ফুটপাত দখল ও যানজট কমাতে চট্টগ্রামে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা জানালেন মেয়র

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের হকার সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, ফুটপাত দখল করে হকার ব্যবসা পরিচালনার ফলে নগরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এ সমস্যা নিরসনে পরিকল্পিতভাবে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট স্থাপন করা হবে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিটি লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (সিএলসিসি) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র।

সভায় কমিটির সদস্যরা নগরীতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে ৪১টি ওয়ার্ডে একই দিনে সমন্বিতভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার প্রস্তাব দেন। মেয়র এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

এ সময় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে হকার ব্যবসা পরিচালনার কারণে সৃষ্ট যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান সদস্যরা। পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের জন্য মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ হকার ব্যবসা। এ সমস্যা সমাধানে এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এবার দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের দিকে এগোনো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যান্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট ব্যবস্থা নগরীর যানজট ও হকার সমস্যার কার্যকর সমাধান দিয়েছে। চট্টগ্রামেও এই মডেল বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম

ডেস্ক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের স্বাক্ষরে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নিমিত্তে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

বিজয়ের চেতনায় মানবিকতা: রাঙ্গুনিয়ায় এক হাজার মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: বিজয় দিবসের মহিমায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা। স্বাধীনতার চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে উপজেলার কোলাদা এলাকায় আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, যেখানে প্রায় এক হাজার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আয়োজিত এই মানবিক কর্মসূচির উদ্যোক্তা ছিল হাজী ওমর আলী ফাউন্ডেশন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল পার্কভিউ হাসপাতাল এবং রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হসপিটাল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান চিকিৎসক হিসেবে সেবা দেন ডা. এটিএম রেজাউল করিম—পার্কভিউ হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও অর্থোপেডিক্স সার্জন। তাঁর সঙ্গে আরও ১৫ জন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করেন। সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি অর্থোপেডিক, মেডিসিন, গাইনি, ডেন্টাল, হৃদরোগ ও শিশু রোগ বিভাগে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া হয়।

এই ক্যাম্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য এসব সেবা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও অনেকের পক্ষেই নিয়মিত পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না। ফলে এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

চিকিৎসা নিতে আসা অনেক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ বিনা খরচে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরামর্শ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষায়, “বিজয় দিবসে এমন মানবিক আয়োজন আমাদের জন্য বড় উপহার।”

আয়োজকদের মতে, বিজয়ের প্রকৃত অর্থ কেবল উৎসবে সীমাবদ্ধ নয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই স্বাধীনতার চেতনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অন্যতম পথ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

‘ডেভিলহান্ট’ অভিযানে রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘ডেভিলহান্ট ফেজ–২’-এর আওতায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত থেকে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোর পর্যন্ত পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরমান হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আব্দুল লতিফ (৫২), মো. তারেকুল ইসলাম চৌধুরী (৩৯) ও ওমর ফারুক (৩৯)।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাখালী আদিলপুর এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফকে (৫২) নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদনগর পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. তারেকুল ইসলাম চৌধুরীকে (৩৯) আটক করা হয়। এছাড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের প্রচার ও গবেষণা সম্পাদক ওমর ফারুককে (৩৯) নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানার এফআইআর নং–১৩ (তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৪) ও জিআর নং–৮৪/২০২৪ এর মামলায় পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪৪৮/৩২৩/৩৪৭/৩৮৬/৪০৬/৪২০/৩৮৮/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ রয়েছে। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আদালতে হাজির করার জন্য পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি জানান, ‘ডেভিলহান্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় বন মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বন মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. আজিম।

মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরমান হোসেন।

পুলিশ জানায়, মো. আজিম উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত শাহ আলমের ছেলে।

ওসি জানান, মো. আজিমের বিরুদ্ধে বন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের সাজা পরোয়ানা থাকায় তাকে নিজ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষকের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ নুরুল কবির (৩৪)।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে উত্তর পদুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ শাকিল জানান, নিহত নুরুল কবির ওই বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় তিনি হঠাৎ ছিটকে পড়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।”

