লেখ রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংকটময় এই সময়ে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলেও জোর দেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় দেড় হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি

ডেস্ক: সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১ হাজার ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৯৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে অন্যান্য অপরাধে আরও ৫৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও অভিযানে রিভলবার, ১২ বোর একনলা বন্ধুক, এলজি বন্ধুক, পিস্তল, জি-৩ রাইফেল, এমএ-১ ভেরিয়েন্ট রাইফেল, এলএম-১৬ ভেরিয়েন্ট রাইফেল, দেশীয় এলজি, পাইপগান, নয়টি ম্যাগাজিন, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৫১১ রাউন্ড গুলি, তিনটি চাপাতি ও দুইটি চাইনিজ কুড়াল জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

 

 

রাঙ্গুনিয়ায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেপ্তার

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সোহেল পাটোয়ারী (৩২) উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোব্বাতের ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর ইকো পার্কের সামনে সড়কে গাড়ির গতিরোধ করে স্থানীয় মো. ইউনুছ আলী (৩৪) ও সিএনজি চালক মো. ভুট্টোর (৪১) উপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের মাথায় আঘাতসহ পিটিয়ে আহত করা হয়।

পরে আহতদের ভাই হযরত আলী (২০) বাদী হয়ে সোহেল পাটোয়ারীকে প্রধান আসামি এবং আরও দু’জনকে আসামি করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সোহেলকে কোব্বাতের ঘোনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “সোহেল পাটোয়ারী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে ১টি হত্যা, ৪টি মারামারি ও ১টি চুরির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে বিএনপির মিটিংয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলা উল্লেখ করে এবং এ হামলার প্রতিবাদে গত সোমবার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কাপ্তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির বিভিন্ন নেতাকর্মী, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি: ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা লুট

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্য বেতাগী এলাকায় বুধবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডাকাতদের হামলায় বাড়ির দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রাখে।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, “ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে খালেদ আহমদ (২৪) ও জাবের আলমকে (২০) তারা মারধর করে। এরপর আলমারি ভেঙে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যাংকের চেকবইসহ মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়।”

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব জানান, “বাড়ির পাশের একটি কবরস্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পালানোর সময় ডাকাতরা এগুলো ফেলে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

‘“চৌধুরী পরিবারের শক্তি তাকবিরের স্লোগান: হুম্মাম কাদের চৌধুরী”

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “অনেকেই অনেক কথা বলে, চৌধুরী পরিবারের আসল শক্তি হলো নারায়ে তাকবির।”

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের লিচুবাগান চত্বরে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “যদি মনে হয় বিএনপির কোনো নেতা আপনার কাছ থেকে চাঁদা চেয়েছে, তবে এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। এর শাস্তি আমি নিজেই দেব। দল হয়তো বহিষ্কার করবে, কিন্তু আমি খালি বহিষ্কার করব না—চোখে চোখ রেখে বলতে হবে কে চাঁদা চেয়েছে, তারপর পরিস্থিতি কী হবে আপনারাই জানবেন।”

তিনি বলেন, “অনেকেই বলে ভাইয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি বলছি, আমি একশন নেব না—আপনারাই ব্যবস্থা নেবেন। এটা আপনাদের দায়িত্ব।”

সভায় নেতাকর্মীদের স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাকে তাকবির দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি বলছি, এটা শুধু আমার তাকবির নয়—এটা রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি মুসলমানের তাকবির। এখন থেকে দুইটা স্লোগান দিতে হবে—‘জিয়ার সৈনিক’ আর ‘নারায়ে তাকবির’।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি একসাথে থাকি, একে অপরের পাশে দাঁড়াই, আমাদের হারানোর কেউ থাকবে না। আমরা বিএনপির সদস্য হলেও বারবার প্রমাণ করি, রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে পাক্কা মুসলমান নেতৃত্ব দিচ্ছে।”

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “প্রার্থী যেই হোন না কেন, আমাদের দায়িত্ব একটাই—বিএনপির প্রার্থীকে জয়ী করে সংসদে পাঠানো। এজন্য আমার ও আমার দলের পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে আপনাদের।”

