রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতী থেকে বালু উত্তোলনের সেই ড্রেজার জব্দ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল দক্ষিণ পাড়া সংলগ্ন তুলাতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।

বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন নবাগত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু। অভিযানে রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান জানান, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে একই দিন দুপুরে ‘রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের নীরবতায় ইছামতী থেকে বালু উত্তোলন’ শিরোনামে একুশে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে লালানগর ইউনিয়নের তুলাতলা এলাকায় মেশিন বসিয়ে ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের ক্ষোভের বিষয়টি উঠে আসে।

পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে এবং বিকেলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইছামতী খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে খালের তীর, আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়া টুডে/প্রতিবেদক

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চট্টগ্রামে ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার

চট্টগ্রাম: সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের নির্দেশনায় এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি হাটহাজারী গোলচত্বর, ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ড, রাঙ্গুনিয়া থানার রোয়াজারহাট এবং রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যানবাহনের চালক, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পথসভা করেন। পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

পথসভায় চালকদের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানো, ওভারটেকিংয়ের সময় সতর্কতা অবলম্বন, নির্ধারিত লেন ও সড়ক সংকেত মেনে চলা, মোটরসাইকেল চালানোর সময় বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট ব্যবহার এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতন করা হয়। এছাড়া ক্লান্ত বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি না চালানোর জন্যও চালকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পথচারীদের রাস্তা পারাপারের সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং চালকদের যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজনের প্রস্তুতি সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান।

সভায় প্রতিযোগিতা দুটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, খেলার মাঠ প্রস্তুত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয় এবং প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চুয়েটে পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু, একই পুকুরে ১৫ দিনে প্রাণ গেল তিনজনের

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসের পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে একই পুকুরে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলো।

নিহতরা হলেন চুয়েটের ২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্ণব চন্দ (২২) ও শান্ত দেব (২৩)। তাদের দুজনের বাড়ি সিলেট বলে জানা গেছে। অর্ণব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের এবং শান্ত টিপিই বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ফুটবল খেলা শেষে অর্ণব চন্দ ও শান্ত দেব কাজী নজরুল ইসলাম হলের পুকুরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা সাঁতার কাটতে গিয়ে পুকুরের মাঝামাঝি অংশে ডুবে যান।

পরে উদ্ধারকারীরা প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে অর্ণব চন্দকে এবং প্রায় ৪৫ মিনিট পর শান্ত দেবকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন। এরপর তাদের চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা (২৫)। ফুটবল খেলা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে নেমে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর ১৫ দিনের ব্যবধানেই একই পুকুরে ডুবে আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলো।

রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই ফ্রিজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে চোরাই যাওয়া একটি ফ্রিজ উদ্ধারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার এসআই আবু নাছের সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে রাকিব আহাম্মদ (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাই যাওয়া ওয়ালটন কোম্পানির একটি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ফ্রিজটির আনুমানিক মূল্য ২২ হাজার টাকা।

গ্রেপ্তার রাকিব আহাম্মদ রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম, আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. রুহুল আমিনের ছেলে।

অন্যদিকে, এএসআই বায়েজিদ মোল্লা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিনের একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সুজনকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তার মো. সুজন রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুফি পাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত নুর আলমের ছেলে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাউজানে হৃদরোগে আক্রান্ত শ্রমিকদল নেতার পাশে আবুল কাশেম ফাউন্ডেশন

রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজানে হৃদরোগে আক্রান্ত ওয়ার্ড শ্রমিকদল নেতা মহরম মিয়া আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাঁর এই দুঃসময়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন মরহুম আবুল কাশেম ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ অসুস্থ মহরম মিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে নগদ অর্থ সহায়তা এবং বসতঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন প্রদান করেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য আবু বকর চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হক মঞ্জু।

পৌরসভা যুবদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মাওলানা এখলাসুর রহমান, আখতার উদ্দিন খান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজাহান সাহিল, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি ও বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন কোম্পানি, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, যুবদল নেতা মো. ইলিয়াস, নুরুল কিবরিয়া খোকন, মো. জাবেদ ও মো. আবিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান শেষে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও কিউসি লজিস্টিক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এই মহতী উদ্যোগে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণকারী সকল নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সাতকানিয়ায় জাল নোট প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাল নোটের বিস্তার রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক কেরানীহাট শাখার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান।

অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গাজী আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অগ্রণী ব্যাংক কেরানীহাট শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মিরাজ মেহের চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক (ক্যাশ) উত্তম কুমার রুদ্র।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জাল নোটের ব্যবহার শুধু ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্যও ক্ষতিকর। অসাধু চক্রের মাধ্যমে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি বৈধ মুদ্রার ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জাল নোট শনাক্ত ও প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

প্রশিক্ষণে আসল ও জাল নোট চেনার বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, নোট যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং লেনদেনের সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়গুলো হাতে-কলমে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নোটের জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, রং পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য, উঁচু-নিচু ছাপসহ অন্যান্য নিরাপত্তা চিহ্ন পরীক্ষা করে নোট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, জাল নোট প্রতিরোধে শুধু ব্যাংক কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং সাধারণ গ্রাহক—সবার সম্মিলিত সচেতনতাই জাল নোটের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাজারে বেশি লেনদেনের সময় তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেটি অন্যের কাছে চালিয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাল নোটের কারবার বা সরবরাহ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

চকরিয়ায় ডাম্পার-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত, আহত ২

চকরিয়া (কক্সবাজার): কক্সবাজারের চকরিয়ায় দ্রুতগতির ডাম্পার ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মিজানুর রহমান (২৫) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়কের সাহারবিল ইউনিয়নের শাহপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হন।

নিহত মিজানুর রহমান চিরিঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি চিরিঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানপাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানসহ তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে বদরখালীর দিকে যাচ্ছিলেন। তারা শাহপুরা এলাকায় পৌঁছালে বদরখালীর দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ডাম্পার ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মিজানুর রহমানের হাত-পা ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুইজনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজাউল করিম বাপ্পি।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান ডাম্পার ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে আমি চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানাচ্ছি।’

চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম মাসুম ছিদ্দিকী বলেন, ‘বদরখালী সড়কের শাহপুরা এলাকায় ডাম্পার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ডাম্পার ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা রুজু করা হবে।’

রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে স্কুলে পোমরা শহীদ জিয়ানগর, মাদ্রাসায় নূরুল উলুম, ভোকেশনালে সরফভাটা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় এসএসসিতে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল এবং ভোকেশনালে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে রয়েছে।

উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।

এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে থাকা পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জনের মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরেই রয়েছে পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন, উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন এবং রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এদিকে, উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

দাখিলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল। এ প্রতিষ্ঠানে ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল থেকে ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন এবং রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ এবং ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

ভোকেশনালে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ভোকেশনালে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

প্রসঙ্গত: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিবরণীর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: রাঙ্গুনিয়ায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৫৫, দাখিলে ৫৯.৬৫ ও ভোকেশনালে ৬০.১৫ শতাংশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, দাখিলে ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪১৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।

দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৫ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২৭৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। এ পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৭ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১০৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

এসএসসিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফল

এসএসসিতে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ ও ১৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পায়নি কেউ।

রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ ও ৫৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন।

রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

মরিয়মনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সাবেক রাঙ্গুনিয়া ইন্দ্রকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩৬ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

আলহাজ আবুল বশর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭ জনের মধ্যে ৩১ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

বেগম ইকবাল জাকির হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পশ্চিম সরফভাটা মীরেরশীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫ জনের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পূর্ব সরফভাটা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সোনারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জনের মধ্যে ৩০ জন উত্তীর্ণ ও ১৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

উত্তর পদুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০১ জনের মধ্যে ৬৩ জন উত্তীর্ণ ও ৩৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

প. শিলক বেদৌরা আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩২ জন উত্তীর্ণ ও ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৮ জনের মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

কোদালা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ২৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জন উত্তীর্ণ ও ৬২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।

রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৪ জনের মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন।

শিলক হামিদ শরীফ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৮ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৬ জনের মধ্যে ৪৯ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিক্ষক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

সাহাব্দীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮১ জনের মধ্যে ৪৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৪ জনের মধ্যে ৫১ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ণ ও ৪৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫১ দশমিক ৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ২৭ জন উত্তীর্ণ ও ২৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ জনের মধ্যে ২০ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মরিয়মনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৬ জনের মধ্যে ৪২ জন উত্তীর্ণ ও ৬৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

