রাঙ্গুনিয়ায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিহত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ হাসান মুরাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মোহাম্মদ শওকত হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আগে উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি সরোয়ার হোসেন।

বক্তারা সাম্প্রতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকার, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কর্ণফুলীতে ড্রেজার দেখে ক্ষুব্ধ এমপি, ড্রেজার জব্দসহ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় কর্ণফুলী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও নদীর তীরে বালুর স্তুপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ড্রেজারটি জব্দের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার আজিজনগর এলাকায় পাহাড়ধস ও ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে সরফভাটা ও শিলক ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। পথে সরফভাটা গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন ভূমিরখীল এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে বালুর স্তুপ এবং নদীতে একটি ড্রেজার তাঁর নজরে আসে।

পরে তিনি গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তাঁর নির্দেশে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবহৃত ড্রেজারটি জব্দের উদ্যোগ নিতে বলা হয়।

এরপর সংসদ সদস্য বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরফভাটা ও শিলক ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা গত কয়েকদিন ধরে পরিদর্শন করছেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

হাঁটুসমান কাদা ও নৌপথ পেরিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে ৭ বিজিবি

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাঁটুসমান কাদা ও নৌপথ পেরিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ৭ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। খাদ্য ও চিকিৎসাসেবাবঞ্চিত পাহাড়ি পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রী, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেছেন বাহিনীটির সদস্যরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইশতিয়াক আহম্মদ ইবনে রিয়াজের নেতৃত্বে একটি দল দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের দুর্গম লক্ষিকার্বারী পাড়ার পাকুইজ্জাছড়া এলাকায় পৌঁছে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। একই সঙ্গে ছোট মেরুং এলাকার চিটাইংগা পাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়।

ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাটালিয়নের মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন এম. আবদুল্লাহ আল-মামুন (এএমসি) অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করেন।

ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলাকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইশতিয়াক আহম্মদ ইবনে রিয়াজ বলেন, “বিজিবি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনে সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় দুর্গম এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় আমরা মাঠপর্যায়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এরই অংশ হিসেবে খাদ্য ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা জ্ঞানো চাকমা বলেন, “প্রতিবছর বন্যা হয়, কিন্তু আমাদের খোঁজ নিতে কেউ আসে না। এবার বিজিবি এসে আমাদের খাদ্যসহায়তা, চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছে। এজন্য আমরা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞ।”

৭০ বছর বয়সী লক্ষী চাকমা বলেন, “আমার পায়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘা। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। বিজিবি এসে ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছে। এতে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি।”

এ সময় বাবুছড়া ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (পিবিজিএমএস) মোহাম্মদ ইমরান হোসেনসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিডিপি সদস্যরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

দুর্গম পাকুইজ্জাছড়ার বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে যখন ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে যায়, তখন তাদের মুখের হাসিই প্রমাণ করে—দুর্যোগের সময়ে সামান্য মানবিক সহায়তাও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে কতটা মূল্যবান।

 

বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরেও বাঁচতে পারেননি সোলেমান, দুই দিন পর মিলল মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া মো. সোলেমানের (২০) মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোলেমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনার ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হালিম বলেন, “আমার ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল। নৌকাটি যখন কিনারার দিকে আসছিল, তখন হঠাৎ একদিকে কাত হয়ে যায়। আমি জানতাম, আমার ভাই সাঁতার জানে না। তাই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু নৌকাটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার সময় সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। এতে আমিও পানির নিচে তলিয়ে যাই। অনেকক্ষণ পর কোনোভাবে হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে আমাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আমার ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

সোলেমান নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে কর্ণফুলী নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে সোমবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হলে সেটি সোলেমানের বলে শনাক্ত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমাদের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু নদীর স্রোত বেশি থাকায় সেদিন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পাই। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

দুর্যোগেও থেমে নেই সওজ, সচল রাখা হচ্ছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় যখন চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ আশপাশের এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত, তখনও চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছেন সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কর্মীরা। বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভারী যানবাহনসহ সব ধরনের যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা দ্রুত ইট, খোয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব গর্ত চালকদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছিল। তবে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মাইক্রোবাস মালিক জিয়াবুল হক বলেন, “টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার মধ্যেও সড়ক বিভাগের লোকজন মাঠে নেমে কাজ করছেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।”

ট্রাকচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, “মহাসড়কে গর্ত থাকলে ভারী যানবাহন চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দ্রুত মেরামতের কারণে এখন চলাচল অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা বর্ষণে মহাসড়কের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক সচল রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের এ সময়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সড়ক দিয়েই ত্রাণবাহী যানবাহন, জরুরি চিকিৎসাসেবার গাড়ি, উদ্ধারকারী দল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ফলে দ্রুত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ শুধু জনদুর্ভোগ কমাচ্ছে না, ত্রাণ ও জরুরি সেবাও নির্বিঘ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের দক্ষিণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জারটেক থেকে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত একাধিক স্থানে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যান চলাচল ব্যাহত না হওয়া এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ট্রাকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করছি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আরও টেকসই সংস্কারকাজ করা হবে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও মহাসড়ক সচল রাখতে আমাদের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে যুবদলের ত্রাণ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরীর উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যুবদলের রাজনীতির অন্যতম অঙ্গ। মানবিক, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক ইউসুফ কামাল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরী, হোছনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাছের টিপু, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বখতিয়ার হোসেন, হোসেন মেম্বার, মির্জা মহিউদ্দিন, মো. নুরুন্নবী, মো. খোরশেদ, জসিম উদ্দীন, নাজিম উদ্দীন ও মো. রাশেদ।

এ সময় ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বিএনপির সদস্যরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

আয়োজকরা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় শৌচাগারের পানি নিয়ে বিরোধ, মারধরে যুবকের মৃত্যু; আটক ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে শৌচাগারের পানি উঠান দিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে মো. ওবায়দুল (৩৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপুকুরিয়া ব্রিজঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠান দিয়ে শৌচাগারের ময়লা ও বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওবায়দুলকে তাঁর চাচা ও চাচাতো ভাইরা কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করেন।

নিহতের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “চাচাদের বাড়ির শৌচাগারের ময়লা ও বৃষ্টির পানি ছাড়াকে কেন্দ্র করে আমার ভাই প্রতিবাদ করলে তারা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। কাঠের বাটামের আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। বাথরুমের পানি উঠান দিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়রা জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।”

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের পাশে যুব ফোরাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী আদর্শ গ্রামে পাহাড়ধসে নিহত এক নারীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরাম। একই সঙ্গে টানা ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

পরে ইছাখালী আদর্শ গ্রাম ও আশপাশের এলাকার প্রায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে চাল, ডালসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ডা. এ টি এম রেজাউল করিম, সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে পাহাড়ধসে নিহত নারীর মাগফিরাত কামনা এবং টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় একটি সেতুর একাংশ ধসে পড়েছে। এতে রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে সেতুটি ধসে পড়ে। সেতুর একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সড়কের দুই প্রান্তে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে ওই এলাকায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত ছিল। পানির প্রবল চাপে প্রথমে রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। পরে গভীর রাতে পানির তোড়ে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে।

যদিও সেতুটির অবস্থান রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়, তবে এটি বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন সেতু ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বান্দরবান থেকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক ও সেতু পানিতে তলিয়ে থাকায় তাদের দল এখনো সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে দ্রুত একটি বেইলি সেতু স্থাপনের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

 

বড় ভাইকে আঁকড়ে ধরেও শেষ রক্ষা হলো না সোলেমানের, কর্ণফুলীতে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে ভাসমান লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিঙ্গি নৌকা ডুবে মো. সোলেমান (২০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহে যান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা দ্রুত আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তের মধ্যেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান।

উদ্ধার হওয়া আব্দুল হালিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল। নৌকাটি যখন কিনারার দিকে আসছিল, তখন বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। হঠাৎ নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেলে আমি দ্রুত লাফ দিয়ে নৌকায় ওঠার চেষ্টা করি, কারণ জানতাম আমার ভাই সাঁতার জানে না। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটি ধরতে পারলে হয়তো ভাইকেও বাঁচানো যেত। ডুবে যাওয়ার সময় সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। এতে আমিও পানির নিচে তলিয়ে যাই। অনেকক্ষণ পর কোনোভাবে হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে আমাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আমার ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

নিখোঁজ সোলেমান ও উদ্ধার হওয়া আব্দুল হালিম উপজেলার পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে বিশেষ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানো হলেও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে প্রবল স্রোতে সোলেমানকে অনেক দূরে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খবর দেওয়া হয়েছে। কোথাও তার সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি বাঁশখালী, সাতকানিয়া এবং চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই তিনি বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় যান। সেখানে বন্যার্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নেন। এ সময় তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বাঁশখালী সফর শেষে তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা এবং পরে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওসহ জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিদর্শনকালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপিসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

