রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ইছাখালি পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের টিম

‘পাহাড়ে বসতি হলেও সেইফ সাইডে থাকতে হবে’—স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাম্প্রতিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ইছাখালি আদর্শ গ্রাম এলাকা পরিদর্শন করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার (৮ আগস্ট) তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ স্থানে বসতি স্থাপন এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপসচিব কাজী মো. বদরুজ্জামান বলেন, ‘পাহাড়ে বসতি হলেও সেইফ সাইডে থাকতে হবে।’ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস না করে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ত্রাণ-২) ও উপসচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলী খান এবং কমিউনিকেশন মিডিয়া স্পেশালিস্ট সৈয়দ আশরাফ উল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পণ দেওয়ান, বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন শাহ, কারিতাস বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।

টিমের সদস্যরা পাহাড়ধসের কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

ফটিকছড়ির এমপি সরোয়ার আলমগীরের মা আর নেই

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মা খাদিজা বেগম (৮৫) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

খাদিজা বেগম ছিলেন মরহুম নুর আহমদ ইঞ্জিনিয়ারের সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, এক মেয়েসহ নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শনিবার রাত ৯টায় ফটিকছড়ির পূর্ব ফরহাদাবাদস্থ বাড়িতে মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

খাদিজা বেগমের মৃত্যুতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এবং ফটিকছড়ির সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন।

শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাঙ্গুনিয়া থেকে বিশ্বদৃষ্টি: আস্থার এক বছর পূর্ণ করল রাঙ্গুনিয়া টুডে

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করা অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাঙ্গুনিয়া টুডে যাত্রার এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ডোমেইন ক্রয়ের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১১ আগস্ট থেকে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ শুরু করে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়া টুডের লক্ষ্য ছিল রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সংবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ দ্রুত, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সাধারণ মানুষের সমস্যা-সম্ভাবনা, উন্নয়ন, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত এক বছরে বন্যা, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা এবং জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। স্থানীয় পর্যায়ের নানা অবহেলিত বিষয়ও পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে পাঠকের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থেকেছে।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য ও সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

এই পথচলায় সংবাদদাতা, লেখক, আলোকচিত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য পাঠকের সহযোগিতা, পরামর্শ, গঠনমূলক সমালোচনা ও ভালোবাসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে পরিবার।

বর্তমানে তথ্য অধিদপ্তরে রাঙ্গুনিয়া টুডের নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতেও আইন, নীতিমালা ও সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

রাঙ্গুনিয়া টুডের সম্পাদক ও প্রকাশক এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার বলেন, “এই এক বছরে পাঠকের যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা পেয়েছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কখনোই বিচ্যুত হতে চাই না। ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

এক বছর কেবল সময়ের হিসাব নয়; এটি দায়িত্ব, বিশ্বাস ও অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। সেই অঙ্গীকার নিয়েই সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের পক্ষে থেকে আগামী দিনেও পাঠকের আস্থার সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠতে কাজ করে যাবে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

— আপনার শহর, আপনার সংবাদ

ওগগো মানুষ অইল বইয়োনা, ভাই…”—আহতকে হাসপাতালে নিতে একজন মানুষ চেয়ে চালকের আকুতি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশায় তোলা হয়েছিল। কিন্তু তার পাশে বসে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। আর একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক আহত ব্যক্তির পাশে একজন মানুষ চেয়ে বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুতর আহত রাসেলকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তোলা হয়েছে। তবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাশে বসতে কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ সময় সিএনজি চালক আবুল হাসান বাদশাকে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “ওগগো মানুষ অইল বইয়োনা, ভাই ওগগো মানুষ অইল বইয়োনা।”(ভাই, একজন মানুষ হলেও ওর পাশে বসুন, একজন মানুষ হলেও ওর সঙ্গে চলুন।) তার এই মানবিক আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

রাঙ্গুনিয়ার সিএনজি চালক আবুল হাসান বাদশা জানান, তিনি কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে লিচুবাগানের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কাটাখালী এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তার গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে আহত রাসেলকে সিএনজিতে তুলে দেন। তিনি দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু আহতের সঙ্গে যাওয়ার জন্য কাউকে পাচ্ছিলেন না। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলসহ বাসের নিচে চাপা পড়ে মো. রাসেল (২৩) গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাসেল রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুছড়ি পাড়ার বর্তমান ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ নাছেরের ছেলে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিপদের মুহূর্তে একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আরেকজন মানুষের সহায়তা। দুর্ঘটনার সময় ভিডিও ধারণের চেয়ে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, জরুরি সেবায় খবর দেওয়া এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করাই একজন সচেতন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অনেক সময় সময়মতো একজন মানুষের এগিয়ে আসাই আরেকজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।

বাড়ি ফেরা হলো না, বাসের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মো. রাসেল (২৩) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুছড়ি পাড়ার বর্তমান ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ নাছেরের ছেলে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাসেলের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহর থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন রাসেল। পথিমধ্যে কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দূরপাল্লার ‘লাল-সবুজ পরিবহন’-এর একটি বাস প্রথমে একটি ভ্যানগাড়িকে ধাক্কা দেয়। এরপর ভ্যানটির পেছনে থাকা রাসেলের মোটরসাইকেলটিকেও বাসটি সজোরে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ সময় হাটহাজারী এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক বাদশা এবং চন্দ্রঘোনা বুইজ্জার দোকান এলাকার নেছারুলসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা আব্দুল বারেক জানান, শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন রাসেল।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বন্যাদুর্গত পরিবারের পুনর্বাসনে লোহাগাড়া সোশ্যাল সোসাইটির ঢেউটিন বিতরণ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ঢেউটিন বিতরণ করেছে লোহাগাড়া সোশ্যাল সোসাইটি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা সদরের মডার্ণ কমিউনিটি সেন্টার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া সোশ্যাল সোসাইটির প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্যের পুত্র এটিএম জাহেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি মানবিক দায়িত্বও। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সোশ্যাল সোসাইটির উপদেষ্টা আবুল হাসেম এবং সংগঠনের উপদেষ্টা, সমাজসেবক আরিফুর রহমান।

লোহাগাড়া উপজেলা সোশ্যাল সোসাইটির সদস্য কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক মো. সেলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল বিন আবদুল আজিজ, সংগঠনের সদস্য মো. তৌহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান নিশান, মিজবাহ, বেলাল, আবু তাহের, ইকবাল, মোজাহিদ, মিজান, দীপংকর, ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ, সালেহ আহমদ, প্রফেসর আরিফ, মোক্তার আহমদ, রোভিজ চৌধুরী, সাঈদ, সৌরভ, শাহাজাহান, আহমদ হোসেন, সুমন বড়ুয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন অতিথিরা। সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

লোহাগাড়া সোশ্যাল সোসাইটির নেতৃবৃন্দ জানান, দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

শান্তিরহাটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বেকারিতে আগুন, ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার শান্তিরহাট বাজারে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি বেকারির প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বাজারের বড়ইতলী সড়কে অবস্থিত শহীদ বেকারিতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সকাল থেকে টানা মুষলধারে বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও আগুন দ্রুত পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ চেষ্টা চালান।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে ততক্ষণে বেকারির যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেকারির মালিক মো. শহীদ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ পংকজ কুমার বড়ুয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে বেকারির মালিক মো. শহীদ এখন দিশেহারা।

ক্ষতিগ্রস্ত এই ব্যবসায়ী দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

লোহাগাড়ায় বিএনপির বিজয় র‍্যালি, নেতাকর্মীদের ঢল

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় লোহাগাড়া থানা এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে আমিরাবাদ স্টেশনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন।

র‍্যালি উপলক্ষে উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দুপুর থেকেই থানা এলাকায় জড়ো হন। বিকেলের দিকে সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কর্মসূচিতে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ওলামা দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সেলিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় র‍্যালি-পরবর্তী সমাবেশে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি স্মরণীয় মাইলফলক। এ আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সব সময় গণমানুষের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। দেশের উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুসংহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার শাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী ও শাহ আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা মুজিবুর রহমান, বড়হাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মামুনুর রাশিদ চৌধুরী, পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল আলম কোম্পানি, আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, লোহাগাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, অ্যাডভোকেট এহেছানুল হক, অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরফাত হোসেন, উপজেলা যুবদল নেতা তাজউদ্দীন আল নাজির, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, মুর্শেদুল আলম, আবু তালেব রুবেল, রবিউল হোসেন, ডা. শাহ আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোয়েবুল ইসলাম ও সোহেল মাহমুদ তুষার, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক নুরুল হকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রাউজানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও সমাবেশ

রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাউজান উপজেলা ও পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি কাপ্তাই সড়কের চুয়েট গেট থেকে শুরু হয়ে পাহাড়তলী ডিএন প্লাজা প্রদক্ষিণ করে রাউজান বাজারে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইউসুফ তালুকদার। প্রধান বক্তা ছিলেন রাউজান পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহাদাত মির্জা।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. একরাম মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. ছবুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম শুক্কুর, আনোয়ার শাহ, তাহেরা মোহরম, শফিকুল আলম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম, ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আসাদ রিমন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মুরাদুল আলম, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন মিঠু, নুরুল কিবরিয়া খোকন, এস. এম. রায়হান উদ্দিন, ওমর ফারুক, মো. তারিক আহম্মেদ, মো. রাসেল, মো. সায়েম ও আব্দুল হালিম সিকদার।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইলিয়াস তালুকদার, হারুনুর রশিদ খান, রফিকুল ইসলাম বাবু, মো. আলমগীর, নাজিম উদ্দিন, মো. শাহজাহান, মো. মামুন, মো. নাসির উদ্দিন, মো. নবী, মো. সাইফুল, মো. জাহাঙ্গীর, এয়ার খান, সাজ্জাদ কবির চৌধুরী, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মুন্না তালুকদার, দিদার, আবদুর রহিম, কিশোর বড়ুয়া, মো. বুলবুল, আবদুল খান, মো. রনি, মো. সেলিম, মিজানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতকানিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হাসপাতাল, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা পেলেন আড়াই হাজারের বেশি মানুষ

চট্টগ্রাম : সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেড।

বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলার ৫ নম্বর আমিলাইশ ইউনিয়নের আমিলাইশ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এ ক্যাম্পে অর্থোপেডিকস, মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ডায়াবেটিস, নাক-কান-গলা (ইএনটি), গাইনি, শিশু, চক্ষু এবং চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা-পরবর্তী রোগ প্রতিরোধ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসা ক্যাম্প উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. এটিএম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো পার্কভিউ হাসপাতালের সামাজিক ও নৈতিক অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগে আমরা মানুষের পাশে থাকব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমিলাইশ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এস. এম. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “বন্যার মতো দুর্যোগে দ্রুত চিকিৎসাসেবা মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পার্কভিউ হাসপাতালের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।”

দিনব্যাপী এ চিকিৎসা ক্যাম্পে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিজাম উদ্দীন, কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, মশিউর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী বন্যাদুর্গত মানুষ পার্কভিউ হাসপাতালের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে। দুর্যোগকালীন চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা।

রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে ৬ জন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাছের উদ্দিন (৪৪) এবং পোমরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন (৪৩)।

পুলিশ জানায়, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার মামলা নং-১২ (তারিখ: ২২ জানুয়ারি ২০২৫)-এর তদন্তে তাদের আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হলে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পৃথক অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ মোছা. মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়া বন আইনের দুটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নুরুল ইসলাম ও আবু বক্কর নামে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর: নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসপি মাসুদ আলম

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : আগামী ৯ আগস্ট ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সফরস্থল উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মোড় ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।

পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণাধীন হেলিপ্যাডসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি না রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সফরস্থল, হেলিপ্যাড এবং সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান, ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ফটিকছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্য ফটিকছড়ি উপজেলার উদ্যোগে উপজেলা সদরের বিবিরহাট ঈদগাহ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাস স্টেশনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ সব হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ইমু। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আইন সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সেক্রেটারি মো. জসিম উদ্দিন আজাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম, সহকারী অফিস সম্পাদক এজহারুল ইসলাম, এনসিপি নেতা একরামুল হক, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং যুব বিভাগের সভাপতি নবীর হোসেন মাসুদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইউসুফ বিন সিরাজ। এ সময় থানা শাখার অফিস সম্পাদক মুহাম্মদ আবু জাফর, ইব্রাহিম খলিল, রেজাউল করিমসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লোহাগাড়ায় বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি লোহাগাড়া বটতলী মোটর স্টেশন থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে লোহাগাড়া থানা সংলগ্ন গ্র্যান্ড মাশাবী রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম জাকারিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ রহিম ও এস এম আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রাশেদুল হক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুসলিম উদ্দিন ও বাহাদুর চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব রমজানুল কবির চৌধুরী জয়, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইসহাক কোম্পানী, সিনিয়র সহ-সভাপতি বেলাল কোম্পানীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় যুবদল নেতা মারুফ হোসাইন, নাজিম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, রাকিবুল ইসলাম বাচ্চু, মঈনউদ্দিন ইমন, আরিফুল ইসলাম বাবর, মো. ইয়াসিন আরাফাত, আবুল বশর ও মো. ইলিয়াছসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন, সাইমুন সেলিম ও ইকবাল বিন আবদুল আজিজও উপস্থিত ছিলেন।

র‍্যালি ও সমাবেশে লোহাগাড়া সদর, আমিরাবাদ, আধুনগর, চুনতি, পদুয়া, কলাউজান, চরম্বা, বড়হাতিয়া ও পুটিবিলা ইউনিয়নের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাইয়ের চেতনা ধারণের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান সভাপতিত্ব করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী ও অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব ছাফা, সদস্যসচিব আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক ও ইলিয়াস সিকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইউছুফ চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা সাইফুল ইসলাম, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদল নেতা শাহজাহান সিকদার, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী, উপজেলা যুবদল নেতা সেকান্দর সওদাগর এবং জেলা ছাত্রদলের নেতা আনছুর উদ্দিন, পারভেজ মোশারফ, হেলাল আহমেদ ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে স্বেচ্ছাচারিতা, প্রতিহিংসা ও বিভেদ পরিহার করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।

তারা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনের কারাদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের দায়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এ কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চন্দ্রঘোনা কদমতলীর লিচুবাগান ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক (৩৫), হোছনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা অপু বিশ্বাস এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলীর বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন (৩৫)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মো. মানিক ও মো. সুমনকে গাঁজা সেবনের অপরাধে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অপু বিশ্বাসকে ইয়াবা সেবনের অপরাধে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক সেবন, বহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগও অব্যাহত থাকবে।”

সরফভাটা ক্ষেত্রবাজারে উচ্ছেদ অভিযান, যানজট নিরসনে স্বস্তি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন চার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অন্যতম কারণ ছিল সরফভাটা ক্ষেত্রবাজার মোড়ের তীব্র যানজট। অবৈধ দখল উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর সড়কটি দখলমুক্ত ও প্রশস্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদসহ পুলিশের সদস্যরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।

অভিযান চলাকালে সরফভাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটসংলগ্ন ক্ষেত্রবাজার মোড়ে সৈয়দ আলী সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে থাকা সড়কটি পুনরায় স্বাভাবিক প্রশস্ততা ফিরে পায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ স্থাপনার পাশাপাশি সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানের কারণে প্রতিদিনই এই মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। এতে শিলক, সরফভাটা, কোদালা ও পদুয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও যানজটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

উচ্ছেদ অভিযানের পর এলাকাবাসী প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে সড়কটি দখলমুক্ত থাকবে এবং যানজটের সমস্যা আর ফিরে আসবে না। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কার্যকর নজরদারি না থাকলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড আবারও গড়ে উঠতে পারে। এ কারণে বাজার কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ বলেন, আগে থেকেই কয়েকজন অবৈধ দখলদারকে নোটিশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি খাস জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে সড়কের যানজট অনেকাংশে নিরসন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানজট নিরসন এবং সরকারি খাস জায়গা উদ্ধার করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে একইদিন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার (সরফভাটা, শিলক, কোদালা ও পদুয়া) প্রবেশদ্বার ক্ষেত্রবাজারে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন গাড়ির জ্যামে আটকা পড়তে হয়। আশা করি ভবিষ্যতে এই জনদুর্ভোগের লাঘব ঘটবে। এ মহৎ কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ক্ষেত্রবাজার ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতি এবং সাধারণ দোকানমালিকদের ধন্যবাদ জানাই।”

একুশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আজাদ তালুকদারের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: একুশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাংবাদিক ও সমাজসেবক আজাদ তালুকদারের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২ আগস্ট)। ২০২৩ সালের এই দিনে লিভার ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর।

আজাদ তালুকদার ১৯৭৮ সালের ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর পদুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে তিনি একাত্তর টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেন। ২০০৪ সাল থেকে একুশে পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে একুশে পত্রিকা ডটকম চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিজিটাল পরিসরে নিয়ে যান।

সাংবাদিকতায় নির্ভীক অবস্থান, সত্য প্রকাশে আপসহীন মনোভাব এবং মানবিক উদ্যোগের জন্য তিনি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয়। সংবাদকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইমপ্যাক্ট জার্নালিজমের চর্চায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

করোনা মহামারির সময় তাঁর অন্যতম উদ্যোগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া খায়ের জাহান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

একুশে পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক শরীফুল রুকন তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, আজাদ তালুকদার শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন না; তিনি ছিলেন সহকর্মীদের অভিভাবক, প্রেরণার উৎস এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক অনুকরণীয় শিক্ষক। সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি এবং সহকর্মীদেরও সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের শিক্ষা দিয়েছেন।

আজাদ তালুকদারের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন নজরুল কবির দীপু। তাঁর নেতৃত্বে একুশে পত্রিকার মুদ্রণ ও অনলাইন সংস্করণের প্রকাশনা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আজাদ তালুকদারকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন তাঁর পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী। তাঁর আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহতরা হলেন বনগ্রাম এলাকার জসিমের ছেলে মো. আবচার (৩৫) এবং হাফেজপাড়া এলাকার খুরশেদের ছেলে মিনহাজ (২৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আহত আবচারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত মিনহাজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক, দ্রুত টেকসই পুনর্বাসনের আশ্বাস

চট্টগ্রাম: সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দুর্গত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরিদর্শনকালে তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক খোঁজখবর নেন।

জানা যায়, টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় এসব এলাকার মাটির তৈরি অধিকাংশ ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ঘর সম্পূর্ণ ধসে গেছে, আবার অনেক পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করছে।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ দেখে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যসংখ্যা, পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা এবং কী ধরনের নকশা ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করলে তাদের জন্য উপযোগী হবে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত নেন।

পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয়, উপকরণের মান এবং টেকসই ঘর নির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ও অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।”

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম (বিপিএম), স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় সিএনজি-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাঠবোঝাই নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি হরিনগেইট এলাকায় ড্রিম রেস্টুরেন্টের পূর্ব পাশে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়মনগর থেকে রোয়াজারহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঠবোঝাই একটি নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী আহত হন।

আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মরিয়মনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত বদিউল আলমের ছেলে হাফেজ মো. নুরুল হক (৬০)-কে মৃত ঘোষণা করেন।

অপর আহত দিলুয়ারা বেগম (৩৯) একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহতের ভাগ্নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাঠবোঝাই নসিমন থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নসিমনের চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চুয়েটের পুকুরে ডুবে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসের একটি পুকুরে ডুবে অর্ণব সাহা (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অর্ণব সাহা চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুয়েটের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অর্ণব সাহা সহপাঠীদের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম হলের পুকুরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

পরে সহপাঠীরা খোঁজাখুঁজি করে তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে চুয়েট মেডিক্যালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘বন্যার পানি নেমেছে, দুর্ভোগ শেষ হয়নি; এখন প্রয়োজন পুনর্বাসন’: মাহবুবের রহমান শামীম

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। তাই এখন তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর বাজার এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ভয়াবহ বন্যায় অনেক মানুষ বসতঘর হারিয়েছেন। কৃষিজমি, গবাদিপশুর খামার, পোলট্রি খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, জেলা পরিষদের এক সভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বন্যাকালে সরকার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে।

তিনি দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দীন চৌধুরী এবং সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আকন্দ, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সেলিম চৌধুরী, চুনতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নূর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শব্বির আহম্মেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বিট পুলিশিং সভায় এএসপি: ‘অপরাধ দমনে শুধু পুলিশ নয়, চাই সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ’

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), রাঙ্গুনিয়া সার্কেল মো. বেলায়েত হোসেন বলেছেন, সমাজে নীতি-নৈতিকতার চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে আয়োজিত বিট পুলিশিং ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এএসপি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিন বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণ ও পুলিশের মধ্যে আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রকাশ: সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সোনাইছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রকাশ করায় ইসমাঈল হোসেন নয়ন নামে এক সাংবাদিককে হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় সোমবার ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

হুমকির শিকার ইসমাঈল হোসেন নয়ন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য।

গত ২৫ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নের মধ্যম পারুয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পান।

একই ইউনিয়নের ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলের সোনাইছড়ি খালে গিয়ে তিনি কয়েকজনকে বালু উত্তোলন করতে দেখেন।

সেখানে তিনি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে বালু উত্তোলনকারীরা সরে যান।

পরে তিনি ধারণ করা ছবি ও ভিডিও তার ফেসবুক পেজ Rangunia24.com এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি Ismile Hossian Noyon-এ প্রকাশ করেন।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, ভিডিও প্রকাশের পর গত ২৬ জুলাই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল, শেখ আহমেদ আরিফ ও মো. মারুফ চৌধুরী ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি দেন।

একই দিন রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে তাকে বলা হয়, পারুয়া ইউনিয়নে গেলে তার পা কেটে রাখা হবে এবং বালি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

তবে ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. সোহেল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে কোদাল দিয়ে অল্প বালু তুলছিলেন, সেখানে কোনো ড্রেজার ব্যবহার করা হয়নি।

মো. সোহেল আরও জানান, কর্ণফুলী, সোনাইছড়ি ও ইছামতী নদীতে যেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করার কথা তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন।

তবে তিনি সাংবাদিককে কোনো হুমকি দেননি বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু, প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তে মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মালেকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মৃত্যুর আগে আবদুল মালেকের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আবদুল মালেক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা সবার দায়িত্ব, সচেতন হলেই বদলাবে রাঙ্গুনিয়া

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৫ জুলাই) রাঙ্গুনিয়ায় জনসচেতনতামূলক র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচারণাও চালানো হয়।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিদিন পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় পরিষদ চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। উপজেলা পরিষদে আগত সবাই যদি নির্ধারিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলেন, তাহলে পুরো প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা সম্ভব হবে। একটি পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই গড়ে উঠতে পারে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য রাঙ্গুনিয়া।

 

রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

লোহাগাড়ায় গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডব, বসতঘর ভাঙচুর; প্রাণ বাঁচাতে পালাল পরিবার

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা আইম্মাডাফা এলাকায় গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডবে একটি বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের চিৎকারে হাতির পাল পাশের বনের দিকে চলে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে একটি বন্য হাতির পাল লোকালয়ে প্রবেশ করে। হাতিগুলো জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ঢুকে তার মাটির বসতঘর, দেয়াল ও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গভীর রাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে তাকিয়ে দেখি কয়েকটি বন্য হাতি আমাদের ঘর ভাঙচুর করছে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতিগুলো ঘরের অনেক ক্ষতি করে চলে যায়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম জানু বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এ এলাকায় প্রায়ই বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে আসে। ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। হাতির উপদ্রব স্থায়ীভাবে রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

পদুয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান বলেন, “লোকালয়ে বন্য হাতির বিচরণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাতি তাড়াতে বন বিভাগের টিম কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও বিধি-বিধান অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বন্য হাতির বিচরণ ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জানমাল হুমকির মুখে পড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

৩০ বছর পর রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচা সড়কে সংস্কারকাজ শুরু, স্বস্তি এলাকাবাসীর

রাউজান (চট্টগ্রাম): দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী সাহেব মিয়া বাড়ি এলাকার একটি কাঁচা সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো বাসিন্দা।

জানা গেছে, প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে পায়ে হেঁটে চলাচলও ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এতে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, প্রান্তিক কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সুমন নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটিতে সলিং নির্মাণকাজ শুরু করেন।

দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কাঁচা সড়কের কারণে বয়োবৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সলিং নির্মাণ শেষ হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।

সলিং নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সমাজ কমিটির অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর, সমাজসেবক আলমগীর হোসেন, উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন, হাফেজ মাওলানা নুর মোহাম্মদ, ইসহাক মিয়া, মো. জাহেদ, মমতাজ, আসিফ, ইয়াছিন উদ্দিন মাসুদ, রিপন ও ইয়াকুব উদ্দিন আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অর্থায়নকারী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।