ডিভাইস আসক্তি কমানোর আহ্বান, নাজিরহাটে ১৩ কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধিত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারী শিক্ষা জাগরণে অনন্য প্রতিষ্ঠান নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও ব্যাংকার মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন নিয়ে না আসে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সময়মতো ক্লাস শুরু ও শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পরিবার, শিক্ষক ও বিদ্যালয়েরও গৌরব। শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, সময়ের মূল্যায়ন এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ব্যর্থতা এলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন।

বিশেষ অতিথি সাংবাদিক এস এম আক্কাছ অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আরও যত্নবান হতে হবে। একই সঙ্গে ডিভাইসের প্রতি তাদের আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা এবং নারী শিক্ষা জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক, উদ্যোক্তাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সে লক্ষ্যে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম, শিক্ষক পারভেজ সোবহান, মহিউদ্দিন ও মো. মজিদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

সমাবেশ শেষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

পটিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ডায়াপারে নতুন তারিখ, জরিমানা ২ লাখ ৫০ হাজার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ বেবি ডায়াপারের গায়ে পুরোনো মেয়াদ মুছে নতুন তারিখ বসিয়ে বাজারজাত করার অভিযোগে হাক্কানিয়া পেপার অ্যান্ড পাল্প মিলকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত এবং পণ্যের মেয়াদ যথাযথভাবে উল্লেখ না করায় আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া ও হালিম খাঁর চর এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় এবং পটিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়।

অভিযানে পাচুরিয়া-হালিম খাঁর চর এলাকায় অবস্থিত হাক্কানিয়া পেপার অ্যান্ড পাল্প মিলে তল্লাশি চালানো হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা বেবি ডায়াপারের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার পর পুরোনো মেয়াদের তথ্য মুছে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ও ডিসেম্বর ২০২৮ সালের নতুন মেয়াদ বসিয়ে সেগুলো বাজারজাত করে আসছিল।

এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির মজুত থেকে প্রায় ২০ হাজার পিস মেয়াদোত্তীর্ণ বেবি ডায়াপার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ডায়াপারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ টাকা।

এদিকে, হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া মোড় এলাকার খাজা হোটেলকে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য রান্না ও প্রস্তুতের অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকার ক্যাফে ফুলবনকে উৎপাদিত পণ্যের মেয়াদ যথাযথভাবে উল্লেখ না করা এবং অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ ও সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান।

অভিযান বিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্য, ফরহাদাবাদে ১১ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): ‘শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তাদের সাথে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফরহাদাবাদে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কেন্দ্রের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের আশ্রয়ে থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মুজাহিদুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আইয়ুব।

চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতারের সভাপতিত্বে এবং আউটরিচ ওয়ার্কার বিপুল চন্দ্র পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। তেলাওয়াত করেন কেন্দ্রের নিবাসী শিশু মো. নাঈম।

পরে কেন্দ্রের আশ্রয়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত ১১ জন এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন প্রধান অতিথি। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করে অতিথিরা বলেন, প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাদের এই অর্জন অন্য শিশুদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিকে, একই দিনে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে ‘শিশুর বিকল্প পরিচর্যা’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, ‘কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের সর্বোত্তম সেবা প্রদান এবং শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও লেখার দক্ষতা বিকাশে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল। প্রতি তিন মাস পরপর দেয়ালিকা প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার আলমশাহপাড়া কামিল মাদ্রাসার হলরুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একই দিন তিনি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের দেয়ালিকা উদ্বোধন করেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রতি তিন মাস পরপর দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদ্রাসার শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে এস. এফ. এম. আসআদ আউয়াল মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি মাদ্রাসার আরবি ক্লাব ও ইংরেজি ক্লাব পরিদর্শন করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ৮০ উপকারভোগীর মাঝে কারিতাসের অনুদান বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কারিতাসের সিএমএলআরপি প্রকল্পের আওতায় চারটি ইউনিয়নের ৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে দুই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে একটি হুইলচেয়ার ও এক জোড়া ক্রাচ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৮০ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং অপরজনকে ক্রাচ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক চয়ন হিউবার্ট রিবেরু।

কারিতাসের সিএমএলআরপি প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মো. এমদাদুল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ, উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুকুমার তালুকদার, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ রাঙ্গুনিয়ার সমন্বয়কারী মো. ইয়াহিয়া, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী।

