আরও ৩৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, চট্টগ্রামের চার আসনে প্রার্থীতা পেলেন যারা

ডেস্ক রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আরও চারটি আসনসহ মোট ৩৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হলো। এখনো প্রার্থী ঘোষণা হয়নি চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের ঘোষিত চার আসনে প্রার্থী হচ্ছেন— চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী): মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া): নাজমুল মোস্তফা আমিন।

এ ছাড়া প্রার্থী ঘোষণা করা অন্যান্য আসনগুলো হলো: ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৫, নড়াইল-২, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৮, গাজীপুর-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২ ও কক্সবাজার-২।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের ১০টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল বিএনপি। নতুন তালিকাসহ চট্টগ্রামের মোট ১৪টি আসনে দলটির প্রার্থী ঘোষণা হলো।

খালেদা জিয়ার জন্য সারাদেশে দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান সরকারের

ডেস্ক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দেশব্যাপী দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদের পাশাপাশি দেশের মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মের রীতি ও আচার অনুযায়ী বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্য কামনায় দোয়া ও প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে আজ সন্ধ্যা সাতটার পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

হাসপাতালে পৌঁছালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ. জে. এম. জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং ছোট ভাই শামীম এসকান্দার প্রধান উপদেষ্টাকে রিসিভ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা হাসপাতালে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন। এই সময় তিনি বেগম জিয়ার পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।

চিকিৎসক দল প্রধান উপদেষ্টাকে ব্রিফ করেন, জানিয়ে দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই ও জনস হপকিন্স হাসপাতাল এবং যুক্তরাজ্য ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বেগম জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

প্রধান উপদেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশবাসীর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানান।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

 

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসে চট্টগ্রামে নানা আয়োজন, সহায়ক উপকরণ বিতরণ

ডেস্ক:প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বুধবার চট্টগ্রামে পালিত হয়েছে ৩৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ২০২৫। প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘ এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এবং যুগান্তর, ডিডিআরসি ও এওয়াকের সহযোগিতায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে দুই দিনব্যাপী মেলা, র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রামপুর প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন, সিডিডির নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মারশেদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সমাজে তাদের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের আরও সহানুভূতিশীল হতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রতিবন্ধী ভাই-বোনরাও জাতির সম্পদ। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। কার কী ধরনের সুবিধা বা সহযোগিতা দরকার—তা নির্ধারণ করে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।”

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ার, অক্সিলারি ক্রাচ, স্মার্ট সাদা ছড়িসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দ নগর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমতিয়াজ একই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ ইয়াকুবের ছেলে।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইমতিয়াজ তার পাঁচ বছর বয়সী চাচাতো বোনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। ঝগড়ার একপর্যায়ে চাচাতো বোন তাকে ‘বেয়াদব’ বলে। এ নিয়ে তার মা তাকে বকাঝকা করে পড়তে বসতে বলেন। পরে মা রান্না করতে গেলে কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন ইমতিয়াজ জানালার পাশে বসে আছে। পরে পরিবারের লোকজনকে ডেকে দরজা ভেঙে দেখা যায়, সে মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়েছে।

নিহতের কপালে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়ে এসআই রাকিবুল বলেন, “গলায় চাপ লাগার সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে পারে। এ সময় জানালার গ্রিল বা অন্য কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেতে পারে।”

তিনি আরও জানান, “বুধবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের বক্তব্য সত্য বলে মনে হচ্ছে—সে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জয়নাব জমিলা বলেন, “ছেলেটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল (ব্রড ডেড)। পরে আমরা পুলিশকে জানালে তারা মরদেহ নিয়ে যায়।”

“নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় নৈতিকতা ও ঐক্যবদ্ধতা অপরিহার্য” – চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালি শেষে সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। আলোচনার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি”।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, আতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম এবং জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোছলেহ উদ্দিন।

আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তাগণ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব, প্রতিবন্ধী নারী ও প্রবাসীদের পরিবারের জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ, গণপরিবহন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, আমাদের প্রত্যেককে নৈতিক মূল্যবোধ অনুযায়ী নিজেদের জীবন ও চরিত্র উন্নত করতে হবে। নিরাপদ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় উপপরিচালক নারীর আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এছাড়া জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুর পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

সভাপতি গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে এবং নারীর শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস।

হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সদর দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ইটভাটার কিলন ও চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে মোট ১৬ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে কাটিরহাটের ধলই এলাকায় মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস (KRM)–কে এক লাখ টাকা, চারিয়ার মেসার্স চারিয়া মেঘনা ব্রিকস (NBM)–কে দুই লাখ টাকা এবং মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (KBC)–কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেসার্স কাজী ব্রিকস ম্যানুঃ (KBM)–কে দুই লাখ টাকা, মেসার্স শাহেন শাহ ব্রিকস ফিল্ড (SNF)–কে দুই লাখ টাকা, মেসার্স চট্টলা ব্রিকস (CBM)–কে দুই লাখ টাকা এবং মেসার্স সেঞ্চুরি ব্রিকস (CBM-1)–কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ভাটাগুলোর কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়াও মেসার্স হিমালয় ব্রিকসের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন, সিনিয়র কেমিস্ট জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে র‍্যাব-০৭, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তর, হাটহাজারী থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, হাটহাজারী স্টেশন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল হাছান ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার রাহাতিয়া দরবার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর থেকে বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন কামনা করছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তিনি উত্তর রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা চালান। রাণীরহাট এলাকায় গণসংযোগ শেষে পথসভায় বক্তব্য রেখে এডভোকেট ইকবাল হাছান বলেন, “বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় রাঙ্গুনিয়া গড়াই আমার লক্ষ্য।”

দিনব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ধামাইরহাট, ইসলামপুর, পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির হযরত শাহসুফী মাওলানা আহসানুল্লাহ (রহ.) ও বাছুর মোহাম্মদ পাড়ার হযরত রাজ্জাক আলী শাহ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর ইসলামপুর খলিপাড়া, গাবতল বাজার, মঘাইছড়ি বাজার, কাউখালী রাস্তার মাথা, বহরাতল, বেতছড়ি, জঙ্গল বগাবিলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শেষে তিনি রাণীরহাট বাজারে প্রচারণা সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে তার প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থানীয় নেতারা।

মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন—ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল রিয়াদের

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ হাসান রিয়াদ (২৬)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াদ উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের লেয়াকতের পাড়ার আবদুল কদ্দুসের ছেলে। তিনি স্থানীয় জমছড়ি ব্রিজের পাশে দোকান করতেন।

স্বজনদের তথ্যানুযায়ী, রাতে উপজেলার বড়হাতিয়া এলাকার নানাবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রিয়াদ। বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে পৌঁছালে কক্সবাজারমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের তিনটি অভিযানে অবৈধতা ও অনিয়মের তদন্ত

ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ (১ ডিসেম্বর) তিনটি পৃথক অভিযোগের বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। কমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমদানি পণ্যে শুল্ক ফাঁকি: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ইমিটেশন জুয়েলারি আমদানি পণ্যে সরকারের নির্ধারিত শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী থেকে টিম অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সরকারের নির্ধারিত ৫ মার্কিন ডলারের শুল্কের বদলে কর্মকর্তারা ২–৩ মার্কিন ডলারের হারে শুল্ক আরোপ করেছেন। অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।

বগুড়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা অব্যবস্থা: সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে বগুড়া জেলা কার্যালয় থেকে অভিযান পরিচালিত হয়। টিম হাসপাতালের ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে সেবা প্রদানের বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করেছে। পাশাপাশি হাজিরা বই, রেজিস্টার ও অন্যান্য নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে অনুমোদিত পদের তুলনায় ডাক্তার ও কর্মচারির সংখ্যা কম রয়েছে।

সুনামগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পেনশন আটকে রাখার অভিযোগ: সুনামগঞ্জ জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর পেনশন আটকে ঘুস দাবি এবং হয়রানি করার অভিযোগে সিলেট থেকে টিম অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে।

প্রতিটি অভিযানে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে টিম পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করবে। দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযান দেশের বিভিন্ন সেবাখাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিহত জাপানি সৈন্যদের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবর্তন

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে নিহত ১৮ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন এবং জাপানে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপান সরকারের মনোনীত ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রামে অবস্থান করে দেহাবশেষ উত্তোলন কার্য সম্পাদন করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় সম্পূর্ণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চল। সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং খননকার্যে নেতৃত্ব প্রদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খনন বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (অবঃ), বীর প্রতীক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দেহাবশেষ উত্তোলন শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল নিহত জাপানি সৈন্যদের প্রতি যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরবর্তীতে দেহাবশেষসমূহ জাপানে প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে জাপান সরকারের অনুরোধে কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত আরও ২৩ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবাসন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছিল।

রাঙ্গুনিয়ায় নবাগত ইউএনও নাজমুল হাসানের যোগদান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেছেন মো. নাজমুল হাসান। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ৩৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) তিনি রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এদিকে গত বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আট বিভাগে ১৫৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে রাঙ্গুনিয়ার পূর্ববর্তী ইউএনও মো. কামরুল হাসানকে চট্টগ্রামের দিয়ারা অপারেশনের চার্জ অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নবাগত ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, এর আগে তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মা–মেয়ের মৃত্যু

কক্সবাজার: সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর এলাকায় স্পিডবোট উল্টে মা–মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—সেন্টমার্টিন পূর্বপাড়ার মরিয়ম খাতুন (৩৫) ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে মাহিমা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত বোটটিতে আটজন যাত্রী ছিলেন। নাফ নদীতে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে স্পিডবোটটি উল্টে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। পরে কাছাকাছি থাকা আরেকটি স্পিডবোট দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসিফ আলভী জানান, মরিয়ম ও তার মেয়েকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু ঘটে। আহত আরও দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, নাফ নদীতে স্পিডবোটটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে তদন্তের জন্য একটি দল পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাগর উত্তাল থাকার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

বাঁশখালীতে অটোরিকশা চালক হত্যার মামলায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অটোরিকশা চালক মামুনুর রশিদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. নাছিরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রোববার উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বানীগ্রাম ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার নাছির (৪৩) পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকার মো. ইসহাকের ছেলে।

র‌্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এজাহারভুক্ত আসামি নাছিরকে আটক করা সম্ভব হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বর প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হন চালক মামুনুর রশিদ। পথে মোক্তার হোসেন নামের একজন ভাড়ার কথা বলে তাকে চাঁনপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মোক্তার ও তার সহযোগীরা মামুনকে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাঁশখালী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, আটক নাছিরকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য রাঙ্গুনিয়ায় খতমে কুরআন ও দোয়া-মোনাজাত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা কামনায় রাঙ্গুনিয়ায় পবিত্র খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসা জামে মসজিদে রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সহ-সভাপতি ওয়াকিল আহমদ তালুকদার, সহ-সভাপতি শাহেদুল কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক ইউছুপ কামাল তালুকদার, জেলা যুবদল নেতা কাজী রাকিবুল হাসান মাসুদ ও এবিএম সাইফুদ্দিন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান রনি, সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, এডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, ইউছুপ সাগর, নাজিম উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, খোরশেদ আলম, আবু মনছুর, ইউনুস, আলমগীর, লোকমান, রেজাউল করিম, কাজী মহিউদ্দিন, এসকান্দর, মনছুর, রাশেদ, হাসেম, জসিম উদ্দিন লিটন, ইসমাঈল, রাশেদ, সাইফুল ও রাজু প্রমুখ।

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জেলা চ্যাম্পিয়ন রাঙ্গুনিয়া কলেজ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): জেলা পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ ফুটবল দলকে শনিবার উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করেছে।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই জয় শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো রাঙ্গুনিয়ার। নিয়মিত অনুশীলন ও শৃঙ্খলা থাকলে তোমরা আরও বড় মঞ্চে খেলবে, এটাই আমার বিশ্বাস।”

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। বাংলাদেশ স্কাউটস রাঙ্গুনিয়ার যুগ্ম সম্পাদক এম. মোরশেদ আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা, রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মোতাহের হোসেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব ও সদস্য ইকবাল আহমেদ বেলাল।

আলোচনা সভার শেষে ইউএনও মো. কামরুল হাসান ফুটবল দলের সদস্যদের হাতে ব্যাগ ও জার্সি তুলে দেন।

তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম (ছবি: সংগৃহীত)

ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের বিধিনিষেধ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য জানান।

এর আগে তারেক রহমান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এখন পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে নেই। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিস্তারিত জানানোর সুযোগ সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রত্যাশিত অবস্থায় পৌঁছালেই তিনি দেশে ফিরবেন।

তারেক রহমানের সেই পোস্টের পর অনেকেই তাদের প্রশ্ন জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তার কাছে অনেকে জানতে চেয়েছেন—তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা বিধিনিষেধ আছে কি না।

জবাবে প্রেস সচিব স্পষ্টভাবে জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।


উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা: খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির দোয়া, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এদিন বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। সংশোধনের ফলে আইনটির কয়েকটি ধারা পরিবর্তিত হয়েছে, এনজিও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তও শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। সামগ্রিকভাবে আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।

সভায় পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়াও উপস্থাপন করা হয়। খসড়াটি আরও পরিমার্জন করে পরবর্তী সভায় পুনরায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে আটক থাকা অবশিষ্ট ২৪ বাংলাদেশিকে খুব দ্রুতই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যেই তারা দেশে ফিরবেন।

খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন এনসিপি নেতারা

ডেস্ক: রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে তারা খালেদা জিয়াকে দেখতে যান।

এনসিপি প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।

পরে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং চলমান চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় ঐক্যের মঞ্চ: বিএনপি নেতাদের একই প্ল্যাটফর্মে শক্ত বার্তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। দলের মনোনয়ন ঘোষণার পর দুজনকে একই মঞ্চে দেখা যাওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন,“গত দেড় বছর ধরে শুনে আসছি—যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, বিএনপি কলাগাছকেও দাঁড় করালে জিতে আসবে; আর সেই মৌসুমের ‘কলাগাছ’ আমি। মনোনয়ন পাওয়ার পর আনন্দপ্রকাশ না করার কারণ ছিল—রাঙ্গুনিয়ার একটি অংশ কষ্ট পাবে। দলকে এক করতে না পারলে নির্বাচনের ফল তো আগেই বোঝা যেত। তাই ঐক্যের বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গত আন্দোলনে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন, কারও পরিবারের সদস্য মারা গেলেও জানাজায় থাকতে পারেননি। তখন যারা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষ করে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের প্রতি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। দলের কর্মীদের মূল্যায়নের দায়িত্ব আমি নিলাম।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘হাইব্রিড’ প্রসঙ্গে বলেন, “বিএনপি দুই ভাগ থাকার সুযোগে অনেক হাইব্রিড বালু চুরি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে যুক্ত হয়ে সুবিধা নিয়েছে। আজ চাচা–ভাতিজা মিলে তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি—তাদের সময় শেষ।”

মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে যারা দলের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন, তাদের ত্যাগ–সংগ্রামের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। আর সেন্টার কমিটিও হবে সবার মতামত নিয়ে—এটা ব্যক্তিগত কমিটি নয়, তারেক রহমানের কমিটি, দলের কমিটি। এটার হকদার আমি একা নই, সবাই।” সভায় তিনি নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে আছি। ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে এখনো বিএনপির দায়িত্ব পালন করছি। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই আমরা কাজ করব—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর যেসব ব্যক্তি দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি পরিবারে কোনো গ্রুপিং নেই। ধানের শীষের স্বার্থেই সবাই ঐক্যবদ্ধ। পাড়া–মহল্লায়, ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইতে হবে।”

“দুর্নীতি-সন্ত্রাস নির্মূলেই উন্নয়নের বাধা কাটবে” — রাঙ্গুনিয়ায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী

রাঙ্গুনিয়া : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ইছাখালী এলাকায় নুরজাহান ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এই নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. এটিএম রেজাউল করিম রাঙ্গুনিয়াকে চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় রয়েছে বহু মিল-কারখানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গুমাই বিল। পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের সংযোগস্থল হওয়ায় ভৌগোলিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “আমি রাঙ্গুনিয়ার সন্তান। রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সেবা করার সুযোগ চাই। রাঙ্গুনিয়াকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন ও দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার করতে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস সমূলে উৎখাত করা গেলে উন্নয়নে আর কোনো বাধা থাকবে না।”

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা হবে এবং উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আরও দুইটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরেছি। ইনশাআল্লাহ, এটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদী।” এ ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন সরু ও বেহাল সড়ক প্রশস্ত করে চলাচল উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দাবি করে ডা. রেজাউল করিম বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার আনাচে-কানাচে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ারই আগামী দিনে রাঙ্গুনিয়ার নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন ঘিরে রেড-ইয়েলো-গ্রিন জোন চিহ্নিত করা হবে: সিইসি

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি একেবারে নিখুঁত না হলেও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও মহড়ায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি জানান, নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোন চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ, আনসার, বিজিবি-সহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন জাতিকে একটি নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়ে তাদের অঙ্গীকার পূরণ করবে।

চিকিৎসায় ব্যস্ত পরিবারের ঘরে চুরি, সাংবাদিকের ল্যাপটপ গায়েব

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দিনে-দুপুরে এক সংবাদকর্মীর ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. মতিন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের মুন্সি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকালে এম. মতিনের বড় মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়। রাতেও স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন তিনি। সকালে পরীক্ষা থাকায় মেঝ ছেলে মাদ্রাসায় যায় এবং এম. মতিন সকাল ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনাস্থ রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান।

এসময় মেঝ ছেলে পরীক্ষা শেষে ফিরে ঘরের সামনে ছিটকিনি লাগিয়ে চাচার বাড়িতে যায়। পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগে কোনো একসময় চোরেরা ঘরে ঢুকে চুরি করে। বিকাল ৪টার দিকে এম. মতিন বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজা খোলা এবং টেবিলের ওপর থাকা ল্যাপটপটি উধাও।

সাংবাদিক এম. মতিন বলেন, “মেয়ের অসুস্থতার কারণে গতকাল থেকে হাসপাতালে ছুটোছুটি করছি। আজ সকালে মেঝ ছেলেকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে হাসপাতালে গেলে তখনো ল্যাপটপটি টেবিলেই ছিল। বিকেলে ফিরে দেখি কি-বোর্ড আর মাউস আছে, ল্যাপটপ নেই। অনেক খুঁজেও পাইনি।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবারের লেখাপড়া ও চিকিৎসা খরচ চালাতে এমনিতেই চলছে আর্থিক টানাপোড়েন। তার ওপর নিত্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরি হয়ে গেল—এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। যারা এটা করেছে তারা আমার প্রতি জুলুম করেছে। হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ করতে দেরি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “এ ঘটনায় এখনো আমাদের জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বাঁশখালীতে নিখোঁজের তিন দিন পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আশরাফ মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে কালীপুর ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আশরাফ মিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফরিদের ছেলে।

এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ জানায়, তিন দিন ধরে আশরাফ মিয়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। সকালে তার বাড়ির উঠানের দক্ষিণ পাশের ঝোপঝাড়ে সদ্য খোঁড়া মাটির স্তূপ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহটির মাথা ও শরীরে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাচা–ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ইফতেখার রাহাত (৩০) ও আবিদুল হাসান (৩৫) প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের লালিয়ারহাট এলাকার মিস্ত্রি ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাহাত হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুর এলাকার চাঁনগাজী চৌধুরী বাড়ির সাবেক স্কুল শিক্ষিক মো. ইউছুপের পুত্র। আর আবিদুল হাসান একই বাড়ির প্রয়াত নুর আহমদ চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময়ে আবিদুল হাসান অসুস্থ হয়ে পড়লে রাহাত তাকে দ্রুত হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে লালিয়ারহাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহাতের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবিদুল হাসানকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। একই অটোরিকশায় থাকা রাশেদ চৌধুরী গুরুতর আহত অবস্থায় চমেকে ভর্তি আছেন।

রাউজান হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদে সেবা মান উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা

চট্টগ্রাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে এবং জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে আজ শনিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অর্ধ-বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম মোঃ শরীফ উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আগত সেবাপ্রত্যাশীরা যেন ভালো আচরণ ও প্রয়োজনীয় সেবা পান তা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের আরও মনোযোগী, মানবিক ও সেবামুখী হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ছোট ছোট বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি না হলে জনগণকে বারবার বিভিন্ন অফিস-আদালতে ঘুরতে হয়। এ কষ্ট লাঘব করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক সেবা যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে।”
সেবা প্রদানে আন্তরিকতা, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ফরিদুল আলম।

সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার মোঃ শরীফ উদ্দীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ মাঠপর্যায়ে সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিষ্ঠান। জনগণের সেবা গ্রহণের পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রদত্ত আইনগত ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এতে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৯১টি ইউনিয়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল ইসলাম, ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল আবছার ও লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল আসলাম।

সভায় চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

একদিকে বাবার সঙ্গে কথা, অন্যদিকে খোঁড়া হচ্ছিল দুইটি কবর — স্মরণ সভায় ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী

চট্টগ্রাম: “একদিকে বাবার সঙ্গে কথা বলছি—সুস্থ, জীবিত একজন মানুষ। আর অন্যদিকে তাঁর জন্য খোঁড়া হচ্ছিল দুইটি কবর।”—সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার কাদের নগরে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায়  এমনই স্মৃতিচারণ করেন তার বড় ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী।

তিনি বলেন, “ফাঁসির দুই ঘণ্টা আগে আমরা বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখনই কবর দুটি খোঁড়া হচ্ছিল। সবাই জানতেন—ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে হিসেবে বাবাকে রাউজানেই দাফন করা হবে। কিন্তু বাবা চেয়েছিলেন রাঙ্গুনিয়ার মাটিতেই থাকতে। সেই অধিকার থেকেও বাবাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

ফাইয়াজ কাদের অভিযোগ করে বলেন, “বাবাকে বাঁচাতে বহুজনের কাছে গিয়েছি, সবাইকে বলেছি তিনি নির্দোষ। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের কারণে কেউ কিছু করতে পারেনি। শেষের দিকে ভাবলাম—বাবাকে হয়তো আর বাঁচানো যাবে না, অন্তত তাঁর সম্মানটা কীভাবে রক্ষা করা যায় সেটাই চিন্তা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাবা একফোঁটা চোখের পানি ফেলেননি, কিন্তু তাঁর চোখ লাল ছিল। আমাকে বলেছিলেন—‘বাবা, ইজ্জতের মালিক আল্লাহ।’ আজ ১০ বছর পর সেই কথার সত্যতা দেখতে পাচ্ছি। নতুন প্রজন্ম সত্যকে চিনেছে।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাবার নির্বাচনে পরিবারের সবাই থাকতেন। কিন্তু হুম্মামের নির্বাচনে পরিবারের প্রয়োজন পড়বে না—কারণ রাঙ্গুনিয়ায় তাঁদের হাজারো ভাই-বোন ও মুরুব্বি আছেন, যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

একই স্মরণ সভায় চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “সাধারণত বক্তব্য শেষে তাকবির দিই, কিন্তু আজ ভাইয়ের কথা শুনে মনটা ভারী হয়ে গিয়েছিল—তাই শুরুতেই তাকবির দিয়ে মনটা শান্ত করেছি।”

বাবাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “শেষবার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—মানুষ জানতে চাইছে, তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি না? বাবার উত্তর ছিল—‘চট্টগ্রামের মানুষ আমাকে ৪০ বছর যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে, যদি পারতাম আমার কলিজাটা তাদের দিয়ে দিতাম।’”

তিনি আরও বলেন, “আমার মা পরবর্তীতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন—আমার স্বামী যদি পারতেন তাঁর কলিজা চট্টগ্রামের মানুষকে দিয়ে দিতেন। আজ আপনাদের সামনে বলতে চাই—আমার মায়ের স্বামী শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাঁর কলিজার অংশ হিসেবে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে আপনাদের কাছে দিয়ে গেছেন।”

এছাড়াও সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

অবশেষে মাদক ছাড়লেন রাঙ্গুনিয়ার জলইক্যা, মসজিদে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ঘাগড়াকুল এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আজিজুল হক (৬৫) ওরফে ‘জলইক্যা’ দীর্ঘ পাঁচ দশকের মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে ঘাগড়াকুল বাইতুল ইকরাম জামে মসজিদে মুসল্লীদের সামনে তিনি প্রকাশ্যে তওবা করেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো মাদক ব্যবসায় না জড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

জানা যায়, স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আজিজুল হক মসজিদে উপস্থিত সবার সামনে অতীতের অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। মসজিদের ইমাম এইচ এম তারেক হোসাইন তাকে তওবা পাঠ করান ও সৎপথে ফেরার নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে হালাল ব্যবসার মাধ্যমে জীবন-জীবিকা চালাবেন।

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর এলাকাবাসী আজিজুল হকের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি পালিয়ে যান। তিন দিন পরে তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘাগড়াকুল বাইতুল ইকরাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক ইউছুপ কামাল তালুকদার বলেন, “জলইক্যা যদি তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়ান, তবে এলাকাবাসী তাকে আর ছাড় দেবে না।”

তওবার সময় মসজিদে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী শফিউল আহমদ, রাজানগর আর এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউছুপ কামাল তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, ইসলামপুর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব কুসুম, সাবেক ছাত্রনেতা খোরশেদ আলম, বাবর হোসাইনসহ স্থানীয় মুসল্লী ও নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় তিন অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চিমনি–কিলন

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুন্নাহার।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)–এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করায় তিনটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো হলো— উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকার মেসার্স খাজা ম্যানু রিসোর্স ব্রিকস (KMR), যার চিমনি ও কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই ইউনিয়নের মেসার্স কেবিএম ব্রিকস (KBM)-এর চিমনি ও কিলনও উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদপুর সোনারগাঁও এলাকার মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (SAB) ইটভাটার চিমনি ও কিলন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গুনিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা, র‍্যাব-০৭ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তর এবং রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা। সার্বিক সহায়তায় ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের সদস্যরা।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী ২৬ নভেম্বর, সেরাদের জন্য থাকছে পুরস্কার

রাঙ্গুনিয়া: “দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি” স্লোগানকে সামনে রেখে “জাতীয় প্রাণীসম্পদ সাপ্তাহ – ২০২৫” উপলক্ষে আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী “প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী”।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে খামারী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে বিভিন্ন স্টল। প্রাণিসম্পদ বিষয়ে পরামর্শ সেবা এবং বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা প্রদর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য—প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সৃষ্টি, ক্ষুদ্র খামারী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলায় সক্ষমতা সৃষ্টি, বিজ্ঞানভিত্তিক লালন-পালন কৌশল অবিহিত করা, উন্নত জাতের পশুপাখি পালনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান এবং জনসাধারণের জন্য নিরাপদ প্রাণীজ আমিষ নিশ্চিত করা।

যেসব স্টল থাকবে
প্রদর্শনীতে দেখা যাবে—উন্নত জাতের গাভী, বাছুর, ষাঁড়
উন্নত জাতের মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের পোষা পাখি, বিভিন্ন পোষা প্রাণী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্য (মিষ্টি, দই, ঘি, মাখন, ছানা ইত্যাদি), মাংস প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঔষধ কোম্পানি, প্রাণিখাদ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম প্রদর্শনী।

স্টল বুকিং
মোবাইল: ০১৩২৪-২৯০৯৫৯

প্রদর্শনী-সংক্রান্ত সব তথ্য গণমাধ্যমকে সরবরাহ করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমীন আক্তার।