ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর: নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসপি মাসুদ আলম

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : আগামী ৯ আগস্ট ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সফরস্থল উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মোড় ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।

পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণাধীন হেলিপ্যাডসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি না রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সফরস্থল, হেলিপ্যাড এবং সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান, ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ফটিকছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্য ফটিকছড়ি উপজেলার উদ্যোগে উপজেলা সদরের বিবিরহাট ঈদগাহ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাস স্টেশনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ সব হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ইমু। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আইন সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সেক্রেটারি মো. জসিম উদ্দিন আজাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম, সহকারী অফিস সম্পাদক এজহারুল ইসলাম, এনসিপি নেতা একরামুল হক, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং যুব বিভাগের সভাপতি নবীর হোসেন মাসুদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইউসুফ বিন সিরাজ। এ সময় থানা শাখার অফিস সম্পাদক মুহাম্মদ আবু জাফর, ইব্রাহিম খলিল, রেজাউল করিমসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লোহাগাড়ায় বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি লোহাগাড়া বটতলী মোটর স্টেশন থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে লোহাগাড়া থানা সংলগ্ন গ্র্যান্ড মাশাবী রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম জাকারিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ রহিম ও এস এম আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রাশেদুল হক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুসলিম উদ্দিন ও বাহাদুর চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব রমজানুল কবির চৌধুরী জয়, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইসহাক কোম্পানী, সিনিয়র সহ-সভাপতি বেলাল কোম্পানীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় যুবদল নেতা মারুফ হোসাইন, নাজিম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, রাকিবুল ইসলাম বাচ্চু, মঈনউদ্দিন ইমন, আরিফুল ইসলাম বাবর, মো. ইয়াসিন আরাফাত, আবুল বশর ও মো. ইলিয়াছসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন, সাইমুন সেলিম ও ইকবাল বিন আবদুল আজিজও উপস্থিত ছিলেন।

র‍্যালি ও সমাবেশে লোহাগাড়া সদর, আমিরাবাদ, আধুনগর, চুনতি, পদুয়া, কলাউজান, চরম্বা, বড়হাতিয়া ও পুটিবিলা ইউনিয়নের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাইয়ের চেতনা ধারণের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান সভাপতিত্ব করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী ও অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব ছাফা, সদস্যসচিব আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক ও ইলিয়াস সিকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইউছুফ চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা সাইফুল ইসলাম, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদল নেতা শাহজাহান সিকদার, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী, উপজেলা যুবদল নেতা সেকান্দর সওদাগর এবং জেলা ছাত্রদলের নেতা আনছুর উদ্দিন, পারভেজ মোশারফ, হেলাল আহমেদ ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে স্বেচ্ছাচারিতা, প্রতিহিংসা ও বিভেদ পরিহার করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।

তারা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনের কারাদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের দায়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এ কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চন্দ্রঘোনা কদমতলীর লিচুবাগান ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক (৩৫), হোছনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা অপু বিশ্বাস এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলীর বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন (৩৫)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মো. মানিক ও মো. সুমনকে গাঁজা সেবনের অপরাধে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অপু বিশ্বাসকে ইয়াবা সেবনের অপরাধে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক সেবন, বহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগও অব্যাহত থাকবে।”

সরফভাটা ক্ষেত্রবাজারে উচ্ছেদ অভিযান, যানজট নিরসনে স্বস্তি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন চার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অন্যতম কারণ ছিল সরফভাটা ক্ষেত্রবাজার মোড়ের তীব্র যানজট। অবৈধ দখল উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর সড়কটি দখলমুক্ত ও প্রশস্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদসহ পুলিশের সদস্যরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।

অভিযান চলাকালে সরফভাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটসংলগ্ন ক্ষেত্রবাজার মোড়ে সৈয়দ আলী সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে থাকা সড়কটি পুনরায় স্বাভাবিক প্রশস্ততা ফিরে পায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ স্থাপনার পাশাপাশি সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানের কারণে প্রতিদিনই এই মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। এতে শিলক, সরফভাটা, কোদালা ও পদুয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও যানজটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