এ সময় কারিতাস রাঙ্গুনিয়ার এরিয়া ম্যানেজার বিজন কান্তি দে, মাঠ কর্মকর্তা গৌরী ভট্টাচার্য, এনিমেটর ছাইথোয়াই মামা, প্রিয়তোষ তঞ্চঙ্গ্যা ও মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আওতাধীন চারটি ইউনিয়নের ৩০ জন উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙ্গুনিয়ায় খালে মাছ ধরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন কৃষক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে কুরমাই খালে ডুবে মো. বখতিয়ার হোসেন (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদ তালুক এলাকার কুরমাই খাল থেকে স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত বখতিয়ার হোসেন দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জিন বাড়ির রমজান আলীর ছেলে। পেশায় কৃষক হলেও তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। তাঁর ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বখতিয়ার বাড়ির অদূরে পাহাড়ি এলাকায় তাঁর নিজের খামারে যান। সেখানে কৃষি প্রকল্প ও দুটি গরুর দেখাশোনার পাশাপাশি প্রতিদিনের মতো কুরমাই খালে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে নামেন। মাছ ধরার একপর্যায়ে তিনি নিখোঁজ হন।

স্থানীয় মোহাম্মদ ইলিয়াস কবির জানান, বখতিয়ার হোসেনের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত শারীরিক জটিলতা ছিল। মাছ ধরার সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবার অগোচরে তিনি খালে পড়ে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খালের পাড়ে তাঁর খাবারের বাটি ও ছাতা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বুধবার বিকেল থেকে তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে কুরমাই খালে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাঁরা খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

বখতিয়ার হোসেনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) জামে মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ছাদেকের পাড়া এলাকার পুরোনো বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।

মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের জন্য প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা দিলেন রাঙ্গুনিয়ার ওসি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আয়োজিত সমাবেশে মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের সতর্ক করে বলেন, “যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, এটিই তাদের জন্য প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা।”

তিনি বলেন, “মাদকসেবীর কোনো স্থান নেই, মাদক বিক্রেতার কোনো স্থান নেই, ইভটিজারের কোনো স্থান নেই। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হলে সমাজে কোনো অপরাধী মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

ইভটিজিং প্রতিরোধে স্থানীয়দের আরও সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, “স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেউ হয়রানি করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানেই ইভটিজিং হবে, সেখানেই আপনাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।”

সমাবেশে বক্তব্য দেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক মুবিনুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম সাজু, জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহনিয়াজ মোরশেদ তোহা, উপজেলা জিসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সোহেল, নেজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জনসচেতনতামূলক এ র‍্যালি ও সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

হালদার জোয়ারের পানিতে ডুবছে সড়ক-লোকালয়, দ্রুত স্লুইসগেট নির্মাণের দাবি

মো. আলাউদ্দীন আরিফ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হালদা নদীর জোয়ারের পানি প্রতিদিন লোকালয়ে ঢুকে সড়ক ও বাড়িঘর তলিয়ে যাচ্ছে। এতে গড়দুয়ারা ও মেখল ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জোয়ারের পানি সড়কে উঠে যাওয়ায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে স্লুইসগেট নির্মাণ ও খাল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হালদা নদীর তীরবর্তী গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গচ্চালি শাখা খালের পশ্চিম পাশ দিয়ে এবং দায়মুদ্দিন সারাং বাড়ির উত্তর পাশ দিয়ে প্রতিদিন জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং মেখল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে মেখল-আজিজিয়া-মজিদিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে জোয়ারের সময় ওই সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। পানি না নামা পর্যন্ত শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের সড়কে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় পানি নেমে যাওয়ার পরও যান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

স্থানীয়রা জানান, হালদার জোয়ারের পানি সরাসরি গচ্চালি শাখা খাল দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় অনেকের বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করে। জোয়ারের তীব্র স্রোতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সংবাদকর্মী খোরশেদ আলম শিমুল, শফিক আহমদ ভুট্টু ও কামাল হোসেন বলেন, হালদা নদীর জোয়ারের পানি সরাসরি গচ্চালি শাখা খাল হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে অনেকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে যায়। কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

পূর্ব মেখল এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ সেলিম, সেকান্দর, রায়হান ও মহরম বলেন, জোয়ারের কারণে আজিজিয়া-মজিদিয়া সড়কে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পানি জমে থাকে। এ সময় যানবাহন চলাচল করা যায় না। গাড়ি চালাতে না পারায় তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ থাকে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

