মাদক-বান্ধব পুলিশকে ছাড় নয়: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: নরসিংদীতে মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার)। তিনি বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে প্রমাণসহ তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “পুলিশই যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের মতো মাদকের সঙ্গে ন্যুনতম সংশ্লেষ থাকা পুলিশের স্থান নরসিংদীর মাটিতে হবে না।”

তিনি জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো পুলিশ অফিসার বা সদস্য মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকলে ছোট্ট একটি ভিডিও বা অডিও প্রমাণ সংগ্রহ করে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিন। আমি কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমি পক্ষপাতিত্বের লোক নই, আমি ন্যায়বিচারের লোক।”

তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে কোনো পুলিশ সদস্য বা তাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মামলা, জিডি, তদন্ত, মোবাইল উদ্ধার, বিরোধ মীমাংসা বা ভিকটিম উদ্ধারের নামে টাকা দাবি করে, তবে তার প্রমাণ সংগ্রহ করে জানাতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “অল্প কিছু বিপদগামী পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনী কলঙ্কিত হয়। আপনারা যদি এসব অপরাধে চুপ থাকেন আর পরে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পুলিশ ঘুষ নেয়’ বলে পোস্ট দেন, তাহলে নীতিবান পুলিশ সদস্যরা কষ্ট পান।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার নামে কেউ টাকা, মাসোহারা বা অন্য কোনো সুবিধা চাইলে প্রমাণ সংগ্রহ করে তার হাত-পা বেঁধে খবর দিবেন। সে পুলিশ, পাবলিক, সরকারি বা বেসরকারি লোক যে-ই হোক না কেন।”

জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তার সরকারি মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ): ০১৩২০০৯১৩৪৫

শেষে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমরা সবাই মিলে যুগযুগের পচা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনব, ইনশাআল্লাহ।”

অর্থ নয়, প্লাস্টিক বর্জ্যেই মিলছে চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার সকালে নগরীর ষোলশহর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র নিজেই রোগী দেখেন এবং বিদ্যানন্দের চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন, বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখবে।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, এর আগে সংগঠনটি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ করলেও এবারই প্রথম স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলো। তিনি বলেন, “কসমোপলিটন এলাকায় চালু হওয়া এ হাসপাতালটিতে গাইনি, চক্ষু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। থাকবে ল্যাব সুবিধা ও ফার্মেসি। চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধ ও পরীক্ষা দরকার হবে, তা প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়েই পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে এটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে শুরু হলেও সাড়া পেলে ধীরে ধীরে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিদ্যানন্দ জানায়, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পে তারা ২০০ মেট্রিকটন প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং করেছে।

 

আজ রাতের আকাশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: রক্তিম চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শনি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: আজ (রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর) রাতেই ঘটতে যাচ্ছে পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ উপভোগ করবে এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শুরু হবে পেনুমব্রাল গ্রহণ। রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এবং স্থায়ী হবে রাত ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় চাঁদ রক্তিম আভায় রূপ নেবে, যা “Blood Moon” নামে পরিচিত। পূর্ণগ্রাস অংশ স্থায়ী হবে প্রায় ৮২ মিনিট। পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে। অর্থাৎ পেনুমব্রাল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রহণ চলবে মোট প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট।

পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চলাকালে আকাশে চাঁদের কাছেই দেখা যাবে সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শনি (Saturn)। এটি খালি চোখে উজ্জ্বল হলুদাভ বিন্দুর মতো দেখা যাবে। টেলিস্কোপ বা উন্নত বাইনোকুলার ব্যবহার করলে শনির বলয় আংশিকভাবে দেখা সম্ভব।

অন্যদিকে, গ্রহ নেপচুন (Neptune) তখন আকাশে অবস্থান করলেও এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে হালকা নীলাভ একটি ক্ষুদ্র বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বহু দেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে। সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে ইন্দোনেশিয়ার হিলা দ্বীপ থেকে শুরু করে আফ্রিকার কেনিয়ার মোম্বাসা উপকূল পর্যন্ত এলাকায়।

আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে খালি চোখেই গ্রহণ দেখা সম্ভব হবে। তবে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে চাইলে বাইনোকুলার, ছোট টেলিস্কোপ কিংবা স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আজ রাতের এই মহাজাগতিক ঘটনা একসঙ্গে পূর্ণিমা, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, রক্তিম চাঁদ ও শনির সৌন্দর্য উপহার দেবে। বিরল এ দৃশ্য উপভোগে তাই বিশ্ববাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।

সূত্র: NASA, BBC Sky at Night Magazine

চট্টগ্রামে জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— সাইফুল ইসলাম (১৩) ও আইয়ুব আলী (৬০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‌্যালি চলাকালে প্রচণ্ড গরমে মাথা ঘুরে পড়ে যান তারা। এ সময় পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার সকালে চট্টগ্রামে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে ঐতিহাসিক জশনে জুলুছ শুরু হয়। ষোলশহরের আলমগীর খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ এর নেতৃত্বে হাজারও মানুষ এতে অংশ নেন।

শোভাযাত্রাটি নগরীর বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট ও জিইসি মোড় হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ময়দানে গিয়ে মাহফিল ও জোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা ৫৪তম জশনে জুলুস ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা’ দরুদ পাঠ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন মুরাদপুর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সকাল ৯টায় আলমগীর খানকাহ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রা শুরু হয়।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ ও সৈয়্যদ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ্ ।

শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শরিয়তসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে ড্রাম সেট বাজানো, নারীর অংশগ্রহণ এবং খাবার নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

“ঢাবি এজিএস প্রার্থী আশরেফার জীবনের দুঃখের গল্প”

“আশরেফা খাতুনের ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ছবি”

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আশরেফা খাতুন একজন এজিএস প্রার্থী। তার ব্যালট নং – ৫। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি হঠাৎ তার জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তার রিকশাওয়ালা পিতাকে স্মরণ করেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন, যা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো।”

আমরা যখন অনেকটা ছোট তখন আব্বুর অনেক বড় লস হয়। টাকাপয়সার প্রচন্ড টানাটানি। ঢাকায় থাকতাম তখন। আপু স্কুলে যায়। আমি তখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করি নাই। তিনটা ছেলেমেয়ের খরচ চালানো, পড়াশোনার পরিবেশ রাখার জন্য আমার আব্বু এই ঢাকা শহরে রিকশা চালানো শুরু করে। আম্মু গার্মেন্টসে চাকরি করেছে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন টেষ্ট পর্যন্ত। তারপরও খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে যেতো বলে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আব্বু-আম্মু ঢাকায় থাকতো। আম্মুকে কখনো কাছে পাই নাই। নানু যতদিন বেঁচে ছিল তার কাছেই বড় হয়েছি। আপু পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের দেখতো। আম্মু সাথে না থাকার কারণে কত মানুষের কত কটু কথা যে শুনেছি! এমনও হয়েছে যে বাড়ি থেকে বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলাম আমি আর আপু। এখনো গ্রামে গেলে পুরোনো অভ্যাসবশত ঘর থেকে বের হতে মনে চায় না। আপু বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে চলে গেল খুলনায়। আমি তখন এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। রান্নাবান্না করে রেখে পরীক্ষা দিতে যেতাম। কলেজে ভর্তি হলাম যখন তখন ঘরের কাজ, চারটা ব্যাচ টিউশন, নিজের কলেজ, ধানের মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই-সিদ্ধ সব করতাম আব্বুর সাথে মিলে। সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতাম। উঠেই টিউশনে যেতাম। রাইস কুকারে আব্বু ভর্তা-ভাত তুলে দিতো। কিন্তু আমি আর খাওয়ার সময় পেতাম না। তাড়াহুড়ো করে নিজে যেতাম স্যারের কাছে পড়তে। কলেজে ক্লাস করে দুইটার মধ্যে বাড়ি ফিরতাম। এসেই রান্নার প্রস্তুতি। এরমধ্যে স্কুলের টিফিন টাইমে আরেকটা ব্যাচ আসতো পড়তে। তাদের পড়ানো শেষে রান্না করতাম। স্কুল ছুটি হতে হতে আরেকটা ব্যাচ আসতো। কতদিন এমন হয়েছে যে তরকারি চুলায়, স্টুডেন্টরা চলে আসছে। আব্বু দোকান বন্ধ করে এসে তরকারি নামাতো। আমি ব্যাচ শেষ করেই আরেকটা টিউশনে যেতাম। দুপুরেও খাওয়া হতো না। একদম সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গোসল, খাওয়াদাওয়া করতাম। আমার ওজন কমে ৪০-৪২ কেজি হয়ে গিয়েছিল। এডমিশন পর্যন্ত এভাবেই চলেছে। পানি আনতে কতদূর যাওয়া লাগতো। কলসটা কোমরে করে আনতেও মনে হতো পাহাড়সম ওজন।

আম্মু বাড়িতে আসার পরে একটু রান্না করা খাবার, একটু যত্ন পেয়েই মারাত্মক জ্বর এসে পড়লো একদিন। যত্ন পেয়ে অভ্যাস ছিল না। তখন বারবার কমলা খেতে চাইতাম। কিন্তু কমলা কিনে আনার মতোও সামর্থ্য ছিল না আমাদের। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমাকে আর একটা ঈদে জামা কিনে দিলো না আম্মু। খুব কেঁদেছিলাম সেইবার। আমি পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি প্রতিটা পরীক্ষায় সরকারি বৃত্তি পেয়েছি। ওই টাকায় পরেরবার থেকে ঈদের ড্রেস বানাতাম। স্কুল ড্রেস ছিঁড়ে গেলেও বলতাম না, সেলাই করে পরতাম। সেল্ফ এমপাওয়ার্ড হওয়া শুরু আমার তখন থেকে। এডমিশনের সময় পড়া, ঢাকা আসা, ফর্ম তোলা সব আমার টিউশনের টাকায় করেছি। ভর্তির সময় অবশ্য দুইজন বড় ভাই হেল্প করেছেন। তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ আমি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম, কিন্তু আব্বু ভর্তি হতে দিতে রাজি না। কারণ খরচ দিতে পারবে না। আমি জিদ করলাম। গ্রামে থাকতেই ঢাকায় টিউশন ম্যানেজ করে এসেছিলাম। ৩৫০০ টাকা, সপ্তাহে ৪ দিন, সব সাবজেক্ট। আমার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি। ওই টাকা দিয়ে নিজে চলতাম। বাড়িতে টিউশনের টাকা পাঠাতাম। সেই যে শুরু, এখনো চলছে। বাড়িতে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে না পারলে মন খচখচ করে এখনো। আপু সরকারি চাকরি করে এখন। তাও আমি সংসারের সিংহভাগ খরচ চালানোর চেষ্টা করি এখনো। আব্বু-আম্মু যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন ইনশাল্লাহ আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো।

এতখানি বলার কারণ হলো এটা বোঝানো যে আমি মোটামুটি বুঝতে শেখার পর থেকেই স্বাধীনচেতা। ডিপেন্ডেন্ট না থাকার চেষ্টা করেছি সবসময়। আমি ভাবতাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ হবে আত্মমর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু বাধ সাধলো ভর্তির অল্প কয়েকদিনের মাথায়। দেখলাম আমার এক বন্ধুর পায়ে ঘায়ের মতো হয়ে গিয়েছে ছারপোকার কামড়ে। জিজ্ঞেস করলাম এত বাজে অবস্থা হওয়ার কারণ। বলল, ৬ জনের রুমে ৪২ জন থাকে। এটাকে গণরুম বলে। দেখতাম ওরা ক্লাস শেষেই হলে ফিরতো। বলতাম আড্ডা দিতে। কিন্তু ওরা না কি রাতে ঘুমাতে পারে না, দিনের বেলা রুমে একটু জায়গা পাওয়া যায় ঘুমানোর। রাত হলেই বড় ভাইরা ওদেরকে রুম থেকে বের করে দিতো। ওদের বলতো হাতিরঝিল,শহীদ মিনারে ঘুরে বেড়াতে। ওদেরকে গেস্টরুমে গালিগালাজ করতো। আমার বন্ধু ইফাজ একদিন বলেছিল, ওর মৃত বাপকে নিয়েও গালি দেয় গেস্টরুমে।
আমার মতো স্বাধীনচেতা,প্রায় মুক্ত মানুষের জন্য এটা ছিল স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার মতো। সেদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম-গেস্টরুম সহ সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু। আস্তে আস্তে দেখলাম আমার মতো আরো মানুষ আছে। আখতার ভাই ছিলেন আমার জন্য অনুপ্রেরণা। ওনাকে আমি প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই। সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিল আন্দোলনে যখন ভাইয়ের উপর ছাত্রলীগ হামলা করে তখনো ওনাকে বাঁচাতে আমরা ছয়টা মেয়ে ছুটে গিয়েছিলাম। যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আখতার হোসেনদের মাইর খাওয়া লাগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেমের বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছি। এখনো বলছি, ভবিষ্যতেও বলবো ইনশাল্লাহ। আমার রিকশাচালক বাবা আমাকে বলেছে, ‘পেটে ভাত না থাকলেও মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়’

এখনো মাথা উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা চলমান। দোয়া রাইখেন সবাই।

আশরেফা খাতুন
এজিএস পদপ্রার্থী
ব্যালট নং ০৫
ডাকসু নির্বাচন-২০২৫

রাঙ্গুনিয়ায় অস্ত্রসহ ২ যুবক গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই এলাকার মো. পারভেজ (৩১) এবং আশরাফ আলী সিকদার (১৯)

ওসি সাব্বির বলেন, “সকালে সরফভাটা এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযানের সময় সেনাবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।”
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি কিরিচ, একটি দা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় আরও চারটি মামলা রয়েছে।”

“তারা হারায়—কখনো ফিরে, কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতিতে”

রাঙ্গুনিয়ায় দুই শিশুর হারিয়ে যাওয়া ও মানবিক উদ্ধার অভিযান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: একটা অন্ধকার রাত। দুই অবুঝ শিশু পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

কে জানে তারা কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে?
তারা হারিয়ে গেছে—কখনো হয়তো ফিরে আসবে, আবার কখনো হারিয়ে যাবে এমন এক পরিণতির দিকে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে পাওয়া গেছে। কেউ চিনে থাকলে যেন যোগাযোগ করা হয়।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু দুজনকে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক শিশুদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নে। শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায়, স্থানীয় এক যুবক, মুসাফির তালুকদার, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন যাতে তাদের পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়।

জোনাকি ও আয়েশা—দুই অবুঝ মুখের পরিচয়

শিশু দুটির একজনের নাম জোনাকি, অপরজন আয়েশা। তারা জানায়—তাদের বাবার নাম সোহেল, মায়ের নাম মুন্নী। কখনো তারা বলে সৈয়দনগর, কখনো কাটাখালি—ঠিকানা তারা মনে রাখতে পারে না।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকা থেকে ফোন আসে। এক ব্যক্তি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, শিশুদের নানী পরদিন সকালেই প্রমাণপত্রসহ এসে নিয়ে যাবেন।

পরদিনই এক করুণ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জোনাকি(৯) ও আয়েশার(৭) নানী এসে তাদের পারুয়া থেকে নিয়ে যান।

“কিন্তু পরদিন আরও একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে আসে।”

জানা যায়, জোনাকি ও আয়েশার বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা এখন নানীর কাছে থাকে।
পায় না বাবার আদর, কিংবা মায়ের যত্ন। কারণ মা মুন্নী শহরে কাজ করেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে।

বাবা-মা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কিছুটা মানসিক সমস্যা, আর শিশু দুজনের একজন মানসিকভাবে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিকারগ্রস্ত)। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, ঠিকানা মনে রাখতে পারে না। মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে শিশুদের নানী মো. ননা মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তার জানান, তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিল শেষবার কাউখালি থানার সহায়তায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তারা তার কাছেই থাকেন উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকার সোনারগাঁও এলাকা সংলগ্ন ঘোনাকূল ওরনার টিলা এলাকায়।

“দারিদ্রতার কাছে তিনিও পরাজিত, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই দুই নাতনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেও তবুও হারিয়ে যায় তারা।”

প্রশ্ন: এবার তারা ফিরে এসেছে ভালো কিছু মানুষের সহানুভূতিতে, কিন্তু আগামীবার?

 

পূর্বের আরেক করুণ গল্প: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন 

এ ধরনের একটি ঘটনা আগেও ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ওসমানের টেক এলাকার আমড়াকাটার বাড়িতে।
সেখানে এক মেধাবী ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হলেও ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তার পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা না থাকলেও, সাজ্জাদের সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে। সে প্রায়ই হারিয়ে যেতো। কখনো ফিরে আসতো, কখনো বহুদিন নিখোঁজ থাকতো।

শেষবার সে হারিয়ে যায় চিরতরে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু ছেলের মুখ শেষবার আর দেখতে পারেননি।

সাজ্জাদের গল্প আমাদের শেখায়—মানসিক অসুস্থতা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের কষ্ট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

নিরাপদ নয় এই অনিশ্চিত পথচলা

জোনাকি ও আয়েশার গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি বাংলাদেশের অনেক শিশুর বাস্তবতা।
তারা হারিয়ে যায়— কখনো ফিরে আসে কারো মমতায়,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতির অন্ধকারে।

এখনই যা করণীয়:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:
শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রশাসনিক নজরদারি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৩. পরিচয়পত্র ব্যবস্থা:
শিশুদের জন্য আইডেন্টিটি ট্যাগ, নামপোতা জামাকাপড় কিংবা ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

৪. কমিউনিটি সাপোর্ট:
স্থানীয় দোকান, বাজার, মসজিদ-মন্দিরের লোকদের সচেতন করা জরুরি—যাতে তারা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারেন।

শেষ কথা: আজ জোনাকি ও আয়েশা ফিরে এসেছে।
কিন্তু এটাই কি শেষবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

“আমরা জানি না, এটাই কি তাদের হারানোর শেষবার?
কিন্তু এটুকু জানি—তারা যেন আর না হারায়,
তাদের ছোট্ট জীবন যেন থেমে না যায় কোনো নির্মম পরিণতির কাছে। এই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”

প্রতিবেদন: এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার,
সম্পাদক: রাঙ্গুনিয়া টুডে।

 

নুরুল হক নূরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত

ডেস্ক:

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রাজনীতিবিদ নুরুল হক নূরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নূরের সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, নুরুল হকের শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে মারিয়া আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, নূরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নাকের হাড় ভাঙা এবং চোয়াল ও মেরুদন্ডে আঘাত পেয়েছেন।

মারিয়া আক্তার সুচিকিৎসার জন্য নূরকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জানালে প্রধান উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আমরা সবাই স্তম্ভিত। তাঁর সুচিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।”

এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, হামলার ঘটনায় বিচারপতি আলী রেজার নেতৃত্বে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামীকাল এর গেজেট প্রকাশিত হবে, এবং ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন দেবব্রত দাশ।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট তিনি রাঙ্গুনিয়ায় যোগদান করেছিলেন।

জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার সন্তান দেবব্রত দাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় যোগদানের আগে তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, পূর্বে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মারজান হোসাইন। সম্প্রতি বদলির পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেবব্রত দাশ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ: সফর ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান সম্প্রতি তাঁর চীন সফরকালীন অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর অভিজ্ঞতা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সেনাপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান সেনাবাহিনীর চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়ার মাজারে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

সোমবার রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরস্থ সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা নেতাদের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলের মাধ্যমে অংশ নেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আজ সকল বিএনপি-জনগণ এক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ফুল দিতে যাচ্ছেন, তাদের সবাইকে সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধও জানান তিনি।”

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের নেতৃত্বে মিছিল শেষে ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

 

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু আহমেদ হাসনাতের নেতৃত্বে মিছিল শেষে ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ জসিম ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরীও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোসহ তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

“পলিথিন ব্যাগে শূন্য সহনশীলতা ঘোষণা: পরিবেশ উপদেষ্টা”

  • ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহারে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে কারও কাছে পলিথিন পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে জব্দ করা হবে।

রোববার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বাজারজাতকরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত বাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে পলিথিন নিষিদ্ধকরণ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতেই হবে।”

তিনি জানান, প্রায় সব সাইজের পাটের ব্যাগ সরকার ভর্তুকি দিয়ে সুলভ মূল্যে সরবরাহ করছে। একটি ব্যাগ একবার কিনলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব। তাই পলিথিন ব্যবহার করার কোনো অজুহাত আর গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০০২ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল, অথচ ২০২৫ সালেও তা ব্যবহার হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সব ধরনের প্লাস্টিক নয়, কেবল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক—বিশেষ করে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের আওতায় আসবে।

মাছ, মাংস ও শাকসবজি বহনে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের সুবিধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ব্যাগ ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা সম্ভব। এতে পরিবেশ রক্ষা হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সুরক্ষিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ এবং পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কাল বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

 

ডেস্ক: বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক শুরু হবে রবিবার (৩১ আগস্ট) থেকে। এদিন বৈঠকে অংশ নেবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শক্তি বা ষড়যন্ত্রই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।

প্রেস সচিব আরও জানান, সমসাময়িক বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টা, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকে ন্যাক্কারজনক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে একজন হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসময় তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা নুরুল হক নুরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

ভিপি নুরের ওপর হামলা নিয়ে সরকারের বিবৃতি

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নূরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল নূরের ওপরই নয়, এ ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার ওপরও আঘাত। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

তাৎক্ষণিকভাবে নুরুল হক নূর ও তাঁর আহত সহকর্মীদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানোরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিবৃতিতে নূরের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। বলা হয়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। চব্বিশের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চলাকালে তাঁকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনেরও উল্লেখ রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংকটময় এই সময়ে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলেও জোর দেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় দেড় হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি

ডেস্ক: সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১ হাজার ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৯৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে অন্যান্য অপরাধে আরও ৫৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও অভিযানে রিভলবার, ১২ বোর একনলা বন্ধুক, এলজি বন্ধুক, পিস্তল, জি-৩ রাইফেল, এমএ-১ ভেরিয়েন্ট রাইফেল, এলএম-১৬ ভেরিয়েন্ট রাইফেল, দেশীয় এলজি, পাইপগান, নয়টি ম্যাগাজিন, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৫১১ রাউন্ড গুলি, তিনটি চাপাতি ও দুইটি চাইনিজ কুড়াল জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

 

 

রাঙ্গুনিয়ায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেপ্তার

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সোহেল পাটোয়ারী (৩২) উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোব্বাতের ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর ইকো পার্কের সামনে সড়কে গাড়ির গতিরোধ করে স্থানীয় মো. ইউনুছ আলী (৩৪) ও সিএনজি চালক মো. ভুট্টোর (৪১) উপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের মাথায় আঘাতসহ পিটিয়ে আহত করা হয়।

পরে আহতদের ভাই হযরত আলী (২০) বাদী হয়ে সোহেল পাটোয়ারীকে প্রধান আসামি এবং আরও দু’জনকে আসামি করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সোহেলকে কোব্বাতের ঘোনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “সোহেল পাটোয়ারী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে ১টি হত্যা, ৪টি মারামারি ও ১টি চুরির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে বিএনপির মিটিংয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলা উল্লেখ করে এবং এ হামলার প্রতিবাদে গত সোমবার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কাপ্তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির বিভিন্ন নেতাকর্মী, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

 

সারাদেশে সেনা অভিযানে নেটওয়ার্ক ভাঙন: অস্ত্র-মাদকসহ ৯১ জন আটক

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২১ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

এ সকল অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, ডাকাত, অবৈধ অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, দালাল, অসাধু ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তসহ মোট ৯১ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে— ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১২ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন, বিভিন্ন চোরাই মালামাল ও নগদ অর্থ।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসাথে জনগণকে সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি: ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা লুট

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্য বেতাগী এলাকায় বুধবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডাকাতদের হামলায় বাড়ির দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রাখে।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, “ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে খালেদ আহমদ (২৪) ও জাবের আলমকে (২০) তারা মারধর করে। এরপর আলমারি ভেঙে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যাংকের চেকবইসহ মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়।”

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব জানান, “বাড়ির পাশের একটি কবরস্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পালানোর সময় ডাকাতরা এগুলো ফেলে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

‘“চৌধুরী পরিবারের শক্তি তাকবিরের স্লোগান: হুম্মাম কাদের চৌধুরী”

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “অনেকেই অনেক কথা বলে, চৌধুরী পরিবারের আসল শক্তি হলো নারায়ে তাকবির।”

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের লিচুবাগান চত্বরে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “যদি মনে হয় বিএনপির কোনো নেতা আপনার কাছ থেকে চাঁদা চেয়েছে, তবে এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। এর শাস্তি আমি নিজেই দেব। দল হয়তো বহিষ্কার করবে, কিন্তু আমি খালি বহিষ্কার করব না—চোখে চোখ রেখে বলতে হবে কে চাঁদা চেয়েছে, তারপর পরিস্থিতি কী হবে আপনারাই জানবেন।”

তিনি বলেন, “অনেকেই বলে ভাইয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি বলছি, আমি একশন নেব না—আপনারাই ব্যবস্থা নেবেন। এটা আপনাদের দায়িত্ব।”

সভায় নেতাকর্মীদের স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাকে তাকবির দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি বলছি, এটা শুধু আমার তাকবির নয়—এটা রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি মুসলমানের তাকবির। এখন থেকে দুইটা স্লোগান দিতে হবে—‘জিয়ার সৈনিক’ আর ‘নারায়ে তাকবির’।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি একসাথে থাকি, একে অপরের পাশে দাঁড়াই, আমাদের হারানোর কেউ থাকবে না। আমরা বিএনপির সদস্য হলেও বারবার প্রমাণ করি, রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে পাক্কা মুসলমান নেতৃত্ব দিচ্ছে।”

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “প্রার্থী যেই হোন না কেন, আমাদের দায়িত্ব একটাই—বিএনপির প্রার্থীকে জয়ী করে সংসদে পাঠানো। এজন্য আমার ও আমার দলের পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে আপনাদের।”

বাবার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে হুম্মাম বলেন, “আজ আপনাদের দেখে মনে হলো আমি এতিম নই, আমি বাবা হারাইনি। আজ আমার পরিবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে নমিনেশন দিক বা না দিক, আমি দলে থাকি বা না থাকি, আমি বেঁচে থাকি বা না থাকি—ওয়াদা করে যাচ্ছি, আমার পরিবার সারাজীবন এই রাঙ্গুনিয়ার গোলামী করে যাবে।”

রাঙ্গুনিয়ায় একাধিক মামলার আসামি কুপিয়ে হত্যা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় হত্যাসহ একাধিক মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহত মো. রুবেল (৩৫) উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের হারুয়ালছড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, বুধবার গভীর রাতে হারুয়ালছড়ি এলাকায় রুবেলের বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে ওসি বলেন, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা রুবেলের ঘরে প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের গলার বাম পাশ কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “নিহত রুবেল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১১টি মামলা ছিল।”
প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, ঘটনার সময় রুবেলের সঙ্গে মো. মোরশেদ নামে আরও একজন ছিলেন যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলে শোনা গেলেও ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়কের পাশ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

 

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে রোজি আকতার (৫০) নামে এক নারীর পা ও মাথা থেতলানো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের উপজেলার মরিয়মনগর কাটাখালী এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রোজি আকতার(৫০) শিলক ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মো. জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।

থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে রোজি আকতার তার বাপের বাড়ি মরিয়মনগর কালুগোট্টার উদ্দেশ্যে বের হন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী এলাকায় সড়কের পাশে তার পা ও মাথা থেতলানো মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থল তার বাপের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করে পরিবার ও থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় আদালতের রায়ে ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া, নিলামে ইট বিক্রি

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আদালতের রায়ে একটি ইটভাটার ১২০ ফুট উচ্চতার ফিক্সড চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়।

এছাড়াও ইটভাটার সাড়ে ৩ লাখ ইট উন্মোক্ত নিলামের মাধ্যমে তিন লাখ আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকালে উপজেলার দক্ষিণ রাজনগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আল মদিনা ব্রিকস নামক ইটভাটায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান।

সুত্রে জানা যায়, পরিবেশ আদালত, চট্টগ্রাম এর পরিবেশ মামলা নং ০৩/২০১১ এর রায়ের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে মেসার্স আল-মদিনা ব্রিকস-১ ইটভাটাটির ১২০ ফুট উচ্চতার ফিক্সড চিমনি ধ্বংস করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ২০১১ সালের মামলায় জব্দকৃত ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ইট উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়। উক্ত নিলাম কার্যক্রমে সর্বোচ্চ দর ডাককারী মো. সাইফুজ্জামানের কাছে ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে বুঝিয়ে দিয়ে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞ আদালতের রায় বাস্তবায়ন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

 

রাঙ্গুনিয়ায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তৌহিদুল ইসলাম আরিফ (২৬) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার জানান, সকালে আরিফকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। নিহতের বাবা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেমঘটিত বিষয়ে ছেলের সঙ্গে মায়ের ঝগড়া হয় আগের রাতে। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় রুম থেকে বের না হলে দরজা ভেঙে আরিফকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, আপাতত এটি অপমৃত্যু মামলা হলেও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত আরিফ উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সাহাব্দীনগর বলির বাড়ির আবদুল কুদ্দুসের ছেলে।

 

মোবাইলে জুয়া অ্যাপ পেলেই শাস্তি: দুই বছরের জেল ও অর্থদণ্ড

ডেস্ক: মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার মাকসুদা আকতার খানম। তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২০ অনুযায়ী অনলাইন জুয়া খেলা, জুয়া-সম্পর্কিত অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি এবং তার প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত সোমবার (২৫ আগস্ট) মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, “যারা মনে করেন অনলাইন জুয়া লটারির মতো সহজে টাকা কামানোর উপায়, তারা খেলার আগে অন্তত দুইবার ভাবুন। আমাদের ধর্ম, সমাজ এবং দেশের আইন কোনোভাবেই জুয়াকে সমর্থন করে না।”

তিনি আরও জানান, মেহেরপুর জেলাকে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। মোবাইলে জুয়া অ্যাপ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামিনুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল করিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোপালসহ জেলার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি।

শেষে পুলিশ সুপার সবাইকে অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই অপরাধে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।”

রাঙ্গুনিয়ায় বেতাগীর চম্পাতলীতে ব্রীজ ভেঙে জনদুর্ভোগ

এম জাহাঙ্গীর নেওয়াজ, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ মধ্য বেতাগী চম্পাতলী এলাকার একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে একটি ব্রীজ ভেঙে পড়ার কারণে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোটারি বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, হাফেজ হাকিম মাওলানা মুহাম্মদ বজলুল রহমান (রহ.) ঈদগাহ ও চম্পাতলী কবরস্থানে আসা-যাওয়া করা সাধারণ মানুষ, এবং আশপাশের হাজারো বাসিন্দা প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। কয়েক মাস ধরে ব্রীজটি ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৪ আগস্টের পর কিছু মাটি খেকোদের ভারী যানবাহনের চলাচলের ফলে ব্রীজটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই ব্রীজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একজন বাসিন্দা মুহাম্মদ তৈয়ব জানান, “এই সড়ক দিয়ে অনেক মানুষ কষ্ট করে চলাচল করে। কেউ মারা গেলে লাশ অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে কবরস্থানে নিয়ে যেতে হয়।”

এদিকে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জানান, বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। তিনি আরও জানান, “সরকারি কোনো বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “ব্রীজটি নিয়ে আমি চেষ্টা করছি, আগামী মাসে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এলজিইডি (LGED) অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হাইকোর্টে নতুন ২৫ অতিরিক্ত বিচারপতির শপথ গ্রহণ

সংগৃহীত ছবি

ডেস্ক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নবনিযুক্ত ২৫ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, সোমবার রাতে তাদের নিয়োগ দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ২৫ ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন। এ নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

এই ২৫ জন বিচারপতির মধ্যে ৯ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ৯ জন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ৭ জন আইন কর্মকর্তা অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শপথগ্রহণের পর থেকেই তাদের নিয়োগ কার্যকর হয়েছে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিচারপতিরা হলেন— সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঞা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ, ফয়সাল হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসিব হাসান, মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবির, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ-এ-মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর মো. রফিকুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান, রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার
উদ্দিন মাহমুদ।

 

বাবার রিকশার ব্যাটারি চুরি, ছেলে জড়িত—গ্রেপ্তার ২

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: 

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চোরাই ব্যাটারিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শফাতুল মাজদার জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামালসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—অভিযোগকারীর ছেলে মো. আরাফাত হোসেন (২২) ও চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার বাসিন্দা তরিকুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম (৩২)।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নে আব্দুল মালেক ওরফে মানিক (৪৬) নামে এক ব্যক্তির নিজস্ব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে চারটি ব্যাটারি চুরি হয়। প্রতিটি ব্যাটারির মূল্য ২৫ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা।

ঘটনার পর রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। এসময় মো. আরাফাত হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন এবং কামরুলসহ অন্যদের নাম প্রকাশ করেন।

এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের পাশে কামরুলের মালিকানাধীন ভাঙারির দোকান থেকে চুরি হওয়া চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে কামরুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দুজনের বিরুদ্ধে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

ভূমিদস্যুদের কোনো ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: ভূমিদস্যুদের কোনো অবস্থায় ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “সবাইকে একযোগে ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করতে হবে।”

মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জে শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় লুট করা অস্ত্র দিয়ে পুলিশের ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যৌথ বাহিনী। খাল দখলকারীদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শুভাঢ্যা খাল এলাকায় ভূমিদস্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “খালের পাড় যেন পুনরায় কেউ দখল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ঢালাই করে সুরক্ষা দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, খাল দখল ও দূষণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার, গোপন থাকবে তথ্যদাতার পরিচয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

 

ডেস্ক:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। প্রতিটি গুলির জন্য ৫০০ টাকা, এলএমজি পাঁচ লাখ টাকা, চায়না রাইফেল এক লাখ, এসএমজি এক লাখ পঞ্চাশ হাজার, পিস্তল ও শটগান উদ্ধারে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।
“যেসব ব্যক্তি অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তা করবেন, তাদের পরিচয় সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।”

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে এখন অনেক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। এ নিয়ে কারও কাছে কোনও তথ্য থাকলে দিতে বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগেই ছিনতাই ও চাঁদাবাজি কমে আসবে।

সড়কে যানবাহন বন্ধ করে চলাচলের অপরাধে শিগগিরই গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারকে শোকজ করা হবে বলেও জানান তিনি।