৯ মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে মিজানের মৃত্যু, ২২ লাখ টাকা বকেয়া; মরদেহ আনতে প্রয়োজন অর্থ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘ নয় মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মো. মিজানুর রহমান (৩৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মিজানুর রহমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।

নিহতের ভাই মো. এনাম জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে মিজানের কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে কেমোথেরাপির চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা বিল বাবদ প্রায় ২২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে সংকটের কারণে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

মিজানের চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পরও বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের কারণে নতুন করে আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ বাড়িতে এনে যথাযথভাবে দাফন সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা।

এদিকে মিজানের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশ-বিদেশে থাকা হৃদয়বান ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে নগদ সহায়তা ও প্রতিশ্রুত অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে বলে জানিয়েছেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরী।

ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, মিজানের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করতে আরও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

মিজানের পরিবার তার মরদেহ দ্রুত বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাংক এশিয়ার রেমিট্যান্স সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্যোগে ‘রেমিট্যান্স সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে অবস্থিত দক্ষিণ রাজানগর ইউডিসি এজেন্ট পয়েন্টে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. মতিউর রহমান উপস্থিত গ্রাহক ও অতিথিদের রেমিট্যান্স সুরক্ষা, নিরাপদে রেমিট্যান্স লেনদেন এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত গ্রাহকদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স সেবা ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়ে মতামত গ্রহণ করা হয়। গ্রাহকরা সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

কর্মশালায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিরাপদে গ্রহণ, গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈধ ও নিরাপদ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আরও সহজ ও মানসম্মত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

কর্মশালায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্যোক্তাসহ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।

দাখিলে ভালো ফল, মানিকছড়িতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলায় প্রতিষ্ঠিত যোগ্যাছোলা সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় মাদ্রাসার মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আবদুল মোমিন ও মাওলানা ইউসুফ আলীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার সুপার মুফতি মির্জা মো. মজিবুল হক।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন যোগ্যাছোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান, আল হেরা বিদ্যা নিকেতনের অধ্যক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীন ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ডা. মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা বেলাল উদ্দিন, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা মো. ইউনুছ মিয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্ব শেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

খাগড়াছড়িতে বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি):

পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় তিন সপ্তাহব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে দীঘিনালা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। এতে উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নের ৩৬ জন বেকার যুবক অংশগ্রহণ করছেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড রিপেয়ার’ এবং ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মোবাইল রিপেয়ার’—এ দুটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত খরচসহ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের দীঘিনালা সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকেরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

রাঙ্গুনিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ মাসের এডহক কমিটি, সভাপতি ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছয় মাসের মেয়াদে এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম।

২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বোর্ডের স্মারকে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রবিধানমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুমোদিত কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত সভাপতি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম মিজানুর রহমান পদাধিকারবলে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন সিকদারকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য এবং সাংবাদিক মো. আব্বাস হোসাইন আফতাবকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য করা হয়েছে।

স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবিধানমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি ম্যানেজিং কমিটির সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবে।

চোখ বন্ধ রাখলে কাল আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হবে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে এএসপি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা বাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‍্যালি ও সমাবেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের ধরছি এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে শুধু গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবার থেকেই শুরু করব। প্রতিটি পরিবার যদি মাদকমুক্ত থাকে, তাহলে পাড়া-মহল্লা মাদকমুক্ত হবে। এভাবে ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসময় পুরো দেশকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’

পোমরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, পোমরাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মাদক নির্মূলে বড় ধরনের সফলতা আসবে।

তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণ প্রজন্ম যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সহযোগিতার প্রশংসা করে এএসপি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ছাড়িয়ে নিতে কোনো পর্যায়ের কেউ তদবির করেননি। এটি অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক বিষয়। আমরা আশা করি, অভিযান চলাকালে কেউ কোনো মাদকসেবী বা মাদক কারবারির পক্ষে থানায় কিংবা অন্য কোথাও অবৈধ তদবির করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ হয়তো আপনার পরিবার মাদকে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু আপনার পাশের একজন আক্রান্ত হয়েছে। আপনি যদি চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন—কাল আপনার সন্তান বা আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিজের পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’

সমাবেশে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গোচরা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

পাহাড়ধস ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়ার ৮০ পরিবার পেল ঢেউটিন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : পাহাড়ধস ও অতিবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় থাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ৮০ পরিবার পেল ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন। প্রতিটি পরিবারকে এক বান করে মোট ৮০ বান ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এসব ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢেউটিন বিতরণ করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার নাজনীন সেতু, জেলা বিএনপি নেতা অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, আজম খাঁন, শওকত আলী নুর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন শাহ, জেলা যুবদল নেতা ও ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির আজীবন সদস্য আবুল কালাম আজাদ খাঁনসহ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, গত জুলাই মাসে টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অসহায় ও নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বসতঘর মেরামত নিয়ে সংকটে পড়ে। অর্থের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর সংস্কার করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল এসব পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির অর্থায়নে এ ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢেউটিন পাওয়ায় পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পটিয়ায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পেল মেধা বৃত্তি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : ‘শিক্ষাই হোক সকল অগ্রগতি, উন্নতি ও সমৃদ্ধির মূলমন্ত্র’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ‘মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’-এ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া পৌরসভার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে ট্যালেন্টফুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি দেওয়া হয়।

মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শেভরন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুল আলম। প্রধান আলোচক ছিলেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম চট্টগ্রামের সেক্রেটারি ডা. মো. ইরফান উদ্দীন সজীব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একর্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, পটিয়া সেন্ট্রাল কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন, প্রবাসী ও সমাজসেবক গাজী আবুল কালাম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চাকতাই শাখার ম্যানেজার (অপারেশন) হাশমত আলী, মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষার উপদেষ্টা জসীম উদ্দীন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার আবুল কালাম।

অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আমিনুল ইসলাম রায়হান ও গাজী আবুল হাসনাত মো. জোবাইর।

বক্তারা বলেন, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

অসহায় তিন পরিবারের পাশে এমপি এনামুল হক এনাম, ঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাওয়ারখীল গ্রামের হতদরিদ্র তিন পরিবারের বসতঘর অতিবৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ভেঙে পড়েছে। আশ্রয়ের শেষ সম্বল হারিয়ে মো. ইয়াকুব, মো. নাসির ও আবদুল হাকিমের পরিবার এখন অনেকটা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পর ওই তিন পরিবারের খোঁজখবর নিতে ছুটে যান পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। শনিবার বিকেলে বৃষ্টিতে ভিজে তিনি সরেজমিনে তিন পরিবারের দুর্দশার চিত্র দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পটিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাওন ভূঁইয়া।

পরিদর্শন শেষে এনামুল হক এনাম এমপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা হলো—যেখানে মানুষের সমস্যা, সেখানে স্থানীয় এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের ছুটে যেতে হবে। লাওয়ারখীল এলাকার হতদরিদ্র পরিবারগুলোর খবর পেয়ে দেরি না করে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ছুটে এসেছি। এসে দেখলাম, তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। শিগগিরই এ তিনটি বসতঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ এলাকাটি বর্ষায় অতিরিক্ত পানিতে ডুবে থাকে। এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলে দিয়েছি, যাতে দ্রুত এখানে এসে ব্লক বসানোর ব্যবস্থা করা হয়।’

স্থানীয়রা বলেন, বিগত সময়ে ওই এলাকায় সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও মানুষের সমস্যায় কেউ এগিয়ে আসেননি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবহেলিত ছিল। এনামুল হক এনাম এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর অবহেলিত এলাকাটি পরিদর্শনে আসায় তারা আশার আলো দেখছেন।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-অর্থ সম্পাদক মোরশেদ শফি হিরু, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. ইসমাইল, মাহবুবুর রহমান, মো. সাইফুদ্দীন, মুজিবুর রহমান, আজিজুর রহমান সায়েম, জাসাস নেতা মো. হারুন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম নয়ন, রেজাউল করিম মিজান, ছাত্রদল নেতা মো. তুষার, কামরুল ইসলাম জুয়েল, সাকিবসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রাউজানে ভিমরুলের কামড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু, আহত-১

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে ভিমরুলের কামড়ে নাজিম উদ্দীন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মাহাবুল আলম নামে আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ছিটিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিম উদ্দীন ওই এলাকার অছি মিয়া সওদাগর বাড়ির মৃত বজল আহম্মেদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিম উদ্দীন ও মাহাবুল আলম স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে চা-নাস্তা খেয়ে সড়কে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল ভিমরুল তাদের ওপর আক্রমণ করে। ভিমরুলের কামড়ে দুজনই গুরুতর আহত হন।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নাজিম উদ্দীনকে স্থানীয় জে.কে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে আহত মাহাবুল আলমকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নাজিম উদ্দীনের মৃত্যুর বিষয়ে জে.কে হাসপাতালের চিকিৎসক স্বপন কান্তি দাশ বলেন, ভিমরুলের কামড়ে আক্রান্ত একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহাজান বলেন, ভিমরুলের কামড়ে আহত এক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ার আগেই দ্রুত ইনজেকশন দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পর তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।

ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে টমটম উল্টে মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

চকরিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে টমটম উল্টে তানহা মনি (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চকরিয়া-কোরাইয়াঘোনা সড়কের কাহারিয়াঘোনা স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তানহা মনি চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা এলাকার বাসিন্দা এবং চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা জাফর আলমের মেয়ে। সে স্থানীয় মগবাজার মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে তানহা মনি তার ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে একটি টমটমে করে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। কাহারিয়াঘোনা স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে টমটম চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে টমটমটি উল্টে গেলে তানহা ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করেন। তবে ট্রাকটির চালক ও সহকারী পালিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, জব্দ করা ট্রাকটি চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকার নাজিম উদ্দীনের।

স্থানীয়রা ট্রাকটির মালিক ও চালককে আইনের আওতায় এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মা হারানোর পর বাবার কষ্টে বেড়ে ওঠা, ১১ বছরেই পানিতে ডুবে সায়েদের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শিলক খালের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ সায়েদ হোসেন (১১) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সায়েদ হোসেন পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুধপুকুরিয়া এলাকার আবছার হোসেনের ছোট ছেলে। সে দুধপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে খেলতে বের হয়েছিল সায়েদ। পরে বাড়ি ফেরার পথে তীব্র গরমের কারণে স্টিল ব্রিজ দিয়ে না গিয়ে শিলক খাল সাঁতরে পার হয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে সে। একপর্যায়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় শিশুটি।

পরে স্থানীয়রা খালে খোঁজাখুঁজি করে সায়েদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা তারেক চৌধুরী জানান, সায়েদের বয়স যখন মাত্র ৪০ দিন, তখন তার মা মারা যান। এরপর বাবা আবছার হোসেন কাঠুরিয়ার কাজ করে অনেক কষ্টে তিন ছেলেকে বড় করে তুলছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সায়েদ ছিল সবার ছোট।

তারেক চৌধুরী বলেন, ‘অবুঝ এই শিশুটি মাত্র ১১ বছর বয়সে পানিতে ডুবে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।’

সায়েদের অকালমৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় মাদক সেবনের অভিযোগে যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অভিযোগে আবু মুছা (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, পিপিএমের দিকনির্দেশনায় এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক সেবনের অভিযোগে আবু মুছাকে আটক করা হয়।

আবু মুছা পূর্ব সরফভাটা এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা শেষে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মো. শাহিন মিয়া, এএসআই মো. ইসমাইল হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর পোমরা ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন (৩৫) উপজেলার পশ্চিম পোমরা, বুড়ির দোকান এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এসআই দেলোয়ার হোসেন, এসআই নাজমুল হাসান, এএসআই মো. আবদুর রহিম, এএসআই রুহুল আমিনসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেয়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়ায় ধর্ষণ মামলার ২ ঘণ্টার মধ্যে একমাত্র আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি মো. ফজলু আলমকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মাদ্রাসায় ফেরার পথে ফজলু আলম তাকে মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নেন। পরে শিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা রুজুর পর রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। পরে থানার এসআই মিজানুর রহমান, এসআই মাহফুজুর রহমান, এসআই আবু নাসের, এএসআই আব্দুর রহিম, এএসআই কিংকর, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. আলমগীরসহ পুলিশ সদস্যরা রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান।

অভিযানের একপর্যায়ে মামলার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফজলু আলমকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে নতুন নেতৃত্ব, চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আগের কমিটি ও অস্থায়ী চেয়ারম্যানকে সরিয়ে ১৫ সদস্যের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার আপার পেরাছড়া এলাকার বাসিন্দা ম্রাসা থোয়াই মারমা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনী আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নতুন এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে।

পুনর্গঠিত পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমার সঙ্গে সদস্য হিসেবে রয়েছেন রিপল চাকমা, শান্তি প্রিয় চাকমা, দেব রানী চাকমা, মো. নুরুল আবছার, মো. আ. মালেক, মোশাররফ হোসেন, ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, খনি রঞ্জন ত্রিপুরা, নারায়ণ ত্রিপুরা, রুমেল মারমা, মংসাপ্রু চৌধুরী, কারী মগ, তাছলিমা সিরাজ সিমা ও কুহেলী দেওয়ান।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন এই পরিষদ সংশ্লিষ্ট আইনের সব সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর গঠিত পূর্ববর্তী পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শেফালিকা ত্রিপুরার নিয়োগও বাতিল করা হয়েছে।

নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো।

রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের স্বপ্নে দুর্বৃত্তের হানা, উপড়ে ফেলল পুরো কুমড়ার ক্ষেত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের মিষ্টি ও চাল কুমড়ার পুরো ক্ষেত উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতল কাতালশাহ পাড়ার উত্তর পাশের পাহাড়ি ঢালু জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুর মৌজার বাপের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি গাবতল কাতালশাহ পাড়ার উত্তর পাশে প্রায় ৩৬ শতক জমিতে মিষ্টি ও চাল কুমড়ার চাষ করেছিলেন।

কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তিনি ওই জমিতে কুমড়া চাষ শুরু করেন। গাছ বড় হওয়ার পর মাচা তৈরিতে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রায় ৬০টি বীজতলা থেকে শতাধিক গাছ সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছিল। শিগগিরই গাছগুলোতে ফুল ও ফল আসার কথা ছিল।

তবে বুধবার রাতে কে বা কারা অজ্ঞাত কারণে ক্ষেতের সব গাছ মাটি থেকে উপড়ে ফেলে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতে গিয়ে পরম যত্নে গড়ে তোলা সব গাছ ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকলে আমার সঙ্গে থাকতে পারে, কিন্তু আমার এই অবুঝ ক্ষেতের সঙ্গে কীসের শত্রুতা? কয়েকদিন আগে ধার করে টাকা এনে ক্ষেতে সার দিয়েছি। দেড় মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ক্ষেতটি গড়ে তুলেছিলাম। অথচ এক রাতেই তারা আমার সব শেষ করে দিল। এতে আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে এমন কাজ করতে পারে! আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক পরেই গাছগুলোতে ফুল ও কুমড়া আসার সময় ছিল। তার আগেই ক্ষেতের গাছগুলো এভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিটন দাশ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিভাইস আসক্তি কমানোর আহ্বান, নাজিরহাটে ১৩ কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধিত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারী শিক্ষা জাগরণে অনন্য প্রতিষ্ঠান নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও ব্যাংকার মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন নিয়ে না আসে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সময়মতো ক্লাস শুরু ও শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পরিবার, শিক্ষক ও বিদ্যালয়েরও গৌরব। শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, সময়ের মূল্যায়ন এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ব্যর্থতা এলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন।

বিশেষ অতিথি সাংবাদিক এস এম আক্কাছ অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আরও যত্নবান হতে হবে। একই সঙ্গে ডিভাইসের প্রতি তাদের আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা এবং নারী শিক্ষা জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক, উদ্যোক্তাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সে লক্ষ্যে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম, শিক্ষক পারভেজ সোবহান, মহিউদ্দিন ও মো. মজিদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

সমাবেশ শেষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

পটিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ডায়াপারে নতুন তারিখ, জরিমানা ২ লাখ ৫০ হাজার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ বেবি ডায়াপারের গায়ে পুরোনো মেয়াদ মুছে নতুন তারিখ বসিয়ে বাজারজাত করার অভিযোগে হাক্কানিয়া পেপার অ্যান্ড পাল্প মিলকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত এবং পণ্যের মেয়াদ যথাযথভাবে উল্লেখ না করায় আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া ও হালিম খাঁর চর এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় এবং পটিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়।

অভিযানে পাচুরিয়া-হালিম খাঁর চর এলাকায় অবস্থিত হাক্কানিয়া পেপার অ্যান্ড পাল্প মিলে তল্লাশি চালানো হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা বেবি ডায়াপারের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার পর পুরোনো মেয়াদের তথ্য মুছে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ও ডিসেম্বর ২০২৮ সালের নতুন মেয়াদ বসিয়ে সেগুলো বাজারজাত করে আসছিল।

এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির মজুত থেকে প্রায় ২০ হাজার পিস মেয়াদোত্তীর্ণ বেবি ডায়াপার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ডায়াপারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ টাকা।

এদিকে, হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া মোড় এলাকার খাজা হোটেলকে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য রান্না ও প্রস্তুতের অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকার ক্যাফে ফুলবনকে উৎপাদিত পণ্যের মেয়াদ যথাযথভাবে উল্লেখ না করা এবং অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ ও সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান।

অভিযান বিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্য, ফরহাদাবাদে ১১ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): ‘শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তাদের সাথে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফরহাদাবাদে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কেন্দ্রের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের আশ্রয়ে থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মুজাহিদুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আইয়ুব।

চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতারের সভাপতিত্বে এবং আউটরিচ ওয়ার্কার বিপুল চন্দ্র পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। তেলাওয়াত করেন কেন্দ্রের নিবাসী শিশু মো. নাঈম।

পরে কেন্দ্রের আশ্রয়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত ১১ জন এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন প্রধান অতিথি। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করে অতিথিরা বলেন, প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাদের এই অর্জন অন্য শিশুদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিকে, একই দিনে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে ‘শিশুর বিকল্প পরিচর্যা’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, ‘কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের সর্বোত্তম সেবা প্রদান এবং শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও লেখার দক্ষতা বিকাশে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল। প্রতি তিন মাস পরপর দেয়ালিকা প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার আলমশাহপাড়া কামিল মাদ্রাসার হলরুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একই দিন তিনি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের দেয়ালিকা উদ্বোধন করেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রতি তিন মাস পরপর দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদ্রাসার শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি মাদ্রাসার আরবি ক্লাব ও ইংরেজি ক্লাব পরিদর্শন করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ৮০ উপকারভোগীর মাঝে কারিতাসের অনুদান বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কারিতাসের সিএমএলআরপি প্রকল্পের আওতায় চারটি ইউনিয়নের ৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে দুই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে একটি হুইলচেয়ার ও এক জোড়া ক্রাচ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৮০ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং অপরজনকে ক্রাচ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক চয়ন হিউবার্ট রিবেরু।

কারিতাসের সিএমএলআরপি প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মো. এমদাদুল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ, উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুকুমার তালুকদার, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ রাঙ্গুনিয়ার সমন্বয়কারী মো. ইয়াহিয়া, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী।

এ সময় কারিতাস রাঙ্গুনিয়ার এরিয়া ম্যানেজার বিজন কান্তি দে, মাঠ কর্মকর্তা গৌরী ভট্টাচার্য, এনিমেটর ছাইথোয়াই মামা, প্রিয়তোষ তঞ্চঙ্গ্যা ও মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আওতাধীন চারটি ইউনিয়নের ৩০ জন উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙ্গুনিয়ায় খালে মাছ ধরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন কৃষক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে কুরমাই খালে ডুবে মো. বখতিয়ার হোসেন (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদ তালুক এলাকার কুরমাই খাল থেকে স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত বখতিয়ার হোসেন দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জিন বাড়ির রমজান আলীর ছেলে। পেশায় কৃষক হলেও তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। তাঁর ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বখতিয়ার বাড়ির অদূরে পাহাড়ি এলাকায় তাঁর নিজের খামারে যান। সেখানে কৃষি প্রকল্প ও দুটি গরুর দেখাশোনার পাশাপাশি প্রতিদিনের মতো কুরমাই খালে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে নামেন। মাছ ধরার একপর্যায়ে তিনি নিখোঁজ হন।

স্থানীয় মোহাম্মদ ইলিয়াস কবির জানান, বখতিয়ার হোসেনের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত শারীরিক জটিলতা ছিল। মাছ ধরার সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবার অগোচরে তিনি খালে পড়ে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খালের পাড়ে তাঁর খাবারের বাটি ও ছাতা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বুধবার বিকেল থেকে তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে কুরমাই খালে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাঁরা খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

বখতিয়ার হোসেনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) জামে মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ছাদেকের পাড়া এলাকার পুরোনো বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।

মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের জন্য প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা দিলেন রাঙ্গুনিয়ার ওসি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আয়োজিত সমাবেশে মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের সতর্ক করে বলেন, “যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, এটিই তাদের জন্য প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা।”

তিনি বলেন, “মাদকসেবীর কোনো স্থান নেই, মাদক বিক্রেতার কোনো স্থান নেই, ইভটিজারের কোনো স্থান নেই। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হলে সমাজে কোনো অপরাধী মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

ইভটিজিং প্রতিরোধে স্থানীয়দের আরও সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, “স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেউ হয়রানি করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানেই ইভটিজিং হবে, সেখানেই আপনাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।”

সমাবেশে বক্তব্য দেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক মুবিনুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম সাজু, জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহনিয়াজ মোরশেদ তোহা, উপজেলা জিসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সোহেল, নেজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জনসচেতনতামূলক এ র‍্যালি ও সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

খাগড়াছড়িতে বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি ও ৫ কোটি টাকার আইস উদ্ধার

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি এবং প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ক্রিস্টাল মেথ-আইস উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার গভীর রাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির যামিনীপাড়া জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খালিদ ইবনে হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল গৌরাঙ্গপাড়া তিন রাস্তার মোড়ে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপন করে।

রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে পানছড়ির দিক থেকে দুই আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল চেকপোস্টের কাছে এলে বিজিবি সদস্যরা থামার সংকেত দেন। মোটরসাইকেলটি প্রথমে গতি কমালেও পরে দ্রুত ঘুরে তাইন্দংয়ের দিকে পালিয়ে যেতে শুরু করে।

এ সময় বিজিবির টহল দল মোটরসাইকেলটির পিছু নেয়। প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ধাওয়া করার একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি মূল সড়ক ছেড়ে বিরাশিটিলার সড়কে ঢুকে পড়ে।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি, কাদা, অন্ধকার ও সরু সড়কের কারণে টহল গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। এ সুযোগে আরোহীরা রাস্তার পাশের একটি কালভার্টের নিচে মোটরসাইকেলটি ফেলে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে বিজিবি সদস্যরা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালান। এ সময় মোটরসাইকেলের সিটের নিচ থেকে ম্যাগাজিনসহ দুটি বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ-আইস উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির যামিনীপাড়া জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খালিদ ইবনে হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া ক্রিস্টাল মেথ-আইসের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়িতে এবারই প্রথম ক্রিস্টাল মেথ-আইস উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পালিয়ে যাওয়া দুই আরোহীকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

হালদার জোয়ারের পানিতে ডুবছে সড়ক-লোকালয়, দ্রুত স্লুইসগেট নির্মাণের দাবি

মো. আলাউদ্দীন আরিফ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হালদা নদীর জোয়ারের পানি প্রতিদিন লোকালয়ে ঢুকে সড়ক ও বাড়িঘর তলিয়ে যাচ্ছে। এতে গড়দুয়ারা ও মেখল ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জোয়ারের পানি সড়কে উঠে যাওয়ায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে স্লুইসগেট নির্মাণ ও খাল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হালদা নদীর তীরবর্তী গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গচ্চালি শাখা খালের পশ্চিম পাশ দিয়ে এবং দায়মুদ্দিন সারাং বাড়ির উত্তর পাশ দিয়ে প্রতিদিন জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং মেখল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে মেখল-আজিজিয়া-মজিদিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে জোয়ারের সময় ওই সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। পানি না নামা পর্যন্ত শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের সড়কে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় পানি নেমে যাওয়ার পরও যান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

স্থানীয়রা জানান, হালদার জোয়ারের পানি সরাসরি গচ্চালি শাখা খাল দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় অনেকের বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করে। জোয়ারের তীব্র স্রোতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সংবাদকর্মী খোরশেদ আলম শিমুল, শফিক আহমদ ভুট্টু ও কামাল হোসেন বলেন, হালদা নদীর জোয়ারের পানি সরাসরি গচ্চালি শাখা খাল হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে অনেকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে যায়। কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

পূর্ব মেখল এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ সেলিম, সেকান্দর, রায়হান ও মহরম বলেন, জোয়ারের কারণে আজিজিয়া-মজিদিয়া সড়কে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পানি জমে থাকে। এ সময় যানবাহন চলাচল করা যায় না। গাড়ি চালাতে না পারায় তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ থাকে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

গড়দুয়ারা ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহতাদি কাউনাইন মিহরাব, হাটহাজারী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুলহাজ আনোয়ার ও তারেক আহমদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিকেল ৪টায় স্কুল-কলেজ ছুটির পর হাটহাজারী কলেজ গেট এলাকায় সড়কে জোয়ারের পানি থাকলে সিএনজি অটোরিকশাগুলো গড়দুয়ারার দিকে যেতে চায় না। ফলে সড়ক থেকে পানি না নামা পর্যন্ত তাদের হাটহাজারীতেই অপেক্ষা করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে হালদা নদীর শাখা খালের মুখে দ্রুত একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে শাখা খাল সংস্কার ও খালের পাড় উঁচু করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, দ্রুত স্লুইসগেট নির্মাণ ও খাল সংস্কার করা হলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হবে।

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পটিয়া আইনজীবী সমিতি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পটিয়া আইনজীবী সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি মাকছুদা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এ নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কবিশেখর নাথ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানজিনা জাহান, পাঠাগার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসাইন, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম রফিকুল আলাম ওসমানী, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য অ্যাডভোকেট আমিনুল নিজামী রিফাত, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া সিকদার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. মানিক (মেম্বার)সহ অন্যরা।

নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানকালে পটিয়া আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তারা আরও বলেন, বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

পটিয়ায় একের পর এক বিদ্যালয়ে চুরি, এক সপ্তাহে ১০টির বেশি ঘটনা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় একের পর এক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার অন্তত ১০টি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

সর্বশেষ সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের সীতাবিধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ও দরজা ভেঙে বিভিন্ন মালামাল, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় চোরের দল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয় বন্ধ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পরদিন সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোবাইল ফোনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা জানালে তিনি দ্রুত সেখানে যান।

বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অফিস কক্ষের তালা ও দরজা খোলা এবং ভেতরের একটি আলমারি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। চোরেরা অফিস কক্ষ থেকে একটি প্রিন্টার, একটি রাউটার, একটি অণু, একটি পিতলের ঘণ্টাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এছাড়া আলমারিতে রাখা প্রায় ২ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে যায় তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী রানী দাশ জানান, রোববার রাতে অথবা সোমবার ভোরে চোরের দল এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১১ আগস্ট রাতে একই ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামে দুটি বিদ্যালয়ে একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় দুটি হলো আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পূর্ব আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর দুই দিন পর ১৩ আগস্ট আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া কুসুমপুরা, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “প্রতিদিনই আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদকসেবীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মাদকের স্পট চিহ্নিত করে ব্লক রেইড করা হবে। মোবাইল কোর্টে সাজা বাড়ানোর জন্য ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

সাতকানিয়ায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইষ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার রোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আমীর হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা খোরশেদ আলম।

এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব, মোজাম্মেল হক, শিক্ষক ইমরান হোসাইন, মোহাম্মদ ইদ্রিস, সাংবাদিক ইমরান সোহেল, মো. ইউছুপ, সেলিম উদ্দিন, আজগর আলী, আমিনুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, আবুল কাশেম, ইউনুস, মোহাম্মদ আলী, আহত কামাল উদ্দিন, শাহরিয়ারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, এর প্রভাব একটি পরিবার ও পুরো সমাজের ওপর পড়ে। মাদকের কারণে তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

মানববন্ধন থেকে আমিলাইষ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ পুরো এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন আয়োজকেরা।

লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাজমুল মোস্তফা আমিন, রোগীদের হাতে দিলেন মৌসুমী ফল

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে শুনলেন নানা সংকট

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য লায়ন নাজমুল মোস্তফা আমিন। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সহমর্মিতার নিদর্শন হিসেবে রোগীদের মাঝে মৌসুমী ফল বিতরণ করেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এর আগে হাসপাতালের কনফারেন্স হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নাজমুল মোস্তফা আমিন। এ সময় হাসপাতালের জনবল সংকট, চিকিৎসাসেবার মান, রোগীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা শোনেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল ইফরান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নুসরাত জাহান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের প্রথম সহসভাপতি আবু সেলিম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও চরম্বা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম (লিটন), উপজেলা যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রদল নেতা নুরুল ইসলাম, মো. রিয়াদ, ছাত্রদল নেতা মো. কায়েস উদ্দীনসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, “মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক দায়িত্ব। একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে কষ্ট না পান, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান সমস্যা ও সংকটগুলো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে রোগীরা আরও উন্নত সেবা পাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও রোগীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

পরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।