গড়দুয়ারা ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহতাদি কাউনাইন মিহরাব, হাটহাজারী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুলহাজ আনোয়ার ও তারেক আহমদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিকেল ৪টায় স্কুল-কলেজ ছুটির পর হাটহাজারী কলেজ গেট এলাকায় সড়কে জোয়ারের পানি থাকলে সিএনজি অটোরিকশাগুলো গড়দুয়ারার দিকে যেতে চায় না। ফলে সড়ক থেকে পানি না নামা পর্যন্ত তাদের হাটহাজারীতেই অপেক্ষা করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে হালদা নদীর শাখা খালের মুখে দ্রুত একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে শাখা খাল সংস্কার ও খালের পাড় উঁচু করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, দ্রুত স্লুইসগেট নির্মাণ ও খাল সংস্কার করা হলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হবে।

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পটিয়া আইনজীবী সমিতি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পটিয়া আইনজীবী সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি মাকছুদা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এ নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কবিশেখর নাথ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানজিনা জাহান, পাঠাগার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসাইন, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম রফিকুল আলাম ওসমানী, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য অ্যাডভোকেট আমিনুল নিজামী রিফাত, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া সিকদার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. মানিক (মেম্বার)সহ অন্যরা।

নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানকালে পটিয়া আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তারা আরও বলেন, বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

পটিয়ায় একের পর এক বিদ্যালয়ে চুরি, এক সপ্তাহে ১০টির বেশি ঘটনা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় একের পর এক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার অন্তত ১০টি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

সর্বশেষ সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের সীতাবিধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ও দরজা ভেঙে বিভিন্ন মালামাল, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় চোরের দল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয় বন্ধ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পরদিন সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোবাইল ফোনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা জানালে তিনি দ্রুত সেখানে যান।

বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অফিস কক্ষের তালা ও দরজা খোলা এবং ভেতরের একটি আলমারি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। চোরেরা অফিস কক্ষ থেকে একটি প্রিন্টার, একটি রাউটার, একটি অণু, একটি পিতলের ঘণ্টাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এছাড়া আলমারিতে রাখা প্রায় ২ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে যায় তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী রানী দাশ জানান, রোববার রাতে অথবা সোমবার ভোরে চোরের দল এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১১ আগস্ট রাতে একই ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামে দুটি বিদ্যালয়ে একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় দুটি হলো আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পূর্ব আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর দুই দিন পর ১৩ আগস্ট আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া কুসুমপুরা, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “প্রতিদিনই আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদকসেবীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মাদকের স্পট চিহ্নিত করে ব্লক রেইড করা হবে। মোবাইল কোর্টে সাজা বাড়ানোর জন্য ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

সাতকানিয়ায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইষ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার রোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আমীর হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা খোরশেদ আলম।

এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব, মোজাম্মেল হক, শিক্ষক ইমরান হোসাইন, মোহাম্মদ ইদ্রিস, সাংবাদিক ইমরান সোহেল, মো. ইউছুপ, সেলিম উদ্দিন, আজগর আলী, আমিনুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, আবুল কাশেম, ইউনুস, মোহাম্মদ আলী, আহত কামাল উদ্দিন, শাহরিয়ারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, এর প্রভাব একটি পরিবার ও পুরো সমাজের ওপর পড়ে। মাদকের কারণে তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

মানববন্ধন থেকে আমিলাইষ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ পুরো এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন আয়োজকেরা।

লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাজমুল মোস্তফা আমিন, রোগীদের হাতে দিলেন মৌসুমী ফল

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে শুনলেন নানা সংকট

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য লায়ন নাজমুল মোস্তফা আমিন। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সহমর্মিতার নিদর্শন হিসেবে রোগীদের মাঝে মৌসুমী ফল বিতরণ করেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এর আগে হাসপাতালের কনফারেন্স হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নাজমুল মোস্তফা আমিন। এ সময় হাসপাতালের জনবল সংকট, চিকিৎসাসেবার মান, রোগীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা শোনেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল ইফরান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নুসরাত জাহান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের প্রথম সহসভাপতি আবু সেলিম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও চরম্বা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম (লিটন), উপজেলা যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রদল নেতা নুরুল ইসলাম, মো. রিয়াদ, ছাত্রদল নেতা মো. কায়েস উদ্দীনসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, “মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক দায়িত্ব। একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে কষ্ট না পান, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান সমস্যা ও সংকটগুলো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে রোগীরা আরও উন্নত সেবা পাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও রোগীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

পরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতী থেকে বালু উত্তোলনের সেই ড্রেজার জব্দ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল দক্ষিণ পাড়া সংলগ্ন তুলাতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।

বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন নবাগত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু। অভিযানে রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান জানান, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে একই দিন দুপুরে ‘রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের নীরবতায় ইছামতী থেকে বালু উত্তোলন’ শিরোনামে একুশে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে লালানগর ইউনিয়নের তুলাতলা এলাকায় মেশিন বসিয়ে ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের ক্ষোভের বিষয়টি উঠে আসে।

পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে এবং বিকেলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইছামতী খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে খালের তীর, আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়া টুডে/প্রতিবেদক

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চট্টগ্রামে ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার

চট্টগ্রাম: সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের নির্দেশনায় এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি হাটহাজারী গোলচত্বর, ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ড, রাঙ্গুনিয়া থানার রোয়াজারহাট এবং রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যানবাহনের চালক, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পথসভা করেন। পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

পথসভায় চালকদের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানো, ওভারটেকিংয়ের সময় সতর্কতা অবলম্বন, নির্ধারিত লেন ও সড়ক সংকেত মেনে চলা, মোটরসাইকেল চালানোর সময় বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট ব্যবহার এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতন করা হয়। এছাড়া ক্লান্ত বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি না চালানোর জন্যও চালকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পথচারীদের রাস্তা পারাপারের সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং চালকদের যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজনের প্রস্তুতি সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান।

সভায় প্রতিযোগিতা দুটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, খেলার মাঠ প্রস্তুত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয় এবং প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চুয়েটে পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু, একই পুকুরে ১৫ দিনে প্রাণ গেল তিনজনের

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসের পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে একই পুকুরে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলো।

নিহতরা হলেন চুয়েটের ২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্ণব চন্দ (২২) ও শান্ত দেব (২৩)। তাদের দুজনের বাড়ি সিলেট বলে জানা গেছে। অর্ণব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের এবং শান্ত টিপিই বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ফুটবল খেলা শেষে অর্ণব চন্দ ও শান্ত দেব কাজী নজরুল ইসলাম হলের পুকুরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা সাঁতার কাটতে গিয়ে পুকুরের মাঝামাঝি অংশে ডুবে যান।

পরে উদ্ধারকারীরা প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে অর্ণব চন্দকে এবং প্রায় ৪৫ মিনিট পর শান্ত দেবকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন। এরপর তাদের চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা (২৫)। ফুটবল খেলা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে নেমে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর ১৫ দিনের ব্যবধানেই একই পুকুরে ডুবে আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলো।

রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই ফ্রিজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে চোরাই যাওয়া একটি ফ্রিজ উদ্ধারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার এসআই আবু নাছের সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে রাকিব আহাম্মদ (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাই যাওয়া ওয়ালটন কোম্পানির একটি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ফ্রিজটির আনুমানিক মূল্য ২২ হাজার টাকা।

গ্রেপ্তার রাকিব আহাম্মদ রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম, আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. রুহুল আমিনের ছেলে।

অন্যদিকে, এএসআই বায়েজিদ মোল্লা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিনের একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সুজনকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তার মো. সুজন রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুফি পাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত নুর আলমের ছেলে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাউজানে হৃদরোগে আক্রান্ত শ্রমিকদল নেতার পাশে আবুল কাশেম ফাউন্ডেশন

রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজানে হৃদরোগে আক্রান্ত ওয়ার্ড শ্রমিকদল নেতা মহরম মিয়া আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাঁর এই দুঃসময়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন মরহুম আবুল কাশেম ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ অসুস্থ মহরম মিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে নগদ অর্থ সহায়তা এবং বসতঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন প্রদান করেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য আবু বকর চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হক মঞ্জু।