দীঘিনালায় বন্যার তৃতীয় দিনেও পানিবন্দি প্রায় ৫ হাজার মানুষ, লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার তৃতীয় দিনেও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম এখনো প্লাবিত রয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, দুই দিন পর দীঘিনালা-সাজেক সড়ক থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মেরুং হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়ক এখনো পানির নিচে থাকায় রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে সড়কের পানি কমে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সকালে সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ জন পর্যটককে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশের নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে ১০১টি যানবাহনে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মেরুং হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়ক এখনো পানির নিচে থাকায় লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকবে।”

 

রাউজানে পানিবন্দি মানুষের পাশে উপজেলা যুবদল, দিনব্যাপী উপহার সামগ্রী বিতরণ

রাউজান (চট্টগ্রাম) : টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা যুবদল। শুক্রবার দিনব্যাপী উপজেলার পাহাড়তলী, কদলপুর ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে রাউজান আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দীন কাদের চৌধুরী ও তরুণ রাজনীতিবিদ সামির কাদের চৌধুরীর সার্বিক দিকনির্দেশনায়। উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটনের নেতৃত্বে দুর্যোগের শুরু থেকেই নেতাকর্মীরা পানিবন্দি মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কদলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফেজ এম এ হাশেম, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা নুরুল হুদা, পাহাড়তলী বিএনপি নেতা জাবেদ খান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার, রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লিটন মহাজন লিটু এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল শুক্কুর।

এছাড়া দিনব্যাপী পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেওয়া ও উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন যুবদল নেতা এয়াকুব বাদশা, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, ইলিয়াস জাবেদ, লিয়াকত আলী, আলমগীর, মাহবুব আলম, সোলেমান, মুরাদুল আলম, নুরুল আসাদ রিমন, বরকত চৌধুরী, এনায়েত আলী, হাসান, উছমান, মামুন, মনসুর, সাইদ, সরোয়ার, আবদুল্লাহ, রিগ্যান বড়ুয়া, আলম, মোজাফফর, আহম্মদ, ফরহাদ, মানিক ও রুবেল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আলম। পাশাপাশি উপজেলা যুবদল নেতা শাহজাহান, আবদুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, দুইজন মোরশেদ, এমদাদ, রাশেদ, সুজন, শাকিল, রবিন, বশর, সাব্বির, সালাউদ্দিন, গিয়াস, সাকিব ও বেলালসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যুবদল নেতারা জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে তাদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

শপথের পরদিনই বন্যাকবলিত ফটিকছড়িতে এমপি সরওয়ার আলমগীর, ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর।

শপথ গ্রহণের পরদিন শুক্রবার বন্যাকবলিত ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাংসদ সরওয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়ির কোনো মানুষ যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে, সে লক্ষ্যে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

দিনের শুরুতে তিনি নিজ বাড়িতে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে মাইজভাণ্ডার জিয়ারত করে সেখানে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর উপজেলার সুন্দরপুর ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান।

পরে হারুয়ালছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সাংসদ। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান, ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন কাঞ্চন, উত্তর জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

দিনের কর্মসূচি শেষে সাংসদ সরওয়ার আলমগীর ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে আসরের নামাজ আদায় করেন।

আহত বন্ধুকে দেখতে ঢাকা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল লোহাগাড়ার যুবকের

লোহাগড়া (চট্টগ্রাম) : সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক বন্ধুকে দেখতে ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার যুবক মাহবুবুল করিম আবরার (২৮)। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছোটদারোগারহাট এলাকার ভূঁইয়ার বটতলায় বিকেওয়াই জুট মিলের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহবুবুল করিম আবরার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাতঘর এলাকার মরহুম আব্দুল জলিলের বড় ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা অভিমুখে দ্রুতগতিতে চলা একটি প্রাইভেটকার হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বিভাজক (ডিভাইডার) অতিক্রম করে বিপরীতমুখী লেনে উঠে যায়। এ সময় চট্টগ্রামমুখী একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে প্রাইভেটকারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক মাহবুবুল করিম আবরার গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই এসফাকুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক বন্ধুকে দেখতে ঢাকা যাচ্ছিলেন আবরার। কিন্তু সেই বন্ধুর কাছে পৌঁছানোর আগেই তিনি নিজেই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।

কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ নুরুর আবসার বলেন, প্রাইভেটকার ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

পটিয়ায় বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় মাঠে এমপি এনাম ও প্রশাসন

পটিয়া (চট্টগ্রাম): টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। এ সময় তিনি হাঁটুপানি মাড়িয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং যেকোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান।

ত্রাণ বিতরণকালে এনামুল হক এনাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পটিয়ার বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় ত্রাণের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে পটিয়ার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অতিরিক্ত ত্রাণ বরাদ্দ চেয়ে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে, সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক, সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মঈনুল আলম ছোটন, পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম, ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর বন্যা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পটিয়ার ৩৬টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ১২০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া দুর্গত মানুষের মধ্যে ১ হাজার ৫৫টি শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস, সরকারি কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীদের প্রশংসা করলেন এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অতি ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার পৌরসভার কয়েকটি এলাকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদেরও প্রশংসা করে বলেন, তারা মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে এমপি বলেন, এখনও অনেক পাহাড়সংলগ্ন বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে প্রস্তুত রাখা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী কেউ যদি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আর কেউ নিজ এলাকায় থাকতে চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহায়তা করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পাহাড় রক্ষার বিষয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বালু উত্তোলন বন্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করেছেন। এখন অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এমপির এ পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে গত মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় একই দিনে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সকালে পাহাড়ধসে এক নারী আহত হওয়ার পর বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।

এদিকে, টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্যোগে মানুষের পাশে প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) ডেস্ক: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন। দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ সহায়তা বিতরণ, রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান এবং পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর মতো নানা মানবিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে কোনো মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পান, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। জরুরি সহায়তার জন্য প্রশাসনের হটলাইন ও ইউএনওর ব্যক্তিগত নম্বরও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এদিকে ইছাখালী আদর্শগ্রামের (গুচ্ছ গ্রাম) পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। পরে ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের পাশাপাশি ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে চাল, ডালসহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। কর্মসূচি শেষে নিহত নারীর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং টানা বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশবাসীর নিরাপত্তা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের উপজেলা ও পৌরসভা শাখার নেতারাও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিদর্শন শেষে নেতারা পাহাড়ধসে নিহত নারীর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া, এর আগে সাবেক ছাত্রদল নেতা ভিপি আনছুর উদ্দীনের উদ্যোগে পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়া চালক ও পথচারীদের মধ্যে রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ করা হয়। ভিপি আনছুর উদ্দীন জানান, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর পক্ষে তাঁর উদ্যোগে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগের এই সময়ে প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করছে। তবে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

টানা বর্ষণে এখনো রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। তাই প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণে টিন প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে রাতের রান্না করা খাবার সরবরাহ এবং রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝেও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়াবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে উল্লেখ করে রাঙ্গুনিয়াবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, পাহাড় ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালু এলাকার কাছাকাছি অবস্থান থেকে বিরত থাকা, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের নিরাপদ স্থানে রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের নিকটস্থ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত।

পোস্টের শেষে তিনি বলেন, “আপনার সামান্য সতর্কতাই রক্ষা করতে পারে একটি মূল্যবান জীবন। সকলের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আল্লাহ তাআলা রাঙ্গুনিয়াসহ সবাইকে হেফাজত করুন।”

অতিবৃষ্টিতে রাঙ্গুনিয়ায় ৯ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, দায়িত্বে কর্মকর্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা অতিবৃষ্টি ও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, অতিবৃষ্টির কারণে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হলো— পারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় (পারুয়া), ঢেমীরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (বেতাগী), বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (চন্দ্রঘোনা), পদুয়া সম্মিলনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (পদুয়া), গোদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ইসলামপুর), রহম আলী বদরুস মেহর উচ্চ বিদ্যালয় (রাজানগর), সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় (সরফভাটা), হিলাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পোমরা) এবং জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা)।

আদেশ অনুযায়ী, এসব আশ্রয়কেন্দ্রে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মোবাইল নম্বরও অফিস আদেশে সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।

এ ছাড়া উপজেলা দুর্যোগ তথ্যকেন্দ্রের হটলাইন নম্বর ০১৭১৭-৯৭৬৪০৪০১৮৪০-০৮১১০০ সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বা আশ্রয়ের প্রয়োজন হলে এসব নম্বরে যোগাযোগ করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন, বিতরণ করা হলো রাতের খাবার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানিবন্দী মানুষের সহায়তায় মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের উদ্যোগে প্রায় একশত পরিবারের মাঝে রান্না করা রাতের খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে খাবার প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করা হয়। পরে রাতেই সেগুলো উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রতিটি খাবারের প্যাকেটে ছিল ভাত, মুরগির মাংস, ডিম, সবজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। দুর্যোগে ঘরবন্দী মানুষের খাদ্যসংকট কিছুটা লাঘব করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাই দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময়ে এমন মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবের পাশাপাশি তাদের মনে সাহস ও আস্থা জোগায়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার আজ বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত করা হলো।

তবে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যাতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দেশের চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬ এর ৮ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষাসহ দেশের অন্যান্য সকল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় একই দিনে দুই পাহাড়ধস: আহতকে দেখে ফেরার পর প্রাণ গেল আরেক নারীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে একই দিনে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক নারী আহত হয়েছেন। সকালে একই এলাকায় পাহাড়ধসে আহত সরফবানুকে দেখতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারান রেনু আক্তার (৫৬)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার ইছাখালী আদর্শ গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় সকাল ও বিকেলে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকালে পাহাড়ধসে সরফবানু নামে এক নারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে একই এলাকায় আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে গাছসহ পাহাড়ের মাটি ধসে একটি বাড়ির ওপর পড়ে গেলে রেনু আক্তার চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে গাছসহ পাহাড়ের মাটি ধসে বাড়ির ওপর পড়ে। এতে এক নারী চাপা পড়ে নিহত হন। সকালে একই এলাকার আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আহত সরফবানুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, বিকেলে নিহত ওই নারী সকালে আহত সরফবানুকে দেখতে গিয়েছিলেন।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “সকাল ও বিকেলে একই এলাকায় দুটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। বিকেলের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং সকালের ঘটনায় আহত নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এর আগে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসের শঙ্কা, সতর্কতায় মাঠে ইউএনও-এসিল্যান্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করেন। এ সময় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই পাহাড়ি উঁচু-নিচু এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় ইউএনও জানান, টানা অতিবৃষ্টির ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ইউএনও: ০১৭৮৯-৭৯৬১৬০, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা: ০১৮৩২-৫১৬২৮৬, ডিজিএম, পল্লী বিদ্যুৎ: ০১৭৬৯-৪০০১০৯ এবং ফায়ার সার্ভিস: ০১৮৬০-৩৮৭১৬১

এ ছাড়া অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, গুজব বা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামালের জীবনযুদ্ধের অবসান, অনিশ্চয়তায় পরিবার

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার যুবক মো. জামাল (৩৯)। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একই দিন সকালে স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত জামাল ওই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঋণ করে ওমানে পাড়ি জমান জামাল। সেখানে কখনো এসি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ, আবার কখনো নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঋণ পরিশোধ করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়েই প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন জামাল। এতে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। পরে তাঁর শরীরে প্যারালাইসিস দেখা দেয়।

সে সময় জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানান, মাত্র দুই দিনের চিকিৎসায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে সাধারণ বিমানে আনা সম্ভব ছিল না। এজন্য প্রয়োজন ছিল ব্যয়বহুল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের।

জামালের চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে সবার সহযোগিতায় তাঁকে দেশে এনে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে তাঁর পরিবার।

 

অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে রাঙ্গুনিয়ায় সতর্কতা: আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান, জরুরি নম্বর দিলেন ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: টানা অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক জরুরি বার্তায় ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, গতকাল থেকে চলমান অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে।

নম্বরগুলো হলো— ইউএনও: ০১৭৮৯৭৯৬১৬০, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা: ০১৮৩২-৫১৬২৮৬, ডিজিএম, পল্লী বিদ্যুৎ: ০১৭৬৯-৪০০১০৯ এবং ফায়ার সার্ভিস: ০১৮৬০-৩৮৭১৬১

এ ছাড়া তিনি অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

রাঙ্গুনিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের সম্মাননা ও চারা বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাসুদ রানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহসভাপতি ওসমান গনি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাহার, সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল সালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন শাহ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার শ্রেষ্ঠ দুই সমবায়ীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে চার পরোয়ানাভুক্ত মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চারটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মাফুজের রহমান ও এএসআই (নিরস্ত্র) আবদুর রহিম সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে এস. এম. শফিকুল ইসলাম (রাশেল) (৪০) নামে এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের নজুরপাড়া এলাকার মৃত মো. বদরুজ মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ মোট চারটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এর মধ্যে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা, একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা এবং একটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার পরোয়ানাও রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালী থানা এবং রাঙ্গামাটি সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

হাটহাজারীতে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোবাইল চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আনুমানিক ৩৬-৩৭ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকিয়া এলাকার হাজি জয়নাল কোম্পানির বাড়িতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরোজা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

রোববার বিকালে এসআই আসাদ জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) খবর দেওয়া হয়েছে।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।