বাবার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে হুম্মাম বলেন, “আজ আপনাদের দেখে মনে হলো আমি এতিম নই, আমি বাবা হারাইনি। আজ আমার পরিবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে নমিনেশন দিক বা না দিক, আমি দলে থাকি বা না থাকি, আমি বেঁচে থাকি বা না থাকি—ওয়াদা করে যাচ্ছি, আমার পরিবার সারাজীবন এই রাঙ্গুনিয়ার গোলামী করে যাবে।”

রাঙ্গুনিয়ায় একাধিক মামলার আসামি কুপিয়ে হত্যা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় হত্যাসহ একাধিক মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহত মো. রুবেল (৩৫) উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের হারুয়ালছড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, বুধবার গভীর রাতে হারুয়ালছড়ি এলাকায় রুবেলের বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে ওসি বলেন, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা রুবেলের ঘরে প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের গলার বাম পাশ কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “নিহত রুবেল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১১টি মামলা ছিল।”
প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, ঘটনার সময় রুবেলের সঙ্গে মো. মোরশেদ নামে আরও একজন ছিলেন যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলে শোনা গেলেও ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়কের পাশ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

 

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে রোজি আকতার (৫০) নামে এক নারীর পা ও মাথা থেতলানো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের উপজেলার মরিয়মনগর কাটাখালী এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রোজি আকতার(৫০) শিলক ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মো. জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।

থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে রোজি আকতার তার বাপের বাড়ি মরিয়মনগর কালুগোট্টার উদ্দেশ্যে বের হন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী এলাকায় সড়কের পাশে তার পা ও মাথা থেতলানো মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থল তার বাপের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করে পরিবার ও থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় আদালতের রায়ে ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া, নিলামে ইট বিক্রি

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আদালতের রায়ে একটি ইটভাটার ১২০ ফুট উচ্চতার ফিক্সড চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়।

এছাড়াও ইটভাটার সাড়ে ৩ লাখ ইট উন্মোক্ত নিলামের মাধ্যমে তিন লাখ আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকালে উপজেলার দক্ষিণ রাজনগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আল মদিনা ব্রিকস নামক ইটভাটায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান।

সুত্রে জানা যায়, পরিবেশ আদালত, চট্টগ্রাম এর পরিবেশ মামলা নং ০৩/২০১১ এর রায়ের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে মেসার্স আল-মদিনা ব্রিকস-১ ইটভাটাটির ১২০ ফুট উচ্চতার ফিক্সড চিমনি ধ্বংস করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ২০১১ সালের মামলায় জব্দকৃত ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ইট উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়। উক্ত নিলাম কার্যক্রমে সর্বোচ্চ দর ডাককারী মো. সাইফুজ্জামানের কাছে ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে বুঝিয়ে দিয়ে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞ আদালতের রায় বাস্তবায়ন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

 

রাঙ্গুনিয়ায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তৌহিদুল ইসলাম আরিফ (২৬) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার জানান, সকালে আরিফকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। নিহতের বাবা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেমঘটিত বিষয়ে ছেলের সঙ্গে মায়ের ঝগড়া হয় আগের রাতে। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় রুম থেকে বের না হলে দরজা ভেঙে আরিফকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, আপাতত এটি অপমৃত্যু মামলা হলেও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত আরিফ উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সাহাব্দীনগর বলির বাড়ির আবদুল কুদ্দুসের ছেলে।

 

মোবাইলে জুয়া অ্যাপ পেলেই শাস্তি: দুই বছরের জেল ও অর্থদণ্ড

ডেস্ক: মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার মাকসুদা আকতার খানম। তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২০ অনুযায়ী অনলাইন জুয়া খেলা, জুয়া-সম্পর্কিত অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি এবং তার প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত সোমবার (২৫ আগস্ট) মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, “যারা মনে করেন অনলাইন জুয়া লটারির মতো সহজে টাকা কামানোর উপায়, তারা খেলার আগে অন্তত দুইবার ভাবুন। আমাদের ধর্ম, সমাজ এবং দেশের আইন কোনোভাবেই জুয়াকে সমর্থন করে না।”