খুরুশিয়া দ্বারীকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ ও ২৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ জনের মধ্যে ২০ জন উত্তীর্ণ ও ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পূর্ব কোদালা এমএতাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭১ জনের মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩৮ জনের মধ্যে ৬২ জন উত্তীর্ণ ও ৭৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

পদুয়া সম্মিলনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

উত্তর পারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪১ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

দক্ষিণ শিলক এম. শাহজালাম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮ জনের মধ্যে ৪২ জন উত্তীর্ণ ও ৬৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২০ জনের মধ্যে ৪৬ জন উত্তীর্ণ ও ৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হরিহর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০ জনের মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ ও ১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

বগাবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে ১৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৯ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ ও ৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৪ জনের মধ্যে ১০ জন উত্তীর্ণ ও ৪৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ নেই।

সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

দাখিল পরীক্ষায় ১৫ মাদ্রাসার ফল

দাখিল পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ ও ৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিলে ৮১ জনের মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ ও ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

উত্তর পদুয়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

মরিয়মনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৩৫ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ১৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

বেতাগী রহমানিয়া জামেউল উলুম মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

জামেয়া নঈমিয়া তৈয়বিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৬ জনের মধ্যে ৩৭ জন উত্তীর্ণ ও ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫১ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

শিলক মীনা গাজীর টিলা মতিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে ৯ জন উত্তীর্ণ ও ৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৫১ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ ও ২৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

রানীরহাট আল-আমিন হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৪ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হযরত আবদুল কাদের জিলানী দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সোনারগাঁও দাখিল মাদ্রাসায় ৪৬ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

এসএসসি (ভোকেশনালে) চার প্রতিষ্ঠানের ফল

এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ ও ১৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৫ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ ও ৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জনের মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ ও ৬১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

চারটি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ ও ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

প্রসঙ্গত: সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী।

একই সময়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডটিতে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ব্যাপকভাবে কমেছে। এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

চট্টগ্রামের বাইরে বোর্ডের অধীন চার জেলাতেও পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

গত বছর রাঙামাটিতে পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার আগের বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এ বছর ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। অন্যদিকে, এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।

সারাদেশে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

এ বছর ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে।

উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ‘কিছু’ রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব রাজনৈতিক দলকে মোকাবিলায় দেশের জনগণকে ‘সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের উন্নয়নের কাজগুলো বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, “আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—দেশের সব গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা কথা বলার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, প্রত্যেকটি মানুষকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই বিশৃঙ্খলাকারী, যারা রাজপথ বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব? এটা আজ বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। এখন সময় হচ্ছে দেশ গড়ার, এখন সময় হচ্ছে জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে আজ শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে হবে; আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি যে, দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে, দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

“আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য একটাই—সেটি হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী একটি কথা বলে থাকে যে, আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস হচ্ছে দেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে আছে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, জনগণ যেহেতু বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই ৩১ দফার বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

ফটিকছড়িতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, উঠল ১৩ দফা দাবি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। পরে মাদ্রাসার ভেতরে বাবুনগরীর খাস কামরায় দুজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার একান্ত বৈঠক হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানও সেখানে ছিলেন।

বৈঠকের বিস্তারিত জানা না গেলেও অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাতে মূলত হেফাজত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

হেফাজতের ১৩ দফা দাবি

বৈঠক শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

দাবিগুলোর মধ্যে ইসলাম অবমাননা রোধে আইন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন না করা এবং কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশনারি তৎপরতা বন্ধ, আলেমদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবিও ওঠে সভায়।

মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়।

পাশাপাশি ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪ সালের সহিংসতার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে আলেমদের সুযোগ দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেন হেফাজতের নেতারা।

‘কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না’

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না।’

তিনি জানান, শাপলা চত্বর মামলার চার্জশিট হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিচারকাজ শুরু হবে। আলেমদের বিরুদ্ধে মামলার তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি অনুযায়ী নিয়োগের বিষয়ে সরকার কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মদিনা ও সাহাবাদের চর্চিত ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করেই বাংলাদেশ পরিচালিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘সমস্যা ও দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে’

পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সমস্যা ও মানুষের দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্ষম হলেও পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

অতীতে দেশের অর্থ-সম্পদ লুট ও পাচারের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

হাজারো মানুষের স্বাগত

এর আগে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা থেকে ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘীর মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক হয়ে তিনি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পেলাগাজীর দিঘী থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে হাজার হাজার মানুষ তাঁকে স্বাগত জানায়।

মাদ্রাসার কাছাকাছি পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে শিশু শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনের পর সরকার ও হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের এই মতবিনিময়কে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাঁশখালীতে বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন ঘর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাকে একনজর দেখতে সমুদ্রপাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

বাহারছড়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ১০০টি গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী যাবেন হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায়। সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠেও প্রধানমন্ত্রীর একটি কর্মসূচি রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দিনের শেষ কর্মসূচিতে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা অংশ নিতে পারেন। সভায় দলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দলকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেন তিনি।

সব কর্মসূচি শেষে রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আলেমদের সঙ্গে করবেন মতবিনিময়

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছে ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসায় উপস্থিত ৬৪ জন আলেমের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী দিঘির সিএন্ডবি মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের পর মাঠে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাবে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।

পরে সড়কপথে তিনি ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, ফটিকছড়িতে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির মরহুম আল্লামা আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। এ সময় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত থাকবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।

পরে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কথা রয়েছে।

সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়িতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: সাত ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ, শেষ মুহূর্তে তদারকিতে জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম সফর করবেন। তাঁর সফর ঘিরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

শনিবার (৮ আগস্ট) ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কয়েকটি ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থা তদারক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বাঁশখালী যাবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছাবেন। পরে ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারী হয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাবেন।

শনিবার জেলা প্রশাসক প্রথমে ফটিকছড়ি উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হেলিপ্যাড ও সংলগ্ন সড়কের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরে তিনি ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। জেলা প্রশাসক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির খোঁজ নেন।

এরপর জেলা প্রশাসক হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠ পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান, খাদ্যসামগ্রী ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ করবেন। সফরকালে বাঁশখালী ও হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নবনির্মিত ঘর হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সবশেষে জেলা প্রশাসক হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন। সফরসূচি অনুযায়ী, সেখানে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রতিটি ভেন্যু ঘুরে দেখা হচ্ছে। সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) কাজ করছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম চট্টগ্রাম সফর। সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্রিফিং

চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে জেলার তিনটি নির্ধারিত ভেন্যুতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীর তিনটি ভেন্যুতে পৃথকভাবে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে হাটহাজারী থানাধীন পার্বতী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ফটিকছড়ির ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ এবং বাঁশখালীর আব্দুর রশিদ কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফর নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নির্ধারিত ভেন্যু ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে ভেন্যুগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে।

ব্রিফিংয়ের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নির্ধারিত ভেন্যুগুলো পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনবান্ধব ও সেবামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেশের মেরুদণ্ড ভাঙতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার: এমপি এনামুল হক এনাম

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চেয়েছিল বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

তিনি বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে মূলত দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চেয়েছিল বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকার পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করতে কাজ করছেন। শিক্ষকদের যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নেও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে।”

শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠদানে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা ও সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পটিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষিকা মৌসুমি দেব, বনশ্রী বড়ুয়া, ফয়জুন্নেসা মিলি ও রেহেনা আক্তারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ, বিদায়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার ধর।

এছাড়াও পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া ক্লাবের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক, জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন, জেলা বিএনপি নেতা মোরশেদ শফি হিরু, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক ও মাহবুবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম নয়নসহ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, গুণী শিক্ষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি এনামুল হক এনাম এমপি। পরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম চট্টগ্রাম সফরে তারেক রহমান

একদিনে মহেশখালী-বাঁশখালী-ফটিকছড়ি-হাটহাজারীতে কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। রবিবার (৯ আগস্ট) একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। তাঁর সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মতৎপরতা।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টার দিকে মহেশখালীতে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন তিনি। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সেখানে ইতোমধ্যে নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০০টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছে। বন্যায় যেসব পরিবারের ঘর পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নতুন করে ঘর নির্মাণের আর্থিক সক্ষমতা নেই, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী একজন স্বামীহারা নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে ১০০ পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সফরের প্রস্তুতি দেখতে বাঁশখালীর অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। মঞ্চ, প্যান্ডেল ও হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে কর্মসূচিতে শৃঙ্খলার সঙ্গে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি পূরণ করতেই তাঁর এই সফর।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী জানান, সাক্ষাতে ফটিকছড়ির উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট হয়ে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসা এলাকায় প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রবেশপথ সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য ফটিকছড়ির পেলাগাজিতে অস্থায়ী হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

পরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় কিছু সময় অবস্থানের পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ উপলক্ষে কলেজ মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে হাটহাজারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি চলছে। আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রাম নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা-কর্মীর উপস্থিতি থাকতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, তিন সাংগঠনিক ইউনিটের বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় থাকবেন। নগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

দলীয় নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগটি সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সভায় চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা এবং দলীয় কার্যক্রম নিয়ে নেতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। এরও আগে ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর।

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ইছাখালি পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের টিম

‘পাহাড়ে বসতি হলেও সেইফ সাইডে থাকতে হবে’—স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাম্প্রতিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ইছাখালি আদর্শ গ্রাম এলাকা পরিদর্শন করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার (৮ আগস্ট) তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ স্থানে বসতি স্থাপন এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপসচিব কাজী মো. বদরুজ্জামান বলেন, ‘পাহাড়ে বসতি হলেও সেইফ সাইডে থাকতে হবে।’ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস না করে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ত্রাণ-২) ও উপসচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলী খান এবং কমিউনিকেশন মিডিয়া স্পেশালিস্ট সৈয়দ আশরাফ উল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পণ দেওয়ান, বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন শাহ, কারিতাস বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।

টিমের সদস্যরা পাহাড়ধসের কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

ফটিকছড়ির এমপি সরোয়ার আলমগীরের মা আর নেই

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মা খাদিজা বেগম (৮৫) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

খাদিজা বেগম ছিলেন মরহুম নুর আহমদ ইঞ্জিনিয়ারের সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, এক মেয়েসহ নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শনিবার রাত ৯টায় ফটিকছড়ির পূর্ব ফরহাদাবাদস্থ বাড়িতে মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

খাদিজা বেগমের মৃত্যুতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এবং ফটিকছড়ির সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন।

শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাঙ্গুনিয়া থেকে বিশ্বদৃষ্টি: আস্থার এক বছর পূর্ণ করল রাঙ্গুনিয়া টুডে

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করা অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাঙ্গুনিয়া টুডে যাত্রার এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ডোমেইন ক্রয়ের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১১ আগস্ট থেকে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ শুরু করে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়া টুডের লক্ষ্য ছিল রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সংবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ দ্রুত, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সাধারণ মানুষের সমস্যা-সম্ভাবনা, উন্নয়ন, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত এক বছরে বন্যা, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা এবং জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। স্থানীয় পর্যায়ের নানা অবহেলিত বিষয়ও পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে পাঠকের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থেকেছে।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য ও সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

এই পথচলায় সংবাদদাতা, লেখক, আলোকচিত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য পাঠকের সহযোগিতা, পরামর্শ, গঠনমূলক সমালোচনা ও ভালোবাসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে পরিবার।

বর্তমানে তথ্য অধিদপ্তরে রাঙ্গুনিয়া টুডের নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতেও আইন, নীতিমালা ও সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

রাঙ্গুনিয়া টুডের সম্পাদক ও প্রকাশক এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার বলেন, “এই এক বছরে পাঠকের যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা পেয়েছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কখনোই বিচ্যুত হতে চাই না। ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

এক বছর কেবল সময়ের হিসাব নয়; এটি দায়িত্ব, বিশ্বাস ও অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। সেই অঙ্গীকার নিয়েই সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের পক্ষে থেকে আগামী দিনেও পাঠকের আস্থার সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠতে কাজ করে যাবে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

— আপনার শহর, আপনার সংবাদ

ওগগো মানুষ অইল বইয়োনা, ভাই…”—আহতকে হাসপাতালে নিতে একজন মানুষ চেয়ে চালকের আকুতি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশায় তোলা হয়েছিল। কিন্তু তার পাশে বসে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। আর একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক আহত ব্যক্তির পাশে একজন মানুষ চেয়ে বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুতর আহত রাসেলকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তোলা হয়েছে। তবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাশে বসতে কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ সময় সিএনজি চালক আবুল হাসান বাদশাকে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “ওগগো মানুষ অইল বইয়োনা, ভাই ওগগো মানুষ অইল বইয়োনা।”(ভাই, একজন মানুষ হলেও ওর পাশে বসুন, একজন মানুষ হলেও ওর সঙ্গে চলুন।) তার এই মানবিক আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

রাঙ্গুনিয়ার সিএনজি চালক আবুল হাসান বাদশা জানান, তিনি কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে লিচুবাগানের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কাটাখালী এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তার গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে আহত রাসেলকে সিএনজিতে তুলে দেন। তিনি দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু আহতের সঙ্গে যাওয়ার জন্য কাউকে পাচ্ছিলেন না। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলসহ বাসের নিচে চাপা পড়ে মো. রাসেল (২৩) গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাসেল রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুছড়ি পাড়ার বর্তমান ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ নাছেরের ছেলে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিপদের মুহূর্তে একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আরেকজন মানুষের সহায়তা। দুর্ঘটনার সময় ভিডিও ধারণের চেয়ে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, জরুরি সেবায় খবর দেওয়া এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করাই একজন সচেতন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অনেক সময় সময়মতো একজন মানুষের এগিয়ে আসাই আরেকজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।

বাড়ি ফেরা হলো না, বাসের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মো. রাসেল (২৩) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুছড়ি পাড়ার বর্তমান ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ নাছেরের ছেলে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাসেলের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহর থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন রাসেল। পথিমধ্যে কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দূরপাল্লার ‘লাল-সবুজ পরিবহন’-এর একটি বাস প্রথমে একটি ভ্যানগাড়িকে ধাক্কা দেয়। এরপর ভ্যানটির পেছনে থাকা রাসেলের মোটরসাইকেলটিকেও বাসটি সজোরে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ সময় হাটহাজারী এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক বাদশা এবং চন্দ্রঘোনা বুইজ্জার দোকান এলাকার নেছারুলসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা আব্দুল বারেক জানান, শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন রাসেল।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বন্যাদুর্গত পরিবারের পুনর্বাসনে লোহাগাড়া সোশ্যাল সোসাইটির ঢেউটিন বিতরণ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ঢেউটিন বিতরণ করেছে লোহাগাড়া সোশ্যাল সোসাইটি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা সদরের মডার্ণ কমিউনিটি সেন্টার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া সোশ্যাল সোসাইটির প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্যের পুত্র এটিএম জাহেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি মানবিক দায়িত্বও। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সোশ্যাল সোসাইটির উপদেষ্টা আবুল হাসেম এবং সংগঠনের উপদেষ্টা, সমাজসেবক আরিফুর রহমান।

লোহাগাড়া উপজেলা সোশ্যাল সোসাইটির সদস্য কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক মো. সেলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল বিন আবদুল আজিজ, সংগঠনের সদস্য মো. তৌহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান নিশান, মিজবাহ, বেলাল, আবু তাহের, ইকবাল, মোজাহিদ, মিজান, দীপংকর, ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ, সালেহ আহমদ, প্রফেসর আরিফ, মোক্তার আহমদ, রোভিজ চৌধুরী, সাঈদ, সৌরভ, শাহাজাহান, আহমদ হোসেন, সুমন বড়ুয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন অতিথিরা। সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

লোহাগাড়া সোশ্যাল সোসাইটির নেতৃবৃন্দ জানান, দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

শান্তিরহাটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বেকারিতে আগুন, ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার শান্তিরহাট বাজারে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি বেকারির প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বাজারের বড়ইতলী সড়কে অবস্থিত শহীদ বেকারিতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সকাল থেকে টানা মুষলধারে বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও আগুন দ্রুত পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ চেষ্টা চালান।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে ততক্ষণে বেকারির যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেকারির মালিক মো. শহীদ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ পংকজ কুমার বড়ুয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে বেকারির মালিক মো. শহীদ এখন দিশেহারা।

ক্ষতিগ্রস্ত এই ব্যবসায়ী দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

লোহাগাড়ায় বিএনপির বিজয় র‍্যালি, নেতাকর্মীদের ঢল

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় লোহাগাড়া থানা এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে আমিরাবাদ স্টেশনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন।

র‍্যালি উপলক্ষে উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দুপুর থেকেই থানা এলাকায় জড়ো হন। বিকেলের দিকে সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কর্মসূচিতে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ওলামা দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সেলিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় র‍্যালি-পরবর্তী সমাবেশে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি স্মরণীয় মাইলফলক। এ আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সব সময় গণমানুষের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। দেশের উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুসংহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার শাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী ও শাহ আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা মুজিবুর রহমান, বড়হাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মামুনুর রাশিদ চৌধুরী, পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল আলম কোম্পানি, আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, লোহাগাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, অ্যাডভোকেট এহেছানুল হক, অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরফাত হোসেন, উপজেলা যুবদল নেতা তাজউদ্দীন আল নাজির, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, মুর্শেদুল আলম, আবু তালেব রুবেল, রবিউল হোসেন, ডা. শাহ আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোয়েবুল ইসলাম ও সোহেল মাহমুদ তুষার, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক নুরুল হকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রাউজানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও সমাবেশ

রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাউজান উপজেলা ও পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি কাপ্তাই সড়কের চুয়েট গেট থেকে শুরু হয়ে পাহাড়তলী ডিএন প্লাজা প্রদক্ষিণ করে রাউজান বাজারে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইউসুফ তালুকদার। প্রধান বক্তা ছিলেন রাউজান পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহাদাত মির্জা।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. একরাম মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. ছবুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম শুক্কুর, আনোয়ার শাহ, তাহেরা মোহরম, শফিকুল আলম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম, ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আসাদ রিমন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মুরাদুল আলম, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন মিঠু, নুরুল কিবরিয়া খোকন, এস. এম. রায়হান উদ্দিন, ওমর ফারুক, মো. তারিক আহম্মেদ, মো. রাসেল, মো. সায়েম ও আব্দুল হালিম সিকদার।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইলিয়াস তালুকদার, হারুনুর রশিদ খান, রফিকুল ইসলাম বাবু, মো. আলমগীর, নাজিম উদ্দিন, মো. শাহজাহান, মো. মামুন, মো. নাসির উদ্দিন, মো. নবী, মো. সাইফুল, মো. জাহাঙ্গীর, এয়ার খান, সাজ্জাদ কবির চৌধুরী, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মুন্না তালুকদার, দিদার, আবদুর রহিম, কিশোর বড়ুয়া, মো. বুলবুল, আবদুল খান, মো. রনি, মো. সেলিম, মিজানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতকানিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হাসপাতাল, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা পেলেন আড়াই হাজারের বেশি মানুষ

চট্টগ্রাম : সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেড।

বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলার ৫ নম্বর আমিলাইশ ইউনিয়নের আমিলাইশ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এ ক্যাম্পে অর্থোপেডিকস, মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ডায়াবেটিস, নাক-কান-গলা (ইএনটি), গাইনি, শিশু, চক্ষু এবং চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা-পরবর্তী রোগ প্রতিরোধ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসা ক্যাম্প উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. এটিএম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো পার্কভিউ হাসপাতালের সামাজিক ও নৈতিক অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগে আমরা মানুষের পাশে থাকব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমিলাইশ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এস. এম. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “বন্যার মতো দুর্যোগে দ্রুত চিকিৎসাসেবা মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পার্কভিউ হাসপাতালের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।”

দিনব্যাপী এ চিকিৎসা ক্যাম্পে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিজাম উদ্দীন, কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, মশিউর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী বন্যাদুর্গত মানুষ পার্কভিউ হাসপাতালের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে। দুর্যোগকালীন চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা।

রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে ৬ জন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাছের উদ্দিন (৪৪) এবং পোমরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন (৪৩)।

পুলিশ জানায়, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার মামলা নং-১২ (তারিখ: ২২ জানুয়ারি ২০২৫)-এর তদন্তে তাদের আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হলে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পৃথক অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ মোছা. মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়া বন আইনের দুটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নুরুল ইসলাম ও আবু বক্কর নামে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।