জানা যায়, নিহত শিক্ষকের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

বিজয়ের আকাশে ইতিহাস, প্যারাস্যুটিংয়ে বিশ্বরেকর্ড বাংলাদেশের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সর্বাধিক জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর সংলগ্ন প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

প্যারাস্যুটিং প্রদর্শনীতে ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন দক্ষ প্যারাট্রুপার অংশ নেন। একযোগে জাতীয় পতাকা হাতে আকাশ থেকে অবতরণের মাধ্যমে তারা বিশ্বের সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেন।

এই গৌরবোজ্জ্বল আয়োজন প্রত্যক্ষ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণিল করে তোলে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে আয়োজিত ফ্লাইপাস্ট মহড়া। এ সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার আকাশে নান্দনিক ও কৌশলগত মহড়া প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

বিজয় দিবসের এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম ও সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মহান বিজয় দিবস: স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

ডেস্ক: মহান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করা হয়।

সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে তিনি মহান বিজয় দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সূচনা করেন।

এরপর সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বর্ণিল আয়োজন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই লাল-সবুজের আলোকসজ্জায় ঝলমল করে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। বিজয়ের এই আনন্দঘন আয়োজন নগরবাসীর মাঝে সৃষ্টি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাউজানে নিরাপত্তা মহড়া, কঠোর বার্তা প্রশাসনের

চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। এটি শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং আগামী একশ’ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষ আর রক্তপাত নয়—শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান—কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের মেরুদণ্ড ও বিবেক বিক্রি না করেন। পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রশাসন কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনকে ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের কথা জানান। একই সঙ্গে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।

যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত গাড়িবহরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, রাউজান উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৯৫টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত উদ্যোগে রাউজানে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শীতের সকালে মানবিক উষ্ণতা: চা শ্রমিকদের পাশে স্কোয়াড রাইডার্স

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: শীতের কুয়াশা ভেজা সকালে পাহাড়ঘেরা আগুনিয়া চা বাগানে ছিল অন্যরকম ব্যস্ততা। দৈনন্দিন কঠোর শ্রমের ফাঁকে একটুখানি স্বস্তি আর ভালোবাসার ছোঁয়া পেতে জড়ো হন চা শ্রমিক পরিবারগুলো। মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংগঠন যুব স্কোয়াড রাইডার্স—শীত উপহার আর বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা নিয়ে।

প্রতিবছরের মতো এবারও রাঙ্গুনিয়ার আগুনিয়া চা বাগানে আয়োজন করা হয় মানবিক এই কর্মসূচির। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে একসঙ্গে মিলেছে চিকিৎসা সেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শীতবস্ত্র বিতরণ।

দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পে চা বাগানের ২৫টি পরিবারের প্রায় ১০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। অনেকেরই দীর্ঘদিনের ছোটখাটো অসুখ—যার চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ খুব কমই মেলে—সেই অসুখের জন্য মিলেছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ। শীতের প্রকোপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে শ্রমিক পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয় কম্বল।

ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে আন্তরিকভাবে চিকিৎসা সেবা দেন স্বাস্থ্য সহকারী ও সংগঠনের উপদেষ্টা কাজী মনসুর আহমেদ। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন আগুনিয়া চা বাগানের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন। সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন যুব স্কোয়াড রাইডার্সের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন। সঙ্গে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহিম, দপ্তর সম্পাদক রাহিম, শিক্ষা ও মানববিষয়ক সম্পাদক মো. কাউসারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচি চলাকালে চা শ্রমিকদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। অনেকেই বলেন, “এমন সময়ে এভাবে পাশে দাঁড়ানো আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।” মানবিক এই উদ্যোগের জন্য যুব স্কোয়াড রাইডার্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান চা শ্রমিকরা।

মানবতার পাশে দাঁড়ানোর এই প্রয়াস শুধু শীত নিবারণের আয়োজন নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের জীবনে একটু উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাঙ্গুনিয়া যুব স্কোয়াড রাইডার্সের নেতৃবৃন্দরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আবারও চা শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যুব স্কোয়াড রাইডার্সের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় চৌকিদার প্যারেড, আইনশৃঙ্খলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদারদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরমান হোসেন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে থানা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক চৌকিদারি প্যারেডে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত চৌকিদারদের উদ্দেশে ওসি মোহাম্মদ আরমান হোসেন বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। চুরি, ছিনতাই কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই দ্রুত সরাসরি অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

প্যারেড অনুষ্ঠানে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফাসহ গ্রাম পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর উদ্যোগ, সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল দুপুরে একটি মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতাল–এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি কল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনাতেই তাকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত দুই দিন ধরে ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালে যোগাযোগ করে। আজ এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং অপরিবর্তিত রয়েছে।

আগামীকাল দুপুরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল–এর অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে তার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসমান হাদির চিকিৎসাসংক্রান্ত সকল ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। পাশাপাশি তার চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এদিকে, ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শে মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

চট্টগ্রাম: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা–এর সভাপতিত্বে এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ মোতাহার হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ নাজির আহমেদ খান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফ উদ্দিন।

বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে জাতির মেধা ও মনন ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের ইতিহাস তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা ধারণ করেই একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মহান আত্মত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে। তবেই পূর্ণতা পাবে আত্মত্যাগকারী অগ্রজদের স্বপ্ন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ওসমান হাদির ভাইয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ফোনালাপ: সর্বোচ্চ সহযোগিতার নিশ্চয়তা

ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, রাত ৯টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ওমর বিন হাদির একটি টেলিফোন আলাপ হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত।

তিনি আরও বলেন, “হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে আমি কয়েকজন উপদেষ্টাসহ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছি। বৈঠক থেকে দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

হাদির চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সকল চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে। প্রয়োজন হলে দেশে-বিদেশে সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।

ওসমান হাদির প্রতি তার ব্যক্তিগত উদ্বেগ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাদি আমাদের সবার অতি আপন ও স্নেহের মানুষ। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। তিনি খুব শিগগিরই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন—এই দোয়া রইল।”

তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপির গত ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের বাচা বাবা শাহ (রহ.) মাজার জিয়ারত ও নিকটবর্তী জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর গতকাল আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। ১৭ বছর পর দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে যাচ্ছে।”

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী বিধিমালা যেভাবে দেওয়া হয়েছে, সবাই তা সম্মানের সঙ্গে মেনে চলবেন। এতে প্রমাণ হবে—বাংলাদেশ পুরোনো রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ থেকে আমাদের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে তা হবে নির্বাচন কমিশনের সব লিখিত নির্দেশনা মেনে।”

মোটরসাইকেল শোডাউন, ব্যানার-ফেস্টুন ইত্যাদি প্রচারণা পদ্ধতি প্রসঙ্গে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ থেকে কোনো ধরনের মোটরসাইকেল শোডাউন, বড় পোস্টার বা ব্যানার করা যাবে না। এগুলো পরিহার করলেই নতুন রাজনীতির একটি ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।”

এসময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং জিয়া পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেন।

অন্যদিকে একইদিন হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার–পোস্টার অপসারণ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ : তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি এই হামলাকে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, যারা আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তারা তাদের ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী প্রতিটি দল ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রশাসন চাইলে হাদির ওপর হামলার ঘটনার তদন্তে বিএনপি সহযোগিতা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছাত্রদলসহ দলের সবাইকে আহ্বান করছি—সরকারকে, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে, যাতে তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করতে পারে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা।

ইসির নির্দেশ মেনে রাঙ্গুনিয়ায় ব্যানার–ফেস্টুন সরালেন জামায়াত প্রার্থী নিজেই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম নিজ উদ্যোগে তার সব ধরনের নির্বাচনি ব্যানার–ফেস্টুন সরিয়ে ফেলছেন।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হসপিটাল সংলগ্ন এলাকা থেকে ব্যানার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিয়ম সবার জন্য সমান। ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা মানা প্রতিটি প্রার্থীর দায়িত্ব। তাই আমি নিজেই ব্যানার সরানোর কাজ শুরু করেছি।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ খরচে সব ধরনের আগাম প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই শুক্রবার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজের হাতে নির্বাচনী ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করেন জামায়াতের এই প্রার্থী।

তফসিল ঘোষণা পরবর্তী নির্বাচন কমিশনকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

ডেস্ক রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন আদেশ–এর ওপর গণভোটের তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণার পর প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘এই তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করল। ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ এখন যে নতুন পথে অগ্রসর হচ্ছে—এই নির্বাচন ও গণভোট সেই পথরেখাকে দৃঢ় করবে, গণমানুষের মতকে প্রাধান্য দেবে এবং নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি আরও সুসংহত করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে স্বাধীনভাবে, নিরপেক্ষভাবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে। নির্বাচন ও গণভোটকে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।’

দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং সর্বোপরি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোটকে একটি জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক আচরণ আমাদের সামনের দিনগুলোকে আরও স্থিতিশীল করবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ নতুন ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। আপনাদের সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে আমরা একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণে সফল হব—এই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন এ ঘোষণা দেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে মনোয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

রিটানিং অফিসার কর্তৃক মনোয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর আবেদনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ জানুয়ারি। ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপত্তি নিষ্পত্তি হবে।

তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি।

ঘোষিত তপশিলে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা ২২ জানুয়ারি থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চলবে। ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

করোনাকালের সেই মানবিক সেবক ডা. শাহ সোলাইমান এখন সহকারী অধ্যাপক

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপ যখন দ্রুত বাড়ছিল, লকডাউন, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনে মানুষ যখন চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সংকটে পড়ছিল—তখন টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিক ভূমিকা রাখেন রাঙ্গুনিয়ার সন্তান ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান। করোনার ভয়াবহ সময়ে নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে তিনি অনলাইনে, ফোনে ও সরাসরি দায়িত্ব পালন করে বহু মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন।

সেই মানবিক চিকিৎসক সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানিয়ে তিনি লিখেন—
“আলহামদুলিল্লাহ! I have been promoted to Assistant Professor (Medicine), CMC. ধন্যবাদ সবাইকে। অনলাইনে, অফলাইনে অগণিত শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পাচ্ছি।”

রাঙ্গুনিয়ার এক সন্তানের এমন সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢল নামে শুভেচ্ছার। সাংবাদিক শান্তিরঞ্জন চাকমা লেখেন—
“রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বুজ্জের দোকান মালেক সওদাগর (এমপি বাড়ি) কৃতি সন্তান ডা. শাহ সোলাইমান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। দৈনিক নয়াদিগন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন ও ফুলের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

তার ফেসবুক পোস্টে মনসুর নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন—
“অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো আপনার জন্য। আল্লাহ আপনাকে মানুষের সেবা করার তৌফিক দান করুক।”
শহীদুল ইসলাম আরিফ মন্তব্য করেন—
“অভিনন্দন। আল্লাহ পাক আপনাকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখুক।”

করোনাকালের তার মানবিক ভূমিকার প্রশংসা পাওয়া যায় সে সময়কার ফেসবুক পোস্টেও। ২০২০ সালের ২৭ মে রবিউল হোসেন সুমন নামের এক ব্যক্তি তার বাবার চিকিৎসায় ডা. শাহ সোলাইমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন—
“আমার বাবার ফুসফুসে পানি জমার সময় তিনি অপরিচিত হয়েও বটবৃক্ষের মতো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভর্তি করানো থেকে শুরু করে রাতভর খোঁজ নেওয়া—সবকিছুই করেছেন আপনজনের মতো। অন্য ডাক্তার যেখানে হিমসিম খেতেন, সেখানে তিনিই বাবার লাঞ্চের জমে থাকা প্রায় ছয় ব্যাগ পানি বের করে জীবন বাঁচিয়েছিলেন।”
তিনি আরও লিখেছিলেন—
“করোনার ভয়ের মধ্যেও তিনি নির্ঘুম রাত কাটিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (ইন্টারন্যাল মেডিসিন) – বিএসএমএমইউ এবং এমএসিপি (ইউএসএ) ডিগ্রিধারী। তিনি চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের জিয়ামার্কেট এলাকার বাসিন্দা মাওলানা জরিপ আলী আরমানের ছেলে।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিল দুই উপদেষ্টা

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

ডেস্ক রিপোর্ট: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। মাহফুজ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এবং আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থিত হয়ে তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া এ দুই তরুণ উপদেষ্টার পদত্যাগের পর প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের অবদান স্মরণ করে বলেন, “অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে যেভাবে অবদান রেখেছ, তা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তোমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবসময় তোমাদের অবদান মনে রাখবে। এত অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যে সেবা দিয়েছ, তা কোনো দিন ভুলে যাওয়ার নয়। এটি কেবল একটি রূপান্তর; সামনে বৃহত্তর পরিসরে তোমরা আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি আশাবাদী।”

দুই উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি দেশের কল্যাণে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকারে থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছ, তা ভবিষ্যৎ জীবনে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।”

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ

ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ উপজেলা নির্বাহীদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট: গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্মরণীয়ভাবে আয়োজন করতে হবে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় সকল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি ব্যর্থ হই তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”

বিগত সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে—সুস্থ মানুষ বলবে, সেটা নির্বাচন নয়; প্রতারণা হয়েছে।”

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু দায়িত্ব নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। “আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে।”

ইউএনওদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলেই সরকার তার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবে।”

নির্বাচন ও গণভোট—দুইটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য; আর গণভোট শত বছরের জন্য। “গণভোটের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, তার ভিত তৈরি হবে এ গণভোটের মাধ্যমে।”

সদ্য যোগদান করা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যেও তিনি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান জানান।

ইউএনওদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

গণভোটে ভোটার সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের বুঝাতে হবে—তারা যেন মনস্থির করে কেন্দ্রে আসেন: “হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন—মন ঠিক করে আসুন।”

কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।” একই সঙ্গে অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

নারীদের ভোটকেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নারীদের যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসা যায়—তা নিশ্চিত করতে হবে।

শীঘ্রই নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে তিনি ইউএনওদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা এখনই করে রাখুন।”

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় বেগম রোকেয়া দিবসে নারীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গিকার উপজেলা প্রশাসনের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আয়োজনে এবং কারিতাসের সহযোগিতায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. শরমিন আকতার, কারিতাসের মাঠ কর্মকর্তা গৌরি ভট্টাচার্য্য এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক।

ইউএনও নাজমুল হাসান বক্তব্যে বলেন, “পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই পারিশ্রমিক ঘরে নিয়ে যাওয়ার আগে চার ভাগের একটি অংশ বাইরে ব্যয় করে দেন, আর বাকি তিন ভাগ ঘরে আসে। কিন্তু নারীরা উপার্জিত অর্থকে সুন্দরভাবে ব্যবহার করে পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনে ব্যয় করেন। নারী যে কোনো চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে যতটা উপার্জন করেন, সেটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরিবারের জন্য ব্যয় করার।”

তিনি আরও বলেন, “নারীরা আমাদের সন্তান ও পরিবারের প্রতি যে স্নেহ ও দায়িত্বশীলতা দেখান, তা আমরা অনেক সময় দেখতে পাই না। উদাহরণস্বরূপ, এই অনুষ্ঠানে রাখা নাস্তা অনেকেই নিজে খাবেন না, সন্তানদের জন্য সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এটাই আমাদের বাঙালি মায়ের পরিচয়।”

ইউএনও নাজমুল হাসান সভায় আশ্বাস দেন, উপজেলা প্রশাসন সবসময় নারীদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও ঋণ বিতরণসহ যেকোনো সহযোগিতায় নারীদের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা প্রশাসন।

আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান সিএমপি কমিশনারের

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নভেম্বর-২০২৫ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম।

সভায় কমিশনার নগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানাসহ মহানগর গোয়েন্দা বিভাগকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন। মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে প্রতিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কমিশনার বলেন, রুজুকৃত হত্যা মামলা ও অন্যান্য অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের কাছে মানসম্মত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি ও ওয়ারেন্ট তামিলে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে ফিটনেসবিহীন ও অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সার্বিক ট্রাফিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও প্রদান করা হয়।

সভায় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ হুমায়ুন কবির; অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ (সদর), মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী বিপিএম (এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (পশ্চিম) এবং নেছার উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম (ট্রাফিক-উত্তর)সহ সিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারীশিক্ষা-অধিকার-জাগরণে অবদানের স্বীকৃতি: বেগম রোকেয়া পদক পেলেন চার বিশিষ্ট নারী

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতি বছরের মতো এবারও নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়েছে।

বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

এ বছর পদকপ্রাপ্তরা হলেন— রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা–গবেষণা), কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার–শ্রম অধিকার), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ–ক্রীড়া), নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার)।

রাঙামাটির দুর্গম সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, গুরুতর অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারে সিএমএইচে স্থানান্তর

সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে অসুস্থ নারীকে সিএমএইচে স্থানান্তর | ছবি: সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ

ডেস্ক: জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন অত্যন্ত দুর্গম মাইনদারছড়া মুখ পাড়ায় বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সেনাবাহিনীর ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

সেনাবাহিনী জানায়, পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘবে ওই এলাকায় সোমবার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম। এ সময় স্থানীয় জুমচাষী সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০) কিডনি ও পেটের গুরুতর জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন।

দুর্গম এলাকায় তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় ডিভিশন সদরের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টারে করে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচ চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, এই অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত—প্রান্তিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সেবা ও শান্তি নিশ্চিত করতে সামরিক অভিযান ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পটিয়ায় ৪৫ জন উপকারভোগীর মাঝে আর্থিক অনুদান ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ

পটিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে মোট ৪৫ জন উপকারভোগীর মাঝে আর্থিক অনুদান, ভাতা, পুনর্বাসন সহায়তা ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার পটিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সহায়তা প্রদানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের হঠাৎ দুর্ঘটনা তহবিল থেকে ৫ জনের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক এবং স্মার্ট নাগরিক কার্ড বিতরণ করা হয়। বন্যা পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আরও ১০টি পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া সমাজসেবার নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় ৫০ জনের মাঝে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষাবৃত্তির চেক ও উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫ জন বিশেষ সহায়তা পান। সরকারি শিশুপারিবার (বালক), পটিয়ার ২৪ জন শিশুর মাঝেও ক্রীড়া সামগ্রী, পোশাক, শিক্ষা উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ে সব ধরনের সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে।

সরকারি এসব সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী: দীঘিনালার দুর্গম গ্রামে স্বস্তির শ্বাস

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): পাহাড়ে ঘেরা খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালি ইউনিয়নের বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়া—একটি প্রায় অপ্রবেশ্য ও চিকিৎসাবঞ্চিত গ্রাম। সাধারণ জ্বর বা ব্যথার মতো অল্প অসুস্থতার চিকিৎসার জন্যও স্থানীয়দের দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। কষ্টকর ভ্রমণ, ব্যয়বহুল যাতায়াত এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ বহুদিন ধরেই চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন।

এই মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সেনাবাহিনী আয়োজন করেছে বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী দীঘিনালা সেনা জোনের ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (দি বেবী টাইগার্স) বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়ায় এই ক্যাম্প পরিচালনা করে। ক্যাম্পে পাঁচ শতাধিক চাকমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, শিশু ও শিক্ষার্থী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন।

দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ওমর ফারুক (পিএসসি) এর নির্দেশনায় পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন মো. শাইকুদ্দিন সাকলাইন। তিনি রোগী দেখা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ থেকে শুরু করে সার্বিক কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে তদারকি করেন। সেনাবাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে ক্যাম্প পরিচালনায় অংশ নেন।

ক্যাপ্টেন মো. শাইকুদ্দিন সাকলাইন বলেন,
“বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়া দীঘিনালার অন্যতম দুর্গম এলাকা। এখানে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত। মানুষ যেন ঘরের কাছেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পায়—সেই লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় হেডম্যান চন্দ্র হংশ রোয়াজা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে এলাকার মানুষের জন্য ‘আশীর্বাদ’ উল্লেখ করে বলেন,
“পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে সদরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া খুব কঠিন। একদিনে এত মানুষের চিকিৎসা পাওয়া সত্যিই বড় পাওয়া। আমরা সেনাবাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞ।”

চিকিৎসা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন প্রান্তিক মানুষেরা। ৫৫ বছর বয়সী চাঞ্চলতা ত্রিপুরা বলেন,
“অনেক দিন ধরে মাথা ও হাত–পায়ে ব্যথা আর হাই প্রেসারে ভুগছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। আজ স্যাররা চিকিৎসা দিলেন, ওষুধ দিলেন। ভগবান স্যারদের মঙ্গল করুন।”

সাত মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে আসা গৃহবধূ লক্ষী চাকমা জানান,
“আমার বাচ্চা কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। স্যাররা দেখে ওষুধ দিয়েছেন। আমরা খুব উপকৃত হলাম।”

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত স্থানীয় চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সদস্যরা সেনাবাহিনীর এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, নিয়মিত এমন কার্যক্রম হলে দুর্ভোগ অনেক কমে যাবে এবং দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হবে না।

সেনাবাহিনীর মানবিক পদক্ষেপে বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়ার মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে সহায়তা দিল উপজেলা প্রশাসন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শায়ের মোহাম্মদ পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবার—রফিক, মাসুদ ও রেজাউল করিমের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

গত ৬ ডিসেম্বর বিকেলে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরে থাকা তিনটি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, তিন মালিকের চার কক্ষবিশিষ্ট কাঁচা দেয়াল ও টিনশেড ঘরটি পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের চুলার আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

পরে দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে শীতবস্ত্র, চাল এবং নগদ আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন ইউএনও নাজমুল হাসান। তাৎক্ষণিক এই সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

আগুনে বসতঘর ও গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।

ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে আরও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

রাউজানে ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ১২ লাখ টাকা জরিমানা

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এ অভিযানে চারটি ইটভাটার কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে মোট ১২ লাখ টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়।

বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজওয়ান-উল-ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের দায়ে চারটি ইটভাটার কিলন–চিমনি ভেঙে ফেলা হয় এবং জরিমানা আদায় করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো রাউজান উপজেলার রশিদারপাড়া এলাকায় মেসার্স শাহসুন্দর ব্রিকস (CBM) — কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা। একই এলাকার মেসার্স শাহসুন্দর ব্রিকস (SBM) — কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা।

রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান এলাকায় মেসার্স খাজা গরীবে নেওয়াজ ব্রিকস (KBI) — কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা।

রাউজান উপজেলার ডাবুয়া কলমপতি এলাকায় মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস ম্যানুঃ (KBM) — কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মোঃ আশরাফ উদ্দিন, পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন র‍্যাব-০৭ চট্টগ্রামের সদস্যরা, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তরের সদস্যরা এবং রাউজান থানার পুলিশ সদস্যরা। সার্বিক সহযোগিতা করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাউজান স্টেশনের সদস্যরা।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।