রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে তিন দশকের পথচলার ইতি, শেষ কর্মদিবসে সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক মহসিন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞানদান আর সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা। এভাবেই কেটে গেছে জীবনের ৩০টি বছর। দীর্ঘ তিন দশকের কর্মজীবন শেষে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিদায় নিলেন অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মহসিন। শেষ কর্মদিবসে সহকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে তাঁর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সহকর্মীরা তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আনিছুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবু ইউসুফ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম সুজাউদ্দিন, সাবেক অধ্যাপক এন কে এম শাহরিয়ার, আবু মোহাম্মদ নুরুল মোমেন চৌধুরী ও সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবিত্রী দাশ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. জাহেদুল আলম, অধ্যাপক নাছিমা আক্তার, মোহাম্মদ মোকতার হোসেন, ড. মর্তুজা মোরশেদুল আনোয়ার, হোমায়রা রওশন, সালাহ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, নাসির উদ্দিন সিকদার, জয়নাল আবেদীন, ইফতেখার আলম লাভলু, ইফতেখার হোসাইন, তাহমিনা ইয়াসমিন নূর ও মোতাহের হোসাইনসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক মো. মহসিনের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে বিদায় জানাতে গিয়ে বক্তারা তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিন দশকের কর্মজীবন শেষে অধ্যাপক মো. মহসিনের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সময় বেঁধে দিলেন

রাঙ্গুনিয়া টুডে অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে চার ঘণ্টারও কম সময়ে ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পরিদর্শন শুরু করে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন স্থানের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন।

পরে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন। অন্যদিকে, আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের একপর্যায়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসকের কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

আকস্মিক এসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিশুদের নিরাপদ সড়কের পাঠ দিচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন—সচেতনতায় এগিয়ে আসুক আগামীর প্রজন্ম’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিশুদের নিরাপদ সড়ক চলাচল, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএমের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় হাটহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধুরং খুলশী লায়নস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক), টিআই (প্রশাসন), হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি জোনে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাস্তা পারাপারের সঠিক নিয়ম, ফুটপাত ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারসহ সড়কে চলাচলের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চলাচলের বিভিন্ন নিয়ম তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। নিজেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি পরিবার ও আশপাশের মানুষকেও সচেতন করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়।

সড়ক নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া, শিক্ষক ও বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার এড়িয়ে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সময় দেওয়ার বিষয়েও তাদের উৎসাহিত করা হয়।

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়। শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও পুলিশের এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদারে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইলা বড়ুয়া: অবসরেও থামেনি পাঠদান

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম):

অবসর নিয়েছেন ছয় বছর আগে। কিন্তু থামেনি তাঁর পাঠদান। বয়সের ভার শরীরে, হাতে এখনো চক-ডাস্টার। প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে এসে দাঁড়ান শ্রেণিকক্ষে। সামনে থাকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা। আর শুরু হয় পাঠদান। তিনি ইলা বড়ুয়া—শিক্ষকতা যাঁর কাছে শুধু চাকরি নয়, আজীবনের দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা।

আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব ও শিক্ষকদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই দিনে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন ফটিকছড়ির শিক্ষক ইলা বড়ুয়া। ২০১৯ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি প্রতিদিন ছুটে যান হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নেন তিন থেকে চারটি ক্লাস।

নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হিসাববিজ্ঞান পড়ান তিনি। প্রয়োজন হলে অষ্টম শ্রেণির বাংলা ক্লাসও নেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা এখনো বিলিয়ে দিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের মাঝে।

ইলা বড়ুয়ার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের শুরু ছোটবেলায়। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান তিনি। তাঁর বাবা ভূপেন্দ্র লাল বড়ুয়া ছিলেন সিলেটের একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। বাবাকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াতে দেখে ছোটবেলাতেই তাঁর মনে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন জাগে। সেই স্বপ্ন নিয়েই শুরু হয় তাঁর পথচলা।

১৯৮১ সালে হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ইলা বড়ুয়া। পরের বছর স্বামীর চাকরির সুবাদে ঢাকায় চলে যান। সেখানে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত খিলগাঁও গভর্নমেন্ট কলোনি স্কুলে এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত মাদারটেক বাসাবো বাগানবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

১৯৮৮ সালে আবার ফিরে আসেন হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর কেটে যায় কয়েক দশক। দীর্ঘ এই সময়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। হিসাববিজ্ঞান ছিল তাঁর মূল বিষয়।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার শিক্ষাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে বিদ্যালয়ের পরিবেশও; কিন্তু শ্রেণিকক্ষের প্রতি ইলা বড়ুয়ার ভালোবাসা বদলায়নি।

অবসরের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাঁকে পুরোপুরি বিদায় দিতে চায়নি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নতুন প্রজন্মের কাজে লাগুক—এমন প্রত্যাশা থেকেই ২০১৯ সাল থেকে অতিথি শিক্ষক হিসেবে আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন তিনি।

প্রতিদিন তিন-চারটি ক্লাস নেওয়া এখন তাঁর নিয়মিত রুটিন। কখনো হিসাববিজ্ঞানের জটিল অঙ্ক বোঝান, কখনো বাংলা পড়ান। শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ধৈর্য নিয়ে। বয়সের ছাপ শরীরে থাকলেও পাঠদানের সময় তাঁর কণ্ঠে কিংবা চোখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায় না।

ইলা বড়ুয়া বলেন, ‘যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল বাবাকে দেখে, সেই স্বপ্নের পথচলা এখনো থামেনি। থামাতে চাই না। প্রতিদিন তিন-চারটি ক্লাস, শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্ন আর পাঠদানের ব্যস্ততা—এসবের মধ্যেই যেন আমি নিজের আনন্দ খুঁজে পাই।’

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে অনেকেই যখন বিশ্রামের জীবন বেছে নেন, তখনো ইলা বড়ুয়া ফিরে আসেন শ্রেণিকক্ষে। হাতে চক, সামনে শিক্ষার্থী আর সঙ্গে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাঁর এই পথচলা যেন মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষকতার কোনো অবসর নেই; জ্ঞান ও আলোর পথ দেখানোর দায়িত্ব আজীবনের।

আবৃত্তিতে চট্টগ্রাম জেলায় প্রথম সাংবাদিককন্যা নাজাত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার আবৃত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়েছে রাঙ্গুনিয়ার শিশু আবৃত্তিশিল্পী নাজাত হোসাইন মেহরিন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ‘ক’ বিভাগে অংশ নিয়ে এ সাফল্য অর্জন করে সে।

নাজাতের সাবলীল উচ্চারণ, কণ্ঠের দৃঢ়তা এবং কবিতার ভাব ও ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবৃত্তি বিচারকদের নজর কাড়ে। জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়ে এবার বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাজাতের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

নাজাতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই কবিতা আবৃত্তির প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত আবৃত্তির চর্চা করে সে। জেলা পর্যায়ে প্রথম হওয়ার পর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে তার মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা জানান, বিভাগীয় পর্যায়ের মঞ্চেও নাজাত নজরুলের কবিতার সৌন্দর্য ও মানবতার চেতনা তুলে ধরতে চায়। এ জন্য তাঁরা সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন।

নাজাতের এই সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মেধা ও অনুশীলনের ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করবে নাজাত।

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নাজাত হোসাইন মেহরিন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাবের ছোট মেয়ে।

খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাহবুব আলম

রাঙ্গুনিয়া : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাহবুব আলম।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) জারি করা আদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পরিপত্র এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান ৬৪ অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করা হয়।

অনুমোদিত কমিটিতে মো. মাহবুব আলমকে সভাপতি, মোহাম্মদ আলী নাঈমীকে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য, মো. কামাল উদ্দীনকে অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত সভাপতি মো. মাহবুব আলম বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও সুন্দর ও মানসম্মত করতে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, বোর্ডের অনুমোদন অনুযায়ী নবগঠিত এডহক কমিটি আগামী ছয় মাস বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পটিয়ায় দিনে দুপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ চুরি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় দিনে দুপুরে ধলঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে তিনটি সিলিং ফ্যান চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ২-৩ জনের একটি দল কলেজের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা তিনটি সিলিং ফ্যান খুলে নিয়ে যায়। এ সময় নৈশপ্রহরী সুভাষ নাথ বিষয়টি দেখতে পেলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নৈশপ্রহরী সুভাষ নাথ জানান, সিলিং ফ্যান চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আসিফ নামের এক কিশোরকে দেখতে পান। পরে চোরেরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি তিনি কলেজের অধ্যক্ষকে জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধলঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এর আগেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ঘটনায় কলেজ প্রশাসন উদ্বিগ্ন।’

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) যুযুৎম যশ চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

ধলঘাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কুর বলেন, ‘এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বেড়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে পটিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বর্ণিল আয়োজনে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির আত্মপ্রকাশ

চট্টগ্রাম : ‘ক্রীড়াই মানসিকতা এবং শারীরিক বিকাশের অন্যতম নিয়ামক’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমি। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দক্ষ ও প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্প্রতি বর্ণিল আয়োজনে একাডেমিটির উদ্বোধন করা হয়।

কিষোয়ান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম শহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ও প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনতে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

অনুষ্ঠানে বনফুল-কিষোয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম একাডেমির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি বলেন, “তরুণদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলার পরিধি বাড়াতে হবে। বনফুল-কিষোয়ান পরিবার সবসময় ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রমের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম লেদু ও সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম. ওয়াহিদ দুলাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএস কাউন্সিলর কাজী জসিম উদ্দিন, বনফুল কোম্পানির জিএম আমান উল আলম, বনফুল লিমিটেডের জিএম শাহ কামাল মুস্তফা, বনফুল লিমিটেডের (মার্কেটিং) জিএম কামাল হোসেন, বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির ডিজিএম আরিফুর রহমানসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে এই একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার উঠে আসবে। তারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের সুনাম বয়ে আনবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং এর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

ডেস্ক: মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জহুরুল আলম জহুর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা সময়ের দাবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

মাদকসহ আটক ব্যক্তিকে ছাড়াতে গেলে তদবিরকারীর বিরুদ্ধেও একই মামলা: এমপি  হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ র‍্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরেই সবাই জানতেন মাদকবিরোধী একটি র‍্যালি ও সমাবেশ হবে। আমার ধারণা ছিল, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাহেব আসবেন বলে অনেক যুবক এখানে উপস্থিত হবেন। কিন্তু কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, মাদকবিরোধী এ কর্মসূচিতে বেশিরভাগ উপস্থিত হয়েছেন ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষ। তরুণদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।”

তিনি বলেন, “এর পেছনেও একটি কারণ আছে। অনেক তরুণই জানে তাদের আশপাশে কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাই হয়তো তারা এসব বক্তব্য শুনতে এসে অস্বস্তি বোধ করে। যেহেতু এখানে মুরব্বিদের বেশি পেয়েছি, তাই তাদের বলছি—এখন দায়িত্ব আপনাদেরও।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “প্রায়ই থানা থেকে আমাকে জানানো হয়, কিছু যুবককে ইয়াবা, গাঁজা বা মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু একই সময়ে দেখা যায়, পরিচিত অনেকেই তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন। এটাই বাস্তবতা। আজ আমি যদি এটা স্বীকার না করি, কাল আপনারাই আমাকে সমালোচনা করবেন।”

তিনি বলেন, “আজ আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই। থানায় এখন স্ট্যান্ডিং অর্ডার হচ্ছে —মাদক নিয়ে কেউ ধরা পড়লে এবং তাকে ছাড়ানোর জন্য কেউ তদবির করতে গেলে, তার বিরুদ্ধেও একই মামলা দায়ের করা হবে।”

বালু উত্তোলনের বিষয় উল্লেখ করে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “গতকাল একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলেন, তিনি ছয়-সাত মাস আগে বালুর ব্যবসায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন সেই বালু জব্দ রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন ব্যবস্থা করে দিই, যাতে বালু বিক্রি করে তিনি তার টাকা ফেরত পান। তিনি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং হয়তো ভাবলেন, একটু অনুরোধ করলে বালু ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “চেহারাটা নরম, কিন্তু যেদিন বাবাকে দাফন করেছি সেদিন থেকে কলিজাটা শক্ত হয়ে গেছে। এখন আর এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”

মাদকের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার যতই কাছের মানুষ হোক না কেন, যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার প্রতি কোনো ধরনের দয়া বা ছাড় থাকবে না।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে সব উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি, সমাবেশ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মাদকের কুফল সম্পর্কে সবাই জানার পরও অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবী ও বহনকারীদের ধরা গেলেও মাদকের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বিদেশ থেকে যারা এসব সরবরাহ করছে, তারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তাই মাদকের পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে কি না, সন্ধ্যার পর কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে আমরা অনেক সময় খোঁজ রাখি না। একইভাবে প্রতিবেশী হিসেবে সামাজিক দায়িত্বও পালন করি না। ফলে মাদক সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি মাদককে ‘সব অপরাধের মা’ আখ্যায়িত করে বলেন, “মাদক থেকেই খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্ম হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে মাদকের কারণে সন্তান নিজের মা-বাবাকেও হত্যা করতে পারে, সেই মাদকের বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় নিজের পরিবারও নিরাপদ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।”

র‍্যালি ও সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে স্টুডেন্ট সোসাইটি অব চট্টগ্রাম। সংগঠনটির উদ্যোগে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এ শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুক্রবার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় প্রথম দফায় ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সকাল ১০টায় কুষ্ট হাসপাতাল গেইট এলাকায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুমপাড়া ও বনগ্রাম স্কুলসংলগ্ন এলাকাসহ ইউনিয়নের একাধিক পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল করিম, নয়ন, মো. ওমর ফারুক, সাংবাদিক কবির হোসেন, সাংবাদিক শান্তি রঞ্জন চাকমা, ইন্দ্র কুমার চাকমা, নিশি কুমার চাকমা, ভগিরত চাকমা এবং কাইলা বলি চাকমা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম পারভেজ, মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ, সাকিন বড়ুয়া, ইসপাত আহমেদ, সাকাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দ্বিতীয় ধাপে চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আরও বিভিন্ন এলাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বইবিমুখ শিক্ষার্থীদের ফেরাতে পটিয়ায় নতুন পাঠাগার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : বইবিমুখতার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় ঠেকানো এবং তাদের পুনরায় জ্ঞানচর্চায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পটিয়ায় নতুন একটি পাঠাগার উদ্বোধন করা হয়েছে।

পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মরিয়ম খাদেমী পাঠাগার’।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে পাঠাগারটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, তরুণ প্রজন্মের প্রধান নেশা হতে হবে বই পড়া। জ্ঞান অর্জন ও নিজেদের আলোকিত করতে নিয়মিত বই পড়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বইবিমুখ হওয়ার কারণেই বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের পুনরায় বইমুখী করতে এই পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ শওকত হোসেন খাদেমীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি খোরশেদুল আলম এবং পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি গাজী আবু তাহের।

এছাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী, পটিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদস্য মিশকাত আহমেদসহ পাঠাগারটির অর্থায়নকারী শওকত হোসেন খাদেমী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জ্ঞানমূলক ও সৃজনশীল বই পড়ার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস ও জ্ঞানচর্চা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

দাখিলে ভালো ফল, মানিকছড়িতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলায় প্রতিষ্ঠিত যোগ্যাছোলা সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় মাদ্রাসার মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আবদুল মোমিন ও মাওলানা ইউসুফ আলীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার সুপার মুফতি মির্জা মো. মজিবুল হক।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন যোগ্যাছোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান, আল হেরা বিদ্যা নিকেতনের অধ্যক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীন ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ডা. মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা বেলাল উদ্দিন, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা মো. ইউনুছ মিয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্ব শেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

রাঙ্গুনিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ মাসের এডহক কমিটি, সভাপতি ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছয় মাসের মেয়াদে এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম।

২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বোর্ডের স্মারকে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রবিধানমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুমোদিত কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত সভাপতি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম মিজানুর রহমান পদাধিকারবলে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন সিকদারকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য এবং সাংবাদিক মো. আব্বাস হোসাইন আফতাবকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য করা হয়েছে।

স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবিধানমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি ম্যানেজিং কমিটির সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবে।

চোখ বন্ধ রাখলে কাল আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হবে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে এএসপি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা বাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‍্যালি ও সমাবেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের ধরছি এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে শুধু গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবার থেকেই শুরু করব। প্রতিটি পরিবার যদি মাদকমুক্ত থাকে, তাহলে পাড়া-মহল্লা মাদকমুক্ত হবে। এভাবে ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসময় পুরো দেশকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’

পোমরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, পোমরাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মাদক নির্মূলে বড় ধরনের সফলতা আসবে।

তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণ প্রজন্ম যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সহযোগিতার প্রশংসা করে এএসপি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ছাড়িয়ে নিতে কোনো পর্যায়ের কেউ তদবির করেননি। এটি অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক বিষয়। আমরা আশা করি, অভিযান চলাকালে কেউ কোনো মাদকসেবী বা মাদক কারবারির পক্ষে থানায় কিংবা অন্য কোথাও অবৈধ তদবির করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ হয়তো আপনার পরিবার মাদকে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু আপনার পাশের একজন আক্রান্ত হয়েছে। আপনি যদি চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন—কাল আপনার সন্তান বা আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিজের পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’

সমাবেশে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গোচরা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

পটিয়ায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পেল মেধা বৃত্তি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : ‘শিক্ষাই হোক সকল অগ্রগতি, উন্নতি ও সমৃদ্ধির মূলমন্ত্র’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ‘মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’-এ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া পৌরসভার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে ট্যালেন্টফুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি দেওয়া হয়।

মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শেভরন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুল আলম। প্রধান আলোচক ছিলেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম চট্টগ্রামের সেক্রেটারি ডা. মো. ইরফান উদ্দীন সজীব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একর্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, পটিয়া সেন্ট্রাল কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন, প্রবাসী ও সমাজসেবক গাজী আবুল কালাম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চাকতাই শাখার ম্যানেজার (অপারেশন) হাশমত আলী, মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষার উপদেষ্টা জসীম উদ্দীন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার আবুল কালাম।

অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আমিনুল ইসলাম রায়হান ও গাজী আবুল হাসনাত মো. জোবাইর।

বক্তারা বলেন, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

ডিভাইস আসক্তি কমানোর আহ্বান, নাজিরহাটে ১৩ কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধিত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারী শিক্ষা জাগরণে অনন্য প্রতিষ্ঠান নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও ব্যাংকার মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন নিয়ে না আসে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সময়মতো ক্লাস শুরু ও শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পরিবার, শিক্ষক ও বিদ্যালয়েরও গৌরব। শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, সময়ের মূল্যায়ন এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ব্যর্থতা এলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন।

বিশেষ অতিথি সাংবাদিক এস এম আক্কাছ অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আরও যত্নবান হতে হবে। একই সঙ্গে ডিভাইসের প্রতি তাদের আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা এবং নারী শিক্ষা জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক, উদ্যোক্তাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সে লক্ষ্যে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম, শিক্ষক পারভেজ সোবহান, মহিউদ্দিন ও মো. মজিদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

সমাবেশ শেষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্য, ফরহাদাবাদে ১১ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): ‘শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তাদের সাথে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফরহাদাবাদে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কেন্দ্রের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের আশ্রয়ে থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মুজাহিদুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আইয়ুব।

চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতারের সভাপতিত্বে এবং আউটরিচ ওয়ার্কার বিপুল চন্দ্র পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। তেলাওয়াত করেন কেন্দ্রের নিবাসী শিশু মো. নাঈম।

পরে কেন্দ্রের আশ্রয়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত ১১ জন এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন প্রধান অতিথি। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করে অতিথিরা বলেন, প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাদের এই অর্জন অন্য শিশুদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিকে, একই দিনে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে ‘শিশুর বিকল্প পরিচর্যা’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, ‘কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের সর্বোত্তম সেবা প্রদান এবং শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও লেখার দক্ষতা বিকাশে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল। প্রতি তিন মাস পরপর দেয়ালিকা প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার আলমশাহপাড়া কামিল মাদ্রাসার হলরুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একই দিন তিনি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের দেয়ালিকা উদ্বোধন করেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রতি তিন মাস পরপর দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদ্রাসার শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি মাদ্রাসার আরবি ক্লাব ও ইংরেজি ক্লাব পরিদর্শন করেন।

মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের জন্য প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা দিলেন রাঙ্গুনিয়ার ওসি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আয়োজিত সমাবেশে মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের সতর্ক করে বলেন, “যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, এটিই তাদের জন্য প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা।”

তিনি বলেন, “মাদকসেবীর কোনো স্থান নেই, মাদক বিক্রেতার কোনো স্থান নেই, ইভটিজারের কোনো স্থান নেই। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হলে সমাজে কোনো অপরাধী মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

ইভটিজিং প্রতিরোধে স্থানীয়দের আরও সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, “স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেউ হয়রানি করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানেই ইভটিজিং হবে, সেখানেই আপনাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।”

সমাবেশে বক্তব্য দেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক মুবিনুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম সাজু, জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহনিয়াজ মোরশেদ তোহা, উপজেলা জিসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সোহেল, নেজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জনসচেতনতামূলক এ র‍্যালি ও সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

পটিয়ায় একের পর এক বিদ্যালয়ে চুরি, এক সপ্তাহে ১০টির বেশি ঘটনা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় একের পর এক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার অন্তত ১০টি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

সর্বশেষ সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের সীতাবিধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ও দরজা ভেঙে বিভিন্ন মালামাল, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় চোরের দল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয় বন্ধ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পরদিন সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোবাইল ফোনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা জানালে তিনি দ্রুত সেখানে যান।

বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অফিস কক্ষের তালা ও দরজা খোলা এবং ভেতরের একটি আলমারি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। চোরেরা অফিস কক্ষ থেকে একটি প্রিন্টার, একটি রাউটার, একটি অণু, একটি পিতলের ঘণ্টাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এছাড়া আলমারিতে রাখা প্রায় ২ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে যায় তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী রানী দাশ জানান, রোববার রাতে অথবা সোমবার ভোরে চোরের দল এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১১ আগস্ট রাতে একই ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামে দুটি বিদ্যালয়ে একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় দুটি হলো আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পূর্ব আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর দুই দিন পর ১৩ আগস্ট আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া কুসুমপুরা, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “প্রতিদিনই আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদকসেবীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মাদকের স্পট চিহ্নিত করে ব্লক রেইড করা হবে। মোবাইল কোর্টে সাজা বাড়ানোর জন্য ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজনের প্রস্তুতি সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান।

সভায় প্রতিযোগিতা দুটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, খেলার মাঠ প্রস্তুত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয় এবং প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে স্কুলে পোমরা শহীদ জিয়ানগর, মাদ্রাসায় নূরুল উলুম, ভোকেশনালে সরফভাটা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় এসএসসিতে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল এবং ভোকেশনালে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে রয়েছে।

উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।

এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে থাকা পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জনের মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরেই রয়েছে পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন, উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন এবং রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এদিকে, উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

দাখিলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল। এ প্রতিষ্ঠানে ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল থেকে ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন এবং রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ এবং ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

ভোকেশনালে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ভোকেশনালে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

প্রসঙ্গত: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিবরণীর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: রাঙ্গুনিয়ায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৫৫, দাখিলে ৫৯.৬৫ ও ভোকেশনালে ৬০.১৫ শতাংশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, দাখিলে ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪১৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।

দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৫ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২৭৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। এ পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৭ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১০৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

এসএসসিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফল

এসএসসিতে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ ও ১৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পায়নি কেউ।

রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ ও ৫৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন।

রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

মরিয়মনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সাবেক রাঙ্গুনিয়া ইন্দ্রকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩৬ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

আলহাজ আবুল বশর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭ জনের মধ্যে ৩১ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

বেগম ইকবাল জাকির হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পশ্চিম সরফভাটা মীরেরশীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫ জনের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পূর্ব সরফভাটা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সোনারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জনের মধ্যে ৩০ জন উত্তীর্ণ ও ১৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

উত্তর পদুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০১ জনের মধ্যে ৬৩ জন উত্তীর্ণ ও ৩৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

প. শিলক বেদৌরা আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩২ জন উত্তীর্ণ ও ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৮ জনের মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

কোদালা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ২৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জন উত্তীর্ণ ও ৬২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।

রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৪ জনের মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন।

শিলক হামিদ শরীফ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৮ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৬ জনের মধ্যে ৪৯ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিক্ষক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

সাহাব্দীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮১ জনের মধ্যে ৪৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৪ জনের মধ্যে ৫১ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ণ ও ৪৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫১ দশমিক ৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ২৭ জন উত্তীর্ণ ও ২৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ জনের মধ্যে ২০ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মরিয়মনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৬ জনের মধ্যে ৪২ জন উত্তীর্ণ ও ৬৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

খুরুশিয়া দ্বারীকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ ও ২৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ জনের মধ্যে ২০ জন উত্তীর্ণ ও ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পূর্ব কোদালা এমএতাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭১ জনের মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩৮ জনের মধ্যে ৬২ জন উত্তীর্ণ ও ৭৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

পদুয়া সম্মিলনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

উত্তর পারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪১ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

দক্ষিণ শিলক এম. শাহজালাম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮ জনের মধ্যে ৪২ জন উত্তীর্ণ ও ৬৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২০ জনের মধ্যে ৪৬ জন উত্তীর্ণ ও ৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হরিহর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০ জনের মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ ও ১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

বগাবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে ১৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৯ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ ও ৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৪ জনের মধ্যে ১০ জন উত্তীর্ণ ও ৪৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ নেই।

সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

দাখিল পরীক্ষায় ১৫ মাদ্রাসার ফল

দাখিল পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ ও ৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিলে ৮১ জনের মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ ও ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

উত্তর পদুয়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

মরিয়মনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৩৫ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ১৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

বেতাগী রহমানিয়া জামেউল উলুম মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

জামেয়া নঈমিয়া তৈয়বিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৬ জনের মধ্যে ৩৭ জন উত্তীর্ণ ও ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫১ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

শিলক মীনা গাজীর টিলা মতিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে ৯ জন উত্তীর্ণ ও ৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৫১ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ ও ২৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

রানীরহাট আল-আমিন হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৪ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হযরত আবদুল কাদের জিলানী দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সোনারগাঁও দাখিল মাদ্রাসায় ৪৬ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

এসএসসি (ভোকেশনালে) চার প্রতিষ্ঠানের ফল

এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ ও ১৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৫ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ ও ৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জনের মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ ও ৬১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

চারটি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ ও ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

প্রসঙ্গত: সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী।

একই সময়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডটিতে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ব্যাপকভাবে কমেছে। এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

চট্টগ্রামের বাইরে বোর্ডের অধীন চার জেলাতেও পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

গত বছর রাঙামাটিতে পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার আগের বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এ বছর ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। অন্যদিকে, এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।

সারাদেশে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

এ বছর ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে।

রাঙ্গুনিয়া থেকে বিশ্বদৃষ্টি: আস্থার এক বছর পূর্ণ করল রাঙ্গুনিয়া টুডে

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করা অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাঙ্গুনিয়া টুডে যাত্রার এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ডোমেইন ক্রয়ের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১১ আগস্ট থেকে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ শুরু করে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়া টুডের লক্ষ্য ছিল রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সংবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ দ্রুত, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সাধারণ মানুষের সমস্যা-সম্ভাবনা, উন্নয়ন, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত এক বছরে বন্যা, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা এবং জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। স্থানীয় পর্যায়ের নানা অবহেলিত বিষয়ও পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে পাঠকের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থেকেছে।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য ও সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

এই পথচলায় সংবাদদাতা, লেখক, আলোকচিত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য পাঠকের সহযোগিতা, পরামর্শ, গঠনমূলক সমালোচনা ও ভালোবাসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে পরিবার।

বর্তমানে তথ্য অধিদপ্তরে রাঙ্গুনিয়া টুডের নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতেও আইন, নীতিমালা ও সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

রাঙ্গুনিয়া টুডের সম্পাদক ও প্রকাশক এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার বলেন, “এই এক বছরে পাঠকের যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা পেয়েছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কখনোই বিচ্যুত হতে চাই না। ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

এক বছর কেবল সময়ের হিসাব নয়; এটি দায়িত্ব, বিশ্বাস ও অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। সেই অঙ্গীকার নিয়েই সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের পক্ষে থেকে আগামী দিনেও পাঠকের আস্থার সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠতে কাজ করে যাবে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

— আপনার শহর, আপনার সংবাদ

রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বাবা অসুস্থ বলে সাত বছরের কন্যাশিশুকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার হাফেজ মোহাম্মদ শরিফের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ারের মেয়ে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের দাবি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, স্কুল ছুটির পর ওয়াসিফা সহপাঠীদের সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে আগে থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল, যা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা ওয়াসিফাকে বলে, “তোমার আব্বু অসুস্থ, তোমাকে নিতে এসেছি।” এরপর তাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। গাড়িটিতে চালকসহ তিনজন ব্যক্তি ছিলেন।

দেলোয়ার বলেন, “তারা আমার মেয়ের নাম জানত এবং আমার অসুস্থতার কথা বলে তাকে নিয়ে গেছে। তাই আমার ধারণা, এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা।” তিনি জানান, ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করেছেন।

শিশুটির মা বলেন, ওয়াসিফা তার সহপাঠী ও এক আত্মীয় শিশুর সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। তাদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে ওয়াসিফার বাবার অসুস্থতার কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। যদি কারও সঙ্গে বিরোধ থেকেও থাকে, তাহলে আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারত। কিন্তু আমার নিষ্পাপ শিশুকে কেন নিয়ে গেল? আমি শুধু আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।”

ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, ছুটি শেষে ওয়াসিফা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এ সময় তাদের বাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাবার অসুস্থতার কথা বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আরও দুইজন সহপাঠী ছিল এবং তাদের সামনেই ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

 

বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে না।

তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

হাসিমুখে মানবতার সেবা: দীঘিনালায় বন্যাকবলিত পাঁচ শতাধিক মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : বন্যার দুর্যোগে যখন দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বন্যাকবলিত পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দ্য বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকায় দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা দেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন। তিনি প্রতিটি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যার পর শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিয়েছে। জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীঘিনালা জোন পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।