রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে একাধিক দোকান, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি দাবি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দোকান ও একটি দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজারের বগাবিলি রোড সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও গিফট আইটেম বিক্রি করা হতো। ইয়াছিন আরাফাতের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রফিক স্টোরের স্বত্বাধিকারী রফিক জানান, অগ্নিকাণ্ডে কাপড়, ক্রোকারিজ, লেপ-তোশক ও মুদি দোকানসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একজন দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১টি দোকানের ৯ জন মালিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

রফিক বলেন, আগুনে তার নিজের দোকানের প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার থেকেও কোনো মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যবসায়ীর ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন—রফিক, রাশেদ, শফি, জাকের, ইয়াছিন আরাফাত, একরাম, মহিউদ্দিন, নান্টু ডাক্তারসহ আরও একজন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পরে ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। তিনি জানান, পাশের রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসার খবর পাওয়ার পর তারা ফিরে যান।

কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আরমান উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকানে আগুন দেখতে পান এবং ওই তিনটি দোকানের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, ওই তিনটি দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ৩০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে শুধু ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান ও একটি দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে দাবি তাদের।

রাঙ্গুনিয়ায় স্টক রেজিস্টার ও ট্রেড লাইসেন্সে অনিয়ম: তিন চালকলকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট এলাকায় তিনটি চালকলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় তিনজন অভিযুক্তকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে কাউকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাঙ্গুনিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতু বলেন, তিনটি চালকলে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে। মজুদ ও বিক্রির সঠিক তথ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় স্টক রেজিস্টার রাখা হয়নি। এছাড়া কয়েকটি চালকলের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এসব অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় ইয়াবা ও চোলাই মদসহ চারজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক অভিযানে ১০ পিস ইয়াবা, ১০০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ ও মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পারুয়া এলাকা থেকে মো. জুয়েল রানা (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, হোছনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আবছার উদ্দীন (২৮), টিপু সরদার (২৬) ও হৃদয় দাশকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দখল থেকে ১০০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাদকসহ আটক ব্যক্তিকে ছাড়াতে গেলে তদবিরকারীর বিরুদ্ধেও একই মামলা: এমপি  হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ র‍্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরেই সবাই জানতেন মাদকবিরোধী একটি র‍্যালি ও সমাবেশ হবে। আমার ধারণা ছিল, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাহেব আসবেন বলে অনেক যুবক এখানে উপস্থিত হবেন। কিন্তু কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, মাদকবিরোধী এ কর্মসূচিতে বেশিরভাগ উপস্থিত হয়েছেন ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষ। তরুণদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।”

তিনি বলেন, “এর পেছনেও একটি কারণ আছে। অনেক তরুণই জানে তাদের আশপাশে কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাই হয়তো তারা এসব বক্তব্য শুনতে এসে অস্বস্তি বোধ করে। যেহেতু এখানে মুরব্বিদের বেশি পেয়েছি, তাই তাদের বলছি—এখন দায়িত্ব আপনাদেরও।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “প্রায়ই থানা থেকে আমাকে জানানো হয়, কিছু যুবককে ইয়াবা, গাঁজা বা মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু একই সময়ে দেখা যায়, পরিচিত অনেকেই তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন। এটাই বাস্তবতা। আজ আমি যদি এটা স্বীকার না করি, কাল আপনারাই আমাকে সমালোচনা করবেন।”

তিনি বলেন, “আজ আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই। থানায় এখন স্ট্যান্ডিং অর্ডার হচ্ছে —মাদক নিয়ে কেউ ধরা পড়লে এবং তাকে ছাড়ানোর জন্য কেউ তদবির করতে গেলে, তার বিরুদ্ধেও একই মামলা দায়ের করা হবে।”

বালু উত্তোলনের বিষয় উল্লেখ করে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “গতকাল একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলেন, তিনি ছয়-সাত মাস আগে বালুর ব্যবসায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন সেই বালু জব্দ রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন ব্যবস্থা করে দিই, যাতে বালু বিক্রি করে তিনি তার টাকা ফেরত পান। তিনি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং হয়তো ভাবলেন, একটু অনুরোধ করলে বালু ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “চেহারাটা নরম, কিন্তু যেদিন বাবাকে দাফন করেছি সেদিন থেকে কলিজাটা শক্ত হয়ে গেছে। এখন আর এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”

মাদকের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার যতই কাছের মানুষ হোক না কেন, যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার প্রতি কোনো ধরনের দয়া বা ছাড় থাকবে না।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে সব উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি, সমাবেশ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মাদকের কুফল সম্পর্কে সবাই জানার পরও অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবী ও বহনকারীদের ধরা গেলেও মাদকের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বিদেশ থেকে যারা এসব সরবরাহ করছে, তারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তাই মাদকের পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে কি না, সন্ধ্যার পর কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে আমরা অনেক সময় খোঁজ রাখি না। একইভাবে প্রতিবেশী হিসেবে সামাজিক দায়িত্বও পালন করি না। ফলে মাদক সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি মাদককে ‘সব অপরাধের মা’ আখ্যায়িত করে বলেন, “মাদক থেকেই খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্ম হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে মাদকের কারণে সন্তান নিজের মা-বাবাকেও হত্যা করতে পারে, সেই মাদকের বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় নিজের পরিবারও নিরাপদ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।”

র‍্যালি ও সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে স্টুডেন্ট সোসাইটি অব চট্টগ্রাম। সংগঠনটির উদ্যোগে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এ শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুক্রবার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় প্রথম দফায় ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সকাল ১০টায় কুষ্ট হাসপাতাল গেইট এলাকায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুমপাড়া ও বনগ্রাম স্কুলসংলগ্ন এলাকাসহ ইউনিয়নের একাধিক পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল করিম, নয়ন, মো. ওমর ফারুক, সাংবাদিক কবির হোসেন, সাংবাদিক শান্তি রঞ্জন চাকমা, ইন্দ্র কুমার চাকমা, নিশি কুমার চাকমা, ভগিরত চাকমা এবং কাইলা বলি চাকমা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম পারভেজ, মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ, সাকিন বড়ুয়া, ইসপাত আহমেদ, সাকাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দ্বিতীয় ধাপে চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আরও বিভিন্ন এলাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতু জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বাসি খাবার পুনরায় বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুটি খাবার হোটেলকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা এবং একটি খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি মামলায় এ অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানে মোট তিনজন অভিযুক্তকে দণ্ডিত করা হলেও কোনো কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল মান্নান (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ বজলুর রহমান বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মান্নান একই এলাকার নূর আহমেদের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোজাম্মেল (৪৫) একই এলাকার মো. ছুফির ছেলে বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, সকালে একটি বিয়েসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত মোজাম্মেলের সঙ্গে নিহতের চাচাতো ভাইয়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাজারে মান্নানের চাচাতো ভাইকে হত্যার হুমকি দেন মোজাম্মেল। এ সময় মান্নান এর প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।

স্বজনদের অভিযোগ, এরই জেরে রাত ৮টার দিকে এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মান্নানের ওপর পেছন দিক থেকে হামলা চালায় মোজাম্মেল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি হামলাকারী হিসেবে মোজাম্মেলের নাম উল্লেখ করেন বলে জানান স্বজনরা।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকার একটি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল বলেন, “পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় এলে মামলা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

মানুষের সহযোগিতা ও হাসপাতালের ছাড়ে মিজানের মরদেহ বাড়ির পথে

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দীর্ঘ নয় মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মো. মিজানুর রহমানের (৩৫) মরদেহ অবশেষে হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতার আহ্বানের পর সংগৃহীত অর্থ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিশেষ ছাড়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে তার মরদেহ বুঝে পেয়েছেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে দলীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

মিজানের ভাই মো. এনাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল তার। কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ করার পর মঙ্গলবার ভোরে চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

মিজানের মৃত্যুর পর হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে সংকটে পড়ে পরিবারটি। পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দ।

পরে একইদিন রাত ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, সহযোগিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেটুকু অর্থ হাতে আসে, তা নিয়ে তারা হাসপাতালে যান। সেখানে মিজানের পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও তার সহধর্মিণীও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে মিজানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সহযোগিতা করেন। হাসপাতালের হিসাবে বকেয়া ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ বুঝে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য রাতে লাশবাহী গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান ইমাম হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, মিজানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য স্থানীয় ও দেশ-বিদেশের মানুষের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ।

অন্যদিকে হাসপাতালে যাওয়া নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সংসদ সদস্য, তার সহধর্মিণী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে মিজানের মরদেহ আনতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ইমাম হোসেন চৌধুরী, লালানগর যুবদলের আহ্বায়ক এম এইচ সুমনসহ লালানগর ও হোসনাবাদ ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত রয়েছেন।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন থেকে হাসপাতালে যাওয়া নেতৃবৃন্দ জানান, মিজানের চিকিৎসা ও মরদেহ বাড়িতে আনার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়ার পর কে কত টাকা সহযোগিতা করেছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কত টাকা ছাড় দিয়েছে—এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মিজানের নিজ গ্রামের মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

মিজানের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের পাশাপাশি দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকটও রয়ে গেছে। স্বজনরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা যায়, চিকিৎসাকালীন সময়ে হাসপাতালের মোট বিল প্রায় ৩১ লাখ টাকা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালের হিসাবে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেওয়ায় এবং সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মিজানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।

৯ মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে মিজানের মৃত্যু, ২২ লাখ টাকা বকেয়া; মরদেহ আনতে প্রয়োজন অর্থ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘ নয় মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মো. মিজানুর রহমান (৩৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মিজানুর রহমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।

নিহতের ভাই মো. এনাম জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে মিজানের কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে কেমোথেরাপির চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা বিল বাবদ প্রায় ২২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে সংকটের কারণে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

মিজানের চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পরও বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের কারণে নতুন করে আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ বাড়িতে এনে যথাযথভাবে দাফন সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা।

এদিকে মিজানের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশ-বিদেশে থাকা হৃদয়বান ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে নগদ সহায়তা ও প্রতিশ্রুত অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে বলে জানিয়েছেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরী।

ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, মিজানের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করতে আরও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

মিজানের পরিবার তার মরদেহ দ্রুত বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাংক এশিয়ার রেমিট্যান্স সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্যোগে ‘রেমিট্যান্স সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে অবস্থিত দক্ষিণ রাজানগর ইউডিসি এজেন্ট পয়েন্টে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. মতিউর রহমান উপস্থিত গ্রাহক ও অতিথিদের রেমিট্যান্স সুরক্ষা, নিরাপদে রেমিট্যান্স লেনদেন এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত গ্রাহকদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স সেবা ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়ে মতামত গ্রহণ করা হয়। গ্রাহকরা সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

কর্মশালায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিরাপদে গ্রহণ, গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈধ ও নিরাপদ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আরও সহজ ও মানসম্মত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

কর্মশালায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্যোক্তাসহ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ মাসের এডহক কমিটি, সভাপতি ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছয় মাসের মেয়াদে এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম।

২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বোর্ডের স্মারকে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রবিধানমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুমোদিত কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত সভাপতি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম মিজানুর রহমান পদাধিকারবলে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন সিকদারকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য এবং সাংবাদিক মো. আব্বাস হোসাইন আফতাবকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য করা হয়েছে।

স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবিধানমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি ম্যানেজিং কমিটির সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবে।

চোখ বন্ধ রাখলে কাল আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হবে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে এএসপি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা বাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‍্যালি ও সমাবেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের ধরছি এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে শুধু গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবার থেকেই শুরু করব। প্রতিটি পরিবার যদি মাদকমুক্ত থাকে, তাহলে পাড়া-মহল্লা মাদকমুক্ত হবে। এভাবে ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসময় পুরো দেশকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’

পোমরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, পোমরাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মাদক নির্মূলে বড় ধরনের সফলতা আসবে।

তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণ প্রজন্ম যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সহযোগিতার প্রশংসা করে এএসপি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ছাড়িয়ে নিতে কোনো পর্যায়ের কেউ তদবির করেননি। এটি অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক বিষয়। আমরা আশা করি, অভিযান চলাকালে কেউ কোনো মাদকসেবী বা মাদক কারবারির পক্ষে থানায় কিংবা অন্য কোথাও অবৈধ তদবির করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ হয়তো আপনার পরিবার মাদকে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু আপনার পাশের একজন আক্রান্ত হয়েছে। আপনি যদি চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন—কাল আপনার সন্তান বা আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিজের পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’

সমাবেশে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গোচরা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

পাহাড়ধস ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়ার ৮০ পরিবার পেল ঢেউটিন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : পাহাড়ধস ও অতিবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় থাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ৮০ পরিবার পেল ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন। প্রতিটি পরিবারকে এক বান করে মোট ৮০ বান ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এসব ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢেউটিন বিতরণ করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার নাজনীন সেতু, জেলা বিএনপি নেতা অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, আজম খাঁন, শওকত আলী নুর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন শাহ, জেলা যুবদল নেতা ও ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির আজীবন সদস্য আবুল কালাম আজাদ খাঁনসহ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, গত জুলাই মাসে টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অসহায় ও নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বসতঘর মেরামত নিয়ে সংকটে পড়ে। অর্থের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর সংস্কার করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল এসব পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির অর্থায়নে এ ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢেউটিন পাওয়ায় পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মা হারানোর পর বাবার কষ্টে বেড়ে ওঠা, ১১ বছরেই পানিতে ডুবে সায়েদের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শিলক খালের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ সায়েদ হোসেন (১১) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সায়েদ হোসেন পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুধপুকুরিয়া এলাকার আবছার হোসেনের ছোট ছেলে। সে দুধপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে খেলতে বের হয়েছিল সায়েদ। পরে বাড়ি ফেরার পথে তীব্র গরমের কারণে স্টিল ব্রিজ দিয়ে না গিয়ে শিলক খাল সাঁতরে পার হয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে সে। একপর্যায়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় শিশুটি।

পরে স্থানীয়রা খালে খোঁজাখুঁজি করে সায়েদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা তারেক চৌধুরী জানান, সায়েদের বয়স যখন মাত্র ৪০ দিন, তখন তার মা মারা যান। এরপর বাবা আবছার হোসেন কাঠুরিয়ার কাজ করে অনেক কষ্টে তিন ছেলেকে বড় করে তুলছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সায়েদ ছিল সবার ছোট।

তারেক চৌধুরী বলেন, ‘অবুঝ এই শিশুটি মাত্র ১১ বছর বয়সে পানিতে ডুবে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।’

সায়েদের অকালমৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় মাদক সেবনের অভিযোগে যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অভিযোগে আবু মুছা (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, পিপিএমের দিকনির্দেশনায় এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক সেবনের অভিযোগে আবু মুছাকে আটক করা হয়।

আবু মুছা পূর্ব সরফভাটা এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা শেষে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মো. শাহিন মিয়া, এএসআই মো. ইসমাইল হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর পোমরা ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন (৩৫) উপজেলার পশ্চিম পোমরা, বুড়ির দোকান এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এসআই দেলোয়ার হোসেন, এসআই নাজমুল হাসান, এএসআই মো. আবদুর রহিম, এএসআই রুহুল আমিনসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেয়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়ায় ধর্ষণ মামলার ২ ঘণ্টার মধ্যে একমাত্র আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি মো. ফজলু আলমকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মাদ্রাসায় ফেরার পথে ফজলু আলম তাকে মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নেন। পরে শিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা রুজুর পর রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। পরে থানার এসআই মিজানুর রহমান, এসআই মাহফুজুর রহমান, এসআই আবু নাসের, এএসআই আব্দুর রহিম, এএসআই কিংকর, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. আলমগীরসহ পুলিশ সদস্যরা রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান।

অভিযানের একপর্যায়ে মামলার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফজলু আলমকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের স্বপ্নে দুর্বৃত্তের হানা, উপড়ে ফেলল পুরো কুমড়ার ক্ষেত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের মিষ্টি ও চাল কুমড়ার পুরো ক্ষেত উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতল কাতালশাহ পাড়ার উত্তর পাশের পাহাড়ি ঢালু জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুর মৌজার বাপের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি গাবতল কাতালশাহ পাড়ার উত্তর পাশে প্রায় ৩৬ শতক জমিতে মিষ্টি ও চাল কুমড়ার চাষ করেছিলেন।

কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তিনি ওই জমিতে কুমড়া চাষ শুরু করেন। গাছ বড় হওয়ার পর মাচা তৈরিতে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রায় ৬০টি বীজতলা থেকে শতাধিক গাছ সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছিল। শিগগিরই গাছগুলোতে ফুল ও ফল আসার কথা ছিল।

তবে বুধবার রাতে কে বা কারা অজ্ঞাত কারণে ক্ষেতের সব গাছ মাটি থেকে উপড়ে ফেলে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতে গিয়ে পরম যত্নে গড়ে তোলা সব গাছ ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকলে আমার সঙ্গে থাকতে পারে, কিন্তু আমার এই অবুঝ ক্ষেতের সঙ্গে কীসের শত্রুতা? কয়েকদিন আগে ধার করে টাকা এনে ক্ষেতে সার দিয়েছি। দেড় মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ক্ষেতটি গড়ে তুলেছিলাম। অথচ এক রাতেই তারা আমার সব শেষ করে দিল। এতে আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে এমন কাজ করতে পারে! আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক পরেই গাছগুলোতে ফুল ও কুমড়া আসার সময় ছিল। তার আগেই ক্ষেতের গাছগুলো এভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিটন দাশ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও লেখার দক্ষতা বিকাশে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল। প্রতি তিন মাস পরপর দেয়ালিকা প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার আলমশাহপাড়া কামিল মাদ্রাসার হলরুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একই দিন তিনি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের দেয়ালিকা উদ্বোধন করেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রতি তিন মাস পরপর দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদ্রাসার শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি মাদ্রাসার আরবি ক্লাব ও ইংরেজি ক্লাব পরিদর্শন করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ৮০ উপকারভোগীর মাঝে কারিতাসের অনুদান বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কারিতাসের সিএমএলআরপি প্রকল্পের আওতায় চারটি ইউনিয়নের ৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে দুই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে একটি হুইলচেয়ার ও এক জোড়া ক্রাচ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৮০ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং অপরজনকে ক্রাচ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক চয়ন হিউবার্ট রিবেরু।

কারিতাসের সিএমএলআরপি প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মো. এমদাদুল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ, উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুকুমার তালুকদার, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ রাঙ্গুনিয়ার সমন্বয়কারী মো. ইয়াহিয়া, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী।

এ সময় কারিতাস রাঙ্গুনিয়ার এরিয়া ম্যানেজার বিজন কান্তি দে, মাঠ কর্মকর্তা গৌরী ভট্টাচার্য, এনিমেটর ছাইথোয়াই মামা, প্রিয়তোষ তঞ্চঙ্গ্যা ও মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আওতাধীন চারটি ইউনিয়নের ৩০ জন উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙ্গুনিয়ায় খালে মাছ ধরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন কৃষক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে কুরমাই খালে ডুবে মো. বখতিয়ার হোসেন (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদ তালুক এলাকার কুরমাই খাল থেকে স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত বখতিয়ার হোসেন দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জিন বাড়ির রমজান আলীর ছেলে। পেশায় কৃষক হলেও তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। তাঁর ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বখতিয়ার বাড়ির অদূরে পাহাড়ি এলাকায় তাঁর নিজের খামারে যান। সেখানে কৃষি প্রকল্প ও দুটি গরুর দেখাশোনার পাশাপাশি প্রতিদিনের মতো কুরমাই খালে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে নামেন। মাছ ধরার একপর্যায়ে তিনি নিখোঁজ হন।

স্থানীয় মোহাম্মদ ইলিয়াস কবির জানান, বখতিয়ার হোসেনের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত শারীরিক জটিলতা ছিল। মাছ ধরার সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবার অগোচরে তিনি খালে পড়ে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খালের পাড়ে তাঁর খাবারের বাটি ও ছাতা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বুধবার বিকেল থেকে তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে কুরমাই খালে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাঁরা খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

বখতিয়ার হোসেনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) জামে মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ছাদেকের পাড়া এলাকার পুরোনো বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।

মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের জন্য প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা দিলেন রাঙ্গুনিয়ার ওসি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আয়োজিত সমাবেশে মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের সতর্ক করে বলেন, “যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, এটিই তাদের জন্য প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা।”

তিনি বলেন, “মাদকসেবীর কোনো স্থান নেই, মাদক বিক্রেতার কোনো স্থান নেই, ইভটিজারের কোনো স্থান নেই। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হলে সমাজে কোনো অপরাধী মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

ইভটিজিং প্রতিরোধে স্থানীয়দের আরও সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, “স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেউ হয়রানি করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানেই ইভটিজিং হবে, সেখানেই আপনাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।”

সমাবেশে বক্তব্য দেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক মুবিনুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম সাজু, জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহনিয়াজ মোরশেদ তোহা, উপজেলা জিসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সোহেল, নেজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জনসচেতনতামূলক এ র‍্যালি ও সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতী থেকে বালু উত্তোলনের সেই ড্রেজার জব্দ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল দক্ষিণ পাড়া সংলগ্ন তুলাতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।

বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন নবাগত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু। অভিযানে রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান জানান, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে একই দিন দুপুরে ‘রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের নীরবতায় ইছামতী থেকে বালু উত্তোলন’ শিরোনামে একুশে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে লালানগর ইউনিয়নের তুলাতলা এলাকায় মেশিন বসিয়ে ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের ক্ষোভের বিষয়টি উঠে আসে।

পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে এবং বিকেলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইছামতী খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে খালের তীর, আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়া টুডে/প্রতিবেদক

রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজনের প্রস্তুতি সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান।

সভায় প্রতিযোগিতা দুটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, খেলার মাঠ প্রস্তুত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয় এবং প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই ফ্রিজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে চোরাই যাওয়া একটি ফ্রিজ উদ্ধারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার এসআই আবু নাছের সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে রাকিব আহাম্মদ (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাই যাওয়া ওয়ালটন কোম্পানির একটি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ফ্রিজটির আনুমানিক মূল্য ২২ হাজার টাকা।

গ্রেপ্তার রাকিব আহাম্মদ রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম, আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. রুহুল আমিনের ছেলে।

অন্যদিকে, এএসআই বায়েজিদ মোল্লা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিনের একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সুজনকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তার মো. সুজন রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুফি পাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত নুর আলমের ছেলে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে স্কুলে পোমরা শহীদ জিয়ানগর, মাদ্রাসায় নূরুল উলুম, ভোকেশনালে সরফভাটা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় এসএসসিতে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল এবং ভোকেশনালে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে রয়েছে।

উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।

এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে থাকা পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জনের মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরেই রয়েছে পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন, উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন এবং রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এদিকে, উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

দাখিলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল। এ প্রতিষ্ঠানে ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল থেকে ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন এবং রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ এবং ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

ভোকেশনালে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ভোকেশনালে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

প্রসঙ্গত: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিবরণীর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: রাঙ্গুনিয়ায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৫৫, দাখিলে ৫৯.৬৫ ও ভোকেশনালে ৬০.১৫ শতাংশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, দাখিলে ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪১৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।

দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৫ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২৭৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। এ পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৭ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১০৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

এসএসসিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফল

এসএসসিতে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ ও ১৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পায়নি কেউ।

রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ ও ৫৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন।

রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

মরিয়মনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সাবেক রাঙ্গুনিয়া ইন্দ্রকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩৬ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

আলহাজ আবুল বশর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭ জনের মধ্যে ৩১ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

বেগম ইকবাল জাকির হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পশ্চিম সরফভাটা মীরেরশীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫ জনের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পূর্ব সরফভাটা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সোনারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জনের মধ্যে ৩০ জন উত্তীর্ণ ও ১৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

উত্তর পদুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০১ জনের মধ্যে ৬৩ জন উত্তীর্ণ ও ৩৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

প. শিলক বেদৌরা আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩২ জন উত্তীর্ণ ও ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৮ জনের মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

কোদালা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ২৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জন উত্তীর্ণ ও ৬২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।

রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৪ জনের মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন।

শিলক হামিদ শরীফ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৮ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৬ জনের মধ্যে ৪৯ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিক্ষক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

সাহাব্দীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮১ জনের মধ্যে ৪৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৪ জনের মধ্যে ৫১ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ণ ও ৪৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫১ দশমিক ৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ২৭ জন উত্তীর্ণ ও ২৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ জনের মধ্যে ২০ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মরিয়মনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৬ জনের মধ্যে ৪২ জন উত্তীর্ণ ও ৬৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

খুরুশিয়া দ্বারীকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ ও ২৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ জনের মধ্যে ২০ জন উত্তীর্ণ ও ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পূর্ব কোদালা এমএতাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭১ জনের মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩৮ জনের মধ্যে ৬২ জন উত্তীর্ণ ও ৭৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

পদুয়া সম্মিলনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

উত্তর পারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪১ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

দক্ষিণ শিলক এম. শাহজালাম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮ জনের মধ্যে ৪২ জন উত্তীর্ণ ও ৬৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২০ জনের মধ্যে ৪৬ জন উত্তীর্ণ ও ৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হরিহর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০ জনের মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ ও ১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

বগাবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে ১৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৯ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ ও ৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৪ জনের মধ্যে ১০ জন উত্তীর্ণ ও ৪৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ নেই।

সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

দাখিল পরীক্ষায় ১৫ মাদ্রাসার ফল

দাখিল পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ ও ৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিলে ৮১ জনের মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ ও ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

উত্তর পদুয়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

মরিয়মনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৩৫ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ১৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

বেতাগী রহমানিয়া জামেউল উলুম মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

জামেয়া নঈমিয়া তৈয়বিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৬ জনের মধ্যে ৩৭ জন উত্তীর্ণ ও ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫১ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

শিলক মীনা গাজীর টিলা মতিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে ৯ জন উত্তীর্ণ ও ৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৫১ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ ও ২৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

রানীরহাট আল-আমিন হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৪ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হযরত আবদুল কাদের জিলানী দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সোনারগাঁও দাখিল মাদ্রাসায় ৪৬ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

এসএসসি (ভোকেশনালে) চার প্রতিষ্ঠানের ফল

এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ ও ১৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৫ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ ও ৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জনের মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ ও ৬১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

চারটি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ ও ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

প্রসঙ্গত: সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী।

একই সময়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডটিতে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ইছাখালি পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের টিম

‘পাহাড়ে বসতি হলেও সেইফ সাইডে থাকতে হবে’—স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাম্প্রতিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ইছাখালি আদর্শ গ্রাম এলাকা পরিদর্শন করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার (৮ আগস্ট) তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ স্থানে বসতি স্থাপন এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপসচিব কাজী মো. বদরুজ্জামান বলেন, ‘পাহাড়ে বসতি হলেও সেইফ সাইডে থাকতে হবে।’ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস না করে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ত্রাণ-২) ও উপসচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলী খান এবং কমিউনিকেশন মিডিয়া স্পেশালিস্ট সৈয়দ আশরাফ উল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পণ দেওয়ান, বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন শাহ, কারিতাস বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।

টিমের সদস্যরা পাহাড়ধসের কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া থেকে বিশ্বদৃষ্টি: আস্থার এক বছর পূর্ণ করল রাঙ্গুনিয়া টুডে

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করা অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাঙ্গুনিয়া টুডে যাত্রার এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ডোমেইন ক্রয়ের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১১ আগস্ট থেকে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ শুরু করে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়া টুডের লক্ষ্য ছিল রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সংবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ দ্রুত, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সাধারণ মানুষের সমস্যা-সম্ভাবনা, উন্নয়ন, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত এক বছরে বন্যা, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা এবং জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। স্থানীয় পর্যায়ের নানা অবহেলিত বিষয়ও পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে পাঠকের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থেকেছে।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য ও সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

এই পথচলায় সংবাদদাতা, লেখক, আলোকচিত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য পাঠকের সহযোগিতা, পরামর্শ, গঠনমূলক সমালোচনা ও ভালোবাসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে পরিবার।

বর্তমানে তথ্য অধিদপ্তরে রাঙ্গুনিয়া টুডের নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতেও আইন, নীতিমালা ও সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

রাঙ্গুনিয়া টুডের সম্পাদক ও প্রকাশক এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার বলেন, “এই এক বছরে পাঠকের যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা পেয়েছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কখনোই বিচ্যুত হতে চাই না। ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

এক বছর কেবল সময়ের হিসাব নয়; এটি দায়িত্ব, বিশ্বাস ও অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। সেই অঙ্গীকার নিয়েই সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের পক্ষে থেকে আগামী দিনেও পাঠকের আস্থার সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠতে কাজ করে যাবে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

— আপনার শহর, আপনার সংবাদ

বাড়ি ফেরা হলো না, বাসের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মো. রাসেল (২৩) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুছড়ি পাড়ার বর্তমান ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ নাছেরের ছেলে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাসেলের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহর থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন রাসেল। পথিমধ্যে কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দূরপাল্লার ‘লাল-সবুজ পরিবহন’-এর একটি বাস প্রথমে একটি ভ্যানগাড়িকে ধাক্কা দেয়। এরপর ভ্যানটির পেছনে থাকা রাসেলের মোটরসাইকেলটিকেও বাসটি সজোরে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ সময় হাটহাজারী এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক বাদশা এবং চন্দ্রঘোনা বুইজ্জার দোকান এলাকার নেছারুলসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা আব্দুল বারেক জানান, শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন রাসেল।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।