তিনি আরও জানান, মেহেরপুর জেলাকে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। মোবাইলে জুয়া অ্যাপ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামিনুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল করিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোপালসহ জেলার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি।

শেষে পুলিশ সুপার সবাইকে অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই অপরাধে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।”

অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার, গোপন থাকবে তথ্যদাতার পরিচয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

 

ডেস্ক:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। প্রতিটি গুলির জন্য ৫০০ টাকা, এলএমজি পাঁচ লাখ টাকা, চায়না রাইফেল এক লাখ, এসএমজি এক লাখ পঞ্চাশ হাজার, পিস্তল ও শটগান উদ্ধারে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।
“যেসব ব্যক্তি অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তা করবেন, তাদের পরিচয় সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।”

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে এখন অনেক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। এ নিয়ে কারও কাছে কোনও তথ্য থাকলে দিতে বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগেই ছিনতাই ও চাঁদাবাজি কমে আসবে।

সড়কে যানবাহন বন্ধ করে চলাচলের অপরাধে শিগগিরই গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারকে শোকজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে সরব দুদক, সিরাজগঞ্জে গণশুনানি

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: “সবাই মিলে গড়বো দেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ” শ্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৮১ তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনা আয়োজিত এই গণশুনানি রবিবার (২৪ আগস্ট ) জেলা শিল্প কলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, “সমাজে অসংগতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখলে তা প্রতিরোধে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতি পুরো সমাজে ছড়িয়ে গেছে, তাই তা নির্মূল করা কঠিন। তবে সেবা গ্রহীতাদের সচেতনতা এবং সেবাদাতাদের আন্তরিকতায় দুর্নীতির মাত্রা কমানো সম্ভব। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সকল দপ্তরের কর্মচারীদের দেশ ও জনসেবায় আরও যত্নশীল হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দুদক সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণশুনানি আয়োজন করে। সমাজে দুর্নীতি বিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না, আজকের গণশুনানিও তার প্রমাণ।”

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আকতার হোসেন, মহাপরিচালক (তদন্ত-১) মো. রেজাউল কবির, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন ও রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক মো. ফজলুল হক।

গণশুনানিতে ৩৬টি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে জমা ১৪০টি অভিযোগের মধ্যে ১০৫টির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৩২টি অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান, ২৬টি অভিযোগে বিভাগীয়ভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৩৪টি অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়া হয়েছে। আদালতে মামলা চলায় ৩টি অভিযোগের সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

সন্তানের জন্য রওনা, সড়কে শেষ হয়ে গেল জনির জীবন

রাঙামাটি:

রাঙামাটিতে স্কুল থেকে সন্তানকে আনতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় খোরশেদুল আলম জনি (৩৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

রবিবার দুপুরে শহরের ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলযোগে সন্তানকে আনার জন্য রওনা দেন জনি। পথে একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে পেছন থেকে আসা ট্রাক তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।

নিহত জনি তবলছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি জহির আহম্মেদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ওসি মো. সাহেদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনজন পুলিশ সদস্যের মানবিক কর্মকাণ্ডে সিএমপি কমিশনারের স্বীকৃতি

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: অসাধারণ মানবিক কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনজন পুলিশ সদস্যকে রবিবার (২৪ আগস্ট) সিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে পুরস্কৃত করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম। অনুষ্ঠানে তাদের হাতে নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

গত ০৯ আগস্ট নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে দায়িত্ব পালনের সময় প্রসব বেদনায় কাতর এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মোজাহিদ, সার্জেন্ট মোঃ জাহিদুর রহমান এবং কনস্টেবল মহিউদ্দীন হোসেন।

সিএমপি কমিশনার এই কর্মকাণ্ডকে “পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন,
“এমন কর্মকাণ্ড সমাজে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করবে।”

তিনি সকল পুলিশ সদস্যকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান।