রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামালের জীবনযুদ্ধের অবসান, অনিশ্চয়তায় পরিবার

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার যুবক মো. জামাল (৩৯)। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একই দিন সকালে স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত জামাল ওই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঋণ করে ওমানে পাড়ি জমান জামাল। সেখানে কখনো এসি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ, আবার কখনো নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঋণ পরিশোধ করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়েই প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন জামাল। এতে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। পরে তাঁর শরীরে প্যারালাইসিস দেখা দেয়।

সে সময় জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানান, মাত্র দুই দিনের চিকিৎসায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে সাধারণ বিমানে আনা সম্ভব ছিল না। এজন্য প্রয়োজন ছিল ব্যয়বহুল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের।

জামালের চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে সবার সহযোগিতায় তাঁকে দেশে এনে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে তাঁর পরিবার।

 

অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে রাঙ্গুনিয়ায় সতর্কতা: আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান, জরুরি নম্বর দিলেন ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: টানা অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক জরুরি বার্তায় ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, গতকাল থেকে চলমান অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে।

নম্বরগুলো হলো— ইউএনও: ০১৭৮৯৭৯৬১৬০, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা: ০১৮৩২-৫১৬২৮৬, ডিজিএম, পল্লী বিদ্যুৎ: ০১৭৬৯-৪০০১০৯ এবং ফায়ার সার্ভিস: ০১৮৬০-৩৮৭১৬১

এ ছাড়া তিনি অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

রাঙ্গুনিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের সম্মাননা ও চারা বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাসুদ রানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহসভাপতি ওসমান গনি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাহার, সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল সালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন শাহ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার শ্রেষ্ঠ দুই সমবায়ীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে চার পরোয়ানাভুক্ত মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চারটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মাফুজের রহমান ও এএসআই (নিরস্ত্র) আবদুর রহিম সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে এস. এম. শফিকুল ইসলাম (রাশেল) (৪০) নামে এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের নজুরপাড়া এলাকার মৃত মো. বদরুজ মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ মোট চারটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এর মধ্যে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা, একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা এবং একটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার পরোয়ানাও রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালী থানা এবং রাঙ্গামাটি সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে রাঙ্গুনিয়ায় পল্লী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লী চিকিৎসকদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই শতাধিক পল্লী চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দুর্ঘটনাজনিত জরুরি চিকিৎসাসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এছাড়া হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক করণীয় ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শওকত হোসেন। কর্মশালায় আরও প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের শারীরিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হাসান এবং জ্যেষ্ঠ সেবিকা ওয়াইসিং মরমা ও অনিক সিকদার।

এ সময় অংশগ্রহণকারী পল্লী চিকিৎসকদের বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কেও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পার্কভিউ হাসপাতালের বিপণন ও ব্র্যান্ড বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. জাহেদুর ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মজিবুক হক মানিক।

বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে রোগীরা আরও উন্নত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

 

 

রাঙ্গুনিয়ায় নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এ মসজিদ চালু হওয়ায় এলাকার কয়েক হাজার মুসল্লির দীর্ঘদিনের স্থানসংকট দূর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাঙ্গুনিয়ার মোগলের হাট এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মুহাম্মদ আলমগীর। প্রায় তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের এই তিনতলা মসজিদ ভবনের সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বহন করেছেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী স্কলার ও ওয়ায়েজ আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জুমা ও দুই ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ধারণক্ষমতার সংকটে পড়তে হতো। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদ ভবন স্থানীয় মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান বক্তা আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী বলেন, মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আদর্শ সমাজ গঠনের কেন্দ্র হওয়া উচিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের মদিনার মসজিদের আদলে এ প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মসজিদটির ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। প্রায় অর্ধশত বছর আগে এ অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম হযরত মাওলানা আবুল খায়ের, যিনি ‘গদা মওলভী’ নামে পরিচিত ছিলেন, প্রথম এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পুরোনো ভবনে মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মুসল্লিদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়দের আবেদনের পর নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে মুহাম্মদ আলমগীর নিজস্ব অর্থায়নে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মসজিদ নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কারিগর এবং অর্থায়নকারী মুহাম্মদ আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও অর্থায়নকারীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; ভবিষ্যতে এটি রাঙ্গুনিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শন হিসেবেও পরিচিতি পাবে।

 

 

জাতি যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন দায়িত্ব নেন মেজর জিয়া: রাঙ্গুনিয়ায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিল না এবং হতাশায় নিমজ্জিত ছিল, তখন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া—এমন মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে যে নামটি জড়িত, সেটি হচ্ছে মেজর জিয়াউর রহমান। দেশমাতৃকার টানে সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন মেজর হিসেবে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন তিনি। জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিল না, তখন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না। বিগত সময়ে ভুল ইতিহাস গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের শিশু ও নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর চেষ্টা হয়েছে। ইতিহাস তৈরি করা যায় না, ইতিহাস সৃষ্টি করা হয়। সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

এর আগে মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা জিয়ানগরস্থ প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন।

পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর কেউ যেন নিজেকে দুর্বল মনে না করে, সেজন্য প্রশিক্ষণোত্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো বীরকে জাতি যাতে আজীবন শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে পারে, সে জন্য রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ, রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা, গ্রাম পুলিশদের সরঞ্জাম বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও চেক বিতরণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের (দফাদার ও মহল্লাদার) পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

পরে গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে ও উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

‘রাজনীতির কৃষক’ ছিলেন রফিক বিন চৌধুরী: স্মরণসভায় হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী, সমাজ-সংস্কারক ও দানবীর মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীকে স্মরণ করে আয়োজিত স্মরণসভায় রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “তিনি ছিলেন রাজনীতির একজন কৃষক।”

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হুমাম বলেন, একজন কৃষক যেমন জমিতে চারা রোপণ করে ধৈর্যের সঙ্গে তার পরিচর্যা করেন, তেমনি রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আস্থার চারা রোপণ করেছিলেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা ধরে রেখেছেন।

হুমাম কাদের বলেন, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে রফিক বিন চৌধুরী তাঁকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তাঁর উৎসাহেই তিনি নতুন করে মনোবল ফিরে পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রফিক বিন চৌধুরীর হাত ধরেই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজে এলেই তাঁর স্মৃতি মনে পড়ে, কারণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা তিনি রফিক বিন চৌধুরীর কাছ থেকেই পেয়েছেন।

রাজনীতিতে ধৈর্য, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে আছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মোহাং আবু হোসেন ইবনে হাশ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, দাতা সদস্য নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, কলেজের মাউশি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুহাম্মদ খোরশেদুল হক চৌধুরী রিবেল, অভিভাবক সদস্য হোসেন আলী, আব্দুল মান্নান রনি, খোরশেদ আলম এবং বোর্ড প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম।

কলেজের অধ্যাপিকা পুষ্প বড়ুয়া ও প্রভাষক আবু মহসিন মো. মঞ্জুরুল কাদেরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউনুচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আমিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজসেবক খালেদ বিন আব্দুল কাদের।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আলকাদেরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরীসহ জেলা, উপজেলা এবং রাজানগর-ইসলামপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ একরাম ও সহকারী অধ্যাপক শান্তি জ্যোতি বড়ুয়াও বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মউদুদ ইলাহী এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবু মহসিন মঞ্জুরুল কাদের।

স্মরণসভার পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালনা করেন রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর স্মরণে কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইছামতী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি করেন।

গুণীজন সম্মাননা হিসেবে রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আব্দুর রশিদ বিএ, বিএড, সহকারী শিক্ষক মরহুম সিরাজুল ইসলাম তালুকদার এবং স্থানীয় চিকিৎসক সুবোধ দেওয়ানজীকে স্মরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়া রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল বশর তালুকদার এবং রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক দানু মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথির মাধ্যমে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর হাতে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কলেজের উদ্যোগে প্রকাশিত মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর জীবন ও কর্মভিত্তিক স্মরণিকা “মহীয়ান” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

বুধবার (১ জুলাই) মাসুদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “মাসুদ চৌধুরীর হত্যার বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদেও তুলেছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি নিজেই এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমি বলেছি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাফিয়া জড়িত আছে। দেশের মানুষ জানে, এই মাফিয়া বলতে আমি বালি সিন্ডিকেটের কথাই বোঝাতে চেয়েছি।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “ আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা সংকেত দিতে চেয়েছে, আমরা যদি অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চাই, তাহলে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে।”

তিনি বলেন, “মাসুদ চৌধুরী যে শক্ত ভূমিকা রেখেছিল, প্রতিবাদ করে রাঙ্গুনিয়ায় এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চেয়েছিল, তার পক্ষ হয়ে এবং তার স্মৃতিকে ধরে রেখে আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।”

হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের তো ধরা হবেই। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো যারা টাকা খরচ করে খুনিদের ভাড়া করেছে, যারা এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী—তাদেরও ধরতে হবে। আমরা যদি বিচার চাই, তবে তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে আমরা অত বেশি আলোচনা করিনি। তবে জনপ্রিয়তার কারণে মাসুদ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবার, হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও তাকে পছন্দ করতেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যখন নির্বাচন করেছি, তখন অনেকেই বলেছিলেন, মাসুদ চৌধুরীর কারণেই তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। গত ১৭-১৮ বছর ধরে মাসুদ এলাকার মানুষের পাশে ছিল। আপদে-বিপদে সবসময় সে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন তার এই শূন্যতা আমরা সবাই অনুভব করছি। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য আরও বলেন, “দলের জন্য মাসুদ বহুবার বড় ভূমিকা রেখেছে। অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম খুঁজলে দেখা যাবে, চট্টগ্রামের বড় বড় মিছিলে তার নেতৃত্ব ছিল। চেয়ারম্যান নির্বাচনও একটি কারণ হতে পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি, বালির মহলের বিরুদ্ধে সে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ কারণেই তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”

কবর জিয়ারতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও দলটির অঙ্গসংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ (১১ জন এজাহার নামীয় এবং ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত) জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ চৌধুরীর দাফন

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মরহুম আবুল কাশেম চৌধুরীর তৃতীয় পুত্র।

বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশের উপস্থিতিতে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

দাফন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে “মুকিম চৌধুরী প্রজন্ম” পরিবার এবং “চল যাই রাংগুনীয়া” পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বচ্ছ নিয়োগে সফল রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণী, মানবিক পুলিশ হওয়ার আহ্বান ওসির

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৮ জন তরুণ-তরুণী। কোনো ধরনের ঘুষ, তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তাদের এ সাফল্য এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় নবনিযুক্তদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন এবং মিষ্টিমুখ করান। এ সময় থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নবীন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তোমরা মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের সুযোগ পেয়েছ। এই অর্জনের মর্যাদা ধরে রাখতে সততা, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করে মানবিক পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক। এখানে কোনো দালাল, তদবির বা ঘুষের সুযোগ নেই। চাকরিপ্রার্থীদের প্রতারকদের ফাঁদে পা না দিতে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

নবনিযুক্ত জয় দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশে চাকরি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা ছিল। কিন্তু এবার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তারা আনন্দিত। এ ঘটনা অন্য চাকরিপ্রার্থীদেরও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে দুর্নীতি কমবে, মেধাবীরা মূল্যায়িত হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণীর এই অর্জন সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

রাঙ্গুনিয়ায় একইদিনে দুই মৃত্যু, প্রবাসীর শেষ ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একই দিনে একই ইউনিয়নে পৃথক দুই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের ফুলগাজীপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ তানভীর হোসেন (৩০) এবং পূর্ব সৈয়দবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারের ছেলে মো. বাবর (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে বাবরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনদের দাবি, বাবর কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহের কারণে মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। তাদের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জেরেই তিনি এমন পথ বেছে নিতে পারেন। বাবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন।

অন্যদিকে একইদিন সন্ধ্যায় আরেকটি ঘটনা ঘটে। নিহত তানভীর হোসেন মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পরে বাড়ির পাশের কর্ণফুলী নদীর চরের একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তানভীরও সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী ছিলেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন এবং শিগগিরই কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তানভীর লিখেছিলেন, “আমার মৃত্যুর কারণ আমার চাচা শ্বশুর। এত বড় অপবাদ না দিলেও পারতেন। সবাই ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। ভালো থেকো প্রিয় বউ। সবকিছু শেষ আমার।”

স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর তাঁর পরিচিতদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশের নদীর চরে একটি গাছে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন দুই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাবরের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে তানভীরের ঘটনায় ওসি জানান, তানভীরের চাচা শ্বশুর তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর শাশুড়িকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে অপবাদ ছড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অভিমান করে তানভীর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এমন পথ বেছে নেন। এ ঘটনায় তানভীরের অভিভাবকদের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদের কবর জিয়ারত করে বিচার চাইলেন নেতাকর্মীরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের কবর জিয়ারত করেছেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তারা।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মধ্য বেতাগীতে গিয়ে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় দক্ষিণ রাজানগর, হোছনাবাদ, লালানগর ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত শেষে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর মাসুদকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে রাজনীতি করার সময়ই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড আরও বাড়তে পারে। মানুষ রাজনীতির প্রতি বিমুখ হয়ে পড়বে।

এ সময় বক্তারা নিহত মাসুদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।

এর আগে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থেকে রাউজানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে রাউজানের সেই স্থান পরিদর্শন করেন, যেখানে মাকসুদুল হক চৌধুরী নিহত হন। সেখানে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।

পরে মধ্য বেতাগীতে মরহুমের কবর জিয়ারত শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক মাস্টার কামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা শামসুল আলম, নুরুল আলম, জসিম উদ্দীন, রাঙ্গুনিয়া যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ সুমন, ইসমাঈল সিকদার, সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাছের টিপু, রুখন উদ্দীন, রবিউল হাসান, ইলিয়াস কাঞ্চন ও ছাত্রদলের সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ১১ জন এজাহারভুক্ত এবং ৮ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাঙ্গুনিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু রায়হান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মুহাম্মদ আনোয়ারুল আজম এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৫০০ শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৬ হাজার শিশুকে একটি করে লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৩৬১টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ স্থগিত, ৬ দফা দাবি গ্রাহকদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাস এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লালানগর পল্লী বিদ্যুৎ সচেতন গ্রাহক সমাজের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ, গ্রাহকসেবায় নানা অসঙ্গতি এবং বিল পরিশোধে ভোগান্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ বিল কমানো, ভুতুড়ে বিল বন্ধ, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া প্রত্যাহার, গ্রাহকদের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভন আচরণ নিশ্চিত করা, দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আলমশাহপাড়া মাদ্রাসা শাখায় পূর্বের মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা।

এছাড়া ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধেও গ্রাহকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পরে প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার সকালে তা স্থগিত করা হয়।

তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে: বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। মেধা, সততা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।”

বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা” স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপক) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর যৌথ আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অংশ নেয়। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির টানটান লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয় বিআইজেডএইচ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রতিযোগিতা শেষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এ কে এম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোরশেদুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রানী গোপ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা এবং রাঙ্গুনিয়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি অসীম কুমার শীল ও মোঃ নুরুল আবছার।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় বিক্ষোভের ঘোষণা, অভিযোগ যাচাইয়ের আশ্বাস পল্লী বিদ্যুতের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার আলমশাহ পাড়া এলাকা থেকে “এম এ জাব্বার কম্পিউটার” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

লাইভে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি হাতে একটি পত্রিকার কপি দেখিয়ে বলেন, সংবাদপত্রে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমার খবর প্রকাশিত হলেও গ্রাহকদের হাতে আসা সাম্প্রতিক বিল তাদের দাবি অনুযায়ী আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ১০টায় আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসার প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে জানান তিনি।

লাইভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ও “এম এ জাব্বার কম্পিউটার” আইডির সত্ত্বাধিকারী মো. দিদারুল আলম কয়েকজন ভুক্তভোগীর মতামত তুলে ধরেন।

স্থানীয় কুলিং কর্নার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাবু জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৬৩৭ টাকা, যা এ মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২৬ টাকায়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও বিল কেন এত বেড়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চান তিনি।

একই লাইভে রিকশাচালক আবুল কালাম অভিযোগ করেন, আগে কখনো তার বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার বেশি আসেনি। কিন্তু চলতি মাসে তার বিল এসেছে ৪ হাজার ৭৯৭ টাকা। এতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিমসহ আরও কয়েকজন গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দাবি করেন এবং বিদ্যুৎ বিল কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, শুধু ওই লাইভ ভিডিওতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে একাধিক ব্যবহারকারী পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। অনেকেই তাদের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রকাশ করে অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ তুলেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফায়সাল হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদে বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধির প্রভাবে অনেক গ্রাহকের বিল বেড়েছে।

তিনি জানান, চলতি মাসে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছানো বিল মূলত গত মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণে ইউনিট খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব জুন মাসের বিলে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহক যদি মিটারের প্রদর্শিত রিডিং ও বিলে উল্লেখিত রিডিংয়ের মধ্যে অসঙ্গতি পান, তাহলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে কোনো হয়রানি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজিএম ফায়সাল হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে অফিসে এসেছেন। তাদের বিষয়গুলো যাচাই করে সমাধান দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকেই অভিযোগ করতে এসে নিজেদের ভুলও বুঝতে পেরেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, বিক্ষোভ করার প্রয়োজন নেই। যাদের বিল নিয়ে সমস্যা রয়েছে তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট অফিসে এসে বিষয়টি জানালে দ্রুত যাচাই করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে অভিযোগ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চালু হলো নতুন ইউনিফর্ম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা, শৃঙ্খলাবোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহজে শনাক্ত করার লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ইউনিফর্ম পরিধান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর ফলে উপজেলা পরিষদে আগত সেবাপ্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন এবং সেবা গ্রহণে আরও সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারি দপ্তরে সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসেবামুখী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ইউনিফর্ম চালুর মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে উপজেলা প্রশাসন আশাবাদী।

উপজেলা প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিফর্ম ব্যবস্থা সরকারি সেবাকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২ বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২২ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এলাকার একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সকালে সিএনজি অটোরিকশা চালক শ্যামল দাশ গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর এবং পরিবারের অন্য সদস্য কিস্তির টাকা দিতে বাইরে গেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তারা ফিরে এসে দেখেন, ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তর পারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অসীম দাশ এবং সিএনজি চালক শ্যামল দাশের বেড়া ও টিনের তৈরি দুটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলের সড়ক অত্যন্ত সরু হওয়ায় খবর পেয়েও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দিদারুল আলম জানান, এ ঘটনায় দুই পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি আর্থিকভাবে খুব একটা স্বচ্ছল নয়। তিনি বলেন, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে ঘরগুলো বেড়া ও টিনের তৈরি হওয়ায় খুব অল্প সময়েই সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উত্তর জেলা ছাত্রদল কমিটিতে রাঙ্গুনিয়ার ব্যাপক প্রতিনিধিত্ব

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দীর্ঘ এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ হয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কমিটি। আকার বৃদ্ধির পর এ কমিটির সদস্য সংখ্যা এখন ৩৮২ জন। নবঘোষিত এ কমিটিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একাধিক নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১৮ জুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলেও গত শুক্রবার তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত বছরের ৩ জুন তকিবুল হাসান চৌধুরী তকিকে সভাপতি ও সারোয়ার হোসেন রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, রাঙ্গুনিয়া থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. গিয়াস উদ্দিন, সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. আবু বক্কর, সাইফুদ্দীন তালুকদার, হেলাল আহমেদ, মো. কামাল আহমেদ, গাজী নিজাম উদ্দিন, আবদুর রহমান, মো. ইব্রাহিম তালুকদার।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন মো. রাশেদুল ইসলাম, মো. আবদুল মান্নান, তাহানিয়াজ মোরশেদ তোহা, নাহিদুল ইসলাম ফয়সাল, মোঃ লোকমান গনি, মো. শহিদ উল্লাহ তালুকদার, মোঃ শওকত আলী, মীর জুবাইদুল ইসলাম রানা ও সাইদুর রহমান তালুকদার (সাহেদ)।

সহ সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস, মোঃ নাসের, রাশেদুল ইসলাম, মোঃ রাকিবুল হাসান, মোঃ মাসুদ সাকু, সাইদ হোসেন মাসুদ, ইঞ্জি. জাহেদ হোসেন, মোঃ নাছের উদ্দিন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ইঞ্জি. শাহাদাত হোসেন হেলেন, মোঃ কাউসার আলম ও শরফুদ্দিন ফরমান।

সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন আরিফুল ইসলাম, আরজু ইসলাম রানা, মোঃ আরশাদুল ইসলাম আশাদ ও কফিল উদ্দিন চৌধুরী। সহ প্রচার সম্পাদক পদে রয়েছেন ওসমান গণি।

এছাড়া সম্পাদকীয় বিভিন্ন পদে রাঙ্গুনিয়া থেকে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ ওয়াহিদ (সমাজসেবা সম্পাদক), এহসানুল হক রাকিব ও মোঃ রিমন (সহ সমাজসেবা সম্পাদক), মোঃ আবুল বায়ান তালুকদার (সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক), জুনায়েদ হোসেন (সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), ডা. মেহসাব বিন নাজের মাহিন (সহ স্বাস্থ্য সম্পাদক), মোঃ জমির (সহ পাঠাগার সম্পাদক), মোঃ ইমরান (সহ ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক), সাইফুল ইসলাম (সহ শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক), শাহাদাত হোসেন (সহ বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক), ইসমাইল হোসেন (গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক), মিজানুর রহমান (সহ সমবায় বিষয়ক সম্পাদক), মোঃ সালাউদ্দিন (সহ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক), মোঃ রিয়াদ (গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক) ও সাইফুল হক (সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক)।

এছাড়া সদস্য পদে রাঙ্গুনিয়া থেকে স্থান পেয়েছেন মোঃ পারভেজ, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল আল জুবায়ের, তারেক হোসেন মিমু চৌধুরী, রোহান সুলতান ও সালমান সাঈদ।

অন্যদিকে কমিটির বিভিন্ন পদে অন্যান্য উপজেলা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন।

নবঘোষিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ঘিরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় পানির ট্যাংক বসাতে গিয়ে প্রাণ গেল ইলেকট্রিশিয়ানের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পানির ট্যাংক বসানোর কাজ করতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে নুরুল বশর বাহাদুর (৫৮) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দীঘিরপাড় এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল বশর বাহাদুর পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সকালে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবদুল করিমের বাড়িতে যান। সেখানে ভবনের ছাদে পানির ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলাকালে হঠাৎ ছাদের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নুরুল বশর বাহাদুর উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মাওলানা সৈয়দ আহমদ হোসেনের তৃতীয় ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক।

এ বিষয়ে লালানগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। জানতে পেরেছি, তিনি কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। পরে একই দিন নামাজে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, হাসপাতালে একজন ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে থানায় কেউ অবগত করেনি।

কৃষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রাঙ্গুনিয়ায় ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি মেলা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইমরুল কায়েস জানান, ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলায় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন কৃষি উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে।

এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ “ক্লাইমেট স্মার্ট স্কুল অ্যান্ড ক্লাব কর্নার”, যেখানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য জলবায়ু সহনশীল কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (ডিএই পার্ট)।

আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ মেলা কৃষকদের মধ্যে আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও টেকসই করতে সহায়ক হবে।

মাসুদ হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা জানালেন হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

পোস্টে হুমাম কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পোস্টে নিহত মাসুদুল হক চৌধুরীকে বেতাগী ইউনিয়নের পরিচিত মুখ উল্লেখ করে হুমাম কাদের বলেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাসুদুল হক চৌধুরী তার বাবা মরহুম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন।

গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় সশস্ত্র হামলায় নিহত হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। এ ঘটনায় রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলনমেলা, শান্তিপূর্ণভাবে খেলা উপভোগের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আর্জেন্টিনা ফুটবল সমর্থকদের মিলনমেলা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির দেশ আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেক কেটে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। এসময় শতশত আর্জেন্টিনা সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের হরিণ গেইট পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা আবারও বিজয় অর্জন করবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। তবে খেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা কটুক্তি করা যাবে না। ব্রাজিলসহ অন্যান্য দলের সমর্থকদের প্রতিও সম্মান দেখিয়ে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে খেলা উপভোগ করেন।”

তিনি আরও বলেন, “খেলা আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়। সেই শিক্ষা বাস্তব জীবনেও অনুসরণ করা উচিত। সবাই যেন নেশা ও জুয়া থেকে দূরে থাকি।” এসময় তিনি উপস্থিত ভক্তদের হাত উঁচিয়ে নেশা ও জুয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, “মেসির মতো খেলোয়াড়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক। আগের প্রজন্ম যেমন ম্যারাডোনার ভক্ত ছিলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মেসিকে অনুসরণ করেই আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছেন।”

আয়োজকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এ আয়োজনে অংশ নেন। তরুণ সমাজকে মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুন রাঙ্গুনিয়ায় ব্রাজিল ফুটবল সমর্থকদের উদ্যোগে ‘ফ্যান গেট-টুগেদার ২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী মিলনমেলা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ড্রিম রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে নিবন্ধিত ব্রাজিল সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খ্রিস্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন সিকদার ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানসহ আরও অনেকে।

দিনব্যাপী আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ম্যাচ প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ, মিনি গেমস ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতেই এ আয়োজন করা হয়েছিল।

রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা, আসামি ১৯

চট্টগ্রাম : রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) হত্যা ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এর আগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানোর সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান মাসুদুল হক। এরপর হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রথম দফায় গুলি চালিয়ে চলে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসে তাকে গুলি করা হয়। পরে হামলাকারীরা অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন। তাঁর হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, জননিরাপত্তায় সমন্বিত কাজের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা সোমবার (১৫ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আক্তার, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শওকত আলী নুর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল শাহ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরীসহ কমিটির আরও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাদক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাম পুলিশের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়।

এ সময় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সচেতন মহলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সভা শেষে সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীর স্মরণে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সময় তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

রাঙ্গুনিয়ার সেই যুবদল নেতার জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, খুনিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে। শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন উপস্থিত অনেকে।

রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের নিজ এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দুপুরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষেরও সমাগম ঘটে।

জানাজার আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এ সময় তারা মরহুমের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা বলেন, “মাসুদ দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যু দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”

তারা আরও বলেন, “দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও যদি একজন যুবদল নেতা প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন, তাহলে সাধারণ নেতাকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়বেন।”

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বক্তারা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের শনাক্ত করা গেলেও ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ সময় তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা মো. মাকসুদুল হক চৌধুরী ওরফে মাসুদকে (৪৫)। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মরহুম খালেক চৌধুরীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ধারণা, বালু ব্যবসা ও দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

মাসুদকে গুলি করার খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সময় মাসুদ চৌমুহনী বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সিএনজি অটোরিকশাযোগে আসা চার থেকে পাঁচজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এর আগে, হত্যার খবর মুহূর্তেই রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। কাপ্তাই আঞ্চলিক সড়কের রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এবং রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। দুপুরের পর থেকে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে মানবিক কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। পরে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

নিহত মাসুদের ভাই ও বেতাগী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।”

উল্লেখ্য, ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ সময় নিহতের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনিও।

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা: জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে এসপির আশ্বাস

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশ্বাস দেন।

এসপি মো. মাসুদ আলম জানান, রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ চৌধুরীকে প্রকাশ্যে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ, র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ কী, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কেন এটি ঘটানো হয়েছে—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কিছুটা সময় লাগলেও জড়িতরা যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ সুপার জানান, যেভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে তদন্ত কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে।

শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫)। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপনের ভাই এবং মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যা: রাঙ্গুনিয়াজুড়ে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় রাঙ্গুনিয়াজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড সৃষ্টি করে সড়ক অবরোধ করেন যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

নিহত মাসুদ চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপনের ভাই বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরের দিকে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাঙ্গুনিয়া–কাপ্তাই সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন নেতা-কর্মীরা। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।

সড়ক অবরোধের কারণে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাসুদ চৌধুরীকে মাথায় গুলি করা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে আছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”