উচ্ছেদ অভিযানের পর এলাকাবাসী প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে সড়কটি দখলমুক্ত থাকবে এবং যানজটের সমস্যা আর ফিরে আসবে না। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কার্যকর নজরদারি না থাকলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড আবারও গড়ে উঠতে পারে। এ কারণে বাজার কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ বলেন, আগে থেকেই কয়েকজন অবৈধ দখলদারকে নোটিশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি খাস জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে সড়কের যানজট অনেকাংশে নিরসন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানজট নিরসন এবং সরকারি খাস জায়গা উদ্ধার করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে একইদিন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার (সরফভাটা, শিলক, কোদালা ও পদুয়া) প্রবেশদ্বার ক্ষেত্রবাজারে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন গাড়ির জ্যামে আটকা পড়তে হয়। আশা করি ভবিষ্যতে এই জনদুর্ভোগের লাঘব ঘটবে। এ মহৎ কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ক্ষেত্রবাজার ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতি এবং সাধারণ দোকানমালিকদের ধন্যবাদ জানাই।”

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে পোস্ট, রাঙ্গুনিয়ায় তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের হিলাগাজীপাড়া এলাকায় নীরব ইমন নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেছিলেন নীরব ইমন। ওই পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট ও হতাশার নানা অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন। পোস্টটি তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে অদূর ভবিষ্যতে প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নীরব ইমন। নতুন জীবন শুরু করার নানা পরিকল্পনাও ছিল তার। তবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হলো না।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে ইমনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগ উঠেছিল। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

একুশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আজাদ তালুকদারের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: একুশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাংবাদিক ও সমাজসেবক আজাদ তালুকদারের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২ আগস্ট)। ২০২৩ সালের এই দিনে লিভার ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর।

আজাদ তালুকদার ১৯৭৮ সালের ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর পদুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে তিনি একাত্তর টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেন। ২০০৪ সাল থেকে একুশে পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে একুশে পত্রিকা ডটকম চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিজিটাল পরিসরে নিয়ে যান।

সাংবাদিকতায় নির্ভীক অবস্থান, সত্য প্রকাশে আপসহীন মনোভাব এবং মানবিক উদ্যোগের জন্য তিনি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয়। সংবাদকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইমপ্যাক্ট জার্নালিজমের চর্চায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

করোনা মহামারির সময় তাঁর অন্যতম উদ্যোগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া খায়ের জাহান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

একুশে পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক শরীফুল রুকন তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, আজাদ তালুকদার শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন না; তিনি ছিলেন সহকর্মীদের অভিভাবক, প্রেরণার উৎস এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক অনুকরণীয় শিক্ষক। সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি এবং সহকর্মীদেরও সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের শিক্ষা দিয়েছেন।

আজাদ তালুকদারের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন নজরুল কবির দীপু। তাঁর নেতৃত্বে একুশে পত্রিকার মুদ্রণ ও অনলাইন সংস্করণের প্রকাশনা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আজাদ তালুকদারকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন তাঁর পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী। তাঁর আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহতরা হলেন বনগ্রাম এলাকার জসিমের ছেলে মো. আবচার (৩৫) এবং হাফেজপাড়া এলাকার খুরশেদের ছেলে মিনহাজ (২৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আহত আবচারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত মিনহাজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক, দ্রুত টেকসই পুনর্বাসনের আশ্বাস

চট্টগ্রাম: সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দুর্গত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরিদর্শনকালে তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক খোঁজখবর নেন।

জানা যায়, টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় এসব এলাকার মাটির তৈরি অধিকাংশ ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ঘর সম্পূর্ণ ধসে গেছে, আবার অনেক পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করছে।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ দেখে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যসংখ্যা, পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা এবং কী ধরনের নকশা ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করলে তাদের জন্য উপযোগী হবে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত নেন।

পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয়, উপকরণের মান এবং টেকসই ঘর নির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ও অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।”

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম (বিপিএম), স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় সিএনজি-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাঠবোঝাই নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি হরিনগেইট এলাকায় ড্রিম রেস্টুরেন্টের পূর্ব পাশে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়মনগর থেকে রোয়াজারহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঠবোঝাই একটি নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী আহত হন।

আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মরিয়মনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত বদিউল আলমের ছেলে হাফেজ মো. নুরুল হক (৬০)-কে মৃত ঘোষণা করেন।

অপর আহত দিলুয়ারা বেগম (৩৯) একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহতের ভাগ্নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাঠবোঝাই নসিমন থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নসিমনের চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চুয়েটের পুকুরে ডুবে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসের একটি পুকুরে ডুবে অর্ণব সাহা (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অর্ণব সাহা চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুয়েটের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অর্ণব সাহা সহপাঠীদের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম হলের পুকুরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

পরে সহপাঠীরা খোঁজাখুঁজি করে তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে চুয়েট মেডিক্যালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘বন্যার পানি নেমেছে, দুর্ভোগ শেষ হয়নি; এখন প্রয়োজন পুনর্বাসন’: মাহবুবের রহমান শামীম

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। তাই এখন তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর বাজার এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ভয়াবহ বন্যায় অনেক মানুষ বসতঘর হারিয়েছেন। কৃষিজমি, গবাদিপশুর খামার, পোলট্রি খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, জেলা পরিষদের এক সভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বন্যাকালে সরকার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে।

তিনি দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দীন চৌধুরী এবং সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আকন্দ, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সেলিম চৌধুরী, চুনতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নূর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শব্বির আহম্মেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নামে প্রতারণা: সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশ সদর দপ্তরের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ দাবি ও বিভিন্ন ধরনের তদবিরের নামে প্রতারণা করছে একটি চক্র। সম্প্রতি এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমন প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রতারকরা সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবি করছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সরকারি কর্মকর্তার ছবি ব্যবহার করা মানেই সেটি ওই কর্মকর্তার প্রকৃত আইডি বা মোবাইল নম্বর—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাই এ ধরনের বার্তায় সাড়া না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা পেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার অথবা ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাঙ্গুনিয়ায় বিট পুলিশিং সভায় এএসপি: ‘অপরাধ দমনে শুধু পুলিশ নয়, চাই সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ’

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), রাঙ্গুনিয়া সার্কেল মো. বেলায়েত হোসেন বলেছেন, সমাজে নীতি-নৈতিকতার চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে আয়োজিত বিট পুলিশিং ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এএসপি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিন বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণ ও পুলিশের মধ্যে আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রকাশ: সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সোনাইছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রকাশ করায় ইসমাঈল হোসেন নয়ন নামে এক সাংবাদিককে হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় সোমবার ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

হুমকির শিকার ইসমাঈল হোসেন নয়ন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য।

গত ২৫ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নের মধ্যম পারুয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পান।

একই ইউনিয়নের ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলের সোনাইছড়ি খালে গিয়ে তিনি কয়েকজনকে বালু উত্তোলন করতে দেখেন।

সেখানে তিনি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে বালু উত্তোলনকারীরা সরে যান।

পরে তিনি ধারণ করা ছবি ও ভিডিও তার ফেসবুক পেজ Rangunia24.com এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি Ismile Hossian Noyon-এ প্রকাশ করেন।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, ভিডিও প্রকাশের পর গত ২৬ জুলাই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল, শেখ আহমেদ আরিফ ও মো. মারুফ চৌধুরী ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি দেন।

একই দিন রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে তাকে বলা হয়, পারুয়া ইউনিয়নে গেলে তার পা কেটে রাখা হবে এবং বালি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

তবে ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. সোহেল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে কোদাল দিয়ে অল্প বালু তুলছিলেন, সেখানে কোনো ড্রেজার ব্যবহার করা হয়নি।

মো. সোহেল আরও জানান, কর্ণফুলী, সোনাইছড়ি ও ইছামতী নদীতে যেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করার কথা তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন।

তবে তিনি সাংবাদিককে কোনো হুমকি দেননি বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু, প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তে মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মালেকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মৃত্যুর আগে আবদুল মালেকের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আবদুল মালেক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা সবার দায়িত্ব, সচেতন হলেই বদলাবে রাঙ্গুনিয়া

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৫ জুলাই) রাঙ্গুনিয়ায় জনসচেতনতামূলক র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচারণাও চালানো হয়।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিদিন পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় পরিষদ চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। উপজেলা পরিষদে আগত সবাই যদি নির্ধারিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলেন, তাহলে পুরো প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা সম্ভব হবে। একটি পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই গড়ে উঠতে পারে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য রাঙ্গুনিয়া।

 

রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

লোহাগাড়ায় গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডব, বসতঘর ভাঙচুর; প্রাণ বাঁচাতে পালাল পরিবার

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা আইম্মাডাফা এলাকায় গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডবে একটি বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের চিৎকারে হাতির পাল পাশের বনের দিকে চলে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে একটি বন্য হাতির পাল লোকালয়ে প্রবেশ করে। হাতিগুলো জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ঢুকে তার মাটির বসতঘর, দেয়াল ও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গভীর রাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে তাকিয়ে দেখি কয়েকটি বন্য হাতি আমাদের ঘর ভাঙচুর করছে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতিগুলো ঘরের অনেক ক্ষতি করে চলে যায়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম জানু বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এ এলাকায় প্রায়ই বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে আসে। ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। হাতির উপদ্রব স্থায়ীভাবে রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

পদুয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান বলেন, “লোকালয়ে বন্য হাতির বিচরণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাতি তাড়াতে বন বিভাগের টিম কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও বিধি-বিধান অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বন্য হাতির বিচরণ ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জানমাল হুমকির মুখে পড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

৩০ বছর পর রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচা সড়কে সংস্কারকাজ শুরু, স্বস্তি এলাকাবাসীর

রাউজান (চট্টগ্রাম): দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী সাহেব মিয়া বাড়ি এলাকার একটি কাঁচা সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো বাসিন্দা।

জানা গেছে, প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে পায়ে হেঁটে চলাচলও ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এতে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, প্রান্তিক কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সুমন নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটিতে সলিং নির্মাণকাজ শুরু করেন।

দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কাঁচা সড়কের কারণে বয়োবৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সলিং নির্মাণ শেষ হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।

সলিং নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সমাজ কমিটির অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর, সমাজসেবক আলমগীর হোসেন, উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন, হাফেজ মাওলানা নুর মোহাম্মদ, ইসহাক মিয়া, মো. জাহেদ, মমতাজ, আসিফ, ইয়াছিন উদ্দিন মাসুদ, রিপন ও ইয়াকুব উদ্দিন আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অর্থায়নকারী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় খেলতে গিয়ে গাছের ডালচাপায় প্রাণ গেল শিশুর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নে গাছের নিচে খেলতে গিয়ে গাছের শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে নিশিত দেব (১২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের উত্তর পারুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নিশিত দেব ওই এলাকার খোকন দেবের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালী মন্দিরসংলগ্ন মাঠে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল নিশিত। এ সময় মাঠের পাশে থাকা একটি রেইনট্রি গাছের বড় শুকনো ডাল হঠাৎ ভেঙে নিচে পড়ে। অন্য শিশুরা দ্রুত সরে যেতে পারলেও নিশিত সরে যেতে পারেনি। ডালটি তার মাথার ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মাহবুব মেম্বার বলেন, “গাছটির পাশে একটি খেলার মাঠ রয়েছে, যেখানে শিশুরা নিয়মিত খেলাধুলা করে। গাছটিতে আগে থেকেই বড় একটি শুকনো ডাল ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ডালটি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির মধ্যেই খেলাধুলার সময় সেটি ভেঙে পড়ে। অন্য শিশুরা সরে যেতে পারলেও নিশিতের মাথার ওপর ডালটি পড়ে, এতে সে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায়।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

 

শিশু ওয়াসিফাকে অপহরণের পর খোঁজে পেতে মায়ের সঙ্গে মাজারে গিয়ে দোয়া চাইলেন অভিযুক্ত নিজেই

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, অপহরণের মূল পরিকল্পনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে থেকেই তাকে খোঁজার নাটক করেছেন। এমনকি শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তার মায়ের সঙ্গে একটি মাজারে গিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়াও করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুল থেকে ছুটি শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল ওয়াসিফা। এ সময় বাড়ির সামনে অপেক্ষমাণ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তাকে বলা হয়, “তোমার বাবা অসুস্থ, হাসপাতালে নিয়ে যেতে এসেছি।” পরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় সে কোনো সন্দেহ না করেই সিএনজিতে উঠে যায়। এরপর থেকেই শিশুটি নিখোঁজ হয়। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন জানান, প্রথমদিকে পুলিশের কাছে শুধু এতটুকুই তথ্য ছিল যে, স্কুল ছুটির পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু সিএনজিটির নম্বর জানা যায়নি, কেউ সেটিকে শনাক্তও করতে পারেনি। এমনকি তদন্তে সহায়ক কোনো স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজও প্রথমে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজে সিএনজির আংশিক অংশ এবং চালকের অস্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সিএনজিটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এএসপি বেলায়েত হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সিএনজিচালক রাকিব স্বীকার করেন, সিএনজিটির মালিক ফয়সাল, যিনি শিশুটির বাবার মামাতো ভাই। পারিবারিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি ওয়াসিফাকে তার বাবা অসুস্থ এবং হাসপাতালে দেখতে যেতে হবে বলে সিএনজিতে তোলেন। পরিচিত হওয়ায় শিশুটি কোনো সন্দেহ করেনি।

পরে ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ফয়সাল, সিএনজিচালক রাকিবসহ মোট চারজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দু-একজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, অপহরণের পর শিশুটিকে ফয়সালের ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক উল্লেখ করে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, “ফয়সাল শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে থেকেই তাকে খোঁজাখুঁজি করেছে, থানায় গেছে, বিভিন্ন জায়গায় ফোন করেছে। এমনকি শিশুটির মায়ের সঙ্গে একটি মাজারে গিয়ে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়াও করেছে।”

অপহরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফয়সাল শিশুটির বাবার মামাতো ভাই। পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় পারিবারিক কোনো বিরোধের জের থাকতে পারে। আবার মুক্তিপণের উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। তাদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের অভিযোগের পর স্কুলছাত্রী ওয়াসিফা সরফভাটা থেকেই উদ্ধার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার রাত ১২টা ১৭ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন বলেন, “সরফভাটা এলাকার একটি স্থান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযান এখনও চলমান থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হচ্ছে না। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) সকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তার পরিবার। তাদের দাবি, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা শিশুটিকে তার বাবা অসুস্থ বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে সরফভাটা ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

 

বাবা অসুস্থ বলে সাত বছরের কন্যাশিশুকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার হাফেজ মোহাম্মদ শরিফের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ারের মেয়ে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের দাবি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, স্কুল ছুটির পর ওয়াসিফা সহপাঠীদের সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে আগে থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল, যা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা ওয়াসিফাকে বলে, “তোমার আব্বু অসুস্থ, তোমাকে নিতে এসেছি।” এরপর তাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। গাড়িটিতে চালকসহ তিনজন ব্যক্তি ছিলেন।

দেলোয়ার বলেন, “তারা আমার মেয়ের নাম জানত এবং আমার অসুস্থতার কথা বলে তাকে নিয়ে গেছে। তাই আমার ধারণা, এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা।” তিনি জানান, ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করেছেন।

শিশুটির মা বলেন, ওয়াসিফা তার সহপাঠী ও এক আত্মীয় শিশুর সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। তাদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে ওয়াসিফার বাবার অসুস্থতার কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। যদি কারও সঙ্গে বিরোধ থেকেও থাকে, তাহলে আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারত। কিন্তু আমার নিষ্পাপ শিশুকে কেন নিয়ে গেল? আমি শুধু আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।”

ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, ছুটি শেষে ওয়াসিফা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এ সময় তাদের বাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাবার অসুস্থতার কথা বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আরও দুইজন সহপাঠী ছিল এবং তাদের সামনেই ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

 

রাঙ্গুনিয়ায় দিনমজুরের গাভী চুরি করে অন্যত্র জবাই, বাছুর রেখে মাংস নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে এক দিনমজুরের গোয়ালঘর থেকে একটি গাভী চুরি করে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে গাভীর লেজ, নাড়িভুঁড়ি ও শরীরের কিছু অংশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল ডাবাইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালেক (খালেক হাজী) এর ছেলে মো. মাহবুবের (৪০) গোয়ালঘর থেকে গাভীটি চুরি করা হয়।

ভুক্তভোগী মাহবুব জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি সর্বশেষ গোয়ালঘরে গাভীটি দেখেন। পরদিন ভোরে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, বাছুরটি থাকলেও গাভীটি নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, লালানগর ইউনিয়নের সিকদারপাড়া থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার বিকল্প সড়কের দক্ষিণ রাজানগর ও লালানগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চতুজ্জেপাড়ার মুখের নির্জন সড়কে একটি গাভী জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, সেটি তার চুরি হওয়া গাভী।

তিনি বলেন, “আমি কৃষিকাজ ও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে গাভীটি লালন-পালন করছিলাম। এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল। গাভীটির আনুমানিক মূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এটি পাঁচ মাসের গর্ভবতীও ছিল।”

মাহবুব আরও বলেন, “আমার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানি না।”

ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন, সংসার চালাতে গিয়ে তাদের প্রায়ই ধারদেনা করতে হয়। অনেক কষ্ট করে গাভীটি পালন করছিলেন, যাতে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়া যায় এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব হয়। তাদের তিন ছেলের বয়স ১০, ১২ ও ১৫ বছর। এর মধ্যে দুইজন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় এবং বড় ছেলে অন্য একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

স্থানীয়রা জানান, মাহবুব অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। তিনি যে কাজ পান, সেটিই করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। এটি খুবই মর্মান্তিক। মাহবুব একজন অসহায় দিনমজুর।”

 

সরকারি ভবনের ছাদ থেকেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান; ভালো কাজে পুরস্কার, গাফিলতিতে ব্যবস্থা

ডেস্ক: চট্টগ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুলাই জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসিক ভবনের ছাদে একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচিতে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো দপ্তরকে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সরকারি বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

রোববার (১৯ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন। এতে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং সব উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা একদিনের কাজ নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের কর্মস্থল ও আবাসন থেকেই পরিচ্ছন্নতার চর্চা শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, “আগামী ২৫ জুলাইয়ের ছাদ পরিষ্কার কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করতে চাই। জেলা, উপজেলা এবং অধীনস্থ সব দপ্তরে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। সারা দেশে যেন বোঝা যায়, চট্টগ্রাম পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজের অফিস, নিজের বাসা থেকেই পরিচ্ছন্নতা শুরু করুন। এই দেশ আমাদের, এই মাটির সন্তান আমরা। নগরটিকে বাসযোগ্য করার দায়িত্বও আমাদের সবার।”

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আগে ও পরে তোলা ছবি ও ভিডিও জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব মূল্যায়ন করে আগামী জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

সরকারি আবাসনের ছাদবাগান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ছাদবাগান একটি ভালো উদ্যোগ হলেও পরিচর্যার অভাবে নিচতলার বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পানি চুইয়ে পড়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিন। নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারি বাসা বরাদ্দও বাতিল করা হবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি অফিস, সরকারি আবাসন এবং জনপরিসরে পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।

সভা শেষে জেলার সব সরকারি দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনকে ২৫ জুলাইয়ের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

ফটিকছড়িতে ধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় জমিতে ধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পানিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরাচান গ্রামের ফটিকছড়ি বিলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মো. হাসেম (৪৫) ও মো. ইউনুস (৩৫)। তারা দুজনই দৈনিক মজুরিভিত্তিক কৃষিশ্রমিক ছিলেন। হাসেম উত্তর ভূজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে এবং ইউনুস একই এলাকার মাহবুবুল আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ফটিকছড়ি বিলে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন হাসেম ও ইউনুস। এ সময় বিলের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের একটি খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার জমির পানিতে পড়ে ছিল। কাজ করার একপর্যায়ে তারা বিদ্যুৎবাহী পানির সংস্পর্শে এলে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্বের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় কেউ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। পরে স্থানীয় লোকজনই দুই কৃষিশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহীম বলেন, ঘটনাস্থলেই দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামালের মৃত্যুর ১১ দিনের মাথায় না ফেরার দেশে মা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: ওমানে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দেশে ফিরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা রাঙ্গুনিয়ার প্রবাসী মো. জামালের (৩৯) মৃত্যুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় ইন্তেকাল করেছেন তাঁর মা।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জামালের মা আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে ওমানে কর্মরত ছেলের দুর্ঘটনার খবর, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

শনিবার দুপুরের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থতা অনুভব করলে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমান। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় নিচে পড়ে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন।

চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ৭ জুলাই নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের ওপর নেমে আসে আরেকটি শোক। অল্প সময়ের ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা সহজলভ্য করতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য করা।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কার্ডও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

প্রবাসী কার্ডে যেসব সুবিধা মিলবে:
প্রবাসী কার্ডধারীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট (Meet & Greet) সুবিধা।

বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।

দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা।

সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়।

কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার সুবিধা।

প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।

জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার।

রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজ অর্থ লেনদেনের সুযোগ।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার।

পর্যায়ক্রমে বিতরণ:
বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।