পৌরসভা যুবদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মাওলানা এখলাসুর রহমান, আখতার উদ্দিন খান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজাহান সাহিল, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি ও বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন কোম্পানি, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, যুবদল নেতা মো. ইলিয়াস, নুরুল কিবরিয়া খোকন, মো. জাবেদ ও মো. আবিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান শেষে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও কিউসি লজিস্টিক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এই মহতী উদ্যোগে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণকারী সকল নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সাতকানিয়ায় জাল নোট প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাল নোটের বিস্তার রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক কেরানীহাট শাখার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান।

অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গাজী আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অগ্রণী ব্যাংক কেরানীহাট শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মিরাজ মেহের চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক (ক্যাশ) উত্তম কুমার রুদ্র।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জাল নোটের ব্যবহার শুধু ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্যও ক্ষতিকর। অসাধু চক্রের মাধ্যমে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি বৈধ মুদ্রার ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জাল নোট শনাক্ত ও প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

প্রশিক্ষণে আসল ও জাল নোট চেনার বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, নোট যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং লেনদেনের সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়গুলো হাতে-কলমে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নোটের জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, রং পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য, উঁচু-নিচু ছাপসহ অন্যান্য নিরাপত্তা চিহ্ন পরীক্ষা করে নোট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, জাল নোট প্রতিরোধে শুধু ব্যাংক কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং সাধারণ গ্রাহক—সবার সম্মিলিত সচেতনতাই জাল নোটের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাজারে বেশি লেনদেনের সময় তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেটি অন্যের কাছে চালিয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাল নোটের কারবার বা সরবরাহ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে স্কুলে পোমরা শহীদ জিয়ানগর, মাদ্রাসায় নূরুল উলুম, ভোকেশনালে সরফভাটা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় এসএসসিতে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল এবং ভোকেশনালে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে রয়েছে।

উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।

এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে থাকা পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জনের মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরেই রয়েছে পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন, উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন এবং রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এদিকে, উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

দাখিলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল। এ প্রতিষ্ঠানে ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল থেকে ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন এবং রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ এবং ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

ভোকেশনালে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ভোকেশনালে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

প্রসঙ্গত: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিবরণীর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: রাঙ্গুনিয়ায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৫৫, দাখিলে ৫৯.৬৫ ও ভোকেশনালে ৬০.১৫ শতাংশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, দাখিলে ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪১৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।

দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৫ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২৭৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। এ পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৭ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১০৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

এসএসসিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফল

এসএসসিতে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ ও ১৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পায়নি কেউ।

রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ ও ৫৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন।

রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

মরিয়মনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সাবেক রাঙ্গুনিয়া ইন্দ্রকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩৬ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

আলহাজ আবুল বশর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭ জনের মধ্যে ৩১ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

বেগম ইকবাল জাকির হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পশ্চিম সরফভাটা মীরেরশীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫ জনের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পূর্ব সরফভাটা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সোনারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জনের মধ্যে ৩০ জন উত্তীর্ণ ও ১৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

উত্তর পদুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০১ জনের মধ্যে ৬৩ জন উত্তীর্ণ ও ৩৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

প. শিলক বেদৌরা আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩২ জন উত্তীর্ণ ও ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৮ জনের মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

কোদালা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ২৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জন উত্তীর্ণ ও ৬২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।

রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৪ জনের মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন।

শিলক হামিদ শরীফ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৮ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৬ জনের মধ্যে ৪৯ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিক্ষক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

সাহাব্দীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮১ জনের মধ্যে ৪৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৪ জনের মধ্যে ৫১ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ ও ৪৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ণ ও ৪৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫১ দশমিক ৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ২৭ জন উত্তীর্ণ ও ২৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ জনের মধ্যে ২০ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মরিয়মনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৬ জনের মধ্যে ৪২ জন উত্তীর্ণ ও ৬৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

খুরুশিয়া দ্বারীকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ ও ২৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ জনের মধ্যে ২০ জন উত্তীর্ণ ও ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পূর্ব কোদালা এমএতাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭১ জনের মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩৮ জনের মধ্যে ৬২ জন উত্তীর্ণ ও ৭৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।

পদুয়া সম্মিলনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

উত্তর পারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪১ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

দক্ষিণ শিলক এম. শাহজালাম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮ জনের মধ্যে ৪২ জন উত্তীর্ণ ও ৬৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২০ জনের মধ্যে ৪৬ জন উত্তীর্ণ ও ৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হরিহর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০ জনের মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ ও ১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

বগাবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে ১৪ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৯ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ ও ৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৪ জনের মধ্যে ১০ জন উত্তীর্ণ ও ৪৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ নেই।

সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

দাখিল পরীক্ষায় ১৫ মাদ্রাসার ফল

দাখিল পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ ও ৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিলে ৮১ জনের মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ ও ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

উত্তর পদুয়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

মরিয়মনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৩৫ জনের মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ১৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

বেতাগী রহমানিয়া জামেউল উলুম মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

জামেয়া নঈমিয়া তৈয়বিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৬ জনের মধ্যে ৩৭ জন উত্তীর্ণ ও ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫১ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

শিলক মীনা গাজীর টিলা মতিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে ৯ জন উত্তীর্ণ ও ৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৫১ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ ও ২৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

রানীরহাট আল-আমিন হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৪ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

হযরত আবদুল কাদের জিলানী দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ ও ১১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সোনারগাঁও দাখিল মাদ্রাসায় ৪৬ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ ও ৩০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

এসএসসি (ভোকেশনালে) চার প্রতিষ্ঠানের ফল

এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ ও ১৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৫ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ ও ৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জনের মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ ও ২০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ ও ৬১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।

চারটি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ ও ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

প্রসঙ্গত: সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী।

একই সময়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডটিতে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ব্যাপকভাবে কমেছে। এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

চট্টগ্রামের বাইরে বোর্ডের অধীন চার জেলাতেও পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

গত বছর রাঙামাটিতে পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার আগের বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এ বছর ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। অন্যদিকে, এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।

সারাদেশে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

এ বছর ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে।

উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ‘কিছু’ রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব রাজনৈতিক দলকে মোকাবিলায় দেশের জনগণকে ‘সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের উন্নয়নের কাজগুলো বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, “আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—দেশের সব গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা কথা বলার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, প্রত্যেকটি মানুষকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই বিশৃঙ্খলাকারী, যারা রাজপথ বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব? এটা আজ বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। এখন সময় হচ্ছে দেশ গড়ার, এখন সময় হচ্ছে জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে আজ শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে হবে; আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি যে, দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে, দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

“আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য একটাই—সেটি হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী একটি কথা বলে থাকে যে, আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস হচ্ছে দেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে আছে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, জনগণ যেহেতু বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই ৩১ দফার বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

ফটিকছড়িতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, উঠল ১৩ দফা দাবি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। পরে মাদ্রাসার ভেতরে বাবুনগরীর খাস কামরায় দুজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার একান্ত বৈঠক হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানও সেখানে ছিলেন।

বৈঠকের বিস্তারিত জানা না গেলেও অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাতে মূলত হেফাজত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

হেফাজতের ১৩ দফা দাবি

বৈঠক শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

দাবিগুলোর মধ্যে ইসলাম অবমাননা রোধে আইন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন না করা এবং কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশনারি তৎপরতা বন্ধ, আলেমদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবিও ওঠে সভায়।

মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়।

পাশাপাশি ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪ সালের সহিংসতার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে আলেমদের সুযোগ দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেন হেফাজতের নেতারা।

‘কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না’

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না।’

তিনি জানান, শাপলা চত্বর মামলার চার্জশিট হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিচারকাজ শুরু হবে। আলেমদের বিরুদ্ধে মামলার তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি অনুযায়ী নিয়োগের বিষয়ে সরকার কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মদিনা ও সাহাবাদের চর্চিত ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করেই বাংলাদেশ পরিচালিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘সমস্যা ও দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে’

পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সমস্যা ও মানুষের দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্ষম হলেও পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

অতীতে দেশের অর্থ-সম্পদ লুট ও পাচারের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

হাজারো মানুষের স্বাগত

এর আগে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা থেকে ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘীর মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক হয়ে তিনি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পেলাগাজীর দিঘী থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে হাজার হাজার মানুষ তাঁকে স্বাগত জানায়।

মাদ্রাসার কাছাকাছি পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে শিশু শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনের পর সরকার ও হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের এই মতবিনিময়কে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাঁশখালীতে বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন ঘর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাকে একনজর দেখতে সমুদ্রপাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

বাহারছড়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ১০০টি গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী যাবেন হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায়। সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠেও প্রধানমন্ত্রীর একটি কর্মসূচি রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দিনের শেষ কর্মসূচিতে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা অংশ নিতে পারেন। সভায় দলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দলকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেন তিনি।

সব কর্মসূচি শেষে রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আলেমদের সঙ্গে করবেন মতবিনিময়

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছে ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসায় উপস্থিত ৬৪ জন আলেমের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী দিঘির সিএন্ডবি মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের পর মাঠে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাবে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।

পরে সড়কপথে তিনি ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, ফটিকছড়িতে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির মরহুম আল্লামা আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। এ সময় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত থাকবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।

পরে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কথা রয়েছে।

সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়িতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: সাত ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ, শেষ মুহূর্তে তদারকিতে জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম সফর করবেন। তাঁর সফর ঘিরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

শনিবার (৮ আগস্ট) ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কয়েকটি ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থা তদারক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বাঁশখালী যাবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছাবেন। পরে ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারী হয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাবেন।

শনিবার জেলা প্রশাসক প্রথমে ফটিকছড়ি উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হেলিপ্যাড ও সংলগ্ন সড়কের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরে তিনি ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। জেলা প্রশাসক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির খোঁজ নেন।

এরপর জেলা প্রশাসক হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠ পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান, খাদ্যসামগ্রী ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ করবেন। সফরকালে বাঁশখালী ও হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নবনির্মিত ঘর হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সবশেষে জেলা প্রশাসক হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন। সফরসূচি অনুযায়ী, সেখানে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রতিটি ভেন্যু ঘুরে দেখা হচ্ছে। সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) কাজ করছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম চট্টগ্রাম সফর। সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্রিফিং

চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে জেলার তিনটি নির্ধারিত ভেন্যুতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীর তিনটি ভেন্যুতে পৃথকভাবে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে হাটহাজারী থানাধীন পার্বতী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ফটিকছড়ির ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ এবং বাঁশখালীর আব্দুর রশিদ কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফর নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নির্ধারিত ভেন্যু ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে ভেন্যুগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে।

ব্রিফিংয়ের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নির্ধারিত ভেন্যুগুলো পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনবান্ধব ও সেবামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেশের মেরুদণ্ড ভাঙতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার: এমপি এনামুল হক এনাম

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চেয়েছিল বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

তিনি বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে মূলত দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চেয়েছিল বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকার পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করতে কাজ করছেন। শিক্ষকদের যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নেও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে।”

শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠদানে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা ও সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পটিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষিকা মৌসুমি দেব, বনশ্রী বড়ুয়া, ফয়জুন্নেসা মিলি ও রেহেনা আক্তারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ, বিদায়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার ধর।

এছাড়াও পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া ক্লাবের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক, জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন, জেলা বিএনপি নেতা মোরশেদ শফি হিরু, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক ও মাহবুবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম নয়নসহ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, গুণী শিক্ষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি এনামুল হক এনাম এমপি। পরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম চট্টগ্রাম সফরে তারেক রহমান

একদিনে মহেশখালী-বাঁশখালী-ফটিকছড়ি-হাটহাজারীতে কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। রবিবার (৯ আগস্ট) একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। তাঁর সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মতৎপরতা।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টার দিকে মহেশখালীতে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন তিনি। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সেখানে ইতোমধ্যে নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০০টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছে। বন্যায় যেসব পরিবারের ঘর পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নতুন করে ঘর নির্মাণের আর্থিক সক্ষমতা নেই, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী একজন স্বামীহারা নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে ১০০ পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সফরের প্রস্তুতি দেখতে বাঁশখালীর অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। মঞ্চ, প্যান্ডেল ও হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে কর্মসূচিতে শৃঙ্খলার সঙ্গে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি পূরণ করতেই তাঁর এই সফর।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী জানান, সাক্ষাতে ফটিকছড়ির উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট হয়ে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসা এলাকায় প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রবেশপথ সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য ফটিকছড়ির পেলাগাজিতে অস্থায়ী হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

পরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় কিছু সময় অবস্থানের পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ উপলক্ষে কলেজ মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে হাটহাজারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি চলছে। আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রাম নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা-কর্মীর উপস্থিতি থাকতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, তিন সাংগঠনিক ইউনিটের বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় থাকবেন। নগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

দলীয় নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগটি সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সভায় চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা এবং দলীয় কার্যক্রম নিয়ে নেতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। এরও আগে ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর।